আমেরিকা

লাস ভেগাসগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ফ্লাইটে মোবাইল ফোনে আগুন, নিরাপদে অবতরণ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:১২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে উড্ডয়নরত অবস্থায় একটি মুঠোফোনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর ফ্লাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ২৭১-এর ক্রু সদস্যরা কেবিনে একটি সেলফোনে আগুন লাগার বিষয়টি শনাক্ত করেন। এরপর পাইলট জরুরি সতর্কতা জারি করে বিমানটি লাস ভেগাসে অবতরণ করান।

 

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অডিও রেকর্ডে পাইলটকে জানাতে শোনা যায় যে মোবাইল ফোনে আগুন লাগার ঘটনায় কেবিনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় বলে জানানো হয়।

 

লাস ভেগাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, পাইলট সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এক মুখপাত্র জানান, ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ীই অবতরণ করে এবং বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

 

ঘটনাটিতে কোন ব্র্যান্ড বা মডেলের মোবাইল ফোন জড়িত ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএএ জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করবে।

 

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ডিভাইস যেমন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও পাওয়ার ব্যাংক থেকে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শর্ট সার্কিট বা তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এসব ডিভাইস হঠাৎ আগুন ধরে যেতে পারে।

 

এফএএ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীরা কেবিনে সীমিত সংখ্যক লিথিয়াম ব্যাটারি বহন করতে পারেন, তবে কার্গো হোল্ডে এগুলো রাখা নিষিদ্ধ।

 

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এয়ারলাইন্স পাওয়ার ব্যাংক ও পোর্টেবল চার্জার বহনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করেছে। এফএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিমানের ভেতরে প্রায় ১০০টি ব্যাটারিজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই ই-সিগারেট, ব্যাটারি প্যাক ও পাওয়ার ডিভাইসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষককে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে আইসিই (ICE) কর্মকর্তারা আটক করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট গবেষককে আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। (সংগৃহীত/ফাইল ছবি)
বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে জনস হপকিন্সের গবেষক আটক, উদ্বেগে বিশ্ববিদ্যালয়

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষককে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তারা আটক করেছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট গবেষককে আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আটক গবেষক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং গবেষকের পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।   এদিকে, আইসিই এখনও আটকের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন আইন প্রয়োগে কঠোরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি শিক্ষাঙ্গন ও গবেষণা মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক গবেষক ও শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বিনিময়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সব ক্ষেত্রেই প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।   বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, তারা দ্রুত বিষয়টির সমাধান এবং গবেষকের অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ৬:১৫
বেভারলি হিলসে।ছবি:সংগৃহীত

ডেটিং অ্যাপে ধনীদের সঙ্গে সম্পর্ক, পরে চুরি, আবার গ্রেপ্তার লস অ্যাঞ্জেলেসের ইনফ্লুয়েন্সার

৪ জন মহিলাকে একসাথে । ছবি:সংগৃহীত

৪ জন মহিলাকে একসাথে বিয়ে করে বুঝলেন সবাই তারা ট্রান্সজেন্ডার! শুরু বিতর্ক

ভুয়া প্রতিবন্ধিতা সনদে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ডলারের গৃহঋণ

ভুয়া প্রতিবন্ধিতা সনদে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ডলারের গৃহঋণ, ডিএইচএস কর্মীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা! অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
চুরি করা গাড়ি থামানোয়, পুলিশ কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা! অপরাধীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চার দশক আগে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের এক মোটরসাইকেল পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় পুনর্বিচারে দোষী সাব্যস্ত আসামির বিরুদ্ধে আদালতের রায় বহাল রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাকে বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হবে।    মামলাটি ১৯৮৩ সালের। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এলএপিডি কর্মকর্তা পল ভার্না লেক ভিউ টেরেস এলাকায় একটি চুরি করা গাড়ি থামালে গাড়িতে থাকা দুই সশস্ত্র ব্যক্তি গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে গুলি করে হত্যা করে। ওই ঘটনায় কেনেথ গে এবং রেনার্ড কামিংস অভিযুক্ত হন।    ১৯৮৫ সালে প্রথম বিচারে কেনেথ গে দোষী সাব্যস্ত হলেও পরে তার আইনজীবীর অদক্ষতার অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়া সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বাতিল করে পুনর্বিচারের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর পুনর্বিচারে জুরি আবারও তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে।    আদালতে নিহত কর্মকর্তা পল ভার্নার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তার স্বজনরা জানান, দীর্ঘ কয়েক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।   প্রসিকিউশন জানায়, অভিযুক্তরা সে সময় একাধিক ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিল এবং চুরি করা গাড়িতে অস্ত্রসহ চলাচল করছিল। পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়পত্র চাইলে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।    ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষ পরিস্থিতিতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত আইনের আওতায় কেনেথ গের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কার্যকর থাকবে। অপর আসামি রেনার্ড কামিংসও পৃথক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ৩:২১
নিউইয়র্কে কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকের বছরে ৯৮ হাজার ডলার আয়

নিউইয়র্কে কম্পিউটার সায়েন্স স্নাতকের বছরে ৯৮ হাজার ডলার আয়, কিন্তু বাসাভাড়াতেই যাবে ৩৮%

মিনেসোটার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলা

মিনেসোটার পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলায়, ইরান নয়, ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করলেন ট্রাম্প

মিথ্যা দাবিতে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করছে অ্যামাজন-ওয়ালমার্ট

‘মেড ইন ইউএসএ’ মিথ্যা দাবিতে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করছে অ্যামাজন-ওয়ালমার্ট! :গবেষণা

শিক্ষার্থী ভিসায় স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নেবেন, নাকি পরে আনবেন? কী বলছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম
শিক্ষার্থী ভিসায় স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নেবেন, নাকি পরে আনবেন? কী বলছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ভিসায় আবেদন করতে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি দম্পতির কাছে একটি প্রশ্ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, শুরুতেই কি স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আবেদন করা উচিত, নাকি আগে একজন একা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে নির্ভরশীল ভিসায় নিয়ে আসাই ভালো? সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসা যাচাই আরও কঠোর হওয়ায় এ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিও বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন বিধিমালা বলছে, দুটি পথই বৈধ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের সত্যতা এবং নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ শিক্ষার্থী ভিসাধারীর স্বামী বা স্ত্রী ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। চাইলে মূল আবেদনকারীর সঙ্গে একই সময়ে আবেদন করা যায়, আবার শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়াশোনা শুরু করার পরও ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।   বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের ভিসা যাচাই আগের তুলনায় আরও কঠোর হয়েছে। আবেদনকারীর শিক্ষার উদ্দেশ্য, আর্থিক সক্ষমতা, নথিপত্রের সত্যতা, ভিসার শর্ত মেনে চলার সক্ষমতা এবং সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা। তবে এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রীকে ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে নিয়ে যাওয়ার মৌলিক নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, অনেক আবেদনকারী মনে করেন বিবাহিত হওয়ার তথ্য গোপন করে একা আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। কিন্তু এই ধারণার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো নীতিগত ভিত্তি নেই। বরং ভিসা আবেদনপত্রে বৈবাহিক অবস্থা গোপন করা বা ভুল তথ্য দেওয়া ভবিষ্যতে গুরুতর আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অভিবাসন আইনের ভাষায় এটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা পরবর্তী ভিসা বা অভিবাসন সুবিধার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   বাস্তবে এমন ঘটনাও ঘটে, যেখানে মূল শিক্ষার্থীর ভিসা অনুমোদিত হলেও তার স্বামী বা স্ত্রীর ডিপেন্ডেন্ট ভিসা অনুমোদন পায় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে দুজনই একসঙ্গে ভিসা পান। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা। শুধু বিবাহিত হওয়া বা একসঙ্গে আবেদন করাই ভিসা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের একমাত্র কারণ নয়।   যারা প্রথমে একা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের জন্যও আইনি পথ খোলা রয়েছে। শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থী দপ্তরের মাধ্যমে স্বামী বা স্ত্রীর জন্য নতুন অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। এরপর সেই নথির ভিত্তিতে নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে নির্ভরশীল ভিসার আবেদন করা যায়।   তবে ডিপেন্ডেন্ট ভিসাধারীদের জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করার অনুমতি নেই। এছাড়া ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে অবস্থানের বৈধতা মূল শিক্ষার্থীর বৈধ অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর বৈধ অবস্থান শেষ হলে নির্ভরশীলের অবস্থানও একইভাবে প্রভাবিত হবে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবীরাও দীর্ঘদিন ধরে আবেদনকারীদের একটি বিষয়েই গুরুত্ব দিতে বলে আসছেন, সব তথ্য সত্য ও নির্ভুলভাবে প্রকাশ করা। তারা মনে করেন, শুরুতেই স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে আবেদন করবেন, নাকি পরে নিয়ে আসবেন, সেটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও আর্থিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বৈবাহিক তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই নিরাপদ কৌশল নয়।   অভিবাসন নিয়ে কাজ করেন তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন গুজবের ওপর নির্ভর না করে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নির্দেশনা এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থী দপ্তরের পরামর্শ অনুসরণ করা। কারণ প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং সঠিক তথ্য ও শক্তিশালী নথিপত্রই ভিসা প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ১:৫৭
জনস হপকিন্সের গবেষককে বিমানবন্দরে আটক করল আইস

জনস হপকিন্সের গবেষককে বিমানবন্দরে আটক করল আইস, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ

নিউইয়র্কের সরকারি আবাসন লটারি দ্রুত করতে বড় সংস্কারের উদ্যোগ

দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা! নিউইয়র্কের সরকারি আবাসন লটারি দ্রুত করতে বড় সংস্কারের উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেবিদেশি ক্রেতার আগ্রহে বড় ধাক্কা

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেবিদেশি ক্রেতার আগ্রহে বড় ধাক্কা, বিনিয়োগ কমল ৩৫ শতাংশ

0 Comments