সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের দ্রুত ফাঁদ বন্ধের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:১৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মাংসাশী উদ্ভিদ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ কীভাবে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তার পাতার ফাঁদ বন্ধ করে শিকার ধরে, দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কৌতূহল ছিল। এবার ফরাসি জাতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের পদার্থবিদ জংউন রিউ-এর নেতৃত্বে একদল গবেষক সেই রহস্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের গবেষণায় উদ্ভিদটির কোষ প্রাচীরের দ্রুত পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে প্রধান নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

গবেষকদের মতে, ফাঁদ সক্রিয় হওয়ার সময় ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ পাতার বাইরের স্তরের কোষ প্রাচীরকে অত্যন্ত দ্রুত নরম করে ফেলে। এই পরিবর্তনের ফলে পাতার বাইরের অংশ ভেতরের তুলনায় বেশি প্রসারিত হয়। এর ফলেই পাতাটি ভেতরের দিকে বেঁকে গিয়ে নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করার পর হঠাৎ স্প্রিংয়ের মতো দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।

 

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যে এত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের ঘটনা আগে কখনো পর্যবেক্ষণ করা যায়নি। গবেষণায় দেখা যায়, স্পর্শের সংকেত পাওয়ার পর ফাঁদটি মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যেই বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।

 

আগের ধারণা অনুযায়ী, পাতার এক পাশ থেকে অন্য পাশে পানি স্থানান্তরের মাধ্যমে এই ফাঁদ বন্ধ হয় বলে মনে করা হতো। তবে নতুন গবেষণায় এই ধারণার দুটি বড় অসংগতি পাওয়া গেছে।

 

প্রথমত, উদ্ভিদের টিস্যুর মাধ্যমে পানি চলাচল অত্যন্ত ধীর গতির প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে ৩০ থেকে ১৫০ সেকেন্ড সময় লাগে। অথচ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের ফাঁদ এক সেকেন্ডের মধ্যেই সক্রিয় হতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, পানি প্রবাহের মাধ্যমে পাতা বন্ধ হলে টিস্যুর ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে বিস্তারের তরঙ্গ দেখা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষায় এমন কোনো তরঙ্গের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই কারণে হাইড্রোলিক তত্ত্বটি বাতিল করেন গবেষকরা।

 

এরপর গবেষকরা ফাঁদ বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে দুটি পৃথক ধাপে ভাগ করেন। প্রথম ধাপ হলো পাতার ভেতরের দিকে ধীরে বাঁকানো প্রক্রিয়া এবং দ্বিতীয় ধাপ হলো মাত্র ০.২ সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যাওয়া চূড়ান্ত দ্রুত বন্ধ হওয়া।

 

এই প্রক্রিয়া বোঝার জন্য গবেষকরা একটি ছোট প্রোব ব্যবহার করে পাতার ভেতরের ও বাইরের কোষ প্রাচীরের দৃঢ়তা পরিমাপ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, ফাঁদ বন্ধ হওয়ার সময় পাতার ভেতরের অংশের কোষ প্রাচীর প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। তবে বাইরের পৃষ্ঠের কোষ প্রাচীর প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নরম হয়ে যায়।

 

স্পর্শের সংকেত পাওয়ার পর কোষের ভেতরের তরল চাপ, যাকে টারগর প্রেশার বলা হয়, এই নরম কোষ প্রাচীরের ওপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে বাইরের অংশ দ্রুত প্রসারিত হয় এবং পাতার দুই পাশের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে, যা ফাঁদ বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ফাঁদের ভেতরের সংবেদনশীল লোমে কোনো কীটপতঙ্গ পরপর দুইবার স্পর্শ করলেই এই প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এতে পাতার দুই পাশের দ্রুত বিস্তারের পার্থক্য তৈরি হয় এবং কীটপতঙ্গ আটকে যায়।

 

গবেষকরা মনে করছেন, ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ মূলত উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত কোষ প্রাচীর পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে বিবর্তনের মাধ্যমে শিকার ধরার কাজে অভিযোজিত করেছে। এই অভিযোজনই উদ্ভিদটিকে প্রাণিজগতের মতো দ্রুত শিকার ধরার সক্ষমতা দিয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
যুক্তরাষ্ট্র-চীনের নেতৃত্বে কমছে আস্থা
বিশ্বের মানুষ চায় একে-অপরের সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের নেতৃত্বে কমছে আস্থা

বিশ্বের ৩৪টি দেশের ৩৫ হাজারের বেশি মানুষের ওপর করা নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি মানুষের সমর্থন এখনো শক্তিশালী। একই সময়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থাও বেড়েছে। তবে বিশ্ব নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের ভূমিকা নিয়ে আগের তুলনায় কম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা।   রকফেলার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফোকালডেটা পরিচালিত জরিপটি ২১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়। এতে ৩৫ হাজার ৩৯৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ বলেছেন, গত এক বছরে বিশ্বের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।   তারপরও ৫৭ শতাংশ মানুষ বলেছেন, বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে জাতীয় স্বার্থের কিছুটা ছাড় দিতে হলেও দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করা উচিত। ২০২৫ সালের জরিপে এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। যুদ্ধ ও সংঘাত প্রতিরোধকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ৩৪ দেশের মধ্যে ২১টি দেশের মানুষ শীর্ষে রেখেছেন।   বিশ্ব নেতৃত্বের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতি ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যায়নি। মাত্র ৩৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তারা স্বস্তিবোধ করেন। চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৩৭ শতাংশ। বিপরীতে কানাডা ৬০ শতাংশ, জাপান ৫৮ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়া ৫৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন অনেকে। নিজেদের দেশকে বাদ দিয়ে ৪২ শতাংশ রাশিয়াকে, ৩৪ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে এবং ৩০ শতাংশ চীনকে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখেছেন। তবে দেশভেদে এই ধারণায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।   জরিপে আরও দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ মানুষ এমন একটি আন্তর্জাতিক জোটকে সমর্থন করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন কোনোটি অংশ না নিলেও অন্য দেশগুলো বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে। অর্থাৎ দুই পরাশক্তির বাইরে অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ ভূমিকার প্রতিও উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে।   অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর আস্থা ৬৯ শতাংশে, জাতিসংঘের ওপর ৬২ শতাংশে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ওপর ৫৭ শতাংশে, বিশ্বব্যাংকের ওপর ৫৫ শতাংশে এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ওপর ৫১ শতাংশে উঠেছে।   তবে অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের উদ্বেগও স্পষ্ট। মাত্র ৩৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, আগামী পাঁচ বছরে তাদের দেশের অর্থনীতি উন্নত হবে। ভারতের ক্ষেত্রে এই আশাবাদ ২৬ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৫০ শতাংশে এবং চীনে ১৬ পয়েন্ট কমে ৫৬ শতাংশে নেমেছে।   জরিপটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গবেষকদের মতে, ফলাফলগুলো দেখাচ্ছে যে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের হতাশা বাড়লেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের আগ্রহ কমেনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৬:৪৪
হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত

হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত, চাকরি হারিয়েও আপোষ করেননি তিনি

ব্রিকস নিরাপত্তা ডিউটিতে স্নাইপার নিয়ে ইনস্টাগ্রাম রিল ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল

ব্রিকস নিরাপত্তা ডিউটিতে স্নাইপার নিয়ে ইনস্টাগ্রাম রিল ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল, অতঃপর বরখাস্ত

মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে

মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে: সৌদি আরব

৩১ বছরের জেমি বিটন বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি
হার্ভার্ড, থেকে অক্সফোর্ড, ৩১ বছরের জেমি বিটন বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি

নিউজিল্যান্ডের উদ্যোক্তা ও ক্রিমসন এডুকেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেমি বিটনের শিক্ষাজীবন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি খুব অল্প বয়সেই হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইয়েল ও অক্সফোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তাঁর ব্যতিক্রমী একাডেমিক যাত্রার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।    বিটন ২০১৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাগনা কাম লডে স্নাতক হন। একই সময়ে তিনি অ্যাপ্লাইড ম্যাথমেটিকসে মাস্টার্স ডিগ্রিও সম্পন্ন করেন। হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তিন বছরে এই পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি রোডস স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত হন এবং পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক পলিসি নিয়ে ডিফিল করেন।    এরপর তাঁর শিক্ষাজীবনে যোগ হয় আরও কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি এমবিএ করেন। ইয়েল ল স্কুল থেকে অর্জন করেন জুরিস ডক্টর বা জেডি ডিগ্রি। অক্সফোর্ডে রোডস স্কলার হিসেবে পাবলিক পলিসিতে ডিফিল সম্পন্ন করেন। রোডস ট্রাস্টের জীবনী অনুযায়ী, তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল অনলাইন লার্নিং ও পাবলিক পলিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়।    তবে এখানেই শেষ নয়। বিভিন্ন সময়ে সরাসরি ক্যাম্পাসে এবং অনলাইনে পড়াশোনা করে আরও একাধিক মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন বিটন। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে এডুকেশন এন্ট্রাপ্রেনারশিপ, স্ট্যানফোর্ড থেকে এডুকেশন, প্রিন্সটন থেকে ফাইন্যান্স, কর্নেল থেকে হেলথ পলিসি অ্যান্ড ইকোনমিকস, ডার্টমাউথ থেকে ইমপ্লিমেন্টেশন সায়েন্স, কিংস কলেজ লন্ডন থেকে ওয়ার স্টাডিজ এবং বেইজিংয়ের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি থেকে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স।    সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির ডিগ্রিটি তিনি শোয়ার্জম্যান স্কলার হিসেবে সম্পন্ন করেন। তাঁর একাডেমিক প্রোফাইলে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, অক্সফোর্ড, ইয়েল, প্রিন্সটন, পেনসিলভানিয়া, সিংহুয়া এবং কিংস কলেজ লন্ডনের মতো প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত জীবনীতে তাঁর ডিগ্রির তালিকায় কিছু পার্থক্য থাকলেও একাধিক সূত্র তাঁর এই বিস্তৃত শিক্ষাজীবনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।    বিটনের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তাঁর উদ্যোক্তা পরিচয়ও উল্লেখযোগ্য। হার্ভার্ডে পড়ার সময়ই তিনি ক্রিমসন এডুকেশন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, টিউটরিং এবং ক্যারিয়ার মেন্টরশিপ নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।    তাঁর এই শিক্ষাযাত্রা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয় কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি ক্লাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাসে বিটনের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ধরন দেখে অধ্যাপক লিসা বেলকিন তাঁর পরিচয় সম্পর্কে জানতে গিয়ে তাঁর বিস্তৃত একাডেমিক পটভূমির সন্ধান পান। এরপরই সামনে আসে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে তাঁর একের পর এক ডিগ্রি অর্জনের গল্প।    জেমি বিটনের ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবন শুধু ডিগ্রি অর্জনের তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়। হার্ভার্ডে পড়ার সময়ই তিনি শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরামর্শ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নিজেই বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাধিক ডিগ্রিধারী হয়ে ওঠেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী একাডেমিক পথ এখন উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনায় একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ২:৩০
পাকিস্তানে ‘ফুল ফান্ডেড’ বৃত্তি নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

পাকিস্তানে ‘ফুল ফান্ডেড’ বৃত্তি নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা, দিচ্ছে না বৃত্তির অর্থ

মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন

মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন, আকাশেই ধ্বংস করল সৌদি প্রতিরক্ষা

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে পাওয়া গেল বিপুল পরিমাণে সোনা-রুপার উচ্চ ঘনত্বের খনিজভান্ডার

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে পাওয়া গেল বিপুল পরিমাণে সোনা-রুপার উচ্চ ঘনত্বের খনিজভান্ডার

ঘুমের গভীরতা ও মান যাচাই করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে জাপানের এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতায়। ছবি: সংগৃহীত
জাপানে ঘুমের প্রতিযোগিতা, ৯০ মিনিট ঘুমিয়ে জেতা যাবে প্রায় ১৬ লাখ টাকা

ঘুমিয়ে সময় কাটানো নয়, এবার ভালো ঘুমই হতে পারে পুরস্কার জেতার উপায়। জাপানের টোকিওতে এমনই এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে কোরালা জেপি। ‘ম্যাটরেস বাই কোরালা’ নামের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ৯০ মিনিট ঘুমের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। সবচেয়ে ভালো ঘুমের জন্য বিজয়ী পাবেন ২২২ লাখ ইয়েনের পুরস্কার।   প্রতিযোগিতাটি আগামী ৫ অক্টোবর টোকিওর মিনামি আওয়ামার শেয়ার গ্রিন মিনামি আওয়ামা এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগীদের কোরালা ম্যাট্রেসে শুয়ে ঘুমাতে হবে এবং বিশেষ ঘুম পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের ঘুমের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।   শুধু কতক্ষণ ঘুমানো হলো, সেটিই এখানে মূল বিষয় নয়। ঘুম কতটা গভীর ও মানসম্মত ছিল, কত দ্রুত ঘুম এসেছে এবং ঘুম কতটা স্থিতিশীল ছিল, এসব বিষয় বিবেচনা করে প্রতিযোগীদের জন্য একটি বিশেষ ‘স্লিপ স্কোর’ তৈরি করা হবে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এই স্কোর নির্ধারণ করা হবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছে। সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া প্রতিযোগী হবেন বিজয়ী।   তবে প্রতিযোগিতায় জিততে হলে আগে থেকেই সারারাত জেগে থাকা বা অতিরিক্ত ঘুমের ঘাটতি তৈরি করে আসার সুযোগ নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুম বঞ্চিত থাকা, ঘুমের ওষুধ বা ঘুম আনতে সহায়তা করে এমন ওষুধ ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ। অর্থাৎ প্রতিযোগিতায় দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার সুবিধা নিতে কেউ আগের রাতের ঘুম নষ্ট করতে পারবেন না।   প্রতিযোগিতা শুরুর আগে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে বিশেষ ধরনের ‘ঘুমের ব্যায়াম’। এরপর প্রত্যেককে এলোমেলোভাবে একটি করে ঘুম-সংক্রান্ত সামগ্রী দেওয়া হবে। এসব সামগ্রী ঘুমের পরিবেশে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারে এবং প্রতিযোগিতাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।   এরপর শুরু হবে মূল ৯০ মিনিটের ঘুমের পর্ব। প্রতিযোগীরা যখন ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন আয়োজকেরা পরিকল্পিতভাবে কিছু বিঘ্ন ঘটাবেন। এর মাধ্যমে হঠাৎ কোনো বাধা তৈরি হলেও কে কতটা স্থিরভাবে ঘুমিয়ে থাকতে পারেন, সেটিও যাচাই করা হবে। ফলে শুধু দ্রুত ঘুমিয়ে পড়াই নয়, পুরো সময়জুড়ে ঘুমের মান ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।   মূল পুরস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকছে। সবচেয়ে গভীর ঘুমের জন্য ‘ডিপ স্লিপ ডাইভ অ্যাওয়ার্ড’ এবং অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী ভঙ্গিতে ঘুমানোর জন্য ‘স্লিপ-টার্নিং অ্যাক্রোব্যাট অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   পুরো প্রতিযোগিতায় তিনটি পর্ব থাকবে। প্রতিটি পর্বে প্রায় ২০ জন করে অংশ নেবেন এবং প্রতিটি ঘুমের পর্বের সময় ৯০ মিনিট। পুরো আয়োজনটি দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি নেই। আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি হলে লটারির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হবে।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ৪ সেপ্টেম্বর এবং ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।   জাপানে ঘুমের ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের গুরুত্ব তুলে ধরাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ঘুমকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে এমন একটি আয়োজন, যেখানে শারীরিক শক্তি বা দ্রুততার বদলে প্রতিযোগিতার মূল মাপকাঠি হবে বিশ্রামের মান।   কোরালা জেপি জানিয়েছে, ‘ম্যাটরেস বাই কোরালা’ তাদের কোরালা ম্যাট্রেসকে ঘিরে আয়োজিত একটি নতুন ধরনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক অনুষ্ঠান। আয়োজনটির পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ইভেন্ট নির্মাতা আফ্রোম্যান্স।   সূত্র: কোরালা জেপি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ২৩:৪৫
তুরস্কের মারদিনে ইসলাম গ্রহণের পর দক্ষিণ কোরীয় পর্যটক শায়েভন, যিনি ‘আবদুল্লাহ’ নাম গ্রহণ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক ভ্রমণে এসে ইসলাম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ কোরীয় পর্যটক, নিলেন ‘আবদুল্লাহ’ নাম

তুরস্কের আঙ্কারায় এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মীদের বিক্ষোভ থেকে কয়েকজনকে আটক করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান, গ্রেপ্তার কয়েক ডজন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের দাবিকে খাটো করে দেখিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

মানবসভ্যতার ঝুঁকি তুলে এআই নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জাতিসংঘের, আপত্তি ট্রাম্প-চীনের

0 Comments