হোয়াইট হাউস–সংলগ্ন ইউএফসি ইভেন্টে ড্রোন হামলার পরিকল্পনায় এফবিআইয়ের অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে অনুষ্ঠিতব্য একটি ইউএফসি ইভেন্টকে লক্ষ্য করে কথিত বিস্ফোরক-ভর্তি ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, পরিকল্পনাটি একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল, যেখানে প্রথমে ড্রোন ব্যবহার করে বিস্ফোরক হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর ভিড়কে নির্দিষ্ট একটি এলাকায় ঠেলে নিয়ে সেখানে স্নাইপার দলের মাধ্যমে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথাও পরিকল্পনায় ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে হামলাকারীদের একটি দল হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে—এমন তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এফবিআই জানায়, ১০ জুন তারা এই পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য পায় এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করে।
পরে সিনসিনাটিতে একটি তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়, যেখানে প্রথম গ্রেপ্তারটি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিযান চালিয়ে আরও সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কিছু সন্দেহভাজন ১২ বা ১৩ জুন ভার্জিনিয়ার ফ্রেডেরিক্সবার্গ এলাকায় গিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। একজন সন্দেহভাজনের আইফোন বিশ্লেষণ করে অন্তত ২৩ জন ব্যবহারকারীর সঙ্গে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ সিগনালে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যেখানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
একজন সন্দেহভাজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল “পুঁজিবাদী এলিট”, “ধনকুবের” এবং এমন রাজনীতিবিদরা যারা আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (AIPAC) অর্থায়ন পান—এমনটাই জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে বলেন, দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের আটক করা হয়েছে। তিনি এটিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর “কার্যকর ও নিয়মিত কাজের অংশ” বলেও উল্লেখ করেন।
ঘটনার সময় আয়োজিত এই হাই-প্রোফাইল ইউএফসি ইভেন্টে প্রায় ৪,৩০০ জন উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ১,২০০ জন সক্রিয় সেনাসদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিনের সঙ্গেও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফবিআই জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন সাত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। মঙ্গলবারের ভোটে ২২০-২০৪ ব্যবধানে ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশনটি পাস হয়। এটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা জোরদার করার তৃতীয় হাউস উদ্যোগ। রেজল্যুশনটি ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে হাউসে পাস হয়। এতে ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশনের ৫(সি) ধারার আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে চলমান শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন ও মিত্রদের ঘাঁটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে রেজল্যুশনে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। রেজল্যুশনের পক্ষে ভোট দেওয়া সাত রিপাবলিকান হলেন কেনটাকির থমাস ম্যাসি, মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন, পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, সাউথ ক্যারোলিনার ন্যান্সি মেস, আইওয়ার মারিয়্যানেট মিলার-মিক্স এবং আইওয়ার জ্যাক নান। ম্যাসি, ব্যারেট, ডেভিডসন ও ফিটজপ্যাট্রিক আগের দুটি একই ধরনের রেজল্যুশনেও সমর্থন জানিয়েছিলেন। মেস, মিলার-মিক্স ও নান এবার প্রথমবারের মতো পক্ষে ভোট দেন। হাউসের সরকারি ভোটের হিসাবে রেজল্যুশনের পক্ষে ২১৩ জন ডেমোক্র্যাট ও সাতজন রিপাবলিকান ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেন ২০৩ জন রিপাবলিকান ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য। মোট ৯ জন ভোট দেননি। রেজল্যুশনটির পক্ষে থাকা ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে ছিলেন ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি শেথ মলটন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের মধ্যে যারা রেজল্যুশনের বিরোধিতা করেছেন, তাদের অনেকে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চলমান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আইওয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি জ্যাক নান ভোটের পর বলেন, তিনি আরেকটি অনির্দিষ্টকালীন যুদ্ধে সমর্থন দেবেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার সুযোগ শেষ হয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এটি হাউসে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তৃতীয় ওয়ার পাওয়ার্স রেজল্যুশন। জুন ও জুলাইয়েও একই ধরনের উদ্যোগ পাস হয়েছিল। তবে আগের রেজল্যুশনগুলো প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়নি। নতুন রেজল্যুশনটি সিনেটে উঠবে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। ইরান যুদ্ধের আর্থিক প্রভাবও কংগ্রেসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে, আগস্ট ১ পর্যন্ত ছয় মাসের যুদ্ধের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে এবং প্রতি মাসে আরও প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে মূল্যস্ফীতি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে। তবে হাউসের এই ভোটের পরই সামরিক অভিযান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না। রেজল্যুশনটির কার্যকর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সিনেটের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং নির্বাহী বিভাগের অবস্থানের ওপর। ট্রাম্প প্রশাসন ওয়ার পাওয়ার্স আইনের প্রয়োগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে এবং এই ধরনের রেজল্যুশনের আইনি কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কস্টকোতে মোটর অয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ, ক্রেতা কতটুকু তেল কিনবেন, তা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ
সিজারিয়ান সন্তান জন্মের ১০ দিন পর নবজাতককে কোলে নিয়েই গ্র্যাজুয়েশনে মা
দামী কেনাকাটার পর ‘চুরি’ দাবি করে অর্থ ফেরতের চেষ্টা, লাস ভেগাসের পুলিশ কর্মকর্তা ও স্ত্রী হেফাজতে
ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। চাকরির সুযোগের হার বলতে মাসের শেষ কর্মদিবসে বিদ্যমান খালি পদকে মোট কর্মী ও খালি পদের সমষ্টির শতাংশ হিসেবে হিসাব করা হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জেওএলটিএস জরিপে চাকরির সুযোগ, নিয়োগ এবং কর্মী ছাঁটাইসহ শ্রমবাজারের বিভিন্ন সূচক পরিমাপ করা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার এই হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২১ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও ২০২৩ সালে কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হারটি ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের অক্টোবরেও ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৬ লাখ ৬৪ হাজার চাকরির সুযোগ ছিল। তবে ওই মাসে রাজ্যটির চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগের মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে চাকরির সুযোগ কম থাকা মানেই নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোট চাকরির সুযোগ ছিল প্রায় ৭২ লাখ ৭১ হাজার এবং জাতীয় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে নিয়োগের হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ছাঁটাই ও চাকরিচ্যুতির হার ছিল ১ শতাংশ। সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের আরেকটি চিত্রও দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রম বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন সামান্য কমে ২ লাখ ৬ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে আগস্টে দেশটিতে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে নিয়োগের গতি কিছুটা বাড়লেও রাজ্যভেদে চাকরির সুযোগের চিত্র এক নয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন কর্মীদের জন্য তাই শুধু মোট চাকরির সংখ্যা নয়, কোন খাতে নিয়োগ বাড়ছে, কোন এলাকায় সুযোগ বেশি এবং নিয়োগের প্রবণতা কীভাবে বদলাচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চাকরির সুযোগের হার কম থাকলে একটি পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা হবে, তা পেশা, দক্ষতা ও স্থানীয় শ্রমবাজারের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিকভাবে চাকরির সুযোগ এখনো কয়েক মিলিয়নের পর্যায়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মহামারির পরের উচ্চ চাকরির সুযোগের সময়ের তুলনায় নিয়োগের বাজার অনেক বেশি স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনামূলক কম চাকরির সুযোগের হার রাজ্যটির চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
এনগেজমেন্টের এক বছরের মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের
নিউইয়র্কে বরফ পরিষ্কারের কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, ৪০ ঘণ্টা পেরোলেই ৪৫!
পুলিশ সেজে বয়স্ক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে সোনা হাতানোর চেষ্টা, গ্রে প্তার ৩
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের খরচ ইতোমধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত ১ আগস্ট পর্যন্ত এই ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে নিরপেক্ষ কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাতের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি খরচ হতে পারে। সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিতেও পড়ছে। ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি থাকতে পারে। এর অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন কমে যাওয়া এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন। প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে এই মূল্যায়ন তৈরি করেছে সিবিও। তাদের হিসাব এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের কাছাকাছি। সিবিও বলেছে, ব্যয়ের বড় অংশ যাচ্ছে যুদ্ধে ধ্বংস বা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় কেনার পেছনে। তবে নিহত বা আহত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সম্পর্কিত খরচ এবং ভবিষ্যতে সাবেক সেনাসদস্যদের চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় এই হিসাবের মধ্যে রাখা হয়নি। সিবিওর প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ইরান সংঘাতের আর্থিক প্রভাব ও মূল্যস্ফীতি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতটি এখন সপ্তম মাসে পড়েছে এবং দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো নিশ্চিত লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর আগে জুনে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছিল। এর মধ্যে ৪২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সরাসরি ইরান সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সিবিও মনে করছে। এই অঙ্ক সিবিওর হিসাব করা প্রতিরক্ষা ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। তবে এই হিসাব নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিভাগ সিবিওর তথ্য চাওয়ার অনুরোধে সাড়া দেয়নি। ফলে বাজেট অফিসকে সরকারি তথ্যভান্ডার ও প্রকাশ্য প্রতিবেদনসহ অন্যান্য উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। সিবিও জানিয়েছে, এ কারণে তাদের হিসাবের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। এদিকে পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও সরঞ্জামের মজুতে “কৌশলগত ঘাটতি” তৈরি হয়েছে।
৪০ ঘণ্টার বদলে সপ্তাহে ৩২ ঘণ্টা কাজ! যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিল
দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের জন্য ভিসায় বড় পরিবর্তন আনল ট্রাম্প প্রশাসন