তদন্তের মুখে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, আলোচনায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এবং তার স্ত্রী জেনিফার সিবেল নিউজমের আনুমানিক ৩০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ ও ব্যবসায়িক সংযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে কর সংক্রান্ত বিষয়, সাবেক সহযোগীদের ভূমিকা এবং রাজ্য প্রশাসনের কিছু কর্মীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এবং দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ার একাধিক হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার ইউএস অ্যাটর্নি অফিস এই তদন্ত পরিচালনা করছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে যখন গভর্নর নিউজম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এফবিআই এবং ডিওজে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনীতিতে প্রবেশের আগেই গ্যাভিন নিউজম একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০০৪ সালে সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র পদে নির্বাচন করার সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার। এই সম্পদের বড় অংশ আসে ওয়াইন ও হসপিটালিটি ব্যবসা থেকে।
তার ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু হয় প্লাম্পজ্যাক (PlumpJack) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে, যা তিনি গর্ডন গেটি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে তোলেন। বিলি গেটির সঙ্গে অংশীদারিত্বে তিনি বালবোয়া ক্যাফে এবং প্লাম্পজ্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এই ব্যবসা ওয়াইনারি, রেস্তোরাঁ এবং হোটেল খাতে বিস্তৃত হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই ব্যবসাগুলো সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়ে। নিউজম দম্পতির মালিকানায় ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ার ওকসে ১২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি বাড়ি রয়েছে। এটি ২০১৮ সালে ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারে কেনা হয়, যার বড় অংশ ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের শেষ দিকে তারা ক্যালিফোর্নিয়ার মারিন কাউন্টির কেন্টফিল্ড এলাকায় ৯ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের একটি বাড়ি কেনেন। পরিবারটি তাদের চার সন্তানের শিক্ষার সুবিধার্থে এই এলাকায় বসবাস করছে বলে জানা গেছে। গ্যাভিন নিউজম একাধিক বই লিখেছেন। তার সাম্প্রতিক আত্মজীবনী “ইয়াং ম্যান ইন আ হারি” থেকে তিনি এক লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি তার নিজের বই প্রচারের জন্য প্রায় ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, বই প্রকাশনা ও রয়্যালটি থেকে তার আয় এক লাখ ডলারের বেশি। তবে সরকারি দায়িত্বে থাকার কারণে তার পডকাস্ট থেকে কোনো আয় হয়নি।
তদন্তে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে জেনিফার সিবেল নিউজমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আয় কাঠামোর ওপর। তিনি “রিপ্রেজেন্টেশন প্রজেক্ট” নামের একটি নারীবাদী অলাভজনক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা, যেখানে তার বার্ষিক আয় এক লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি। এছাড়া তিনি “গার্লস ক্লাব এন্টারটেইনমেন্ট” নামের একটি মিডিয়া প্রোডাকশন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রতিষ্ঠানটি তার নন-প্রফিট সংস্থা থেকে বার্ষিক প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের অর্থ পেয়ে থাকে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিউজম “ক্যালিফোর্নিয়া পার্টনারস প্রজেক্ট” নামের একটি দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অনুদান প্রবাহে সহায়তা করেছেন। এসব অর্থ তার স্ত্রীর সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সঙ্গে ওভারল্যাপ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব আর্থিক কার্যক্রম আইনগতভাবে বৈধ হলেও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে নিউসম এবং তার স্ত্রী উভয়েই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। গভর্নর নিউজম অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই তদন্ত ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবিশ্বের দুই প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ও ট্রাভিস কালানিকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন প্রযুক্তি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী আদি প্রসাদ। টেসলায় উৎপাদন প্রকৌশলী হিসেবে কাজ থেকে শুরু করে ক্লাউডকিচেনসে দ্রুত বর্ধনশীল একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা এই দুই পর্যায়ের শিক্ষা আজ তার নতুন স্টার্টআপ ‘ম্যাটার’ এর ভিত্তি। বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে ৩৫ বছর বয়সী আদি প্রসাদ জানান, তিনি শুরু থেকেই উদ্যোক্তা হতে চেয়েছিলেন। তবে নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ার আগে বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি নেতাদের কাছ থেকে শেখাকে তিনি বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছিলেন। সেই লক্ষ্যেই ২০১৫ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করে যোগ দেন টেসলায়। সেই সময় টেসলা বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছিল। আদি প্রসাদকে কাজ করতে হয় মডেল এক্স গাড়ির জটিল ‘ফ্যালকন উইং’ দরজার উৎপাদন বাড়ানোর প্রকল্পে, যা তখন কোম্পানির অন্যতম কঠিন প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে তিনি কাছ থেকে ইলন মাস্কের নেতৃত্বের ধরন, সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সংস্কৃতি দেখার সুযোগ পান। তার ভাষায়, ইলন মাস্কের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা। কোনো কিছু দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে করা হচ্ছে, শুধু সেই কারণেই সেটি ঠিক এমন ধারণায় তিনি বিশ্বাস করতেন না। বরং প্রথম নীতি বা ‘ফার্স্ট প্রিন্সিপলস’ থেকে চিন্তা করে নতুন সমাধান বের করার ওপর জোর দিতেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরবর্তীতে আদি প্রসাদের উদ্যোক্তা জীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে। টেসলার পর তিনি অ্যাপলে প্রোডাক্ট কোয়ালিটি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। এরপর যোগ দেন উবারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান নির্বাহী ট্রাভিস কালানিকের নতুন প্রতিষ্ঠান ক্লাউডকিচেনসে। সেখানে প্রতিষ্ঠানের শুরুর দিকের কর্মীদের একজন হিসেবে খুব কাছ থেকে একটি দ্রুত সম্প্রসারণশীল প্রযুক্তি কোম্পানির ভেতরের কার্যক্রম দেখার সুযোগ পান। আদি প্রসাদের মতে, ট্রাভিস কালানিকের কাছ থেকে তিনি শিখেছেন সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে কীভাবে বড় পরিসরে ব্যবসা গড়ে তুলতে হয়। প্রতিটি সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক প্রভাব, ব্যয়ের কার্যকারিতা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের সংস্কৃতি তাকে উদ্যোক্তা হিসেবে আরও বাস্তববাদী হতে সাহায্য করেছে। তিনি মনে করেন, একটি সফল প্রযুক্তি কোম্পানি শুধু ভালো ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; দক্ষ বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিজ্ঞতার পর হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন আদি প্রসাদ। এরপর ২০২৫ সালে তিনি সহ-প্রতিষ্ঠা করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাটার’। চাকরির নিরাপদ জীবন ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন। ম্যাটার মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আধুনিক উৎপাদন শিল্পকে আরও দক্ষ, দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয় করার প্রযুক্তি তৈরি করছে। কোম্পানিটির লক্ষ্য এমন একটি ‘স্মার্ট ফ্যাক্টরি’ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, যেখানে সফটওয়্যার, রোবট এবং এআই একসঙ্গে কাজ করে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ পরিচালনা করবে। বিশেষ করে ড্রোন, রোবোটিকস, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, শিল্পযন্ত্র এবং জটিল ইলেকট্রোমেকানিক্যাল পণ্য উৎপাদনে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু সফটওয়্যার তৈরি করেই থেমে নেই প্রতিষ্ঠানটি। ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভ্যালে তারা নিজস্ব একটি আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রও পরিচালনা করছে। বাস্তব কারখানায় উৎপাদনের অভিজ্ঞতা থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে তাদের এআই প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করে তোলা হচ্ছে। কোম্পানিটির লক্ষ্য ভবিষ্যতে এমন একটি উৎপাদন ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান সহজেই ব্যবহার করতে পারবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন শিল্পেও বড় পরিবর্তন আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিপণ্যের সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করতে দেশীয় কারখানায় নতুন বিনিয়োগ করছে। এই পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগাতেই ম্যাটারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআইনির্ভর উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। আদি প্রসাদের বিশ্বাস, উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য কখনোই শতভাগ প্রস্তুত হওয়া সম্ভব নয়। তবে বিশ্বের সেরা প্রতিষ্ঠানে বাস্তব সমস্যার সমাধান করার অভিজ্ঞতা একজন উদ্যোক্তাকে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাস দেয়। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, বাস্তব শিল্পের অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক এমআরআইয়ের খরচেই চীনে বিমান ভ্রমণ, পাঁচতারকা হোটেল ও চিকিৎসা!
পকেটে এক ডলারও খরচ নয়, বিনা খরচে নিউইয়র্ক ঘুরে বেড়ানোর নতুন কৌশল
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ সদস্যের পদোন্নতি উদযাপন করল বাপা
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা চাইতে পারবেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, শুক্রবার অনলাইনে প্রকাশিত এক ফেডারেল নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, নতুন নিয়ম বি-১ ও বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এই দুই ধরনের ভিসা ব্যবসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে ভিসা ইস্যুর শর্ত হিসেবে আওতাভুক্ত অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন। এতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের পরীক্ষামূলক ভিসা বন্ড কর্মসূচি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ট্রেজারি বিভাগকে কর্মসূচিটির কার্যকারিতা মূল্যায়নের সুযোগ দিয়েছে। ওই কর্মসূচি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্ডভিত্তিক ব্যবস্থা ভিসাধারীদের নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে কার্যকর বলে মনে হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড চাইতে পারতেন। তবে নতুন চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে। চূড়ান্ত এই নিয়ম ৩ আগস্ট ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের মাধ্যমে কার্যকর হবে। কর্মসূচির আওতাভুক্ত ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টিই আফ্রিকার দেশ। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে এ নীতি নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন-অধিকারকর্মীদের মতে, এ নিয়মের কারণে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক অনেক আবেদনকারী নিরুৎসাহিত হতে পারেন। সূত্র: রয়টার্স
'দুই মাসেই পেয়েছি গ্রিন কার্ড', মার্কিন সেনাকে বিয়ে করা ভারতীয় নারীকে ঘিরে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে ইসলাম ও আরব স্টাডিজ শেখাতে নতুন কারিকুলাম
নিহত মার্কিন সেনার শেষকৃত্যে বক্তব্যের অপেক্ষায় থেকেও ডাক পেলেন না মেয়র মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি আবাসিক এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আশপাশের বাড়িগুলো কেঁপে ওঠে এবং জানালার কাঁচ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় দমকল বিভাগ জানায়, বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে একাধিক ফায়ার ইউনিট, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। কর্তৃপক্ষ আহতদের চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ নিশ্চিত করা না গেলেও, গ্যাস লিকসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং বিস্ফোরণের উৎস নির্ধারণে দমকল বিভাগের অগ্নিতদন্ত ইউনিট, স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় প্রবেশে সতর্কতা জারি রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টজুড়ে ছাঁটাইয়ের ঢেউ, যে শতাধিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চাকরি হারানোর শঙ্কা
গোপন অঙ্গে লুকানো কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় যাত্রী বিমানবন্দরে আটক