- প্রচ্ছদ
- Topic
ক্যালিফোর্নিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে এনভিডিয়ার ৩২ বছর বয়সী সিনিয়র এআই গবেষক ইরফান আল-হুসাইনির মৃত্যু নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করলেও সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা। পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্তের দাবিতে এবার ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। ইরফানকে গত জুলাইয়ে পালো আল্টোর নিজ বাসায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ জুলাই তার মৃত্যু হয়। এনবিসি বে এরিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখছে। তবে মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। পরিবারের দাবি, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেও ইরফান একটি পেশাগত প্রেজেন্টেশন করেছিলেন। তার বোন সারাহ আল-হুসেইনি বলেন, ওই সময় ইরফান স্বাভাবিক ছিলেন এবং প্রেজেন্টেশনও ভালোভাবে শেষ করেছিলেন। পরিবারের কাছে তাই আত্মহত্যার সিদ্ধান্তটি অসংগতিপূর্ণ মনে হচ্ছে। মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে আরও তদন্তের দাবি জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার কার্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও জরুরি আবেদন জমা দিয়েছেন। মরদেহ দাহের আগে ফরেনসিক পরীক্ষা, টক্সিকোলজি বিশ্লেষণ এবং স্বাধীন তদন্তের সুযোগ নিশ্চিত করতে তারা হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। পরিবারের আশঙ্কা, মরদেহ দাহ হয়ে গেলে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রমাণ আর পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না। ইরফানের পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, তার মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় পুলিশ ও সান্তা ক্লারা কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ পরিবারের বক্তব্য; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। এনবিসি বে এরিয়া জানিয়েছে, মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ইরফানের ময়নাতদন্তের ফলাফল সম্পর্কে তাদের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। ইরফান আল-হুসাইনি ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং জর্জিয়া টেক থেকে পিএইচডি করা একজন গবেষক। স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাখ্যাযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করতেন তিনি। জর্জিয়া টেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করার পর তিনি এনভিডিয়ায় যোগ দেন। তার মৃত্যুর পর বাংলাদেশেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক ময়নাতদন্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে মানববন্ধনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - ইরফানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করলেও পরিবার সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে। স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি ও কারণ স্পষ্ট হবে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তা ও ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে কাজ করা ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের পথ বন্ধ করতে একটি বিল পাস করেছে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভা। এখন বিলটি গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ‘গেট দ্য ফেডস আউট অ্যাক্ট’ বা ‘জিটিএফও অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত বিলটির লক্ষ্য হলো যারা ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন, তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা। এর আওতায় রাজ্য, কাউন্টি, শহর, স্কুল ডিস্ট্রিক্টসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান পড়বে। বিলটি অ্যাসেম্বলিতে মে মাসে ৫৩-২১ ভোটে পাস হয়। আগস্টের শেষ দিকে সিনেটও বিলটি অনুমোদন করে এবং সিনেটের সংশোধনীতে অ্যাসেম্বলির সম্মতি পাওয়ার পর এটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়। বিলটির মূল উদ্যোক্তাদের একজন ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলিম্যান মার্ক গনজালেজ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একই ধরনের দায়িত্বশীলতা ও মূল্যবোধের মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। তবে বিলটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এর সমালোচনা করে বলেছেন, ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করাকে কেন্দ্র করে কাউকে ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি থেকে বাদ দেওয়া আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিলটিতে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো পুলিশ সংস্থায় যোগ দিয়ে রাজ্যের মৌলিক পুলিশ প্রশিক্ষণ নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রার্থীর যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। গভর্নর নিউজম এখন বিলটিতে স্বাক্ষর করবেন নাকি ভেটো দেবেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আইনসভা থেকে পাস হওয়া বিলগুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে ক্যালিফোর্নিয়াই হবে সাবেক ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রথম অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যানোগা পার্কে গুলিতে গুরুতর আহত ২২ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা অ্যাড্রিয়ানা হিমেনেসকে লাইফ সাপোর্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ২৩ আগস্ট গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি ব্রেন ডেড অবস্থায় ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর অনাগত সন্তানও মারা গেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট সকাল ৭টা ৪৯ মিনিটের দিকে ক্যানোগা পার্কের নর্থগেট অ্যাভিনিউর ৮৩০০ ব্লকের একটি গলিতে গুলির ঘটনা ঘটে। অ্যাড্রিয়ানা ও তাঁর বোন মারিয়া ফার্নান্দা হিমেনেস গাড়ির ভেতরে বসে ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি কাছে এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। অ্যাড্রিয়ানা মাথায় গুলিবিদ্ধ হন এবং তাঁর বোনও গুলিতে আহত হন। অ্যাড্রিয়ানা ১৬ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তাঁর ছয় বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তাঁর ২৩তম জন্মদিন উপলক্ষে অনাগত সন্তানের লিঙ্গ জানার অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা ছিল। সেই অনুষ্ঠান আর করা হলো না। অ্যাড্রিয়ানার বোন মারিয়া ফার্নান্দাও গুলিবিদ্ধ হন। একটি গুলি তাঁর গলা ভেদ করে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও কণ্ঠনালি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে। ঘটনার দুই দিন পর ৩০ বছর বয়সী ওয়াল্টার ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজ গার্সিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের পরিচিত এবং ঘটনার সঙ্গে গ্যাংয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে কেন তিনি হামলা চালিয়েছিলেন, সেই উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এলএপিডি) ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অ্যাড্রিয়ানার ছয় বছর বয়সী মেয়েটিকে এখন পরিবারের সদস্যরা দেখাশোনা করছেন। মায়ের মৃত্যুতে শিশুটির ভবিষ্যৎ দেখভাল এবং চিকিৎসা ও শেষকৃত্যের খরচ বহনে সহায়তার জন্য পরিবার তহবিল সংগ্রহ করছে।
নিজের বাড়ির সামনের উঠোনে ফল-সবজির বাগান করেই বিপাকে পড়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার চাইনো শহরের বাসিন্দা মাইকেল শেরম্যান। শখের বাগানটি এখন তার জন্য রীতিমতো জরিমানার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া গাছপালা’র অভিযোগে এরই মধ্যে তাকে ৭৫০ ও ৫০০ ডলারের দুটি জরিমানা করেছে শহর কর্তৃপক্ষ। এবারও নিয়ম না মানলে আরও ৫০০ ডলার জরিমানার মুখে পড়তে পারেন তিনি। ৪৯ বছর বয়সী শেরম্যান পেশায় ল্যান্ডস্কেপ ঠিকাদার। ২০১৯ সালে সম্ভাব্য খাদ্যসংকট নিয়ে উদ্বেগ থেকে বাড়ির সামনের লনে সবজি ও ফলের গাছ লাগানো শুরু করেন তিনি। কয়েক বছর পর সেই ছোট্ট উদ্যোগই পরিণত হয়েছে বেশ বড়সড় বাগানে। তার বাগানে এখন মিষ্টি আলু, স্কোয়াশ, আদা, হলুদ, হর্সর্যাডিশ, কলা, আখ, বরই, পিচ, ব্লুবেরি, প্যাশনফ্রুটসহ নানা ধরনের ফল ও সবজি জন্মে। এমনকি ঔষধি গুণের কথা উল্লেখ করে তিনি ইচ্ছা করেই ড্যান্ডেলিয়নও চাষ করেন। শেরম্যানের দাবি, অধিকাংশ প্রতিবেশীই তার বাগান পছন্দ করেন। তবে পাশের একজন প্রতিবেশীর অভিযোগ থেকেই শহরের এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তার ধারণা। যদিও এক প্রতিবেশী সিবিএস লস অ্যাঞ্জেলেসকে জানিয়েছেন, বাগানটি সবসময় ঠিকমতো ছাঁটাই করা হয় না এবং সেখানে ইঁদুরের উপদ্রব নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে। শেরম্যান অবশ্য বলছেন, তার জমিতে অতীতে ইঁদুরের সমস্যা থাকলেও কয়েক বছর ধরে তা নেই। তার মতে, বাড়ির পাশে শুধু খালি মাটি থাকলেও ইঁদুরের সমস্যা তৈরি হতে পারে। শহর কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে শেরম্যানের আরেকটি আপত্তি হলো—ঠিক কোন গাছগুলো সমস্যা তৈরি করছে, তা তাকে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে না। তার ভাষ্য, স্কোয়াশের মতো অনেক গাছই মৌসুমি; এগুলো স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত বেড়ে ওঠে, ফুল দেয় এবং এক বছরের মধ্যেই মারা যায়। চাইনো শহরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাগান নিয়ে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে বাকি অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া গাছপালা ছাঁটাই বা সরিয়ে না ফেলা পর্যন্ত নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি বহাল থাকবে। শেরম্যানের বক্তব্য, নিজের পরিবারের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন খাবার নিশ্চিত করতেই তিনি বাড়িতে চাষাবাদ করছেন। বাজারের খাবারে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে তার আস্থা নেই। তাই নিজের হাতে যতটা সম্ভব নিরাপদ খাবার উৎপাদন করতে চান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি সিঙ্গেল ইঞ্জিন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক নারী পাইলট ও তার দুই ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার ফ্রেসনো শহরের সিয়েরা স্কাই পার্ক বিমানবন্দরের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নারী ডান্না ইডি (৪১) পেশায় একজন ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর ছিলেন। এ ঘটনায় তার দুই ছেলে পাভেল (১০) ও রেমাস (১৩) নিহত হলেও গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে গেছেন তার স্বামী ক্রেইগ। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শরীরে মারাত্মক পোড়া ক্ষতসহ একাধিক গভীর জখম রয়েছে। ফ্রেসনো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সান জোয়াকিন নদীর তীরের একটি পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলেই দুই শিশু সন্তানকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ডান্না ও তার স্বামীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডান্নার মৃত্যু হয়। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই পাহাড়ের একাংশে তীব্র আগুন ধরে যায়, যা দমকলকর্মীরা দ্রুত নেভাতে সক্ষম হন এবং তা লোকালয়ে ছড়াতে দেননি। ডান্নার বন্ধু নিক উইলকক্স জানান, পরিবারটি একটি এয়ারশোতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। ফ্রেসনোর এভিয়েশন বা উড্ডয়ন সম্প্রদায়ের কাছে ডান্না ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম। তিনি রিডলি কলেজে ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় 'এক্সপেরিমেন্টাল এয়ারক্রাফট অ্যাসোসিয়েশন'-এর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। উইলকক্স জানান, ডান্না সদ্য পাইলট হলেও ইতিমধ্যে হাজার হাজার ঘণ্টা ওড়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। আকাশে ওড়াই ছিল তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন এবং তিনি তার ভালোবাসার কাজটি করতে গিয়েই প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারটিতে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী আরও দুই সন্তান রয়েছে। স্বামীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পরিবারের অন্যান্য খরচ মেটাতে 'সাপোর্টনাও' পেজের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন তাদের এক পারিবারিক বন্ধু। ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো অস্পষ্ট। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে, যেখানে এনটিএসবি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থলটি বর্তমানে পুরোপুরি কর্ডন করে রাখা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রেসনো বিমানবন্দর এলাকায় একটি ছোট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চারজন আরোহী নিয়ে উড়োজাহাজটি সান জোয়াকিন নদীর কাছাকাছি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। ফ্রেসনো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য কর্মকর্তা টনি বোটি দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টকে জানান, দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে সিয়েরা স্কাই পার্কের কাছে একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও শেরিফের একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নদীর পাশের পাহাড়ি ঢালে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পায়। দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষের আশপাশের ঝোপঝাড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তবে জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি হতাহতদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে। উদ্ধারকারীরা গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দুই প্রাপ্তবয়স্ককে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে। তবে তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশু। তাদের পরিচয় ও বয়স তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। এদিকে, ঠিক কী কারণে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৩০ জানিয়েছে, প্রাথমিক উদ্ধারকাজে ফ্রেসনো পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি নর্থ সেন্ট্রাল ফায়ার ডিপার্টমেন্টও অংশ নেয়। দুর্ঘটনার প্রভাবে ওই এলাকায় কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে তা মেরামত করে স্বাভাবিক করা হয়। মাত্র কয়েক মুহূর্তের একটি দুর্ঘটনায় দুই শিশুর প্রাণহানিতে এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার চিনো শহরের বাসিন্দা মাইকেল শেরম্যান নিজের পরিবারের জন্য ফল ও সবজি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে বাড়ির সামনের লনকে ‘ফুড ফরেস্টে’ পরিণত করেছিলেন। কিন্তু সেই বাগানই এখন তাকে গুনতে হচ্ছে একের পর এক জরিমানা। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত তাকে ৭৫০ ও ৫০০ ডলারের দুটি জরিমানা করা হয়েছে। আরও ৫০০ ডলারের জরিমানার আশঙ্কাও রয়েছে। ৪৯ বছর বয়সী শেরম্যান পেশায় ল্যান্ডস্কেপ কনট্রাক্টর। ২০১৯ সালে তিনি বাড়ির সামনের প্রচলিত ঘাসের লন সরিয়ে সেখানে ফল ও সবজি চাষ শুরু করেন। প্যাশনফ্রুট, মূলা, কলা, মিষ্টি আলু, স্কোয়াশসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ রয়েছে তার বাগানে। পরিবারের খাবারের খরচ কমানো এবং বাজারের খাবারে কী ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। উৎপাদিত কিছু খাবার প্রতিবেশীদেরও দেন। তবে বাগান নিয়ে সবার মত এক নয়। কিছু প্রতিবেশী শেরম্যানের উদ্যোগকে সমর্থন করলেও অন্যরা এটিকে অপরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিকটু বলে অভিযোগ করেছেন। কারও কারও আশঙ্কা, অতিরিক্ত গাছপালা ইঁদুরসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এপ্রিল মাসে চিনো শহরের কোড এনফোর্সমেন্ট কর্তৃপক্ষ ‘অতিরিক্ত বেড়ে ওঠা গাছপালা’সহ কয়েকটি নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে শেরম্যানকে ৭৫০ ডলার জরিমানা করে। তাকে অতিরিক্ত গাছপালা ছাঁটাই, পথচারীদের চলাচলের ক্ষেত্রে দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিবেশীর সম্পত্তির সীমানা থেকে অন্তত ১৫ ফুট দূরে গাছপালা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি আপিলও করেন। আগস্টে তাকে আরও ৫০০ ডলারের জরিমানা করা হয়। এরপর শহরের নির্দেশনা মেনে শেরম্যান কিছু ঝোপঝাড় সরিয়ে গাছপালা ছাঁটাই করেন এবং পথচারীদের চলাচলের দৃষ্টিসীমা পরিষ্কার করেন। তবে তার দাবি, নিয়ম মেনে পরিবর্তন আনার পরও নতুন করে জরিমানার মুখে পড়ছেন। সেপ্টেম্বরে সিবিএস লস অ্যাঞ্জেলেসকে শেরম্যান জানান, চলতি মাসের ১৬ তারিখের মধ্যে বাগানের বাকি অংশ ছাঁটাই না করলে আরও ৫০০ ডলারের জরিমানা হতে পারে। শহর কর্তৃপক্ষ বলছে, যেসব গাছপালা এখনো কোডের আওতায় অতিরিক্ত বেড়ে আছে, সেগুলো ছাঁটাই বা সরানো না পর্যন্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি বহাল থাকবে। অন্যদিকে শেরম্যানের যুক্তি, নিজের পরিবারের খাবার উৎপাদনের জন্য বাড়ির জায়গা ব্যবহার করার অধিকার তার থাকা উচিত। তিনি জানান, নিরাপত্তা ও পথচারীদের দৃশ্যমানতার মতো যৌক্তিক নিয়ম মানতে তার আপত্তি নেই। তবে বাগানের কারণে সরাসরি কোনো প্রতিবেশীর ক্ষতি বা প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হলে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছেন তিনি। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরতলিতে বাড়ির সৌন্দর্য, স্থানীয় কোড এবং ব্যক্তিগতভাবে খাদ্য উৎপাদনের স্বাধীনতার মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনকেও সামনে এনেছে। বিশেষ করে চিনো শহরের সরকারি স্লোগান ‘Where Everything Grows’ হওয়ায় শেরম্যানের বাগান নিয়ে বিতর্কটি আরও আলোচনায় এসেছে। শহরের এই স্লোগানটির সঙ্গে এলাকার কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। শেরম্যান এখন বাগানের পুরোটা সরিয়ে ফেলার বদলে শহরের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে নিজের ‘ফুড ফরেস্ট’ ধরে রাখতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে রাজ্য সরকার। অন্যদিকে রাজ্যের স্থানীয় বাসিন্দা বা মার্কিন নাগরিকরা তাদের নিজেদের পড়াশোনার বিপুল খরচ জোগাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। নিজ দেশে এমন বৈষম্যের শিকার হওয়ায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের রাজ্য তহবিলের অনুদানসহ নানা ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি হাজার হাজার অবৈধ শিক্ষার্থী ইন স্টেট টিউশন রেট বা স্থানীয়দের সমান ফি, কমিউনিটি কলেজের ফি মওকুফ এবং ভর্তুকিযুক্ত ঋণের সুবিধাও পাচ্ছেন। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো রাজ্যের তুলনায় সর্বোচ্চ। মধ্যবিত্ত মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। কারণ তাদের অনেকেই পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হন, অথচ তাদের বছরে ৪৫ হাজার ডলারের বেশি কলেজ ফি গুনতে হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আভা শ্মিট এই বৈষম্যকে সম্পূর্ণ হাস্যকর বলে আখ্যায়িত করেছেন। বে এরিয়াতে বেড়ে ওঠা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই ছাত্রী দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টকে জানান, গত বছর তিনি মাত্র ২ হাজার ডলার আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন। বাকি খরচ মেটাতে তার বাবাকে নিজের অবসরের জমানো টাকা ভাঙতে হয়েছে এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। বর্তমানে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বছরে ৭৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। পড়াশোনার খরচ জোগাতে আভা ক্যাম্পাসের বাইরে একটি কাজ করেন। তারপরও বাড়িভাড়া এবং মুদি বাজারের খরচ মেটাতে তাকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। আভা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের জায়গা করে নিতে অনেক পরিশ্রম করেছি। অথচ আমি কোনো আর্থিক সহায়তা পাচ্ছি না, আর নথিপত্রবিহীন অবৈধ অভিবাসীরা সেই টাকা পেয়ে যাচ্ছেন। যোগ্য অবৈধ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ একটি ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। যারা আয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেন তারা ক্যালিফোর্নিয়া ড্রিম অ্যাক্ট অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের ক্যাল গ্রান্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই কর্মসূচি চালু করার সময় এর ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৬ কোটি ডলার। এছাড়া এসব শিক্ষার্থী ক্যালিফোর্নিয়া ড্রিম লোন কর্মসূচির সুবিধাও নিতে পারেন, যার আওতায় কেন্দ্রীয় সরকারের ছাত্র ঋণ পাওয়ার অযোগ্য অবৈধ স্নাতকদের ভর্তুকিযুক্ত ঋণ দেওয়া হয়। ২০০১ সালে পাস হওয়া একটি আইনের আওতায় শর্ত পূরণকারী নথিপত্রবিহীন শিক্ষার্থীরা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সমান টিউশন ফি দেওয়ার সুযোগ পান। এছাড়া কমিউনিটি কলেজগুলোতে যোগ্য অবৈধ শিক্ষার্থীরা ক্যালিফোর্নিয়া কলেজ প্রমিজ গ্রান্ট পান, যা তাদের প্রতি ইউনিটের ৪৬ ডলার নিবন্ধন ফি পুরোপুরি মওকুফ করে দেয়। সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসন ও খাবারের খরচ যেখানে প্রতি শিক্ষাবর্ষে হাজার হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়, সেখানে এই ধরনের আর্থিক সহায়তা অবৈধ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় করে। কিন্তু পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়া মার্কিন নাগরিক ও বৈধ বাসিদারা বিশাল ঋণের মুখে পড়ছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে অবস্থিত চ্যাপম্যান ইউনিভার্সিটির ছাত্র কুপার ভিনসিক ধারণা করছেন, স্নাতক শেষ করার পর তিনি বিশাল ঋণের জালে আটকে পড়বেন। ২১ বছর বয়সী এই তরুণ চিত্রনাট্যকার হতে চান। তিনি জানান, তার চোখের সামনে অবৈধ সহপাঠীরা নানা ধরনের সহায়তা পেলেও তিনি নিজে কোনো বড় আর্থিক সহায়তা পাননি। এর ফলে তাকে কয়েক হাজার ডলারের ঋণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হবে। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান টিউশন ফি বছরে প্রায় ৭০ হাজার ডলার। সান দিয়েগোর বাসিন্দা ভিনসিক জানান, খরচ কমানোর জন্য তিনি প্রথম দুই বছর সান্তা বারবারা সিটি কলেজে পড়েছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগ, ওই কমিউনিটি কলেজে নথিপত্রবিহীন শিক্ষার্থীদের বেশি আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতো। এমনকি ক্যাম্পাসে অভিবাসন কর্মকর্তারা এলে কীভাবে তাদের কাছ থেকে লুকাতে হবে সেই বিষয়েও শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হতো। ভিনসিকের মতে, যেহেতু কমিউনিটি কলেজগুলো জনগণের করের টাকায় চলে, তাই কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়ার জন্য সেই অর্থ ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার ড্রিম লোন কর্মসূচির জন্য প্রতি বছর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি সিস্টেমকে ২৫ লাখ ডলার দেয় এবং ইউসি নিজস্ব তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ যোগ করে। তবে রাজ্য আইনসভার কাছে জমা দেওয়া ইউসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচিতে যে পরিমাণ তহবিল রয়েছে সেই অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঋণের আবেদন পাওয়া যাচ্ছে না। এই পুরো বিষয়টি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। রিপাবলিকান দলের গভর্নর পদপ্রার্থী স্টিভ হিলটন বলেছেন, রাজ্যের অনেক বাসিন্দা যখন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সংগ্রাম করছেন তখন অবৈধ শিক্ষার্থীদের পেছনে এই বিশাল ব্যয় কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, আমরা সবচেয়ে খারাপ ফলাফলের জন্য দেশের সর্বোচ্চ কর পরিশোধ করছি। গভর্নর নির্বাচিত হলে তিনি অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা কমানোর এবং বছরে দেড় লাখ ডলারের কম আয়কারী কর্মীদের রাজ্য আয়কর বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের এক মুখপাত্র এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীরা শুধু তাদের অভিবাসন মর্যাদার কারণে বেশি আর্থিক সহায়তা পান না। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের কলেজ শিক্ষাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ক্যালিফোর্নিয়ার পূর্ণকালীন স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ২৩ শতাংশ ছাত্র ঋণ নিয়েছেন, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে এই হার ৩৮ শতাংশ। খবরের উৎস: দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ক্রেস্টলাইনে এক মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। মানবিকতার খাতিরে এক অপরিচিত যুবককে বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে চরম পরিণতির শিকার হয়েছেন ৭১ বছর বয়সী থেরেস গার্সিয়া নামের এক বৃদ্ধা। ২৬ বছর বয়সী ওই যুবক ঘুমন্ত অবস্থায় গার্সিয়াকে অ্যালুমিনিয়ামের বেসবল ব্যাট দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলায় মস্তিষ্কে আঘাতের পাশাপাশি ওই বৃদ্ধার শরীরের বেশ কয়েকটি হাড় ভেঙে গেছে এবং গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, হামলার পর বৃদ্ধার সর্বস্ব লুট করে পালিয়ে যাওয়া ওই যুবক এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধার মেয়ে অ্যাবি গার্সিয়া সংবাদমাধ্যম এনবিসিএলএ-কে জানান, তার মা প্রায়ই বাড়ির বারান্দায় বসে প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প করতেন। একদিন ওই যুবক রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় গার্সিয়ার সঙ্গে কথা বলে এবং জানায়, ক্যাম্পিং করার সময় তার সব জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। দয়ালু গার্সিয়া তার দুর্দশার কথা শুনে তাকে নিজের বাড়িতে থাকার প্রস্তাব দেন। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পর যুবকটি ধীরে ধীরে বাড়িটির ওপর নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গার্সিয়া তাকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ওই যুবক। ঘটনার রাতে গার্সিয়া ঘুমিয়ে পড়লে ওই যুবক তাকে বেসবল ব্যাট দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে। অ্যাবি গার্সিয়া জানান, তার মা ব্যথায় জ্ঞান হারাচ্ছিলেন এবং একটু জ্ঞান ফিরলেই যুবকটি আবারও তাকে পেটাতে শুরু করে, যতক্ষণ না তিনি পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে যান। হামলার পর ওই পাষণ্ড যুবক বৃদ্ধার বাড়ির চাবি, মোবাইল ফোন এবং ই-বাইক চুরি করে পালিয়ে যায়। পুলিশ বর্তমানে পলাতক ওই হামলাকারীকে ধরতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মাউন্ট শাস্তা পর্বতে ওঠার পরিকল্পনা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তা নিয়েছিলেন তিন অনভিজ্ঞ হাইকার। গুগলের জেমিনি থেকে পাওয়া পথ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসংক্রান্ত পরামর্শের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পর চূড়ায় উঠতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। পরে পথ হারিয়ে একজন হাঁটুতে আঘাত পাওয়ায় তিনজনকেই উদ্ধার করতে হয়। ঘটনাটি ঘটে ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে, ওরেগন সীমান্তের কাছে ক্যাসকেড পর্বতমালার অংশ মাউন্ট শাস্তায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪ হাজার ১৭৯ ফুট উঁচু এই পর্বতটি অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের কাছেও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে পরিচিত। সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তিন হাইকারই ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা এবং পর্বতারোহণে তারা অনভিজ্ঞ ছিলেন। গত ২৯ আগস্ট শনিবার প্রায় ৮ হাজার ৪০০ ফুট উচ্চতায় তারা শিবির স্থাপন করেন। পরদিন ভোর ৩টার দিকে হালকা ব্যাগ নিয়ে চূড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে ওঠা ও নামার কাজ শেষ করা। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর রাত ৭টার দিকে তারা মাউন্ট শাস্তার চূড়ায় পৌঁছান। অথচ পর্বত কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনায় দুপুর ১২টার মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এরপর নামার সময় পর্যাপ্ত দিনের আলো না থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়। তিনজন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চূড়ায় পৌঁছানোর পর অন্ধকারের মধ্যেই নামা শুরু করেন। নামার প্রায় এক ঘণ্টা পর তারা পথনির্দেশনার জন্য সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের জরুরি যোগাযোগ নম্বরে ফোন করেন। এরপরও তারা নির্ধারিত ক্লিয়ার ক্রিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে মাড ক্রিক ক্যানিয়নের দিকে চলে যান। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন দলের একজন পড়ে গিয়ে হাঁটুতে আঘাত পান। দুর্গম ও খাড়া মাড ক্রিক ক্যানিয়নের ভেতরে আটকা পড়ে তিনজনকে সেখানেই রাত কাটাতে হয়। তাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও জরুরি সরঞ্জামও ছিল না। পরদিন সকালে যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের পর্বতারোহণ উদ্ধারকারী দল তাদের সন্ধান পায়। উদ্ধারকারীরা আহত হাইকারকে চিকিৎসা দেন এবং তিনজনকেই নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনতে সহায়তা করেন। পরে সিসকিয়ু কাউন্টির অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী স্বেচ্ছাসেবকেরাও অভিযানে যুক্ত হন। শেষ পর্যন্ত তিন হাইকার এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা নিরাপদে ট্রেইলহেডে ফিরে আসেন। উদ্ধারের পর শেরিফের এক কর্মকর্তাকে তিন হাইকার জানান, মাউন্ট শাস্তায় ওঠার প্রস্তুতির সময় তারা গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী জেমিনির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছিলেন। কোন পথে উঠবেন এবং কতটা খাবার ও পানি সঙ্গে নেবেন, সেসব বিষয়েও তারা জেমিনির পরামর্শ নিয়েছিলেন। শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, জেমিনি তাদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম খাবার ও পানি সঙ্গে নিতে পরামর্শ দিয়েছিল। আট ঘণ্টার মধ্যে শেষ করার কথা থাকা যাত্রাটি যখন একাধিক দিনের পরিস্থিতিতে পরিণত হয়, তখন অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। তবে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখছে না। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে চূড়ায় ওঠা এবং অন্ধকারে নামার সিদ্ধান্তও পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় পথনির্দেশনার জন্য একাধিক নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি রাখার ওপরও জোর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সিসকিয়ু কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় হাইকারদের মাউন্ট শাস্তা রেঞ্জার স্টেশনে যাওয়ার আগে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ পথ ও আবহাওয়ার তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু মুঠোফোন, স্মার্ট ঘড়ি বা কোনো একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে বিকল্প পথনির্দেশনার ব্যবস্থাও সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে দুপুর ১২টার ‘ফিরে আসার সময়সীমা’ মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ায় পৌঁছাতে না পারলে ফিরে আসা উচিত, যাতে দিনের আলো থাকতে নিরাপদে নিচে নামা যায়। মাউন্ট শাস্তার ক্লিয়ার ক্রিক পথকে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত কঠিন পর্বতারোহণের পথ হিসেবে বিবেচনা না করা হলেও, সেখানে শারীরিক সক্ষমতা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি এবং আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা প্রয়োজন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ভ্রমণ, পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারীদের ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছেন। মাউন্ট শাস্তার এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, দুর্গম বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এআইয়ের পরামর্শকে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের তথ্য, সরকারি নির্দেশনা এবং বাস্তব পরিস্থিতি যাচাইয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মসজিদে চিঠি পাঠিয়ে মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যার হুমকির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লুই হোয়াইট (৬০) নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে সিরিয়াল নম্বরবিহীন একটি এআর-১৫ স্টাইলের রাইফেলসহ বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে ফেডারেল আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট রিভারসাইড কাউন্টির ‘ইসলামিক সেন্টার অফ টেমিকুলা ভ্যালি’ নামের একটি মসজিদে হুমকিসংবলিত চিঠিটি আসে। চিঠিতে লেখা ছিল, "তোমাদের প্রত্যেককে হত্যা করার দিনটির জন্য আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না!" বার্তার ঠিক নিচে ক্রসহেয়ার বা বন্দুকের টার্গেটের আদলে একটি নকশা আঁকা ছিল। সেই টার্গেটের ভেতরে চোখ কাটা ও টুপি পরা এক দাড়িওয়ালা ব্যক্তির ছবি এবং আল্লাহকে নিয়ে একটি আপত্তিকর মন্তব্য লেখা ছিল। চিঠিটি পাওয়ার পরই মসজিদ কর্তৃপক্ষ দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানায়। তদন্তে নেমে পুলিশ চিঠিটির সূত্র ধরে সান দিয়েগো কাউন্টির ওয়ার্নার স্প্রিংসের বাসিন্দা লুই হোয়াইটের সন্ধান পায়। গত ২৯ আগস্ট তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিরিয়াল নম্বরবিহীন ওই এআর-১৫ স্টাইলের শর্ট-ব্যারেল রাইফেলটি উদ্ধার করা হয়, যা সাধারণত ‘গোস্ট গান’ নামে পরিচিত। বর্তমানে লুই হোয়াইট রিভারসাইড কাউন্টির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে ফেডারেল হেফাজতে স্থানান্তর করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাগারে সাজা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রাইটউড এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে হাইওয়ে ২ বা অ্যাঞ্জেলেস ক্রেস্ট হাইওয়েতে ফ্লুম ক্যানিয়ন ড্রাইভের কাছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, পাঁচ আসনের হুন্দাই ভেলোস্টার মডেলের ওই হ্যাচব্যাক গাড়িটিতে মোট ছয়জন যাত্রী গাদাগাদি করে বসেছিলেন। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি ইউটিলিটি পোলে সজোরে ধাক্কা খায় এবং পাহাড়ের খাদে একটি তৃণভূমিতে গিয়ে পড়ে। ভয়াবহ এই সংঘর্ষের ফলে গাড়িতে থাকা পাঁচজন যাত্রী বাইরে ছিটকে পড়েন, যাদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া অপর দুই যাত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে অন্তত একজন সিটবেল্ট পরা অবস্থায় ছিলেন। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে পড়ার পর গাড়িটি পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) বর্তমানে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে বড় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) ডিটেনশন সেন্টারে বন্দিদের সাথে স্বজনদের আলিঙ্গন বা শারীরিক স্পর্শ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরে অবস্থিত প্রায় ১,৬০০ বন্দি ধারণক্ষমতার 'ক্যালিফোর্নিয়া সিটি' নামের এই বন্দিশালায় গত এক বছর ধরে 'কন্টাক্ট ভিজিট' বা সরাসরি সাক্ষাতের এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। কোরসিভিক নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত এই কারাগারে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পরিবারের সদস্যরা কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে শুধু ফোনেই কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রিয়জনকে একটু ছুঁয়ে দেখার বা সান্ত্বনা দেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের দেওয়া হচ্ছে না। এই অমানবিক নিয়মের কারণে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বন্দি ও তাদের স্বজনরা। তেরেসা রেয়েস নামের এক মা ৩২০ মাইল পাড়ি দিয়ে ছেলের ৩২তম জন্মদিনে দেখা করতে এলেও তাকে একটু জড়িয়ে ধরতে বা কোনো উপহার দিতে পারেননি। অন্যদিকে, অ্যালেন টেসন নামের এক ফিলিপিনো-বংশোদ্ভূত বন্দি গত ফেব্রুয়ারি থেকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। তার স্ত্রী সামান্থা সানচেজ বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অথচ কাঁচের দেয়ালের কারণে স্বামীর একটু স্পর্শ বা মানসিক সমর্থন থেকে তিনি পুরোপুরি বঞ্চিত। সামান্থা ও তার সন্তানেরা এখন ব্যয়বহুল ভিডিও কলের ওপর নির্ভরশীল, যা তাদের আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কন্টাক্ট ভিজিট নিষিদ্ধ করা যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি বন্দিশালার জন্যই একটি চরম ও বিরল সিদ্ধান্ত। তারা অভিযোগ করছেন, বন্দিদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত ডিপোর্টেশন বা দেশে ফেরতের আদেশে বাধ্য করতেই এমন কারাগার-সদৃশ অমানবিক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস-এর অডিটে উঠে এসেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞা খোদ কোরসিভিকের নিজস্ব নীতির পরিপন্থী, যেখানে স্পষ্ট বলা আছে নিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকলে শারীরিক স্পর্শের সুযোগ দেওয়া উচিত। কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত জায়গার অভাব ও মাদক পাচারের আশঙ্কার কথা বললেও, দর্শনার্থী কক্ষে টেবিল ও পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। অমানবিক এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়িয়েছেন বন্দি ও তাদের পরিবার। 'হাগস বিয়ন্ড বারস' (Hugs Beyond Bars) নামক একটি প্রচারণার মাধ্যমে তারা একজোট হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া কোলাবোরেটিভ ফর ইমিগ্রান্ট জাস্টিস (CCIJ)-এর মতো মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সহায়তায় তারা সরাসরি কারারক্ষী বা ওয়ার্ডেনের কাছে চিঠি দিচ্ছেন এবং কংগ্রেসে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছেন। নিরাপত্তার খোঁড়া যুক্তিতে কর্তৃপক্ষ এই নিয়ম বহাল রাখলেও, স্বজনদের একটাই দাবি— দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষে প্রিয়জনকে অন্তত একবার আলিঙ্গন করার মানবিক অধিকারটুকু তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের দায়ে অভিযুক্ত এক সাবেক শিক্ষিকা আদালতে অঝোরে কেঁদেছেন। গত সোমবার রিভারসাইড সুপিরিয়র কোর্টে শুনানিকালে ভুক্তভোগী ওই কিশোরের মা তাদের পারিবারিক ট্রমা ও মানসিক বিপর্যয়ের বর্ণনা দেওয়ার সময় কাঠগড়ায় থাকা ৩৪ বছর বয়সী আমান্ডা লেই কুইনোনেজ কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রায় চার বছর আগে নিজের ওই ছাত্রের সঙ্গে জঘন্য এই সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। আমান্ডা কুইনোনেজ রিভারসাইডের এলেনর রুজভেল্ট হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষিকা এবং ওয়াটার পোলো ও সাঁতারের কোচ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে এক অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে বিকৃত যৌন নিপীড়ন এবং তাকে যৌন উদ্দীপক সামগ্রী সরবরাহের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতে ভুক্তভোগী ছাত্রের বাবা-মায়ের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষমা চেয়ে আমান্ডা স্বীকার করেন যে, একজন শিক্ষিকা হিসেবে তিনি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। আদালতে ওই কিশোরের মা অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান, শিক্ষিকার এমন ঘৃণ্য আচরণের কারণে তার ছেলেকে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অন্য শিক্ষার্থীদের কটূক্তি ও উপহাসের কারণে ভুক্তভোগী কিশোর ও তার বড় ভাইকে স্কুলের বেসবল দল ছাড়তে হয় এবং শেষ পর্যন্ত অন্য স্কুলে ভর্তি হতে বাধ্য করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোর জানিয়েছিল, অভিযুক্ত শিক্ষিকা তাকে বারবার বলতেন এই সম্পর্ক গোপন রেখে তাকে (শিক্ষিকাকে) রক্ষা করতে হবে। ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে জামিনে মুক্ত থাকা এই সাবেক শিক্ষিকাকে মঙ্গলবার পুনরায় আইনি হেফাজতে নেওয়ার কথা রয়েছে। মানসিক মূল্যায়নের জন্য আপাতত তাকে স্টেট প্রিজনে পাঠানো হবে এবং আগামী ১০ নভেম্বর চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার জন্য তাকে আবারও আদালতে হাজির করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গাড়ি চাপা দিয়ে এক বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগে অপর এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে তাদের আরেক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর ছুরিকাহত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের ঘটনাটি স্থানীয় কমিউনিটিতে গভীর শোক ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী অনিলা বেবির বিরুদ্ধে ৩৫ বছর বয়সী অঞ্জনা হরিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে মিলপিটাসের মিল ক্রিক অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের কাছে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি অনুযায়ী, অঞ্জনা হরি হাসিমুখে একটি ব্যাগ হাতে অনিলার ব্লু টয়োটা হাইল্যান্ডার গাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। সে সময় তাদের মধ্যে কোনো ধরনের ঝগড়া বা দ্বন্দ্বের লক্ষণ ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করেই অনিলা তীব্র বেগে গাড়ি চালিয়ে অঞ্জনাকে চাপা দেন এবং তিনটি পার্ক করা গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া অঞ্জনাকে দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ দুর্ঘটনা বা ‘হিট-অ্যান্ড-রান’ হিসেবে ধারণা করা হলেও, পরে তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে মিলপিটাস পুলিশ। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক মাইল দূরে একটি ওয়ালগ্রিনস পার্কিং লট থেকে অনিলা বেবিকে অসংলগ্ন অবস্থায় আটক করে পুলিশ। এ সময় তার হাত ও পায়ে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন ছিল। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে সান জোসে পুলিশের কাছে আরও একটি জরুরি কল আসে। লিন্ডা ভিস্তা স্ট্রিটের একটি বাড়ি থেকে ৪০ বছর বয়সী অ্যান মেরি ম্যাথিউ নামের আরেক নারীর ছুরিকাহত মরদেহ উদ্ধার করে তারা। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। নিহত দুই নারীই অভিযুক্ত অনিলার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন বলে জানা গেছে। তিন নারী একই কমপ্লেক্সে থাকতেন বলে শুরুতে গুজব ছড়ালেও, পুলিশ জানিয়েছে এই দুটি মৃত্যুর ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা স্থানে ঘটেছে। কিছু সংবাদমাধ্যমে দুই হত্যাকাণ্ডের জন্যই অনিলাকে দায়ী করা হলেও, পুলিশ এখন পর্যন্ত জনসম্মুক্ষে এই দুটির মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত করেনি। চাকরি হারানো বা বিষণ্ণতার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন তাদের পরিচিতরা। সান্তা ক্লারা কাউন্টি জেলে বিনা জামিনে আটক অনিলা বেবিকে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের পর একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন নাইলা ক্রাফট। বিরল এই ট্রিপলেটের মধ্যে দুজন অভিন্ন যমজ এবং অন্যজন আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া ভাই। চিকিৎসকদের মতে, কোনো প্রজনন চিকিৎসা ছাড়াই এমন গর্ভধারণ এবং তিন শিশুর একই লিঙ্গের হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। চলতি বছরের শুরুতে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে নিজের গর্ভাবস্থার খবর জানতে পারেন নাইলা। আল্ট্রাসাউন্ডে প্রথমে দুটি শিশুকে দেখে তিনি ভেবেছিলেন, যমজ সন্তান আসছে। কিন্তু চিকিৎসক জানান, গর্ভে রয়েছে তিনটি শিশু। এমন খবর শুনে স্বাভাবিকভাবেই বিস্মিত হয়ে পড়েন তিনি। নাইলা বলেন, প্রথমে দুটি শিশুকে দেখে তার মনে হয়েছিল যমজ সন্তান হবে। পরে চিকিৎসক যখন জানান, সেখানে তৃতীয় শিশুটিও রয়েছে, তখন তিনি অবাক হয়ে যান। মুহূর্তেই সাধারণ একটি গর্ভাবস্থার খবর বদলে যায় তিন সন্তানের অপেক্ষায়। নাইলার পরিবারে অবশ্য একসঙ্গে একাধিক সন্তান জন্মের ইতিহাস রয়েছে। তার মা যমজ এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও ট্রিপলেট রয়েছে। কয়েক প্রজন্ম পর এবার সেই ইতিহাস যেন ফিরে এল নাইলার নিজের পরিবারে। তবে পরিবারের এমন ইতিহাস থাকলেও নিজের গর্ভে তিন সন্তান বেড়ে উঠছে এই খবর তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। তিন সন্তানের খবর শুনে নাইলার স্বামী মার্কো বার্নালও বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। কারণ তখন তাদের পরিবারে ছিল দুই সন্তান নায়া ও ম্যাসিও। একসঙ্গে আরও তিন সন্তান আসার অর্থ হলো, অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের পরিবার দুই সন্তান থেকে পাঁচ সন্তানের হয়ে যাবে। মার্কোর কাছে বিষয়টি ছিল আনন্দের পাশাপাশি বড় ধরনের এক পরিবর্তনের খবর। নতুন তিন ভাইকে ঘিরে বড় বোন নায়ার উৎসাহের কমতি নেই। সে মায়ের সঙ্গে শিশুদের যত্ন নিতে চায় এবং নতুন ভাইদের নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। তবে বড় ভাই ম্যাসিওর প্রতিক্রিয়া কিছুটা ভিন্ন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ভাইদের ব্যাপারে সে এখনো তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। চিকিৎসক কুইন ভো-হ্যানসার জানান, নাইলার গর্ভধারণের অন্যতম বিশেষ দিক হলো এটি কোনো প্রজনন চিকিৎসা বা সহায়ক প্রযুক্তির মাধ্যমে হয়নি। সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই গর্ভধারণের পর তিন শিশুর জন্ম হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন স্বাভাবিক ট্রিপলেট গর্ভধারণ নিজেই তুলনামূলকভাবে বিরল। তার ওপর এই তিন শিশুর ক্ষেত্রে আরও কিছু ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তিনি জানান, তিন শিশুর মধ্যে দুজন অভিন্ন যমজ। অর্থাৎ তারা একই নিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে তৈরি হয়েছে। অন্য শিশুটি আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া তাদের ভাই। একই গর্ভে অভিন্ন যমজের পাশাপাশি আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া আরেক শিশুর এমন সমন্বয়কে চিকিৎসকেরা বিশেষভাবে বিরল বলে মনে করছেন। তিন শিশুই ছেলে হওয়ায় ঘটনাটি আরও ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে। ভো-হ্যানসার বলেন, তার তিন দশকের চিকিৎসা জীবনে এমন সব বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে থাকা ট্রিপলেট তিনি আগে দেখেননি। স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ, অভিন্ন যমজের উপস্থিতি এবং তিন শিশুর একই লিঙ্গ সব মিলিয়ে এই জন্ম চিকিৎসকদের কাছেও বিশেষ একটি ঘটনা। চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ প্রসবের মধ্যে আনুমানিক ২ হাজার ৪০০টি ট্রিপলেট জন্ম নেয়। তবে নাইলার মতো বিশেষ ধরনের ট্রিপলেটের ঘটনা আরও বিরল। একই গর্ভে অভিন্ন যমজ ও আলাদা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেওয়া আরেক শিশুর এমন সমন্বয় চিকিৎসাবিজ্ঞানে খুব কমই দেখা যায়। তিন শিশুর জন্মের সময় হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল বিশেষ প্রস্তুতি। সাধারণত একটি প্রসবের সময় যেখানে প্রায় পাঁচজন চিকিৎসাকর্মী থাকেন, সেখানে নাইলার প্রসবের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১৫ জন। তিন শিশুর জন্য ছিলেন তিনজন এনআইসিইউ নার্স প্রতিটি শিশুর জন্য একজন করে। শিশুদের জন্য ছিলেন দুইজন চিকিৎসক, পাশাপাশি মায়ের জন্যও ছিলেন আলাদা চিকিৎসক ও অতিরিক্ত নার্স। নাইলা জানান, পুরো গর্ভাবস্থা ও সন্তান জন্মদানের সময় হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের কাছ থেকে তিনি অসাধারণ যত্ন পেয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এমন জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকদের নিবিড় নজরদারি তাকে মানসিকভাবেও ভরসা দিয়েছে। সন্তানদের নিরাপদে পৃথিবীতে আনার পুরো প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের সহযোগিতার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। হাসপাতালের নিওনেটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. রোহিত পাসি বলেন, গর্ভাবস্থায় কৃষ্ণাঙ্গ মায়েদের বিভিন্ন জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের চিকিৎসায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নাইলার চিকিৎসায়ও তার শারীরিক ও মানসিক প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সামগ্রিকভাবে যত্ন নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ডা. পাসি জানান, নাইলা জীবনের শুরুর দিকে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন। একসময় তিনি আদৌ মা হতে পারবেন কি না, তা নিয়েও নিশ্চিত ছিলেন না। সেই অনিশ্চয়তা পেরিয়ে একসঙ্গে তিন সন্তানের মা হওয়া তার জন্য তাই বিশেষ এক অভিজ্ঞতা। চিকিৎসকদের কাছে তার গল্প শুধু একটি বিরল গর্ভধারণের ঘটনা নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্পও। তিন নবজাতকের জন্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি মজার কাকতালীয় ঘটনা। তিন শিশুর জন্মদিন তাদের বাবা মার্কো বার্নালের জন্মদিনেই। ফলে বাবার নিজের জন্মদিন এখন থেকে একই দিনে আরও তিনটি জন্মদিন উদ্যাপনের সুযোগ তৈরি করেছে। পরিবারের জন্য এই কাকতালীয় ঘটনাটি বিরল জন্মের গল্পে যোগ করেছে আরও একটি আনন্দের মাত্রা। মার্কো বলেন, সন্তানদের জন্মদিন কীভাবে ভুলে যাবেন, যখন তিন সন্তানের জন্মদিনই তার নিজের জন্মদিন। দুই সন্তান থেকে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের বাবা হওয়া যেমন বড় পরিবর্তন, তেমনি নিজের জন্মদিন তিন সন্তানের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াও তার জন্য বিশেষ অনুভূতি। নতুন এই বাস্তবতায় পরিবারে ব্যস্ততা বাড়লেও তিন নবজাতকের আগমনে আনন্দই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়। দুই সন্তান থেকে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের পরিবার নাইলা ও মার্কোর জীবনে এখন নিঃসন্দেহে ব্যস্ততা বেড়েছে। তবে সেই ব্যস্ততার মাঝেও তিন নবজাতককে ঘিরে পরিবারজুড়ে চলছে আনন্দ। স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের পর এমন বিরল ট্রিপলেটের জন্ম চিকিৎসকদেরও অবাক করেছে। আর পরিবারের কাছে এই তিন শিশুর আগমন হয়ে থাকল জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী লুৎফুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসে টেনিওরড অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর আগে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে শিক্ষকতা ও গবেষণা করছিলেন। বগুড়ায় শিক্ষাজীবন শুরু করা লুৎফুর রহমান মর্তুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। বুয়েটে পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুৎফুর রহমান জানান, ২০১৬ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডে পিএইচডি শুরু করেন এবং ২০২০ সালে তা শেষ করেন। পরের বছর ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও গবেষণাক্ষেত্রেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস আর্মি কমব্যাট ক্যাপাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট কমান্ড আর্মি রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে ভিজিটিং রিসার্চার ও ভিজিটিং রিসার্চ ইন্টার্ন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪ সালের একটি কনফারেন্স প্রোগ্রামেও। সেখানে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বগুড়ার স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বুয়েট, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাঙ্গনে লুৎফুর রহমানের পথচলা বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষকতা ও গবেষণায় তাঁর এই অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের সাফল্যের ধারাকেও আরও সমৃদ্ধ করেছে। সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক পাষণ্ড বাবার বিরুদ্ধে নিজের ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি নির্জন রাস্তা থেকে ওই কিশোরীর নবজাতকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে অভিযুক্ত ৩৮ বছর বয়সী সার্জিও গালভেস পেরেজ তার কিশোরী মেয়েকে নিয়ে পলাতক রয়েছেন। মন্টেরে কাউন্টি শেরিফ অফিস নিশ্চিত করেছে যে, পেরেজ ওই কিশোরী এবং মৃত নবজাতক উভয়েরই জন্মদাতা বাবা। তদন্তকারীরা নিহত ওই নবজাতকের নাম রেখেছেন ‘অ্যাঞ্জেলিতো’। গত ১ আগস্ট মস ল্যান্ডিংয়ের কাছের একটি নির্জন রাস্তার পাশ থেকে নবজাতকের মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় শিশুটির নাড়ি যুক্ত ছিল এবং শরীরে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়। এই ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে তার সন্তানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তার জড়িত থাকার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, তখনই পেরেজ তাকে ধর্ষণ করে গর্ভবতী করে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে নিজ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে অজাচার এবং নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মন্টেরে কাউন্টির শেরিফ টিনা নিয়েতো জানান, পলাতক ওই কিশোরী চরম বিপদের মধ্যে থাকতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। তিনি বলেন, "সে মাত্র ১৪ বছরের একটি শিশু। যদিও সে এই হত্যা মামলার সন্দেহভাজন, কিন্তু দিনশেষে সে নিজেও একজন ভুক্তভোগী।" পুলিশ দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার জবানবন্দি শুনতে চায় এবং পাষণ্ড বাবাকে আইনের আওতায় আনতে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছে। ফ্লক ক্যামেরার ফুটেজের সাহায্যে পুলিশ পেরেজ ও তার স্ত্রী ওফেলিয়া গার্সিয়া ওর্তেগার নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি শনাক্ত করে, যা এই তদন্তে বড় অগ্রগতি এনে দেয়। ইতোমধ্যে শিশু বিপন্ন করার অভিযোগে ওর্তেগাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের 'শক গ্লাভস' বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার গ্লাভস ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে সম্প্রতি একটি নতুন বিল পাস করেছেন। 'অ্যাসেম্বলি বিল ২৭৬০' নামের এই প্রস্তাবটি বর্তমানে চূড়ান্ত স্বাক্ষরের জন্য গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের ডেস্কে পাঠানো হয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে ক্যালিফোর্নিয়ার যেকোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য পরিধানযোগ্য ইলেকট্রোশক বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। ফেডারেল সরকার এই বিশেষ গ্লাভস কেনার জন্য ২ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়ার খবরের পরপরই ডেমোক্র্যাট দলীয় আইনপ্রণেতা লাশায় শার্প-কলিন্স তড়িঘড়ি করে বিলটি উত্থাপন করেন। কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা এই প্রযুক্তিটি মূলত 'জি.এল.ও.ভি.ই' (জেনারেটেড লো আউটপুট ভোল্টেজ এমিটার) নামে পরিচিত। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই গ্লাভসকে পরিস্থিতি শান্ত করার একটি হাতিয়ার বা 'ডি-এসকেলেশন টুল' হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আইসিই কর্মকর্তারা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করছেন। শার্প-কলিন্সের মতে, এই গ্লাভসগুলো সবচেয়ে কম প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও বেপরোয়া কর্মকর্তাদের হাতে গিয়ে পড়বে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ক্যালিফোর্নিয়ার এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে 'অসাংবিধানিক' আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিষিদ্ধ করার এই অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি তাদের কর্মকর্তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ। সংবিধানের 'সুপ্রিমেসি ক্লজ'-এর বরাত দিয়ে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে, অঙ্গরাজ্যের কোনো আইন কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ খাটাতে পারে না, তাই তারা এই নিষেধাজ্ঞা মানবে না। ক্যালিফোর্নিয়ার স্থানীয় পুলিশও বিলটির বিরোধিতা করেছে। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টির শেরিফ জিম কুপার জানান, তার বিভাগ প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিকল্প হিসেবে ইতোমধ্যেই ৩৫ হাজার ডলার খরচ করে ১০টি শক গ্লাভস কিনেছে এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে এটি অস্বস্তিকর এবং এতে ব্যথা লাগে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এটি বেশ কার্যকর। উল্লেখ্য, গত বছর ক্যালিফোর্নিয়া আইসিই এজেন্টদের ফেস মাস্ক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি আইন করলেও পরবর্তীতে একজন ফেডারেল বিচারক তা বাতিল করে দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে দারিদ্র্য, মাদকাসক্তি ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা জেমস হ্যারিস জুনিয়রের জীবন একসময় ধ্বংসের দিকেই এগোচ্ছিল। কিশোর বয়সে স্কুলে পড়াশোনা ছেড়ে গাড়ি চুরিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বাবা হন। কিন্তু একজন কাউন্সেলরের সহায়তা ও নিজের কঠোর পরিশ্রমে সেই জীবন বদলে দিয়ে আজ তিনি জনস হপকিন্সের একজন স্বনামধন্য জেনারেল সার্জন। হ্যারিস বর্তমানে মেরিল্যান্ডের কলাম্বিয়ায় Johns Hopkins Howard County Medical Center-এর সার্জারি বিভাগের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি তরুণ সার্জনদের প্রশিক্ষণেও যুক্ত। জনস হপকিন্সের তথ্য অনুযায়ী, তিনি জেনারেল সার্জারিতে বোর্ড সার্টিফায়েড এবং প্রতিষ্ঠানটির স্কুল অব মেডিসিনে ক্লিনিক্যাল সার্জারির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তবে চিকিৎসক হওয়ার এই অবস্থানে পৌঁছানো তার জন্য সহজ ছিল না। ফ্রেসনোতে বড় হওয়ার সময় তার পরিবারে মাদকাসক্তি ও অস্থিরতা ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। তার বাবা মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করতেন এবং জীবনে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন না। মায়ের উপস্থিতিও ছিল সীমিত। ফলে কৈশোরেই পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন হ্যারিস। এক পর্যায়ে তিনি স্কুলের দুই বছর পিছিয়ে পড়েন এবং গাড়ি চুরির মতো অপরাধে জড়িয়ে যান। ১৫ বছর বয়সে বাবা হওয়ার পরও তার জীবন দ্রুত বদলায়নি। নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েই আশাবাদী ছিলেন না। জীবনের সেই কঠিন সময়ে একজন কাউন্সেলর তার মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পান। সেই সহায়তা হ্যারিসকে নতুন করে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে উৎসাহিত করে। এরপর ধীরে ধীরে তিনি নিজের জীবন বদলাতে শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যান এবং ২০০৭ সালে UCLA-এর David Geffen School of Medicine থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর Johns Hopkins-এ সার্জারির রেসিডেন্সি সম্পন্ন করেন। জনস হপকিন্সের প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ২০১৪ সালে জেনারেল সার্জারিতে বোর্ড সার্টিফিকেশনও অর্জন করেন। হ্যারিসের এই পরিবর্তনের গল্প এখন তার নিজের স্মৃতিকথা Not Who I Once Was: My Unusual Path to Becoming a Surgeon-এও উঠে এসেছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত বইটিতে তিনি দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট, কৈশোরে বাবা হয়ে যাওয়া এবং নিজের জীবন ঘুরিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তার গল্পের মূল বার্তা হলো, জীবনের শুরুর পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয় না। সঠিক দিকনির্দেশনা, শিক্ষা, পরিশ্রম ও সুযোগ পেলে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবন গড়ে তোলা সম্ভব। আজ হ্যারিস শুধু রোগীদের চিকিৎসাই করছেন না, নতুন প্রজন্মের সার্জনদেরও প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ২০২২ সালে জনস হপকিন্সের Physician of the Year সম্মাননাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই সময় হাসপাতালে জরুরি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল চিকিৎসাসেবায় সংকট তৈরি হলে তিনি স্বেচ্ছায় অন-কল দায়িত্ব নিয়ে গুরুতর রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা করেছিলেন। কৈশোরের সেই অস্থির জীবন থেকে অপারেশন থিয়েটার এবং জনস হপকিন্সের নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছানো তাই জেমস হ্যারিসের জন্য শুধু পেশাগত সাফল্যের গল্প নয়, এটি নিজের অতীতকে পেছনে ফেলে নতুন জীবন গড়ে তোলার এক বিরল উদাহরণ।
ক্যালিফোর্নিয়ায় দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের জন্মসনদ পাওয়ার সুযোগ দিতে নতুন একটি আইন পাসের দাবি উঠেছে। বর্তমানে দত্তক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রাজ্য তাদের জন্মসনদ সিল করে রাখে। এই অবস্থায় নিজেদের জন্মপরিচয় জানার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আইনটির পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা। এই দাবির পক্ষে কথা বলেছেন ৬৩ বছর বয়সী পল কিমবল। তিনি জানিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার ফোর্ট ব্র্যাগে জন্মের পর তাকে অন্য একটি নাম দেওয়া হয়েছিল। জীবদ্দশায় নিজের জন্মসনদ দেখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি আইনটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কিমবল এক বছর বয়সে দত্তক নেওয়া হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, দত্তক পরিবারের সঙ্গে তার বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার। তারপরও নিজের জন্মসনদ হাতে পাওয়াকে তিনি নিজের পরিচয় সম্পর্কে পূর্ণতার অনুভূতির সঙ্গে দেখছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ৬৩ বছর বয়সেও নিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথির ওপর রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ থাকা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রায় একশ বছর ধরে ক্যালিফোর্নিয়ায় দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের জন্মসনদ সিল করে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল জন্মদাতা মায়েদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখা। তবে বর্তমানে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের নিজেদের জন্মপরিচয় ও জৈবিক সম্পর্ক জানার সুযোগ দেওয়ার দাবি সামনে এসেছে। কিমবলসহ অন্য সমর্থকেরা প্রস্তাবিত আইনটির পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। যদিও বিলটির বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক বিরোধিতা নেই, রাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্যারোলিন মেনজিভার জন্মদাতা মায়েদের সম্ভাব্য উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার মতে, যেসব জন্মদাতা মা সন্তানকে দত্তক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তারা হয়তো প্রকাশ্যে এসে বিলটির বিরোধিতা করতে চাইবেন না। বিলটির সমর্থকেরা আরও বলেছেন, বর্তমানে বংশপরিচয় অনুসন্ধানের জন্য বংশগত পরীক্ষা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা সরকারি নথি ছাড়াও তাদের জৈবিক আত্মীয়দের খুঁজে পেতে পারেন। তবে কিমবলের মতে, নিজের জন্মসনদ হাতে পাওয়ার গুরুত্ব আলাদা। এদিকে প্রস্তাবিত আইনটি এখনো পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে পাস হয়নি। আইনসভার নেতারা বিলটিকে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভোটের জন্য তুলছেন না। ফলে চলতি অধিবেশনে এর অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিমবল আশা করছেন, আগামী আইনসভা অধিবেশনে অন্য কোনো আইনপ্রণেতা বিলটি গ্রহণ করে এগিয়ে নেবেন। এতে তার মতো দত্তক নেওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের জন্মপরিচয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।