ক্যালিফোর্নিয়া

ফ্রেসনো কাউন্টিতে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া দুটি গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
তরুণীর বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ে প্রাণ গেল দুই প্রবীণ নারীর, ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো কাউন্টিতে এক ১৮ বছর বয়সী তরুণীর বেপরোয়া গাড়ি চালনায় ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। ট্রাফিক সংকেত বা 'স্টপ সাইন' অমান্য করে দ্রুতগতিতে অন্য একটি গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় দুই প্রবীণ নারী প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট' এবং 'এবিসি ৩০' (ABC 30)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার পর ফ্রেসনো কাউন্টির অবারি রোড এবং ওল্ড মিলারটন রোডের সংযোগস্থলে মিলারটন লেকের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। লেকটি ফ্রেসনো শহর থেকে প্রায় ২৫ মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।   ফ্রেসনো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, ক্লোভিস এলাকার ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী তার টয়োটা গাড়িটি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন। তার গাড়িতে তার নানি এবং দুই ছোট ভাইবোন অবস্থান করছিল। অবারি রোডের সংযোগস্থলে থাকা ট্রাফিক স্টপ সাইন অমান্য করে গাড়িটি সরাসরি গিয়ে ৮৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের চালিত নিসান গাড়িকে সজোরে আঘাত করে। নিসান গাড়িতে চালকসহ মোট চারজন যাত্রী ছিলেন। সব মিলিয়ে দুটি গাড়িতে মোট ৮ জন আরোহী ছিলেন।   সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে দুটি গাড়িই সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে পাশের একটি খাদে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, তরুণীর টয়োটা গাড়িটির সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। অন্যদিকে নিসান গাড়িটির ডানদিকের সামনের ও পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাঁ পাশের দরগুদো একেবারে উপড়ে গেছে।   এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিসান গাড়ির যাত্রী অবারির বাসিন্দা ৮৮ বছর বয়সী ইভন চেনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যদিকে, টয়োটা চালক তরুণীর ৯৪ বছর বয়সী নানি নেলি মোরেনো গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।   দুর্ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী তরুণী চালক নিজেও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিসান গাড়ির ৮৮ বছর বয়সী চালক এবং অন্য দুই যাত্রীকে মাঝারি থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত অপর দুই শিশুকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।   পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছে, তরুণী চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে স্টপ সাইন পার হওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে প্রাথমিক তদন্তে অ্যালকোহল বা মাদকের কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   ঘটনাটি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণী চালকের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাটি পুরো এলাকা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার ওপর আবার নতুন করে কড়া সতর্কবার্তা এনে দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
বাড়ি থেকে কাজ করলে মাসে অতিরিক্ত ২০০ ডলার দিতে হবে শর্তে ওয়ালনাট ক্রিকের একটি বাড়ির ভাড়া নিয়ে অনলাইন তোলপাড় | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
বাসায় বসে অফিস করলেই দিতে হবে অতিরিক্ত ২০০ ডলার! ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বাড়ির ভাড়া নিয়ে আলোচনা শুরু

ক্যামেরন বপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বাড়ির ভাড়া নিয়ে অনলাইনে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়ালনাট ক্রিক এলাকার একটি নতুন এক বেডরুমের ফার্নিশড এডিইউর মাসিক ভাড়া ৩,২৫০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউটিলিটি ও ওয়াই-ফাই অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বিজ্ঞাপনে শর্ত দেওয়া হয়েছে, বাড়ি থেকে কাজ করলে মাসে অতিরিক্ত ২০০ ডলার দিতে হবে।   অস্বাভাবিক এই ঐচ্ছিক ফি দেখে ভাড়াটেদের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভ দেখা গেছে। বে এরিয়া এলাকার ভাড়াটে সামারা ওনদিমু এটিকে 'পাগলামি' বলেছেন। শিকাগোতে দূর থেকে কাজ করা ক্রিস্টফার উইলিয়ামস ও অপর ভাড়াটে কোডি হল জানিয়েছেন, তারা কখনো এমন ফি দেখেননি এবং ধারণাটিকে 'হাস্যকর' বলে অভিহিত করেছেন। উইলিয়ামস উল্লেখ করেছেন যে, এমনিতেই ভাড়া অনেক বেশি। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, বে এরিয়া এলাকায় গড় ভাড়া প্রতি মাসে প্রায় ৩,৬৫৫ ডলার, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ৮১% বেশি। ফলে অতিরিক্ত এই ফি আরও ধাক্কা দিয়েছে।   তবে হাউজিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফি পুরোপুরি নিয়মের বাইরে নয়। ইস্ট বে রেন্টাল হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের সিইও ডেরেক বার্নস একে ইউটিলিটি খরচ পুনরুদ্ধার বা পরিবেশগত সংরক্ষণ ফি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, সারাদিন ঘরে কাজ করলে অফিসগামী মানুষের তুলনায় বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট এবং এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার বেশি হতে পারে। তবে তিনি এই ফি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশা করছেন না, তবে এটি ইউটিলিটি ব্যবহার নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।   কেজিও স্টেশন থেকে প্রপার্টিতে গিয়ে এবং বিজ্ঞাপনদাতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ভাড়াটেরা আশা প্রকাশ করেছেন যেন এই ধারণা ছড়িয়ে না পড়ে।

তাবাস্সুম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা আবারও বাড়ার তথ্য প্রকাশ করেছে এলএএইচএসএ। ছবি: সংগৃহীত
আয় কম, খরচ বেশি, অর্থনৈতিক চাপে লস অ্যাঞ্জেলেসে আবার বাড়ছে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা, চাপে মেয়র

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে টানা দুই বছর কমার পর আবারও বেড়েছে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা। নতুন এই পরিসংখ্যান শহরের মেয়র ক্যারেন ব্যাসের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ আসন্ন পুনর্নির্বাচনে গৃহহীনতা কমানোর প্রতিশ্রুতিকেই তিনি তার অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন।    লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটির  চলতি বছরের বার্ষিক গণনা অনুযায়ী, শহরে মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রাস্তায়, ফুটপাতে বা নিজস্ব গাড়িতে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা, যা এক বছরে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে প্রায় ৪৫ হাজার ১৯৪ জন গৃহহীন মানুষ রয়েছেন।    মেয়র ক্যারেন ব্যাস এক বিবৃতিতে বলেন, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন কমে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মাদকাসক্তি নিরাময় সেবার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে তার দাবি, ২০২৩ সালের তুলনায় শহরে রাস্তায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা এখনো প্রায় ১১ শতাংশ কম এবং তার প্রশাসন এক হাজারের বেশি গৃহহীন সাবেক সেনাসদস্যকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।   অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, শহরের বর্তমান কৌশল স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না। মেয়রের বহুল আলোচিত ‘ইনসাইড সেফ’ কর্মসূচির আওতায় হাজারো মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়ে নেওয়া হলেও, LAHSA-এর পৃথক তথ্য অনুযায়ী মে মাসের শেষ নাগাদ তাদের প্রায় ৪১ শতাংশ আবারও গৃহহীন অবস্থায় ফিরে গেছেন।    সিটি কাউন্সিল সদস্য নিথ্যা রামান, যিনি মেয়র নির্বাচনে ক্যারেন ব্যাসের প্রতিদ্বন্দ্বী, বলেছেন এই ফলাফল হতাশাজনক হলেও অপ্রত্যাশিত নয়। তার অভিযোগ, সিটি হলের বর্তমান নীতিতে মানুষকে স্থায়ী আবাসনে নেওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি।    গৃহহীনতা মোকাবিলা ছিল ক্যারেন ব্যাসের প্রথম মেয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। নতুন এই পরিসংখ্যান সেই দাবিকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং নভেম্বরের নির্বাচনে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। একই সময়ে LAHSA-ও ফেডারেল অর্থায়ন নিয়ে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়ায় গৃহহীনতা মোকাবিলার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
নিহত অ্যাঞ্জেলা ক্যাপ্রিওলি এবং তার সন্তান সেফোর্ড উলফসন, যাকে পরবর্তীতে পুলিশ গ্রেফতার করে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় মাকে হত্যার অভিযোগে ট্রান্সজেন্ডার সন্তান গ্রেপ্তার, নেপথ্যে রহস্যজনক সোশাল পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সমুদ্রতীরবর্তী শহর লাগুনা বিচে ৬১ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তার ৩৬ বছর বয়সী ছেলেকে হত্যা সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে হত্যার উদ্দেশ্য বা ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   নিহত নারীর নাম অ্যাঞ্জেলা ক্যাপ্রিওলি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন। গত সোমবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে লাগুনা বিচের ডানিং ড্রাইভের একটি বাড়িতে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। কয়েক দিনের তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার তার ছেলে স্যাফোর্ড উলফসনকে হত্যা সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। লাগুনা বিচ পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও সন্দেহভাজন পরস্পরের আত্মীয় এবং ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের জেরেই ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় মৃত্যুর কারণসহ আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে মা ও ছেলেকে বাড়ির বাইরে তর্ক করতে দেখা যায়। প্রতিবেশী ডাস্টিন পেটিট স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, দুজনের কথোপকথন বেশ উত্তপ্ত ছিল। পরে অ্যাঞ্জেলা ক্যাপ্রিওলি বাড়ির ভেতরে চলে যান এবং জোরে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর কী ঘটেছে, তা কেউ প্রত্যক্ষ করেননি।   প্রতিবেশীদের দাবি, স্যাফোর্ড উলফসন প্রায় ছয় মাস আগে ওই বাড়িতে ওঠেন। তিনি সাধারণত নিজেকে গুটিয়ে রাখতেন এবং খুব কমই প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। মাঝে মধ্যে তাকে বাইরে এসে সিগারেট খেতে বা গিটার বাজাতে দেখা যেত। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ আরও জানান, তার জন্য নিয়মিত পরিচর্যাকারীরা আসা-যাওয়া করতেন। তবে কেন সেই সেবা দেওয়া হতো, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।   তদন্ত চলাকালে উলফসনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পুরোনো পোস্টও আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, "আমার সঙ্গে সময় কাটাতে আমার মা-ও চান না।" তবে পুলিশ এ ধরনের পোস্টকে মামলার উদ্দেশ্য বা ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেনি। তদন্তকারীরা এখনো ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছেন।   এদিকে পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জনসাধারণের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে সহায়ক তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।   উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্দেহভাজনের ব্যক্তিগত পরিচয় বা লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা দেখা গেলেও, পুলিশ এ পর্যন্ত প্রকাশিত তদন্ত তথ্যে সেগুলোকে ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেনি। ফলে তদন্তে নিশ্চিত না হওয়া ব্যক্তিগত তথ্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাবি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকেরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে ১৯ লাখ ডলারের বাড়িরই দখল নিলেন ফরাসি ভাড়াটিয়া I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ক্যালিফোর্নিয়ায় আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে ১৯ লাখ ডলারের বাড়িরই দখল নিলেন ফরাসি ভাড়াটিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি ভাড়া দিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিলেন ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকার চ্যাম্পিয়ন ওয়েন্ডি ওয়েইসম্যান। লস অ্যাঞ্জেলেসের হারমোসা বিচে অবস্থিত তার ১৯ লাখ ডলারের বিলাসবহুল বাড়িটি এয়ারবিএনবি-এর মাধ্যমে এক ফরাসি নাগরিকের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি। তবে ৩০ দিনের চুক্তিতে ভাড়া নিলেও ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে বাড়িটি দখল করে বসেন ইভান লামার্ক নামের ওই ফরাসি নাগরিক। টানা ৪৮ দিনের বেশি সময় পার হলেও বাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান তিনি, যা নিয়ে শুরু হয় তীব্র আইনি ও মানসিক টানাপোড়েন।   ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, কোনো স্বল্পমেয়াদী ভাড়াটিয়া ৩০ দিন বা তার বেশি অবস্থান করলে তাকে স্থায়ী ভাড়াটিয়া বা টেন্যান্ট হিসেবে গণ্য করা হয়। এর ফলে তাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করতে চাইলে আদালতের নির্দেশনার পাশাপাশি প্রায় ছয় মাস দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতো। ওয়েইসম্যানের দাবি, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তার অন্তত ৭০ হাজার ডলারের সম্ভাব্য ভাড়া ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি মর্টগেজ ও করের বোঝাও টানতে হতো। সংবাদমাধ্যম এবিসি ৭-এর এক প্রতিবেদক ওই ফরাসি নাগরিকের কাছে অন্যের বাড়িতে এভাবে বিনা ভাড়ায় থাকাটা যৌক্তিক কি না জানতে চাইলে তিনি চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে বলেন, "হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।" এরপর তিনি ক্যামেরার সামনেই মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেন।   এই সংকটময় পরিস্থিতিতে এয়ারবিএনবি কিংবা স্থানীয় পুলিশ তাকে খুব একটা সহায়তা করতে পারেনি। পুলিশ এটিকে একটি ‘দেওয়ানি বা সিভিল বিষয়’ বলে এড়িয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত বাড়িতে একটি বড় পানির লিকেজ বা লিকেজ দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টে যায়। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে প্লাম্বার ডাকার কথা জানিয়ে পুলিশ নিয়ে হাজির হন ওয়েইসম্যান। উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে লামার্ক ও তার সহযোগীরা একটি ট্রাকে করে মালপত্র নিয়ে বাড়ি ছাড়েন।   তবে বাড়িটি উদ্ধার হলেও ওয়েইসম্যানের ভোগান্তি সেখানেই শেষ হয়নি। বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন, বিলাসবহুল ওই সম্পত্তিটিকে একেবারে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। চারিদিকে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ, অপরিষ্কার টয়লেট এবং শাওয়ারের ভেতর বালু ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছিল। এয়ারবিএনবি'র ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের পরও বাড়িটির মেরামতে তার কয়েক হাজার ডলার বাড়তি ক্ষতি হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলে যাওয়ার সময় লামার্ক উল্টো এয়ারবিএনবিতে নেতিবাচক রিভিউ দিয়েছিলেন। তবে অভিযোগের পর প্ল্যাটফর্মটি সেই রিভিউ এবং লামার্কের প্রোফাইল মুছে ফেলেছে। ওয়েইসম্যান আক্ষেপ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়াতেই এ ধরনের জবরদখলকারীদের জন্য সবচেয়ে শিথিল আইন রয়েছে, যার ফলে সাধারণ আইনমান্যকারী নাগরিকদের প্রতিনিয়ত চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ম্যাকডোনাল্ডস বা বার্গার কিংয়ের মতো জায়ান্টদের পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ফাস্ট ফুড চেইনের খেতাব জিতেছে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেল টাকো। ছবি: অ্যাডোবি
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ফাস্ট ফুড চেইনের খেতাব জিতল ক্যালিফোর্নিয়ার ডেল টাকো

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ফাস্ট ফুড চেইনের মুকুট জিতল ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় টেক্স-মেক্স চেইন 'ডেল টাকো'। ম্যাকডোনাল্ডস বা বার্গার কিংয়ের মতো বিশ্বখ্যাত জায়ান্টদের পেছনে ফেলে তারা এই শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএস টুডে-এর 'টেনবেস্ট রিডার্স চয়েস অ্যাওয়ার্ডস'-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এই স্বীকৃতি মিলেছে। যেখানে সম্পাদক ও বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলের মনোনয়ন করা সেরাদের মধ্য থেকে পাঠকদের ভোটে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে। তালিকায় ম্যাকডোনাল্ডস সপ্তম এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী টাকো বেল ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। সাইক্লোস্পোরা প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংযোগ থাকার কারণে টাকো বেলের খ্যাতি কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।   ডেল টাকোর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাদের বৈচিত্র্যময় এবং সুস্বাদু মেনু। যেখানে বার্গার ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের পাশাপাশি মেক্সিকান ধাঁচের বুরিটো ও কেসাদিয়ার চমৎকার সমাহার রয়েছে। একজন ভক্ত রেডিটে লিখেছেন, "ডেল টাকো হলো সেরা ফাস্ট ফুড অপশন। এর ভ্যালু মেনু আসলেই দামের তুলনায় দারুণ, যার বেশিরভাগ আইটেমের দাম ১ থেকে ১.৫ ডলার এবং এর স্বাদও বেশ চমৎকার।" আরেকজন মন্তব্য করেছেন, "একবার ডেল টাকো ট্রাই করার পর আমি আর কখনো টাকো বেলে যাইনি।"   ভক্তদের কাছে বিশেষ পছন্দের একটি খাবার হলো তাদের নোনতা ও মুচমুচে ক্রিন্ডেল-কাট ফ্রাই, যা এই তালিকার ফাস্ট ফুড ক্যাটাগরিতে দেশের সেরা হিসেবে স্থান পেয়েছে। গ্রাহকরা জানিয়েছেন, অল্প দামের ছোট সাইজের ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়েও তারা পরিমাণে কৃপণতা করে না।   এদিকে শুধু দুপুরের বা রাতের খাবার নয়, সকালের নাস্তার বাজারেও ভালো অবস্থানে রয়েছে এই টেক্স-মেক্স চেইন। ইউএস টুডে-এর পাঠক ও বিশেষজ্ঞরা ফাস্ট ফুডের সকালের নাস্তার ক্যাটাগরিতে ডেল টাকোকে তৃতীয় স্থান দিয়েছেন। সকালের মেনুতে পরিবেশন করা হয় বুরিটো, টাকো, হ্যাশ ব্রাউন স্টিক, ডোনাট বাইটস এবং আইসড ও হট কফি।

তাবাস্সুম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকা পিয়ারের কাছে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পর্যটনকেন্দ্রে বন্দুক হামলা, ১৬ বছরের কিশোর গ্রেপ্তার

​বিনোদন ও পর্যটনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্টা মনিকা পিয়ার সংলগ্ন এলাকায় এক মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পার্কিং লটে গভীর রাতে দুটি দলের মধ্যবর্তী বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির জের ধরে চলা এই গোলাগুলিতে এক তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। তথ্যসূত্র: কেএবিসি (KABC News) ও সান্টা মনিকা পুলিশ বিভাগ।   ​পুলিশ সূত্র ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, গত সোমবার রাতে প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ের ১৫৫০ ব্লকে অবস্থিত 'পার্কিং লট ১ নর্থ' এলাকায় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে অতি দ্রুত সান্টা মনিকা পুলিশের একটি উদ্ধারকারী ও টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পার্কিং লটের নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে এক তরুণকে মারাত্মক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে।   ​ঘটনাস্থলেই ওই তরুণকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা। প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষায় জানা গেছে, তাঁর শরীরের একাধিক স্থানে মারাত্মক বুলেটের আঘাত লেগেছিল, যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের সৃষ্টি করে এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হয়।   ​পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রাথমিক প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছেন, গোলাগুলির ঘটনাটি হঠাৎ করে ঘটেনি। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, পার্কিং লট এলাকায় রাত গভীর হওয়ার পর দুটি আলাদা কিশোর বা তরুণের দলের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা শারীরিক ধস্তাধস্তিতে রূপ নেয়। হাতাহাতি চলাকালেই এক কিশোর তার সঙ্গে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে প্রতিপক্ষের তরুণকে লক্ষ্য করে একাধিক বার গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।   ​হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পর সান্টা মনিকা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এসএমপিডি) একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে দ্রুত সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার অভিযান শুরু করে। পুলিশের নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি ও তদন্তের মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সন্দেহভাজন ১৬ বছরের ওই কিশোর নিজে থেকেই পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে।   ​যেহেতু অভিযুক্ত ব্যক্তি মার্কিন আইন অনুযায়ী একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা নাবালক, তাই স্থানীয় আইনি বিধি ও সুরক্ষা নীতি মেনে পুলিশ কিংবা আদালত তার নাম, পরিচয় বা ছবি সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেনি। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ওই কিশোর মূলত নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাস শহরের বাসিন্দা। সে কেন এবং কীভাবে ওই রাতে সান্টা মনিকায় এসে পৌঁছাল এবং তার নিকট আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে এলো—এসব বিষয়ে আরও বিষদ অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।   ​উল্লেখ্য, সান্টা মনিকা পিয়ার ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী এই সমুদ্রসৈকত ও বিনোদন পার্কটি দেখতে আসেন। ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী এমন একটি পাবলিক প্লেসে রাতের আঁধারে এমন সহিংস গোলাগুলি ও প্রাণহানির ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং এই গোলাগুলির পেছনে আরও কারও ইন্ধন বা উপস্থিতি ছিল কি না তা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ার ১ বিলিয়ন ডলারের মেগা প্রকল্পে আসছে টিঅ্যান্ডটি সুপারমার্কেট, থাকছে এশিয়ার জনপ্রিয় সব খাবার

কানাডাভিত্তিক অত্যন্ত জনপ্রিয় এশীয় সুপারমার্কেট চেইন ‘টিঅ্যান্ডটি’ (T&T) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অরেঞ্জ কাউন্টিতে তাদের প্রথম নতুন আউটলেট চালু করতে যাচ্ছে। অরেঞ্জ কাউন্টির ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার মূল্যের আলোচিত ‘গ্রেট পার্ক’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের শেষের দিকে এই বিশাল সুপারমার্কেটটি উন্মুক্ত করা হবে। এর আগে গত মাসে সান জোসের ওয়েস্টগেট সেন্টারে একটি আউটলেট খোলার মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম পা রেখেছিল প্রতিষ্ঠানটি।   আরভিনে অবস্থিত এই নতুন আউটলেটে ক্রেতাদের জন্য থাকবে তাজা শাকসবজি, সামুদ্রিক মাছ, এশীয় সৌন্দর্য সামগ্রী এবং চীন, জাপান, কোরিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশিল্পের বিশেষ উপকরণ। মূলত রেস্তোরাঁ স্টাইলের তৈরি খাবার এবং সুবিশাল বেকারি কাউন্টারের জন্য টিঅ্যান্ডটি বিশ্বজুড়ে বিশেষ পরিচিত। এখানে কেনাকাটার পাশাপাশি ক্রেতারা উপভোগ করতে পারবেন পেকিং ডাক, বিশেষ বারবিকিউ স্টেশন, সুশি কাউন্টার এবং অর্ডার অনুযায়ী তাৎক্ষণিক তৈরি চাইনিজ ক্র্যাপস ও তাইওয়ানিজ স্টাইলের রাইস রোল।   এ ছাড়া এই সুপারমার্কেটের বেকারিতে পরিবেশন করা হবে ১৫০টিরও বেশি পদের রুটি এবং পেস্ট্রি ও ডেসার্টের বিশাল সমাহার। এর মধ্যে পর্তুগিজ এগ টার্ট, আম ও পমেলো স্বাদের সুইস রোল এবং লাভা মোচি পাফ অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। পুরো দিনজুড়ে কেনাকাটা ও বিনোদনের জন্য তৈরি ৯০ হাজার বর্গফুটের রিটেইল সেন্টার ‘দ্য ক্যানোপি’র মূল চালিকাশক্তি বা ‘অ্যাঙ্কর স্টোর’ হিসেবে কাজ করবে এই টিঅ্যান্ডটি।   এই মেগা প্রজেক্টে টিঅ্যান্ডটি ছাড়াও বিখ্যাত ‘ইন-এন-আউট বার্গার’, ‘ফিলজ কফি’, ‘দ্য ট্যাকো স্ট্যান্ড’, ‘এইচঅ্যান্ডএইচ ব্যাগেলেস’ এবং ‘শুৎস’ (SHOOTZ)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর আউটলেট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে পর্যায়ক্রমে ‘দ্য ক্যানোপি’র বিভিন্ন অংশ চালু শুরু হবে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্ক-সিলিকন ভ্যালির বাইরে, ক্যারিয়ার গড়ার সেরা ৫ মার্কিন শহর

ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালি কিংবা নিউ ইয়র্কের মতো প্রযুক্তি ও অর্থায়নের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রগুলোর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অপেক্ষাকৃত ছোট এবং সাশ্রয়ী শহরগুলোতে তৈরি হচ্ছে ক্যারিয়ার গড়ার চমৎকার সব সুযোগ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতসহ বিভিন্ন শিল্পের প্রসারের মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থানের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠছে এসব অঞ্চল। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পেশাদার নেটওয়ার্কিং মাধ্যম লিঙ্কডইন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে তাদের দ্বিতীয় বার্ষিক 'সিটিজ অন দ্য রাইজ' শীর্ষক প্রতিবেদন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত বর্ধনশীল ২৫টি উদীয়মান কর্মসংস্থান কেন্দ্রের তালিকা তুলে ধরা হয়েছে, যা মূলত উন্নত ক্যারিয়ার, জীবনযাত্রার সাশ্রয়ী খরচ এবং উন্নত মানের জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।   লিঙ্কডইনের তথ্যানুযায়ী, পেশাজীবীদের জীবনযাত্রার দৃষ্টিভঙ্গিতে সাম্প্রতিক সময়ে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অধিকাংশ পেশাজীবীই এখন কেবল কাজের পেছনে ছুটতে চান না, বরং উন্নত জীবনযাত্রার সঙ্গে কাজের সামঞ্জস্য বজায় রাখাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। ফলে শক্তিশালী অর্থনীতি এবং দ্রুত বিকাশমান নিয়োগের সুযোগ থাকা ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। গত বছরের তালিকার ১৫টি শহর নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও শীর্ষস্থানগুলোতে এবার বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেছে জর্জিয়ার অগাস্টা, ১১ ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে নেভাদার রেনো। এছাড়া ফ্লোরিডার নর্থ পোর্ট চতুর্থ এবং পেনসিলভানিয়ার হ্যারিসবার্গ তালিকায় পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে।   প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উদীয়মান চাকরির বাজার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোই এবার সবচেয়ে বেশি আধিপত্য বিস্তার করছে। সেরা ২৫টি শহরের মধ্যে ১১টিই দক্ষিণাঞ্চলের, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের (মিডওয়েস্ট) ৬টি এবং পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৪টি করে শহর রয়েছে। আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির পেছনে বিভিন্ন শিল্পের ভূমিকা রয়েছে; যেমন অগাস্টা ও রিচমন্ডের মতো শহরগুলোতে এআই ডেটা সেন্টার গড়ে ওঠার কারণে চাকরির বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে, আবার রেনো এবং ইন্ডিয়ানাপোলিসে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের ব্যাপক বিকাশ ঘটছে। এর পাশাপাশি লজিস্টিকস এবং বিতরণ কেন্দ্রগুলোর প্রসারও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।   আবাসন খাতের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৃহৎ মেগাসিটিগুলোর তুলনায় এই উদীয়মান শহরগুলোতে বসবাসের খরচ অনেকটাই কম এবং জীবনযাত্রার মান বেশ ভালো। রিয়েলটর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষ পাঁচ শহরের মধ্যে অগাস্টা সবচেয়ে সাশ্রয়ী, যেখানে গত জুনে একটি বাড়ির গড় দাম ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলারের কিছু বেশি। এর পরপরই রয়েছে হ্যারিসবার্গ (৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার) এবং নর্থ পোর্ট (৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার)। অন্যদিকে, রেনোতে বাড়ির চাহিদা বেশি থাকায় সেখানে দাম কিছুটা বেশি হলেও, সেটি সান ফ্রান্সিসকো কিংবা ওয়াশিংটন ডিসির মতো ব্যয়বহুল শহরের তুলনায় এখনো অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও আকর্ষণীয় বিকল্প।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২২, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ দাবানল প্রতিরোধ ও ক্ষতিকর আগাছা দমনে নামানো হয়েছে ৪০০ ছাগল ও ভেড়ার পাল। ছবি: সংগৃহীত
দাবানলের ভয়াবহ আগুন ঠেকাতে ৪০০ ছাগল ও ভেড়া নামাল ক্যালিফোর্নিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল প্রতিরোধে এবং ক্ষতিকর আগাছা দমনে ৪০০ ছাগল ও ভেড়ার একটি পাল নামানো হয়েছে। ফ্রেসনের উডওয়ার্ড পার্কের কাছে ১৮০ একর জমিজুড়ে ক্ষুধার্ত এই পশুর পালটিকে মোতায়েন করা হয়েছে। সিয়েরা রিসোর্স কনজারভেশন ডিস্ট্রিক্ট এবং ফ্রেসনো সিটি কর্তৃপক্ষের যৌথ পরিচালনায় ৮ সপ্তাহব্যাপী এই পরিবেশসংক্রান্ত উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   পশুগুলোর মূল লক্ষ্য হলো 'ইয়েলো স্টার থিসল' নামক একধরনের আগ্রাসী আগাছা ধ্বংস করা। ধারালো ও কাঁটাযুক্ত ফুলবিশিষ্ট এই আগাছাটি দেশীয় উদ্ভিদকে ধ্বংস করে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার তীব্র গ্রীষ্মে শুকিয়ে গিয়ে অত্যন্ত দাহ্য জ্বালানিতে পরিণত হয়। এসব আগাছার ঘন জঙ্গল দাবানলের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে।   যন্ত্র দিয়ে ঘাস কাটা বা রাসায়নিক স্প্রে করার চেয়ে পশু দিয়ে ঘাস খাওয়ানো অনেক বেশি টেকসই পদ্ধতি। এটি মাটি নষ্ট না করে এবং ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই পাহাড়ি বা দুর্গম জায়গায় কাজ করতে পারে। ছাগল ও ভেড়া কাঁটাযুক্ত এই আগাছা ও এর বীজ খেয়ে ফেলে, যা ভবিষ্যতে নতুন আগাছা জন্মানো রোধ করে। এছাড়া তাদের মল মাটির উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করে।   এই পশুর দলটি পুরো দাবানল সম্পূর্ণরূপে থামাতে না পারলেও ঝোপঝাড় ও আগাছা খেয়ে পাতলা করে দেয়, যা আগুনের গতি কমিয়ে দেয় এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের কাজ করার জন্য মূল্যবান সময় তৈরি করে। ছাগল ও ভেড়ার পাল তাদের কাজ শেষ করার পর, দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে ওই এলাকায় স্থানীয় প্রজাতির ঘাস, গুল্ম ও গাছ রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের টাংস্টেন অক্সাইড পাউডার চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অবৈধ ভারতীয় অভিবাসী দীপক কুমার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ মিলিয়ন ডলারের রাসায়নিক চুরির অভিযোগে ভারতীয় ট্রাকচালক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য থেকে দেওয়া বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার (২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ ডলার) মূল্যের চুরি হওয়া ‘টাংস্টেন অক্সাইড পাউডার’ বহনের অভিযোগে দীপক কুমার (৩১) নামে এক অবৈধ ভারতীয় অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর হেফাজতে রয়েছেন।   পেন্সিলভেনিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, চুরির চালানটি ছিল ‘মিতসুবিশি মেটেরিয়ালস করপোরেশন’-এর, যা ২৪ জুন সংগ্রহের কথা ছিল। কিন্তু সংগৃহীত হওয়ার পর ২৬ জুন চালকের সাথে যোগাযোগ করা না গেলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। পরদিন 'ফ্লক ক্যামেরা সিস্টেম' ব্যবহার করে ট্রাকটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।   গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্ত চালক তিনটি পরিচয়পত্র প্রদর্শন করেন—একটি অবৈধ ওয়ার্ক ভিসা, নিউইয়র্কের একটি ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। চুরির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যাকফারল্যান্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে তিনি আইসের হেফাজতে আছেন। উদ্ধার হওয়া এই টাংস্টেন অক্সাইড পাউডার মূলত সাঁজোয়া বিধ্বংসী গোলা-বারুদ, সিরামিক, লেজার, অপটিক্যাল পণ্য এবং হাই-টেক জানালায় ব্যবহৃত হয়।   সাময়িক ফেডারেল ওয়ার্ক পারমিট (ইএডি) থাকা অভিবাসীদের বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের নীতির কারণে কীভাবে একজন অবৈধ অভিবাসী এত বড় ট্রাকের চালক হলেন, তা নিয়ে এখন সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়া ও মিনেসোটার জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মেডিকেইড অর্থ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়া-মিনেসোটার মেডিকেইড তহবিল স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চয়তায় লাখো বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীর স্বাস্থ্যসেবা

ক্যালিফোর্নিয়া ও মিনেসোটার জন্য নির্ধারিত ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের দাবি, সম্ভাব্য জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ ছাড়া হবে না। তবে দুই অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করেছেন।    মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস) জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য ৮৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং মিনেসোটার জন্য ১৯৯ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল মেডিকেইড অর্থ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি স্থায়ী অর্থ কর্তন নয়; সংশ্লিষ্ট দাবির বৈধতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলে অর্থ ছেড়ে দেওয়া হবে।    স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র বলেন, মেডিকেইড কর্মসূচির অর্থ কেবল বৈধ দাবির ক্ষেত্রেই ব্যয় হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে জালিয়াতি, অপচয় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সিএমএসের প্রশাসক ড. মেহমেত ওজও বলেন, অর্থ বিতরণের পর তা উদ্ধারের চেয়ে আগে থেকেই সন্দেহজনক দাবিগুলো যাচাই করাই সংস্থার নতুন কৌশল।    প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বিশেষ করে ইন-হোম কেয়ার কর্মসূচির ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং মিনেসোটার ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতে কিছু দাবির বিষয়ে অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফেডারেল সরকার নির্দিষ্ট কোনো জালিয়াতির প্রমাণ প্রকাশ করেনি।    এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ক্যালিফোর্নিয়ার ইন-হোম সাপোর্টিভ সার্ভিসেস (আইএইচএসএস) কর্মসূচির ওপর, যার মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি নিজ বাড়িতে পরিচর্যা সেবা পান। অর্থ দীর্ঘ সময় স্থগিত থাকলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিচর্যাকারীদের অর্থপ্রদান বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। তবে বর্তমানে মেডিকেইড সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা বা স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ করা হয়নি।    অন্যদিকে মিনেসোটায় স্থগিত হওয়া অর্থ ১৪টি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মেডিকেইড সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও কতজন সুবিধাভোগী সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন, সে সংখ্যা এখনো প্রকাশ করেনি ফেডারেল সরকার বা অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ।    ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এ পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, প্রশাসন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই অর্থ স্থগিত করেছে এবং এর ফলে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।    মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের পরিবার, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগীর জন্য পরিচালিত যৌথ ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি। সাম্প্রতিক এই অর্থ স্থগিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে স্বাস্থ্যনীতি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল-অঙ্গরাজ্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ইভানা বালিস্ট্রেরি ও তার শিশুকন্যা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বেপরোয়া গতির টেসলার ধাক্কায় মা ও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, সিলিকন ভ্যালির কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসেতে বেপরোয়া গতিতে টেসলা গাড়ি চালিয়ে এক মা ও তার ছোট শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় সিলিকন ভ্যালির এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও সফটওয়্যার নির্বাহীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, দুর্ঘটনার মাত্র ১৫ সেকেন্ড আগে অভিযুক্তের গাড়ির গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪২ মাইল (প্রায় ২২৯ কিলোমিটার), যা ওই সড়কের নির্ধারিত গতিসীমার দ্বিগুণেরও বেশি।   সান্তা ক্লারা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ৩১ বছর বয়সী জাকারি চারনিকিকে গত ১৩ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী ইভানা বালিস্ট্রেরি এবং তার প্রায় দুই বছর বয়সী কন্যা লিলিয়ানা নিহত হন। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালত তাকে জামিন ছাড়াই কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানি আগামী ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় সান হোসের হাইওয়ে ৮৭-এ যানজটের কারণে ইভানা বালিস্ট্রেরির লেক্সাস এসইউভি গাড়িটি থেমে ছিল। ঠিক সেই সময় উত্তরমুখী লেনে দ্রুতগতিতে আসা চারনিকির টেসলা গাড়িটি পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর লেক্সাস এবং আরও একটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইভানা ও তার কন্যা।   প্রসিকিউটরদের দাবি, গাড়ির প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘর্ষের ১৫ সেকেন্ড আগে টেসলার গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪২ মাইল, সংঘর্ষের পাঁচ সেকেন্ড আগে ছিল ১২৬ মাইল এবং ধাক্কার মুহূর্তেও গাড়িটি প্রায় ১০২ মাইল গতিতে চলছিল। ওই সড়কে অনুমোদিত সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৬৫ মাইল।   দুর্ঘটনায় নিহত লিলিয়ানা শিশুদের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা আসনে বসানো ছিল। অন্যদিকে, গাড়ির চালক ও ইভানার বাগদত্তা জ্যাক মার্টিনস প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি আগুনে জ্বলতে থাকা গাড়ি থেকে স্ত্রী ও কন্যাকে উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা করছেন এবং আশপাশের মানুষকে সাহায্যের জন্য ডাকছেন। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত গতিকেই দায়ী করছেন তদন্তকারীরা। কেন চারনিকি এত বেশি গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে এই ঘটনায় তিনি সামান্য আহত হন।   মামলার প্রসিকিউটরদের একজন মারিসা ম্যাককাউন বলেন, এ ধরনের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর স্বাভাবিক পরিণতিই হলো প্রাণহানি। অন্যদিকে সান্তা ক্লারা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেফ রোজেন বলেন, "যেমন জনতার ভিড়ে গুলি চালানোকে হত্যা বলা হয়, তেমনি ঘণ্টায় ১৪০ মাইল গতিতে গাড়ি চালানোও একই ধরনের প্রাণঘাতী আচরণ।"   জাকারি চারনিকি প্রযুক্তি খাতে পরিচিত একজন সফটওয়্যার উদ্যোক্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পেশাগত প্রোফাইলে তিনি অ্যাপল, গুগল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান মিস্ট্রাল এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি ডিজেদের জন্য সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজও করছিলেন।   ইভানা বালিস্ট্রেরির পরিবার তাকে সবার প্রতি সহানুভূতিশীল, প্রাণবন্ত ও ভালোবাসায় ভরপুর একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছে। দুর্ঘটনার পর পরিবারের জন্য চিকিৎসা, আইনি ও অন্যান্য ব্যয় মেটাতে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হয়, যেখানে এক লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
২ বছরের শিশু ও তার মা
ক্যালিফোর্নিয়ায় সোফায় লুকিয়ে রাখা লোড করা পিস্তলে খেলতে গিয়ে প্রাণ গেল ২ বছরের শিশুর, গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাড়িতে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা পিস্তল নিয়ে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত নিজের গুলিতেই প্রাণ হারায় শিশুটি। এই ঘটনায় শিশুটির মা এবং তার প্রেমিককে শিশু নির্যাতন ও অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   গত ১৬ জুলাই সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির হাইল্যান্ড এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ বিভাগ জানায়, শিশুটি সোফার দুটি কুশনের মাঝখানে লুকিয়ে রাখা একটি লোড করা পিস্তল খুঁজে পেয়েছিল। দুর্ঘটনাবশত শিশুটির মুখের ভেতর গুলি লাগে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার সময় শিশুটির মা ২০ বছর বয়সী জামারিয়া কব এবং তার ৫২ বছর বয়সী প্রেমিক আরমান্ড শে ব্রাইট ওই বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ব্রাইটের নামে বৈধভাবে নিবন্ধিত ছিল।   সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জামারিয়া কব এবং আরমান্ড ব্রাইট উভয়ের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন এবং গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে প্রথম মাত্রার অপরাধমূলক আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসন অ্যান্ডারসন এই ঘটনাকে একটি ‘গভীর ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “অনিরাপদ ও বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কারণে এমন বিধ্বংসী ক্ষতি হলে আমাদের কার্যালয় এর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।”   ঘটনার পর ওই বাড়িতে থাকা নিহত শিশুটির এক বছর বয়সী ছোট ভাইকে শিশু কল্যাণ কর্মকর্তাদের হেফাজতে (প্রটেকটিভ কাস্টডি) নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ জুলাই র‍্যাঞ্চো কুকামঙ্গা সুপিরিয়র কোর্টহাউসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অভিযুক্ত দুজনের বিচারিক শুনানি (অ্যারেইনমেন্ট) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্মোচিত হয় চার দশকের পুরোনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য। ছবি: সংগৃহীত
৪৪ বছর পর মিলল বিচার, ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ৪৪ বছর আগে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আধুনিক ডিএনএ প্রযুক্তি ও বংশগত জিনগত বিশ্লেষণের (ফ্যামিলিয়াল জেনেটিক জিনিয়োলজি) মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়।   সোনোমা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ৬৪ বছর বয়সী জেমস অলিভার ইউনিক (James Oliver Unick) শুক্রবার আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, তিনি কোনো ধরনের প্যারোল বা শর্তসাপেক্ষ মুক্তির সুযোগ পাবেন না।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ১৯৮২ সালের ২৩ মে ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লোভারডেলে ১৩ বছর বয়সী সারা গিয়ার (Sarah Geer) এক বন্ধুর বাড়ি থেকে শহরের দিকে হাঁটছিলেন। এ সময় ইউনিক তাকে একটি গলিতে টেনে নিয়ে গিয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের পেছনে ধর্ষণ করেন এবং পরে তার পরনের শর্টস ব্যবহার করে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।   ঘটনার পর ক্লোভারডেল পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও সে সময়ের সীমিত ফরেনসিক প্রযুক্তির কারণে মামলাটির কোনো অগ্রগতি হয়নি। কয়েক দশক ধরে এটি অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে ছিল।   ২০০৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ সারার পোশাক থেকে সংগৃহীত আলামতের ভিত্তিতে একটি ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করেন। তবে সেই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডাটাবেজে থাকা কোনো ব্যক্তির ডিএনএর সঙ্গে এর মিল পাওয়া যায়নি।   পরবর্তীতে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) বংশগত জিনগত তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে ডিএনএটির উৎস একটি পরিবারের চার ভাইয়ের মধ্যে একজনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে শনাক্ত করে। তদন্তের অংশ হিসেবে এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা গোপনে নজরদারি চালিয়ে ইউনিকের ফেলে দেওয়া একটি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করেন।   ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই সিগারেট থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে ২০০৩ সালে তৈরি ডিএনএ প্রোফাইলের মিল পাওয়া যায়। একই সঙ্গে নিহত কিশোরীর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা আরও কয়েকটি আলামতের ডিএনএর সঙ্গেও ইউনিকের ডিএনএ মিলে যায় বলে জানান তদন্তকারীরা।   এরপর ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ক্লোভারডেল পুলিশ ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লেন কাউন্টির উইলোজ শহর থেকে ইউনিককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তিনি দাবি করেছিলেন, সারা গিয়ারকে তিনি কখনো চিনতেন না এবং তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগও ছিল না।   তবে বিচার চলাকালে ইউনিক ভিন্ন দাবি করেন। তিনি আদালতে বলেন, ওই কিশোরী নাকি তার কাছে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে সম্মতিতেই সম্পর্ক হয়েছিল। পরে তিনি সারাকে একটি বিনোদনকেন্দ্রের কাছে নামিয়ে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তবে আদালত এই বক্তব্য গ্রহণ করেননি।   রায় ঘোষণার সময় বিচারক লরা পাসাগলিয়া বলেন, অভিযুক্ত একজন শিশুর জীবন, ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাবনাকে নির্মমভাবে কেড়ে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইউনিক নিজের কোনো দায় স্বীকার করেননি, বরং ঘটনার জন্য নিহত শিশুকেই দায়ী করার চেষ্টা করেছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।   দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আধুনিক ফরেনসিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়ায় নিহত কিশোরীর পরিবার ও তদন্তসংশ্লিষ্টরা এটিকে ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে মেগাসিটি প্রকল্প, টেক্সাসে গেল ১০ হাজার চাকরির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী শিল্পের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে সিলিকন ভ্যালির বিলিয়নিয়ারদের অর্থায়নে শুরু হওয়া মেগা-প্রজেক্ট 'ক্যালিফোর্নিয়া ফরেভার' বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। সোলানো কাউন্টির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে একটি নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ার যে উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন তারা দেখেছিল, রাজ্যের কুখ্যাত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তা এখন তীব্র সমালোচনার মুখে।   সম্প্রতি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সারোনিক টেকনোলজিস তাদের ৩.২ বিলিয়ন ডলারের 'পোর্ট আলফা' স্বয়ংক্রিয় শিপইয়ার্ড ক্যালিফোর্নিয়ার বদলে টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে নির্মাণের ঘোষণা দিলে এই মেগাসিটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়। এই একটি সিদ্ধান্তের ফলেই ক্যালিফোর্নিয়া প্রায় ১০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ হারালো।   ক্যালিফোর্নিয়ার সাশ্রয়ী বাসস্থানের সংকট দূর করা এবং উন্নত উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা খাতে চাকরির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সোলানো কাউন্টির ৫০ হাজার একরেরও বেশি জমি নিয়ে এই মেগা-প্রজেক্টের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। লরেন পাওয়েল জবস, রিড হফম্যান, মার্ক অ্যান্ড্রেসেনের মতো প্রখ্যাত বিলিয়নিয়ার বিনিয়োগকারীদের অর্থায়নে ফ্ল্যানারি অ্যাসোসিয়েটস এই বিশাল প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়া ফরেভারের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জ্যান স্রামেক এটিকে একুশ শতকের উৎপাদন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে জমি কেনা হলেও, আমলাতন্ত্র, ধীরগতির আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং স্থানীয়দের বিরোধিতার মতো পুরনো সমস্যাগুলোর কারণে প্রকল্পের কাজ এখনো মাঠ পর্যায়ে শুরু করা যায়নি।   সারোনিক টেকনোলজিসের ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে রাজ্যের ব্যবসায়ী মহলের জন্য একটি বিশাল ক্ষতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষক ও রাজনীতিকরা। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদপ্রার্থী স্টিভ হিলটন রাজ্যের ব্যবসাবিমুখ মনোভাব এবং অতিরিক্ত নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করে অবিলম্বে এসব বাধা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।   তবে প্রকল্পের পক্ষের আইনপ্রণেতারা এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমলাতান্ত্রিক বাধা দূর করতে নতুন বিল পাসের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সাবেক ডেমোক্র্যাটিক স্টেট সিনেটর ড্যারেল স্টেইনবার্গ এবং রবার্ট হার্টজবার্গ আশাবাদী যে, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে পারলে ভবিষ্যতে অন্যান্য বড় শিপবিল্ডার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই স্বপ্নের শহরে বিনিয়োগ করতে ছুটে আসবে। আগামী কয়েক দশকের মধ্যে এখানে ৪ লাখ মানুষের বাসস্থান ও বিশাল বাণিজ্যিক অঞ্চল গড়ে তোলার যে প্রাথমিক রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে এখন রাজ্যের নীতিগত সহায়তাই প্রধান ভরসা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২০ বছর বয়সী বাস্কেটবল খেলোয়াড়

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ঝেনি ওয়ালেস (২০) নামের এক উদীয়মান কলেজ বাস্কেটবল খেলোয়াড়। গত বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ক্যালিফোর্নিয়ার আই-১৫ (I-15) ফ্রিওয়েতে তার গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ৮০ ফুট নিচে গভীর খাদে পড়ে গেলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কাজন পাস এলাকার এই সড়কটি ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যতম বিপজ্জনক একটি রুট হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত, যেখানে প্রায়শই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।   ভিক্টর ভ্যালি কমিউনিটি কলেজের শিক্ষার্থী ঝেনি ওয়ালেস পেশাদার বাস্কেটবল লিগ ডব্লিউএনবিএ (WNBA)-তে খেলার স্বপ্ন দেখতেন। সান বার্নার্ডিনো কাউন্টি শেরিফ ডিপার্টমেন্ট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল বুধবার দুপুর ১টা ৫১ মিনিটে ডেভোরের কেনউড অ্যাভিনিউয়ের উত্তরে এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানেই ভিক্টরভিলের বাসিন্দা ঝেনি হ্যারিসকে (তিনি ঝেনি ওয়ালেস নামেও পরিচিত ছিলেন) মৃত ঘোষণা করা হয়।   মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত মা তামারা ওয়ালেস স্থানীয় কেটিএলএ৫ (KTLA5) সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "সে কেবল আমার মেয়েই নয়, আমার সেরা বন্ধু ও প্রথম সন্তান ছিল। সে সবসময় আমাকে হাসিখুশি রাখত এবং নানা কাজে উৎসাহ দিত। ছোট ভাই-বোনের কাছে সে ছিল সেরা একজন বোন।" মর্মান্তিক এই ঘটনার দিন তামারা মেয়েকে ফোন করলে একজন পুলিশ কর্মকর্তা কল রিসিভ করে তাকে এই দুঃসংবাদটি দেন।   এদিকে, ঝেনির কলেজ বাস্কেটবল দল ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন শোকবার্তায় জানিয়েছে, ঝেনি কেবল একজন সতীর্থ ছিলেন না, তিনি ছিলেন তাদের 'র্যাম' (Ram) পরিবারের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ও প্রিয়মুখ, যার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।   জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে ঝেনির সেরা বন্ধু এবং ওই বন্ধুর মা-ও উপস্থিত ছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এদিকে, ঝেনির শেষকৃত্য ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটাতে 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) প্ল্যাটফর্মে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, যা এরই মধ্যে ১৫ হাজার ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১৪ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী ১৯ জুলাই অ্যাপল ভ্যালির সিভিক সেন্টার পার্কে তার স্মরণে একটি বিশেষ শোকসভার আয়োজন করা হবে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মুহূর্তেই মৃত্যু হতে পারত, চলন্ত গাড়ি ভেদ করে ঢুকে গেল বিশাল লোহার পাইপ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির একটি মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একটি পিকআপ ট্রাক থেকে ছিটকে আসা ধাতব পাইপ সোজা ঢুকে যায় একটি সেডান গাড়ির ভেতরে। অলৌকিকভাবে গাড়ির চালক প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি সামান্য আহত হয়েছেন। ঘটনাটি আবারও মহাসড়কে নিরাপদভাবে মালামাল পরিবহারের গুরুত্ব সামনে এনেছে।   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের (সিএইচপি) সান্তা আনা বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার একটি সাদা পিকআপ ট্রাক, যাতে ধাতব পাইপ বহন করা হচ্ছিল, একটি ধূসর রঙের সেডানকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাকে থাকা পাইপগুলো সামনে ছিটকে গিয়ে সেডানটির পেছনের কাচ ভেদ করে যাত্রী কেবিনে ঢুকে পড়ে।   সিএইচপি জানায়, পাইপগুলো চালকের খুব কাছ দিয়ে গেলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান এবং সামান্য আঘাত নিয়ে দুর্ঘটনা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।   ঘটনার পর সিএইচপি সতর্ক করে বলেছে, ট্রাকে থাকা মালামাল যথাযথভাবে বেঁধে বা নিরাপদভাবে সংযুক্ত না করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির ভাষ্য, যদি এ ঘটনায় কারও মৃত্যু ঘটত, তাহলে ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার (ম্যানস্লটার) অভিযোগ আনা হতে পারত।   এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে ক্যালিফোর্নিয়ার টেমেকুলার ১৫ নম্বর ফ্রিওয়েতেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটে। একটি ট্রাক থেকে ছিটকে আসা ধাতব রড একটি গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভেদ করে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে আঘাত করে। তবে সৌভাগ্যবশত তিনি ও তার অনাগত সন্তান দুজনই বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান।   এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই চালকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া পিকআপ ট্রাকের চালকের বিরুদ্ধে কোনো ট্রাফিক মামলা বা জরিমানা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও এখনো কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।   এএএ ফাউন্ডেশন ফর ট্রাফিক সেফটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সড়কে ছিটকে পড়া বিভিন্ন ধরনের মালামাল বা ধ্বংসাবশেষের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখের বেশি পুলিশ-নথিভুক্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৫০০ জন নিহত হয়েছেন।   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল চালকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সড়কে বের হওয়ার আগে গাড়িতে বহন করা সব মালামাল দড়ি, বেল্ট, জাল বা উপযুক্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম দিয়ে শক্তভাবে বেঁধে নিতে হবে। একই সঙ্গে গাড়ির ধারণক্ষমতার বেশি মাল বহন না করা এবং যাত্রার আগে সবকিছু ঠিকভাবে সংযুক্ত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

বায়জিদ হাসান জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সান ফ্রান্সিসকোর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যাল অচল হয়ে পড়ে। ছবি: সংগৃহীত
সিস্টেম ত্রুটিতে সান ফ্রান্সিসকোতে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ছড়ায় ব্ল্যাকআউটের শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে শনিবার সকালে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক কোম্পানি (পিজিঅ্যান্ডই)-এর একটি সিস্টেম ত্রুটির কারণে ব্যাপক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তায় এক লাখ ২০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন বলে জানানো হলেও পরে পিজিঅ্যান্ডই স্পষ্ট করে জানায়, সেটি ছিল প্রযুক্তিগত ত্রুটিজনিত ভুল তথ্য। প্রকৃতপক্ষে প্রায় ৯ হাজার ৪০০ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হন।   স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২০ মিনিটের কিছু পর এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়। শহরের রিচমন্ড, প্রেসিডিওসহ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অসংখ্য ট্রাফিক সিগন্যাল অচল হয়ে পড়ে। এর ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট সৃষ্টি হয় এবং অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।  পিজিঅ্যান্ডই জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাদের আউটেজ রিপোর্টিং সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা ভুলভাবে অনেক বেশি দেখানো হয়েছিল। পরে তথ্য যাচাই করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত পরিধি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল এবং ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপন করা হয়।   বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বয়ংচালিত গাড়ি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েমোও নিরাপত্তার স্বার্থে সান ফ্রান্সিসকোতে তাদের রাইড সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় সেবা চালু করে।  ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। স্থানীয় দমকল বাহিনী শহরের একটি এলাকায় উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারে আর্কিং বা বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। একই সময়ে একটি সাবস্টেশনেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   এটি চলতি বছরের মধ্যে সান ফ্রান্সিসকোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে আলোচিত আরেকটি ঘটনা। গত বছরের ডিসেম্বরে একটি সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের কারণে শহরের এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিলেন। সেই ঘটনার পর বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শনিবারের ঘটনায় পিজিঅ্যান্ডই বলছে, এটি মূলত একটি সিস্টেম গ্লিচের কারণে ভুল তথ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি সীমিত পরিসরের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ছিল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
প্রথম অ্যাসাইনমেন্টই হলো জীবনের শেষ মিশন, ক্যালিফোর্নিয়ায় নিহত ২৩ বছরের মার্কিন এয়ারম্যান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেসে এক আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সেড্রিক এনেলুনা নামের এক মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্য। বৃহস্পতিবার ঘাঁটিতে ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনার সময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাঁধ বা ঢাল থেকে নিচে গড়িয়ে পড়লে ২৩ বছর বয়সী এই সেনাসদস্য নিহত হন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় তিনি একাই প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   মূলত ফিলিপাইনের অধিবাসী সেড্রিক পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির সেন্ট লুইসে বসবাস শুরু করেন। চলতি বছরের ৫ মার্চ তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস ছিল তার সামরিক জীবনের প্রথম ডিউটি অ্যাসাইনমেন্ট। তিনি ইউএস এয়ার ফোর্সের পেভমেন্ট এবং ইকুইপমেন্ট স্পেশালিস্টদের বিশেষ দল 'ডার্ট বয়েজ'-এর একজন গর্বিত সদস্য ছিলেন। এই দলটি বেসের বিভিন্ন মহাকাশ উৎক্ষেপণ, পরীক্ষা এবং রেঞ্জ অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে থাকে।   তরুণ এই এয়ারম্যান ফাস্ট ক্লাসের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পেস লঞ্চ ডেল্টা ৩০ এবং ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেসের কমান্ডার, ইউএস স্পেস ফোর্সের কর্নেল জেমস টি. হর্ন তৃতীয়। শোকবার্তায় তিনি বলেন, "সেড্রিকের পরিবার, প্রিয়জন এবং সতীর্থদের পাশাপাশি আমাদের পুরো ভ্যানডেনবার্গ পরিবার আজ গভীরভাবে শোকাহত। নিজের অসামান্য চরিত্র, কাজের প্রতি একাগ্রতা এবং অন্যদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার মাধ্যমে সে তার সতীর্থদের মনে এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে।"   এদিকে, দুর্ঘটনার সময় সেড্রিক ঠিক কী ধরনের ভারী যন্ত্রপাতি চালাচ্ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনের কারণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে বর্তমানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার চেয়ে যে ৫ শহরে ভাড়ায় থাকাই বেশি লাভজনক
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকাই বেশি লাভজনক, বছরে সাশ্রয় হতে পারে লাখ ডলারের বেশি

ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক পরিবারের জন্যই এখন বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা আর্থিকভাবে অনেক বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে। আবাসন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান 'জুম্পার' (Zumper)-এর নতুন এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকার তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়ার একক আধিপত্য রয়েছে। এই অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটি শহরে সমমানের একটি বাড়ি কেনার মাসিক কিস্তি বা খরচের তুলনায় ভাড়ায় থাকলে প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব, যা অনেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হচ্ছেন।   ভাড়ায় থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ সাশ্রয় হয় ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে শহরে। সেখানে বাড়ি কেনার পরিবর্তে ভাড়ায় থাকলে একটি পরিবারের প্রতি মাসে প্রায় ৮,৫৯৩ ডলার বা বছরে ১ লাখ ৩ হাজার ডলারেরও বেশি সাশ্রয় হতে পারে। শহরটিতে একটি বাড়ির মধ্যমা বা মিডিয়ান দাম ২০ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যেখানে মাসিক ভাড়া মাত্র ৩,০৭৩ ডলার। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আনাহেইম শহর, যেখানে ভাড়া থাকলে বছরে প্রায় ৬৮ হাজার ৪০০ ডলার বাঁচানো সম্ভব। তৃতীয় স্থানে থাকা সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দারাও বাড়ি কেনার বদলে ভাড়া থাকলে আর্থিকভাবে বেশ সুবিধায় থাকবেন, কারণ এতে তাদের বছরে প্রায় ৪৬ হাজার ডলার সাশ্রয় হতে পারে।   তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে থাকা সান ডিয়েগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেস শহর দুটিও বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত লাভজনক। সান ডিয়েগোতে ভাড়ায় থাকলে বছরে প্রায় ৩৮ হাজার ৫০০ ডলার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বছরে প্রায় ২৮ হাজার ডলার সাশ্রয় হয়। মূলত দুটি মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণটি করা হয়েছে— 'প্রাইস-টু-রেন্ট রেশিও' বা মূল্য-ভাড়া অনুপাত এবং 'পিআইটিআই' (PITI) কস্ট ডেল্টা (যেখানে বন্ধকী, সুদ, কর এবং বিমা অন্তর্ভুক্ত)। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, মূল্য-ভাড়া অনুপাত ২১-এর বেশি হলে তা ভাড়ায় থাকার অনুকূলে যায়। ক্যালিফোর্নিয়ার এই শহরগুলোর পাশাপাশি সল্টলেক সিটি, সিয়াটল, পোর্টল্যান্ড এবং রেনোর মতো শহরগুলোতেও বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা আর্থিকভাবে বেশি লাভজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০