ফ্লোরিডায় আইভিএফ বিভ্রাটে জন্ম নেওয়া সন্তান নিজের নয় জেনেও স্থায়ী অভিভাবকত্বের চুক্তি করলেন দম্পতি
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) ল্যাবের মারাত্মক এক ভুলের কারণে এক দম্পতির গর্ভে জন্ম নিয়েছে অন্য এক দম্পতির জিনগত সন্তান। তবে এই চাঞ্চল্যকর চিকিৎসাগত বিভ্রাটের পরও শিশুটির জন্মদাত্রী মা ও তার স্বামী তাকে নিজেদের কাছেই রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিশুটির আসল বা জৈবিক (বায়োলজিক্যাল) মা-বাবার সঙ্গে একটি পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে তারা এই স্থায়ী অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ফ্লোরিডার বাসিন্দা টিফানি স্কোর এবং স্টিভেন মিলস দম্পতি গত শুক্রবার অরেঞ্জ কাউন্টি আদালতে জানান যে, তারা তাদের ৬ মাস বয়সী কন্যাসন্তান শিয়া-র আসল জিনগত মা-বাবাকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। একই সাথে তাদের সাথে একটি ‘যৌথ কাস্টডি’ বা অভিভাবকত্ব চুক্তিতেও উপনীত হয়েছেন। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, টিফানি ও স্টিভেনই শিশু শিয়া-র চিরস্থায়ী আইনি অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে জিনগত মা-বাবার গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই চুক্তির অন্যান্য বিস্তারিত বিবরণ আদালতের বাইরে গোপন রাখা হয়েছে। দম্পতির আইনজীবী জ্যাক স্কারোলা জানিয়েছেন, উভয় পরিবারই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটি সুদৃঢ় বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
এই ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের এপ্রিলে, যখন ‘ফার্টিলিটি সেন্টার অব অরল্যান্ডো’-র ল্যাবরেটরিতে ভুলবশত টিফানি স্কোরের শরীরে অন্য এক দম্পতির ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর গত ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে টিফানি এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পর শিশুটির শারীরিক গঠন ও গায়ের রঙে ভিন্নতা দেখে দম্পতির মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়।
পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, শিশুটি জিনগতভাবে টিফানি বা স্টিভেনের সাথে মোটেও সম্পর্কিত নয়, বরং সে শতভাগ দক্ষিণ এশীয় (সাউথ এশিয়ান) বংশোদ্ভূত। ল্যাবের এই চরম অবহেলার বিরুদ্ধে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই দম্পতি ক্লিনিকের প্রধান চিকিৎসক ড. মিল্টন ম্যাকনিকোলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে টিফানি ও স্টিভেন আদালতকে আরও জানিয়েছেন যে, তারা তাদের বাকি থাকা নিজস্ব ভ্রূণটি অন্য একটি নিরাপদ মেডিকেল সেন্টারে সরিয়ে নিয়েছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সেটির পিলগ্রিম বা পৈতৃক সত্ত্বা পরীক্ষা করা হবে। ল্যাবরেটরির এই মারাত্মক ভুলের প্রমাণ পাওয়ার পর, ‘ফার্টিলিটি সেন্টার অব অরল্যান্ডো’ কর্তৃপক্ষ ২০ মে-র মধ্যে তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে, শুনানির সময় অরল্যান্ডোর বিচারক মার্গারেট শ্রাইবার এই দুই পরিবারের সমঝোতাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, শিশুটি ছোট থাকতেই এই ধরনের একটি সুন্দর চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত ইতিবাচক এক সিদ্ধান্ত। এর আগে এক আবেগঘন বার্তায় টিফানি ও স্টিভেন বলেছিলেন, "আমাদের সন্তান যেদিন জন্ম নিয়েছিল, সেদিন যেমন সত্য ছিল আজও ঠিক তেমনি সত্য—আমরা তাকে আজীবন ভালোবাসব এবং চিরকাল তার মা-বাবা হয়েই থাকব।"
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ৪০ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ কমিয়ে ৩২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। এ জন্য কংগ্রেসে ‘থার্টি-টু আওয়ার ওয়ার্কউইক অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মীদের সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা কমলেও বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আগের মতো রাখার বিধান থাকবে। গত সেপ্টেম্বরে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও প্রতিনিধি মার্ক তাকানো বিলটি উত্থাপন করেন। তবে এটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। প্রস্তাবটি কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। বিল অনুযায়ী, কর্মসপ্তাহের নির্ধারিত সময় ধাপে ধাপে ৪০ ঘণ্টা থেকে ৩২ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি বছর দুই ঘণ্টা করে কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলা হয়েছে। পরিবর্তনটি কার্যকর হলে নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করলেই কর্মীরা অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার যোগ্য হবেন। সপ্তাহে ৩২ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য সাধারণ মজুরির দেড় গুণ হারে ওভারটাইম দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে, দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে দৈনিক কর্মঘণ্টার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। কোনো কর্মী দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য সাধারণ মজুরির দেড় গুণ হারে পারিশ্রমিক দিতে হবে। আর দিনে ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করালে অতিরিক্ত সময়ের জন্য দ্বিগুণ হারে পারিশ্রমিক দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মঘণ্টা কমানোর কারণে কোনো কর্মীর মোট বেতন বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কমানো যাবে না। বিলটির অন্যতম উদ্যোক্তা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের মতে, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার উন্নতির ফলে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। কিন্তু সেই উৎপাদনশীলতার আর্থিক সুফল সাধারণ কর্মীদের তুলনায় বড় প্রতিষ্ঠান ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছেই বেশি যাচ্ছে। তাই কর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে কর্মসপ্তাহ কমানো জরুরি বলে মনে করেন তিনি। প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম এএফএল-সিআইও এবং ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সসহ বেশ কয়েকটি শ্রমিক অধিকার সংগঠন। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী সংগঠন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের বিরোধিতা করা হয়েছে। তাদের উদ্বেগ, কর্মঘণ্টা কমলেও বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অপরিবর্তিত রাখার বাধ্যবাধকতা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাড়াতে পারে। প্রস্তাবটি এখনো কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদন পায়নি। প্রতিনিধি পরিষদে মার্ক তাকানোর উত্থাপিত বিলটি শিক্ষা ও শ্রমবিষয়ক কমিটিতে এবং সিনেটে বার্নি স্যান্ডার্সের উত্থাপিত বিলটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও পেনশনবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এখনই ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ চালু হচ্ছে না। প্রস্তাবটি আইন হিসেবে পাস হলে তবেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিবর্তন কার্যকর হবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের কার্যালয়, প্রতিনিধি মার্ক তাকানোর কার্যালয় ও এনজে ডটকম।
ফ্লোরিডায় আছড়ে পড়ার আগেই মাঝ আকাশে ভেঙে পড়ছিল বিমান, ৪ মাইল দূরে মিলল লেজের অংশ
ফ্লোরিডায় বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন বাবা-মা, অগোচরে সড়কে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু
নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের জন্য প্রায় ১০ লাখ ডলার অনুদান সংগ্রহ
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), মেরিল্যান্ড স্টেট। আয়োজকদের পক্ষে মেরিল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাজল জানান, আগামী ১০ নভেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় মেরিল্যান্ডের ক্যাটনসভিলে অবস্থিত কাবাব হাটে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভার পাশাপাশি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শহিদ খান চৌধুরী। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন বিএনপির মেরিল্যান্ড স্টেট শাখার সিনিয়র সহসভাপতি জাহাঙ্গীর কবির বাবুল। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে কাবাব হাট, ৬৫০২ বাল্টিমোর ন্যাশনাল পাইক, #৩৯০৫, ক্যাটনসভিল, মেরিল্যান্ড ২১২২৮ ঠিকানায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সমকামী দম্পতির সন্তানকে ভর্তি না করার সুযোগ পাচ্ছে সরকারি অর্থায়নের ধর্মীয় স্কুল
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কড়াকড়িতে কমছে নতুন ভাড়াটে পরিবার, চাপে আবাসন খাত
বিলাসিতা নয়, রুচির পরিচয়: যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সাশ্রয়ী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড
যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের এক ফেডারেল বিচারক আরও বেশি আইসিই (ICE- ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দেখতে চেয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, এক কর্মকর্তা সরকারি গ্রেপ্তারের রেকর্ডে মিথ্যাচার করেছেন এবং সরাসরি সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমেই এই জালিয়াতি ধরা পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনোনীত ডিস্ট্রিক্ট জজ মুস্তাফা টি. কাসুভাই জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের বিবরণে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে আদালতের উচিত কেবল লিখিত বিবৃতির ওপর নির্ভর না করে তাদের সরাসরি জেরা করা। বিচারক তার আদেশে স্পষ্ট করে লেখেন, "সত্য অনুসন্ধানের জন্য সরাসরি সাক্ষ্যগ্রহণ একটি পরীক্ষিত পদ্ধতি। যখন সাক্ষীরা অবলীলায় মিথ্যা বলতে প্রস্তুত থাকেন, তখন লিখিত বিবৃতি কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়।" বিচারকের এই কঠোর সমালোচনার সূত্রপাত মূলত ওয়ারেন্ট ছাড়া অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। জে.জি. (J.G.) নামের এক আইসিই কর্মকর্তার তৈরি করা গ্রেপ্তারের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, কর্মকর্তাদের কাছে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল এবং তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেই তার গাড়ির কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু আদালতে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ওই কর্মকর্তা স্বীকার করেন, গাড়ি থামানোর সময় তিনি ওই ব্যক্তির অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং তার কাছে কোনো ওয়ারেন্টও ছিল না। বিচারক কাসুভাই এই ঘটনাটিকে ভুল হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে একে ‘ইচ্ছাকৃত ও সমন্বিত জালিয়াতি’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তাকে যদি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে জেরা না করা হতো, তবে তার এই মিথ্যাচার কখনোই সামনে আসতো না। এই ঘটনার পর বিচারক কাসুভাই আইসিই কর্মকর্তাদের ওপর থেকে 'প্রিজাম্পশন অব রেগুলারিটি' বা সরকারি কর্মকর্তাদের আইনি কাজের প্রতি সাধারণ যে আইনি আস্থা রাখা হয়, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, আইসিই এজেন্টরা নিজেদের কাজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে ম্যাসাচুসেটসের এক ফেডারেল বিচারকও আইসিই কর্মকর্তাদের 'ধারাবাহিক মিথ্যাচারের' কারণে তাদের ওপর থেকে এই আইনি আস্থা প্রত্যাহার করেছিলেন। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপকহারে অভিবাসী বিতাড়নের নীতির সাথে ফেডারেল আদালতগুলোর এই সংঘাত বেশ কয়েকবারই সামনে এসেছে, যেখানে বিচারকরা আইসিই-এর বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্য, আগ্রাসী গ্রেপ্তার ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। পাশাপাশি আইসিই-এর আই-২১৩ (I-213) গ্রেপ্তারি রেকর্ড এবং প্রতিবেদনের পদ্ধতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিচারক কাসুভাই। আইসিই দাবি করেছিল যে, ছয় মাসে তারা ওয়ারেন্ট ছাড়া মাত্র ১৩টি গ্রেপ্তার করেছে, কিন্তু বিচারকের মতে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। কারণ, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে সংস্থাটি অরেগনে ৫৭৪টি গ্রেপ্তার করেছে। তিনি এই রেকর্ডগুলোতে একাধিক ভুল, একই ভাষার পুনরাবৃত্তি এবং ভুয়া তথ্যের উপস্থিতি পেয়েছেন। বিচারকের মতে, এ ধরনের অসদাচরণ অরেগনে আইসিই কর্মকর্তাদের পূরণ করা সমস্ত আই-২১৩ ফর্মের সত্যতা নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছর পরও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ৬০০ মিলিয়ন ডলার দাবি মেয়ের
যুক্তরাষ্ট্রে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নি হত, আত্মহ ত্যা করলেন স্বামী, এতিম ৬ বছরের শিশু