ফ্লোরিডায় আছড়ে পড়ার আগেই মাঝ আকাশে ভেঙে পড়ছিল বিমান, ৪ মাইল দূরে মিলল লেজের অংশ
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় বিধ্বস্ত একটি ব্যক্তিগত বিমানের লেজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ মাইল দূরে উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির সদস্য টম চ্যাপম্যান জানান, বিমানের লেজের সঙ্গে যুক্ত ‘লেফট এলিভেটর’ নামের নিয়ন্ত্রণ অংশটি তিনটি খণ্ডে পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ৩ দশমিক ৮ মাইল দূরত্বের মধ্যে এসব অংশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাটিতে আঘাত করার আগেই বিমানের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
গত রোববার (১ নভেম্বর) ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকার্স এলাকায় লিয়ারজেট ৬০ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সাত যাত্রী এবং দুই পাইলটসহ মোট নয়জনের সবাই নিহত হন। বিমানটি একটি আবাসিক এলাকার সড়কে আছড়ে পড়ে এবং সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বিমানের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ। তদন্তের স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের এসব অংশ স্পর্শ বা সরিয়ে না ফেলে কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এনটিএসবি।
উদ্ধার হওয়া অংশটির নাম ‘লেফট এলিভেটর’। এটি বিমানের পেছনের অনুভূমিক লেজের সঙ্গে যুক্ত একটি চলমান নিয়ন্ত্রণ পৃষ্ঠ, যা বিমানের নাক ওপরে বা নিচে ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তদন্তকারীদের মতে, এত দূরে তিন খণ্ডে এর সন্ধান পাওয়া বিমানটি আঘাতের আগেই ভেঙে পড়তে শুরু করেছিল কি না, তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তবে এই অংশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, নাকি নিচে নামার সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে এটি ভেঙে যায়, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
দুর্ঘটনার আগে বিমানের পাইলট ও সহকারী পাইলটের সঙ্গে আকাশপথ নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগের তথ্যও তদন্তের আওতায় রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের পর বিমানটির কর্মীরা বরফ জমা, মাঝারি মাত্রার বায়ুপ্রবাহের অস্থিরতা এবং বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়েছিলেন। একপর্যায়ে বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে এবং সহকারী পাইলট জরুরি বিপৎসংকেত পাঠান। যোগাযোগের রেকর্ডে বিমানটির দ্রুত উচ্চতা হারানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন (৪৫), তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প (৪০), তাঁদের দুই সন্তান এমা (৪) ও চার্লি (২), পরিবারের পরিচর্যাকারী এবং দুই পারিবারিক বন্ধু। বিমানের পাইলট ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জেফ গ্রেগরি এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ২০ বছর বয়সী নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস। নাথালিয়া ছোটবেলা থেকেই বিমান চালানোর প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ২০২৩ সালে স্কুলে পড়ার সময়ই তিনি ব্যক্তিগত বিমান চালানোর লাইসেন্স অর্জন করেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমান চালানোই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিমানের বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ ও পরীক্ষা করছেন এনটিএসবি কর্মকর্তারা। তদন্তকারীরা বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, আশপাশে বিমানের কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলে সেটি সরানো বা স্পর্শ করা যাবে না। বরং দ্রুত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিংবা তদন্ত সংস্থাকে জানাতে হবে। সংস্থাটির মতে, উদ্ধার হওয়া লেজের অংশ দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে বিমানের অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ও রয়টার্স।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের সুবিধা বাড়াতে কংগ্রেসনাল নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলেও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেই জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে জ্যারেড মস্কোভিটজ, ক্যাথি ক্যাস্টর ও পিয়া দান্ডিয়া নিজ নিজ আসনে জয়ী হয়েছেন। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডেস্যান্টিসের উদ্যোগে নতুন নির্বাচনী মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সম্ভাবনা বাড়ানো। তবে নতুন সীমানায় অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনেই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। ফ্লোরিডার ২৫তম কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যারেড মস্কোভিটজ রিপাবলিকান স্কট সিঙ্গারকে পরাজিত করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাবে, মস্কোভিটজ পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট, আর সিঙ্গারের প্রাপ্ত ভোট ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে এ আসনে মস্কোভিটজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নতুন নির্বাচনী সীমানার কারণে আগের ২৩তম আসন ছেড়ে ২৫তম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। রিপাবলিকানদের লক্ষ্য ছিল আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া, তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ফ্লোরিডার ১৪তম কংগ্রেসনাল আসনেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্যাথি ক্যাস্টর। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক বেলট্রানকে হারিয়ে তিনি প্রতিনিধি পরিষদে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ক্যাস্টর পেয়েছেন ৫১ দশমিক ২ শতাংশ ভোট, আর বেলট্রান পেয়েছেন ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ। টাম্পা অঞ্চলের এই আসনটির সীমানাও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছিল, যাতে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে। কিন্তু নতুন নির্বাচনী এলাকায়ও ক্যাস্টরকে পরাজিত করতে পারেননি রিপাবলিকান প্রার্থী। অন্যদিকে, ফ্লোরিডার ২২তম কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী পিয়া দান্ডিয়া রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কেসি আসকারকে পরাজিত করেছেন। সিএনএনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, দান্ডিয়া পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট, আর আসকার পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৪ মিনিটে এ আসনে দান্ডিয়াকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নতুন সীমানায় গঠিত এই আসনটি নির্বাচনের আগে দুই দলের জন্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। ফ্লোরিডার নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। চলতি বছরের ৪ মে নতুন কংগ্রেসনাল মানচিত্র আইনে পরিণত হয়। এর ফলে কয়েকটি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত আসনের সীমানা পরিবর্তিত হয় এবং রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল। বিশেষ করে মস্কোভিটজ ও ক্যাস্টরের আসন নতুন সীমানার কারণে আগের তুলনায় বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু নির্বাচনের ফল সেই পরিকল্পনার প্রত্যাশিত সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তিনটি আসনে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্লোরিডার নতুন নির্বাচনী মানচিত্র রিপাবলিকানদের প্রত্যাশিত সুবিধা কতটা দিতে পেরেছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অঙ্গরাজ্যজুড়ে অন্যান্য আসনের ফল এবং প্রতিনিধি পরিষদের সামগ্রিক আসনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচনের পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা যাবে। সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ ও ফ্লোরিডা ডিভিশন অব ইলেকশনস।
বেতন না কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার বদলে ৩২ ঘণ্টা কাজের প্রস্তাব, কংগ্রেসে বিল উত্থাপন
ফ্লোরিডায় আছড়ে পড়ার আগেই মাঝ আকাশে ভেঙে পড়ছিল বিমান, ৪ মাইল দূরে মিলল লেজের অংশ
ফ্লোরিডায় বাড়ির উঠানে কাজ করছিলেন বাবা-মা, অগোচরে সড়কে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু
নিউ ইয়র্কে নিজেদের সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রায় ১০ লাখ ডলার অনুদান পেয়েছে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি)। গত ২৪ অক্টোবর নিউ ইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরসংলগ্ন ম্যারিয়ট হোটেলে এই তহবিল সংগ্রহ নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহী কমিটি যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন এলাকার মুসলিম কমিউনিটির সদস্য, বাংলাদেশি প্রবাসী, ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা ৫০ ডলার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত অনুদান দেন। বিভিন্ন পর্যায়ের এসব অনুদান মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় প্রতিষ্ঠানটি। সংগৃহীত অর্থ জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। প্রকল্পটির মাধ্যমে কেন্দ্রটির অবকাঠামো ও কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নৈশভোজে প্রধান বক্তব্য দেন প্রখ্যাত ইসলামি বক্তা ও ধর্মীয় আলোচক শেখ উসমান বিন ফারুক। অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি গবেষক শেখ ড. জাকির আহমেদ, জেএমসির প্রধান ইমাম আবু জাফর বেগ এবং কেন্দ্রটির পরিচালক ইমাম শামসি আলী। বক্তারা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নিউ ইয়র্কে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ও চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কেন্দ্রটির সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। বক্তারা বলেন, সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসলামি মূল্যবোধ ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে এটি ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি কমিউনিটির সদস্যদের জন্য আরও কার্যকর সামাজিক ও শিক্ষামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে। ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক সম্পৃক্ততা ও জনকল্যাণমূলক সেবাও আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহ কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন আফতাব মান্নান। উদ্যোগটির সঙ্গে আরও যুক্ত ছিলেন জেএমসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ এম. রহমান তুহিন, সভাপতি ড. নাজমুল এইচ. খান এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার। তাঁদের নেতৃত্বে আয়োজিত এই উদ্যোগে কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। নিউ ইয়র্কের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নামাজের ব্যবস্থা, সামাজিক যোগাযোগ এবং কমিউনিটির কল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এসব সেবার পরিধি বাড়বে এবং ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করছেন আয়োজক ও কমিউনিটির সদস্যরা।
মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির উদ্যোগে ১০ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভা
যুক্তরাষ্ট্রে সমকামী দম্পতির সন্তানকে ভর্তি না করার সুযোগ পাচ্ছে সরকারি অর্থায়নের ধর্মীয় স্কুল
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কড়াকড়িতে কমছে নতুন ভাড়াটে পরিবার, চাপে আবাসন খাত
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জীবনযাত্রায় পোশাক-পরিচ্ছদ, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী এবং লাইফস্টাইল পণ্য নির্বাচনে বাড়ছে সচেতনতা। পারিবারিক অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন, কমিউনিটি সম্মেলন কিংবা কর্মক্ষেত্রে নিজেকে পরিপাটি ও রুচিশীলভাবে উপস্থাপন করতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন পরিচিত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পণ্য। তবে মানসম্মত পণ্য কিনতে মানেই যে হাজার হাজার ডলার খরচ করতে হবে, এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মধ্যম আয়ের পরিবারের সামর্থ্যের মধ্যে এমন অনেক ব্র্যান্ড রয়েছে, যেগুলোর পণ্য দৈনন্দিন ব্যবহার থেকে শুরু করে বিশেষ আয়োজনেও হতে পারে উপযোগী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি মধ্যবিত্ত ও পেশাজীবী পরিবারগুলোর জন্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে এখন শুধু পণ্যের দাম নয়, মান, স্থায়িত্ব, ডিজাইন এবং ব্যবহারিক সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একটি সুন্দর হাতব্যাগ, মানানসই ঘড়ি, ভালো মানের সানগ্লাস কিংবা পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জুতা একজন মানুষের ব্যক্তিগত স্টাইলকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলতে পারে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পণ্য কেনার পাশাপাশি নিজের বাজেট ও প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের হাতব্যাগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পরিচিত কয়েকটি ব্র্যান্ড হলো কোচ, মাইকেল করস, কেট স্পেড এবং চার্লস অ্যান্ড কিথ। এসব ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ডিজাইন ও দামের হাতব্যাগ পাওয়া যায়। অফিস, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা সামাজিক আয়োজনে ব্যবহারের জন্য এসব ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ রয়েছে। বিশেষ করে মৌসুমি ছাড়, আউটলেট স্টোর এবং বিশেষ বিক্রয় অফারের সময় তুলনামূলক কম দামে এসব পণ্য কেনার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে খুব বেশি অর্থ ব্যয় না করেও মানসম্মত একটি ব্যাগ সংগ্রহ করা সম্ভব। ঘড়ির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ক্যাসিও, টাইমেক্স, ফসিল, সিকো এবং সিটিজেন উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড। তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের পাশাপাশি এসব ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলে রয়েছে দৈনন্দিন ব্যবহার, অফিস এবং আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের উপযোগী ডিজাইন। একটু বেশি বাজেট থাকলে টিসোর মতো ব্র্যান্ডও বিবেচনায় রাখা যায়। তবে ঘড়ি কেনার সময় শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, এর স্থায়িত্ব, কার্যকারিতা এবং নিজের ব্যবহারের প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত। সানগ্লাসের ক্ষেত্রেও রয়েছে বেশ কিছু পরিচিত ব্র্যান্ড। রে-ব্যান, ওকলি, পোলারয়েড এবং মাইকেল করসের বিভিন্ন ধরনের সানগ্লাস যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ডিজাইন, মূল্য ও ব্যবহারের উপযোগিতা রয়েছে। তবে সানগ্লাস কেনার ক্ষেত্রে শুধু ব্র্যান্ড বা ফ্যাশনকে গুরুত্ব না দিয়ে ইউভি সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, চোখের সুরক্ষার জন্য শতভাগ ইউভি সুরক্ষা বা ইউভি ৪০০ সুবিধাসম্পন্ন সানগ্লাস বেছে নেওয়া ভালো। নারীদের প্রসাধনীর ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বাজেটের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড রয়েছে। মেবেলিন, লরিয়েল প্যারিস, এনওয়াইএক্স এবং ইএলএফ তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের প্রসাধনীর জন্য পরিচিত। অন্যদিকে ম্যাকের মতো ব্র্যান্ডের পণ্যও অনেকের পছন্দের তালিকায় থাকে। ব্যক্তিগত পরিচর্যার ক্ষেত্রে ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করা জরুরি। পুরুষদের গ্রুমিং ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার জন্যও নিভিয়া, জ্যাক ব্ল্যাক এবং দ্য অর্ডিনারির মতো ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়। পুরুষদের পোশাক ও জুতার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রয়েছে বেশ কিছু পরিচিত আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড। টমি হিলফিগার, ক্যালভিন ক্লেইন এবং লেভিসের পোশাক অফিস, দৈনন্দিন ব্যবহার কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে জুতার ক্ষেত্রে নাইকি, অ্যাডিডাস, নিউ ব্যালান্স এবং ক্লার্কসের বিভিন্ন মডেল পাওয়া যায়। পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ডিজাইন নির্বাচন করলে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই পরিপাটি উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব। এসব ব্র্যান্ডের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য আরেকটি সুবিধা হলো বিভিন্ন আউটলেট স্টোর, ডিপার্টমেন্ট স্টোর এবং অনলাইন বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত ছাড় পাওয়া যায়। ব্ল্যাক ফ্রাইডে, সাইবার মানডে, মৌসুমি বিক্রয় এবং বিশেষ প্রচারণার সময় অনেক পণ্য স্বাভাবিক দামের তুলনায় কম দামে কেনার সুযোগ থাকে। তবে ছাড়ের পরিমাণ বা প্রকৃত সাশ্রয় নিশ্চিত করতে একাধিক বিক্রেতার দাম তুলনা করা এবং অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য কেনা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের মতে, ব্যক্তিত্ব ও রুচির প্রকাশ শুধু পোশাক কিংবা ব্যবহৃত ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভর করে না। বরং পরিচ্ছন্নতা, পরিমিতিবোধ, মানানসই পোশাক এবং নিজের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন একজন মানুষের ব্যক্তিগত উপস্থাপনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। তাই সামাজিক অনুষ্ঠানে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দামি পণ্য কেনার পরিবর্তে প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী মানসম্মত পণ্য বেছে নেওয়াই হতে পারে বুদ্ধিমানের কাজ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশায় যুক্ত পরিবারগুলোর মধ্যেও আন্তর্জাতিক পণ্য ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। তবে এর অর্থ অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতার দিকে ঝুঁকে পড়া নয়। বরং কোন পণ্যটি নিজের জন্য প্রয়োজনীয়, কোন ব্র্যান্ডটি মান ও দামের দিক থেকে উপযোগী এবং কোথায় তুলনামূলক ভালো দামে পাওয়া যাচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন হওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ব্যবহার করা মানেই বিলাসিতা নয়। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে মানসম্মত পণ্য নির্বাচন, রুচিশীল পোশাক এবং পরিমিত জীবনযাপনই হতে পারে আধুনিক জীবনধারার পরিচয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও স্মার্ট কেনাকাটার এই অভ্যাস ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস ও সুন্দর জীবনযাপনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার, পরে সরকারি নথিতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আইসিইর বিরুদ্ধে
মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর ১৭ বছর পরও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ৬০০ মিলিয়ন ডলার দাবি মেয়ের