চার বছর পর দুই সন্তানকে নিয়ে একসঙ্গে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন হ্যারি ও মেগান
দীর্ঘ চার বছর পর এই প্রথমবার নিজেদের পুরো পরিবার নিয়ে একসঙ্গে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল। আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই অত্যন্ত আলোচিত ও সংবেদনশীল সফরে তাদের সঙ্গে থাকবেন সাত বছর বয়সী ছেলে আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী ছোট মেয়ে লিলিবেট। চার বছর পর সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে হ্যারি-মেগানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সাধারণ পারিবারিক সফর নয়; এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকালে রাজকীয় এস্টেটের ভেতরে অবস্থিত একটি সুরক্ষিত বাসভবনে থাকার জন্য হ্যারি ও মেগান দম্পতিকে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই আমন্ত্রণের বিষয়ে হ্যারি বা মেগানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা সম্মতি জানানো হয়নি। এর আগে যুক্তরাজ্য সফরের সময় বাকিংহাম প্যালেসে থাকার একটি সরকারি প্রস্তাব সরাসরি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি, কারণ তার মতে জনসম্মুখে থাকা এমন বড় স্থানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকে।
এবার এই চার সদস্যের পরিবারের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট রাজকীয় বাসভবনটি নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। মূলত আগামী বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আহত ও অসুস্থ সামরিক সদস্যদের আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া আসর ‘ইনভিকটাস গেমস’। হ্যারির নিজের প্রতিষ্ঠিত এই বিশেষ ক্রীড়া আয়োজনের কাউন্টডাউন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আগামী মাসে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রিন্স হ্যারির, যা এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
রাজপরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ও সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইচ্ছার কথা গত বছর এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছিলেন প্রিন্স হ্যারি। বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। ২০২২ সালে প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্ল্যাটিনাম জুবিলি উদযাপনের সময় বাবা ও ছেলের সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য ও দীর্ঘ সাক্ষাৎ হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্ল্যারেন্স হাউসে বাবার সঙ্গে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য একটি বৈঠক করেছিলেন হ্যারি।
তবে আসন্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে রাজা চার্লসের সঙ্গে হ্যারি, মেগান ও তাদের সন্তানদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা ঘরোয়া সাক্ষাৎ হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বাকিংহাম প্যালেস কর্তৃপক্ষ। রাজপরিবারের মুখপাত্ররা এই পুরো বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে এড়িয়ে গেছেন। এদিকে হ্যারি ও মেগানের এই সফরকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলে জানা গেছে, যা এই স্পর্শকাতর সফরের অন্যতম বড় চিন্তার কারণ।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বাকিংহাম প্যালেস থেকে হ্যারির পরিবারের জন্য অতিরিক্ত কোনো বিশেষ নিরাপত্তা প্রদানের প্রস্তাব বা আশ্বাস দেওয়া হয়নি। যুক্তরাজ্যে রাজপরিবারের পদত্যাগকারী সদস্যদের এ ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট বিশেষ কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। রাজকীয় বাসভবনে থাকার এই নতুন আমন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য পারিবারিক পুনর্মিলনের জল্পনা সফরটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়— এই সফর কি দূরত্ব কমিয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, নাকি পুরোনো টানাপোড়েনই বহাল থাকবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার বার্নসভিলে তিন বছর বয়সী ছেলে আদনান আবদুল্লাহির মৃ ত্যুর ঘটনায় তার মা সায়নাব আবদুল্লাহি দাহিরের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার ম্যান স্লটার, চারটি শিশু নি র্যা তন বা বি পন্ন করার অভিযোগ এবং হয় রা নির মামলা হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে তার মা তাকে পার্কের একটি সৈকত এলাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যাতে রোদে থেকে সে অসুস্থতা ‘ঘামিয়ে বের করে’ দিতে পারে। পরে শিশুটির মৃ ত্যু হয়। ঘটনার পর জরুরি সেবাকর্মীরা শিশুটিকে গুরুতর অপু ষ্টিতে ভুগতে দেখেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার বয়সের তুলনায় মারাত্মক কম ওজন এবং গুরুতর অপুষ্টি শনাক্ত করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি আর জ্ঞান ফিরে পায়নি এবং ১৩ জুলাই ২০২৩ সালে তার মৃ ত্যু হয়। ময়নাতদন্তে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতিজনিত আঘাতকে মৃ ত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অপু ষ্টি ও মূত্রনালির সং ক্র মণকে সহায়ক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে দাহিরের অন্য চার সন্তানের অবস্থাও সামনে আসে। আদালতের নথি অনুযায়ী, তারাও গুরুতরভাবে কম ওজনের ছিল। শিশুদের বাবার কাছে যাওয়ার পর তাদের ওজন বাড়তে শুরু করে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্তানদের নিয়মিত চিকিৎসা না করানোর অভিযোগও রয়েছে। দাহিরকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে গ্রে প্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত। মামলাটি মিনেসোটার ডাকোটা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে চলছে।
ঝগড়ার পর উবার থেকে নামিয়ে দেওয়া তরুণীর মৃ ত্যু, পরিবার পেল ৪ কোটি ডলার
ফ্লোরিডায় শ্রমিকদের বেতন বাড়ছে, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ন্যূনতম মজুরি ১৫ ডলার
‘কী ছোট মনের, কী আত্মমগ্ন!’ ট্রাম্পের নাম বসানোর উদ্যোগে কেনেডি পরিবারের ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাড়তে শুরু করেছে গ্যাসের দাম। দেশটির কয়েকটি এলাকায় এক রাতেই প্রতি গ্যালনে দাম প্রায় ২৫ সেন্ট পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম আরও বাড়তে পারে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (AAA) তথ্য অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর নিয়মিত গ্যাসের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪.৪৬৮৭ ডলার। ১৭ সেপ্টেম্বরের হিসাবে দাম ছিল ৪.৪৩ ডলার, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ১৬ সেন্ট বেশি। ২০২২ সালের জুনে রেকর্ড ৫.০১ ডলারের পর এটিই অন্যতম উচ্চ পর্যায়ের দাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন। সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। পাইপলাইনটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৬ লাখ থেকে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইপলাইন দিয়ে পরিবহন করা সর্বোচ্চ ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান। ফলে দীর্ঘ সময় সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও তেলবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্যাসের দাম বাড়ার বিষয়টি নিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বাড়তি জ্বালানি খরচ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই কম মূল্য’ দেওয়ার মতো। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, গ্যাসের দাম আবার দ্রুত কমে আসবে। গ্যাসের দাম নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পরিচালিত ফক্স নিউজের এক জরিপে ৬১ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, গ্যাসের দাম তাদের জন্য বড় সমস্যা। জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতিকেও ভোটারদের প্রধান উদ্বেগগুলোর মধ্যে পাওয়া গেছে। তবে গ্যাসের দাম আগামী দিনে ঠিক কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় তার ওপর।
বন্ধুকে বাঁচাতে রেললাইনে নেমেছিলেন তরুণী, নিউইয়র্কে ট্রেনের নিচে দুজনের মৃ ত্যু
মেডিকেইড-ফুড স্ট্যাম্প নিলেই গ্রিন কার্ডে বাধা, ট্রাম্পের নতুন নিয়ম কার্যকর
তারেক রহমানের আগমন ঘিরে ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে জ্যাকসন হাইটস
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া এই নীতির আওতায় মেডিকেড, স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তা, শিক্ষায় আর্থিক সহায়তা ও ফ্রি স্কুল লাঞ্চসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি কিছু আবেদনকারীর গ্রিন কার্ড পাওয়ার সিদ্ধান্তে বিবেচনায় আসতে পারে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নিয়মে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে আবেদনকারীর সরকারি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি মূল্যায়নের আরও বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারের ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, সেটি নির্ধারণের সময় বিভিন্ন আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো একটি সুবিধা নিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ডের আবেদন বাতিল হবে, এমন নিয়ম নয়। নতুন নীতির আওতায় মেডিকেড ও স্ন্যাপ খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি কলেজের টিউশন সহায়তা, ফ্রি স্কুল লাঞ্চ এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তাও কর্মকর্তাদের বিবেচনায় আসতে পারে। কোন সুবিধা কীভাবে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে নিয়মটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই নীতি ‘পাবলিক চার্জ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সহায়তা বিবেচনা করে আসছেন। নতুন নিয়ম সেই বিবেচনার আওতা আরও বিস্তৃত করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করা কিছু অভিবাসীর ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি আগের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে সব অভিবাসী এই নিয়মের আওতায় পড়বেন না। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাসাইলামপ্রার্থী ও শরণার্থীদের মতো কিছু শ্রেণির অভিবাসী নতুন নিয়মের বাইরে থাকবেন। অন্যদিকে মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট পারিবারিক সদস্য, দক্ষ ও ধর্মীয় কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রিন কার্ড আবেদনকারী এই নীতির আওতায় পড়তে পারেন। নতুন নিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। নিউইয়র্কসহ একাধিক অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও শহর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, নতুন নীতিটি সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীদের সেই সুবিধা নিতে নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে অতিরিক্ত ও অস্পষ্ট ক্ষমতা দিতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের স্বনির্ভর হওয়া উচিত এবং করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতা কমানোই এই নীতির উদ্দেশ্য। প্রশাসনের হিসাবে, নতুন নিয়মের কারণে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে সরে যেতে পারেন বা নতুন করে এসব কর্মসূচিতে যুক্ত না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ব্যয় বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার কমতে পারে বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের হিসাব উদ্ধৃত করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও একই ধরনের পাবলিক চার্জ নীতি চালু হয়েছিল। পরে আদালতে তা নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ হয় এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২০২২ সালে নীতিটি বাতিল করে তুলনামূলক সংকীর্ণ নিয়ম চালু করেছিল। ২০২৬ সালের নতুন নীতি সেই বিস্তৃত পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন করেছে। নতুন নিয়মের ফলে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা গ্রহণের আগে নিজেদের ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি এবং কোন সুবিধা তাদের ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে, তা বুঝে নেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে একজন সদস্য গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন এবং অন্য সদস্যরা সরকারি সহায়তা নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
ব্রিটেনে বিচ্ছিন্ন ছিল বাংলাদেশি কমিউনিটি! বর্তমানে শিক্ষায় ও কর্মজীবনে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি বাড়লো আরও এক বছর, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপর