সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ব্রিটেনে বিচ্ছিন্ন ছিল বাংলাদেশি কমিউনিটি! বর্তমানে শিক্ষায় ও কর্মজীবনে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ২:৩৯
বর্তমানে শিক্ষায় ও কর্মজীবনে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি
বর্তমানে শিক্ষায় ও কর্মজীবনে নতুন প্রজন্মের অগ্রগতি

১৯৪৫ সাল থেকে ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের বসতি গড়ে উঠলেও তাদের বড় একটি অংশ এখনও পূর্ব লন্ডনকেন্দ্রিক। তবে শুধু আবাসিক ঘনত্ব দেখে ব্রিটিশ বাংলাদেশি সমাজকে পিছিয়ে থাকা বা একই জায়গায় আটকে থাকা জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখলে বাস্তব চিত্রটি পুরোপুরি ধরা পড়ে না। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ও কর্মজীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

 

দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের কয়েক দশকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ফল, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের হার নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ ছিল। অনেক পরিবার তখন দারিদ্র্য, আবাসন সংকট ও বর্ণবাদী হামলার আশঙ্কার মধ্যে বসবাস করত।

 

সময় গড়ানোর সঙ্গে সেই চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। ২০২১ সালে জিসিএসই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। একই বয়সে সাদা ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৮ শতাংশ। গত এক দশকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সময়ে মেডিসিন ও ডেন্টিস্ট্রিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

 

শিক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া যায়। ২০২১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারীদের ৬৮ শতাংশ কর্মরত ছিলেন। একই বয়সী সাদা ব্রিটিশ নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭৯ শতাংশ। আবার ওই বয়সী ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের ১৪ শতাংশ পেশাদার বা ম্যানেজার পর্যায়ের চাকরিতে ছিলেন, যা সাদা ব্রিটিশদের একই বয়সী জনগোষ্ঠীর হারের কাছাকাছি।

 

তবে অগ্রগতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈষম্য এখনও বড় বাস্তবতা। দ্য ইকোনমিস্টের হিসাবে, আবাসন ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও ব্রিটেনের প্রতি দুই বাংলাদেশি পরিবারের একটি জাতীয় আয়ের নিচের ২০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশি পরিবারের মধ্যম সম্পদের পরিমাণও এক লাখ পাউন্ডের নিচে, যেখানে সব জাতিগোষ্ঠী মিলিয়ে গড় সম্পদের পরিমাণ প্রায় তিন লাখ পাউন্ড। অর্থাৎ শিক্ষাগত অগ্রগতি দ্রুত হলেও সম্পদ ও আয় বৃদ্ধিতে সেই অগ্রগতির পুরো প্রতিফলন এখনও দেখা যায়নি।

 

ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সামগ্রিক পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই ব্রিটেনের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। ফলে নতুন করে আসা অভিবাসী এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া পরবর্তী প্রজন্মকে একই পরিসংখ্যানে ধরলে দুই প্রজন্মের আর্থসামাজিক অবস্থানের পার্থক্য অনেক সময় স্পষ্ট হয় না। গবেষণা ও সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মের শিক্ষা ও পেশাগত অবস্থানে পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে দ্রুত ঘটছে।

 

ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের ইতিহাসও দীর্ঘ। উনিশ শতক থেকেই সিলেট ও ব্রিটেনের মধ্যে যাতায়াতের ইতিহাস রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ও পরবর্তী সময়ে সিলেটি নাবিকদের মাধ্যমে ব্রিটেনে বাংলাদেশি উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরবর্তী দশকগুলোতে বিশেষ করে সিলেট থেকে আসা অভিবাসীরা পূর্ব লন্ডনে বসতি গড়ে তোলেন। সময়ের সঙ্গে এই সম্প্রদায় ব্যবসা, শিক্ষা, পেশাজীবন ও ব্রিটিশ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।

 

ফলে পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশিদের ঘনবসতি এখনও দৃশ্যমান হলেও সেটিকে পুরো সম্প্রদায়ের অগ্রগতির একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিক্ষা, পেশা ও কর্মসংস্থানে নতুন প্রজন্মের পরিবর্তন দেখাচ্ছে, কয়েক দশক আগে যে বাংলাদেশি পরিবারগুলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে ছিল, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের অবস্থান ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ক্ষমতা ছাড়লেই খুলবে হরমুজ
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ক্ষমতা ছাড়লেই খুলবে হরমুজ, ইরানি কর্মকর্তার কড়া বার্তা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতা থেকে সরে না যাওয়া পর্যন্ত ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না। ইরানি সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএএনএতে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি এটিকে ইরানের চলমান প্রতিরোধের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে এটি ইরানের আনুষ্ঠানিক আলোচনার শর্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়।    জোলঘাদরের বক্তব্যে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি প্রণালি বন্ধ রাখাকে ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের প্রথম ধাপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর আগে আগস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ, মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং ক্ষতিপূরণের মতো শর্তের কথা বলেছিলেন। নতুন বক্তব্যে দুই নেতার ক্ষমতা ছাড়ার দাবি যুক্ত হয়েছে।   হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর মাত্র তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৭টি জাহাজ। তবে কিছু জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করতে পারে, ফলে প্রকাশ্য তথ্য প্রকৃত চলাচলের পুরো চিত্র নাও দেখাতে পারে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। চলাচল কমে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনায় যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।   ইরানি কর্মকর্তার এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, তিনি আশা করছেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি ঘোষণা হয়নি।   তাই জোলঘাদরের বক্তব্যকে আপাতত একজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার প্রকাশ্য অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি পুরো ইরানি সরকারের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত আলোচনার শর্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও সরকারি বক্তব্য বা চুক্তির তথ্য প্রয়োজন।   Source: ডব্লিউএএনএ, রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৪:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে হামের সংক্রমণের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে হামের সংক্রমণের আশঙ্কা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা

নিউইয়র্কে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

নিউইয়র্কে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বাড়ছে রাস্তায় থাকা মানুষের সংখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় ক্লার্কস ফর্ক নদীতে ডুবে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বোনকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে ডুবে ১৩ বছরের কিশোরের মৃত্যু

ক্যালিফোর্নিয়ার মহাসড়কে 'ফুল সেলফ-ড্রাইভিং' মোড চালু করে ঘুমাচ্ছিলেন এক টেসলা চালক। ছবি: সংগৃহীত
'সেলফ ড্রাইভিং' মোডে গাড়ি ছেড়ে চলন্ত টেসলায় ঘুমাচ্ছিলেন চালক, জরিমানা করল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল গতিতে চলন্ত টেসলা গাড়িতে চালকের আসনে ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে পুলিশ। গাড়িটিতে টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ ব্যবস্থা চালু ছিল বলে জানিয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল বা সিএইচপি।   সোলানো কাউন্টির ইন্টারস্টেট ৮০ মহাসড়কে ঘটনাটি ঘটে। সিএইচপির এক মোটরসাইকেল কর্মকর্তা দেখতে পান, টেসলাটি ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল গতিতে চললেও চালক আসনে থাকা ব্যক্তি আসনে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছেন বলে মনে হচ্ছে। তাঁর চোখে ছিল কালো চশমা। পরে কর্মকর্তা গাড়িটিকে থামান।   সিএইচপির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ২ সেপ্টেম্বর ঘটে। গাড়ি থামানোর পর চালককে অনিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য টিকিট দেওয়া হয়। পাশাপাশি চালককে বোঝানো হয় যে টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ ব্যবস্থা চালু থাকলেও গাড়ির নিয়ন্ত্রণ থেকে চালক নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নিতে পারেন না।   সিএইচপি জানিয়েছে, বর্তমানে চালকের ঘুমিয়ে থাকার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চালানোর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আলাদা কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান নেই। তবে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিদ্যমান ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা যেতে পারে। সিএইচপি কর্মকর্তা স্কট হেইটম্যান বলেন, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য নিরাপদ গতি হলো ঘণ্টায় শূন্য মাইল।   টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ নামটি শুনে এটি পুরোপুরি চালকবিহীন ব্যবস্থা বলে মনে হলেও বাস্তবে এটি চালকের সহায়তাকারী প্রযুক্তি। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোলের নথিতেও চালক সহায়তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ও সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব চালকের ওপর থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   সিএইচপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি তুলে ধরে চালকদের সতর্ক করেছে। সংস্থাটি বলেছে, গাড়িতে উন্নত চালক সহায়তা প্রযুক্তি থাকলেও চালককে সজাগ থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।   সোলানো কাউন্টির ঘটনাটি অবশ্য এ ধরনের প্রথম ঘটনা নয়। চলতি বছরের মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার মারিন কাউন্টিতে একটি টেসলা সাইবারট্রাকের চালককে হাইওয়ে ১০১-এ গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়ার মতো অবস্থায় দেখা যায়। সেই ঘটনার পরও সিএইচপি জানিয়েছিল, গাড়িতে স্বয়ংক্রিয় বা চালক সহায়তা প্রযুক্তি থাকলেও গাড়ির দায়িত্ব চালকেরই।   এর আগে মার্চ মাসে ভ্যাকাভিল শহরেও টেসলাকে ঘিরে আরেকটি ঘটনা সামনে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চালক সহায়তা ব্যবস্থা চালু থাকা অবস্থায় একটি টেসলা চলতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে কর্মকর্তারা গাড়ির সামনের আসনে চালককে ঘুমন্ত অবস্থায় পান। গাড়িতে পিৎজার বাক্স ও ছোট আকারের কয়েকটি মদের বোতলও ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। ওই ব্যক্তিকে মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানোর সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়।   সিএইচপি বলছে, আধুনিক চালক সহায়তা প্রযুক্তি গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এগুলো চালকের দায়িত্ব পুরোপুরি সরিয়ে দেয় না। চলন্ত গাড়িতে চালকের মনোযোগ ধরে রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখা জরুরি।   সূত্র: ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল, SFGATE

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ২১:৪৬
বিদেশি কর্মীদের এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলার ফি নেওয়ার মেয়াদ আরও বাড়াল ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ালেন ট্রাম্প

নিউইয়র্কের এডিনবার্গে গ্লাইডার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধারকাজ চলছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশে দুই গ্লাইডার বিমানের সংঘর্ষ, নিহত এক পাইলট

আইসিইর অভিযান

আইসিইর অভিযানের ভয়ে ২৯ স্কুলে ১,৭০০ শিক্ষার্থী কমেছে, জানালেন শিক্ষকরা

মিশিগানে গর্ভবতী মায়েদের নগদ সহায়তা নিয়ে রিপাবলিকানদের আপত্তি
মিশিগানে গর্ভবতী মায়েদের নগদ সহায়তা নিয়ে রিপাবলিকানদের আপত্তি

মিশিগানে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের পরিবারকে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া ‘আরএক্স কিডস’ কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা কর্মসূচিটির অর্থব্যবহার, যোগ্যতার শর্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে কঠোর তদারকির দাবি তুলেছেন।   মিশিগান হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জে ডিবোয়ার দাবি করেছেন, গ্যারান্টিড ইনকাম ধরনের কর্মসূচি কার্যকর নয় এবং এগুলো মূলত সম্পদ পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা। তার নেতৃত্বে একদল রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আরএক্স কিডসের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছেন।   আরএক্স কিডসের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী এলাকায় গর্ভবতী নারীরা গর্ভাবস্থায় এককালীন ১ হাজার ৫০০ ডলার পান। এরপর শিশুর জন্মের পর অধিকাংশ এলাকায় প্রতি মাসে ৫০০ ডলার করে সর্বোচ্চ ছয় মাস দেওয়া হয়। কিছু এলাকায় এই মাসিক সহায়তা শিশুর প্রথম বছর পর্যন্ত চলতে পারে। আয় বা চাকরির শর্ত নেই; তবে নির্দিষ্ট অংশগ্রহণকারী এলাকায় বসবাস, গর্ভাবস্থা বা শিশুর অভিভাবকত্বের মতো যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।   কর্মসূচিটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মিশিগানের ফ্লিন্টে শুরু হয়। পরে এটি মিশিগান ও ওহাইওর ৬০টির বেশি কমিউনিটিতে সম্প্রসারিত হয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি কর্মসূচিটির নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং গিভডাইরেক্টলি এর নগদ অর্থ বিতরণ পরিচালনা করছে।   রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের প্রধান আপত্তির একটি হলো, পরিবারগুলো এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করবে, তার ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ নেই। তারা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের সরকারি ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে কর্মসূচি পরিচালনার প্রয়োজন কেন হচ্ছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল স্বাধীনভাবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।    অন্যদিকে কর্মসূচির সমর্থকেরা বলছেন, গর্ভাবস্থা ও শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক মাসে পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোই এর উদ্দেশ্য। মিশিগান সরকারের একটি স্বাস্থ্যসেবা নথিতেও আরএক্স কিডসকে গর্ভবতী নারী, শিশু ও পরিবারকে শর্তহীন নগদ সহায়তা দেওয়ার একটি কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।    আরএক্স কিডসের পরিচালক ড. মোনা হানা অবশ্য এটিকে প্রচলিত গ্যারান্টিড ইনকাম বা ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম কর্মসূচি হিসেবে দেখেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি মূলত গর্ভাবস্থা ও শিশুর জীবনের শুরুর সময়কে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য ও পারিবারিক প্রয়োজন মোকাবিলার কর্মসূচি। তবে মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগের নথিতে আরএক্স কিডসকে গ্যারান্টিড ইনকাম কর্মসূচির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।    মিশিগানের এই বিতর্ক এখন মূলত দুটি প্রশ্নকে ঘিরে—করদাতাদের অর্থে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া কতটা কার্যকর এবং এমন কর্মসূচির অর্থব্যবহার ও ফলাফল কীভাবে পরিমাপ করা হবে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা আরও তদারকি চান, আর কর্মসূচির সমর্থকেরা বলছেন, শিশু ও পরিবারকে আর্থিক স্থিতিশীলতা দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। ফলে আরএক্স কিডস নিয়ে বিতর্কটি এখন শুধু একটি সহায়তা কর্মসূচি নয়, বরং সরকারি নগদ সহায়তার ভূমিকা নিয়েও বৃহত্তর নীতিগত আলোচনায় পরিণত হয়েছে।    Source: ফক্স নিউজ, মিশিগান হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস,

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৭:৪২
নিউইয়র্কে তুষার পরিষ্কার কর্মীদের বেতন বাড়িয়ে ৩০ ডলার করলেন মেয়র মামদানি

নিউইয়র্কে তুষার পরিষ্কার কর্মীদের বেতন বাড়িয়ে ৩০ ডলার করলেন মেয়র মামদানি

ট্রাম্প গড়ছেন ‘এআই ফোর্স’

ট্রাম্প গড়ছেন ‘এআই ফোর্স’, নিয়োগ দেবেন নতুন এআই ‘জার’

হুইলচেয়ারে বসা যাত্রীদের দীর্ঘ সারির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে ভারতগামী ফ্লাইটে অহেতুক হুইলচেয়ারে যাত্রীর ভিড়

0 Comments