যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির জন্য নির্মিত নিউইয়র্কের বৃহত্তম বাংলাদেশি মুসলিম কবরস্থান ‘স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমেট্রি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রথম মরদেহ দাফনের মধ্য দিয়ে গত শনিবার (২০ জুন) কবরস্থানটির কার্যক্রম শুরু হয়।
নিউইয়র্কের আপস্টেট অঞ্চলে ১২৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ কবরস্থান বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির উদ্যোগে বাস্তবায়িত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ধর্মীয় নেতা এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, প্রচেষ্টা এবং কমিউনিটির সহযোগিতার ফল হিসেবে স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমেট্রি বাস্তবায়িত হয়েছে। এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি স্থায়ী, মর্যাদাপূর্ণ ও আধুনিক সমাধিক্ষেত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কবরস্থান উদ্বোধনকালে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি জাহিদ মিন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক এ এস এম মাঈনুদ্দিন পিন্টু জানান, আগামী ১ জুলাই থেকে নিয়মিত দাফন কার্যক্রম শুরু হবে। কবরস্থানে জানাজার ব্যবস্থা, ওজুখানা, পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
তারা আরও জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কবর বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে কবরস্থানের পরিধি ও সুযোগ-সুবিধা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বক্তারা প্রবাসের মাটিতে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখায় বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির উপদেষ্টা পরিষদ, ট্রাস্টি বোর্ড, কার্যনির্বাহী কমিটি, দাতা সদস্য এবং সর্বস্তরের বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমেট্রি ভবিষ্যতে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম প্রধান মুসলিম কবরস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিমদের সেবা দিয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
আমেরিকার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে একজন নামকরা চিকিৎসককে অভিযুক্ত করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের নাম মুরেল কার্নেল রুটলেজ জুনিয়র, যিনি ইস্ট পয়েন্টের ‘রুটলেজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েটস’-এর স্বত্বাধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে রোগীদের কোনো চিকিৎসা সেবা না দিয়েই ভুয়া বিল জমা দিয়ে জর্জিয়া মেডিকেইড থেকে প্রায় ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাতের চেষ্টা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র এবং প্রমাণাদি থেকে জানা গেছে, ডাক্তার রুটলেজ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ১১ হাজার ৩০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বিল জমা দিয়েছিলেন। এসব দাবিকৃত বিলের সিংহভাগই ছিল রোগীদের মুখোমুখি বসে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক থেরাপি বা সাইকোথেরাপি দেওয়ার ভুয়া বিবরণী। এ ছাড়া সিস্ট অপসারণ, বিশেষ অ্যালার্জি পরীক্ষা এবং ক্ষতস্থানের চিকিৎসার মতো জটিল কিছু জরুরি স্বাস্থ্যসেবা তিনি রোগীদের কখনোই দেননি, অথচ সরকারি তহবিল থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে জর্জিয়া মেডিকেইডের কাছে নিয়মিত ভুয়া বিল পেশ করেছিলেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ডাক্তার রুটলেজ জর্জিয়া মেডিকেইডের কাছে মোট ৪৩ লাখ ডলারের ভুয়া দাবি সাবমিট করে ইতিমধ্যেই ২৬ লাখ ডলার সরকারি তহবিল থেকে অবৈধভাবে তুলে নিয়েছেন। এই বিশাল অর্থনৈতিক জালিয়াতির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণার মোট ৪০টি পৃথক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, যারা সরকারি মেডিকেইড কর্মসূচি থেকে অর্থ চুরি করবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং চুরির সমস্ত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হবে। মার্কিন আইন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা বড় ধরনের অভিযোগটি মূলত মার্কিন বিচার বিভাগের ২০২৬ সালের ‘ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন’ বা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের একটি অংশ। দেশজুড়ে চালানো এই বিশাল ক্র্যাকডাউন বা চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪৫৫ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এই দেশব্যাপী অভিযানে অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে ৯০ জনই হলেন লাইসেন্সধারী ডাক্তার এবং উচ্চ পদমর্যাদার অন্যান্য চিকিৎসা পেশাজীবী। এই একই তদন্তের অংশ হিসেবে লোনি রেলেফোর্ড নামের ৫৭ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে আটক করেছে জর্জিয়ার প্রসিকিউটররা। তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা এবং জালিয়াতির একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি কোনো ধরনের নার্সিং ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ছাড়াই নিজের অপরাধের সমস্ত ইতিহাস সম্পূর্ণ গোপন করে জর্জিয়ায় নার্স হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। অবৈধভাবে কাজ করার লক্ষ্যে তিনি ভুয়া নথিপত্র জমা দিয়ে এবং একজন আসল রেজিস্টার্ড নার্সের পরিচয় বা আইডি চুরি করে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে বড় ধরনের জালিয়াতি এবং পরিচয় চুরির পুরোনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি অর্থ ও ট্যাক্সদাতাদের ডলার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও ফেডারেল অংশীদাররা একযোগে কাজ করছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার আরও জানান, এই দেশব্যাপী জালিয়াতি বিরোধী প্রচেষ্টা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। তাঁরা প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির শতভাগ সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। চিকিৎসা খাতের এই বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
আমেরিকার শীর্ষ ধনী ও ধনকুবের পরিবারের সন্তানরা সাধারণ কোনো উপায়ে নয়, বরং লাখ লাখ টাকা খরচ করে প্রাইভেট জেটে চড়ে পাড়ি জমাচ্ছে বিভিন্ন বিলাসবহুল বা অভিজাত ‘সামার স্লিপঅ্যাওয়ে ক্যাম্পে’। গ্রীষ্মকালীন এই ক্যাম্পগুলোর একেকটির ফি ১৭ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এর এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলত বিশ্বের বড় বড় শিল্পপতিদের সন্তানদের সাথে প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক বা আজীবন টিকে থাকার মতো বন্ধুত্ব তৈরি করা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য বিশেষ জীবনমুখী দক্ষতা অর্জন করতেই ধনী অভিভাবকরা সন্তানদের পেছনে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করছেন। ফ্লোরিডার বোকা রাটন-এর বাসিন্দা এবং পেশায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর এলিজাবেথ ওয়েপ্রিন জানান, নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত রাকুয়েট লেক ক্যাম্পে তাঁর দুই মেয়ের সাত সপ্তাহের সামার ক্যাম্পিংয়ের জন্য তিনি এক দশকে প্রায় ছয় অঙ্কের ডলার বা কোটি টাকার ওপরে খরচ করেছেন। সেখানে প্রতি বছর জনপ্রতি ফি শুরু হয় ১৭ হাজার ৪৫০ ডলার থেকে। ডিজিটাল ডিভাইস ও সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি থেকে মুক্ত রাখার পাশাপাশি বড় বড় করপোরেট লিডার বা টাইকুনদের পরিবারের সাথে গভীর যোগাযোগ তৈরি করাই ছিল এই খরচের মূল উদ্দেশ্য। এলিজাবেথ বলেন, তিনি সবসময় তাঁর সন্তানদের বলেন যে নিজেদের পরিচিতি বা নেটওয়ার্কই হলো পৃথিবীর সবকিছু, কারণ ইন্টার্নশিপ, চাকরির সুযোগ বা নতুন অভিজ্ঞতা সবই নির্ভর করে কার সাথে কার চেনা-জানা আছে তার ওপর। আরেক লাইফস্টাইল ইনফ্লুয়েন্সার রাচেল পটাশ তাঁর দুই মেয়েকে মেইন অঙ্গরাজ্যের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও মেয়েদের জন্য বিশেষায়িত ‘ক্যাম্প ভেগা’-তে পাঠাতে বছরে ৪০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করেন। প্রাইভেট স্কুলের পুরো বছরের ফির সমান টাকা ক্যাম্পিংয়ে দেওয়ার পরও, এবার তিনি তাঁর ১৩ ও ১৫ বছর বয়সী দুই মেয়ে ও তাদের বান্ধবীদের জন্য বিশেষ উপহার হিসেবে একটি ‘প্রাইভেট জেট’ ভাড়া করেছেন। নিউ ইয়র্ক থেকে মেইনের ক্যাম্প গ্রাউন্ডে সরাসরি পৌঁছাতে এই প্রথম শ্রেণির বিলাসবহুল ভ্রমণের আয়োজন করেছেন তিনি। রাচেল পটাশ স্পষ্ট করে বলেন, টাকা আসবে এবং যাবে, কিন্তু বাচ্চাদের সাবলম্বী ও স্বাধীন নারী হিসেবে গড়ে তুলতে সামার ক্যাম্পের চেয়ে ভালো বিনিয়োগ আর কিছুই হতে পারে না। মে মাসের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকার প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ অভিভাবক চান তাঁদের সন্তানরা এমন সামার ক্যাম্পে যাক। তবে অত্যন্ত চড়া খরচের কারণে ৩৮ শতাংশ পরিবারই শেষ পর্যন্ত এর নাগাল পায় না। সাধারণ বা মধ্যবিত্ত পরিবারের মাত্র ১৩ শতাংশ শিশু এই সুযোগ পায়, যেখানে ধনী পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ শতাংশ। হ্যাম্পটনসের একটি এআই-চালিত সামার ডে ক্যাম্পের সাপ্তাহিক ফিই ৪ হাজার ৫০০ ডলার, যেখানে শিশুদের ওমাকাসে বা জাপানি খাবার তৈরির বিশেষ ক্লাস এবং ট্রোজান-হর্স ওয়ার্কশপের মতো অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় সব বিষয় শেখানো হয়, যার ফলে সেখানেও ধনী অভিভাবকদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। এমনকি এই অভিজাত ক্যাম্পগুলোতে নির্দিষ্ট ইউনিফর্মের কঠোর নিয়ম থাকলেও নামী ব্র্যান্ডের দামি নাইটড্রেস, দামি প্রসাধনী এবং বিলাসবহুল ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা চলে ধনী সন্তানদের মাঝে। ক্যাম্পের জিনিসপত্র কেনাকাটার জন্য ‘ডেনি’স অ্যান্ড লেস্টার’স’-এর মতো নামী বিপণিবিতানগুলোতে অভিভাবকরা জানুয়ারি মাস থেকেই বুকিং দেওয়া শুরু করেন, যেখানে শুধু কেনাকাটাতেই একেকজন অভিভাবক ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ করেন। ক্যাম্প শুরুর পর অভিভাবকরা দামি গাড়ি বা আরভি ভাড়া করে ক্যাম্পের মাঝামাঝি সময়ে সন্তানদের সাথে দেখা করতে ‘ভিজিটিং ডে’-তে যান এবং তাদের জন্য বিলাসবহুল খাবার ও নানা উপহার নিয়ে আসেন। খরচের অঙ্কটা আকাশচুম্বী হলেও, প্রভাবশালী মহলে সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে অভিভাবকরা এই বিপুল পরিমাণ অর্থকে একবাক্যে স্বার্থক বলেই মনে করছেন। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ রাহুল রব। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শরীর ঘামে ভিজে যায়, শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে তিনি ফোন করেন বড় ভাই মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে। কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাহুল রব বড় ভাইকে ফোন করে জানান যে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করছেন। তাঁর বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা হচ্ছিল এবং শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। ভাইয়ের কণ্ঠে উদ্বেগ টের পেয়ে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ দ্রুত তাঁর অবস্থান জানতে চান এবং নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন। আব্দুল্লাহ জানান, তিনি দ্রুত ভাইয়ের কাছে রওনা দেন। পথে থাকতেই আবার ফোন আসে রাহুলের কাছ থেকে। তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আব্দুল্লাহ ৯১১-এ ফোন করেন। তবে প্রথমবার জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ রাহুলের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি। পরে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশ আসে। প্যারামেডিকরা দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে রাহুল রবকে জরুরি চিকিৎসা দেন। পরে তাঁকে দ্রুত ব্রুকলিনের নিউইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান ব্রুকলিন মেথডিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন। পরিবারকে জানানো হয়, চিকিৎসা শেষে পরে তাঁরা দেখা করতে পারবেন। সেই আশায় মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বাড়ির পথে রওনা দেন এবং রাহুলের স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হাসপাতাল থেকে আবার ফোন আসে। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন, হয়তো দ্রুত হাসপাতালে যেতে বলা হবে। পরিবর্তে চিকিৎসকদের কাছ থেকে আসে হৃদয়বিদারক সংবাদ। সব ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও রাহুল রবকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রাহুল রবের গ্রামের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র সন্তান, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তিনি পরিবার নিয়ে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটি এলাকায় বসবাস করতেন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাহুল রব ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি। তাঁর আন্তরিকতা, বন্ধুবৎসল আচরণ এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতার কারণে তিনি সবার কাছে প্রিয় ছিলেন। পরিচিতজনেরা তাঁকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন, যিনি সবসময় হাসিমুখে মানুষের খোঁজখবর নিতেন এবং সহজেই সবাইকে আপন করে নিতে পারতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের নেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তাঁর মানবিক গুণাবলি ও বন্ধুসুলভ ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করেছেন। এক শোকবার্তায় বলা হয়, জ্যাকসন হাইটসের ব্যস্ত জনপদে রাহুল রব ছিলেন এক পরিচিত হাসিমুখ, যার উপস্থিতি অনেক মানুষের দিনকে আনন্দময় করে তুলত। সোমবার (২২ জুন) বাদ জোহর জ্যাকসন হাইটসে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সংগঠনের নেতারাও। প্রিয় মানুষটিকে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের এই উপস্থিতি তাঁর প্রতি কমিউনিটির গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন হয়ে ওঠে। রাহুল রবের অকাল প্রয়াণে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যু পরিবার, বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ীদের জীবনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।