হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও চলমান যুদ্ধ শেষ করে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার পথ খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিলে এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যবস্থা করা গেলে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, তেহরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিলে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় সামরিক হুমকি তৈরি করতে না পারে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে আগ্রহী হতে পারেন ট্রাম্প।
তবে সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের শর্ত। হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে তেহরান মার্কিন অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরান থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক দাবি জানিয়েছে। ইরানের এসব শর্ত মেনে নেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে কঠিন হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। এখন সংঘাত থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে ইরান আবার জাহাজে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই প্রভাব ফেলছে না, এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। প্রণালিটি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবহন হওয়ায় সেখানে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে তেল ও গ্যাসের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও চাপে পড়তে পারে।
ফলে পারমাণবিক কর্মসূচি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, সামরিক উপস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আনা যায়, সেটিই এখন যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী করার মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreচীনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিয়ারস্টন প্রকল্পসহ অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতের কয়েকটি প্রকল্পে মার্কিন আগ্রহ বাড়ছে। সিয়ারস্টন প্রকল্পটি নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এবং সেখানে স্ক্যান্ডিয়ামের বড় মজুত রয়েছে। স্ক্যান্ডিয়াম বিমান, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। প্রকল্পটি পরিচালনা করছে অস্ট্রেলিয়ার সানরাইজ এনার্জি মেটালস। প্রকল্পটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের চাহিদার কারণে। ২০২৫ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন সিয়ারস্টন প্রকল্প থেকে পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ১৫ টন স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড কেনার সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি করে। প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান হতে পারে এই পরিমাণ। স্ক্যান্ডিয়াম বর্তমানে মূলত চীন, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সরবরাহ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৯ সালের পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে স্ক্যান্ডিয়াম খনন হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে অস্ট্রেলিয়ার প্রকল্পগুলো ওয়াশিংটনের কাছে কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। সিয়ারস্টন প্রকল্পে উচ্চ বিশুদ্ধতার স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৬০ টন স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরদার হয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চীনের প্রভাব কমানো এবং প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করাই এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সিয়ারস্টনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ডাব্বো অঞ্চলের বিরল মাটি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্প নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্যাটারি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিমান ও উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় খনিজের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ এখন শুধু বাণিজ্যিক বিষয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্ট্রেলিয়া হয়ে উঠছে চীনের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নির্ভরযোগ্য উৎস গড়ে তোলার অন্যতম অংশীদার।
'হিটলার কাজটা শেষ করতে পারেনি’ বলায় ইসরায়েলির হাতে মার খেলেন মার্কিন নাগরিক
কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় ৯৬৮ বাংলাদেশি
হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে সরে আসাই সবচেয়ে শক্তিশালী সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্ট। মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন কেন্ট। পদত্যাগের সময় তিনি বলেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করছিল না এবং যুদ্ধের পক্ষে তিনি সমর্থন দিতে পারছেন না। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী পদক্ষেপ হবে যুদ্ধ থেকে সরে আসা। তার মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য এটিই ট্রাম্পের সামনে সবচেয়ে ভালো সুযোগ। কেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও মতপার্থক্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। তিনি ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, যিনি ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে কেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ টেনে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, এমন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মকে পাঠানো এবং মার্কিন নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে ফেলা সমর্থনযোগ্য নয়। তবে কেন্টের অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের সঙ্গে মেলে না। তার পদত্যাগের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে কেন্টের নিরাপত্তা মূল্যায়নের সমালোচনা করেন। ফলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের নীতির পাশাপাশি এর অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কেন্টের সর্বশেষ মন্তব্য মূলত যুদ্ধের সামরিক সমাধানের পরিবর্তে দ্রুত সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে তার অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
সিটে বসতে নারাজ শিশু, বাবা-মা ও ক্রুর ব্যর্থ চেষ্টার পর বাতিল কানাডার ফ্লাইট
স্ত্রীর ওষুধের টাকা নেই, তাই নিজের সবকিছু বিক্রি করছেন ৮১ বছরের বৃদ্ধ
রোনালদোর বিয়ের ভেবে ভেন্যুর সামনে ভিড়, শেষে বেরিয়ে এলেন অন্য নবদম্পতি
জার্মানির পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট শহর হালবারস্টাডে একটি মধ্যযুগীয় গির্জার ভেতরে চলছে বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির এবং দীর্ঘতম সংগীত পরিবেশনা। প্রায় ২৫ বছর ধরে একটি অর্গানে বাজছে একই সংগীত, যার সমাপ্তি হবে ২৬৪০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ পুরো পরিবেশনাটি চলবে মোট ৬৩৯ বছর। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, সম্প্রতি এই দীর্ঘ সংগীত পরিবেশনায় বিরল একটি পরিবর্তন এসেছে। বুধবার অর্গানটিতে সাতটি স্বরের সঙ্গে আরও একটি নতুন স্বর যুক্ত করা হয়। এই পরিবর্তন ছিল পুরো ৬৩৯ বছরের প্রকল্পের মাত্র ১৭তম ‘কর্ড পরিবর্তন’, যা প্রকল্পটির প্রায় ৪ শতাংশ অগ্রগতির প্রতীক। এই সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে জার্মানির হালবারস্টাড শহরের ঐতিহাসিক বুরখার্ডি গির্জায়। জন কেজ অর্গান প্রকল্পের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যানেলি বর্গম্যান বলেন, দ্রুতগতির এই পৃথিবীতে এই প্রকল্প মানুষকে ধীর হওয়া, থেমে ভাবা এবং বর্তমান মুহূর্তকে অনুভব করার এক অনন্য সুযোগ করে দেয়। এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ২০০০ সালে। তবে সংগীত পরিবেশনা শুরু হয় ২০০১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, মার্কিন সংগীতকার জন কেজের ৮৯তম জন্মদিনে। শুরুতেই প্রায় ১৭ মাস কোনো শব্দ শোনা যায়নি। নীরবতার সেই পর্ব শেষ হয় ২০০৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, যখন প্রথমবারের মতো অর্গান থেকে সুর ভেসে আসে। পরিবেশিত সংগীতটির নাম "ORGAN²/ASLSP (As SLow aS Possible)"। জন কেজ ১৯৮৫ সালে এটি পিয়ানোর জন্য রচনা করেন এবং ১৯৮৭ সালে অর্গানের উপযোগী করে সংশোধন করেন। তাঁর নির্দেশনা ছিল মাত্র একটি, সংগীতটি "যত ধীরে সম্ভব" বাজাতে হবে। প্রকল্পে ব্যবহৃত অর্গানটি বৈদ্যুতিক বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে শব্দ সৃষ্টি করে। নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বর পরিবর্তনের জন্য হাতে নতুন পাইপ যুক্ত করা হয় অথবা কোনো পাইপ সরিয়ে নেওয়া হয়। এর ফলে অর্গানের সুরে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আসে। সাম্প্রতিক কর্ড পরিবর্তন দেখতে বুরখার্ডি গির্জায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ উপস্থিত হন। আরও অনেকে বাইরে বসে সরাসরি সম্প্রচার দেখেন। প্রথমে কয়েক মিনিট পুরোনো সুর শোনার পর অষ্টম পাইপটি যুক্ত করা হয়। এরপর নতুন সুরের সূক্ষ্ম পরিবর্তন মনোযোগ দিয়ে শোনেন উপস্থিত দর্শনার্থীরা। অনুষ্ঠান শেষে গির্জাজুড়ে করতালি ও "ব্রাভো" ধ্বনি ওঠে। জন কেজ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক জেফ্রি লেপেনডর্ফ বলেন, পরিবর্তনটি খুবই সূক্ষ্ম হলেও নতুন একটি উচ্চ স্বর পুরো সংগীতের আবহে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর ভাষায়, "এটি এমন এক অভিজ্ঞতা, যা একই জায়গায় দাঁড়িয়েও কয়েক ইঞ্চি নড়লেই ভিন্নভাবে অনুভূত হয়।" জন কেজ ১৯১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯২ সালে নিউইয়র্কে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন আধুনিক পরীক্ষাধর্মী সংগীতের অন্যতম পথিকৃৎ, পাশাপাশি সংগীততত্ত্ববিদ, শিল্পী ও দার্শনিক হিসেবেও পরিচিত। ৬৩৯ বছরের সময়সীমা নির্ধারণের পেছনেও রয়েছে একটি ঐতিহাসিক কারণ। হালবারস্টাড শহরে ১৩৬১ সালে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক অর্গানের স্মরণে ২০০০ সালে এই প্রকল্প শুরু করা হয়। দুই বছরের ব্যবধান হিসাব করলে দাঁড়ায় ঠিক ৬৩৯ বছর। প্রকল্পটির উদ্যোক্তাদের মতে, এটি শুধু একটি সংগীত পরিবেশনা নয়, বরং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতীক। কারণ এই পরিবেশনা শেষ হওয়ার আগেই বহু প্রজন্ম বদলে যাবে। নতুন স্বেচ্ছাসেবক, সংগীতজ্ঞ ও কারিগরদের হাতেই প্রকল্পটির দায়িত্ব ক্রমান্বয়ে হস্তান্তর হবে। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো থেকে আসা সংগীতপ্রেমী মাইকেল বার্নেট বলেন, জীবনে অন্তত একবার এই অভিজ্ঞতার অংশ হতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, "পৃথিবীতে এমন সংগীতানুষ্ঠান আর নেই। একই সঙ্গে ভাবতে অবাক লাগে, ২৬৪০ সালে পৃথিবী কেমন হবে, গির্জাটি থাকবে কি না, অর্গানটি তখনও বাজবে কি না।" অর্গান নির্মাতা জোহানেস হুফকেন জানান, এই প্রকল্পের জন্য তৈরি করা পাইপগুলো অন্তত আরও ৫০০ বছর টিকে থাকার মতো করেই নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভেবে পরিকল্পনা করার এক অসাধারণ উদাহরণ। প্রকল্পের পরবর্তী কর্ড পরিবর্তনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ৫ অক্টোবর। আর ২৬৪০ সালের চূড়ান্ত পরিবেশনার জন্য উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তরযোগ্য বিশেষ টিকিট ইতোমধ্যে ২ হাজার ৬৪০ ইউরো মূল্যে বিক্রি শুরু হয়েছে।
যে কোনো মূল্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে ইরান: লারিজানি
বিয়েতে 'রাজকন্যার' মতো সাজতে গিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর উপক্রম কনের, যেতে হলো হাসপাতালে