যুক্তরাষ্ট্রে ৯০৫ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ারবল জ্যাকপট, ভাগ্য বদলের স্বপ্নে কোটি মানুষের নজর
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় লটারি 'পাওয়ারবল'-এর জ্যাকপট পুরস্কারের অঙ্ক ফুলেফেঁপে ৯০০ মিলিয়ন বা ৯০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। গত শনিবারের ড্রতে কেউই চূড়ান্ত বিজয়ী না হওয়ায় সোমবারের (১০ আগস্ট) ড্রয়ের জন্য এই পুরস্কারের পরিমাণ বেড়ে ৯০ কোটি ৫ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি পাওয়ারবলের ইতিহাসে অষ্টম বৃহত্তম জ্যাকপট। তবে লটারি জেতার এই হাতছানি যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, পরিসংখ্যান বলছে এই পুরস্কার জেতার চেয়ে একজন মানুষের দুবার বজ্রপাতের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
পাওয়ারবল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সোমবারের ড্রতে যদি কেউ এই বিপুল অঙ্কের জ্যাকপট জিতে নেন, তবে তিনি দুটি উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন। বিজয়ী চাইলে পরবর্তী ২৯ বছর ধরে ৩০টি কিস্তিতে পুরো অর্থ নিতে পারবেন, অথবা এককালীন নগদ অর্থ হিসেবে কর দেওয়ার আগে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার (৩৯২ মিলিয়ন) তুলে নিতে পারবেন।
জানা গেছে, গত ২ মে-এর পর থেকে পাওয়ারবলের জ্যাকপট কেউ জিততে পারেননি। টানা কয়েক মাস ড্রগুলোতে বিজয়ী না থাকায় পুরস্কারের অঙ্ক ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এর আগে ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ব্যক্তি পাওয়ারবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২.০৪ বিলিয়ন বা ২০৪ কোটি ডলার জিতে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন।
পাঁচটি সাদা বল এবং একটি পাওয়ারবল মিলিয়ে জ্যাকপট জেতার সম্ভাবনা রীতিমতো শূন্যের কাছাকাছি। সংখ্যায় হিসাব করলে যা ২৯ কোটি ২২ লাখ ১ হাজার ৩৩৮ জনের মধ্যে মাত্র ১ জনের। ভবিষ্যদ্বাণী এবং পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘অডসরেফারেন্স’-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাওয়ারবল জ্যাকপট জেতার চেয়ে মানুষের বজ্রপাতের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা ১৯ হাজার গুণ বেশি। অন্যান্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন মানুষের জীবদ্দশায় লটারি জেতার চেয়ে দুইবার বজ্রপাতের শিকার হওয়া, প্রাকৃতিকভাবে একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দেওয়া বা উল্কাপিন্ডের আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
শনিবারের ড্রতে মূল জ্যাকপটের ৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার কেউ না জিতলেও কয়েকজন ভাগ্যবান মোটা অঙ্কের অর্থ জিতেছেন। পাওয়ারবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টেক্সাসের এক বাসিন্দা পাঁচটি সাদা বল এবং ‘পাওয়ার প্লে’ মিলিয়ে ২০ লাখ ডলার জিতেছেন। এছাড়া নিউইয়র্কসহ অন্যান্য স্থানে বিক্রি হওয়া আরও চারটি টিকিটে পাঁচটি সাদা বল মিলে যাওয়ায় প্রত্যেকে ১০ লাখ ডলার করে পুরস্কার পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সোমবার, বুধবার এবং শনিবার পাওয়ারবলের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী ড্র সোমবার (১০ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ১১টার ঠিক আগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreহলিউড তারকা কিম কার্দাশিয়ানের যুক্তরাষ্ট্রের হিডেন হিলসের বিলাসবহুল প্রাসাদে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দিনের আলোতে এক ব্যক্তি ওই প্রাসাদে প্রবেশ করে কিমের একটি দামি গাড়ি চুরি করে। শুধু তাই নয়, চুরি করা সেই বিলাসবহুল গাড়িটি নিয়ে আশপাশের এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ঘুরেও বেড়ায় ওই চোর। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট'-এর এক প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত রোববার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। মালিবু/লস্ট হিলস শেরিফ স্টেশনের কর্মকর্তারা একটি জরুরি কল পান। সেখানে জানানো হয়, একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি কিম কার্দাশিয়ানের বাড়িতে প্রবেশ করেছে এবং ভেতর থেকে জিনিসপত্র চুরি করছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। তারা ৬০ মিলিয়ন (৬ কোটি) ডলারেরও বেশি মূল্যের ওই সুবিশাল বাসভবনের ভেতর থেকে এক যুবককে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে অনুপ্রবেশ, চুরি এবং গাড়ি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি শুধু বাড়িতেই অনুপ্রবেশ করেনি, বরং কিম কার্দাশিয়ানের একটি বিলাসবহুল গাড়ি বের করে নিয়ে হিডেন হিলস এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে। পরবর্তীতে ওই যুবককে কারাগারে পাঠানো হয় এবং চুরির সন্দেহে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ বিভাগের (এলএএসডি) সার্জেন্ট ক্রিস সন্ডারলান্ড ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা বর্তমানে তদন্তের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো সম্ভব হবে।" জানা গেছে, ঘটনার সময় কিম কার্দাশিয়ান বা তাঁর সন্তানদের কেউই ওই প্রাসাদে উপস্থিত ছিলেন না। বর্তমানে বাড়িটির বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। তাই গত কয়েক মাস ধরে কিম তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে কাছাকাছি অন্য একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন। হিডেন হিলসের এই বিশাল সম্পত্তির পেছনের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ২০১৪ সালে কিম কার্দাশিয়ান এবং তাঁর প্রাক্তন স্বামী বিখ্যাত র্যাপার ক্যানিয়ে ওয়েস্ট মিলে প্রায় ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) ডলারে এই এস্টেটটি কিনেছিলেন। এরপর বাড়িটিকে নিজেদের মনের মতো করে সাজাতে দীর্ঘ সময় নিয়ে সংস্কারকাজ চালান তারা। তিন বছর পর, ২০১৭ সালে তারা এই প্রাসাদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে কিম ও ক্যানিয়ে ওয়েস্টের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। বিচ্ছেদের পর আইনি সমঝোতার মাধ্যমে এই বাড়ির মালিকানা পান কিম কার্দাশিয়ান। এরপর থেকে তিনি তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে এখানেই বসবাস করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি নতুন করে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় বাড়িটি আপাতত ফাঁকা ছিল, আর সেই সুযোগটিই কাজে লাগানোর চেষ্টা করে ওই চোর।
ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হিড়িক, কেন অ্যারিজোনার দিকে ছুটছেন হাজারো পরিবার?
যুক্তরাষ্ট্রে ৯০৫ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ারবল জ্যাকপট, ভাগ্য বদলের স্বপ্নে কোটি মানুষের নজর
স্ত্রী মেলানিয়ার অনুপস্থিতিতে ট্রাম্পের সঙ্গে পুরো ছুটি কাটালেন তাঁর 'সবচেয়ে সুন্দরী' সহকারী
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের হান্টল্যান্ড এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৪৬টি গাঁজার গাছ (মারিজুয়ানা) উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্যারি ক্রেইন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৯ জুলাই, বুধবার স্থানীয় ফ্রাঙ্কলিন কাউন্টি শেরিফ অফিসের নারকোটিক্স টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসএমভি ও গ্রে নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হান্টল্যান্ড শহরের হিকরি গ্রোভ রোডের ১৬০০ ব্লকের একটি বাড়িতে অবৈধ মাদকদ্রব্য মজুত থাকার গোপন তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর ভিত্তিতে শেরিফ অফিসের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষ দল আদালতের নির্দেশে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশি চলাকালে বাড়িটির ভেতর থেকে ২৪৬টি গাছ উদ্ধার করা হয়, যা গাঁজা গাছ বলে জোরালো সন্দেহ করছে পুলিশ। শুধু গাছই নয়, গাঁজা চাষের জন্য ব্যবহৃত একাধিক আলট্রাভায়োলেট (ইউভি) বা অতিবেগুনি রশ্মির লাইট এবং মাদক চাষের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটিকে রীতিমতো একটি মাদকের খামার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এছাড়া সেখান থেকে 'শিডিউল-২' ও 'শিডিউল-৩' তালিকাভুক্ত অন্যান্য মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই তালিকাভুক্ত মাদকগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ ছাড়া এগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি। তল্লাশি শেষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়ার পর বাড়ির মালিক গ্যারি ক্রেইনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করেন শেরিফ অফিসের কর্মকর্তারা। তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'শিডিউল-৬' তালিকাভুক্ত নিয়ন্ত্রিত পদার্থ (গাঁজা) উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ করা, 'শিডিউল-২' এবং 'শিডিউল-৩' পদার্থ অবৈধভাবে কাছে রাখা, মাদক সংক্রান্ত সরঞ্জাম রাখার জন্য ফেলোনি বা গুরুতর অপরাধ এবং মাদক ব্যবসার উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি ব্যবহার করা। বর্তমানে গ্যারি ক্রেইনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফ্রাঙ্কলিন কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, এলাকায় মাদক নির্মূল কার্যক্রমে তাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হ্যাকারদের অভিনব ফাঁদ, ক্যালিফোর্নিয়ার শহর কর্তৃপক্ষের ৯ লাখ ডলার গায়েব
অনুমতি ছাড়াই গুদামে রাখা হয়েছিল ৪৬টি বিষধর সাপ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ২
নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিভাবকদের বাড়তি চাপ, স্কুলসামগ্রীর দাম বেড়েছে ৭.৭ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের বাথ শহরে মাত্র ১ ডলারে বিক্রি হচ্ছে আস্ত একটি ঐতিহাসিক বাড়ি! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটি সত্যি। তবে জলের দরে এই বাড়িটি কেনার জন্য ক্রেতাকে মানতে হবে একটি কঠিন শর্ত। শর্তটি হলো, কেনার পর আস্ত বাড়িটিকে তার বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে হবে। অন্যথায় বাড়িটি চিরতরে ভেঙে ফেলা হবে। ‘জাহাজের শহর’ (সিটি অব শিপস) হিসেবে পরিচিত মেইন অঙ্গরাজ্যের বাথ শহরের ৬০৬ ওয়াশিংটন স্ট্রিটে অবস্থিত এই বাড়িটির নাম ‘ডিয়ারিং হাউস’। এটি ১৯০০ সালের দিকে নির্মিত। প্রখ্যাত জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জেনারেল ডায়নামিকস বাথ আয়রন ওয়ার্কস’ গত বুধবার এক ঘোষণায় জানায়, তারা দুটি আবাসিক ভবন মাত্র ১ ডলারের বিনিময়ে বিক্রি করতে যাচ্ছে, যার মধ্যে এই ঐতিহ্যবাহী ডিয়ারিং হাউসটিও রয়েছে। সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএমটিডব্লিউ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রির চুক্তিতে বলা হয়েছে, ক্রেতাকে ২০২৭ সালের ২০ নভেম্বরের মধ্যে আইনি বৈধতা রয়েছে এমন কোনো স্থানে ভবনটিকে স্থানান্তর করতে হবে। বর্তমানে বাড়িটি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং ২০২৭ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত এটি বর্তমান ভাড়াটেদের কাছে লিজ দেওয়া রয়েছে। এই বাড়িটির রয়েছে এক সমৃদ্ধ ও গৌরবময় ইতিহাস। এটি মূলত গার্ডিনার জি. ডিয়ারিংয়ের বাসভবন ছিল। তিনি ছিলেন সে সময়ের একজন বিশিষ্ট জাহাজ নির্মাতা, যিনি ১৯ শতকের শেষ এবং ২০ শতকের শুরুর দিকে বাথ শহরকে জাহাজ নির্মাণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে তিনি ৯৯টি জাহাজ তৈরি করেছিলেন। কেনেবেক নদীর তীরে একটি শিপইয়ার্ড পরিচালনা করতেন তিনি। বাথ শহরের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ১৮৫৪ সালে কাঠের তৈরি জাহাজ নির্মাণে নিউইয়র্ক এবং বোস্টনের পর পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বাথ শহরের অবস্থান ছিল তৃতীয়। গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত এই শিল্প শহরটিতে ব্যাপক সমৃদ্ধি এনেছিল। বাথ আয়রন ওয়ার্কস জানিয়েছে, ভবনটি যে অবস্থায় আছে ঠিক সেভাবেই বিক্রি করা হবে। এর কোনো গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি থাকবে না। বাড়িটি সরানোর সম্পূর্ণ আর্থিক দায়ভার ক্রেতাকেই বহন করতে হবে। এর মধ্যে প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া, লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্ট্রাকচারাল মুভার্স ভাড়া করা, পরিবহন, নতুন স্থান প্রস্তুতকরণ, ভিত্তি স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যদি কেউ এই ঐতিহাসিক বাড়িটি কিনে রক্ষা করতে এগিয়ে না আসেন, তবে নতুন স্থাপনা তৈরির জন্য এটি ভেঙে ফেলা হবে। বাথ আয়রন ওয়ার্কস-এর ফ্যাসিলিটিজ ক্যাপিটাল ডিরেক্টর জোলেন নিকারসন বলেন, একটি কোম্পানি হিসেবে আমাদের বেড়ে ওঠা এবং স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাটা জরুরি। সে জন্যই আমরা আমাদের স্থাপনাগুলোর উন্নয়নের চেষ্টা করছি। তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি এমন কেউ এগিয়ে আসবেন, যাঁর এই বাড়িটি স্থানান্তরের জন্য উপযুক্ত জায়গা রয়েছে এবং আর্থিকভাবেও তিনি সক্ষম। এটি হলে বাড়িটির ঐতিহাসিক আবেদন রক্ষা পাবে, যা নিয়ে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মানুষেরাও বেশ আগ্রহী। প্যাটেন ফ্রি লাইব্রেরির আর্কাইস্ট এবং স্পেশাল কালেকশন লাইব্রেরিয়ান জ্যাক মার্টিন মনে করেন, বাড়িটি রক্ষা করা গেলে এর নতুন মালিক বাথ শহরের ইতিহাসের একটি অনন্য অংশের অংশীদার হবেন। তিনি বলেন, আপনার কাছে কেবল একটি অদ্বিতীয় বাড়িই থাকবে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে এক চমৎকার গল্প। একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা করার এই উদ্যোগ সত্যিই দারুণ রোমাঞ্চকর একটি ব্যাপার। বাথ আয়রন ওয়ার্কস জানিয়েছে, এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ভবনটি কেনার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। তবে মেইন অঙ্গরাজ্যে ঐতিহাসিক বাড়ি স্থানান্তরের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। কেনেবেক জার্নালের তথ্যমতে, গত মে মাসে অগাস্টা শহরে ১৮৯৯ সালে স্থপতি জন ক্যালভিন স্টিভেন্সের নকশা করা ৬ হাজার ২০০ বর্গফুটের তিনতলা একটি বাড়ি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাইল দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এক লাখ ২০ হাজার পাউন্ড ওজনের ওই ভবনটিকে দুই ভাগে ভাগ করে নতুন জায়গায় নেওয়া হয়। ব্যয়বহুল ওই স্থানান্তর প্রকল্পে খরচ হয়েছিল ৫ লাখ ডলারেরও বেশি।
ক্যালিফোর্নিয়ার চোখধাঁধানো বিলাসবহুল বাড়ি ‘দ্য স্যান্ড ক্যাসল’ বিক্রি হচ্ছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে
নিউইয়র্ক হারবারে স্পিডবোট উল্টে মা ও পাঁচ মাসের শিশুর মৃত্যু, ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার