ক্ষতির আশঙ্কার কথা বলে হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা আলাদা দেওয়ার পরামর্শ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকা দেওয়ার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১০ আগস্ট তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যেখানে একসঙ্গে একাধিক টিকা না দিয়ে আলাদা সময়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে হাম, মাম্পস ও রুবেলার সমন্বিত এমএমআর টিকা তিনটি পৃথক টিকায় ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের একটি বড় অংশ বলছেন, এই পরিবর্তনের পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই এবং এতে শিশুদের টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
নতুন নির্দেশনায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় শিশুদের বেশি টিকা দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশুরা ৭২টি পর্যন্ত টিকার ডোজ পায় এবং একসঙ্গে একাধিক টিকা দেওয়া শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে “৭২টি জ্যাব” কথাটি মূলত পুরো শৈশব ও কৈশোরজুড়ে সুপারিশকৃত ডোজগুলো যোগ করে তৈরি একটি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত সংখ্যা; এটিকে একই সময়ে দেওয়া ৭২টি ইনজেকশন হিসেবে দেখা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকা সূচি বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে ভাগ করা থাকে।
ট্রাম্প একই বক্তব্যে নবজাতকদের হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়ারও বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এই টিকা ১৪ বা ১৫ বছর বয়সে দেওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান মার্কিন স্বাস্থ্য নির্দেশনায় বিষয়টি এত সরল নয়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে নীতি পরিবর্তনের পর হেপাটাইটিস বি নেগেটিভ মায়ের সন্তানের ক্ষেত্রে জন্মের সময় টিকা দেওয়া হবে কি না, তা বাবা-মা ও চিকিৎসকের যৌথ সিদ্ধান্তের আওতায় আনা হয়েছে। তবে যেসব মায়ের হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ রয়েছে বা সংক্রমণের অবস্থা জানা নেই, তাদের নবজাতককে জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়ার সুপারিশ বহাল রয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন শিশুদের জন্য সর্বজনীনভাবে সুপারিশকৃত টিকার তালিকাও ছোট করেছে। আগে ১৭টি রোগের বিরুদ্ধে টিকা সবার জন্য সুপারিশ করা হলেও নতুন কাঠামোয় সেটি ১১টি মূল রোগে সীমিত করা হয়। ফ্লু, রোটাভাইরাস, হেপাটাইটিস এ ও বি এবং কিছু মেনিনজাইটিস টিকাকে ঝুঁকি বা চিকিৎসকের সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দেওয়ার শ্রেণিতে নেওয়া হয়। এই পরিবর্তন নিয়ে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসসহ একাধিক চিকিৎসক সংগঠন আপত্তি জানিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে এমএমআর টিকা নিয়ে। ট্রাম্প বলেছেন, হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা একসঙ্গে না দিয়ে তিনটি আলাদা টিকা হিসেবে পৃথক সময়ে দেওয়া উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, একসঙ্গে দিলে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হাম, মাম্পস ও রুবেলার পৃথক একক টিকা বাজারে সহজলভ্য নয়। নতুন নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে হলে নির্মাতাদের নতুন করে পৃথক টিকা উৎপাদনের প্রয়োজন হতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো, তিনি একসঙ্গে দেওয়া টিকাকে “লেথাল” বা প্রাণঘাতী হওয়ার সম্ভাবনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এই দাবির পক্ষে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এমএমআর টিকা ও অটিজমের মধ্যে সম্পর্ক থাকার পুরোনো দাবিটিও বহু গবেষণায় খণ্ডিত হয়েছে। যে গবেষণা থেকে প্রথম এই বিতর্ক ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছিল, সেটি পরে প্রত্যাহার করা হয় এবং গবেষণাটির তথ্য জালিয়াতির অভিযোগও প্রমাণিত হয়।
শিশুকে একই ভিজিটে একাধিক টিকা দেওয়ার বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় টিকাগুলো অযথা আলাদা আলাদা সময়ে দেওয়া হলে শিশুর পূর্ণ টিকা গ্রহণ শেষ হতে বেশি সময় লাগবে। সেই সময়ের ব্যবধানে তারা হাম, হুপিং কাশি বা অন্য টিকাপ্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreহলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বিমান চালানোর গল্প শুরু হয়েছিল তাঁর বড় ছেলে ম্যাডক্সকে ঘিরে। প্রায় দুই দশক আগে মাত্র তিন বছর বয়সী ম্যাডক্স বিমানের প্রতি ভীষণ আগ্রহ দেখাত। সেই আগ্রহ থেকেই জোলি নিজেই বিমান চালানো শেখার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সেই শখ ও ভালোবাসা ছেলের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে আর এখন ম্যাডক্সও প্রশিক্ষিত পাইলট হিসেবে এককভাবে বিমান চালাতে সক্ষম। ২০০৪ সালে জোলি যখন বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ শুরু করেন, তখন ম্যাডক্সের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ম্যাডক্স বিমান দেখলেই মুগ্ধ হয়ে যেত। ছেলে যখন চার বছরে পা দেবে, তার আগেই তিনি বিমান চালাতে পারলে ছেলের চোখে নিজেকে ‘সুপারম্যানের’ মতো মনে হবে এমন কথাও বলেছিলেন জোলি। তবে জোলির বিমান চালানো শেখার পেছনে শুধু ছেলেকে মুগ্ধ করার বিষয়টি ছিল না। তিনি জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে মানবিক কাজে বিমান ব্যবহার করার ইচ্ছাও তাঁর ছিল। শরণার্থী ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে খাদ্য বা প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে বিমান চালানোর দক্ষতা কাজে লাগানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। ২০১০ সালের এক সাক্ষাৎকারে জোলি আরও জানান, ম্যাডক্স যখন প্রায় দেড় বছরের, তখন তারা বিমানবন্দরে গিয়ে বিমান দেখতেন। সেখান থেকেই তাঁর মনে বিমান চালানোর আগ্রহ তৈরি হয়। জোলি ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পাইলটের লাইসেন্স অর্জন করেন। পরের বছর তিনি একটি এক ইঞ্জিনের সার্কাস এসআর২২-জি২ বিমান কেনেন। ছেলের প্রতি ভালোবাসার স্মৃতি হিসেবে বিমানের লেজ নম্বরেও ‘এমএক্স’ অক্ষর যুক্ত করেছিলেন, যা ম্যাডক্সের নামের সঙ্গে সম্পর্কিত। বছর কয়েক পর মায়ের সেই আগ্রহ ছেলের মধ্যেও দেখা যায়। ২০১৭ সালে জোলি জানিয়েছিলেন, ম্যাডক্স তখন নিজেও বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এক পর্যায়ে প্রশিক্ষকের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি জানতে পারেন, ম্যাডক্স এককভাবে বিমান চালানোর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সেই খবর শুনে তিনি এতটাই অবাক হয়েছিলেন যে প্রায় ফোন ফেলে দেওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন। এরপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জোলি ‘দ্য টুনাইট শো’ অনুষ্ঠানে জিমি ফ্যালনের সঙ্গে আলাপের সময় জানান, ম্যাডক্স এখন পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষিত এবং বিমান চালাতে পারে। সে সময় ম্যাডক্সের বয়স ছিল ২৩ বছর। জোলির বক্তব্য অনুযায়ী, ছেলে তাঁর বিমান চালানোর পথ অনুসরণ করেছে। ম্যাডক্সের বিমান চালানোর বিষয়ে জোলির সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যগুলোর একটি আসে ২০২৪ সালের আরেক সাক্ষাৎকারে। তিনি জানান, ছেলে বিমান চালালে তিনি সাধারণত উদ্বিগ্ন হন না। তাঁর দর্শন হলো সন্তানদের সবসময় ঝুঁকি এড়িয়ে নিরাপদ জীবন বেছে নেওয়ার চেয়ে নিজের পছন্দের কোনো কাজে আগ্রহী হয়ে সেটি অনুসরণ করার সুযোগ দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জোলির এই দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্য বিমান চালানোর ঝুঁকিকে অস্বীকার করে না। বরং তিনি সন্তানদের নিজেদের আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, সন্তান কোনো কিছু চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও সেই অভিজ্ঞতা মূল্যবান; শুধু ভয় বা অতিরিক্ত নিরাপত্তার কারণে কোনো ভালোবাসার কাজ থেকে দূরে থাকা আরও বড় আফসোসের কারণ হতে পারে। ম্যাডক্স বর্তমানে ২৫ বছর বয়সী। তিনি শুধু বিমান চালনাতেই আগ্রহী নন; মায়ের চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন। ২০১৭ সালের ‘ফার্স্ট দে কিল্ড মাই ফাদার’ চলচ্চিত্রে তিনি নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করেন এবং পরবর্তী সময়ে মায়ের অন্যান্য চলচ্চিত্রের কাজেও যুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পটির মূল বক্তব্য সত্য ম্যাডক্সের বিমানপ্রেমই জোলিকে প্রায় দুই দশক আগে পাইলট হতে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং পরবর্তীতে ম্যাডক্স নিজেও পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তবে ‘মা শুধু ছেলেকে সুপারম্যান মনে করানোর জন্য বিমান চালানো শিখেছিলেন’ এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করলে জোলির মানবিক কাজের জন্য বিমান চালানোর স্বপ্নের গুরুত্বপূর্ণ অংশটি বাদ পড়ে যায়। এই মা-ছেলের গল্প তাই শুধু হলিউডের তারকা পরিবারের কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা নয়; এটি এক প্রজন্মের আগ্রহ কীভাবে পরবর্তী প্রজন্মের স্বপ্নে পরিণত হতে পারে, তারও একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ।
চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের আগে বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে আটক ফ্লোরিডার আর্জেন্টাইন ফুটবলার
মাতাল চালকের গাড়িচাপায় মৃত্যু, ২৪ বছর পরও হাকিমকে স্মরণ করে পুরস্কার দেয় মার্কিন পুলিশ
ক্ষতির আশঙ্কার কথা বলে হাম, মাম্পস ও রুবেলার টিকা আলাদা দেওয়ার পরামর্শ ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা অনেকেই জানেন না, প্রতি বছর তাদের বেতন থেকে কত সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স কাটা হয়েছে, কর্মজীবনে এখন পর্যন্ত কত সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অবসরে গেলে আনুমানিক কত টাকা মাসে পাওয়া যেতে পারে। অথচ সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অনলাইন অ্যাকাউন্টে ঢুকেই এসব তথ্য দেখা যায়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ‘মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি’ অ্যাকাউন্টে যে কেউ নিজের আয়ের রেকর্ড, ভবিষ্যৎ সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিটের হিসাব এবং কত সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ার ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে, সেসব তথ্য দেখতে পারেন। কীভাবে নিজের সোশ্যাল সিকিউরিটি রেকর্ড দেখবেন? প্রথমে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ‘মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি’ অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট থাকলে লগইন করলেই হবে। অ্যাকাউন্টে ঢোকার পর সোশ্যাল সিকিউরিটি স্টেটমেন্টে গেলে কর্মজীবনের বিভিন্ন বছরের আয়ের রেকর্ড দেখা যায়। কোন বছরে আপনার নামে কত সোশ্যাল সিকিউরিটি যোগ্য আয় রিপোর্ট হয়েছে, সেটি যাচাই করা যায়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিটের হিসাবও দেখা যায়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলছে, এই আয়ের রেকর্ড ভবিষ্যৎ বেনিফিট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আয়ের রেকর্ড নয়, মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাকাউন্টে আপনার দেওয়া এবং এমপ্লয়ারদের দেওয়া আনুমানিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ার ট্যাক্সের হিসাবও দেখা যায়। ফলে কর্মজীবনে এখন পর্যন্ত এই খাতে কত ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। ধরা যাক, একজন কর্মীর বছরে ১ লাখ ডলার বেতনে চাকরি করে তাহলে ২০২৬ সালে ওই কর্মীর সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্সের হার ৬ দশমিক ২ শতাংশ। সে হিসাবে কর্মীর অংশে বছরে ৬ হাজার ২০০ ডলার সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স হয়। একই হারে এমপ্লয়ারও আরও ৬ হাজার ২০০ ডলার দেন এবং সেই হিসাবে টোটাল ১২৪০০ জমা হওয়ার কথা। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। এই অর্থ কোনো ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা আলাদা অবসরকালীন সঞ্চয় অ্যাকাউন্টে আপনার নামে জমা থাকে না। কর্মী ও এমপ্লয়ারদের দেওয়া সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স পুরো ব্যবস্থার অর্থায়নে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে আপনার নামে যে আয় ও কাজের রেকর্ড রাখা হয়, সেটিই ভবিষ্যতে আপনি কত সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন, সেই হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাহলে আপনার নামে কত টাকা ‘জমা হয়েছে’ কীভাবে বুঝবেন? সাধারণভাবে অনেকে যেটাকে বলেন, ‘আমার নামে সোশ্যাল সিকিউরিটিতে কত টাকা জমেছে’, সেটি আসলে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের ব্যালান্স নয়। মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাকাউন্টে আপনার কর্মজীবনের আয়ের রেকর্ড এবং সেই রেকর্ডের ভিত্তিতে আনুমানিক কত সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ার ট্যাক্স আপনি এবং আপনার এমপ্লয়ার দিয়েছেন, তা দেখা যায়। অর্থাৎ, একজন কর্মী চাইলে নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকে বছরভিত্তিক আয়ের রেকর্ড যাচাই করতে পারবেন এবং কর্মজীবনে এখন পর্যন্ত সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্সের আনুমানিক হিসাবও দেখতে পারবেন। অবসরে গেলে মাসে কত টাকা পাবেন, সেটিও দেখা যায়।মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাকাউন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর একটি হলো ভবিষ্যৎ রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটের হিসাব। আপনার আয়ের রেকর্ডের ভিত্তিতে বিভিন্ন বয়সে বেনিফিট শুরু করলে আনুমানিক কত টাকা মাসে পেতে পারেন, সেটি সেখানে দেখা যায়। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হিসাব অনুযায়ী, বেনিফিটের পরিমাণ আপনার কর্মজীবনের আয়ের ওপর নির্ভর করে। আপনি কত বছর কাজ করেছেন, কত আয় করেছেন এবং কখন বেনিফিট নেওয়া শুরু করছেন, এসব বিষয় হিসাবের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাকাউন্টে ভবিষ্যৎ আয়ের সম্ভাব্য পরিবর্তন ধরে হিসাবও দেখার সুযোগ রয়েছে। ফলে কেউ চাইলে নিজের অ্যাকাউন্টে গিয়ে দেখতে পারবেন ৬২ বছর বয়সে সোশ্যাল সিকিউরিটি নেওয়া শুরু করলে সম্ভাব্য মাসিক বেনিফিট কত হতে পারে, ফুল রিটায়ারমেন্ট এজে শুরু করলে কত হতে পারে এবং ৭০ বছর বয়সে শুরু করলে সম্ভাব্য পরিমাণ কত হতে পারে। নিজের আয়ের রেকর্ড পরীক্ষা করা কেন গুরুত্বপূর্ণ ? সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কর্মীদের নিজেদের আয়ের রেকর্ড যাচাই করার সুযোগ দেয়। কোনো বছরে আপনার আয় ভুলভাবে রিপোর্ট হলে সেটি ভবিষ্যৎ বেনিফিটের হিসাবেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অবসরের কাছাকাছি গিয়ে প্রথমবার রেকর্ড দেখার পরিবর্তে কর্মজীবন থেকেই নিয়মিত তা যাচাই করা ভালো। মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাকাউন্টে গিয়ে কোন কোন বছরের আয় রেকর্ড হয়েছে, তা দেখা যায়। কোনো তথ্য ভুল মনে হলে সেটি সংশোধনের জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্সের হিসাব? ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্সের জন্য সর্বোচ্চ করযোগ্য আয়ের সীমা ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার। এই সীমা পর্যন্ত আয়ের ওপর কর্মী এবং এমপ্লয়ার উভয়েই ৬ দশমিক ২ শতাংশ হারে সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স দেন। ফলে একজন কর্মীর সর্বোচ্চ বার্ষিক সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স ১১ হাজার ৪৩৯ ডলার এবং এমপ্লয়ারকেও একই পরিমাণ দিতে হয়। এর বেশি আয়ের ওপর সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স প্রযোজ্য নয়। তবে মেডিকেয়ার ট্যাক্সের ক্ষেত্রে এমন কোনো সর্বোচ্চ আয়ের সীমা নেই। সোশ্যাল সিকিউরিটি বেনিফিট পাওয়ার যোগ্যতার জন্য কাজের ক্রেডিটও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে প্রতি ১ হাজার ৮৯০ ডলার আয়ের জন্য একজন কর্মী একটি ক্রেডিট অর্জন করতে পারেন, তবে বছরে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট পাওয়া যায়। কতগুলো ক্রেডিট প্রয়োজন হবে, তা কোন ধরনের বেনিফিটের জন্য আবেদন করা হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে যারা চাকরি করছেন এবং নিয়মিত সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স দিচ্ছেন, তাদের জন্য নিজের ‘মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি’ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে রেকর্ড দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে আপনার নামে কোন কোন বছরের আয় রেকর্ড হয়েছে, সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্সের আনুমানিক হিসাব কত এবং ভবিষ্যতে অবসরে গেলে মাসে কত বেনিফিট পাওয়া যেতে পারে, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই তথ্য দেখতে কোনো তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের নিজস্ব অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকেই বিনামূল্যে নিজের আয়ের রেকর্ড, ট্যাক্সের হিসাব এবং ভবিষ্যৎ বেনিফিটের সম্ভাব্য পরিমাণ দেখা যায়।
কোয়ান্টাম ফিজিক্সে ইতিহাস গড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নোবেলের আলোচনায় বাংলাদেশি অধ্যাপক জাহিদ হাসান
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি টাকা সবার ব্যাংকে একই দিনে আসে না
ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী টড ব্লঁশ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে শপথ নিলেন আজ
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের দপ্তর থেকে ছয়টি আইনি সংগঠনকে ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি সরকারি অনুদান দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রিপাবলিকান প্রার্থী সারিথা কোমাতিরেড্ডির এক বিশ্লেষণে অভিযোগ করা হয়েছে, এসব সংগঠনের কয়েকটি পুলিশের ভূমিকা কমানো এবং অপরাধীদের প্রতি তুলনামূলকভাবে নমনীয় নীতির পক্ষে কাজ করে। তবে জেমসের প্রচারশিবির এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। কোমাতিরেড্ডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমস ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর দপ্তর থেকে মোট ২২ কোটি ৬০ লাখ ডলার অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ এমন সংগঠনের কাছে গেছে, যেগুলোকে প্রতিবেদনে পুলিশবিরোধী বা অপরাধীদের প্রতি নমনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অর্থের বড় অংশ এসেছে বাড়ির মালিকদের সুরক্ষায় পরিচালিত একটি কর্মসূচির মাধ্যমে। বিতর্কিত অনুদানের মধ্যে ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ১১৬ ডলার পেয়েছে মোবিলাইজেশন ফর জাস্টিস। সংগঠনটি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আইনি সেবা দেয় এবং ২০২০ সালে পুলিশ বিভাগের অর্থায়ন কমানোর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমসের দপ্তর থেকে সংগঠনটির অনুদান তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। লিগ্যাল এইড সোসাইটি পেয়েছে ৬৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৬ ডলার। প্রতিবেদনে সংগঠনটির জামিন, কারাগার ও বিচার-পূর্ব আটকসংক্রান্ত অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ পেয়েছে ৬৯ লাখ ৭১ হাজার ৩৮৭ ডলার। সংগঠনটি গৃহহীন মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ সীমিত করার পক্ষে কাজ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া এম্পায়ার জাস্টিস সেন্টারকে দেওয়া হয়েছে ৮১ লাখ ৯২ হাজার ৬১৩ ডলার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনটি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পুলিশের গাড়ি থামানোর ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে প্রচার চালিয়েছে। লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি ও এর বিভিন্ন শাখা পেয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৫ হাজার ৬১৯ ডলার। এসব সংগঠন নিউইয়র্ক শহরের সরকারি স্কুলগুলো থেকে পুলিশ সরানোর পক্ষে কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক ল সেন্টার পেয়েছে ৮২ লাখ ৩৮ হাজার ২১৩ ডলার। সংগঠনটি বাফেলো পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর অনুরোধ করার পর ওই উপস্থিতি বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সংগঠনটি আইনি পদক্ষেপ নেয়। কোমাতিরেড্ডি আরও অভিযোগ করেছেন, বাড়ির মালিকদের জন্য নির্ধারিত অর্থের একটি অংশ পুলিশবিরোধী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে চলে গেছে। তাঁর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কর্মসূচির আওতায় অর্থ পাওয়া প্রায় সব ‘অপরাধের বিষয়ে নমনীয়’ সংগঠন বাড়ির সুরক্ষা বা ভাড়াটিয়াদের সহায়তার তুলনায় অপরাধসংক্রান্ত আইনি সহায়তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত কার্যক্রমে বেশি অর্থ ব্যয় করে। তবে জেমসের প্রচারশিবির এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, বাড়ির মালিকদের সুরক্ষা কর্মসূচি নিউইয়র্কের হাজারো বাসিন্দাকে বাড়ি হারানো থেকে রক্ষা করতে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা ও আবাসনসংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে আসছে। দলটির দাবি, কোমাতিরেড্ডি বাছাই করা তথ্য ব্যবহার করে কর্মসূচিটিকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করছেন। জেমসের প্রচারশিবির আরও বলেছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দলিল জালিয়াতি, বাড়ি দখলের প্রতারণা এবং শোষণমূলক ঋণদাতাদের হাত থেকে পরিবারগুলোর বাড়ি রক্ষায় সহায়তা করা হয়। তাদের মতে, অনুদান পাওয়া সংগঠনগুলো আবাসনসংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেওয়ার কাজেই যুক্ত রয়েছে। কোমাতিরেড্ডি বর্তমানে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে জেমসকে চ্যালেঞ্জ করছেন। জেমস তৃতীয় মেয়াদে অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ তাঁর নির্বাচনী লড়াইয়েও রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, বাতিল ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা
২০৪ কোটি ডলারের লটারি জিতে ট্যাক্সের পর হাতে ৬২ কোটি ৮০ লাখ