যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে একটি পার্কের লেকের পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিহত ৭৫ বছর বয়সী কোশের বেকারির সাবেক মালিক ও ধর্মীয় নেতা আলবার্ট ইটজকোভিটজকে ঘিরে রহস্য আরও গভীর হচ্ছে। ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ অবস্থায় নিহতের পরিবার মনে করছে, তিনি ইহুদি পরিচয়ের কারণেই হামলার শিকার হয়ে থাকতে পারেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৮ মে বিকেল ৫টার কিছু আগে কুইন্সের কিসেনা লেকের তীরে আলবার্ট ইটজকোভিটজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ঘাড় ও পিঠে গুলির চিহ্ন ছিল। পরে নিউইয়র্ক সিটির মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করে।
ঘটনার পাঁচ সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার একই পার্কে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। সেখানে আবেগঘন বক্তব্যে আলবার্টের মেয়ে লিয়া লিভশিটজ বলেন, তার বাবা প্রকাশ্যেই একজন ধর্মপ্রাণ ইহুদি ছিলেন এবং নিয়মিত ওই পার্কে দুপুরের বিরতিতে সময় কাটাতে যেতেন।
তার ভাষায়, “আমার বাবা কারও সঙ্গে কোনো বিরোধে জড়িত ছিলেন না। তিনি কোনো অপরাধও করছিলেন না। তার মানিব্যাগও অক্ষত অবস্থায় ছিল। তিনি শুধু একজন অর্থোডক্স ইহুদি হিসেবে নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “পাঁচ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো গ্রেপ্তার নেই, কোনো সন্দেহভাজন নেই, এমনকি ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি। এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়।”
তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) এখনো ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেনি। পুলিশের ভাষ্য, সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে আলবার্ট ইটজকোভিটজকে সৈকত চেয়ার, সানগ্লাস, একটি বেসবল ক্যাপ এবং ক্রসওয়ার্ড ধাঁধার বইসহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সেখানে রোদ পোহাতে গিয়েছিলেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি বাড়ি থেকে একটি সিনাগগে যান। পরে একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেন এবং একটি ওষুধের দোকান থেকে কেনাকাটা করেন। এরপর পার্কে যান।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যদাতাদের খুঁজতে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করছে। এমনকি লেকে সম্ভাব্য আলামত উদ্ধারে ডুবুরি দলও অভিযান চালিয়েছে।
নিহতের ছোট ছেলে জভি ইয়োনি ইটজকোভিটজ জানান, কোনো তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে তথ্যদাতাকে দেওয়া পুরস্কারের অর্থ বাড়ানো হয়েছে। ক্রাইম স্টপার্সের ঘোষিত ১০ হাজার ডলারের সঙ্গে পরিবার আরও ১০ হাজার ডলার যোগ করেছে। ফলে মোট পুরস্কারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার মার্কিন ডলার।
তিনি বলেন, “পুলিশ আমাদের জিজ্ঞেস করেছিল, বাবার কোনো শত্রু ছিল কি না। প্রশ্নটি শুনে আমরা কান্নার মধ্যেও হাসতে বাধ্য হয়েছিলাম। কারণ তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, সদয় ও সবার প্রিয় একজন মানুষ। তার শত্রু থাকতে পারে, এমনটা আমাদের কাছে অকল্পনীয়।”
কিউ গার্ডেন্স হিলস এলাকার বাসিন্দা আলবার্ট ইটজকোভিটজ একসময় মেইন স্ট্রিটের পরিচিত জি অ্যান্ড আই কোশের বেকারি পরিচালনা করতেন। এছাড়া তিনি একটি নার্সিং হোমে রাব্বি হিসেবে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতেন এবং স্বেচ্ছাসেবী জরুরি চিকিৎসাসেবাকর্মী হিসেবেও কাজ করেছেন।
পরিবার জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী মারা যান। ব্যক্তিগত সেই শোকের মধ্যেই তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করছিলেন।
এদিকে কুইন্সের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঘটনাস্থলটি ব্যস্ত পার্ক হওয়ায় সেখানে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ গুরুত্বপূর্ণ কিছু দেখে থাকবেন।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জন লিউ বলেন, “এখনো একজন হত্যাকারী মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। কেউ যদি কোনো তথ্য জেনে থাকেন, তাহলে অবশ্যই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।”
এনওয়াইপিডির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে নিউইয়র্কে ইহুদিবিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধের ৪১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত এ ধরনের ১৫২টি ঘটনার অভিযোগ রেকর্ড করা হয়েছে।
তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সব ধরনের তথ্য ও সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি হাসপাতালের দুই স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন হাসপাতালটির তিন সাবেক কর্মকর্তা। তাদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীরা অজ্ঞান অবস্থায় অপারেশন টেবিলে পড়ে থাকলেও চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সময়ের জন্য কক্ষ ছেড়ে চলে যেতেন। এমনকি এসব সময়ের জন্যও রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। স্থানীয় টেলিভিশন ডব্লিউআইএফআর (WIFR)–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইলিনয়ের রকফোর্ড শহরের ওএসএফ সেন্ট অ্যান্থনি মেডিকেল সেন্টার–এর তিন সাবেক কর্মকর্তা সম্প্রতি হাসপাতালটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তারা হলেন সাবেক অপারেশন কক্ষ ব্যবস্থাপক সিন্ডামন প্রফিট, সাবেক অপারেশন কক্ষ ব্যবস্থাপক সোফিয়া গুডিনো এবং সাবেক সার্জিক্যাল সার্ভিসেস পরিচালক টিনা পেপার্স। ইলিনয় হুইসেলব্লোয়ার আইনের আওতায় দায়ের করা ১৮ পৃষ্ঠার মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর নিরাপত্তার চেয়ে আর্থিক লাভ ও দ্রুত কাজ শেষ করাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ জানানো হলেও হাসপাতাল প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হাসপাতালের স্নায়ুরোগ বিভাগে বারবার গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। সাবেক কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি এক চিকিৎসক অজ্ঞান অবস্থায় থাকা একজন রোগীকে প্রায় এক ঘণ্টা অপারেশন টেবিলে রেখে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। আবার একই বছরের ১৭ এপ্রিল আরেক চিকিৎসক একটি বৈঠকে যোগ দিতে অপারেশন কক্ষ ছেড়ে যান এবং ৩৭ মিনিট পর ফিরে আসেন। পুরো সময় রোগী অচেতন অবস্থায় ছিলেন। সাবেক অপারেশন কক্ষ ব্যবস্থাপক সিন্ডামন প্রফিট বলেন, অজ্ঞান অবস্থায় রোগী নিজের নিরাপত্তার জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। অপ্রয়োজনীয়ভাবে অ্যানেস্থেশিয়ার সময় যত বাড়ে, অস্ত্রোপচারের পর জটিলতার ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, চিকিৎসক অপারেশন কক্ষে উপস্থিত না থাকলেও সেই সময়ের জন্য রোগীদের বিল করা হয়েছে। অনেক রোগী হয়তো জানতেনই না যে ওই সময় চিকিৎসক সেখানে ছিলেন না। শুধু এটিই নয়, ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর একটি অস্ত্রোপচার শুরুর আগে এক চিকিৎসককে অস্ত্রোপচারের যন্ত্রের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় অস্ত্রোপচার না করার জন্য হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তাকে সতর্ক করা হলেও শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার চালিয়ে যাওয়া হয়। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের সময় প্রয়োজনীয় গণনা সম্পন্ন না করা, জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়া, অনুমোদনহীন চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নার্সদের ভয়ভীতি দেখানো এবং চিকিৎসকদের আক্রমণাত্মক আচরণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। তিন সাবেক কর্মকর্তা জানান, তারা এসব অভিযোগ হাসপাতালের নির্ধারিত অভিযোগ ব্যবস্থা, লিখিত প্রতিবেদন, ই-মেইল এবং মৌখিকভাবে বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো অভিযোগেরই যথাযথ তদন্ত হয়নি। বরং তাদের অভিযোগ দায়ের বন্ধ করতে চাপ দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে হয়রানি করা হয়। টিনা পেপার্স জানান, এক পর্যায়ে তিনি হাসপাতালের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, "আমরা আর একজন সার্জনকে হারানোর সামর্থ্য রাখি না।" সাবেক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন অবস্থান তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের অসহায় মনে হতে থাকে। সোফিয়া গুডিনো বলেন, তারা সবসময় বিশ্বাস করতেন রোগীদের নিজের পরিবারের সদস্যের মতোই সেবা দিতে হবে। কিন্তু অভিযোগের পরও যখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলো না, তখন সেই বিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে যায়। ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে তিনজনই হাসপাতালের চাকরি ছেড়ে দেন। তাদের মধ্যে দুজন এখনো চিকিৎসা খাতে কাজ করলেও সিন্ডামন প্রফিট জানান, নতুন চাকরি খুঁজতে গিয়ে তিনি ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়েছেন। দুটি স্নাতক ডিগ্রি ও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও তিনি ৩৪টির বেশি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও এখনো কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাননি। তাদের আইনজীবী আন্তোনিও জেফ্রি বলেন, এই মামলার মূল উদ্দেশ্য শুধু ক্ষতিপূরণ আদায় নয়, ভবিষ্যতে রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তার দাবি, তার মক্কেলরা কয়েক মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী। এদিকে ওএসএফ সেন্ট অ্যান্থনি মেডিকেল সেন্টারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আদালতে অভিযোগগুলো প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল বা অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বিচারাধীন বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক ধরপাকড় ও নির্বাসন অভিযানের কারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ছোট ছোট শিশু। গত বুধবার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনটি পরিবারের আটজন শিশু গুয়াতেমালার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন শিশু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং তাদের বেশিরভাগেরই এটি জীবনের প্রথম বিমানযাত্রা। ফ্লোরিডাভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘দ্য গুয়াতেমালান-মায়া সেন্টার’ এই শিশুদের লাতিন আমেরিকায় তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে এবং ভ্রমণ নথিপত্র তৈরিতে সহায়তা করছে। এই পরিস্থিতিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন সংস্থাটির অন্যতম সংগঠক লিন্ডসে ম্যাকএলরয়। তিনি জানান, যে দেশকে এই শিশুরা নিজেদের বলে জেনেছে, ভালোবাসে এবং যেখানে তারা বেড়ে উঠেছে, সেখান থেকে তাদের একপ্রকার নির্বাসিত হতে হচ্ছে। পরিচিত বন্ধুবান্ধব, পরিবার এবং শিক্ষাজীবন পেছনে ফেলে সম্পূর্ণ অচেনা এক গন্তব্যে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছে এই শিশুরা। কয়েক মাস আগে ৭ বছর বয়সী ক্রিস্টিনার বাবা এবং বড় ভাইকে আটক করে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। এবার ক্রিস্টিনাও তার মা মাগদালেনা, ভাই-বোন ও এক বছর বয়সী এক ভাগনের সঙ্গে গুয়াতেমালায় ফিরে যাচ্ছে। তবে ক্রিস্টিনার ১৯ বছর বয়সী বড় বোন, যে ওই এক বছর বয়সী শিশুটির মা, সে পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গেছে, প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় ক্রিস্টিনাদের পরিবার বিচ্ছিন্ন হলেও পরবর্তীতে ২০২২ সালে তারা আবার একত্র হয় এবং তিন বছরের জন্য কাজের অনুমতি পায়। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তাদের সেই অনুমতির মেয়াদ আর বাড়ায়নি। স্বামীর নির্বাসনের পর বাসা ভাড়া ও সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন মাগদালেনা। তাই বাধ্য হয়েই সন্তানদের নিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বিমানবন্দরে পরিবারগুলোর এই বিদায়বেলা ছিল অত্যন্ত বেদনদায়ক। তিন বছর বয়সী ইথান এবং ছয় বছর বয়সী আবেলকে বিদায় জানাতে এসেছিলেন তাদের বাবা। এই শিশুদের মা মাত্র দুই মাস আগে নির্বাসিত হয়েছেন। তবে তাদের বাবা পরিবারের জন্য অর্থ পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সন্তানদের বিদায় দেওয়ার সময় তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন। মিয়ামি বিমানবন্দরে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য এখন প্রতিনিয়তই দেখা যাচ্ছে। অভিবাসী অধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, নতুন এই অভিবাসন নীতির কারণে অসংখ্য শিশুর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে গিয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার কর্মসূচিতে শত শত মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগে এক নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (DOJ)। অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন ছিল না এমন ক্ষত চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত অ্যালোগ্রাফট (Allograft) প্রয়োগ করে তিনি মেডিকেয়ারের কাছে বিপুল অঙ্কের ভুয়া বিল জমা দেন এবং সেই অর্থে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে দায়ের করা মামলায় ওই নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে ৯০৬ মিলিয়ন ডলারের জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিটি রোগীর নামে গড়ে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি বিল মেডিকেয়ারের কাছে জমা দেওয়া হয়, যদিও এসব অ্যালোগ্রাফট চিকিৎসার কোনো চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছিল না। তদন্তে আরও জানা গেছে, জালিয়াতির অর্থ দিয়ে অভিযুক্ত ফিলিপাইনে ৪.৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট নির্মাণ করেন। এছাড়া তিনি বিলাসবহুল গাড়ি, মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি এবং দামি গয়না কেনেন। তদন্তের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ ৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এছাড়া ৫৯৪ হাজার ডলার মূল্যের একটি Ferrari 296 GTS, আরও সাতটি বিলাসবহুল গাড়ি, ৮৬৫ হাজার ডলার মূল্যের একটি কাস্টম Bulgari হীরার নেকলেস এবং প্রায় ১০ লাখ ডলার মূল্যের অন্যান্য বিলাসবহুল গহনাও জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ১১৮ মিলিয়ন ডলারের পৃথক একটি অ্যালোগ্রাফট জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে। সেখানে এক নার্স প্র্যাকটিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রতারণার অর্থ দিয়ে একটি এনএফএল স্টেডিয়ামের বিলাসবহুল স্যুট ভাড়া নেন এবং ৪ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের শিল্পকর্ম সংগ্রহ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি দমন ইউনিটের ডেটা অ্যানালিটিক্স টিম অ্যালোগ্রাফটের জন্য মেডিকেয়ার থেকে অস্বাভাবিক হারে অর্থ পরিশোধের প্রবণতা শনাক্ত করার পর এই তদন্ত শুরু হয়। এদিকে, Centers for Medicare & Medicaid Services (CMS) ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অ্যালোগ্রাফটের জন্য মেডিকেয়ারের পরিশোধের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে ১২৭ ডলার নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটির মতে, এই পদক্ষেপ না নিলে শুধু অ্যালোগ্রাফট খাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীর মাসিক পার্ট-বি প্রিমিয়াম গড়ে ১১ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারত। বিচার বিভাগ বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির পরিকল্পনাকারীদের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব ও শপথ ভঙ্গ করে যারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত হন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।