পাখিরা নিজেদের মধ্যে কী কথা বলে? রহস্য উন্মোচনে কোটি টাকার পুরস্কার জিতলেন মার্কিন বিজ্ঞানী
পাখিরা নিজেদের মধ্যে কীভাবে যোগাযোগ করে এবং তাদের ডাকের আড়ালে কী অর্থ লুকিয়ে থাকে, তা প্রথমবারের মতো উন্মোচন করেছেন এক মার্কিন বিজ্ঞানী। পাখির এই ভাষা বা ‘বার্ডসং’ ডিকোড করার অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা) পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষক ড. জুলি এলি এ বছর ‘কলার-ডলিটল প্রাইজ ২০২৬’ লাভ করেছেন।
মানুষের সাথে পশুপাখির দ্বিমুখী যোগাযোগ স্থাপন করার বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ড. জুলি মূলত ‘জেব্রা ফিঞ্চ’ (Zebra Finch) নামক ছোট গায়ক পাখির ওপর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। তিনি এই পাখির ডাকের ১১টি মূল ধরন এবং সেগুলোর সুনির্দিষ্ট অর্থ সফলভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
তার গবেষণায় দেখা গেছে, জেব্রা ফিঞ্চরা তাদের নির্দিষ্ট কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় দেয়, তারা সে মুহূর্তে কী করছে তা অন্য পাখিদের জানায় এবং একে অপরকে চিনে রাখে। এই কাজের জন্য ড. জুলি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পাখিদের বিভিন্ন ডাক রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্যে সেই আওয়াজগুলো বিশ্লেষণ করে তিনি এই ভাষা বুঝতে পারেন।
গবেষণার সত্যতা যাচাই করতে ড. জুলি পাখিদের নিয়ে একটি বিশেষ পরীক্ষাও চালান। সেখানে পাখিদের সামনে একটি বোতাম রাখা হয়, যা চাপলে বিভিন্ন আওয়াজ তৈরি হতো। কিছু নির্দিষ্ট আওয়াজের পর পাখিদের পুরস্কার হিসেবে খাবার দেওয়া হতো। পরীক্ষা চলার একপর্যায়ে পাখিরা বুঝতে পারে কোন আওয়াজের পর খাবার পাওয়া যাবে না, এবং তারা স্মার্টফোনে ভিডিও স্ক্রোল করার মতো করে সেই আওয়াজগুলো বোতাম চেপে এড়িয়ে যেতে শুরু করে।
জেরেমি কলার ফাউন্ডেশন এবং তেল আবিব ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের কোড উদ্ধার করার জন্য এই ফাউন্ডেশন ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি মহাপুরস্কারও ঘোষণা করে রেখেছে। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশ ধনকুবের জেরেমি কলার আশা প্রকাশ করেছেন যে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে ২০৩০ সালের মধ্যেই মানুষ পশুপাখির সাথে সরাসরি কথা বলতে সক্ষম হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরের বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলে ২০১৭ সালে আয়োজিত একটি ছোট উদ্যোগ আজও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ‘ব্রেকফাস্ট উইথ ড্যাডস’ নামে বিশেষ এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের জীবনে বাবা বা পুরুষ অভিভাবকের ইতিবাচক উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানত, অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে আসার মতো বাবা, দাদা বা অন্য কোনো পুরুষ অভিভাবক নেই। সে কারণেই স্থানীয় কমিউনিটির কাছে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের ধারণা ছিল, অন্তত ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে এলে যেসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে কেউ থাকবে না, তাদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছিল, তা ছিল প্রত্যাশার অনেক বাইরে। স্কুলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত হন। এত মানুষের অংশগ্রহণে নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে পুরো আয়োজন স্কুলের জিমনেসিয়ামে নিতে হয়। সকালের নাশতার টেবিলে স্বেচ্ছাসেবকেরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং উৎসাহ দেন। কেউ কেউ ছেলেদের নেকটাই বাঁধার কৌশলও শেখান। কয়েক ঘণ্টার এই আয়োজনে প্রতিটি শিক্ষার্থী অনুভব করার সুযোগ পায় যে, তারা একা নয়; তাদের পাশে রয়েছে পুরো কমিউনিটি। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই উদ্যোগ তারই একটি উদাহরণ হয়ে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও কিশোরদের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পরিবারের পাশাপাশি সমাজের দায়িত্বশীল মানুষের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিলি আর্ল ডেড মিডল স্কুলের এই আয়োজন পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। অনেকেই এটিকে এমন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন, যেখানে অর্থ বা বিশেষ কোনো সামর্থ্যের চেয়ে সময় দেওয়া এবং পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাই সবচেয়ে বড় অবদান হয়ে উঠেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা ছিল মাত্র ৫০ জন মানুষ সাড়া দেবেন। কিন্তু প্রায় ৬০০ জনের উপস্থিতি প্রমাণ করে, একটি ছোট উদ্যোগও কখনো কখনো পুরো কমিউনিটিকে একত্র করতে পারে। এই ঘটনাটি এখনও অনেকের কাছে মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং শিশুদের প্রতি ভালোবাসার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
দুই সন্তানকে কাছে পেতেই পদ ছাড়ছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন টাস্কফোর্স, ৬০০টির বেশি ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র
মিশিগান প্রাইমারিতে জয়ের পর সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়িদের বিরুদ্ধে ২০ গুণ বেড়েছে মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরি খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের জন্য চাকরি খোঁজা ও আবেদন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্ল্যাটফর্ম হলো USAJOBS। তবে বেসরকারি চাকরির মতো শুধু রিজিউমে পাঠালেই ফেডারেল চাকরির আবেদন শেষ হয় না। আবেদন করার আগে নাগরিকত্বের শর্ত, কে আবেদন করতে পারবেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কাজের স্থান, রিমোট নাকি অফিসভিত্তিক কাজ এবং কী কী কাগজপত্র লাগবে, সেসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করতে হয়। বিশেষ করে নাগরিক ও গ্রীনকার্ডধারীদের জন্য ফেডারেল চাকরির নিয়ম এক নয়। আবার পুরোপুরি রিমোট চাকরি এবং টেলিওয়ার্কও একই বিষয় নয়। তাই কোনো চাকরি দেখে সরাসরি আবেদন না করে প্রথমে পুরো চাকরির বিজ্ঞপ্তি পড়া জরুরি। কোথা থেকে ফেডারেল চাকরি খুঁজবেন: ফেডারেল সরকারের চাকরির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিভিন্ন সরকারি এজেন্সির চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে পদের নাম, পেশা, লোকেশন, বেতন, কাজের সময়সূচি এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী চাকরি খোঁজা যায়। প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এর জন্য সরকারের লগইন ডট গভ (login.gov) ব্যবস্থার মাধ্যমে একাউন্ট ওপেন করে নিজের প্রোফাইল তৈরি করতে হয়। প্রোফাইল তৈরি করার পর চাকরি সংরক্ষণ, রিজিউমে রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন চাকরির খবর পাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু সাধারণভাবে ফেডারেল চাকরি লিখে সার্চ না করে নিজের পেশা ও দক্ষতার সঙ্গে মিল রেখে নির্দিষ্ট পদের নাম ব্যবহার করা বেশি কার্যকর। যেমন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স, অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্স, ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবারসিকিউরিটি, প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট, মানবসম্পদ, কন্ট্রাক্ট স্পেশালিস্ট বা প্রশাসনিক পদ। ফেডারেল চাকরির নির্দিষ্ট পেশাগত সিরিজ ব্যবহার করেও চাকরি খোঁজা যায়। পাশাপাশি লোকেশন অনুযায়ী সার্চ করা সম্ভব। আটলান্টা, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন ডিসি, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন জায়গার চাকরি আলাদা করে খুঁজে দেখা যায়। রিমোট ফেডারেল চাকরি কীভাবে খুঁজবেন: যারা বাসা থেকে কাজ করতে চান, তাদের জন্য ফেডারেল সরকারের কিছু চাকরি পুরোপুরি রিমোট হিসেবে দেওয়া হয়। চাকরি খোঁজার সময় রিমোট কাজের ফিল্টার ব্যবহার করে এসব পদ আলাদা করা যায়। তবে রিমোট চাকরি এবং টেলিওয়ার্ক এক বিষয় নয়। রিমোট চাকরিতে সাধারণত নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন থাকে না। অন্যদিকে টেলিওয়ার্কের ক্ষেত্রে কর্মীকে নির্দিষ্ট সময় বা পরিস্থিতিতে অফিসে যেতে হতে পারে। তাই কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে টেলিওয়ার্কের সুযোগ রয়েছে লেখা থাকলেই সেটিকে পুরোপুরি রিমোট চাকরি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবার রিমোট লেখা থাকলেও আমেরিকার যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করা যাবে কি না, সেটি বিজ্ঞপ্তির লোকেশন ও অন্যান্য শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে। কিছু রিমোট চাকরিতে নির্দিষ্ট স্টেটের জন্য বা টাইম জোনের শর্ত থাকতে পারে। সিটিজেনরা কোন ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ফেডারেল চাকরির সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে নাগরিক হলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে “This job is open to” অংশটি প্রথমে দেখতে হবে। সেখানে বলা থাকে চাকরিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত কি না, নাকি শুধু বর্তমান ফেডারেল কর্মী, ভেটেরান, মিলিটারি স্পাউস, শিক্ষার্থী, সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েট বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য খোলা। যদি সেখানে “Open to the public” লেখা থাকে, তাহলে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা আবেদন করতে পারেন। তবে এরপরও ওই পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। যোগ্যতা এবং আবেদন করার অধিকার এক বিষয় নয়: ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে একজন চাকরিপ্রার্থীর যোগ্যতা এবং তিনি ওই চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন কি না, দুটি আলাদা বিষয়। আপনার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা থাকলেও আপনি যদি ওই চাকরির জন্য নির্ধারিত আবেদনকারীর শ্রেণির মধ্যে না পড়েন, তাহলে নিয়োগকারী এজেন্সি আপনার আবেদন পর্যালোচনা নাও করতে পারে। তাই প্রথমে দেখতে হবে কারা আবেদন করতে পারবেন সেই তালিকায় আছেন কি না। এরপর দেখতে হবে আপনার শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং নির্দিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা চাকরিটির প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে মেলে কি না। গ্রিন কার্ডধারী বা নন-সিটিজেনরা কি আবেদন করতে পারবেন: বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের চাকরিতে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হয়। তবে এর কিছু সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে। কিছু পরিস্থিতিতে কোনো ফেডারেল এজেন্সি নন-সিটিজেনকে নির্দিষ্ট ধরনের সরকারি পদে নিয়োগ দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, অর্থ বরাদ্দের বিধান এবং এজেন্সির নিজস্ব নীতিমালা প্রযোজ্য হয়। কিছু পরিস্থিতিতে যোগ্য মার্কিন নাগরিক না পাওয়া গেলে বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে নন-সিটিজেন নিয়োগের সুযোগও থাকতে পারে। অর্থাৎ গ্রিন কার্ড আছে বলেই সব ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন নয়। আবার নন-সিটিজেনদের জন্য কোনো ফেডারেল চাকরির সুযোগই নেই, সেটিও সঠিক নয়। কোনো নির্দিষ্ট চাকরিতে নন-সিটিজেন আবেদন করতে পারবেন কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তির “This job is open to” এবং যোগ্যতার অংশ দেখতে হবে। সন্দেহ থাকলে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সংশ্লিষ্ট এজেন্সির যোগাযোগের ইমেল এ মেইল দিতে পারেন। রিজিউমে তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: ফেডারেল চাকরির জন্য রিজিউমে তৈরির ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরির জন্য রিজিউমে দুই পৃষ্ঠার বেশি হওয়া যাবে না। ওয়েবসাইটের রিজিউমে তৈরির ব্যবস্থাতেও দুই পৃষ্ঠার বেশি রিজিউমে সংরক্ষণ করা যায় না। তবে শুধু দুই পৃষ্ঠার রিজিউমে বানালেই হবে না। যে চাকরিতে আবেদন করছেন, সেই চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সঙ্গে মিল রেখে রিজিউমে তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন কোনো পদে নির্দিষ্ট সফটওয়্যার, প্রোগ্রামিং ভাষা, ডেটাবেস, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বা অন্য কোনো বিশেষ দক্ষতা চাওয়া হলে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে সেগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি চাকরির জন্য একই রিজিউমে ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা সামনে আনা বেশি কার্যকর। ফেডারেল নিয়োগকারী এজেন্সি রিজিউমের তথ্যের ভিত্তিতেই প্রার্থীর যোগ্যতা মূল্যায়ন করে। চাকরির বিজ্ঞপ্তি পুরোটা পড়ুন: ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার আগে শুধু পদের নাম ও বেতন দেখলেই হবে না। পুরো চাকরির বিজ্ঞপ্তি পড়তে হবে। প্রথমে দেখতে হবে চাকরিটি কার জন্য উন্মুক্ত। এরপর দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত দেখতে হবে। এরপর কাজের স্থান এবং কাজের ধরন দেখতে হবে। চাকরিটি অফিসে গিয়ে করতে হবে, নাকি রিমোট, নাকি টেলিওয়ার্কের সুযোগ রয়েছে, সেটি বিজ্ঞপ্তিতেই পরিষ্কার করা থাকে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকাও দেখতে হবে। কোনো চাকরিতে রিজিউমের পাশাপাশি শিক্ষাগত সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্য কোনো নথি প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অনেকেই তথ্যপ্রযুক্তি, হেলথ কেয়ার, ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবারসিকিউরিটি, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। তাদের জন্য ফেডারেল চাকরি খোঁজার সময় নিজের বর্তমান পেশা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল রেখে নির্দিষ্ট পদের নাম ব্যবহার করা কার্যকর হতে পারে। তবে শুধু নিজের পেশার সঙ্গে মিলে গেলেই আবেদন করা উচিত নয়। প্রথমে নাগরিকত্বের শর্ত ও কারা আবেদন করতে পারবেন তা দেখতে হবে। এরপর অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। তারপর কাজের স্থান, রিমোট বা অফিসভিত্তিক কাজ, বেতন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে হবে। আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, কোনো ব্যক্তি ফেডারেল সরকারের কোনো এজেন্সির জন্য প্রাইভেট কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করলেও তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেডারেল সরকারের সরাসরি কর্মী হয়ে যান না। কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করা এবং সরাসরি ফেডারেল কর্মী হওয়া আলাদা বিষয়। ফেডারেল চাকরির ধরনও এক নয়। সরকারের চাকরি মূলত প্রতিযোগিতামূলক সার্ভিস, ব্যতিক্রমী সার্ভিস এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিসসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার অধীনে হতে পারে। প্রতিটি ব্যবস্থায় নিয়োগের নিয়ম আলাদা হতে পারে। সবশেষে, ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক চাকরি খুঁজে বের করা এবং বিজ্ঞপ্তির প্রতিটি শর্ত মেনে আবেদন সম্পূর্ণ করা। নাগরিকদের জন্য সুযোগ তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত হলেও সব চাকরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। নন-সিটিজেনদের ক্ষেত্রে সুযোগ আরও সীমিত এবং চাকরিভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে। আর যারা বাসা থেকে কাজ করতে চান, তাদের জন্য রিমোট চাকরি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে রিমোট এবং টেলিওয়ার্কের পার্থক্য বুঝে আবেদন করা জরুরি। তাই ফেডারেল চাকরি খোঁজার সময় প্রথমে নিজের পেশা অনুযায়ী চাকরি খুঁজুন। এরপর কারা আবেদন করতে পারবেন তা যাচাই করুন। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পড়ুন। কাজের স্থান ও কাজের ধরন দেখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী রিজিউমে তৈরি করুন এবং “How to Apply” অংশের নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন সম্পূর্ণ করুন। সঠিক চাকরি বেছে নিয়ে বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত মেনে আবেদন করাই ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে সফলভাবে আবেদন করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ভুয়া পরিচয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা
কানসাসে একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু, স্ত্রী ও চার শিশুসন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা
নিউ জার্সিতে বাসা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে বাবা-মা বা অভিভাবক ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে আসা অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য ১৫ কোটি ডলারের একটি ফেডারেল চুক্তির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আইন প্রতিষ্ঠান। ফলে হাজারো অভিবাসী শিশুর ভবিষ্যৎ আইনি প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনভিত্তিক বার্ক ল' গ্রুপকে এই চুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিষ্ঠানটির অভিবাসন আইন নিয়ে অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত হলেও গত সপ্তাহে তাদের কাছে প্রায় ১৫ কোটি ডলারের চুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীন শরণার্থী পুনর্বাসন দপ্তর (অফিস অব রিফিউজি রিসেটেলমেন্ট) জানায়, বার্ক ল' গ্রুপ চুক্তির জন্য আবেদন করতেই রাজি হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে কোনো অনুদান বা চুক্তিও দেওয়া হয়নি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে বার্ক ল' গ্রুপ সামাজিক মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত এক বিবৃতিতে জানায়, তারা চুক্তির একটি "ছোট অংশ" নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কেন তারা সরে দাঁড়িয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। বার্ক ল' গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মার্সেলা বার্ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম প্রশাসনে পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের আরও কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও রক্ষণশীল আইন বিশেষজ্ঞ যুক্ত রয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান জোরদার করছে। একই সঙ্গে জুলাইয়ের শেষ দিকে অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়া প্রায় ১০০টি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নতুন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় শিশুদের আইনি সহায়তা ব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বর্তমানে একটি অস্থায়ী সংস্থা সীমিত সময়ের জন্য এসব শিশুর পক্ষে আদালতে আইনি প্রতিনিধিত্ব করছে। তবে তাদের চুক্তির মেয়াদও চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর কী হবে, সে বিষয়ে সরকার এখনো স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বাবা-মা ছাড়া দেশে প্রবেশ করা শিশুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে। ২০০৮ সালের 'ট্র্যাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথরাইজেশন অ্যাক্ট' অনুযায়ী, বহিষ্কার-সংক্রান্ত মামলায় এসব শিশুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করতে হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিশু ফেডারেল আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ২২ হাজার শিশু, যারা বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছে, তারা আত্মীয়স্বজন বা অন্যান্য স্পনসরের কাছে অবস্থান করছে এবং তাদেরও আইনি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। বার্ক ল' গ্রুপে ৩০ জনেরও কম আইনজীবী রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের মধ্যে মাত্র দুজনের অভিবাসন আইন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এত বড় দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। এদিকে বছরের শেষ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে ২ কোটি ডলারের একটি চুক্তি পেয়েছে 'ইউএস কমিটি ফর রিফিউজিস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টস' (ইউএসসিআরআই)। তবে গত সপ্তাহে এই সংস্থার আইনজীবীরা অনেক ক্ষেত্রে যেসব শিশুর সঙ্গে এখনো দেখা করেননি, তাদের প্রতিনিধিত্বের দাবি নিয়ে আদালতে হাজির হলে বিচারক ও আইনজীবীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অন্যদিকে, যেসব আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, গত বছর থেকে কয়েক মাসের বিল সরকার পরিশোধ করেনি। গত ৬ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত সরকারকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। আকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের যোগাযোগ পরিচালক বিলাল আসকারইয়ার জানিয়েছেন, সরকার ইতোমধ্যে বকেয়া নয় মাসের মধ্যে ছয় মাসের অর্থ পরিশোধ শুরু করেছে এবং বাকি অর্থও পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে। আইনজীবীদের দাবি, একটি শিশু যাকে দীর্ঘদিন ধরে একজন আইনজীবী প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাকে হঠাৎ করে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা নৈতিক ও বাস্তবিক উভয় দিক থেকেই জটিল। তাই স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত হাজারো অভিবাসী শিশুর আইনি সুরক্ষা অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ১০ লাখের বেশি অভিবাসীর সুরক্ষা বাতিল, অনিশ্চয়তায় লাখো মানুষের ভবিষ্যৎ
এলিজাবেথ স্ট্রিট গার্ডেনে আবাসন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারছেন না মামদানি