সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বিজ্ঞানী

সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বেটা পিক্টোরিস বি থেকে শনাক্ত হয়েছে রেডিও সিগন্যাল
সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে প্রথমবার সরাসরি রেডিও সিগন্যাল শনাক্ত করলেন গবেষকরা, মিলেছে চৌম্বকক্ষেত্র

সৌরজগতের বাইরে থাকা একটি গ্রহ থেকে প্রথমবারের মতো সরাসরি রেডিও সিগন্যাল শনাক্ত করেছেন একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী। মহাকাশের দূরবর্তী গ্রহগুলো সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কারকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   গবেষকরা জানিয়েছেন, বেটা পিক্টোরিস বি নামের ওই গ্রহ থেকে আসা রেডিও সিগন্যালের আকস্মিক তীব্রতা বা ‘বার্স্ট’ সম্ভবত গ্রহটির বিশাল অরোরার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে গবেষণাটি এখনো বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যায়নি।   পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৪ আলোকবর্ষ দূরে থাকা বেটা পিক্টোরিস বি একটি তরুণ ও বিশাল গ্যাসীয় বহির্গ্রহ। এর ভর বৃহস্পতির প্রায় ১২ গুণ।   হার্ভার্ড ও ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই পর্যবেক্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকার কারু মরুভূমিতে থাকা মিয়ারক্যাট রেডিও টেলিস্কোপ অ্যারে ব্যবহার করা হয়। ৬৪টি সংযুক্ত রেডিও ডিশের এই বিশাল পর্যবেক্ষণব্যবস্থার মাধ্যমে গবেষকরা সিগন্যালটির উৎস শনাক্ত করেন।   গবেষকদের মতে, সিগন্যালটি গ্রহটির অরোরাজনিত রেডিও বিকিরণ থেকে এসেছে। কোনো গ্রহের চৌম্বক মেরুর কাছে উচ্চশক্তির কণা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে গ্যাসের অণু বা পরমাণুর সঙ্গে সংঘর্ষ করলে অরোরা তৈরি হতে পারে।   গবেষণায় বেটা পিক্টোরিস বি-এর চৌম্বকক্ষেত্রের শক্তি প্রায় ১ হাজার ২৫০ গস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি বৃহস্পতির প্রায় ৪ দশমিক ৩ গস চৌম্বকক্ষেত্রের তুলনায় প্রায় ২৯১ গুণ বেশি শক্তিশালী।   গবেষকদের দাবি, কোনো বহির্গ্রহের চৌম্বকক্ষেত্র পরিমাপের ক্ষেত্রেও এটি প্রথম ঘটনা। চৌম্বকক্ষেত্র একটি গ্রহের বায়ুমণ্ডলকে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়া থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   গবেষকরা এখন একই পদ্ধতি ব্যবহার করে আরও কয়েকটি বিশাল বহির্গ্রহ পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করছেন। এর মাধ্যমে সৌরজগতের বাইরের গ্রহগুলোর পরিবেশ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছেন তারা।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মানুষের কথার শব্দ কাঠামো বিশ্লেষণে কুকুরের মস্তিষ্কেও মিলেছে বিশেষ ক্ষমতা
মানুষের মতোই কথা বোঝে কুকুর! নতুন গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ প্রমাণ

কুকুর শুধু মানুষের কথা শুনেই প্রতিক্রিয়া দেখায় না, মানুষের বলা কথাকে মস্তিষ্কে বিশ্লেষণও করতে পারে। হাঙ্গেরির গবেষকদের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, কথা বোঝার ক্ষেত্রে কুকুরের মস্তিষ্ক এমন একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, যা এতদিন মূলত মানুষের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে।   হাঙ্গেরির ইএলটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোইথোলজি রিসার্চ গ্রুপের গবেষকরা ২০ জন মানুষ ও ২০টি পোষা কুকুরের মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়া তুলনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের এমন কিছু ধারাবাহিক শব্দ শোনানো হয়, যেখানে শব্দগুলোর মধ্যে কোনো বিরতি বা আলাদা সংকেত ছিল না। অর্থাৎ, কথাগুলোকে আলাদা শব্দ হিসেবে চেনার জন্য মস্তিষ্ককে শব্দের ভেতরের কাঠামো খুঁজে নিতে হয়েছে।   গবেষণায় মূলত ব্যঞ্জনধ্বনি ও স্বরধ্বনির ভূমিকা পরীক্ষা করা হয়। প্রথম ধরনের শব্দধারায় ব্যঞ্জনধ্বনির পুনরাবৃত্ত বিন্যাস ব্যবহার করে তিন সিলেবলের পরপর শব্দ তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় ধরনের ধারায় একইভাবে স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে শব্দের কাঠামো তৈরি করা হয়। আর তৃতীয় ধরনের ধারায় কোনো পুনরাবৃত্ত বিন্যাস ছিল না, ফলে সিলেবলগুলো এলোমেলোভাবে সাজানো ছিল।   ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফি বা ইইজি প্রযুক্তির মাধ্যমে গবেষকরা মানুষ ও কুকুরের মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন। এতে দেখা যায়, ব্যঞ্জনধ্বনির ওপর ভিত্তি করে তৈরি শব্দের ক্ষেত্রে মানুষ ও কুকুর—দুই প্রজাতির মস্তিষ্কেই তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।   গবেষকদের মতে, ব্যঞ্জনধ্বনিনির্ভর শব্দধারায় কুকুরের মস্তিষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের মতোই শব্দের ছন্দের সঙ্গে সমন্বয় করতে সক্ষম হয়েছে। স্বরধ্বনিনির্ভর বা এলোমেলো শব্দধারায় এমন শক্তিশালী সমন্বয় দেখা যায়নি।   গবেষণায় আরও দেখা যায়, প্রতিটি শব্দ শুরুর প্রায় ৪০০ মিলিসেকেন্ড পর মানুষ ও কুকুরের মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক কার্যকলাপে একটি নির্দিষ্ট পরিবর্তন ঘটে। তবে এই পরিবর্তনটি কেবল ব্যঞ্জনধ্বনির কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি শব্দের ক্ষেত্রেই স্পষ্ট ছিল। মানুষের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ধারাবাহিক কথাবার্তা থেকে আলাদা শব্দ শনাক্ত করার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আগে থেকেই জানা ছিল।   গবেষণার সহ-প্রধান লেখক ও মনোবিজ্ঞানী কিংগা জি. টথ বলেন, কুকুরের মস্তিষ্কেও মানুষের মতো ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতি এমন প্রবণতা দেখা যাওয়ার এটিই প্রথম প্রমাণ।   গবেষকদের মতে, এই ফলাফল থেকে বোঝা যায়, কথাবার্তা বিশ্লেষণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তৈরি হওয়ার জন্য মানুষের মতো জটিল ভাষাগত ক্ষমতা বা আগে থেকেই নির্ধারিত বিশেষ মস্তিষ্কের কাঠামো থাকা বাধ্যতামূলক নয়।   গবেষক অ্যাটিলা অ্যান্ডিকসের মতে, কথাবার্তার নিয়মিত সংস্পর্শই হয়তো কুকুরের মস্তিষ্কের কার্যপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে। এর ফলে এমন কিছু ভাষা-প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা তৈরি হতে পারে, যা এতদিন শুধু মানুষের মধ্যেই দেখা গেছে।   তবে গবেষণাটি কুকুর মানুষের ভাষা মানুষের মতো সম্পূর্ণভাবে বোঝে—এমন দাবি করছে না। বরং গবেষণাটি দেখিয়েছে, মানুষের কথার ধারাবাহিক শব্দ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কুকুরের মস্তিষ্কের কিছু প্রক্রিয়া মানুষের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে মিল রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
পানির নিচে পরীক্ষামূলক সৌর মডিউল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
সাগরের তলদেশে সোলার প্যানেল বসিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা বিজ্ঞানীদের সাফল্য

সাগরের পানির নিচে সূর্যের আলো কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তিতে বড় অগ্রগতি করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি বিশেষ সৌরকোষ দক্ষিণ চীন সাগরের পানির ১০ মিটার গভীরতায় সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। পরীক্ষায় এই সৌর মডিউল দিয়ে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জ করার পাশাপাশি এলইডি আলোও জ্বালানো সম্ভব হয়েছে।   গবেষণাটি ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘জুল’-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় ও সাউথওয়েস্ট ইউনাইটেড গ্র্যাজুয়েট স্কুলের গবেষকেরা পানির নিচে সৌরশক্তি সংগ্রহের জন্য প্রশস্ত ব্যান্ডগ্যাপের লেড-হ্যালাইড পেরোভস্কাইট সৌরকোষ ব্যবহার করেন। গবেষকদের মতে, পানির নিচে বাস্তব পরিবেশে ১০ মিটার গভীরতায় এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রদর্শন করা আগের পরীক্ষাগুলোর তুলনায় বড় অগ্রগতি।   সমুদ্রের পানির নিচে সূর্যের আলো খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। একই সঙ্গে পানির কারণে আলোর বর্ণালিও বদলে যায়। বিশেষ করে দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো দ্রুত শোষিত হওয়ায় পানির গভীরে নীল ও সবুজ আলোর আধিক্য থাকে। এ কারণে প্রচলিত সিলিকন সৌরকোষ পানির নিচে একইভাবে কার্যকর থাকে না। গবেষকেরা এই সমস্যার সমাধানে এমন পেরোভস্কাইট সৌরকোষ তৈরি করেছেন, যা পানির নিচে পৌঁছানো সীমিত আলোর বর্ণালির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।   গবেষণাপত্র অনুযায়ী, নতুন সৌরকোষের শক্তি রূপান্তর দক্ষতা ১০ মিটার গভীরতার আলো অনুকরণ করে পরীক্ষায় ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। কৃত্রিমভাবে ১০ মিটার গভীরতার পানির নিচের আলোর পরিবেশ তৈরি করে ১ হাজার ১৬০ ঘণ্টা পরীক্ষা চালানোর পরও কোষটির কার্যক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য অবনতি দেখা যায়নি। আর ত্বরিত বার্ধক্য পরীক্ষার ভিত্তিতে গবেষকেরা ধারণা করছেন, একই ধরনের পরিবেশে কোষটি প্রায় ৫ দশমিক ৫ বছর পর্যন্ত তার প্রাথমিক সক্ষমতার অন্তত ৮০ শতাংশ ধরে রাখতে পারে।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরীক্ষাটি শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ ছিল না। দক্ষিণ চীন সাগরের ওয়েইঝৌ দ্বীপপুঞ্জের কাছে পানির নিচে রোবটের সঙ্গে বড় আকারের সৌর মডিউল যুক্ত করে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হয়। ২, ৬ এবং ১০ মিটার গভীরতায় মডিউলগুলো পরীক্ষা করা হয়। ১০ মিটার গভীরতায় দুই ঘণ্টা সূর্যালোকের মধ্যে মডিউলটি ৩২৪ মিলিওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যা লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চার্জ এবং এলইডি চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।   এর আগে পানির নিচে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে যেসব পরীক্ষা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই ২ মিটার বা তার কম গভীরতায় সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষণার অন্যতম লেখক ঝাং ওয়েন-হুয়া বলেন, এত অল্প গভীরতার পরীক্ষা বাস্তব সমুদ্রভিত্তিক প্রয়োগের জন্য যথেষ্ট নয়। নতুন পরীক্ষায় ১০ মিটার গভীরতায় বড় আকারের সৌর মডিউল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন দেখানো হয়েছে, যা পানির নিচে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।   পানির নিচে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারও বিস্তৃত। গবেষকদের মতে, সমুদ্রের তলদেশে থাকা বিভিন্ন সেন্সর, ক্যামেরা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যন্ত্রে নিয়মিত ব্যাটারি বদলানো বা বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার প্রয়োজন কমাতে এটি ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় মানুষের সরাসরি তত্ত্বাবধানের বাইরে থাকা সামুদ্রিক যন্ত্রের জন্য এমন একটি স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎস গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তবে প্রযুক্তিটি এখনো গবেষণা ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। ১০ মিটার গভীরতায় সফলতা পাওয়া গেলেও আরও বেশি গভীরতায় এর কার্যকারিতা কেমন থাকবে, দীর্ঘ সময় সমুদ্রের প্রকৃত পরিবেশে কীভাবে কাজ করবে এবং সামুদ্রিক জীব ও আবর্জনা জমে সৌরকোষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেসব বিষয় নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন। গবেষকেরা পরবর্তী ধাপে আরও গভীর পানিতে এই প্রযুক্তির সীমা পরীক্ষা এবং পানির নিচের সৌরকোষের জন্য মানসম্মত পরীক্ষাপদ্ধতি তৈরির পরিকল্পনা করছেন।   অর্থাৎ, এটি এখনই প্রচলিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিকল্প নয়। তবে সমুদ্রের পানির নিচে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রকে দীর্ঘ সময় নিজস্বভাবে বিদ্যুৎ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি নতুন একটি সম্ভাবনার দরজা খুলেছে।   সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, জুল, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যেকোনো সময় ঘটতে পারে এআই বিপর্যয়, মানবজাতিকে সতর্ক করলেন শীর্ষ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি জায়ান্টরা
যেকোনো সময় ঘটতে পারে এআই বিপর্যয়, মানবজাতিকে সতর্ক করলেন শীর্ষ বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি জায়ান্টরা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবজাতির জন্য যেকোনো দিন এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন শীর্ষ বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মোকাবিলায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।   সম্প্রতি ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিক-এর ডারিও অ্যামোডেই এবং স্পেসএক্সএআই-এর ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরাও এই উদ্বেগের সাথে একমত পোষণ করেছেন। ডারিও অ্যামোডেই প্রস্তাব করেছেন যে 'ফ্রন্টিয়ার' বা শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোতে স্থায়ীভাবে তৃতীয় পক্ষের নিরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া উচিত এবং এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমানো প্রয়োজন।   এছাড়া, অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে যে তাদের 'ক্লড' এআই মডেলটি ইতোমধ্যে সাইবার আক্রমণ, নজরদারি, প্রতারণা এবং অস্ত্র তৈরির মতো নেতিবাচক কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অফ সাউদাম্পটনের ওয়েব সায়েন্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডেম ওয়েন্ডি হলের মতে, এআই কোম্পানিগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিজেদের হাতেই ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। ইন্টারনেট বা অন্যান্য প্রযুক্তির মতো এআই-এর ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাকবচ বা 'গার্ডরেল' থাকা জরুরি।   তিনি বলেন, এআই হয়তো পুরো মানবজাতিকে বিলুপ্ত করবে না, কিন্তু এর কারণে অনিচ্ছাকৃত বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে, যা এড়াতে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ এক্সিস্টেনশিয়াল রিস্ক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট মার্টিন রিস এই ঝুঁকিকে জলবায়ু পরিবর্তনের চেয়েও গুরুতর বলে আখ্যায়িত করেছেন।   স্কাই নিউজকে তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ধীরগতির হলেও এআই যেকোনো মুহূর্তে বড় শহরের বিদ্যুৎ গ্রিড বা সাপ্লাই চেইন ধ্বংস করে দিতে পারে। এমন ঘটনা বিশ্বজুড়ে একই সাথে ঘটলে সভ্যতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সম্ভাব্য এই বিপর্যয় ঠেকাতে এখনই নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
মৃত্যুর পর ফিরে আসার আশায় ক্রায়োনিক্সে সংরক্ষিত হচ্ছে মরদেহ
মৃত্যুর পর ফের জীবিত হওয়ার আশায় ২ লাখ ডলারে অস্ট্রেলিয়ায় হিমায়িত ৭ মরদেহ

মৃত্যুর পর একদিন আবার জীবিত হয়ে ফিরবেন, এই আশায় অস্ট্রেলিয়ার একটি ক্রায়োনিক্স কেন্দ্রে ২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি খরচ করে নিজেদের মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন কয়েকজন। নিউ সাউথ ওয়েলসের হলব্রুকের একটি শেডে বর্তমানে সাতজনের মরদেহ অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষিত রয়েছে। ক্রায়োনিক্স পদ্ধতিতে মৃত্যুর পর শরীর দ্রুত ঠান্ডা করে বিশেষ রাসায়নিকের মাধ্যমে কোষে বরফ জমে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়। এরপর মরদেহগুলো তরল নাইট্রোজেনভর্তি বিশেষ ধাতব পাত্রে প্রায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়। হলব্রুকে এই সেবা পরিচালনা করছে সাউদার্ন ক্রায়োনিক্স। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পিটার সলাকিডেস জানিয়েছেন, একজনকে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে প্রাথমিক প্রক্রিয়া ও পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে ২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি খরচ হতে পারে। সংরক্ষণ চালু রাখতে নিয়মিত তরল নাইট্রোজেন সরবরাহ করাও প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ফিলিপ রোডস নিজেও মৃত্যুর পর সেখানে সংরক্ষিত হতে চান। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বর্তমানে অসম্ভব মনে হওয়া কাজ সম্ভব হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞান মৃত মানুষের পুরো শরীরকে এমনভাবে সংরক্ষণ করে পরে জীবিত করে তোলার প্রযুক্তি এখনো তৈরি করতে পারেনি। কোষ, টিস্যু বা কিছু জৈব উপাদান সংরক্ষণে ক্রায়োপ্রিজারভেশন ব্যবহৃত হলেও পুরো মানবদেহ পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি জটিল। মেলবোর্নের আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রায়োপ্রিজারভেশন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পুরো শরীরে সংরক্ষণকারী রাসায়নিক সমানভাবে পৌঁছানো এবং পরবর্তী সময়ে কোষ ও অঙ্গের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা বড় বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ। মৃত্যুর কারণ দূর করার পাশাপাশি মস্তিষ্কের গঠন ও ব্যক্তির স্মৃতি বা চেতনা অক্ষত রাখা যাবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ক্রায়োনিক্সের সমর্থকেরা অবশ্য মনে করেন, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি আজকের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারে। কিন্তু কখনো কোনো ক্রায়োনিক্স রোগীকে পুরোপুরি পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়েছে, এমন প্রমাণ এখনো নেই। হলব্রুকের কেন্দ্রটি ২০২৩ সালে চালু হওয়ার পর সেখানে ধীরে ধীরে সংরক্ষিত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে সাতজনের মরদেহ সেখানে রাখা হয়েছে। তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন প্রযুক্তির ওপর, যা এখনো পরীক্ষামূলক ধারণার পর্যায়েই রয়েছে। মৃত্যুর পর শরীর সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে জীবনে ফেরার এই ধারণা তাই একদিকে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের কৌতূহল তৈরি করছে, অন্যদিকে এর বাস্তবতা ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্নও রয়ে গেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করতে সিনেমার তারকার বদলে চীনের বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের ছবি
নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করতে সিনেমার তারকার বদলে চীনের বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের ছবি

শহরের ব্যস্ত রাস্তার ধারের বড় বড় ডিজিটাল স্ক্রিন বা বিলবোর্ডগুলোতে সাধারণত চোখ ধাঁধানো সিনেমার তারকা কিংবা নামিদামি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনই বেশি চোখে পড়ে।   তবে সম্প্রতি চীনের বিভিন্ন শহরে দেখা যাচ্ছে এক ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণাদায়ক দৃশ্য। সেখানে ডিজিটাল স্ক্রিন ও বিলবোর্ডগুলোতে সগৌরবে জায়গা করে নিয়েছেন দেশের প্রখ্যাত সব বিজ্ঞানী, যাঁদের নাম এতদিন মূলত পাঠ্যবই বা গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ ছিল।   চীনের হেনান প্রদেশের ঝেংঝৌ শহরের একটি মেট্রো স্টেশনে মহাকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পথিকৃৎ ছিয়েন শুয়েসেন এবং পরমাণু বিজ্ঞানী দেং চিয়াসিয়েনের বিশাল পোস্টার টানানো হয়েছে।   এছাড়া সংকর ধান প্রযুক্তির জনক ইউয়ান লংপিং এবং আর্টেমিসিনিন আবিষ্কারক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী তু ইউইউয়ের ছবিও বিভিন্ন শহরের জনপরিসরে প্রদর্শিত হচ্ছে। ব্যতিক্রমী এই প্রচারণার শুরুটা হয়েছিল শানডং প্রদেশ থেকে, যা পরবর্তীতে হেনান, আনহুই, ইনার মঙ্গোলিয়া, জিয়াংসি ও অন্যান্য অঞ্চলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।   মূলত বিজ্ঞানীদের অসামান্য অবদানকে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁদের জাতীয় রোল মডেল হিসেবে পরিচিত করতেই এমন অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   চীনে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের সম্মান জানানোর রেওয়াজ নতুন না হলেও, তারকা বা বিজ্ঞাপনের জন্য নির্ধারিত দামি বিলবোর্ডগুলোতে বিজ্ঞানীদের এই উজ্জ্বল উপস্থিতি আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ
যুক্তরাজ্যে মাত্র তিন বছরেই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীদের যুক্তরাজ্যে কাজের সুযোগ দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা। যুক্তরাজ্যের বর্তমান অভিবাসন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন পাওয়া গবেষকরা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে মাত্র তিন বছর পর দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইনের জন্য আবেদন করতে পারেন।   যুক্তরাজ্য সরকারের হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী, রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের অনুমোদনের ভিত্তিতে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য তিন বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে। তবে শুধু তিন বছর যুক্তরাজ্যে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে ধারাবাহিক বসবাসসহ অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়।   গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ হলো ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন বা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদিত গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের ভিত্তিতে আবেদন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ইউকেআরআই অনুমোদিত কোনো যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা গবেষণার জন্য যুক্ত থাকতে হবে এবং তার গবেষণার অর্থায়নও অনুমোদিত কোনো তহবিলদাতার কাছ থেকে আসতে হবে।   এই পথে আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের মূল্য কমপক্ষে ৩০ হাজার পাউন্ড হতে হবে এবং সেটির মেয়াদ অন্তত দুই বছর হতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর চাকরির চুক্তি বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হোস্টিং চুক্তির অন্তত এক বছর বাকি থাকতে হবে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারীকে তার মোট কর্মসময়ের অন্তত ৫০ শতাংশ ওই গবেষণা অনুদানের আওতাধীন কাজে ব্যয় করতে হবে। প্রধান গবেষক বা সহগবেষকের ক্ষেত্রে একাধিক যোগ্য গবেষণা অনুদানে কাজের সময় একত্র করে এই ৫০ শতাংশের শর্ত পূরণ করার সুযোগ রয়েছে।   গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার বড় সুবিধাগুলোর একটি হচ্ছে কর্মক্ষেত্রের স্বাধীনতা। এটি সাধারণ স্পনসরনির্ভর ওয়ার্ক ভিসার মতো নির্দিষ্ট একটি চাকরির সঙ্গে একইভাবে আবদ্ধ নয়। ভিসাধারীরা নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে চাকরি করতে, চাকরি পরিবর্তন করতে কিংবা স্বনিযুক্ত হিসেবে কাজ করতে পারেন। ফলে গবেষক ও উদ্ভাবকদের ক্যারিয়ার পরিচালনায় তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা থাকে।   স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে গবেষকদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদন পাওয়া গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারী গবেষকরা গবেষণার কাজে যুক্তরাজ্যের বাইরে যে সময় কাটান, নির্দিষ্ট শর্তে সেই গবেষণাসংশ্লিষ্ট অনুপস্থিতি ধারাবাহিক বসবাসের হিসাবকে বাধাগ্রস্ত করে না।   তবে তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় শুধু ভিসার মেয়াদ পূরণ করাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে আয় করার প্রমাণসহ প্রযোজ্য অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হয়। বর্তমান নিয়মে ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা এবং যুক্তরাজ্যের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত নির্ধারিত পরীক্ষার শর্তও রয়েছে।   ফলে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা শুধু যুক্তরাজ্যে গবেষণা বা চাকরির সুযোগ নয়, যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য তুলনামূলক দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথও তৈরি করছে। বিশেষ করে ইউকেআরআই অনুমোদিত গবেষণা অনুদান এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের জন্য এই ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ক্যারিয়ার গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
শিশুর মৃত্যুর পর গবেষণা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: সংগৃহীত
পরীক্ষামূলক জিন থেরাপিতে ৬ বছরের শিশুর মৃত্যু, ৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার ব্যয় করা পরিবার তুলল গুরুতর অভিযোগ

চীনে বিরল জিনগত সমস্যায় আক্রান্ত ছয় বছর বয়সী এক শিশুর চিকিৎসায় পরিবার প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করেছিল। নতুন ধরনের জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি হবে এমন আশাই দেখানো হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসার কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রমাণ ছাড়াই চিকিৎসাটি মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে পরিবারকে পূর্ণাঙ্গভাবে জানানো হয়নি।   বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির পরিবারের অনুরোধে তার প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে তাকে ‘মেই’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। মেই বিরল সিএইচডি৩ (CHD3) জিনের পরিবর্তনের কারণে স্নাইডার্স ব্লক-ক্যাম্পো সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিল। এ ধরনের রোগে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণত বুদ্ধিবিকাশ, ভাষা ও শেখার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলেও এটি সাধারণত প্রাণঘাতী নয় এবং সময়ের সঙ্গে দ্রুত অবনতি ঘটে না।   মেইয়ের শিক্ষকরা তার লেখালেখি ও ভাষাগত দক্ষতার দুর্বলতার কথা অভিভাবকদের জানিয়েছিলেন। এরপর পরিবারটি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়। সেসময় গবেষক জিলং কিউ তাদের ‘বেস এডিটিং’ নামে অত্যাধুনিক জিন সম্পাদনা প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসার প্রস্তাব দেন। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যা এখনো বিশ্বজুড়ে পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে এবং মানুষের ওপর এর ব্যবহার খুবই সীমিত।   সায়েন্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিউ নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে খুব কম গবেষকই এই প্রযুক্তিতে দক্ষ। তবে তিনি অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি এ ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের একজন। জিন থেরাপিতে সাধারণত বিশেষ ধরনের ভাইরাস ব্যবহার করে কোষে জিন পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু মেইয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্ক, যেখানে পৌঁছাতে রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক (ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার) বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। সে কারণে চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করাতে হয়েছিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের ওপর এই চিকিৎসা প্রয়োগের আগে গবেষককে ইঁদুর ও বানরের ওপর সফল পরীক্ষা দেখাতে হতো। কিউ পরিবারকে জানান, ইঁদুরের পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। পরে তিনি বানরের মস্তিষ্কের কিছু ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, চিকিৎসাটি নিরাপদ এবং কার্যকর।   তবে সায়েন্স যখন স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সেই তথ্য ও ছবি পর্যালোচনা করায়, তারা ছবিগুলোকে পর্যাপ্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য মনে করেননি। পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবরসায়নবিদ ডেভিড স্যান্ডার্স বলেন, উপস্থাপিত তথ্য এতটাই দুর্বল ছিল যে এর ভিত্তিতে মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানোর মতো আত্মবিশ্বাস তৈরি হওয়ার কথা নয়।   আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মেইয়ের চিকিৎসার এক মাস আগে একই থেরাপি দেওয়া চারটি বানরের সবারই মাঝারি থেকে গুরুতর লিভারের ক্ষতি হয়। তাদের মধ্যে একটির কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জিন থেরাপির পরিচিত ও প্রাণঘাতী জটিলতা ‘থ্রমবোটিক মাইক্রোঅ্যাঞ্জিওপ্যাথি’-র লক্ষণ হতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চিকিৎসা চালিয়ে নিতে গবেষক দলের পক্ষ থেকে পরিবারকে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমনকি গবেষণা দলের কয়েকজন সদস্যের ব্যক্তিগত হিসাবেও অর্থ পাঠাতে বলা হয়। এর মধ্যে একটি গবেষণাগারের দায়িত্বে থাকা এক গবেষককে সরাসরি এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এসব লেনদেন নিয়ে পরিবারের মধ্যেও ধীরে ধীরে উদ্বেগ তৈরি হয়।   ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিকিৎসকরা পরিবারকে জানান, মেইয়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হতে পারে ভাইরাসবাহী উপাদানের বিরুদ্ধে শরীরে আগে থেকে অ্যান্টিবডি থাকা। তা ছাড়া চিকিৎসাটি ‘তুলনামূলকভাবে নিরাপদ’ বলেও তাদের আশ্বস্ত করা হয়। পরের মাসে মেইয়ের মেরুদণ্ডের তরলে বিপুল পরিমাণ ভাইরাস প্রবেশ করিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়, যাতে তা মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে। চিকিৎসার কয়েক দিনের মধ্যেই মেইয়ের জ্বর দেখা দেয়। এরপর তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়, যা কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত ছিল। দ্রুত তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হলেও পরদিন তার মৃত্যু হয়।   হাসপাতালের জরুরি নৈতিকতা কমিটির তদন্তে সিদ্ধান্ত হয়, চিকিৎসাজনিত জটিলতার কারণেই মেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে থ্রমবোটিক মাইক্রোঅ্যাঞ্জিওপ্যাথির কথা উল্লেখ করা হয়, যা বানরের পরীক্ষাতেও দেখা গিয়েছিল।   এ ঘটনার পর হাসপাতালকে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ডলার জরিমানা করা হয়। আর যে চিকিৎসক পরিবারকে চিকিৎসাটি তুলনামূলক নিরাপদ বলেছিলেন, তাকে মৌখিক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এদিকে মেইয়ের পরিবার গবেষক জিলং কিউকে তার গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। শুরুতে তিনি রাজি হলেও পরে পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সাময়িকী নেচার কিউর গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। তবে সেখানে মেইয়ের মৃত্যুর কোনো উল্লেখ ছিল না। পরিবার বিষয়টি নেচার কর্তৃপক্ষকে জানালেও সাময়িকীটি জানায়, অভিযোগগুলো তথ্যের নির্ভুলতার আওতার বাইরে পড়ে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।   সায়েন্স-এর প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন জানিয়েছে, তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গবেষণায় নৈতিকতা, রোগীর সম্মতি, পরীক্ষামূলক চিকিৎসার নিরাপত্তা এবং গবেষণার তদারকি নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ইতোমধ্যে নেচারে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের তথ্য ও ছবিগুলোর স্বাধীনভাবে পুনর্মূল্যায়নেরও দাবি জানিয়েছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: এআই / আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্প প্রশাসনে চাকরি হারানো বিজ্ঞানীদের নতুন জোট, স্বাধীন উদ্যোগে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সরকারি চাকরি হারানো যুক্তরাষ্ট্রের একদল জলবায়ু বিজ্ঞানী ও গবেষক এবার নিজেদের উদ্যোগেই নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের বাইরে পরিচালিত অলাভজনক ওয়েবসাইট Climate.us-এর মাধ্যমে তারা জলবায়ু–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, গবেষণা এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদনের সংরক্ষিত সংস্করণ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছেন।   প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ফিউচারিজম জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর জলবায়ুবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্লাইমেট গভ এর সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার রেবেকা লিন্ডসে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন NOAA-এর আরও বহু সাবেক বিজ্ঞানী, গবেষক এবং তথ্যবিশেষজ্ঞ।   তাদের তৈরি নতুন ওয়েবসাইটে গত ১৫ বছরে প্রকাশিত আবহাওয়া ও জলবায়ু–সংক্রান্ত তথ্য, বিভিন্ন জলবায়ু সূচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম জাতীয় জলবায়ু মূল্যায়ন প্রতিবেদন (Fifth National Climate Assessment) সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এসব তথ্য গবেষক, শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য থাকবে।   এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৮০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ কাজ করেছেন। পাশাপাশি ২ হাজার ৫০০-এরও বেশি ব্যক্তি অনুদান দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন। সেই অর্থেই অলাভজনক এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে NOAA, পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA)সহ একাধিক ফেডারেল সংস্থায় ব্যাপক জনবল ছাঁটাই করা হয়। এতে জলবায়ু গবেষণা ও জনসাধারণের জন্য তথ্যপ্রকাশে যুক্ত অনেক বিজ্ঞানী চাকরি হারান। এরপর তারা সরকারি কাঠামোর বাইরে একত্রিত হয়ে গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণের এই স্বাধীন উদ্যোগ শুরু করেন।   রেবেকা লিন্ডসে বলেন, নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া উচিত নয়। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা এবং তথ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা যেমন জরুরি, তেমনি জনসাধারণের জন্য তা সহজলভ্য রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্লেষকদের মতে, ক্লাইমেট নিয়ে ওয়েবসাইট শুধু একটি নতুন ওয়েবসাইট নয়; এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে সরকারি চাকরি হারানোর পরও গবেষণা থেমে থাকে না। বরং বিজ্ঞানীরা একত্রিত হয়ে স্বাধীনভাবে জনস্বার্থে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
বিজয়ী বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছেন শিক্ষার্থী প্রত্যয় | ছবি : সংগৃহীত।
রসাটমের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে উত্তর মেরু অভিযানে যাচ্ছে বাংলাদেশী স্কুলশিক্ষার্থী প্রত্যয়

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রসাটমের সপ্তম আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক প্রকল্প আইসব্রেকার অব নলেজ-এর একজন বিজয়ী হিসেবে উত্তর মেরুতে এক বিরল অভিযানের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র মো. মালেকুল সালেহীন প্রত্যয়।   বাংলাদেশসহ ২২টি দেশের ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা করে এই সম্মানজনক সুযোগ অর্জন করেছেন প্রত্যয়। গত ২৩ জুন মস্কোর মিউজিয়াম অব অ্যাটমিক এনার্জিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী আগস্ট মাসে তারা বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক আইসব্রেকার ৫০ লিয়েত পাবেদি-তে চড়ে সুমেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে এক অনন্য অভিযানে অংশ নেবেন।   সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রোসাটম।   তিনটি পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। পারমাণবিক শক্তি, আর্কটিক অনুসন্ধান এবং বিকাশমান নতুন প্রযুক্তির ওপর একটি বিজ্ঞান কুইজ, বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় শিক্ষামুলক ওয়েবিনার এবং কীভাবে পারমাণবিক প্রযুক্তি আজকের বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে শীর্ষক চূড়ান্ত উপস্থাপনা। বিজ্ঞান, শিক্ষা, পারমাণবিক শিল্প এবং আর্কটিক গবেষণায় যুক্ত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন।   প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থী প্রত্যয় তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমার কাছে এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে, এমন একটি অনন্য সুযোগ পেয়েছি। এমন একটি অভিযানে অংশ নেওয়া কেবল ভ্রমণ নয়, বরং পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞানের জগৎ কতটা বিশাল হতে পারে, তা দেখার এক দারুণ সুযোগ। এটা আমি অনুপ্রেরণা হিসেবে ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে চাই।   বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একত্রিত করবে এই অভিযান। এর মাধ্যমে তারা আর্কটিক অঞ্চল অন্বেষণ করার এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য শোনা, কর্মশালায় অংশগ্রহণ, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মতবিনিময় সেশনের মাধ্যমে তারা রসাটমের পারমাণবিক আইসব্রেকার বহর সম্পর্কেও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।   রসাটম আয়োজিত আইসব্রেকার অব নলেজ প্রকল্পটি স্টেম (STEM) শিক্ষার প্রসার, তরুণ বৈজ্ঞানিক প্রতিভার বিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে ক্যারিয়ার গড়তে তরুণদের উৎসাহিত করে থাকে। একইসঙ্গে প্রকল্পটি আর্কটিক অঞ্চলের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতায় পারমাণবিক প্রযুক্তির ভূমিকা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে।   পাবনা প্রতিনিধি: এম এস রহমান

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সেরেনিটি স্ট্রল/বিবিসি
ল্যাবরেটরিতে মানুষের কোষ দিয়ে কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করল ইরান

গবেষণাগারে জীবন্ত মানব নিউরন বা স্নায়ুকোষ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে একটি কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করেছে ইরান। মানুষের মস্তিষ্কের মতোই নিজে নিজে নতুন তথ্য শিখতে সক্ষম এই নিউরাল নেটওয়ার্ক। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে উদীয়মান 'অর্গানয়েড ইনটেলিজেন্স' (ওআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক দৌড়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।   ইরানের কগনিটিভ সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিস ডেভেলপমেন্ট টাস্কফোর্সের সেক্রেটারি আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী মেহর নিউজ এজেন্সিকে জানান, মানবদেহের বাইরে স্নায়ুকোষ কৃত্রিম উপায়ে বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণ করার সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞান অর্জন করেছে ইরান। শরীরের বাইরেও এই কোষগুলো মানুষের স্বাভাবিক মস্তিষ্কের মতোই সিন্যাপস তৈরি করতে পারছে এবং নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।   আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী বলেন, এটি মূলত মানুষের মস্তিষ্কের কোষের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রজন্মের কম্পিউটার প্রসেসর তৈরির প্রাথমিক ভিত্তি। ইরানের একটি নলেজ-বেজড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির একটি পরীক্ষামূলক প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গেই ইরান সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে।   নতুন এই প্রযুক্তির দুটি যুগান্তকারী সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি প্রসেসিং বা তথ্য বিশ্লেষণের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, কম্পিউটারে ব্যবহৃত প্রচলিত সিলিকন চিপের তুলনায় এর বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার প্রায় ১০ লাখ গুণ কম। এই দুটি অনন্য সুবিধার কারণে সিলিকন চিপের বিকল্প হিসেবে কোষ-ভিত্তিক প্রসেসরের দিকে ঝুঁকে পড়া এখন বিশ্বব্যাপী প্রধান অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বে 'অর্গানয়েড ইনটেলিজেন্স' বা জৈবিক প্রক্রিয়াকরণ মূলত এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে জীবন্ত মানব নিউরন ব্যবহার করে চিপ তৈরি করা হয়। এটি মানুষের মস্তিষ্কের অবিশ্বাস্য রকমের কম শক্তি খরচ করার অসাধারণ প্রাকৃতিক ক্ষমতাকে হুবহু অনুকরণ করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উচ্চ বিদ্যুৎ খরচের বিকল্প হিসেবে এই জৈবিক চিপের সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিকীকরণের পর্যায়ে যেতে অবশ্য এখনো কিছুটা সময় লাগবে।

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
পাখির ভাষা বুঝতে জেব্রা ফিঞ্চের ডাক রেকর্ড করছেন গবেষক এলি | ছবি: উলফগ্যাং ফোর্স্টমেয়ার
পাখিরা নিজেদের মধ্যে কী কথা বলে? রহস্য উন্মোচনে কোটি টাকার পুরস্কার জিতলেন মার্কিন বিজ্ঞানী

পাখিরা নিজেদের মধ্যে কীভাবে যোগাযোগ করে এবং তাদের ডাকের আড়ালে কী অর্থ লুকিয়ে থাকে, তা প্রথমবারের মতো উন্মোচন করেছেন এক মার্কিন বিজ্ঞানী। পাখির এই ভাষা বা ‘বার্ডসং’ ডিকোড করার অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা) পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষক ড. জুলি এলি এ বছর ‘কলার-ডলিটল প্রাইজ ২০২৬’ লাভ করেছেন।   মানুষের সাথে পশুপাখির দ্বিমুখী যোগাযোগ স্থাপন করার বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ড. জুলি মূলত ‘জেব্রা ফিঞ্চ’ (Zebra Finch) নামক ছোট গায়ক পাখির ওপর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। তিনি এই পাখির ডাকের ১১টি মূল ধরন এবং সেগুলোর সুনির্দিষ্ট অর্থ সফলভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন।   তার গবেষণায় দেখা গেছে, জেব্রা ফিঞ্চরা তাদের নির্দিষ্ট কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় দেয়, তারা সে মুহূর্তে কী করছে তা অন্য পাখিদের জানায় এবং একে অপরকে চিনে রাখে। এই কাজের জন্য ড. জুলি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পাখিদের বিভিন্ন ডাক রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্যে সেই আওয়াজগুলো বিশ্লেষণ করে তিনি এই ভাষা বুঝতে পারেন।   গবেষণার সত্যতা যাচাই করতে ড. জুলি পাখিদের নিয়ে একটি বিশেষ পরীক্ষাও চালান। সেখানে পাখিদের সামনে একটি বোতাম রাখা হয়, যা চাপলে বিভিন্ন আওয়াজ তৈরি হতো। কিছু নির্দিষ্ট আওয়াজের পর পাখিদের পুরস্কার হিসেবে খাবার দেওয়া হতো। পরীক্ষা চলার একপর্যায়ে পাখিরা বুঝতে পারে কোন আওয়াজের পর খাবার পাওয়া যাবে না, এবং তারা স্মার্টফোনে ভিডিও স্ক্রোল করার মতো করে সেই আওয়াজগুলো বোতাম চেপে এড়িয়ে যেতে শুরু করে।   জেরেমি কলার ফাউন্ডেশন এবং তেল আবিব ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের কোড উদ্ধার করার জন্য এই ফাউন্ডেশন ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি মহাপুরস্কারও ঘোষণা করে রেখেছে। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশ ধনকুবের জেরেমি কলার আশা প্রকাশ করেছেন যে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে ২০৩০ সালের মধ্যেই মানুষ পশুপাখির সাথে সরাসরি কথা বলতে সক্ষম হবে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
মহাকাশ বিজ্ঞানে চমক: প্লুটোর বাইরে মিলল রহস্যময় বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব

সৌরজগতের প্রান্তসীমায় অবস্থিত কুইপার বেল্টের একটি ক্ষুদ্র মহাজাগতিক বস্তুকে ঘিরে বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এতদিন ধারণা করা হতো, এই অঞ্চলের ছোট বস্তুগুলোর অভিকর্ষ বল এতই কম যে সেখানে বায়ুমণ্ডল থাকা অসম্ভব। তবে জাপানের একদল গবেষকের এই সাম্প্রতিক আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের সেই পুরনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। আবিষ্কারের নেপথ্যে: জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির সহযোগী অধ্যাপক ড. কো আরিমাতসুর নেতৃত্বে একদল গবেষক '২০০২ এক্সভি৯৩' (2002 XV93) নামক একটি ট্রান্স-নেপচুনিয়ান অবজেক্ট (TNO) পর্যবেক্ষণ করেন। প্রায় ৩১০ মাইল (৫০০ কিলোমিটার) চওড়া এই হিমশীতল পাথরটি সূর্য থেকে প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থিত। বিজ্ঞানীরা যখন এটি একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় 'স্টেলার অকুলেশন' পদ্ধতি ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তখন দেখা যায় নক্ষত্রটির আলো হঠাৎ নিভে না গিয়ে ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে। প্রায় ১.৫ সেকেন্ড স্থায়ী এই আলোর বিচ্ছুরণই প্রমাণ করে যে, বস্তুটিকে ঘিরে একটি পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? কুইপার বেল্টে প্লুটোর পর এটিই দ্বিতীয় কোনো বস্তু যেখানে বায়ুমণ্ডলের দেখা মিলল। সাধারণত বিশাল আকৃতির গ্রহ বা উপগ্রহের (যেমন শনির টাইটান) বায়ুমণ্ডল থাকে। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার থেকে ধারণা করা যায় যে কুইপার বেল্টের অন্যান্য ছোট বস্তুগুলোতেও হয়তো বায়ুমণ্ডল রয়েছে। এই বায়ুমণ্ডল সম্ভবত বরফ আগ্নেয়গিরি (Ice volcanoes) থেকে নির্গত গ্যাস অথবা অন্য কোনো হিমশীতল বস্তুর সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা। মিথেন বা কার্বন মনোক্সাইডের মতো গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেলে সৌরজগতের সৃষ্টিরহস্য সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন মে ৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
‘ডার্ক ম্যাটার’ অনুসন্ধানে নাসার নতুন বিস্ময় 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান' টেলিস্কোপ

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নাসা তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ মহাকাশ টেলিস্কোপ 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান'-এর মূল কাঠামো তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাবলের উত্তরসূরি, জেমস ওয়েবের সঙ্গী নাসার এই নতুন টেলিস্কোপটিকে বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং 'মাদার অফ হাবল' খ্যাত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি বিখ্যাত হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি এলাকা একবারে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। যেখানে হাবল টেলিস্কোপের কোনো নির্দিষ্ট এলাকার ছবি তুলতে বছরের পর বছর সময় লাগত, সেখানে 'রোমান' সেই কাজ সম্পন্ন করবে মাত্র কয়েক দিনে। সহজ কথায়, এটি হাবলের চেয়ে ১০০০ গুণ দ্রুতগতিতে মহাকাশের মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম। ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপের মূল লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বের রহস্যময় 'ডার্ক এনার্জি' এবং 'ডার্ক ম্যাটার' নিয়ে গবেষণা করা। এর ৩০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা কোটি কোটি গ্যালাক্সির প্যানোরামিক ছবি তুলবে, যা মহাবিশ্বের প্রসারণ এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। এছাড়া আমাদের সৌরজগতের বাইরে হাজার হাজার নতুন গ্রহ বা 'এক্সোপ্ল্যানেট' খুঁজে বের করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারিগরি উৎকর্ষ মেরিল্যান্ডের গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে এই টেলিস্কোপটির সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে। এর আয়নাটি হাবলের মতোই ২.৪ মিটার চওড়া হলেও, এর প্রযুক্তিগত ক্ষমতা অনেক গুণ বেশি। এটি মহাকাশের এমন গভীর এবং প্রশস্ত ছবি তুলবে যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। নাসার প্রকল্প বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেখানে মহাবিশ্বের গভীরে সুনির্দিষ্ট কোনো বস্তুর ওপর ফোকাস করে, সেখানে রোমান টেলিস্কোপ পুরো আকাশজুড়ে এক বিশাল মানচিত্র তৈরি করবে। এই দুই টেলিস্কোপের যৌথ তথ্য মহাকাশ গবেষণায় নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
শ্রমিক সংকট কাটাতে নামানো হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চালকবিহীন ট্রাক

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হংকংয়ের বন্দরে তীব্র শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো বন্দর এলাকায় পণ্য পরিবহনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত চালকবিহীন ট্রাক। হংকংয়ের কুয়াই তসিং টার্মিনালে এই স্বায়ত্তশাসিত ট্রাকগুলো ইতিমধ্যে সফলভাবে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই চালকবিহীন ট্রাকগুলো প্রায় ৮,০০০-এর বেশি কন্টেইনার মুভমেন্ট সম্পন্ন করেছে। মূলত বন্দরের ট্রেলার চালকদের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ সামাল দিতেই এই আধুনিক প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি স্বায়ত্তশাসিত ট্রাক দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। হংকংয়ের লজিস্টিক খাতে এটি একটি বড় মাইলফলক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহার শুধুমাত্র শ্রমিকের অভাবই পূরণ করবে না, বরং বন্দরের সার্বিক দক্ষতা এবং নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আধুনিক এই ট্রাকগুলো সেন্সর এবং এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে মানুষের সাহায্য ছাড়াই ভারী কন্টেইনার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে ‘বাথটাব রিং’

লাল গ্রহ মঙ্গলে এক সময় কি সত্যিই নীল জলরাশি বয়ে চলত? এই প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন এক জোরালো প্রমাণ পেয়েছেন, যা এই সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিত করে তুলেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধে এক বিশাল প্রাচীন সমুদ্রের উপকূলীয় স্তর বা 'কোস্টাল শেলফ' (Coastal Shelf) খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (ক্যালটেক) এবং ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিন-এর গবেষকদের মতে, কয়েকশ কোটি বছর আগে মঙ্গলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সমুদ্রের নিচে ছিল। এই সমুদ্রটি ছিল অনেকটা পৃথিবীর মহাদেশীয় সোপানের (Continental Shelf) মতো। গবেষক দলের প্রধান আবদুল্লাহ জাকি জানান, তারা নাসার ‘মার্স অরবিটার লেজার অল্টিমিটার’ (MOLA) থেকে প্রাপ্ত ডেটা ব্যবহার করে মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে তারা এমন এক সমতল ভূমি বা উপকূলীয় ধাপের সন্ধান পেয়েছেন, যা কেবল দীর্ঘস্থায়ী এবং বিশাল কোনো সমুদ্রের ঢেউ ও পলির মাধ্যমেই সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। একে বিজ্ঞানীরা বর্ণনা করছেন অনেকটা 'বাথটাব রিং'-এর মতো—যেমন বাথটাবের জল কমে গেলে দেয়ালে একটি দাগ থেকে যায়, ঠিক তেমনি মঙ্গলের বুকে এই চিহ্নটি প্রাচীন সমুদ্রের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই উপকূলীয় স্তরটি প্রায় ৬৬০ থেকে ১৩০০ ফুট চওড়া। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মঙ্গলের এই সমুদ্রটি কেবল অল্প সময়ের জন্য ছিল না, বরং কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে স্থিতিশীল ছিল। নদীগুলো যখন সমুদ্রে এসে পড়ত, তখন তারা প্রচুর পলি ও কাদা বহন করে নিয়ে আসত, যা কালক্রমে এই শেলফ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার কেবল মঙ্গলের ইতিহাস নয়, বরং সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করে তুলল। যদি সেখানে দীর্ঘকাল সমুদ্র থেকে থাকে, তবে সেখানে অণুজীব বা অন্য কোনো প্রাণের বিবর্তন ঘটাও অসম্ভব নয়। ২০৩০ সালে মঙ্গলে অবতরণ করতে যাওয়া ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভারটি এই অঞ্চলে প্রাণের সন্ধান চালাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
স্থলপথেই ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ চীনের! ড্রোন চার্জ হবে মহাকাশ থেকে আসা অদৃশ্য রশ্মিতে

বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও বাস্তবে এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চীনের বিজ্ঞানীরা, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার এবং সক্ষমতাকে আমূল বদলে দিতে পারে। সমুদ্রের বিশাল রণতরী বা ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ নয়, বরং এবার তারা তৈরি করেছে ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ বা স্থলচর যুদ্ধজাহাজ। এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো—এই যানটি উড়ন্ত ড্রোনকে কোনো তার ছাড়াই মাঝ-আকাশে চার্জ করতে সক্ষম! সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা বিজ্ঞানীরা এমন এক শক্তিশালী ‘মাইক্রোওয়েভ বিম’ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করেছেন, যা দিয়ে মাটিতে থাকা যান থেকে আকাশে উড়তে থাকা ড্রোনে বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে। ফলে ড্রোনগুলোকে চার্জ দেওয়ার জন্য আর নিচে নামতে হবে না। তারা দীর্ঘ সময় বা প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকাল ধরে আকাশে উড়তে পারবে। কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? সাধারণত ড্রোনগুলোর ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে সেগুলোকে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু চীনের এই নতুন সিস্টেমে স্থলভাগের বিশেষ ট্রাক বা বাহন থেকে উচ্চশক্তির মাইক্রোওয়েভ রশ্মি ড্রোনের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। ড্রোনে থাকা বিশেষ রিসিভার সেই রশ্মিকে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর করে ব্যাটারি চার্জ করে নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ড্রোনের স্থায়িত্বই বাড়াবে না, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদী হামলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর আগে ড্রোনের পাল্লা সীমিত থাকলেও, এই প্রযুক্তির ফলে ড্রোনগুলো শত শত মাইল দূরে থেকেও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারবে। চীনের এই উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে সামরিক বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বর্তমান যুগের ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ বা ড্রোন যুদ্ধের কৌশল এই এক উদ্ভাবনের ফলে পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
রোবো-ডাইভিং স্যুট, সমুদ্রের গভীরে দীর্ঘক্ষণ থাকার নতুন প্রযুক্তি চীনের

সমুদ্রের তলদেশে গবেষণা বা জটিল উদ্ধারকাজে ডুবুরিদের জন্য সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো অক্সিজেন। সেই সংকট কাটাতে এবার যুগান্তকারী এক রোবোটিক ডাইভিং স্যুট উদ্ভাবন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।  দাবি করা হচ্ছে, এই ‘রোবো-ডাইভিং স্যুট’ ব্যবহার করলে একজন ডুবুরি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম অক্সিজেন খরচ করে দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে অবস্থান করতে পারবেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ স্যুটটিতে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত মানের অ্যালগরিদম যা ডুবুরির প্রতিটি নড়াচড়া বা মুভমেন্টকে নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতে পারে। ফলে ডুবুরিকে সাতার কাটতে বা হাত-পা নাড়াতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয় না, যা তার শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা কমিয়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি শুধু অক্সিজেন সাশ্রয়ই করবে না, বরং গভীর সমুদ্রের প্রতিকূল পরিবেশে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমিয়ে আনবে। পানির নিচে ভারী কোনো যান্ত্রিক কাজ বা উদ্ধার তৎপরতার সময় এই রোবোটিক স্যুট ডুবুরিকে ‘শ্যাডো’ বা ছায়ার মতো সহায়তা করবে। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও ভবিষ্যতে সমুদ্র সম্পদ আহরণ এবং সামরিক ক্ষেত্রে এটি বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ আফ্রিকার মিরক্যাট রেডিও টেলিস্কোপ ওই সংকেতটি শনাক্ত করেছে।
৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে এল শক্তিশালী লেজার সংকেত, তাজ্জব বিজ্ঞানীরা!

মহাবিশ্বের অসীম রহস্যের বুক চিরে ভেসে এল এক শক্তিশালী সংকেত। প্রায় ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে আসা এই 'মেগা লেজার' রশ্মি দেখে রীতিমতো বিস্মিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার 'মিরক্যাট' (MeerKAT) রেডিও টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাধারণত মহাকাশে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় যেকোনো সংকেত ক্রমশ দুর্বল হয়ে একসময় মিলিয়ে যায়। কিন্তু এই সংকেতটি তার উজ্জ্বলতা ও তীব্রতা বজায় রেখে পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে, যা প্রচলিত অনেক বৈজ্ঞানিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই শক্তিশালী রশ্মিটি আসলে একটি ‘হাইড্রক্সিল মেগামেসার’। মহাকাশে দুটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে যখন গ্যাস সংকুচিত হয়, তখন হাইড্রক্সিল অণুগুলো উত্তেজিত হয়ে এই ধরণের তীব্র বিকিরণ ঘটায়। তবে এবারের সংকেতটি এতটাই শক্তিশালী যে একে বিজ্ঞানীরা ‘গিগামেসার’ হিসেবে অভিহিত করছেন। কিন্তু ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকেও কেন এই সংকেত ম্লান হলো না? এর উত্তরে বিজ্ঞানীরা ‘মহাকর্ষীয় লেন্সিং’ (Gravitational Lensing)-এর কথা বলছেন। তাদের মতে, সংকেতটি আসার পথে সামনে থাকা কোনো একটি ছায়াপথ ‘আতস কাঁচের’ মতো কাজ করেছে, যা সংকেতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের টেলিস্কোপে ধরা পড়তে সাহায্য করেছে।   এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের আদি গঠন এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
কন্ডোমের দিন শেষ! পুরুষদের ‘গর্ভনিরোধক’ তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা

এতদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের সিংহভাগ দায়ভার কেবল নারীদের ওপরেই বর্তাতো। তবে আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে সেই ধারায় আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। সম্প্রতি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী পুরুষদের জন্য বিশেষ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে শুক্রাণুর মূল স্টেম সেলগুলোকে কোনো প্রকার ক্ষতি না করেই সাময়িকভাবে সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।  গবেষণার প্রধান অধ্যাপক পলা কোহেনের মতে, এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ পদ্ধতি যেখানে কোনো হরমোনাল জটিলতা নেই। এই প্রক্রিয়ায় অণ্ডকোষে প্রয়োগ করা ইনজেকশন বা পিল শুক্রাণুর গতিপথকে সাময়িকভাবে স্থবির করে দেয়, যা গর্ভধারণ রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, এই পদ্ধতিটি স্থায়ী নয়। কোনো পুরুষ যদি পুনরায় সন্তান নিতে চান, তবে এই চিকিৎসা বন্ধ করার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসবে এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপরও এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সফলভাবে মানুষের ওপর প্রয়োগ করা গেলে এটি পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
সৌরজগতে প্রাণের রহস্য উন্মোচনে চীনের বিজ্ঞানীদের অভাবনীয় সাফল্য

মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে চাঁদের বুক থেকে সংগৃহীত মাটি। চীনের চ্যাং'ই-৫ এবং চ্যাং'ই-৬ মিশনের মাধ্যমে আনা চন্দ্ররেণু বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা একাধিক নাইট্রোজেনযুক্ত জৈব যৌগের সন্ধান পেয়েছেন।  আন্তর্জাতিক গবেষক দলের এই আবিষ্কার সৌরজগতে জৈব পদার্থের বিবর্তন এবং পৃথিবীতে প্রাণের উৎস সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আদি সৌরজগতে গ্রহাণু এবং ধূমকেতুগুলো ছিল মূলত মহাজাগতিক বার্তাবাহক। এগুলোই বিভিন্ন গ্রহে কার্বন, নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেনের মতো প্রাণের জন্য অপরিহার্য উপাদান পৌঁছে দিত। পৃথিবীর সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে এই আদি রেকর্ডগুলো মুছে গেলেও চাঁদের শান্ত পরিবেশে এই উপাদানগুলো কোটি কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত ছিল।  গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের মাটিতে থাকা এই জৈব উপাদানগুলো মূলত তিনটি অবস্থায় পাওয়া যায় এবং এগুলোতে অ্যামাইড ফাংশনাল গ্রুপের উপস্থিতি রয়েছে, যা জটিল রাসায়নিক রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়।  এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, মহাকাশ থেকে আসা জৈব পদার্থগুলো কেবল চাঁদে জমা হয়নি, বরং সেখানে সৌর বিকিরণ ও উল্কাপাতজনিত প্রভাবে নতুন রূপে বিবর্তিত হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০