বিজ্ঞানী

ছবি: এআই / আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্প প্রশাসনে চাকরি হারানো বিজ্ঞানীদের নতুন জোট, স্বাধীন উদ্যোগে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সরকারি চাকরি হারানো যুক্তরাষ্ট্রের একদল জলবায়ু বিজ্ঞানী ও গবেষক এবার নিজেদের উদ্যোগেই নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের বাইরে পরিচালিত অলাভজনক ওয়েবসাইট Climate.us-এর মাধ্যমে তারা জলবায়ু–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, গবেষণা এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিবেদনের সংরক্ষিত সংস্করণ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছেন।   প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ফিউচারিজম জানিয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর জলবায়ুবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্লাইমেট গভ এর সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার রেবেকা লিন্ডসে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন NOAA-এর আরও বহু সাবেক বিজ্ঞানী, গবেষক এবং তথ্যবিশেষজ্ঞ।   তাদের তৈরি নতুন ওয়েবসাইটে গত ১৫ বছরে প্রকাশিত আবহাওয়া ও জলবায়ু–সংক্রান্ত তথ্য, বিভিন্ন জলবায়ু সূচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম জাতীয় জলবায়ু মূল্যায়ন প্রতিবেদন (Fifth National Climate Assessment) সংরক্ষণ করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এসব তথ্য গবেষক, শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য থাকবে।   এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৮০ জনের বেশি স্বেচ্ছাসেবী বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ কাজ করেছেন। পাশাপাশি ২ হাজার ৫০০-এরও বেশি ব্যক্তি অনুদান দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন। সেই অর্থেই অলাভজনক এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে NOAA, পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA)সহ একাধিক ফেডারেল সংস্থায় ব্যাপক জনবল ছাঁটাই করা হয়। এতে জলবায়ু গবেষণা ও জনসাধারণের জন্য তথ্যপ্রকাশে যুক্ত অনেক বিজ্ঞানী চাকরি হারান। এরপর তারা সরকারি কাঠামোর বাইরে একত্রিত হয়ে গবেষণা ও তথ্য সংরক্ষণের এই স্বাধীন উদ্যোগ শুরু করেন।   রেবেকা লিন্ডসে বলেন, নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া উচিত নয়। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা এবং তথ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা যেমন জরুরি, তেমনি জনসাধারণের জন্য তা সহজলভ্য রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্লেষকদের মতে, ক্লাইমেট নিয়ে ওয়েবসাইট শুধু একটি নতুন ওয়েবসাইট নয়; এটি দেখিয়ে দিয়েছে যে সরকারি চাকরি হারানোর পরও গবেষণা থেমে থাকে না। বরং বিজ্ঞানীরা একত্রিত হয়ে স্বাধীনভাবে জনস্বার্থে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
বিজয়ী বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছেন শিক্ষার্থী প্রত্যয় | ছবি : সংগৃহীত।
রসাটমের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে উত্তর মেরু অভিযানে যাচ্ছে বাংলাদেশী স্কুলশিক্ষার্থী প্রত্যয়

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রসাটমের সপ্তম আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক প্রকল্প আইসব্রেকার অব নলেজ-এর একজন বিজয়ী হিসেবে উত্তর মেরুতে এক বিরল অভিযানের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র মো. মালেকুল সালেহীন প্রত্যয়।   বাংলাদেশসহ ২২টি দেশের ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর সাথে প্রতিযোগিতা করে এই সম্মানজনক সুযোগ অর্জন করেছেন প্রত্যয়। গত ২৩ জুন মস্কোর মিউজিয়াম অব অ্যাটমিক এনার্জিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী আগস্ট মাসে তারা বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক আইসব্রেকার ৫০ লিয়েত পাবেদি-তে চড়ে সুমেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে এক অনন্য অভিযানে অংশ নেবেন।   সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রোসাটম।   তিনটি পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। পারমাণবিক শক্তি, আর্কটিক অনুসন্ধান এবং বিকাশমান নতুন প্রযুক্তির ওপর একটি বিজ্ঞান কুইজ, বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় শিক্ষামুলক ওয়েবিনার এবং কীভাবে পারমাণবিক প্রযুক্তি আজকের বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে শীর্ষক চূড়ান্ত উপস্থাপনা। বিজ্ঞান, শিক্ষা, পারমাণবিক শিল্প এবং আর্কটিক গবেষণায় যুক্ত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক জুরি বোর্ড চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন।   প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থী প্রত্যয় তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমার কাছে এখনও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে যে, এমন একটি অনন্য সুযোগ পেয়েছি। এমন একটি অভিযানে অংশ নেওয়া কেবল ভ্রমণ নয়, বরং পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞানের জগৎ কতটা বিশাল হতে পারে, তা দেখার এক দারুণ সুযোগ। এটা আমি অনুপ্রেরণা হিসেবে ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে চাই।   বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীদের একত্রিত করবে এই অভিযান। এর মাধ্যমে তারা আর্কটিক অঞ্চল অন্বেষণ করার এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য শোনা, কর্মশালায় অংশগ্রহণ, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মতবিনিময় সেশনের মাধ্যমে তারা রসাটমের পারমাণবিক আইসব্রেকার বহর সম্পর্কেও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।   রসাটম আয়োজিত আইসব্রেকার অব নলেজ প্রকল্পটি স্টেম (STEM) শিক্ষার প্রসার, তরুণ বৈজ্ঞানিক প্রতিভার বিকাশ এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে ক্যারিয়ার গড়তে তরুণদের উৎসাহিত করে থাকে। একইসঙ্গে প্রকল্পটি আর্কটিক অঞ্চলের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতায় পারমাণবিক প্রযুক্তির ভূমিকা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে।   পাবনা প্রতিনিধি: এম এস রহমান

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সেরেনিটি স্ট্রল/বিবিসি
ল্যাবরেটরিতে মানুষের কোষ দিয়ে কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করল ইরান

গবেষণাগারে জীবন্ত মানব নিউরন বা স্নায়ুকোষ ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে একটি কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করেছে ইরান। মানুষের মস্তিষ্কের মতোই নিজে নিজে নতুন তথ্য শিখতে সক্ষম এই নিউরাল নেটওয়ার্ক। এই অভূতপূর্ব সাফল্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে উদীয়মান 'অর্গানয়েড ইনটেলিজেন্স' (ওআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক দৌড়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করল বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।   ইরানের কগনিটিভ সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিস ডেভেলপমেন্ট টাস্কফোর্সের সেক্রেটারি আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী মেহর নিউজ এজেন্সিকে জানান, মানবদেহের বাইরে স্নায়ুকোষ কৃত্রিম উপায়ে বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণ করার সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞান অর্জন করেছে ইরান। শরীরের বাইরেও এই কোষগুলো মানুষের স্বাভাবিক মস্তিষ্কের মতোই সিন্যাপস তৈরি করতে পারছে এবং নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে।   আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসী বলেন, এটি মূলত মানুষের মস্তিষ্কের কোষের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রজন্মের কম্পিউটার প্রসেসর তৈরির প্রাথমিক ভিত্তি। ইরানের একটি নলেজ-বেজড প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির একটি পরীক্ষামূলক প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গেই ইরান সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে।   নতুন এই প্রযুক্তির দুটি যুগান্তকারী সুবিধা রয়েছে। প্রথমত, এটি প্রসেসিং বা তথ্য বিশ্লেষণের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, কম্পিউটারে ব্যবহৃত প্রচলিত সিলিকন চিপের তুলনায় এর বিদ্যুৎ ব্যবহারের হার প্রায় ১০ লাখ গুণ কম। এই দুটি অনন্য সুবিধার কারণে সিলিকন চিপের বিকল্প হিসেবে কোষ-ভিত্তিক প্রসেসরের দিকে ঝুঁকে পড়া এখন বিশ্বব্যাপী প্রধান অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে।   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বে 'অর্গানয়েড ইনটেলিজেন্স' বা জৈবিক প্রক্রিয়াকরণ মূলত এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে জীবন্ত মানব নিউরন ব্যবহার করে চিপ তৈরি করা হয়। এটি মানুষের মস্তিষ্কের অবিশ্বাস্য রকমের কম শক্তি খরচ করার অসাধারণ প্রাকৃতিক ক্ষমতাকে হুবহু অনুকরণ করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উচ্চ বিদ্যুৎ খরচের বিকল্প হিসেবে এই জৈবিক চিপের সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিকীকরণের পর্যায়ে যেতে অবশ্য এখনো কিছুটা সময় লাগবে।

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
পাখির ভাষা বুঝতে জেব্রা ফিঞ্চের ডাক রেকর্ড করছেন গবেষক এলি | ছবি: উলফগ্যাং ফোর্স্টমেয়ার
পাখিরা নিজেদের মধ্যে কী কথা বলে? রহস্য উন্মোচনে কোটি টাকার পুরস্কার জিতলেন মার্কিন বিজ্ঞানী

পাখিরা নিজেদের মধ্যে কীভাবে যোগাযোগ করে এবং তাদের ডাকের আড়ালে কী অর্থ লুকিয়ে থাকে, তা প্রথমবারের মতো উন্মোচন করেছেন এক মার্কিন বিজ্ঞানী। পাখির এই ভাষা বা ‘বার্ডসং’ ডিকোড করার অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা) পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষক ড. জুলি এলি এ বছর ‘কলার-ডলিটল প্রাইজ ২০২৬’ লাভ করেছেন।   মানুষের সাথে পশুপাখির দ্বিমুখী যোগাযোগ স্থাপন করার বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ড. জুলি মূলত ‘জেব্রা ফিঞ্চ’ (Zebra Finch) নামক ছোট গায়ক পাখির ওপর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। তিনি এই পাখির ডাকের ১১টি মূল ধরন এবং সেগুলোর সুনির্দিষ্ট অর্থ সফলভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন।   তার গবেষণায় দেখা গেছে, জেব্রা ফিঞ্চরা তাদের নির্দিষ্ট কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় দেয়, তারা সে মুহূর্তে কী করছে তা অন্য পাখিদের জানায় এবং একে অপরকে চিনে রাখে। এই কাজের জন্য ড. জুলি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পাখিদের বিভিন্ন ডাক রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্যে সেই আওয়াজগুলো বিশ্লেষণ করে তিনি এই ভাষা বুঝতে পারেন।   গবেষণার সত্যতা যাচাই করতে ড. জুলি পাখিদের নিয়ে একটি বিশেষ পরীক্ষাও চালান। সেখানে পাখিদের সামনে একটি বোতাম রাখা হয়, যা চাপলে বিভিন্ন আওয়াজ তৈরি হতো। কিছু নির্দিষ্ট আওয়াজের পর পাখিদের পুরস্কার হিসেবে খাবার দেওয়া হতো। পরীক্ষা চলার একপর্যায়ে পাখিরা বুঝতে পারে কোন আওয়াজের পর খাবার পাওয়া যাবে না, এবং তারা স্মার্টফোনে ভিডিও স্ক্রোল করার মতো করে সেই আওয়াজগুলো বোতাম চেপে এড়িয়ে যেতে শুরু করে।   জেরেমি কলার ফাউন্ডেশন এবং তেল আবিব ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের কোড উদ্ধার করার জন্য এই ফাউন্ডেশন ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি মহাপুরস্কারও ঘোষণা করে রেখেছে। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশ ধনকুবের জেরেমি কলার আশা প্রকাশ করেছেন যে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে ২০৩০ সালের মধ্যেই মানুষ পশুপাখির সাথে সরাসরি কথা বলতে সক্ষম হবে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
মহাকাশ বিজ্ঞানে চমক: প্লুটোর বাইরে মিলল রহস্যময় বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব

সৌরজগতের প্রান্তসীমায় অবস্থিত কুইপার বেল্টের একটি ক্ষুদ্র মহাজাগতিক বস্তুকে ঘিরে বায়ুমণ্ডলের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এতদিন ধারণা করা হতো, এই অঞ্চলের ছোট বস্তুগুলোর অভিকর্ষ বল এতই কম যে সেখানে বায়ুমণ্ডল থাকা অসম্ভব। তবে জাপানের একদল গবেষকের এই সাম্প্রতিক আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের সেই পুরনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। আবিষ্কারের নেপথ্যে: জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির সহযোগী অধ্যাপক ড. কো আরিমাতসুর নেতৃত্বে একদল গবেষক '২০০২ এক্সভি৯৩' (2002 XV93) নামক একটি ট্রান্স-নেপচুনিয়ান অবজেক্ট (TNO) পর্যবেক্ষণ করেন। প্রায় ৩১০ মাইল (৫০০ কিলোমিটার) চওড়া এই হিমশীতল পাথরটি সূর্য থেকে প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন মাইল দূরে অবস্থিত। বিজ্ঞানীরা যখন এটি একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় 'স্টেলার অকুলেশন' পদ্ধতি ব্যবহার করে পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তখন দেখা যায় নক্ষত্রটির আলো হঠাৎ নিভে না গিয়ে ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে। প্রায় ১.৫ সেকেন্ড স্থায়ী এই আলোর বিচ্ছুরণই প্রমাণ করে যে, বস্তুটিকে ঘিরে একটি পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? কুইপার বেল্টে প্লুটোর পর এটিই দ্বিতীয় কোনো বস্তু যেখানে বায়ুমণ্ডলের দেখা মিলল। সাধারণত বিশাল আকৃতির গ্রহ বা উপগ্রহের (যেমন শনির টাইটান) বায়ুমণ্ডল থাকে। গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার থেকে ধারণা করা যায় যে কুইপার বেল্টের অন্যান্য ছোট বস্তুগুলোতেও হয়তো বায়ুমণ্ডল রয়েছে। এই বায়ুমণ্ডল সম্ভবত বরফ আগ্নেয়গিরি (Ice volcanoes) থেকে নির্গত গ্যাস অথবা অন্য কোনো হিমশীতল বস্তুর সংঘর্ষের ফলে তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা। মিথেন বা কার্বন মনোক্সাইডের মতো গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেলে সৌরজগতের সৃষ্টিরহস্য সম্পর্কে আরও নতুন তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন মে ৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
‘ডার্ক ম্যাটার’ অনুসন্ধানে নাসার নতুন বিস্ময় 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান' টেলিস্কোপ

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নাসা তাদের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ মহাকাশ টেলিস্কোপ 'ন্যান্সি গ্রেস রোমান'-এর মূল কাঠামো তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি মহাকাশে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাবলের উত্তরসূরি, জেমস ওয়েবের সঙ্গী নাসার এই নতুন টেলিস্কোপটিকে বিখ্যাত বিজ্ঞানী এবং 'মাদার অফ হাবল' খ্যাত ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি বিখ্যাত হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি এলাকা একবারে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। যেখানে হাবল টেলিস্কোপের কোনো নির্দিষ্ট এলাকার ছবি তুলতে বছরের পর বছর সময় লাগত, সেখানে 'রোমান' সেই কাজ সম্পন্ন করবে মাত্র কয়েক দিনে। সহজ কথায়, এটি হাবলের চেয়ে ১০০০ গুণ দ্রুতগতিতে মহাকাশের মানচিত্র তৈরি করতে সক্ষম। ন্যান্সি গ্রেস রোমান টেলিস্কোপের মূল লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বের রহস্যময় 'ডার্ক এনার্জি' এবং 'ডার্ক ম্যাটার' নিয়ে গবেষণা করা। এর ৩০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা কোটি কোটি গ্যালাক্সির প্যানোরামিক ছবি তুলবে, যা মহাবিশ্বের প্রসারণ এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। এছাড়া আমাদের সৌরজগতের বাইরে হাজার হাজার নতুন গ্রহ বা 'এক্সোপ্ল্যানেট' খুঁজে বের করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারিগরি উৎকর্ষ মেরিল্যান্ডের গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারে এই টেলিস্কোপটির সংযোজন সম্পন্ন হয়েছে। এর আয়নাটি হাবলের মতোই ২.৪ মিটার চওড়া হলেও, এর প্রযুক্তিগত ক্ষমতা অনেক গুণ বেশি। এটি মহাকাশের এমন গভীর এবং প্রশস্ত ছবি তুলবে যা আগে কখনো সম্ভব হয়নি। নাসার প্রকল্প বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ যেখানে মহাবিশ্বের গভীরে সুনির্দিষ্ট কোনো বস্তুর ওপর ফোকাস করে, সেখানে রোমান টেলিস্কোপ পুরো আকাশজুড়ে এক বিশাল মানচিত্র তৈরি করবে। এই দুই টেলিস্কোপের যৌথ তথ্য মহাকাশ গবেষণায় নতুন বিপ্লব নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
শ্রমিক সংকট কাটাতে নামানো হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চালকবিহীন ট্রাক

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হংকংয়ের বন্দরে তীব্র শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো বন্দর এলাকায় পণ্য পরিবহনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত চালকবিহীন ট্রাক। হংকংয়ের কুয়াই তসিং টার্মিনালে এই স্বায়ত্তশাসিত ট্রাকগুলো ইতিমধ্যে সফলভাবে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই চালকবিহীন ট্রাকগুলো প্রায় ৮,০০০-এর বেশি কন্টেইনার মুভমেন্ট সম্পন্ন করেছে। মূলত বন্দরের ট্রেলার চালকদের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ সামাল দিতেই এই আধুনিক প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি স্বায়ত্তশাসিত ট্রাক দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। হংকংয়ের লজিস্টিক খাতে এটি একটি বড় মাইলফলক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহার শুধুমাত্র শ্রমিকের অভাবই পূরণ করবে না, বরং বন্দরের সার্বিক দক্ষতা এবং নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আধুনিক এই ট্রাকগুলো সেন্সর এবং এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে মানুষের সাহায্য ছাড়াই ভারী কন্টেইনার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে ‘বাথটাব রিং’

লাল গ্রহ মঙ্গলে এক সময় কি সত্যিই নীল জলরাশি বয়ে চলত? এই প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন এক জোরালো প্রমাণ পেয়েছেন, যা এই সম্ভাবনাকে প্রায় নিশ্চিত করে তুলেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধে এক বিশাল প্রাচীন সমুদ্রের উপকূলীয় স্তর বা 'কোস্টাল শেলফ' (Coastal Shelf) খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (ক্যালটেক) এবং ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিন-এর গবেষকদের মতে, কয়েকশ কোটি বছর আগে মঙ্গলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা সমুদ্রের নিচে ছিল। এই সমুদ্রটি ছিল অনেকটা পৃথিবীর মহাদেশীয় সোপানের (Continental Shelf) মতো। গবেষক দলের প্রধান আবদুল্লাহ জাকি জানান, তারা নাসার ‘মার্স অরবিটার লেজার অল্টিমিটার’ (MOLA) থেকে প্রাপ্ত ডেটা ব্যবহার করে মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করেছেন। সেখানে তারা এমন এক সমতল ভূমি বা উপকূলীয় ধাপের সন্ধান পেয়েছেন, যা কেবল দীর্ঘস্থায়ী এবং বিশাল কোনো সমুদ্রের ঢেউ ও পলির মাধ্যমেই সৃষ্টি হওয়া সম্ভব। একে বিজ্ঞানীরা বর্ণনা করছেন অনেকটা 'বাথটাব রিং'-এর মতো—যেমন বাথটাবের জল কমে গেলে দেয়ালে একটি দাগ থেকে যায়, ঠিক তেমনি মঙ্গলের বুকে এই চিহ্নটি প্রাচীন সমুদ্রের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, এই উপকূলীয় স্তরটি প্রায় ৬৬০ থেকে ১৩০০ ফুট চওড়া। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মঙ্গলের এই সমুদ্রটি কেবল অল্প সময়ের জন্য ছিল না, বরং কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে স্থিতিশীল ছিল। নদীগুলো যখন সমুদ্রে এসে পড়ত, তখন তারা প্রচুর পলি ও কাদা বহন করে নিয়ে আসত, যা কালক্রমে এই শেলফ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার কেবল মঙ্গলের ইতিহাস নয়, বরং সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনাকেও আরও জোরালো করে তুলল। যদি সেখানে দীর্ঘকাল সমুদ্র থেকে থাকে, তবে সেখানে অণুজীব বা অন্য কোনো প্রাণের বিবর্তন ঘটাও অসম্ভব নয়। ২০৩০ সালে মঙ্গলে অবতরণ করতে যাওয়া ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির ‘রোজালিন্ড ফ্র্যাঙ্কলিন’ রোভারটি এই অঞ্চলে প্রাণের সন্ধান চালাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
স্থলপথেই ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ চীনের! ড্রোন চার্জ হবে মহাকাশ থেকে আসা অদৃশ্য রশ্মিতে

বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও বাস্তবে এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চীনের বিজ্ঞানীরা, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার এবং সক্ষমতাকে আমূল বদলে দিতে পারে। সমুদ্রের বিশাল রণতরী বা ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ নয়, বরং এবার তারা তৈরি করেছে ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ বা স্থলচর যুদ্ধজাহাজ। এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো—এই যানটি উড়ন্ত ড্রোনকে কোনো তার ছাড়াই মাঝ-আকাশে চার্জ করতে সক্ষম! সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা বিজ্ঞানীরা এমন এক শক্তিশালী ‘মাইক্রোওয়েভ বিম’ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করেছেন, যা দিয়ে মাটিতে থাকা যান থেকে আকাশে উড়তে থাকা ড্রোনে বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে। ফলে ড্রোনগুলোকে চার্জ দেওয়ার জন্য আর নিচে নামতে হবে না। তারা দীর্ঘ সময় বা প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকাল ধরে আকাশে উড়তে পারবে। কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? সাধারণত ড্রোনগুলোর ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে সেগুলোকে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু চীনের এই নতুন সিস্টেমে স্থলভাগের বিশেষ ট্রাক বা বাহন থেকে উচ্চশক্তির মাইক্রোওয়েভ রশ্মি ড্রোনের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। ড্রোনে থাকা বিশেষ রিসিভার সেই রশ্মিকে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর করে ব্যাটারি চার্জ করে নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ড্রোনের স্থায়িত্বই বাড়াবে না, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদী হামলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর আগে ড্রোনের পাল্লা সীমিত থাকলেও, এই প্রযুক্তির ফলে ড্রোনগুলো শত শত মাইল দূরে থেকেও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারবে। চীনের এই উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে সামরিক বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বর্তমান যুগের ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ বা ড্রোন যুদ্ধের কৌশল এই এক উদ্ভাবনের ফলে পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
রোবো-ডাইভিং স্যুট, সমুদ্রের গভীরে দীর্ঘক্ষণ থাকার নতুন প্রযুক্তি চীনের

সমুদ্রের তলদেশে গবেষণা বা জটিল উদ্ধারকাজে ডুবুরিদের জন্য সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো অক্সিজেন। সেই সংকট কাটাতে এবার যুগান্তকারী এক রোবোটিক ডাইভিং স্যুট উদ্ভাবন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।  দাবি করা হচ্ছে, এই ‘রোবো-ডাইভিং স্যুট’ ব্যবহার করলে একজন ডুবুরি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম অক্সিজেন খরচ করে দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে অবস্থান করতে পারবেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ স্যুটটিতে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত মানের অ্যালগরিদম যা ডুবুরির প্রতিটি নড়াচড়া বা মুভমেন্টকে নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতে পারে। ফলে ডুবুরিকে সাতার কাটতে বা হাত-পা নাড়াতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয় না, যা তার শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা কমিয়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি শুধু অক্সিজেন সাশ্রয়ই করবে না, বরং গভীর সমুদ্রের প্রতিকূল পরিবেশে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমিয়ে আনবে। পানির নিচে ভারী কোনো যান্ত্রিক কাজ বা উদ্ধার তৎপরতার সময় এই রোবোটিক স্যুট ডুবুরিকে ‘শ্যাডো’ বা ছায়ার মতো সহায়তা করবে। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও ভবিষ্যতে সমুদ্র সম্পদ আহরণ এবং সামরিক ক্ষেত্রে এটি বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ আফ্রিকার মিরক্যাট রেডিও টেলিস্কোপ ওই সংকেতটি শনাক্ত করেছে।
৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে এল শক্তিশালী লেজার সংকেত, তাজ্জব বিজ্ঞানীরা!

মহাবিশ্বের অসীম রহস্যের বুক চিরে ভেসে এল এক শক্তিশালী সংকেত। প্রায় ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে আসা এই 'মেগা লেজার' রশ্মি দেখে রীতিমতো বিস্মিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার 'মিরক্যাট' (MeerKAT) রেডিও টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাধারণত মহাকাশে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় যেকোনো সংকেত ক্রমশ দুর্বল হয়ে একসময় মিলিয়ে যায়। কিন্তু এই সংকেতটি তার উজ্জ্বলতা ও তীব্রতা বজায় রেখে পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে, যা প্রচলিত অনেক বৈজ্ঞানিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই শক্তিশালী রশ্মিটি আসলে একটি ‘হাইড্রক্সিল মেগামেসার’। মহাকাশে দুটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে যখন গ্যাস সংকুচিত হয়, তখন হাইড্রক্সিল অণুগুলো উত্তেজিত হয়ে এই ধরণের তীব্র বিকিরণ ঘটায়। তবে এবারের সংকেতটি এতটাই শক্তিশালী যে একে বিজ্ঞানীরা ‘গিগামেসার’ হিসেবে অভিহিত করছেন। কিন্তু ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকেও কেন এই সংকেত ম্লান হলো না? এর উত্তরে বিজ্ঞানীরা ‘মহাকর্ষীয় লেন্সিং’ (Gravitational Lensing)-এর কথা বলছেন। তাদের মতে, সংকেতটি আসার পথে সামনে থাকা কোনো একটি ছায়াপথ ‘আতস কাঁচের’ মতো কাজ করেছে, যা সংকেতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের টেলিস্কোপে ধরা পড়তে সাহায্য করেছে।   এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের আদি গঠন এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
কন্ডোমের দিন শেষ! পুরুষদের ‘গর্ভনিরোধক’ তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা

এতদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের সিংহভাগ দায়ভার কেবল নারীদের ওপরেই বর্তাতো। তবে আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে সেই ধারায় আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। সম্প্রতি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী পুরুষদের জন্য বিশেষ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে শুক্রাণুর মূল স্টেম সেলগুলোকে কোনো প্রকার ক্ষতি না করেই সাময়িকভাবে সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।  গবেষণার প্রধান অধ্যাপক পলা কোহেনের মতে, এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ পদ্ধতি যেখানে কোনো হরমোনাল জটিলতা নেই। এই প্রক্রিয়ায় অণ্ডকোষে প্রয়োগ করা ইনজেকশন বা পিল শুক্রাণুর গতিপথকে সাময়িকভাবে স্থবির করে দেয়, যা গর্ভধারণ রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, এই পদ্ধতিটি স্থায়ী নয়। কোনো পুরুষ যদি পুনরায় সন্তান নিতে চান, তবে এই চিকিৎসা বন্ধ করার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসবে এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপরও এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সফলভাবে মানুষের ওপর প্রয়োগ করা গেলে এটি পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
সৌরজগতে প্রাণের রহস্য উন্মোচনে চীনের বিজ্ঞানীদের অভাবনীয় সাফল্য

মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে চাঁদের বুক থেকে সংগৃহীত মাটি। চীনের চ্যাং'ই-৫ এবং চ্যাং'ই-৬ মিশনের মাধ্যমে আনা চন্দ্ররেণু বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা একাধিক নাইট্রোজেনযুক্ত জৈব যৌগের সন্ধান পেয়েছেন।  আন্তর্জাতিক গবেষক দলের এই আবিষ্কার সৌরজগতে জৈব পদার্থের বিবর্তন এবং পৃথিবীতে প্রাণের উৎস সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আদি সৌরজগতে গ্রহাণু এবং ধূমকেতুগুলো ছিল মূলত মহাজাগতিক বার্তাবাহক। এগুলোই বিভিন্ন গ্রহে কার্বন, নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেনের মতো প্রাণের জন্য অপরিহার্য উপাদান পৌঁছে দিত। পৃথিবীর সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে এই আদি রেকর্ডগুলো মুছে গেলেও চাঁদের শান্ত পরিবেশে এই উপাদানগুলো কোটি কোটি বছর ধরে সংরক্ষিত ছিল।  গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের মাটিতে থাকা এই জৈব উপাদানগুলো মূলত তিনটি অবস্থায় পাওয়া যায় এবং এগুলোতে অ্যামাইড ফাংশনাল গ্রুপের উপস্থিতি রয়েছে, যা জটিল রাসায়নিক রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়।  এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, মহাকাশ থেকে আসা জৈব পদার্থগুলো কেবল চাঁদে জমা হয়নি, বরং সেখানে সৌর বিকিরণ ও উল্কাপাতজনিত প্রভাবে নতুন রূপে বিবর্তিত হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
যিশুর শেষ শয্যায় বাংলাদেশের ছোঁয়া? তুরিনের রহস্যময় চাদরে মিলল চমকপ্রদ তথ্য

যিশুর শেষ শয্যায় বাংলাদেশের ছোঁয়া? তুরিনের রহস্যময় চাদরে মিলল চমকপ্রদ তথ্য হযরত ঈসা (আঃ) বা যিশু খ্রিস্টের পবিত্র দেহ যে চাদর দিয়ে ঢাকা ছিল, সেই ঐতিহাসিক ‘শবাচ্ছাদন বস্ত্র’ বা ‘শ্রাউড অব তুরিন’ নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্যে যুক্ত হলো নতুন এক মাত্রা। সাম্প্রতিক এক ডিএনএ গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই পবিত্র কাপড়ের সঙ্গে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের গভীর সংযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশও এই উপমহাদেশের অংশ। ইতালির পাডোভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিয়ান্নি বারকাচ্চিয়ার নেতৃত্বে একদল গবেষক এই চাদর থেকে পাওয়া ধূলিকণা এবং ফাইবারের জেনেটিক বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কাপড়টিতে থাকা ডিএনএ-র প্রায় ৩৮.৭ শতাংশই উপমহাদেশীয় বংশোদ্ভূত।  বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই কাপড়টি প্রাচীন সিন্ধু উপত্যকা অঞ্চল থেকে আমদানিকৃত লিনেন বা সুতো দিয়ে তৈরি হয়ে থাকতে পারে, যা প্রাচীন রেশম পথ বা সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছিল। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, গুড ফ্রাইডে-তে যিশুর দেহ ক্রুশ থেকে নামানোর পর একটি মসীনার কাপড়ে জড়িয়ে সমাধিস্থ করা হয়েছিল।  ইতালির তুরিন শহরের ‘ক্যাথিড্রাল অব সেন্ট জন দ্য ব্যাপ্টিস্ট’-এ সংরক্ষিত এই ৪.৩৬ মিটার লম্বা কাপড়ে আজও এক দীর্ঘকায় পুরুষের আবয়ব এবং রক্তের ছাপ দৃশ্যমান। নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যিশুর সেই অন্তিম বিদায়ের চাদরটি হয়তো তৎকালীন উপমহাদেশের দক্ষ কারিগরদের বোনা কাপড় ছিল।  যদিও এই চাদরটির সত্যতা নিয়ে বিজ্ঞান মহলে বিতর্ক রয়েছে, তবে উপমহাদেশের সাথে এর বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্র স্থাপনের এই দাবি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রেকর্ড গড়ে পৃথিবীর পথে আর্টেমিস-২: মহাকাশে নতুন ইতিহাস লিখলেন চার নভোচারী

৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে মহাকাশ জয়ের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল নাসা। সোমবার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।  এর আগে কোনো মানুষ পৃথিবী থেকে এত দূরে ভ্রমণ করেনি। বুধবার চাঁদের কক্ষপথ থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নভোচারীরা তাদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানান।  মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে ঘণ্টায় প্রায় ৩৮ হাজার কিলোমিটারের বেশি গতিতে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হচ্ছেন। ফেরার পথে তারা চাঁদের অন্ধকার দিক (ফার সাইড) এবং একটি বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছেন। নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন জানান, খালি চোখে চাঁদের পৃষ্ঠ দেখা ছিল এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। এই মিশনের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই ২০২৮ সালে মানুষকে পুনরায় চাঁদের বুকে নামানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার রাতে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে তাদের এই ওরিয়ন ক্যাপসুল।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
১১ হাজার বছরের প্রাচীন রহস্যের সমাধান: ব্রিটেনের গুহায় মিলল আদিম শিশুর দেহাবশেষ

১১ হাজার বছর আগের এক বিষাদময় উপাখ্যান! শেষ তুষারযুগের বরফ যখন গলতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে উত্তর ব্রিটেনের এক অন্ধকার গুহায় সমাহিত করা হয়েছিল তিন বছরের এক ছোট্ট শিশুকে। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা উন্মোচন করেছেন মানব ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়। কামব্রিয়ার ‘হিনিং উড বোন কেভ’ থেকে উদ্ধার হওয়া এই দেহাবশেষটি বর্তমানে উত্তর ব্রিটেনের ইতিহাসে আবিষ্কৃত প্রাচীনতম মানুষের নিদর্শন। বিজ্ঞানীদের তথ্যানুযায়ী, শিশুটি খ্রিস্টপূর্ব ৯২৯০ থেকে ৮৯২৫ অব্দের মাঝামাঝি সময়ে মারা গিয়েছিল। আধুনিক ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং রেডিওকার্বন ডেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শিশুটির বয়স ছিল মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে তিন বছর। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘অসিক ল্যাস’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে এক আবেগঘন সত্য। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেকার সেই আদিম মানুষগুলোও যে তাদের প্রিয়জনদের প্রতি কতটা যত্নশীল ছিল, তার প্রমাণ মেলে এই সমাধিতে। শিশুটিকে গুহার ভেতর অত্যন্ত সম্মানের সাথে সমাহিত করা হয়েছিল। তার দেহের সাথে পাওয়া গেছে পাঁচটি ছিদ্রযুক্ত ঝিনুকের পুঁতি, যা তৎকালীন সময়ের গয়না বা বিশেষ উপহার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এটি প্রমাণ করে, প্রাচীনকালেও মৃতদেহ সৎকারে শোক এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হতো। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই গুহায় খননকাজ চালিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক মার্টিন স্টেবেলস। তার মতে, গুহাটি সম্ভবত তৎকালীন মানুষের কাছে কোনো পবিত্র বা আধ্যাত্মিক স্থান ছিল। ল্যাঙ্কাশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক ডক্টর রিক পিটারসন এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানের এক অভাবনীয় জয় হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, এত প্রাচীন দেহাবশেষ থেকে লিঙ্গ ও বয়স নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা ব্রিটেনের আদিম জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা বুঝতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ থেকে সরাসরি পৃথিবীতে ফোন, শুরু হলো আর্টেমিস-২-এর ঘরে ফেরার পালা

মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে পৃথিবীর দিকে ফিরতে শুরু করেছে নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের ওরিয়ন মহাকাশযান। দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শেষে চার নভোচারী এখন তাঁদের ১০ দিনের এই রোমাঞ্চকর অভিযানের শেষ ধাপে রয়েছেন। গতকালের (৬ এপ্রিল) ঐতিহাসিক 'লুনার ফ্লাইবাই' বা চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার পর আজ সপ্তম দিনে নভোচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) থাকা সহকর্মীদের সাথে একটি দীর্ঘ দূরত্বের অডিও কলে যুক্ত হন। প্রায় ১৫ মিনিটের এই কথোপকথনে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন। এই অভিযানে নভোচারীরা অ্যাপোলো-১৩-এর গড়া পূর্বের রেকর্ড ভেঙে পৃথিবী থেকে সর্বাধিক দূরত্ব (প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল) অতিক্রম করার এক নতুন বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছেন। ওরিয়ন মহাকাশযানটি চাঁদের উল্টো পিঠ (Far Side) দিয়ে যাওয়ার সময় মহাজাগতিক এক বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করেছে, যা পৃথিবীর বুক থেকে দেখা অসম্ভব। মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ ও পাইলট ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের পৃষ্ঠের অসাধারণ সব খানাখন্দ (Craters) এবং ধুলোবালির স্তরের বর্ণনা দিয়েছেন। ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, "চাঁদের এই দৃশ্য দেখে আমি অভিভূত। এটি এতটাই বাস্তব মনে হচ্ছিল যে মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল আমি চাঁদের মাটির খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছি।" নভোচারীরা তাঁদের ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালার কাছ থেকে হাই-রেজোলিউশন ক্যামেরা দিয়ে অসংখ্য ছবি তুলেছেন, যা ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী বসতি স্থাপনে বিজ্ঞানীদের সাহায্য করবে। নাসা জানিয়েছে, ওরিয়ন এখন চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কাটিয়ে পৃথিবীর পথে যাত্রা শুরু করেছে। আজ রাতে মহাকাশযানের থ্রাস্টারগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু করার মাধ্যমে এর গতিপথ সংশোধন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো উপকূলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি অবতরণ করবে। এই অভিযানে আছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। ২০২৬ সালের এই সফল মিশনটি মূলত আগামী বছরের আর্টেমিস-৩ মিশনের প্রস্তুতি, যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনো নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী চাঁদের মাটিতে পা রাখবেন। তথ্যসূত্র: নাসা অফিশিয়াল ব্লগ।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ থেকে বিদ্যুৎ ও শক্তিশালী অস্ত্র: চীনের নতুন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল চীন। বেইজিংয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি নতুন প্রজন্মের স্পেস সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের (SSPP) নকশা প্রকাশ করেছেন। তবে এই প্রকল্প কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর নেপথ্যে থাকা বিশাল সামরিক সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কী এই নতুন প্রযুক্তি? চীনের গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, এই বিশালাকার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করবে এবং সূর্যের আলো থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করবে। সংগৃহীত এই শক্তি মাইক্রোওয়েভ বা লেজারের মাধ্যমে সরাসরি পৃথিবীতে অবস্থিত রিসিভার স্টেশনে পাঠানো হবে। মেঘ, বৃষ্টি বা রাত—কোনো কিছুই এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাধা হতে পারবে না, ফলে এটি হবে অবিরাম শক্তির উৎস। সামরিক সক্ষমতা ও উদ্বেগের কারণ: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তি কেবল সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ দেবে না, বরং এটি মহাকাশ থেকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তি বা এনার্জি বিম নিক্ষেপ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে শত্রুদেশের রাডার ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়া, স্যাটেলাইট ধ্বংস করা বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করা সম্ভব হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে একটি 'মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র' হিসেবেও কাজ করতে পারে, যা লেজার ওয়েপন বা মাইক্রোওয়েভ পালস ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিতে সক্ষম। প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ: যদিও এই বিশাল স্থাপনা মহাকাশে তৈরি করা এবং সেখান থেকে নিরাপদে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো একটি অত্যন্ত জটিল প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ, তবুও চীনের বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাসী। তারা মনে করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। এই প্রকল্পটি সফল হলে চীন জ্বালানি খাতে যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, তেমনি মহাকাশ যুদ্ধ বা 'স্পেস ওয়ারফেয়ার'-এ অপরাজিত শক্তিতে পরিণত হবে। আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশগুলোও এখন চীনের এই 'মহাকাশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র' প্রকল্পের গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে মহাকাশ দখলের এই লড়াই এখন কেবল বিজ্ঞানের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি রণকৌশলের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের এই নতুন পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
চাঁদের পথে বড় বাধা ‘টয়লেট বিভ্রাট’: মহাকাশযানে উৎকট গন্ধে দিশেহারা নভোচারীরা

প্রায় পাঁচ দশক পর মানুষকে পুনরায় চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে নিতে কাজ করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA)। কিন্তু এই ঐতিহাসিক অভিযানের প্রস্তুতির মাঝেই দেখা দিয়েছে এক অস্বস্তিকর বিপত্তি। আর্টেমিস-২ (Artemis II) মিশনের জন্য ব্যবহৃত মহাকাশযানে টয়লেট বা শৌচাগার নিয়ে বড় ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন নভোচারীরা।   টয়লেটের ফ্ল্যাশ ঠিকমতো কাজ না করায় মহাকাশযান জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে উৎকট দুর্গন্ধ, যা নভোচারীদের স্বাভাবিক কাজের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর অনুযায়ী, আর্টেমিস-২ মিশনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নভোচারীরা যখন বিভিন্ন যান্ত্রিক পরীক্ষা চালাচ্ছেন, তখনই ওরিয়ন (Orion) ক্যাপসুলের টয়লেট সিস্টেমে ত্রুটি ধরা পড়ে।   নভোচারীরা অভিযোগ করেছেন যে, মূত্র ত্যাগের পর ফ্ল্যাশ করার সময় তরল বর্জ্য ঠিকমতো নিষ্কাশিত হচ্ছে না। ফলে সেই বর্জ্য থেকে মহাকাশযানের ভেতরে তীব্র ও অস্বস্তিকর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। শূন্য মাধ্যাকর্ষণ বা জিরো গ্র্যাভিটিতে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। আর্টেমিস-২ মিশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে প্রথমবারের মতো চারজন নভোচারী চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার কথা রয়েছে। প্রায় ১০ দিনের দীর্ঘ এই যাত্রায় নভোচারীদের সুস্থতা এবং স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা অপরিহার্য। কিন্তু টয়লেট বা ‘ইউনিভার্সাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (UWMS) যদি সঠিকভাবে কাজ না করে, তবে দীর্ঘ যাত্রায় নভোচারীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।   কারিগরি জটিলতা: মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মহাকাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নত মানের পাখা ও এয়ার ফিল্টার ব্যবহার করা হয়। আর্টেমিস-২ এর ক্ষেত্রে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্ল্যাশ সিস্টেমের প্রেশার বা বায়ু চলাচলের পথে কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে। যার ফলে বাতাস পরিশোধিত হওয়ার বদলে দুর্গন্ধ ভেতরেই আটকে থাকছে। পূর্বের অভিজ্ঞতা: মহাকাশে টয়লেট সমস্যা নাসার জন্য নতুন নয়। এর আগেও স্পেস-এক্স (SpaceX) এর ড্রাগন ক্যাপসুলেও একবার একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল, যার ফলে নভোচারীদের ডায়াপার ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হয়েছিল। নাসার প্রকৌশলীরা বর্তমানে এই ত্রুটি সারিয়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ আর্টেমিস-২ মিশনের যাত্রা শুরুর কথা রয়েছে। তার আগেই এই ‘গন্ধময়’ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে না পারলে অভিযানের সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নভোচারীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের মানবিক প্রয়োজনগুলো নিশ্চিত করাই এখন নাসার প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
চীনে মিলল কোটি কোটি বছরের পুরনো জীবাশ্ম: বদলে যেতে পারে পৃথিবীর বিবর্তনবিদ্যার ইতিহাস

পৃথিবীতে জটিল প্রাণের বিবর্তন ঠিক কবে এবং কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। সম্প্রতি চীনে আবিষ্কৃত একদল অতি প্রাচীন জীবাশ্ম (Fossil) বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই আবিষ্কারটি পৃথিবীর আদিম প্রাণের বিকাশের সময়কালকে আরও কয়েক কোটি বছর পিছিয়ে দিতে পারে। দক্ষিণ চীনের পার্বত্য অঞ্চলে একটি প্রাচীন শিলাস্তরে এই জীবাশ্মগুলোর সন্ধান পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ভূতত্ত্ববিদরা। গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো প্রায় ৫৫০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন (৫৫ থেকে ৬০ কোটি) বছর আগের। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই জীবাশ্মগুলোতে আদিম বহুকোষী প্রাণের জটিল গঠন লক্ষ্য করা গেছে, যা এর আগে এই সময়ের কোনো নমুনায় দেখা যায়নি। আবিষ্কারের গুরুত্ব: বিজ্ঞানীদের এতদিনকার ধারণা ছিল যে, পৃথিবীতে ‘ক্যাম্ব্রিয়ান পিরিয়ড’ (Cambrian Period) বা প্রায় ৫৪ কোটি বছর আগে প্রাণের হঠাৎ এবং দ্রুত বিবর্তন ঘটেছিল। কিন্তু চীনের এই নতুন আবিষ্কার প্রমাণ করছে যে, তারও অনেক আগে থেকে পৃথিবীতে জটিল গঠনের প্রাণী বা জীব বাস করত। গবেষক দলের প্রধান বলেন, "আমরা যা পেয়েছি তা কেবল কিছু পাথর নয়, বরং প্রাণের ইতিহাসের একটি হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়। এই জীবাশ্মগুলো প্রমাণ করে যে, বিবর্তন আমরা যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়েও ধীরগতিতে এবং অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছিল।" গঠনগত বৈশিষ্ট্য: প্রাপ্ত জীবাশ্মগুলোতে আদিম অমেরুদণ্ডী প্রাণীর দেহের প্রতিসাম্য (Symmetry) এবং বিশেষায়িত টিস্যু বা কলার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এটি নির্দেশ করে যে, সেই প্রাচীনকালেই প্রাণীরা চলাফেরা করতে এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শুরু করেছিল। বিবর্তনবাদে নতুন মাত্রা: এই আবিষ্কারটি ডারউইনের বিবর্তনবাদ এবং পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক সময়রেখা নিয়ে পুনরায় ভাববার অবকাশ তৈরি করেছে। বিশ্বজুড়ে জীববিজ্ঞানীরা এই অনুসন্ধানকে ‘বিস্ময়কর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এটি কেবল নতুন একটি প্রজাতির খোঁজ নয়, বরং আমাদের আদি পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে জানার এক নতুন চাবিকাঠি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক গবেষক দল জীবাশ্মগুলোর আরও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই গবেষণা শেষ হলে জীববিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকের অনেক তথ্যই পুনরায় লিখতে হবে। পৃথিবীর রহস্যময় সৃষ্টিতত্ত্ব এবং প্রাণের উন্মেষ নিয়ে চীনের এই আবিষ্কার আগামী দিনগুলোতে বিজ্ঞানের জগতে আরও নতুন নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০