আমেরিকা

আইসের নতুন প্রধান হিসেবে ট্রাম্পের পছন্দ ল্যান্স শ্রয়ার, অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোরতার ইঙ্গিত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:১৪
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)-এর নতুন পরিচালক হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত ওকলাহোমা স্টেট ট্রুপার ল্যান্স শ্রয়ারকে মনোনয়ন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক নিয়োগ নয়; বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের স্পষ্ট বার্তাও বহন করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশিসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত লাখো অভিবাসী পরিবারের জন্য এই পরিবর্তনের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।


শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রায় তিন দশকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ল্যান্স শ্রয়ারকে আইসের পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

 

ট্রাম্প বলেন, ওকলাহোমায় দীর্ঘ ২৯ বছর দায়িত্ব পালনকারী শ্রয়ার একজন "প্রকৃত দেশপ্রেমিক" এবং দক্ষ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা। তিনি অপরাধ দমন এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলেও দাবি করেন।

 

আইস যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন বাস্তবায়নের প্রধান সংস্থাগুলোর একটি। সংস্থাটি অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, আটক, বহিষ্কার এবং কর্মস্থল বা বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। ফলে সংস্থার নেতৃত্বে পরিবর্তন সরাসরি অভিবাসন নীতির বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

২০১৭ সালের পর থেকে আইসে সিনেট-অনুমোদিত কোনো স্থায়ী পরিচালক দায়িত্ব পালন করেননি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে সংস্থাটি এতদিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।

 

শ্রয়ারের সবচেয়ে আলোচিত অভিজ্ঞতার একটি হলো ২৮৭(জি) কর্মসূচিতে সম্পৃক্ততা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফ অফিসগুলো আইসের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে অংশ নিতে পারে।

 

ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় এই অভিজ্ঞতার বিশেষ উল্লেখ করে বলেন, শ্রয়ার বিপজ্জনক অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং বেআইনি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।


বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগ ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি কৌশলের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হতে পারে।

 

তবে সমালোচকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে ল্যান্স শ্রয়ার খুব পরিচিত কোনো ব্যক্তি নন। তাঁর প্রকাশ্য প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার তথ্যও সীমিত। ফলে আইসের মতো বড় একটি ফেডারেল সংস্থা পরিচালনায় তাঁর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোরও আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ধারাবাহিকতায় আইসের অভিযান আরও জোরদার হতে পারে।

 

ল্যান্স শ্রয়ারের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাঁর মনোনয়ন সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। স্বাধীনতা দিবসের ছুটি শেষে কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হলে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।

 

রিপাবলিকানরা দ্রুত অনুমোদনের পক্ষে থাকলেও ডেমোক্র্যাটরা আইসের জবাবদিহি, অভিবাসীদের অধিকার এবং সংস্থার ক্ষমতার পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। ফলে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোনয়ন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে কোনো ধরনের শিথিলতার বার্তা দিতে চাইছে না। বরং কঠোর আইন প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থানই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ভুয়া পরিচয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে কানসাসে মামলা। ছবি: সংগৃহীত
ভুয়া পরিচয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা করেছে মার্কিন সরকার। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ড ও পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস জেলার অ্যাটর্নি কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কানসাস অঙ্গরাজ্যের ওলেথ শহরের বাসিন্দা হরিন্দর সিং, যিনি হরিন্দর সিং সাংহেরা ও রুশপাল সিং নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। তদন্তে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)।   মার্কিন সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, হরিন্দর সিং বেআইনিভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। তাই আদালতের কাছে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং নাগরিকত্বের সনদ (সার্টিফিকেট অব ন্যাচারালাইজেশন) বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবার অভিবাসন কর্মকর্তাদের নজরে আসেন তিনি। সে সময় তিনি নিজের নাম রুশপাল সিং বলে পরিচয় দেন।   পরে ১৯৯৫ সালের আগস্টে একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ দেন। তবে সরকারি নথিতে এমন কোনো তথ্য নেই, যা থেকে বোঝা যায় তিনি কখনো যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছিলেন। এর এক বছর পর, ১৯৯৬ সালের জুনে তিনি 'হরিন্দর সিং' নামে নতুন পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আবেদনে তিনি শুধু নামই পরিবর্তন করেননি, নিজের জন্মতারিখ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের তারিখ এবং আবেদন করার ভিত্তিও পরিবর্তন করেছিলেন।   সেই আবেদন অনুমোদনের পর ২০০০ সালের অক্টোবরে তিনি একই পরিচয়ে গ্রিন কার্ড পান। এরপর প্রায় আট বছর পর 'হরিন্দর সিং' পরিচয়েই তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। তদন্তকারীদের দাবি, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তিনি আগের পরিচয়, বহিষ্কারের আদেশ এবং পূর্বের অভিবাসন-সংক্রান্ত ইতিহাসের কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।   মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, যদি কেউ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে সেই নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। সংস্থাটি জনগণকে এ ধরনের প্রতারণার তথ্য থাকলে নির্ধারিত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।   মামলাটি বর্তমানে কানসাসের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ইউএস অ্যাটর্নি'স অফিস, ডিস্ট্রিক্ট অব কানসাস) ও ইউএসসিআইএস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ২১:৫৭
কানসাসে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

কানসাসে একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু, স্ত্রী ও চার শিশুসন্তানকে হত্যার পর বাবার আত্মহত্যা

নিউ জার্সির সমারভিলে বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত

নিউ জার্সিতে বাসা থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার ফেডারেল চুক্তি ফিরিয়ে দিল টেক্সাসের একটি আইন প্রতিষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার ১৫ কোটি ডলারের চুক্তি ফিরিয়ে দিল ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ আইন প্রতিষ্ঠান

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ১৩ দেশের টিপিএস সুবিধা বাতিল বা বাতিলের পথে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে ১০ লাখের বেশি অভিবাসীর সুরক্ষা বাতিল, অনিশ্চয়তায় লাখো মানুষের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচি 'টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস' (টিপিএস) ১৩টি দেশের জন্য বাতিল বা বাতিলের প্রক্রিয়ায় নেওয়ায় প্রায় ১০ লাখ ৪৫ হাজার অভিবাসী সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন। এর ফলে বহু মানুষ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ টিপিএস সুবিধার আওতায় ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে তাদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের এই সুরক্ষা শেষ হয়ে যাচ্ছে বা শেষ হওয়ার পথে।   টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানবিক কর্মসূচি, যা ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে চালু হয়। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো গুরুতর সংকটে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়া সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার এবং কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই অনুমোদনের মেয়াদ সাধারণত ৬ থেকে ১৮ মাস হলেও অতীতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নবায়ন করা হয়েছে।   ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার সময় ১৭টি দেশের জন্য টিপিএস কার্যকর ছিল। এরপর প্রশাসন ১৩টি দেশের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বাতিল বা বাতিলের উদ্যোগ নেয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভেনেজুয়েলা, হাইতি এবং হন্ডুরাসের নাগরিকরা।   বর্তমানে আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, হাইতি, হন্ডুরাস, মিয়ানমার, নেপাল, নিকারাগুয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেনের টিপিএস বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার ক্ষেত্রেও টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা আদালতের নির্দেশে আপাতত স্থগিত রয়েছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, টিপিএস হারানোদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ভেনেজুয়েলার নাগরিক। দুই দফায় দেওয়া টিপিএস সুবিধার আওতায় থাকা ৬ লাখ ১৫ হাজারের বেশি ভেনেজুয়েলান এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়েছেন। দ্বিতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠী হাইতির নাগরিক, যাদের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার।   এদিকে ২০২৬ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার টিপিএস বাতিলের অনুমতি দেয়। ওই রায়ের পর প্রশাসনের জন্য অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।   ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশের জন্য টিপিএস বাতিল করা হয়েছে, সেসব দেশে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং সেখানে নাগরিকদের ফিরে যাওয়া সম্ভব। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, টিপিএস কখনোই স্থায়ী অভিবাসন কর্মসূচি নয়; এটি সাময়িক মানবিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই চালু করা হয়েছিল।   তবে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। তাদের দাবি, হাইতি, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন, সিরিয়াসহ অনেক দেশে এখনো রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিপিএস বাতিল করলে হাজারো মানুষ নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়বেন। কিছু সংগঠন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলেও অভিযোগ করেছে।   অনেক টিপিএসধারী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। উদাহরণ হিসেবে হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ার নাগরিকদের অনেকে ১৯৯৮ সালে হারিকেন মিচের পর যুক্তরাষ্ট্রে এসে টিপিএস পান। তারা প্রায় তিন দশক ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন।   বর্তমানে চারটি দেশের নাগরিকদের জন্য টিপিএস এখনো কার্যকর রয়েছে। এগুলো হলো এল সালভাদর, ইউক্রেন, লেবানন ও সুদান। এসব দেশের প্রায় ২ লাখ ৭৩ হাজার মানুষ এখনো এই সুবিধা পাচ্ছেন। তবে এসব সুবিধার মেয়াদও ২০২৬ সালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। ট্রাম্প প্রশাসন এগুলো আবার নবায়ন করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   এদিকে টিপিএস হারানো অনেক অভিবাসী এখন বিকল্প আইনি পথ খুঁজছেন। কেউ আশ্রয়ের আবেদন করছেন, কেউ স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করছেন। একই সঙ্গে প্রশাসন কিছু অভিবাসীকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগে উৎসাহিত করছে এবং অনেকের কর্মসংস্থানের অনুমতিও বাতিলের পদক্ষেপ নিয়েছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের জুনের এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। বিপরীতে ৩৯ শতাংশ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট ছিল। ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও রিপাবলিকান সমর্থকদের অধিকাংশ তা সমর্থন করেছেন।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যতগুলো দেশের টিপিএস বাতিল করা হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্য যেকোনো প্রেসিডেন্টের তুলনায় বেশি। ফলে দেশটির অভিবাসন নীতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ২০:৫৫
এলিজাবেথ স্ট্রিট গার্ডেনে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

এলিজাবেথ স্ট্রিট গার্ডেনে আবাসন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারছেন না মামদানি

মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

টেক্সাসে মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে দুই আরোহী নিহত

বমিতে শ্বাসনালি আটকে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক মুমূর্ষু শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা

ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বাসনালিতে বমি আটকে মৃত্যুর মুখে তিন বছরের শিশু, প্রাণ বাঁচাল পুলিশ

বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা শাজিয়া হক
ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শাজিয়া হক

ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা শাজিয়া হক। আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলমেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ শাজিয়া হক ব্যবসা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শাজিয়া যুক্তরাষ্ট্রে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন কমিউনিটি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন।   তার প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, তিনি লালমাটিয়া কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলেস ভ্যালি কলেজ থেকে লিবারেল আর্টসে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি চ্যানেল আইল্যান্ডস থেকে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন।   স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বেও শাজিয়া হকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের উইলশায়ার সেন্টার-কোরিয়াটাউন নেবারহুড কাউন্সিলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের নেবারহুড কাউন্সিলের নথিতে তাকে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সক্রিয় ছিলেন।   শাজিয়া হকের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে স্থানীয় জননিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় ব্যবসার বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সঙ্গে সিটি সরকারের যোগাযোগ আরও সহজ করা এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা সরাসরি সিটি কাউন্সিলে তুলে ধরার ওপরও তিনি জোর দিচ্ছেন।   ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন শাজিয়া। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় ছোট ব্যবসার বিকাশে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার জীবনীতে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও শাজিয়া হকের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সংগঠন ও বিভিন্ন আয়োজনে তার সম্পৃক্ততার কথা তার প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও সঞ্চালক ও আয়োজক হিসেবে কাজ করেছেন।   বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছেন শাজিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশ এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা ও স্বার্থ নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।   অভিবাসন ইস্যুতেও সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্য জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে স্পেকট্রাম নিউজ। ওই প্রতিবেদনে শাজিয়া হক তার বাবা-মা ও ভাইবোনদের বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং নতুন সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কথা বলেন।   কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও শাজিয়া হকের দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস-হলিউডভিত্তিক ফোবানা আয়োজনের কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত রয়েছেন বলে কমিউনিটি পর্যায়ে জানানো হয়েছে।   মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে শাজিয়া হকের প্রার্থিতা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ বাড়ার ধারাবাহিকতায় তার এই নির্বাচনী প্রচেষ্টা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   মন্টেবেলো সিটির সরকারি নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সাধারণ পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ওই নির্বাচনে ডিস্ট্রিক্ট ১-এর কাউন্সিলমেম্বার পদও রয়েছে। নির্বাচিত কাউন্সিলমেম্বারের মেয়াদ হবে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।   শাজিয়া হকের সামনে এখন মূল লক্ষ্য স্থানীয় ভোটারদের কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থন বাড়ানো। নির্বাচনে জয়ী হলে ব্যবসা ও কমিউনিটি নেতৃত্বের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করার সুযোগ পাবেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৭:৩০
সন্তানদের নিরাপদ রাখতে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন এক সাহসী মা ড্যানিয়েল রিভেরা (৪০)

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে সন্তানদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাক্তন প্রেমিকের গুলিতে প্রাণ দিলেন পাঁচ সন্তানের মা

স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ম্যাককেসন

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ম্যাককেসনে শত শত চাকরি, বাংলাদেশিদের জন্য যেসব সুযোগ

বামে: মিফতাহ সিদ্দিকী | ডানে: জুয়েল সাদত

মিফতাহ সিদ্দিকীর নিয়োগে সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে আশাবাদ জুয়েল সাদতের

0 Comments