যুক্তরাষ্ট্রে এটিএম থেকে টাকা তুলে বের হতেই বৃদ্ধকে ছিনতাই, সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন এলাকার একটি ওষুধের দোকানের বাইরে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে বের হওয়ার পরপরই ৭৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। টেক্সাসের পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগ এই চঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রধান সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ জুন পিয়ারল্যান্ডের একটি ওয়ালগ্রিনস ফার্মেসির বাইরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই প্রবীণ নাগরিক বুথ থেকে নগদ অর্থ তোলার পরপরই ওত পেতে থাকা এক ছিনতাইকারী আকস্মিকভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারী বৃদ্ধকে শারীরিক নথিপত্রসহ আঘাত করে তাঁর মানিব্যাগ এবং সদ্য তোলা সব নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগ ইতিমধ্যে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে হিউস্টনের বাসিন্দা দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতারকৃত ওই দুজন এই অপরাধের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিল। তাদের একজন পুরো সময় চারপাশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিল বা লুকআউট হিসেবে কাজ করছিল এবং অন্যজন গাড়ি নিয়ে ছিনতাইকারীকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।
লুকআউট এবং গাড়িচালককে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলেও মূল হামলাকারী এখনো পলাতক রয়েছে। পুলিশ জানায়, যে ব্যক্তি সরাসরি বৃদ্ধের ওপর চড়াও হয়েছিল এবং টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিল, তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে গোয়েন্দারা। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া তার ছবি প্রকাশ করে পুলিশ আশা করছে, কোনো না কোনো নাগরিক তাকে চিনে ফেলবে এবং তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে তারা অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। পলাতক আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে পিয়ারল্যান্ড পুলিশ।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউ জার্সির ম্যানালাপান হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আইজা হাসান যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের থার্মো ফিশার সায়েন্টিফিক জুনিয়র ইনোভেটরস চ্যালেঞ্জের সেরা ৩০০ জুনিয়র উদ্ভাবকের তালিকায় স্থান পেয়েছে। অষ্টম শ্রেণিতে মার্লবোরো মেমোরিয়াল মিডল স্কুলে পড়ার সময় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে করা গবেষণার জন্য এই জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে আইজা। সোসাইটি ফর সায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় ১ হাজার ৯৯৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩০০ জন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র ও এর বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যম স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আইজা তাদেরই একজন। আইজার গবেষণার বিষয় ছিল ‘নেচার’স সলিউশন টু মাইক্রোপ্লাস্টিকস: ইকো-ফ্রেন্ডলি রিমুভাল অব মাইক্রো-অ্যান্ড ন্যানোপ্লাস্টিকস ইউজিং প্ল্যান্ট অ্যান্ড ফাঙ্গাই-ডেরাইভড বায়োপলিমারস’। অর্থাৎ উদ্ভিদ ও ছত্রাক থেকে তৈরি বায়োপলিমার ব্যবহার করে পানি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক পরিবেশবান্ধব উপায়ে অপসারণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছে সে। সোসাইটি ফর সায়েন্সের প্রকাশিত তালিকায় আইজাকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে মার্লবোরো মেমোরিয়াল মিডল স্কুলের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। তার গবেষণাটি ডেলাওয়্যার ভ্যালি সায়েন্স ফেয়ারের মাধ্যমে জাতীয় প্রতিযোগিতায় পৌঁছায়। ডেলাওয়্যার ভ্যালি সায়েন্স ফেয়ারের ২০২৬ সালের ফলাফলেও আইজার নাম রয়েছে। থার্মো ফিশার সায়েন্টিফিক জুনিয়র ইনোভেটরস চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম প্রধান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক গবেষণা প্রতিযোগিতা। সোসাইটি ফর সায়েন্স পরিচালিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে সোসাইটি-অনুমোদিত বিজ্ঞান মেলায় নিজেদের গবেষণা উপস্থাপন করতে হয়। স্থানীয় বিজ্ঞান মেলায় শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে থাকা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় আবেদন করার সুযোগ পায়। ২০২৬ সালের সেরা ৩০০ শিক্ষার্থী ৩৪টি অঙ্গরাজ্য, পুয়ের্তো রিকো ও গুয়াম থেকে নির্বাচিত হয়েছে। তাদের গবেষণার বিষয়ের মধ্যে পরিবেশ, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণও এবারের নির্বাচিত গবেষণাগুলোর অন্যতম বিষয়। সোসাইটি ফর সায়েন্স জানিয়েছে, সেরা ৩০০ থেকে ৩০ জনকে চূড়ান্ত প্রতিযোগী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে এবং তারা অক্টোবর মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালস উইকে অংশ নেবে। তবে আইজা সেরা ৩০০-তে স্থান পেলেও চূড়ান্ত ৩০ জনের তালিকায় তার নাম রয়েছে কি না, তা এই প্রতিবেদনের জন্য ব্যবহৃত তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। পরিবেশ দূষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে অল্প বয়সে গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়া আইজা হাসানের এই অর্জন তার বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
৩৪ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানতে আদালতে ক্রিস্টি নোয়েম, পেছনে স্বামীর নারীসাজের কেলেঙ্কারি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি
পেনসিলভেনিয়ায় ডেটা সেন্টার বানাতে পরিবারপ্রতি ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব, তবু রাজি নন স্থানীয়রা
যুক্তরাষ্ট্রে দুই দশক ধরে বসবাসকারী এক নার্সকে স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করার অভিযোগে কেনিয়ায় বিতাড়িত করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মৌরিন ওয়াঞ্জিরু ন্গুরে নামের এই নারী ২০০৬ সালের নভেম্বরে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। গত আগস্ট মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে আইসিই কার্যালয়ে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় এক মাসের বেশি সময় বন্দি রাখার পর ২২ সেপ্টেম্বর তাকে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানো হয়। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন এই নার্স সপরিবারে কানাডায় পাড়ি জমানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় স্বাস্থ্যসেবা খাতে তার একটি চাকরির প্রস্তাবও ছিল। গ্রেপ্তারের পর মৌরিনকে ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা, লুইজিয়ানা এবং নিউজার্সির বিভিন্ন বন্দিশিবিরে কয়েক সপ্তাহ কাটাতে হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বন্দিদশায় মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য হয়েছেন তিনি এবং একপর্যায়ে তার ফোন ও পরিচয়পত্রও হারিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে অবস্থান করার কারণেই তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখার অভিযোগকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে ডিএইচএস। তবে মৌরিনের মুক্তির জন্য চালু করা একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, তিনি কন্টিনেন্টাল কোভিড টিমের একজন স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২০ বছরের জীবনে কখনোই ডিএইচএস-এর কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিস করেননি। ডিএইচএস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একজন ইমিগ্রেশন বিচারক ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই মৌরিনকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আইসিই বর্তমানে তাদের নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের নিজ উদ্যোগে দেশ ছাড়ার জন্য তিন হাজার ডলার ও বিনা মূল্যে ফ্লাইটের প্রস্তাব দিচ্ছে। তবে মৌরিনের আইনি সহায়তা ও যাতায়াত খরচ জোগাতে একটি 'গোফান্ডমি' পেজ খোলা হয়েছিল, যেখানে ২৬ হাজার ডলারেরও বেশি অনুদান জমা পড়েছে। তার সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই ঘটনাকে অমানবিক আখ্যা দিয়েছেন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার কনকর্ডে তাকে সমর্থন জানিয়ে একটি সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মৌরিনের আইনজীবী রেজিন ডুপুই নিশ্চিত করেছেন যে, তার স্বামী পিটার মাঙ্গারা মুচেন্দু এবং তাদের দুই ছোট সন্তান শুক্রবার সান ফ্রান্সিসকো থেকে কেনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সন্তানদের মানসিক নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্রুত স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পিটার। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান অভিবাসন নীতির কারণেই তারা কানাডায় চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু তার আগেই এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায়। বর্তমানে এই পরিবারটি কেনিয়াতে পুনরায় একত্রিত হয়েছে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা যাচাই করে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৬ মাসের শিশুকন্যার ম রদেহ, সন্দেহে আটক নারী
ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ধরপাকড় রুখতে নতুন আইনে সই গভর্নর নিউসমের
যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে মুসলিমদের সংখ্যা, ২০৪০ সালে ইহুদিদের ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হতে পারে ইসলাম
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ‘এবি ২০১৭’ শীর্ষক একটি বিলে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই স্বীকৃতি কার্যকর করেন। সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেছিলেন। আইনসভার বিভিন্ন ধাপে অনুমোদনের পর গত ৩০ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার উভয় কক্ষে বিলটি পাস হয় এবং পরবর্তীতে গভর্নরের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়। নতুন এই আইনের আওতায় ইসলামি চান্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা হিসেবে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে এই সরকারি স্বীকৃতির অর্থ এই নয় যে, ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা আদালত বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকবে। আইনে ঈদকে বিচারিক ছুটির তালিকা থেকে আলাদা রাখা হয়েছে, ফলে ঈদের দিন আদালত বা বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে এই আইনে। ঈদের নামাজ বা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার জন্য কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে তা ‘অনুমোদিত অনুপস্থিতি’ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও কমিউনিটি কলেজগুলো চাইলে নিজেদের সিদ্ধান্তে ঈদের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারবে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও উৎসব পালনের বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত মেনে সরকারি কর্মীরা ঈদ উপলক্ষে আট ঘণ্টার ছুটির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাদের অবকাশ বা ব্যক্তিগত ছুটি থেকে সমন্বয় করা যাবে। অ্যাসেম্বলি সদস্য আশ কালরা, স্টেফানি নগুয়েন এবং সিনেটর আইশা ওয়াহাবসহ বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা এই বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। নতুন এই আইনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে অনন্য স্বীকৃতি পেল, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আফ্রিকার বিষধর সাপ গাবুন ভাইপার, আতঙ্কে এলাকাবাসী
গ্যাসের দাম বাড়তেই জর্জিয়াবাসীর পাশে সরকার, ৩০ দিনের জন্য স্থগিত গ্যাস ট্যাক্স