সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ট্রাম্পের ক্রিপ্টো কয়েনে ১ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নেমেছে ২,২০০ ডলারে, পরিবারের আয় ১৪০ কোটির বেশি

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১১:২৭
ট্রাম্প মিম কয়েনের দাম ৯৮% কমায় ১ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নেমে এসেছে মাত্র ২ হাজার ২০০ ডলারে | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্প মিম কয়েনের দাম ৯৮% কমায় ১ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নেমে এসেছে মাত্র ২ হাজার ২০০ ডলারে | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ব্যবহার করে চালু হওয়া অফিশিয়াল ট্রাম্প (Official TRUMP) মিম কয়েনে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের লোকসানের চিত্র সামনে এসেছে। বাজার বিশ্লেষণ বলছে, কয়েনটি সর্বোচ্চ দামে কিনে কেউ যদি এক লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে থাকেন, তবে বর্তমানে সেই বিনিয়োগের মূল্য নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ২ হাজার ২০০ ডলারে। অর্থাৎ, বিনিয়োগের প্রায় ৯৮ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে।

 

বাজার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি বাজারে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই Official TRUMP কয়েনের দাম সর্বোচ্চ প্রায় ৭৫.৩৫ ডলারে পৌঁছায়। পরে ধারাবাহিকভাবে এর দাম কমতে থাকে। বর্তমানে কয়েনটির বাজারমূল্য সর্বোচ্চ দামের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। সেই হিসাবে, সর্বোচ্চ দামে কেনা এক লাখ ডলারের বিনিয়োগ এখন প্রায় ২ হাজার ২০০ ডলারে নেমে এসেছে।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সর্বশেষ আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগ থেকে গত এক বছরে ১৪০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আয়ের মধ্যে ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট মিম কয়েনের লাইসেন্সিং ও রয়্যালটি এবং ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল (World Liberty Financial)-এর টোকেন বিক্রি থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ এসেছে।

 

এছাড়া রয়টার্সের পৃথক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট মিম কয়েন থেকে ট্রাম্প পরিবারের শত শত মিলিয়ন ডলার আয় হলেও একই সময়ে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কয়েনটির মূল্য দ্রুত কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে বিপুল আয়ের বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, তাঁর ব্যবসায়িক সম্পদ স্বাধীন ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসব ব্যবসার কোনো প্রভাব নেই।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের আগে বাজারের অস্থিরতা, সম্ভাব্য লাভ-লোকসান এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?
ভাইকে বিয়ের অভিযোগ, ইলহান ওমরের নাগরিকত্ব কি বাতিল করতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন?

মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে কথিত অভিবাসন জালিয়াতির তদন্ত শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মিনেসোটার এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের ‘বর্ডার জার’ টম হোম্যান নিশ্চিত করেছেন যে, প্রগতিশীল ‘স্কোয়াড’ সদস্য ওমরের বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি 'ফৌজদারি' তদন্ত পরিচালনা করছে।   মূলত নিজের ভাইকে বিয়ে করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার পুরনো অভিযোগ থেকেই এই তদন্তের সূত্রপাত, যদিও ইলহান ওমর শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন। প্রথম মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ওমরকে এর আগেও একাধিকবার সোমালিয়ায় ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।   তবে সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর ও অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী মাইকেল ওয়াইল্ডসের মতে, ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা তদন্তকারীদের জন্য বেশ কঠিন একটি কাজ হবে। কারণ, আদালতে সফলভাবে বৈবাহিক জালিয়াতি প্রমাণের জন্য সরকারকে সন্দেহাতীতভাবে দেখাতে হবে যে, ওমর শুধুমাত্র মার্কিন অভিবাসন আইন ফাঁকি দিয়ে সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে আহমেদ নুর সাইদ এলমিকে বিয়ে করেছিলেন।   ওয়াইল্ডস জানান, বিয়ের পর যদি ওমর ও এলমি মনেও করে থাকেন যে এই বিয়ে এলমির মার্কিন অভিবাসনের পথ সহজ করবে, তবু আদালতে এটিকে জালিয়াতি হিসেবে গণ্য করা হবে না। এ ধরনের মামলায় প্রমাণ দাখিল করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চ মাপকাঠি পেরোতে হয়। তবে যদি প্রমাণ হয় যে তারা সত্যিই জালিয়াতি করেছেন, তাহলে ওমরের পাঁচ বছরের জেল, আড়াই লাখ ডলার জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।   ২০০৯ সালে হওয়া ওই বিয়ের কারণে আইনি সীমাবদ্ধতার জন্য সরাসরি ফৌজদারি মামলা করা কঠিন হতে পারে। এর বদলে ইলহান ওমরকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করার (ডিন্যাচারালাইজেশন) পথ খোলা রয়েছে, যাকে টম হোম্যান একটি 'গুরুতর আইনি প্রক্রিয়া' বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এর জন্য প্রমাণ করতে হবে যে, ২০০০ সালে নাগরিকত্ব নেওয়ার সময় ওমর বা তার বাবা মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন।   ওমরের দাবি, তার বাবা যখন নাগরিকত্ব পান, তখন তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নাগরিক হয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের রেকর্ড ও অনলাইনে অনেকেই দাবি করছেন যে সে সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন না এবং তার জন্মতারিখ পরিবর্তন করা হয়েছিল। এই অভিযোগের সত্যতা মিললে, কিংবা তার বাবাও যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকেন, তবে ওমরের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।   গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ইলহান ওমর জানান, ডিএইচএস থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং তার বিয়ে বা অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো তদন্তের বিষয়ে তিনি অবগত নন। ডানপন্থিরা সবসময় এমন অপপ্রচার চালায় বলে তিনি এই বিষয়টিকে পাত্তা দিচ্ছেন না। তবে মাইকেল ওয়াইল্ডস জানিয়েছেন, তদন্তের বিষয়ে ওমরের না জানাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।   সরকার নিজেদের আইনি প্রক্রিয়া গুছিয়ে আনার আগে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই তদন্তের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। পরিশেষে তিনি যোগ করেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও একজন কংগ্রেস সদস্যের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন কোনো অভিযোগ আনা অনুচিত এবং প্রসিকিউশনকে অবশ্যই সঠিক প্রমাণ সাপেক্ষে অগ্রসর হতে হবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৯:১৫
চীন থেকে নকল ওজন কমানোর ওষুধ এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি, ৭১ বছরের জেলের মুখে দুই ভারতীয়

চীন থেকে নকল ওজন কমানোর ওষুধ এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি, ৭১ বছরের জেলের মুখে দুই ভারতীয়

ছোট্ট বয়সে বড় অর্জন, যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৩০০ তরুণ উদ্ভাবকের তালিকায় আইজা হাসান

ছোট্ট বয়সে বড় অর্জন, যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৩০০ তরুণ উদ্ভাবকের তালিকায় আইজা হাসান

৩৪ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানতে আদালতে ক্রিস্টি নোয়েম, পেছনে স্বামীর নারীসাজের কেলেঙ্কারি

৩৪ বছরের দাম্পত্যে ইতি টানতে আদালতে ক্রিস্টি নোয়েম, পেছনে স্বামীর নারীসাজের কেলেঙ্কারি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে দ্রুত বিতাড়ন করার বিতর্কিত নীতি পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক আদেশে বস্টনের নিম্ন আদালতের এক বিচারকের দেওয়া স্থগিতাদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয় শীর্ষ আদালত।   এর ফলে কোনো অভিবাসী সংশ্লিষ্ট তৃতীয় দেশে গিয়ে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হতে পারেন কি না, তা আদালতে তুলে ধরার সুযোগ না দিয়েই তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশান্তর করতে পারবে প্রশাসন। শীর্ষ আদালতের ৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এই আদেশ দেওয়া হয়, যেখানে তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেন। আগামী ডিসেম্বরে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর দায়ের করা একটি যৌথ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএস জেলা জজ ব্রায়ান মারফি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই তৃতীয় দেশে বিতাড়ন নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। বিচারক মারফির মতে, যথাযথ নোটিশ এবং শুনানির সুযোগ না দিয়ে অভিবাসীদের পাঠিয়ে দেওয়া মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর লঙ্ঘন।   অধিকার কর্মীদের হিসাব অনুযায়ী, নীতিটি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে ২৯টি দেশে পাঠানো হয়েছে, যার সিংহভাগই পাঠানো হয় মেক্সিকোতে। এছাড়া রাজনৈতিকভাবে চরম অস্থিতিশীল ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ সতর্কতায় থাকা দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, নিরক্ষীয় গিনি, লাইবেরিয়া এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতেও অনেককে পাঠানো হয়েছে।   আদালতের এই আদেশকে স্বাগত জানিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল মন্তব্য করেছেন, এটি অপরাধী অবৈধ অভিবাসী এবং সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার সমর্থকদের জন্য একটি ‘খারাপ দিন’। তবে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিটিগেশন অ্যালায়েন্সের আইনজীবী ট্রিনা রিয়েলমুতো একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার আগেই অভিবাসীদের এমন দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে যেখানে তারা চরম নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। বাদীদের অভিযোগ, অতীতে বহু অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠানোর পর সেখান থেকে তাদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং অনেকেই মারধর, যৌন নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েছেন।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৭:২২
পেনসিলভেনিয়ায় ডেটা সেন্টার বানাতে পরিবারপ্রতি ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব

পেনসিলভেনিয়ায় ডেটা সেন্টার বানাতে পরিবারপ্রতি ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব, তবু রাজি নন স্থানীয়রা

২০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা, তার আগেই কেনিয়ায় বিতাড়িত নার্স

২০ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর কানাডায় যাওয়ার পরিকল্পনা, তার আগেই কেনিয়ায় বিতাড়িত নার্স

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৬ মাসের শিশুকন্যার ম রদেহ, সন্দেহে আটক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৬ মাসের শিশুকন্যার ম রদেহ, সন্দেহে আটক নারী

ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ধরপাকড় রুখতে নতুন আইনে সই গভর্নর নিউসমের
ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ধরপাকড় রুখতে নতুন আইনে সই গভর্নর নিউসমের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে কেন্দ্রীয় অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর (ICE) ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়াতে একাধিক নতুন বিলে স্বাক্ষর করেছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। গত মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত এই আইনগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হলো রাজ্যটিতে অভিবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ফেডারেল সরকারের নীতির বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়ার নিজস্ব অবস্থান জোরালো করা।   নতুন আইনের আওতায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিতর্কিত ‘ইলেকট্রোশক গ্লাভস’ বা বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হাতমোজার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী বছর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিষেধাজ্ঞাটি অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। সম্প্রতি ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) তাদের কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের গ্লাভস কেনার উদ্যোগ নেওয়ার পরই ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এমন কঠোর পদক্ষেপ নিল।   নতুন এই আইনগুলোতে শক গ্লাভস নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বেসরকারি ডিটেনশন বা আটক কেন্দ্রগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া অভিবাসন তল্লাশি বা অভিযানের সময় ফ্ল্যাশ-ব্যাং গ্রেনেডের ব্যবহার সীমিত করা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত সিভিল ডিটেনশন কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।   যেসব আইসিই কর্মকর্তা অতীতে গুরুতর অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, তারা যাতে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কোনো সরকারি কর্মী বা পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ না পান, নতুন আইনে সেই নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। গভর্নর নিউসম এক বিবৃতিতে জানান, কেন্দ্রীয় সরকার যখন অভিবাসী সম্প্রদায়কে রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, তখন ক্যালিফোর্নিয়া তাদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এগিয়ে এসেছে।   এর আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় আইসিই-এর কার্যক্রম সীমিত করার বেশ কিছু উদ্যোগ আইনি বাধার মুখে পড়েছিল। চলতি বছরের শুরুর দিকেই ক্যালিফোর্নিয়ার আরেকটি আইন একটি ফেডারেল আপিল আদালতের আদেশে আটকে যায়। ওই আইনে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টসহ বেশির ভাগ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাকে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।   গত নভেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, এটি সংবিধানের লঙ্ঘন এবং এর ফলে হয়রানি ও সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তবে মঙ্গলবার গভর্নর নিউসম যে বিলগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন, তার মধ্যে ওই মুখ ঢাকা নিষিদ্ধের একটি সংশোধিত ও সীমিত সংস্করণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা অঙ্গরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:৫০
যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে মুসলিমদের সংখ্যা, ২০৪০ সালে ইহুদিদের ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হতে পারে ইসলাম

যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে মুসলিমদের সংখ্যা, ২০৪০ সালে ইহুদিদের ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম হতে পারে ইসলাম

ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের দুই ঈদ পেল সরকারি ছুটির স্বীকৃতি, কার্যকর নতুন আইন

ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের দুই ঈদ পেল সরকারি ছুটির স্বীকৃতি, কার্যকর নতুন আইন

ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আফ্রিকার বিষধর সাপ গাবুন ভাইপার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসিক এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে আফ্রিকার বিষধর সাপ গাবুন ভাইপার, আতঙ্কে এলাকাবাসী

0 Comments