আমেরিকা

ট্রাম্পের ক্রিপ্টো কয়েনে ১ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নেমেছে ২,২০০ ডলারে, পরিবারের আয় ১৪০ কোটির বেশি

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১১:২৭
ট্রাম্প মিম কয়েনের দাম ৯৮% কমায় ১ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নেমে এসেছে মাত্র ২ হাজার ২০০ ডলারে | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্প মিম কয়েনের দাম ৯৮% কমায় ১ লাখ ডলারের বিনিয়োগ নেমে এসেছে মাত্র ২ হাজার ২০০ ডলারে | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ব্যবহার করে চালু হওয়া অফিশিয়াল ট্রাম্প (Official TRUMP) মিম কয়েনে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের লোকসানের চিত্র সামনে এসেছে। বাজার বিশ্লেষণ বলছে, কয়েনটি সর্বোচ্চ দামে কিনে কেউ যদি এক লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে থাকেন, তবে বর্তমানে সেই বিনিয়োগের মূল্য নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ২ হাজার ২০০ ডলারে। অর্থাৎ, বিনিয়োগের প্রায় ৯৮ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে।

 

বাজার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি বাজারে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই Official TRUMP কয়েনের দাম সর্বোচ্চ প্রায় ৭৫.৩৫ ডলারে পৌঁছায়। পরে ধারাবাহিকভাবে এর দাম কমতে থাকে। বর্তমানে কয়েনটির বাজারমূল্য সর্বোচ্চ দামের তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। সেই হিসাবে, সর্বোচ্চ দামে কেনা এক লাখ ডলারের বিনিয়োগ এখন প্রায় ২ হাজার ২০০ ডলারে নেমে এসেছে।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্পের সর্বশেষ আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগ থেকে গত এক বছরে ১৪০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আয়ের মধ্যে ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট মিম কয়েনের লাইসেন্সিং ও রয়্যালটি এবং ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল (World Liberty Financial)-এর টোকেন বিক্রি থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ এসেছে।

 

এছাড়া রয়টার্সের পৃথক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট মিম কয়েন থেকে ট্রাম্প পরিবারের শত শত মিলিয়ন ডলার আয় হলেও একই সময়ে অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কয়েনটির মূল্য দ্রুত কমে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে বিপুল আয়ের বিষয়টি জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, তাঁর ব্যবসায়িক সম্পদ স্বাধীন ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসব ব্যবসার কোনো প্রভাব নেই।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের আগে বাজারের অস্থিরতা, সম্ভাব্য লাভ-লোকসান এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ডেটা সেন্টারে লাখ ডলারের চাকরির জোয়ার, শ্রমিক সংকটে হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাত
ডেটা সেন্টারে লাখ ডলারের চাকরির জোয়ার, শ্রমিক সংকটে হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাত

যুক্তরাষ্ট্রে ব্লু-কলার বা কায়িক শ্রমের পেশাগুলোতে নতুন করে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং সম্প্রতি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ভবিষ্যতের লাখ ডলারের চাকরিগুলো সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে নয়, বরং এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের কাজ থেকেই আসবে।   বর্তমানে এসব সুবিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণে লাখ লাখ ইলেক্ট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, নির্মাণকর্মী ও সুপারভাইজারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যেখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়াই বছরে এক লাখ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির এই নতুন জোয়ার কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি করলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতের জন্য বড় ধরনের সংকট ডেকে আনছে।   মেটা, অ্যামাজন, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা ডেটা সেন্টার নির্মাণে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ডেটা সেন্টারের নির্মাণকাজে যোগ দিয়ে শ্রমিকরা আগের চেয়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন পাচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন সাধারণ সুপারভাইজার বা ইলেক্ট্রিশিয়ান এখন বছরে এক থেকে দুই লাখ ডলার পর্যন্ত আয় করছেন।   ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশনের মতে, শুধু এই বছরেই খাতটিতে প্রায় ৪ লাখ ৩৯ হাজার কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ বাড়ি নির্মাতাদের পক্ষে এত উচ্চ মূল্যে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, আবাসন নির্মাণে শ্রমিকের তীব্র সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন বাড়ি তৈরির সময়সীমা দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জোয়েল বার্নার।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ বাসস্থানের ঘাটতি রয়েছে, যা এই শ্রমিক সংকটের কারণে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। টেক্সাস ও ভার্জিনিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ডেটা সেন্টারের সবচেয়ে বেশি কাজ চললেও জর্জিয়া, পেনসিলভানিয়া ও ওহাইওর মতো রাজ্যেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে।   অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, বড় বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য ক্রেন ও কংক্রিট পরিচালনায় দক্ষ বড় দলের প্রয়োজন হয়, যা ছোট ছোট শহরের স্থানীয় ঠিকাদারদের পক্ষে সামলানো কঠিন। ফলে বাইরের শহর থেকে আসা এই বিশাল শ্রমিকদের থাকার জন্য স্থানীয়ভাবে সাময়িক আবাসন সংকটও তৈরি হচ্ছে।   যদিও দীর্ঘমেয়াদে এই উচ্চ বেতনের হাতছানি আরও বেশি মানুষকে নির্মাণ ও কারিগরি পেশায় আগ্রহী করে তুলবে বলে অনেকেই আশাবাদী, তবে স্বল্পমেয়াদে এটি আবাসন খাতের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ডেটা সেন্টারের কাজ শেষে এই কর্মীরা যদি পরবর্তীতে আবাসন খাতে ফিরে আসেন, তবেই ভবিষ্যতের এই সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৬:২৯
লস অ্যাঞ্জেলেসে সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে দম্পতি ও কুকুরকে গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা

লস অ্যাঞ্জেলেসে সামান্য কথাকাটাকাটির জেরে দম্পতি ও কুকুরকে গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যা, ১০০ বছরের রেকর্ড ভেঙে উদ্ধার অভিযানে ন্যাশনাল গার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় শতাব্দীর ভয়াবহ বন্যা, ১০০ বছরের রেকর্ড ভেঙে উদ্ধার অভিযানে ন্যাশনাল গার্ড

নিউ জার্সির স্কুলে অ স্ত্র হিসেবে ব্যবহারের শঙ্কায় কাচ ও ধাতব বোতল নিষিদ্ধ

নিউ জার্সির স্কুলে অ স্ত্র হিসেবে ব্যবহারের শঙ্কায় কাচ ও ধাতব বোতল নিষিদ্ধ, আপত্তি অভিভাবকদের

আটলান্টায় কিশোর অপরাধ কমাতে ৫০ হাজার ডলারে ‘দ্য স্পট’ নামে আড্ডাকেন্দ্র বানাচ্ছে দুই শিক্ষার্থী
আটলান্টায় কিশোর অপরাধ কমাতে ৫০ হাজার ডলারে ‘দ্য স্পট’ নামে আড্ডাকেন্দ্র বানাচ্ছে দুই শিক্ষার্থী

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রো আটলান্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে কিশোর-কিশোরীদের একত্রিত হওয়ার ঘটনাগুলো থেকে প্রায়ই গ্রেপ্তার ও কারফিউ ভঙ্গের মতো অপরাধের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আটলান্টা পাবলিক স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর মতে, এই সমস্যার মূল কারণ একেবারেই ভিন্ন। তারা মনে করেন, কিশোরদের নিরাপদে সময় কাটানোর বা আড্ডা দেওয়ার মতো উপযুক্ত জায়গার অভাবেই এমনটা ঘটছে।   এই সমস্যার সমাধানে আটলান্টা শহরের পক্ষ থেকে পাওয়া ৫০ হাজার ডলার অনুদান কাজে লাগিয়ে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন ড্যানিয়েল ম্যাকলাফলিন থেরেল হাই স্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্র ডেভিন মিচেল এবং মেনার্ড হোলব্রুক জ্যাকসন হাই স্কুলের শিক্ষার্থী হেইলি আরভিং।   মিচেল ও আরভিংয়ের এই ধারণার শুরুটা হয়েছিল মূলত বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর একটি সাধারণ চেষ্টা থেকে। মিচেল জানান, তারা একবার আটলান্টিক স্টেশনে ঘুরতে গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে যে বিকেল ৩টার পর কিশোরদের জন্য কারফিউ রয়েছে, তা তাদের জানা ছিল না।   সেখান থেকে তাদের বের করে দেওয়ার পর তারা উপলব্ধি করেন যে, কিশোরদের জন্য সমাজ ও শহরের পরিসরগুলো কতটা সংকুচিত হয়ে এসেছে। আরভিং জানান, তার বড় ভাইবোনদের কোনো বাধা ছাড়াই শপিং মল বা সিনেমা হলে ঘুরতে দেখেছেন তিনি, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি এবং স্কুলের বাইরের এই ‘থার্ড স্পেস’ বা তৃতীয় পরিসরগুলো কিশোরদের জন্য ক্রমশ কমে আসছে।   এই দুই শিক্ষার্থীর বিশ্বাস, কিশোর-কিশোরীদের যখন সময় কাটানোর মতো ভালো কোনো জায়গা থাকে না, তখন একঘেয়েমি থেকেই অনেক সময় তারা বিপথে পা বাড়ায়। তবে মিচেলের মতে, বিষয়টিকে কেবল বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না, বরং কিশোরদের উদ্দেশ্য এবং চারপাশের পরিবেশও বিবেচনায় নিতে হবে।   নিজেদের প্রাপ্ত অনুদান দিয়ে তারা ‘দ্য স্পট’ (The Spot) নামের এমন একটি ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চান, যেখানে কিশোররা নিরাপদে ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে সময় কাটাতে পারবে। এটি মূলত ওয়াইএমসিএ (YMCA) বা অন্যান্য সুপরিচিত আড্ডার জায়গাগুলোর একটি আধুনিক ও উদ্ভাবনী রূপ হতে যাচ্ছে। আটলান্টার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই জায়গায় কফি শপ, বাস্কেটবল কোর্ট, কাজের জায়গা এবং ব্যবসার জন্য ভাড়ায় চালিত কক্ষের সুবিধা থাকবে।   কিশোরদের যাতে অন্যান্য জায়গার মতো এখানে কোনো বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে না হয়, সেদিকেও নজর রাখছেন তারা। আরভিং জানান, যেহেতু শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত কিশোররা বেশি বাইরে বের হয়, তাই সপ্তাহান্তে ‘দ্য স্পট’-এর কার্যক্রমের সময়সীমা বেশি থাকবে। মিচেল ও আরভিং বর্তমানে তাদের এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিনিয়োগকারীদের খুঁজছেন। আগামী শরতেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের একটি পরীক্ষামূলক মডেল (প্রুফ অব কনসেপ্ট) সবার সামনে উপস্থাপন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:৪০
গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে ইসরাইল ও মিশর সফরে যাচ্ছেন জ্যারেড কুশনার। ছবি: সংগৃহীত

গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য মেটাতে ইসরাইল সফর করবেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার জঙ্গল থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে উদ্ধার হওয়া সেই নবজাতক ‘বেবি ইন্ডিয়া’। ছবি: সংগৃহীত

জর্জিয়ার জঙ্গলে ব্যাগে ফেলে দেয়া হয় নবজাতকে, চার বছর পর ডিএনএ টেস্টে শনাক্ত মা

মিসিসিপির বেনোয়া মিউনিসিপ্যাল কোর্টের নতুন বিচারক ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আসমা আলী। ছবি: সংগৃহীত

শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে হিজাব পরেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কে এই আসমা আলী?

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল জাম্বোরিতে ক্ষুধার্ত মানুষের সহায়তায় রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করেছেন তরুণ স্কাউটরা। ছবি: সংগৃহীত
২০ হাজারের লক্ষ্য, সংগ্রহ হলো ৯৩ হাজারের বেশি খাবার, ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ স্কাউটরা

ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ স্কাউটদের নেওয়া খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বড় সাফল্য পেয়েছে। ২০২৬ সালের ন্যাশনাল জাম্বোরিকে ২০ হাজার খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৯৩ হাজারের বেশি খাদ্যসামগ্রী।    স্কাউটিং আমেরিকার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয় ‘এলিভেট হাঙ্গার রিলিফ’। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার সামিট বেকটেল রিজার্ভে ২২ থেকে ৩১ জুলাই অনুষ্ঠিত ২০২৬ ন্যাশনাল জাম্বোরিতে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্কাউট, স্বেচ্ছাসেবক ও অংশগ্রহণকারীরা এতে যুক্ত হন।    জাম্বোরির আগে আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল ২০ হাজার খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে সামিট বেকটেল রিজার্ভের আশপাশের চার থেকে ছয়টি কাউন্টির ফুড ব্যাংকগুলোতে পৌঁছে দেওয়া। অংশগ্রহণকারী স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রত্যেককে অন্তত দুটি নন-পেরিশেবল খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসতে উৎসাহিত করা হয়েছিল।    কিন্তু নির্ধারিত লক্ষ্য পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৯৩ হাজারের বেশি খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ হয়। অর্থাৎ প্রাথমিক লক্ষ্যের চার গুণেরও বেশি খাবার মানুষের সহায়তার জন্য একত্র করা হয়েছে।    স্কাউটিং আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খাদ্যসংকটে থাকা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি এই উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের কমিউনিটির প্রতি দায়বদ্ধতা, নেতৃত্ব ও স্বেচ্ছাসেবার মূল্যবোধে উৎসাহিত করা হয়েছে।   ২০২৬ সালের ন্যাশনাল জাম্বোরিতে শুধু খাদ্য সংগ্রহই নয়, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সেবামূলক আরও কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে স্কাউটদের অংশগ্রহণে হাজার হাজার হাইজিন কিট তৈরি করা হয়, যা সাম্প্রতিক ঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিম ভার্জিনিয়ার পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটিগুলোর জন্য শেল্ফ-স্টেবল খাবারও সরবরাহ করা হয়েছে।    স্কাউটিং আমেরিকার এই উদ্যোগের পেছনে ছিল একটি সহজ বার্তা, বড় পরিবর্তনের জন্য সব সময় বড় কিছু দিয়ে শুরু করতে হয় না। একজন স্কাউটের আনা দুটি খাবারের প্যাকেটও যখন হাজারো মানুষের অংশগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেটিই হয়ে উঠতে পারে একটি বড় মানবিক সহায়তা।   ২০ হাজারের লক্ষ্য থেকে ৯৩ হাজারের বেশি খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের এই ঘটনা তাই শুধু একটি সফল খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচির হিসাব নয়। এটি দেখিয়েছে, তরুণদের নেতৃত্বে একটি ছোট উদ্যোগও সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য বড় ধরনের সহায়তায় পরিণত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১০:১৯
বন্দুক হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভোর সকালে বন্দুক হামলা, আহত পাঁচজন

বেটার ডটকমের শীর্ষ পদ থেকে বরখাস্ত বিশাল গর্গ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সিইও ড্যানিয়েল লুইস। ছবি: সংগৃহীত

জুমে ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা সেই সিইও এবার নিজেই বরখাস্ত, পদ ফিরে পেতে লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রচলিত ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ আইন বহাল রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় ফ্যামিলি স্পন্সরশিপে নতুন গাইডলাইন, আবেদনকারীদের জন্য যা জানা জরুরি

0 Comments