আমেরিকা

জাল ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার চেষ্টা, কস্টকো থেকে নিউইয়র্কের দুই বাসিন্দা গ্রেপ্তার

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৬:৫১
কানেকটিকাটের কস্টকোতে নাটকীয় অভিযানে গ্রেপ্তার দুই নিউইয়র্কবাসী। ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
কানেকটিকাটের কস্টকোতে নাটকীয় অভিযানে গ্রেপ্তার দুই নিউইয়র্কবাসী। ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সাউথ উইন্ডসরের একটি কস্টকো শাখায় জাল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পণ্য কেনার চেষ্টার অভিযোগে নিউইয়র্কের দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে তাদের গাড়ি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ২৮টি চুরি করা আর্থিক নথি এবং অন্য একটি কস্টকো শাখা থেকে চুরি করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা পণ্যও উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সাউথ উইন্ডসর পুলিশ বিভাগ (এসডব্লিউপিডি) জানায়, রোববার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে ১২২০ ট্যামারাক অ্যাভিনিউতে অবস্থিত কস্টকো শাখা থেকে জরুরি ফোন আসে। অভিযোগ ছিল, দুই ব্যক্তি দোকান থেকে পণ্য নিয়ে স্বয়ংক্রিয় বিলিং কাউন্টারে জাল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ৩৫ বছর বয়সী ব্রিটানি এ. হাওয়ার্ড এবং ব্রুকলিনের ৩৪ বছর বয়সী কাশিম এম. উইলিয়ামস। পুলিশের ভাষ্য, তারা কস্টকোর একাধিক শাখায় একই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি চক্রের সদস্য হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

 

পুলিশ জানায়, ঘটনার আগে দোকান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, একই দুই ব্যক্তি প্রায় ৩০ মিনিট দূরে অবস্থিত কানেকটিকাটের এনফিল্ড এলাকার একটি কস্টকো শাখায়ও একই কৌশলে প্রতারণার চেষ্টা করেছিলেন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে। পরে তাদের ব্যবহৃত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৮টি চুরি করা আর্থিক নথি উদ্ধার করা হয়। এসব নথি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ইস্যু করা ছিল। একই সঙ্গে এনফিল্ডের কস্টকো শাখা থেকে চুরি করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা বিভিন্ন পণ্যও উদ্ধার করা হয়।

 

তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের বিরুদ্ধেই অন্য অঙ্গরাজ্যে পূর্বের পরোয়ানা ছিল।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কাশিম এম. উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাফোক কাউন্টিতে ডাকাতি, শ্বাসরোধ করে হামলা এবং মারধরসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল, যা কার্যকরযোগ্য।

 

অন্যদিকে ব্রিটানি এ. হাওয়ার্ডের বিরুদ্ধে নিউ জার্সির হাডসন কাউন্টিতে ক্রেডিট কার্ড চুরির মামলায় পরোয়ানা ছিল।

সর্বশেষ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে ২৮টি পেমেন্ট কার্ড চুরি, চুরি, পরিচয় চুরি এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, আদালতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত দুজনকেই ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের জামিনে আটক রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে তাদের ম্যানচেস্টার সুপিরিয়র কোর্টে হাজির করার কথা ছিল।

 

তদন্তকারীরা এখন উদ্ধার হওয়া আর্থিক নথিগুলোর প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করার পাশাপাশি, এই দুই ব্যক্তি আরও কোনো অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে রাস্তায় গোলাগুলি, লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বাথরুমে থাকা নিরীহ নারীর মৃ ত্যু
নিউইয়র্কে রাস্তায় গোলাগুলি, লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বাথরুমে থাকা নিরীহ নারীর মৃ ত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষের সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বিদ্ধ হয়ে সোফ্রোনি হার্টজোগ নামের ৩৩ বছর বয়সী এক নিরীহ নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, রোববার ভোরে ক্রাউন হাইটস এলাকার বারগেন স্ট্রিট এবং হাওয়ার্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে অবস্থিত 'ওহ লা লা লাউঞ্জ'-এর বাইরে প্রায় ১০০ মানুষের একটি দলের মধ্যে এই বিশাল সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত ওই নারী এই সংঘাতের কোনো পক্ষেরই অংশ ছিলেন না।   ভোর আনুমানিক ২টা ২৩ মিনিটে শুরু হওয়া এই গোলাগুলির সময় একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি সোফ্রোনি হার্টজোগের পিঠে আঘাত করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দ্রুত দৌড়ে ওই পানশালার (বার) ভেতরে প্রবেশ করেন এবং বাথরুমের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা তাকে দ্রুত ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ওয়ান ব্রুকডেল হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান।   কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। এই একই ঘটনায় ৩৪ বছর বয়সী আরও এক ব্যক্তি পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যিনিও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। তাকে এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস/কিংস কাউন্টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।   ঠিক কী কারণে এত মানুষের মধ্যে এই মারাত্মক সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে দুজনের বিবরণ অনুযায়ী তাদের আটক করা হয়েছিল। তবে পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশের তল্লাশি ও জোরালো তদন্ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৫:১৬
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনামূল্যে সাইকেল ও হেলমেট উপহার

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনামূল্যে সাইকেল ও হেলমেট উপহার

চুরি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ চোর, এখন মালিকের কাছ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ চান

চুরি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ চোর, এখন মালিকের কাছে ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি

ঋণ, প্রত্যাখ্যান আর ভিসা লটারির ব্যর্থতা, শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব পেলেন ভারতের সাইমন শেঠি

ঋণ, প্রত্যাখ্যান আর ভিসা লটারির ব্যর্থতা, শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব পেলেন ভারতের সাইমন শেঠি

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভারতে ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে প্রতিবেশী মার্কিন নারীর সাথে আবেগঘন বিদায় ভাগ করে নিচ্ছেন এক ভারতীয় দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় প্রতিবেশীদের বিদায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মার্কিন নারী

যুক্তরাষ্ট্রে পাশাপাশি বসবাস করা এক ভারতীয় দম্পতি দেশ ছেড়ে ভারতে ফিরে যাচ্ছেন। বিদায়ের সেই মুহূর্তে তাদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এক মার্কিন নারী। প্রতিবেশীদের এই আবেগঘন বিদায়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।   ভিডিওতে দেখা যায়, ভারতীয় দম্পতি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ডেট্রয়েট বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তাদের বিদায় জানাতে আসেন ওই মার্কিন নারী। একপর্যায়ে তিনি দম্পতিকে জড়িয়ে ধরে আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কাঁদতে শুরু করেন।   ঘটনাটি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে কারণ দম্পতি তখন জানতেন না যে তাদের বিদায়ের মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করা হচ্ছে। তাদের এক বন্ধু গোপনে পুরো দৃশ্যটি ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও দম্পতির সঙ্গে শেয়ার করা হয়।   ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর দর্শকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আবেগের ঢেউ। অনেকে বলছেন, একই দেশের মানুষ না হয়েও বছরের পর বছর পাশাপাশি বসবাস করতে গিয়ে যে সম্পর্ক তৈরি হয়, তা অনেক সময় আত্মীয়তার সম্পর্কের মতোই গভীর হয়ে উঠতে পারে।   ভারতীয় দম্পতির চলে যাওয়ায় ওই মার্কিন নারীর কান্না তাই শুধু একটি বিদায়ের দৃশ্য হিসেবে থেমে থাকেনি। বরং ভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের একটি মানবিক মুহূর্ত হিসেবে এটি মানুষের নজর কেড়েছে।   অনলাইনে অনেকে এই ঘটনাকে প্রতিবেশীদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে বসবাসের সময় প্রতিবেশীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক যে কতটা আপন হয়ে উঠতে পারে, সেই অনুভূতিই ফুটে উঠেছে ভিডিওটিতে।   দম্পতিকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের বিদায় জানাতে গিয়ে মার্কিন নারীটির কান্না এবং শেষবারের মতো জড়িয়ে ধরার দৃশ্যই ভিডিওটির মূল আকর্ষণ। আর সেই দৃশ্যই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মনে করিয়ে দিচ্ছে—সম্পর্কের গভীরতা সবসময় একই ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা দেশের সীমারেখায় আটকে থাকে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১২:৪৮
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কলম্বিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী সামরিক কার্গো বিমানে লোড করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কলম্বিয়াকে আরও ১ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ক্রেতা সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয় প্রচারণামূলক সামগ্রী বিক্রির ‘ট্রাম্প সুপারস্টোর’ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

সমর্থকদের ভিড়ে থাকত জমজমাট, এখন ৫০ শতাংশ ছাড়েও বন্ধ হচ্ছে ‘ট্রাম্প সুপারস্টোর’

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন আদালতে একসঙ্গে শত শত অভিবাসীর গণ-শুনানি বা ‘মেগা মাস্টার’ শুনানি নেওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে শত শত অভিবাসীর শুনানি, হাজির না হলেই বহিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকদের অভিবাসন আটকের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়দের আটক বেড়েছে ১১০৯ শতাংশ, সবচেয়ে বেশি ভারতীয়দের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকদের অভিবাসন আটকের ঘটনা ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় ১১০৯ শতাংশ বেড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ইকুইটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার মোট আটকের সংখ্যা বেড়েছে ৩৮৬ শতাংশ।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় তিন হাজার এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিককে অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থা আটক করে। ওই বছর সংস্থাটির মোট আটকের ১১ শতাংশ ছিল এই জনগোষ্ঠীর। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আটকের মোট অংশেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়, নেটিভ হাওয়াইয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দার সংখ্যা ৭২ লাখের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মোট এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, আর্মেনিয়া ও লাওসের নাগরিকদের মধ্যে অভিবাসন আটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।   আটক হওয়া ব্যক্তিদের অপরাধের ইতিহাসেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৫ সালে আটক হওয়া এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫৬ শতাংশের কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ১৯ শতাংশ। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, নারী, শিশু এবং অপরাধের রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তিদের আটকের সংখ্যাও বেড়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরে ২০২৫ সালে অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থা এবং সীমান্ত টহল বাহিনীর একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়। ২০২৬ সালে এসব অভিযান আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও কম প্রচারিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আগের বছরগুলোর তুলনায় অভিবাসন কার্যক্রম এখনও বেশি রয়েছে।   এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব আটকের কারণে কমিউনিটির মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে। পরিবারগুলো স্বজনদের খুঁজে বের করতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে এবং অনেক পরিবারকে আতঙ্কের মধ্যে ছুটতে হচ্ছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির সামনে, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে, কর্মস্থলে এবং আদালতে নিয়মিত হাজিরার সময়ও আটকের ঘটনা ঘটছে।   বিশ্লেষণে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রভাব নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। প্রশাসন গুরুতর অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বিশ্লেষণে অপরাধের রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তিদের আটকের পাশাপাশি বৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযান বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেনদেনমূলক রেকর্ড প্রবেশাধিকার ক্লিয়ারিংহাউসের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজত কেন্দ্রে থাকা ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের কোনো অপরাধের সাজা নেই। ক্যালিফোর্নিয়ায় আটকের প্রবণতার সঙ্গে এই তথ্যও বিশ্লেষণে বিবেচনা করা হয়েছে।   ইকুইটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার জানানো ব্যক্তিগত আটকের রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এসব তথ্য ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলির বহিষ্কারসংক্রান্ত তথ্য প্রকল্পের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে।   তবে এই হিসাব ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে হওয়া সব অভিবাসন আটকের পূর্ণ চিত্র নয়। কারণ বিশ্লেষণে শুধু অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার আটকের তথ্য রয়েছে। সীমান্ত টহলসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাও ক্যালিফোর্নিয়ায় বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ফলে প্রকৃত মোট আটকের সংখ্যা এই বিশ্লেষণে পাওয়া সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১১:২৩
ভারতে মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করা সব বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের সাক্ষাৎকার দিতে সশরীরে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ভিসায় সব বয়সী শিশুর সাক্ষাৎকার বাধ্যতামূলক

সামরিক পরিবারের জন্য বিশেষ সুবিধার আবেদন চলাকালীনই মার্কিন সেনাসদস্য মেয়ে গ্রেস ওর্তেগার বাবা হুয়ান ওর্তেগাকে মেক্সিকোয় বহিষ্কার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন সেনাসদস্য মেয়ের আবেদনও রক্ষা করতে পারল না বাবাকে, মেক্সিকোয় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে তিন দিনব্যাপী ফোবানার ৪০তম সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসে ফোবানার ৪০তম সম্মেলন, আর মাত্র ১৯ দিন পর শুরু

0 Comments