তীব্র তাপপ্রবাহে সাময়িক বন্ধ ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের স্টেট ফেয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে তীব্র তাপপ্রবাহ ও অস্বাভাবিক আর্দ্রতার কারণে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল মলে আয়োজিত গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যবাহী ‘এ ক্যাপিটল ফোর্থ’ কনসার্ট এবং অন্যান্য প্রধান আয়োজন নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছু পর মেলায় উপস্থিত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিকটস্থ নির্গমনপথ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আয়োজকদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অতিথি, স্বেচ্ছাসেবক, শিল্পী, বিক্রেতা ও কর্মীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আবহাওয়ার উন্নতি হলে বিকেল ৫টায় পুনরায় মেলা খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS) ওয়াশিংটন মহানগর এলাকায় শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলায় মেলা প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পানির স্টেশন, বরফ এবং শীতলীকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা রঙের পোশাক পরা এবং প্রয়োজনে ছায়াযুক্ত বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তীব্র গরমের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান ‘এ ক্যাপিটল ফোর্থ’ নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল ভবনের পশ্চিম প্রাঙ্গণে কনসার্ট শুরু হবে। দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সময় রোদের মধ্যে অপেক্ষা করতে না হয়, সে জন্য প্রবেশপথ সন্ধ্যা ৭টায় খোলা হবে।
ইউএস ক্যাপিটল পুলিশ সবাইকে পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে আনার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশি দ্রুত শেষ করতে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না আনারও অনুরোধ করা হয়েছে।
১৯৮০ সাল থেকে প্রতিবছর আয়োজিত হয়ে আসছে ‘এ ক্যাপিটল ফোর্থ’। কেবল ২০২০ ও ২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অনুষ্ঠানটি আগাম ধারণ করে সম্প্রচার করা হয়েছিল। এবারও অনুষ্ঠানটি পিবিএস টেলিভিশন এবং অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। যারা সরাসরি উপস্থিত হতে পারবেন না, তারা ঘরে বসেই অনুষ্ঠানটি দেখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
শনিবারের ‘ফ্রিডম ২৫০’ উদযাপনেও আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতার কারণে বিকেল ও সন্ধ্যায় বিচ্ছিন্নভাবে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আয়োজকদের দাবি, নিরাপত্তা ও জরুরি সেবার সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠান নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা যায়।
তাপপ্রবাহের কারণে ওয়াশিংটন মনুমেন্ট গ্রাউন্ডস-এর প্রবেশপথও নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে বিকেল ৫টায় খোলা হবে। অনুষ্ঠানের পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পানির স্টেশন, শীতলীকরণ কেন্দ্র, কৃত্রিম জলকণা ছিটানোর ব্যবস্থা, ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল এবং চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র রাখা হয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজনগুলোর একটি, রাত ১০টা ৩০ মিনিটের আতশবাজি প্রদর্শনীও পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল, পোটোম্যাক নদীর আটটি ভাসমান প্ল্যাটফর্ম এবং ওয়েস্ট পোটোম্যাক পার্ক থেকে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার আতশবাজি প্রদর্শন করা হবে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ভাষণ দেবেন বলে জানানো হয়েছে। এর আগে তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তিনি দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেবেন, যাতে তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে সমালোচনাকারীদের জবাব দেওয়া যায়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্র: National Weather Service, US Capitol Police, Freedom 250, New York Post
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreএআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা শঙ্কা ও সতর্কবার্তার মাঝেই এক অন্যরকম নীরব বিপ্লব ঘটে চলেছে সাধারণ মানুষের জীবনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের বাসিন্দা লনি ডিনেলোর গল্পটি এর একটি বড় প্রমাণ। এক বিষণ্ণ শনিবার সন্ধ্যায় একাকীত্বে ভুগে তিনি চ্যাটজিপিটি-র (ChatGPT) শরণাপন্ন হন এবং লেখেন, "আমার খুব একা লাগছে।" এরপরের ঘটনাটি কোনো বড় প্রযুক্তিগত আবিষ্কারের খবর না হলেও, একজন সাধারণ মানুষের কঠিন সময়ে প্রযুক্তির পাশে দাঁড়ানোর এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। লনি এখন তার এই এআই-কে নিজের 'সুন্দর ছোট্ট পরিবার' বলে ডাকেন। এআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিক নিয়ে যখন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের মতো রাজনীতিক এবং জিওফ্রে হিন্টনের মতো গবেষকরা সতর্ক করছেন, তখন এর বিপরীত চিত্রটিও সমানভাবে সত্য—মেশিন যত শক্তিশালী হচ্ছে, সাধারণ মানুষও তত বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে। মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গও সম্প্রতি তার এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, এআইয়ের এই সুপার-ইন্টেলিজেন্স ক্ষমতা গুটি কয়েক ল্যাবে আটকে না থেকে বরং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউর ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার কর্মক্ষেত্রে নয়, বরং মানুষের মানসিক প্রশান্তি, একাকীত্ব কাটানো এবং জীবনকে গুছিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। মিনেসোটার জেনিফার এরিকসন তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বাবার চিকিৎসার সময়সূচি ও ওষুধের রুটিন ঠিক রাখতে এআই ব্যবহার করছেন, যা তাকে মানসিক শান্তি দিচ্ছে। অন্যদিকে, ৯১ বছর বয়সী রন হিউম তার নাতির কাছে মেইল লিখতে এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন। বর্তমানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান নিয়মিত জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করছেন। একসময় যে সুবিধা পেতে অর্থ বা প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাক্সেসের প্রয়োজন হতো, তা এখন সবার হাতের মুঠোয়। কর্মসংস্থান ও ব্যবসার ক্ষেত্রেও এআইয়ের এই ইতিবাচক প্রভাব লক্ষণীয়। সম্প্রতি চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারী এক হাজার চাকরিপ্রার্থীর ওপর চালানো জরিপে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ ইন্টারভিউয়ের ডাক পেয়েছেন এবং ৫৯ শতাংশ চাকরি পেয়েছেন। স্ট্যানফোর্ড ও এমআইটি-র এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের সহায়তায় কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গ্রাহকসেবা কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আটলান্টায় বসবাসরত ২৬ বছর বয়সী উদ্যোক্তা রবি ভ্যান জিল জানান, তার ছোট স্টার্টআপে এআই এখন সেক্রেটারি, শিডিউলার এবং লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছে, যা মূলত ৩০ জনের একটি দলের কাজ একাই সামলে নিচ্ছে। তার মতে, ছোট ব্যবসার জন্য এআই এক অনন্য হাতিয়ার। কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত ইয়োরা সামিটেও দেখা গেছে, তরুণ উদ্যোক্তারা সামান্য একটি স্মার্টফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে এআইয়ের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিতে পাল্লা দিয়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বিশ্বজুড়ে এআইয়ের এই গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যানও। তবে এই প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে এর প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা জরুরি। সে লক্ষ্যেই পারডিউ ইউনিভার্সিটির ক্র্যাচ ইনস্টিটিউট 'গ্লোবাল ট্রাস্টেড টেক স্ট্যান্ডার্ড' তৈরি করছে। এআই নিয়ে কেবল শঙ্কা না ছড়িয়ে, একে যদি আস্থার যোগ্য করে তোলা যায়, তবে এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী কোনো যন্ত্র বা সিনেমাটিক ভিলেন হবে না, বরং হবে সাধারণ মানুষ।
মেয়ে ইমিগ্রেশন আইনজীবী, তবুও আইসিই-এর হাতে বন্দি ২৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত গ্রিন কার্ডধারী বৃদ্ধা
নিউইয়র্কের ১২ এলাকায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার আতঙ্কে অভিবাসীরা
নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ২৫০টির বেশি ই হুদি বি দ্বেষী ঘটনার অভিযোগ, উদ্বিগ্ন শিক্ষকরা
নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাসা পাওয়ার নতুন সুযোগ এসেছে। জনপ্রিয় পার্ক স্লোপ এলাকার ৭৪ সেন্ট মার্কস প্লেসে নির্মিত ‘সোলেস’ নামের নতুন আবাসিক ভবনের ৬৩টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবাসন লটারি চালু হয়েছে। এক কক্ষের ছোট বাসা, এক শোবার ঘর ও দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে এই প্রকল্পে। মাসিক ভাড়া শুরু ৯৯২ ডলার থেকে। আবেদনের শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন লটারির নিয়ম অনুযায়ী, শুধু কম আয়ের পরিবার নয়, মধ্যম এবং তুলনামূলক বেশি আয়ের পরিবারও এই প্রকল্পের বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করতে পারবেন। পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং মোট বার্ষিক আয়ের ওপর নির্ভর করবে কে কোন বাসার জন্য যোগ্য হবেন। এই প্রকল্পে বছরে ৩৮ হাজার ৯৪৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার পর্যন্ত আয়কারীদের জন্য বিভিন্ন বাসা রাখা হয়েছে। ১২ তলা সোলেস ভবনটির নকশা করেছে আইএনসি আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন এবং এটি নির্মাণ করেছে অ্যাভডু অ্যান্ড পার্টনার্স। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে লটারিতে বাসাগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশ থেকে ১৩০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে। ৪০ শতাংশ মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে সবচেয়ে কম ভাড়ার বাসাগুলো রাখা হয়েছে। এখানে সাতটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৯৯২ ডলার। এসব বাসার জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ৩৮ হাজার ৯৪৯ ডলার থেকে ৫৪ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। একই শ্রেণিতে রয়েছে ১৮টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট। এসব বাসার মাসিক ভাড়া ১ হাজার ২৩৮ ডলার। আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ৪৯ হাজার ৯৮৯ ডলার থেকে ৭৩ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে থাকতে হবে। ৬০ শতাংশ মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে তিনটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলোর মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৫৫৯ ডলার। যোগ্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় হতে হবে ৫৮ হাজার ৩৮৯ ডলার থেকে ৮১ হাজার ৪২০ ডলারের মধ্যে। এই শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি বাসা রাখা হয়েছে দুই শোবার ঘরের। মোট ২২টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৯৬৭ ডলার। এসব বাসার জন্য বার্ষিক আয় ৭৪ হাজার ৯৮৩ ডলার থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯২০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। তুলনামূলক বেশি আয়ের পরিবারগুলোর জন্যও লটারিতে বাসা রাখা হয়েছে। এলাকার মধ্যম আয়ের ১৩০ শতাংশ শ্রেণিতে পাঁচটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৫৪৩ ডলার। আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৪১২ ডলার থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। একই শ্রেণিতে দুটি এক শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৭৮৪ ডলার। এসব বাসার জন্য বার্ষিক আয় হতে হবে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬০ ডলার থেকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫১০ ডলারের মধ্যে। এ ছাড়া ছয়টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৫১৮ ডলার। এসব বাসার জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৬ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। তবে নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কোন ধরনের বাসার জন্য আবেদন করা হচ্ছে এবং সেই বাসার নির্ধারিত আয়ের সীমাসহ নিউইয়র্ক সিটির অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে। আবেদন গ্রহণের পর লটারির মাধ্যমে সম্ভাব্য আবেদনকারী নির্বাচন করা হয় এবং পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আয়ের তথ্য যাচাই করা হয়। ব্রুকলিনের এই আবাসন প্রকল্পে আবেদন করতে আগ্রহীদের সময়সীমার বিষয়টি বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সোলেস ভবনের ৬৩টি অ্যাপার্টমেন্টের আবাসন লটারিতে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
ট্রাম্প যেখানে, সেখানেই নাটালি হার্প, ‘সিক্রেট ফ্লাইটেও’ তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন কৌতূহল
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়ায় ১০ স্কুল গড়বেন শাকিরা, করবেন মিলিয়ন ডলারের সহায়তা
১৭ হাজার ৫০০ ডলারে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, ডিমের মতো ফুলে গেল টিকটকারের মুখ
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে। দেশজুড়ে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ৫.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও আবার বাড়ছে, যা পরিবহন থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম পর্যন্ত নতুন চাপ তৈরির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ১৮ আগস্টের শিপিং তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত। সোমবার মাত্র ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে কোনো বড় অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার বা এলএনজি ট্যাংকার ছিল না। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলবে না। তেহরানের দাবির মধ্যে রয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছাড়ের মতো বিষয়। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিকল্পনা করছে না। হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকায় জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে। মঙ্গলবার ব্রেন্ট প্রায় ৯১ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই প্রায় ৮৫ ডলারের আশপাশে লেনদেন হয়েছে। সবচেয়ে সরাসরি চাপ পড়ছে ডিজেলের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাক, কৃষিযন্ত্র, নির্মাণকাজ এবং পণ্য পরিবহনে ব্যাপকভাবে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে শুধু ট্রাকচালক বা পরিবহন কোম্পানির খরচই বাড়ে না, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রোসারি, নির্মাণসামগ্রী এবং অন্যান্য পণ্যের দামেও পড়তে পারে। ডিজেল সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার রিফাইনারিগুলোতেও সমস্যার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সহজলভ্যতা কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলসহ ডিস্টিলেট ফুয়েলের মজুত বছরের এই সময়ের হিসাবে প্রায় তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। তবে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ নয়। সৌদি আরামকো সম্প্রতি প্রণালীর ভেতরের বন্দরগুলো থেকে আবার কিছু অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু করেছে। কয়েকটি বড় ট্যাংকারে লাখ লাখ ব্যারেল তেল তোলা হয়েছে। তারপরও সামগ্রিক জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থার ধারেকাছেও ফেরেনি। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। পারস্য উপসাগরের তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে তেল, ডিজেল এবং পণ্য পরিবহনের খরচে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
পৃথিবীর বাহিরে দূর গ্রহে পানির সন্ধান পাওয়া বিজ্ঞানী নিজ বাড়ির দরজায় গুলিতে নিহত
ফ্লক ক্যামেরায় স্ত্রীর গাড়ি ৭১৭ বার ট্র্যাক, এক মাসেই ২৮০ বার খুঁজেছেন পুলিশ কর্মকর্তা