আমেরিকা

ওহাইওর ১৬ শিশুর নির্যাতন মামলায় নতুন মোড়, অভিযুক্ত মাও ছিলেন নির্যাতনের শিকার, আইনজীবীর দাবি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ২২:৪৪
ছবি: শিশুদের মা এলিজাবেথ সাইডার্স (সংগ্রহীত)
ছবি: শিশুদের মা এলিজাবেথ সাইডার্স (সংগ্রহীত)

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ১৬ শিশুকে অমানবিক পরিবেশে রাখার অভিযোগে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মামলায় গ্রেপ্তার চারজনের একজন এবং শিশুদের মা এলিজাবেথ সাইডার্স নিজেও স্বামীর দীর্ঘদিনের মানসিক ও নিয়ন্ত্রণমূলক নির্যাতনের শিকার ছিলেন বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী।

 

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এলিজাবেথ সাইডার্স গ্রেপ্তারের পর প্রথমেই জানতে চান, “বাচ্চারা কোথায়? তারা কি নিরাপদ আছে?” তিনি দাবি করেন, তার মক্কেল সন্তানদের যত্ন নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন এবং মামলার সব তথ্য আদালতে উপস্থাপনের আগে তাকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত হবে না।

 

তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত এলিজাবেথ সাইডার্স, তার স্বামী গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র, গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র এবং ক্রিস্টিনা সাইডার্সের বিরুদ্ধে শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা বিপন্ন করার একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, চারজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

গত সপ্তাহে ওহাইওর ভিন্টন কাউন্টির হ্যামডেন এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৮ মাস থেকে ১৮ বছর বয়সী ১৬ শিশুকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওহাইও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানায়, শিশুদের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও মানবেতর পরিবেশে রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি মানবপাচারের মামলা নয়; বরং দীর্ঘদিনের শিশু নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগে পরিচালিত একটি ফৌজদারি তদন্ত। উদ্ধার হওয়া সব শিশুকে বর্তমানে ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অব জবস অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেসের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

 

এদিকে এলিজাবেথ সাইডার্সের আইনজীবীর বক্তব্যের পর মামলায় নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি সত্যিই কি সন্তানদের মতোই নির্যাতনের শিকার ছিলেন, নাকি শিশুদের ওপর চলা নির্যাতন ও অবহেলায় তারও অপরাধমূলক ভূমিকা ছিল—সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায়।

 

তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনে অতিরিক্ত অভিযোগও আনা হতে পারে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মেয়ে ইমিগ্রেশন আইনজীবী, তবুও আইসিই-এর হাতে বন্দি ২৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত গ্রিন কার্ডধারী বৃদ্ধা
মেয়ে ইমিগ্রেশন আইনজীবী, তবুও আইসিই-এর হাতে বন্দি ২৭ বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ভারতীয় বংশোদ্ভূত গ্রিন কার্ডধারী বৃদ্ধা

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বসবাসকারী এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রবীণ নারীকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। ভেঙ্কটা নরসমাম্বা ভাসামসেট্টি নামের এই গ্রিন কার্ডধারী বৃদ্ধা ২০১৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একজন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (LPR)।   নর্থ ক্যারোলিনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত এবং দুই মার্কিন নাগরিক নাতি-নাতনির দাদি এই নারীকে গত ১১ আগস্ট আইসিই-এর একটি নিয়মিত চেক-ইনের সময় আটক করা হয়। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তার নিজ মেয়ে যশস্বিনী ভাসামসেট্টি খোদ টেক্সাস ও নিউ জার্সিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন আইনজীবী।   বিগত মে মাসে একজন মার্কিন বিচারক ভেঙ্কটার বিরুদ্ধে আনা নির্বাসন মামলা খারিজ করে দিলেও, বর্তমানে তাকে জর্জিয়ার একটি আইসিই বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছে।   এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয় ২০২২ সালে। অসুস্থ ও বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতে ওই বছরের জুলাই মাসে ভারতে গিয়েছিলেন ভেঙ্কটা। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেই মারাত্মকভাবে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন এবং প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। শারীরিক জটিলতা কাটিয়ে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন।   তবে এই সাত মাস দেশের বাইরে থাকার কারণে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) অভিযোগ তোলে যে, তিনি তার মার্কিন স্থায়ী আবাসনের অধিকার পরিত্যাগ করেছেন। মার্কিন আইনে, কোনো স্থায়ী বাসিন্দা ১৮০ দিনের বেশি দেশের বাইরে থাকলে তার দেশে ফেরার সময় এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। তবে ভেঙ্কটার আইনজীবী এবং পরিবারের দাবি, তিনি তার মার্কিন জীবন গুটিয়ে নেননি, বরং ভারতে থাকাকালীন নর্থ ক্যারোলিনায় নিজের প্রাথমিক বাসস্থানের জন্য একটি বাড়ি কেনার কাজও সম্পন্ন করেছেন।   তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো জোরালো ভিত্তি না থাকায় এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সময়মতো উপযুক্ত প্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায়, গত ১৯ মে (২০২৬) ইমিগ্রেশন বিচারক তার নির্বাসন প্রক্রিয়া খারিজ করে দেন। এরপর থেকে ভেঙ্কটা নিয়মিত আইসিই-এর কাছে হাজিরা দিয়ে আসছিলেন।   কিন্তু ১১ আগস্ট শার্লট অফিসে হাজিরা দিতে গেলে তাকে আচমকা আটক করা হয়। ভেঙ্কটার মেয়ের বান্ধবী ও সহকর্মী জো উইলসন জানান, আইসিই অদ্ভুতভাবে দাবি করছে যে ভেঙ্কটা কোনো গ্রিন কার্ডধারী নন। তার কোনো অপরাধমূলক অতীত নেই এবং তিনি মারাত্মক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ায় তার নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন। তা সত্ত্বেও তাকে এভাবে বন্দি করার ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।   আটকের পরপরই ভেঙ্কটার আইনি দল গত ১৩ আগস্ট তার এই অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে একটি জরুরি 'হেবিয়াস কর্পাস' পিটিশন দায়ের করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে একজন ফেডারেল বিচারক আগামী তিন দিনের মধ্যে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে এই আটকের আইনি ভিত্তি ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন।   সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিই তাদের এই আটক প্রক্রিয়াকে বেআইনি বলে স্বীকার করেনি বা তাকে মুক্তির নির্দেশও দেয়নি। তবে ফেডারেল আদালত সরকারের পক্ষে রায় দিলেও, আগামী সাত দিনের মধ্যে ভেঙ্কটা ভাসামসেট্টির জামিন শুনানির সুযোগ পাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৫:১৭
নিউইয়র্কের ১২ এলাকায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান

নিউইয়র্কের ১২ এলাকায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার আতঙ্কে অভিবাসীরা

নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ২৫০টির বেশি ই হুদি বি দ্বেষী ঘটনার অভিযোগ

নিউইয়র্কের স্কুলগুলোতে ২৫০টির বেশি ই হুদি বি দ্বেষী ঘটনার অভিযোগ, উদ্বিগ্ন শিক্ষকরা

নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি

নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি

ট্রাম্প যেখানে, সেখানেই নাটালি হার্প
ট্রাম্প যেখানে, সেখানেই নাটালি হার্প, ‘সিক্রেট ফ্লাইটেও’ তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন কৌতূহল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সফর ও অনুষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা নাটালি হার্পকে। গত মাসে তুরস্ক থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রাম্পকে গোপনে অন্য একটি উড়োজাহাজে সরিয়ে নেওয়ার সময়ও হাতে গোনা কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে ছিলেন তিনি। এরপর থেকেই ট্রাম্পের কাছে হার্পের প্রবেশাধিকার এবং হোয়াইট হাউসে তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হার্প বর্তমানে প্রেসিডেন্টের স্পেশাল ও এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তার আনুষ্ঠানিক পদের চেয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক এবং প্রায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতিই বেশি নজর কাড়ছে।   গত জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় নিরাপত্তা হুমকির কারণে ট্রাম্পের যাত্রাপথে অত্যন্ত গোপন পরিবর্তন আনা হয়েছিল। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার হুমকির পর সিক্রেট সার্ভিসের নির্দেশনায় ট্রাম্পকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে গোপনে অন্য একটি সামরিক উড়োজাহাজে নেওয়া হয়। একটি ক্যাটারিং ট্রাক ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে নেওয়ার এই অভিযান এতটাই গোপন ছিল যে তার সঙ্গে খুব সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা ছিলেন।   সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই গোপন ফ্লাইটে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের তিন ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা নাটালি হার্প, ড্যান স্ক্যাভিনো ও ওয়াল্ট নাউটা। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ছিলেন এয়ার ফোর্স ওয়ানের ডিকয় ফ্লাইটে।   এত গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও হার্পের ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা তার অবস্থান নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। বিশেষ করে তিনি কীভাবে প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কর্মীদের একজন হয়ে উঠলেন এবং ট্রাম্পের কাছে তার প্রবেশাধিকার কতটা বিস্তৃত, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে।   হার্পকে ট্রাম্পের আশপাশে প্রায়ই ল্যাপটপ ও বহনযোগ্য প্রিন্টার নিয়ে দেখা যায়। প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ প্রতিবেদন, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং অন্যান্য তথ্য প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসের পরিমণ্ডলে তিনি ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প কোন সংবাদ বা তথ্য দেখছেন, তা তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে হার্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।   হার্পের রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয় ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে। ক্যানসারের চিকিৎসার সময় তিনি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের প্রশংসা করেন এবং নিজের চিকিৎসার প্রসঙ্গে ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দেন। পরে ২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনেও বক্তব্য দেন তিনি। একসময় ওয়ান আমেরিকা নিউজে কাজ করা হার্প পরে ট্রাম্পের রাজনৈতিক টিমের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ধীরে ধীরে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন হয়ে ওঠেন।   সাম্প্রতিক সময়ে জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফও প্রকাশ্যে হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে সোমবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করা হলেও ট্রাম্প সরাসরি উত্তর দেননি। বরং প্রশ্নকারী সাংবাদিকের সমালোচনা করেন।   তবে হার্পের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য সামনে আসেনি। মূলত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার অস্বাভাবিকভাবে ঘনিষ্ঠ কর্মসম্পর্ক, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সফরে নিয়মিত উপস্থিতি এবং তুরস্কের উচ্চঝুঁকির গোপন ফ্লাইটে জায়গা পাওয়াই তাকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।   ট্রাম্প প্রশাসনে আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার বাইরে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত আস্থা কার ওপর কতটা রয়েছে, সেটি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নাটালি হার্পের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, তিনি এখন ট্রাম্পের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের একজন।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১১:৪৭
সংগীতশিল্পী শাকিরা

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত কলম্বিয়ায় ১০ স্কুল গড়বেন শাকিরা, করবেন মিলিয়ন ডলারের সহায়তা

অপারেশনের পরদিন মাথা ও মুখ ফুলে যাওয়ায় ফিনকেন নিজেই মজা করে বলেছিলেন তাকে দেখতে ডিমের মতো লাগছে। ছবি: সংগৃহীত

১৭ হাজার ৫০০ ডলারে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, ডিমের মতো ফুলে গেল টিকটকারের মুখ

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে মার্কিন জ্বালানি বাজারে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল দাম গ্যালন প্রতি ৫.৪৬ ডলার বৃদ্ধি পাওয়ায়, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়ির বারান্দায় গুলিতে নিহত হয়েছেন ক্যালটেকের খ্যাতিমান জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল গ্রিলমেয়ার। ছবি: সংগৃহীত
পৃথিবীর বাহিরে দূর গ্রহে পানির সন্ধান পাওয়া বিজ্ঞানী নিজ বাড়ির দরজায় গুলিতে নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়ির বারান্দায় গুলিতে নিহত হয়েছেন ক্যালটেকের খ্যাতিমান জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল গ্রিলমেয়ার। সৌরজগতের বাইরের গ্রহ ও মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি নিয়ে কয়েক দশক গবেষণা করা ৬৭ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানীর হত্যার ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী ফ্রেডি স্নাইডারের বিরুদ্ধে মার্ডারসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।   ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির লানো এলাকায়। সকাল প্রায় ৬টা ১০ মিনিটে অস্ত্র দিয়ে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের ডেপুটিরা। বাড়ির সামনের বারান্দায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রিলমেয়ারকে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের তথ্য অনুযায়ী, গুলির আঘাতেই তার মৃত্যু হয় এবং ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।   মামলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফ্রেডি স্নাইডারের বিরুদ্ধে মার্ডার, কারজ্যাকিং এবং ফার্স্ট ডিগ্রি রেসিডেনশিয়াল বার্গলারির একটি করে ফেলনি অভিযোগ রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস জানিয়েছে, গত ২৬ মে আদালতে হাজির হয়ে সব অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন স্নাইডার।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ঘটনার দিন সকালে স্নাইডার দুটি রাইফেল নিয়ে নিজের মায়ের কাছে গাড়ির চাবি দাবি করেন। মা চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ঘরের ছাদ লক্ষ্য করে গুলি চালান এবং পরে গাড়িটি নিয়ে বেরিয়ে যান।   এরপর তিনি কাছেই গ্রিলমেয়ারের বাড়িতে যান বলে অভিযোগ। বাড়ির ড্রাইভওয়েতে গাড়ির উপস্থিতি টের পেয়ে গ্রিলমেয়ার বাইরে বেরিয়ে এলে নিজের সামনের বারান্দাতেই তাকে গুলি করা হয়।   ঘটনাটির সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস আগে, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর গ্রিলমেয়ার তার সম্পত্তিতে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ডেকেছিলেন। ওই ঘটনায় স্নাইডারের নামও উঠে আসে। পরে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট একটি বার্গলারির অভিযোগও আনা হয়েছে।   তদন্তকারীরা আগে জানিয়েছিলেন, গ্রিলমেয়ার ও স্নাইডারের মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচয় থাকার কোনো স্পষ্ট তথ্য তারা পাননি। ফলে কেন গ্রিলমেয়ারের বাড়িতে গিয়ে তাকে গুলি করা হলো, হত্যাকাণ্ডের পেছনে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল।   গ্রিলমেয়ারের মৃত্যু ক্যালটেকের বিজ্ঞানী মহলেও বড় ধাক্কা হয়ে আসে। তিনি ক্যালটেকের আইপ্যাক সায়েন্স অ্যান্ড ডেটা সেন্টারে দীর্ঘদিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করেছেন। তার গবেষণার বড় অংশজুড়ে ছিল এক্সোপ্ল্যানেট, মিল্কিওয়ের গঠন এবং ‘স্টেলার স্ট্রিম’, অর্থাৎ প্রাচীন গ্যালাক্সি ও তারার গুচ্ছের সংঘর্ষের পর থেকে যাওয়া তারার দীর্ঘ প্রবাহ।   ২০০৭ সালে তিনি এমন একটি গবেষণার নেতৃত্ব দেন, যেখানে সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে আসা আলো বিশ্লেষণ করে তাদের বায়ুমণ্ডলে অণুর উপস্থিতি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে। এক্সোপ্ল্যানেটের বায়ুমণ্ডল বোঝার ক্ষেত্রে কাজটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে।   মিল্কিওয়ের ইতিহাস বুঝতেও তার গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি কয়েক ডজন স্টেলার স্ট্রিম শনাক্ত করেছিলেন। এসব তারার প্রবাহ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করেন, কোটি কোটি বছর ধরে ছোট গ্যালাক্সি ও তারার গুচ্ছের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং একীভূত হওয়ার মধ্য দিয়ে কীভাবে মিল্কিওয়ে বর্তমান রূপ পেয়েছে।   বৈজ্ঞানিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১১ সালে গ্রিলমেয়ার নাসার ‘এক্সেপশনাল সায়েন্টিফিক অ্যাচিভমেন্ট মেডেল’ পান। কর্মজীবনে তার ১৪৭টি পিয়ার রিভিউড গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। হাবল ও স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ ব্যবহার করেও তিনি দীর্ঘ সময় গবেষণা করেছেন।   জীবনের বড় একটি অংশ মহাকাশের দূরবর্তী গ্রহ, নক্ষত্র আর মিল্কিওয়ের অতীত অনুসন্ধানে কাটানো এই বিজ্ঞানীর জীবন শেষ হয় নিজের বাড়ির সামনের বারান্দায় একটি গুলিতে। তার মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত স্নাইডারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তবে আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১০:২৫
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফ্লক ক্যামেরা সিস্টেমে নিজের আলাদা থাকা স্ত্রীর গাড়ির লাইসেন্স প্লেট ৭১৭ বার সার্চ করার অভিযোগ উঠেছে ফ্লোরিডার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লক ক্যামেরায় স্ত্রীর গাড়ি ৭১৭ বার ট্র্যাক, এক মাসেই ২৮০ বার খুঁজেছেন পুলিশ কর্মকর্তা

হরমুজ প্রণালীকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখিয়ে নিজের ট্রুথ সোশ্যালে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ দাবি করে ট্রাম্পের নতুন মানচিত্র, ইরানের পাল্টা শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ম্যাট্রেসের নিচে লুকিয়ে থাকা ২৪ বছর বয়সী যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

ম্যাট্রেসের নিচে লুকিয়েও রক্ষা হলো না, পুলিশ দেখে মাকে ডাকায় অফিসারকে মায়ের ঘুষি

0 Comments