আমেরিকা

আমেরিকার ২৫০তম বার্ষিকী, আরও ২৫০ বছর টিকে থাকা নিয়ে সংশয়ে ৪০ শতাংশ নাগরিক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১১:৩২
২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভবিষ্যৎ অখণ্ডতা নিয়ে নাগরিকদের সংশয় | ছবি: রয়টার্স/হ্যানা বেয়ার
২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভবিষ্যৎ অখণ্ডতা নিয়ে নাগরিকদের সংশয় | ছবি: রয়টার্স/হ্যানা বেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নাগরিকদের মনে এক গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত রয়টার্স ও ইপসোস-এর যৌথ জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মনে করছেন যে আগামী ২৫০ বছর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি একক বা অখণ্ড রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে পারবে না। দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ক্রমাগত বাড়তে থাকা চরম মেরুকরণ এবং বিভাজনের ফলেই নাগরিকদের মনে এমন অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

একই সময়ে পরিচালিত সমান্তরাল আরেকটি জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, আমেরিকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন দেশটির বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আজ চরম ব্যর্থতার ঝুঁকিতে রয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা এবং দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক দূরত্ব সাধারণ মানুষের মনে এই আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই তীব্র উদ্বেগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের বিশেষ এই জন্মবার্ষিকী উদযাপনে সাধারণ মানুষের আগ্রহে কোনো কমতি দেখা যায়নি। এটি প্রমাণ করে যে চরম বিভক্তির এই যুগেও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে একটি অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধন এখনও বজায় রয়েছে।

 

এবারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রায় ৮০ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক প্রথাগত নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি উদযাপনের পরিকল্পনা করেছেন, যদিও অনেকের কাছেই এই ছুটির দিনের অর্থ এখন কিছুটা বদলে গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা মূলত ফোর্থ অব জুলাই বা আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসকে দেশাত্মবোধক কোনো সমাবেশের চেয়ে কর্মব্যস্ত জীবন থেকে একটু ছুটি পাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হিসেবেই দেখছেন।

 

নাগরিকদের এই উদযাপনের ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাড়ির পেছনে বার্বিকিউর আয়োজন করা কিংবা রাতের আকাশে আতশবাজির আলো দেখা—সবকিছুতেই তারা তাদের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক রীতিনীতিগুলোকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন। সব মিলিয়ে এই জরিপের ফলাফল এমন একটি দেশের চিত্র তুলে ধরে, যা আগামী ২৫০ বছরে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে। তবে এতসব অনিশ্চয়তা ও বিভেদের মাঝেই কেবল একটি সাধারণ ছুটির দিন ও সম্মিলিত বিশ্রামের খোঁজে পুরো দেশের মানুষ এক অদ্ভুত অভিন্ন মোহনায় এসে মিলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
গাড়িতে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পরও  আগুনের ঝুঁকি
গাড়িতে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পরও আগুনের ঝুঁকি! যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ লাখের বেশি গাড়ি রিকল

গাড়ি চালানো হচ্ছে না, ইঞ্জিনও বন্ধ। তারপরও হঠাৎ আগুন ধরে যেতে পারে। এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর ১৫ লাখের বেশি গাড়ি রিকল করা হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে নির্দিষ্ট মডেলের গাড়ির মালিকদের বাড়ি, গ্যারেজ ও অন্য গাড়ি থেকে দূরে খোলা জায়গায় পার্ক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এনএইচটিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে ১৭টি 'পার্ক আউটসাইড' রিকল ক্যাম্পেইন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এ ধরনের সতর্কতা দ্রুত বাড়ছে।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নির্দিষ্ট জিপ র‍্যাংলার, জিপ গ্ল্যাডিয়েটর, কিয়া টেলুরাইড এবং বিএমডব্লিউ ৫৩০ই এক্সড্রাইভসহ বেশ কিছু গাড়ির মালিককে বাড়ি বা অন্য গাড়ি থেকে দূরে পার্ক করতে বলা হয়েছে।   সবচেয়ে বড় সাম্প্রতিক রিকলগুলোর একটি জিপের। জুনে স্টেলান্টিস ২০২১ থেকে ২০২৫ মডেল ইয়ারের ১০ লাখ ৭৬ হাজার ৯৯৯টি জিপ র‍্যাংলার ও জিপ গ্ল্যাডিয়েটর রিকল করে। এসব গাড়িতে হাইড্রোলিক পাওয়ার স্টিয়ারিং পাম্পের বৈদ্যুতিক তারের সমস্যার কারণে আগুন লাগার ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়।   এই সমস্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৫১টি অগ্নিকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় আহত হওয়ার তথ্যও রয়েছে। গাড়ি বন্ধ থাকার সময়ও আগুন লাগতে পারে বলে মালিকদের সতর্ক করা হয়।   এরপর জুলাইয়ে কিয়া ২০২০ থেকে ২০২৪ মডেল ইয়ারের ৪ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৯টি টেলুরাইড রিকল করে। এনএইচটিএসএ জানায়, সামনের পাওয়ার সিটের মোটর অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে।   কিয়ার তথ্য অনুযায়ী, এ সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত সাতটি সিটে আগুন লাগার ঘটনা এবং ১১টি সিট মোটর গলে যাওয়ার ঘটনা তাদের জানা রয়েছে। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এসব গাড়ি ভবন ও অন্য গাড়ি থেকে দূরে বাইরে পার্ক করতে বলা হয়েছে।   কিয়া টেলুরাইডের ক্ষেত্রে সামনের পাওয়ার সিটের স্লাইড কভার বা নব আঘাত পেলে সুইচ সরে যেতে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে মোটর একটানা চলতে থেকে অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আগের রিকলের অধীনে সঠিকভাবে মেরামত না হলেও একই ঝুঁকি থাকতে পারে।   এই রিকলের আওতাভুক্ত কিয়া টেলুরাইডে ডিলাররা বিনা খরচে একটি ইলেকট্রনিক ফিউজ অ্যাসেম্বলি বসাবে। নতুন ব্যবস্থাটি সিটের সুইচে সমস্যা হলে মোটরকে একটানা চলা থেকে রক্ষা করবে।   এ ধরনের রিকলকে 'পার্ক আউটসাইড' রিকল বলা হয়। কারণ আগুনের ঝুঁকি শুধু গাড়ি চালানোর সময় নয়, গাড়ি পার্ক করা এবং ইঞ্জিন বন্ধ থাকার সময়ও থাকতে পারে। এ কারণেই মালিকদের সাধারণ গ্যারেজের পরিবর্তে ভবন ও অন্য গাড়ি থেকে দূরে খোলা জায়গায় গাড়ি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।   সাবেক এনএইচটিএসএ তদন্তকারী ফ্র্যাঙ্ক বরিসের মতে, আধুনিক গাড়িতে ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার পরও কিছু বৈদ্যুতিক সার্কিট সক্রিয় বা গরম থাকতে পারে। গাড়িতে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অল্প জায়গায় আরও বেশি প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। এতে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে অতিরিক্ত তাপ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   পরিসংখ্যানেও উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০টি 'পার্ক আউটসাইড' রিকল হয়েছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে হয় ১৯টি। আর ২০২৬ সালের শুধু জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যেই এমন ১৭টি রিকল হয়েছে।   গাড়ির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের গাড়ি কোনো রিকলের আওতায় আছে কি না তা যাচাই করা। এনএইচটিএসএর রিকল ব্যবস্থায় গাড়ির ১৭ ডিজিটের ভেহিকল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ভিআইএন দিয়ে নির্দিষ্ট গাড়ির রিকল স্ট্যাটাস জানা যায়।   কোনো গাড়ির জন্য 'পার্ক আউটসাইড' নির্দেশনা থাকলে মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সেটি বাড়ির গ্যারেজে বা অন্য গাড়ির পাশে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ কিছু ক্ষেত্রে আগুন লাগার জন্য গাড়ির চলমান থাকা প্রয়োজন নেই। ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থাতেও বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ২:৩
অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার পর পরই প্যারালাইজড বৃদ্ধা

অপারেশনের সময় পটাশিয়াম দেওয়ার পর পরই প্যারালাইজড বৃদ্ধা, হাসপাতালের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ

রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ

রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদন শেষ ১৪ সেপ্টেম্বর

যোগ্য গাড়ির বীমা গ্রাহকদের ৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিচ্ছে স্টেট ফার্ম। ছবি: সংগৃহীত

স্টেট ফার্মের ৫ বিলিয়ন ডলারের ক্যাশব্যাক শুরু, দেখে নিন কারা পাচ্ছেন গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের এই অর্থ ফেরত

ভার্জিনিয়ায় অভিবাসী আটকের ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর আঘাতের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী, হাসপাতালে পরীক্ষায় মিলল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে আটক হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে এক অভিবাসীকে। তার আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পরীক্ষার পর তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, মস্তিষ্কে ফোলাভাব এবং মাথায় আঘাত শনাক্ত হয়।   জোসে মেহিয়া হার্নান্দেজের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১১ আগস্ট সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নর্দার্ন ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার সময় একটি ট্রাক তার কাছে এসে থামে। সেখান থেকে দুই ব্যক্তি নেমে তাকে ধাওয়া করেন। তারা কারা, তা বুঝতে না পেরে হার্নান্দেজ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।   হার্নান্দেজের দাবি, পালানোর সময় তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর তিনি জ্ঞান হারান। কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখতে পান, তার মুখে গুরুতর আঘাত ও ফোলাভাব রয়েছে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তার মাথায় আঘাত, মস্তিষ্কে ফোলাভাব এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শনাক্ত করেন বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন।   জ্ঞান ফেরার পর হার্নান্দেজ তার হাসপাতালের বিছানার পাশে দুই আইসিই কর্মকর্তাকে দেখতে পান বলে দাবি করেন। তিনি কীভাবে আহত হয়েছেন জানতে চাইলে কর্মকর্তারা তাকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ হার্নান্দেজের বক্তব্যের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে। বিভাগের দাবি, আটকের সময় হার্নান্দেজ সাড়া দিচ্ছিলেন এবং তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করার পর তাকে আটক করতে আইসিই কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেন।   তবে কীভাবে ওই বলপ্রয়োগের পর হার্নান্দেজের মুখে গুরুতর আঘাত এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলো, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।   হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় আইসিই কর্মকর্তারা তার পাশে ছিলেন বলেও হার্নান্দেজ অভিযোগ করেছেন। এদিকে তার স্ত্রী ও সৎ সন্তান প্রায় তিন দিন পর্যন্ত জানতেন না যে তিনি আটক হয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে তার আইনজীবীর বক্তব্যে জানানো হয়েছে।   হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর আইসিই হার্নান্দেজের পায়ে জিপিএস নজরদারি যন্ত্র পরিয়ে দেয় এবং তাকে ইমিগ্রেশন কোর্টে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।   কয়েক দিন পর শারীরিক অবস্থার অবনতি অনুভব করলে হার্নান্দেজ আবার হাসপাতালে যান। সেখানে তাকে পুনরায় মস্তিষ্কে আঘাত ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তিনি আরও দুই দিন হাসপাতালে ছিলেন বলে তার আইনজীবীর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার পর হার্নান্দেজ তার চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। ইউনিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকে তিনি নিয়মিত কাজ করে আসছেন এবং পরিবারকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চেয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি অত্যন্ত কঠিন বলে বর্ণনা করেন।   ঘটনাটি নিয়ে এখন মূল প্রশ্ন হলো, আইসিই কর্মকর্তারা হার্নান্দেজকে আটক করার সময় ঠিক কী ঘটেছিল এবং সেই সময় তিনি কীভাবে এত গুরুতরভাবে আহত হলেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, তাকে আটক করতে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। অন্যদিকে হার্নান্দেজের পক্ষ থেকে আটকের পুরো ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২৩:৯
ছেলেকে উদ্ধারের পর নদীতে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারান অ্যাঞ্জেলিনা খালিমেনডিক। ছবি: সংগৃহীত

ছেলেকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ, নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচালেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ট্রাম্প পণ্যদোকানে বিক্রির জন্য রাখা বিভিন্ন সামগ্রী। ছবি: সংগৃহীত

বিক্রি কমে বন্ধ হচ্ছে ট্রাম্পের দুই বড় দোকান, কমেছে ক্রেতার ভিড়

সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে জিমে ব্যায়ামের ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাঞ্জেলা হোলম। ছবি: সংগৃহীত

নবজাতককে বুকে বেঁধে জিমে ব্যায়াম, তীব্র সমালোচনার মুখে ইনফ্লুয়েন্সার মা

ডিভোর্সের প্রক্রিয়ায় থাকা এই দম্পতির দুই ছোট শিশু ঘটনার সময় বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। ছবি: সংগৃহীত
সন্তানদের নিতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে, টেক্সাসে স্বামীর হাতে স্ত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার সময় তাদের দুই শিশু সন্তান বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। পুলিশের তল্লাশির সময় অভিযুক্ত স্বামীর শার্টে লেগে থাকা বিশাল রক্তের দাগ দেখে প্রথম সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে গ্যারেজে রাখা একটি গাড়ির ডিকি থেকে স্ত্রীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট টেক্সাসের প্ল্যানো শহরে জেক বিগনি (৩৭) নামের ওই ব্যক্তির অ্যাপার্টমেন্টে যায় পুলিশ। ওইদিন সকালে তার স্ত্রী এলিয়ানা বিগনি এক বান্ধবীর সঙ্গে সকালের নাশতা করার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। জেকের অতীতের সহিংস আচরণের কথা বিবেচনা করে ওই বান্ধবী এলিয়ানার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এরপরই পুলিশ জেকের বাসায় গিয়ে খোঁজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের হাতে আসা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হলফনামা থেকে জানা যায়, জেক যখন অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খোলেন, তখন তার শার্টে বিশাল একটি রক্তের দাগ ছিল। পুলিশ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ঘর পরিষ্কার করার সময় এই দাগ লেগেছে। তিনি পুলিশকে আরও জানান, এলিয়ানা ওইদিন সকালে এসেছিলেন, তবে কিছুক্ষণ পর চলেও গেছেন।   তবে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তারা ভেতরে তল্লাশি চালান। সে সময় অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে বিপুল পরিমাণ রক্ত ও রক্তের ছিটে দেখতে পান তারা। এরপর ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের গ্যারেজে রাখা একটি সাদা হুন্দাই গাড়ির ডিকি থেকে এলিয়ানার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, এলিয়ানা মূলত তার সন্তানদের নিতেই ওইদিন জেকের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন। কলিন কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনার এখনো তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ প্রকাশ করেননি।   লোমহর্ষক এই ঘটনার আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ পৌঁছানোর ঠিক ৩০ মিনিট আগে জেক তার মাকে ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি বলেন, "তোমাকে আমার কিছু বলার আছে। সে মারা গেছে।" জেক তার মায়ের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, "আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল এবং সে মারা গেছে।" এই কথা শোনার পরই আতঙ্কিত হয়ে তার মা পুলিশে খবর দেন।   বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার কারণে এই দম্পতি আলাদা থাকছিলেন। মাত্র এক বছর আগে জেকের চাকরির সুবাদে তারা সপরিবারে টেক্সাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের ২ ও ৫ বছর বয়সী দুই শিশু সন্তান ওই অ্যাপার্টমেন্টেই ছিল। তবে তারা শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   প্ল্যানো পুলিশের কর্মকর্তা জেরি মিনটন ফক্স৪-কে বলেন, "এমন একটি জঘন্য অপরাধের সময় ওই দুই শিশু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তারা ঠিক কী দেখেছে বা দেখেনি, তা নিয়ে আমি এখন কোনো অনুমান করতে চাই না, তবে তারা সেখানে ছিল।"   কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জেক বিগনিকে প্রাথমিকভাবে মৃতদেহ অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলেও পরে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে জামিন অযোগ্য অবস্থায় তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২১:২৭
জেক ল্যাংয়ের আগমন ঘিরে ডিয়ারবর্নে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, সংঘর্ষে জড়াল দুই পক্ষ

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আদালতে প্রশ্নের মুখে মেটা। ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর ফিচার বাতিলের দাবিতে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ অঙ্গরাজ্যের মামলা

মুদি পণ্যের বাড়তি দামে কেনাকাটার ধরন বদলাচ্ছেন আমেরিকানরা। ছবি: সংগৃহীত

১০০ ডলারে যতটা বাজার হবে ভাবছেন, বাস্তবে তার চেয়েও কম: বদলে যাচ্ছে আমেরিকানদের কেনাকাটার অভ্যাস

0 Comments