আমেরিকা

কিশোরদের যৌন নির্যাতনকারী স্ত্রীর পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন মার্কিন স্বামী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১১:৫১
মিনেসোটায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক হকি খেলোয়াড়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত অ্যালিসন শার্ডিন ও তাঁর পাশে থাকা স্বামী অ্যান্থনি শার্ডিন | ছবি: ফেসবুক/অ্যালিসন শার্ডিন
মিনেসোটায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক হকি খেলোয়াড়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত অ্যালিসন শার্ডিন ও তাঁর পাশে থাকা স্বামী অ্যান্থনি শার্ডিন | ছবি: ফেসবুক/অ্যালিসন শার্ডিন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের এক নারী হোটেল রুমের গরম জলের কুণ্ডে (হট টাব) আলাপ হওয়া দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক হকি খেলোয়াড়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই জঘন্য অপরাধের পরও ওই নারীর স্বামী তাঁর পাশে থাকার এক অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অ্যালিসন শার্ডিন নামের ওই অপরাধী নারী ইতিমধ্যে যৌন অপরাধীদের তালিকায় (সেক্স অফেন্ডার রেজিস্ট্রি) অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্বামী অ্যান্থনি শার্ডিন এখনও বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছেন।

 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ৫২ বছর বয়সী অ্যান্থনি নিশ্চিত করেন যে তারা এখনও বিবাহিত এবং একসঙ্গে আছেন। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে তারা এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে বা আড়ালে থাকার চেষ্টা করছেন। ৪০ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী অ্যালিসন শার্ডিন তাঁর অপরাধের জন্য বড় মেয়াদের কারাদণ্ড এড়াতে সক্ষম হন। গত বছরের জানুয়ারিতে আদালতে দোষ স্বীকার করার পর তাঁকে মাত্র দুটি সপ্তাহান্তের (উইকেন্ড) জেল, সমাজসেবামূলক কাজ এবং পাঁচ বছরের প্রবেশন বা নজরদারির সাজা দেওয়া হয়।

 

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি অ্যালিসন তাঁর স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে রোজভিলের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে কলোরাডো থেকে খেলতে আসা ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোর অ্যাথলেটের সঙ্গে হট টাবে তাঁর আলাপ হয়। সেখানে ভিজতে ভিজতে অ্যালিসন ওই কিশোরদের কাছে নিজের স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী উপর থেকে চিৎকার করে বলেন, "তুমি যদি এখনই উপরে না আসো, তবে আমাদের সম্পর্ক শেষ।" এরপরই অ্যালিসন ওই কিশোরদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য বিনিময় করেন।

 

পরবর্তীতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে অ্যালিসন ওই কিশোরদের একজনের স্ন্যাপচ্যাটে বার্তা পাঠিয়ে তাদের রুমে যাওয়ার কথা বলেন। রুমে গিয়ে তিনি কিশোরদের ওপর যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন, যখন অপর এক কিশোর তা দেখছিল। ভুক্তভোগীদের একজন police-কে জানায়, তারা অত্যন্ত অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল এবং কীভাবে 'না' বলতে হয় তা তাদের জানা ছিল না। এই ঘটনার পরদিন অ্যালিসন ওই কিশোরদের খেলার মাঠেও তাড়া করেন এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি প্রশাসনকে না জানাতে মেসেজ পাঠিয়ে অনুরোধ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

 

নথি অনুযায়ী, এই ঘটনার ঠিক চার সপ্তাহ আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যান্থনি তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন। তবে স্ত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে তারা যৌথভাবে সেই মামলাটি স্থগিত করার আবেদন জানান এবং এক বছর পর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি পুরোপুরি খারিজ হয়ে যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে ল্যাম্পেডুসা দ্বীপ পরিদর্শনে যাওয়া পোপ লিও | ছবি: ভ্যাটিকান মিডিয়া/এএফপি/গেটি
আমেরিকার জন্মদিনে অভিবাসীদের প্রশংসা পোপের, ট্রাম্পকে দিলেন পরোক্ষ বার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের বিশেষ মুহূর্তে অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর মার্কিন ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু পোপ লিও। আমেরিকার প্রথম পোপ হিসেবে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে দেশটির স্বাধীনতার ঘোষণার (ডিক্লারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্স) মূল আদর্শ বজায় রাখার আহ্বান জানান। এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে পোপের একটি পরোক্ষ ও বড় বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।   ফিলাডেলফিয়ার ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন সেন্টার থেকে 'লিবার্টি মেডেল' গ্রহণের পর ভ্যাটিকান থেকে সরাসরি দেওয়া এক লাইভ ভাষণে পোপ লিও বলেন, বিশ্বজুড়ে "আমেরিকা" নামটি যে আজ স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে, তার মূল কারণ হলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অভিবাসীদের যেভাবে এই দেশ আপন করে নিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা পুরুষদের (ফাউন্ডিং ফাদার্স) রেখে যাওয়া একতা, ন্যায়বিচার ও শান্তির আদর্শ আগামী দিনগুলোতেও মার্কিন সমাজকে সঠিক পথ দেখাবে।   আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের এই বিশেষ দিনটিতে (৪ জুলাই) পোপ লিও প্রতীকীভাবে ইতালির ল্যাম্পেডুসা দ্বীপ পরিদর্শনে যান। উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশ করতে চাওয়া হাজার হাজার শরণার্থীর জন্য এই দ্বীপটি অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। সেখান থেকে তিনি ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, অভিবাসন সমস্যাকে কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ দিয়ে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে মানুষ যাতে নিজের দেশ ছাড়তে বাধ্য না হয়, সেজন্য অনুন্নত দেশগুলোর পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতেও তিনি বিশ্বনেতাদের তাগিদ দেন।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর অভিবাসন নীতি এবং ইরান ইস্যুতে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কড়া সমালোচনা করায় বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সাথে ভ্যাটিকানের সম্পর্ক কিছুটা শীতল যাচ্ছে। এমনকি কিছুদিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিবাসন বিষয়ে ভ্যাটিকানের দৃষ্টিভঙ্গিকে "উদ্বেগজনক" বলে মন্তব্য করেছিলেন। ভ্যাটিকান বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার জন্মদিনে পোপের ল্যাম্পেডুসা সফর এবং ফিলাডেলফিয়ার ভাষণ অত্যন্ত প্রতীকী এবং এটি মূলত ট্রাম্পের অভিবাসী-বিরোধী এজেন্ডা এবং ইউরোপের চরমপন্থী দলগুলোর ছড়ানো মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে এক স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১২:৫৪
ক্যালিফোর্নিয়ার নাপা শহরে দীর্ঘ এক দশক ধরে বন্ধ থাকা ঐতিহাসিক পোস্ট অফিস ভবনটিকে বিলাসবহুল হোটেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা | ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকার পরিত্যক্ত ডাকঘর ভেঙে পাঁচ তারকা হোটেল বানানোর বড় উদ্যোগ

মিশিগানে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে কথা বলছেন স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী | ছবি: আমেরিকা বাংলা

ঝড়ে অন্ধকারে মিশিগানের বহু এলাকা, তীব্র গরমে দুর্ভোগে বাংলাদেশি পরিবার

মিনেসোটায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক হকি খেলোয়াড়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত অ্যালিসন শার্ডিন ও তাঁর পাশে থাকা স্বামী অ্যান্থনি শার্ডিন | ছবি: ফেসবুক/অ্যালিসন শার্ডিন

কিশোরদের যৌন নির্যাতনকারী স্ত্রীর পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন মার্কিন স্বামী

২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভবিষ্যৎ অখণ্ডতা নিয়ে নাগরিকদের সংশয় | ছবি: রয়টার্স/হ্যানা বেয়ার
আমেরিকার ২৫০তম বার্ষিকী, আরও ২৫০ বছর টিকে থাকা নিয়ে সংশয়ে ৪০ শতাংশ নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নাগরিকদের মনে এক গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত রয়টার্স ও ইপসোস-এর যৌথ জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৪০ শতাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মনে করছেন যে আগামী ২৫০ বছর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি একক বা অখণ্ড রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে পারবে না। দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ক্রমাগত বাড়তে থাকা চরম মেরুকরণ এবং বিভাজনের ফলেই নাগরিকদের মনে এমন অস্তিত্ব সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   একই সময়ে পরিচালিত সমান্তরাল আরেকটি জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, আমেরিকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ মনে করেন দেশটির বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আজ চরম ব্যর্থতার ঝুঁকিতে রয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা এবং দলগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক দূরত্ব সাধারণ মানুষের মনে এই আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই তীব্র উদ্বেগ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের বিশেষ এই জন্মবার্ষিকী উদযাপনে সাধারণ মানুষের আগ্রহে কোনো কমতি দেখা যায়নি। এটি প্রমাণ করে যে চরম বিভক্তির এই যুগেও মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে একটি অভিন্ন সাংস্কৃতিক বন্ধন এখনও বজায় রয়েছে।   এবারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রায় ৮০ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক প্রথাগত নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি উদযাপনের পরিকল্পনা করেছেন, যদিও অনেকের কাছেই এই ছুটির দিনের অর্থ এখন কিছুটা বদলে গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা মূলত ফোর্থ অব জুলাই বা আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসকে দেশাত্মবোধক কোনো সমাবেশের চেয়ে কর্মব্যস্ত জীবন থেকে একটু ছুটি পাওয়া, বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হিসেবেই দেখছেন।   নাগরিকদের এই উদযাপনের ধরন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাড়ির পেছনে বার্বিকিউর আয়োজন করা কিংবা রাতের আকাশে আতশবাজির আলো দেখা—সবকিছুতেই তারা তাদের ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক রীতিনীতিগুলোকে জড়িয়ে ধরে রেখেছেন। সব মিলিয়ে এই জরিপের ফলাফল এমন একটি দেশের চিত্র তুলে ধরে, যা আগামী ২৫০ বছরে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে। তবে এতসব অনিশ্চয়তা ও বিভেদের মাঝেই কেবল একটি সাধারণ ছুটির দিন ও সম্মিলিত বিশ্রামের খোঁজে পুরো দেশের মানুষ এক অদ্ভুত অভিন্ন মোহনায় এসে মিলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১১:৩২
বাল্টিমোরে পুলিশের ট্রাফিক সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় এক মোপেড চালকের মৃত্যু | ছবি: সিবিএস নিউজ

আমেরিকায় ট্রাফিক পুলিশের তাড়া খেয়ে দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা, মোপেড চালকের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে গিগ ইকোনমির মাধ্যমে বৈধভাবে অতিরিক্ত বা নিয়মিত আয় করার বিভিন্ন সুযোগ | ছবি: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে একটি গাড়ি থাকলে আয়ের ১১ কার্যকর উপায়, জেনে নিন কোনটি আপনার জন্য উপযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো সিটির কাছে অ্যাসপেন এক্রেস দাবানল নিয়ন্ত্রণে পানি বর্ষণ করছে একটি অগ্নিনির্বাপক বিমান | ছবি: এপি

আমেরিকায় ভয়াবহ দাবানল, ১৬০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস ও হাজার হাজার মানুষ উচ্ছেদ

ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সমালোচিত ও নিজস্ব ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে শতকোটি ডলার আয় করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: কেভিন ওয়ার্ম/রয়টার্স
প্রেসিডেন্ট হয়েই ক্রিপ্টো থেকে ট্রাম্পের আয় ১০০ কোটি ডলার! ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন মার্কিনিরা

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরার পর ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবসা থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের বেশি আয় করার তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন সরকারের নীতিশাস্ত্র কার্যালয় (ইউএস অফিস অব গভর্নমেন্ট এথিক্স) প্রকাশিত এক বিশাল আর্থিক প্রতিবেদনে এই তথ্য ফাঁসের পর খোদ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেই তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ একে হোয়াইট হাউজের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্পষ্ট 'প্রতারণা' বলে আখ্যা দিচ্ছেন।   প্রায় ১ হাজার পৃষ্ঠার ওই সরকারি নথি অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট সব মিলিয়ে ২২০ কোটি ডলারের (২.২ বিলিয়ন) বেশি আয় করেছেন। বৈশ্বিক রিয়েল এস্টেট, গলফ কোর্স, সুগন্ধি ব্যবসা এবং নিজের নামে ব্র্যান্ডিং করা বিভিন্ন পণ্য থেকে তাঁর এই বিপুল আয় আসে। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে তাঁর ক্রিপ্টো ব্যবসা। ট্রাম্প এবং তাঁর পরিবার 'ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্স' ও 'সিআইসি ডিজিটাল' নামের দুটি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১১০ কোটি ডলার তুলে নিয়েছেন, যা মূলত ট্রাম্পের মুখচ্ছবি দেওয়া বিশেষ কয়েন ও টোকেন বিক্রি থেকে এসেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদের প্রভাব খাটিয়ে নিজের ব্যবসার সুবিধা নিচ্ছেন এবং আমেরিকার ক্রিপ্টো বাজারকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছেন।   এই বিপুল আয়ের খবর এমন এক সময়ে এলো, যখন সাধারণ মার্কিনিরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্যের কারণে হিমশিম খাচ্ছেন। ৪ শতাধিক মার্কিন নাগরিক এক জরিপে ট্রাম্পের এই বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের ওপর কর ও মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে ট্রাম্প নিজের পকেট ভরছেন বলে তাদের অভিযোগ।   অবশ্য হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বা তাঁর পরিবার কখনোই কোনো স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি। স্বয়ং ট্রাম্পও সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, "আমি একজন ব্যবসায়ী এবং খুব ভালো ব্যবসায়ী। আমি সবসময়ই টাকা কামাতে জানি।" তবে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা ট্রাম্পের এই বিপুল আয়কে মার্কিন গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতার জন্য এক বড় ধরনের অবক্ষয় বলে মনে করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১০:৫৪
অ্যারিজোনায় ডাক্তার কর্তৃক মৃত ঘোষণার সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর মর্গের কোল্ড রুম থেকে জীবন্ত উদ্ধার হওয়া শিশু | ছবি: গোফান্ডমি

মৃত ঘোষণার সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর মর্গে জীবন্ত মিলল শিশু, মার্কিন ডাক্তারের চরম গাফিলতি!

সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআই-এর শেয়ার দিয়ে বাড়ি কেনাবেচার মাধ্যমে আবাসন বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রভাব | ছবি: সংগৃহীত

সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআই এর প্রি-আইপিও শেয়ারে বাড়ি কেনাবেচা, নেট দুনিয়ায় ভাইরাল

আমেরিকান এয়ারলাইন্সের এক পাইলটের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া বার্ষিক বেতনের স্লিপ | ছবি: রয়টার্টস

বছরে সাড়ে ৪ লাখ ডলার বেতন! মার্কিন পাইলটের বেতনের ছবি দেখে নেট দুনিয়ায় তোলপাড়

0 Comments