আমেরিকা

কিশোরদের যৌন নির্যাতনকারী স্ত্রীর পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন মার্কিন স্বামী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৪, ২০২৬ ১১:৫১
মিনেসোটায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক হকি খেলোয়াড়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত অ্যালিসন শার্ডিন ও তাঁর পাশে থাকা স্বামী অ্যান্থনি শার্ডিন | ছবি: ফেসবুক/অ্যালিসন শার্ডিন
মিনেসোটায় দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক হকি খেলোয়াড়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত অ্যালিসন শার্ডিন ও তাঁর পাশে থাকা স্বামী অ্যান্থনি শার্ডিন | ছবি: ফেসবুক/অ্যালিসন শার্ডিন

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের এক নারী হোটেল রুমের গরম জলের কুণ্ডে (হট টাব) আলাপ হওয়া দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক হকি খেলোয়াড়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই জঘন্য অপরাধের পরও ওই নারীর স্বামী তাঁর পাশে থাকার এক অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অ্যালিসন শার্ডিন নামের ওই অপরাধী নারী ইতিমধ্যে যৌন অপরাধীদের তালিকায় (সেক্স অফেন্ডার রেজিস্ট্রি) অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্বামী অ্যান্থনি শার্ডিন এখনও বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছেন।

 

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ৫২ বছর বয়সী অ্যান্থনি নিশ্চিত করেন যে তারা এখনও বিবাহিত এবং একসঙ্গে আছেন। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে তারা এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে বা আড়ালে থাকার চেষ্টা করছেন। ৪০ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী অ্যালিসন শার্ডিন তাঁর অপরাধের জন্য বড় মেয়াদের কারাদণ্ড এড়াতে সক্ষম হন। গত বছরের জানুয়ারিতে আদালতে দোষ স্বীকার করার পর তাঁকে মাত্র দুটি সপ্তাহান্তের (উইকেন্ড) জেল, সমাজসেবামূলক কাজ এবং পাঁচ বছরের প্রবেশন বা নজরদারির সাজা দেওয়া হয়।

 

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি অ্যালিসন তাঁর স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে রোজভিলের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে কলোরাডো থেকে খেলতে আসা ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোর অ্যাথলেটের সঙ্গে হট টাবে তাঁর আলাপ হয়। সেখানে ভিজতে ভিজতে অ্যালিসন ওই কিশোরদের কাছে নিজের স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী উপর থেকে চিৎকার করে বলেন, "তুমি যদি এখনই উপরে না আসো, তবে আমাদের সম্পর্ক শেষ।" এরপরই অ্যালিসন ওই কিশোরদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য বিনিময় করেন।

 

পরবর্তীতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে অ্যালিসন ওই কিশোরদের একজনের স্ন্যাপচ্যাটে বার্তা পাঠিয়ে তাদের রুমে যাওয়ার কথা বলেন। রুমে গিয়ে তিনি কিশোরদের ওপর যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন, যখন অপর এক কিশোর তা দেখছিল। ভুক্তভোগীদের একজন police-কে জানায়, তারা অত্যন্ত অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল এবং কীভাবে 'না' বলতে হয় তা তাদের জানা ছিল না। এই ঘটনার পরদিন অ্যালিসন ওই কিশোরদের খেলার মাঠেও তাড়া করেন এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি প্রশাসনকে না জানাতে মেসেজ পাঠিয়ে অনুরোধ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

 

নথি অনুযায়ী, এই ঘটনার ঠিক চার সপ্তাহ আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যান্থনি তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন। তবে স্ত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে তারা যৌথভাবে সেই মামলাটি স্থগিত করার আবেদন জানান এবং এক বছর পর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি পুরোপুরি খারিজ হয়ে যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ
রকেট বানিয়ে নাসার চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগ, আবেদন শেষ ১৪ সেপ্টেম্বর

যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব রকেট ডিজাইন, নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের সুযোগ নিয়ে আবারও শুরু হচ্ছে নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ চ্যালেঞ্জ। ২০২৭ সালের এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে কলেজ ও ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি যোগ্য মিডল ও হাইস্কুল পর্যায়ের দলগুলো আবেদন করতে পারবে। নাসার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আবেদন বা প্রপোজাল জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল টাইম।   নাসার স্টুডেন্ট লঞ্চ মূলত নয় মাসব্যাপী একটি ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ। এতে নির্বাচিত শিক্ষার্থী দলগুলোকে একটি হাই-পাওয়ার রকেট ডিজাইন, তৈরি, পরীক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত উৎক্ষেপণ করতে হয়। রকেটের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক বা ইঞ্জিনিয়ারিং পেলোডও তৈরি করতে হয়। ফলে এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব মহাকাশ ও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ কাছ থেকে শেখার সুযোগ।   পুরো কর্মসূচিটি পরিচালনা করে আলাবামার হান্টসভিলে অবস্থিত নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের অফিস অব স্টেম এনগেজমেন্ট। চ্যালেঞ্জের বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকৌশল বিষয় তৈরিতে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম এবং আর্টেমিস কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ইন্ডাস্ট্রি পার্টনাররা যুক্ত থাকেন।   নাসার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো কলেজ বা ইউনিভার্সিটি ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগে অংশ নেওয়ার জন্য প্রপোজাল জমা দিতে পারে। এটি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ এবং প্রপোজাল যাচাইয়ের পর দল নির্বাচন করা হয়।   ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা স্টুডেন্ট লঞ্চ ইনিশিয়েটিভ বিভাগ। তবে এই পর্যায়ে সরাসরি সব স্কুল আবেদন করতে পারবে না। নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। আমেরিকান রকেট্রি চ্যালেঞ্জের শীর্ষ ২৫টি স্কুল এবং রকেটস ফর স্কুলস প্রতিযোগিতার ক্লাস টু বিভাগের শীর্ষ সাতটি স্কুল নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে প্রপোজাল জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে। একটি স্কুল থেকে সর্বোচ্চ একটি দল অংশ নিতে পারবে।   চ্যালেঞ্জের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিক্ষার্থীদের কাজ অনেকটাই নাসার বাস্তব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ার আদলে পরিচালিত হয়। নির্বাচিত দলকে ধাপে ধাপে প্রিলিমিনারি ডিজাইন রিভিউ, ক্রিটিক্যাল ডিজাইন রিভিউ, ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ এবং লঞ্চ রেডিনেস রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে শেষ করেই পরবর্তী পর্যায়ে যেতে হবে।   রকেট উৎক্ষেপণের পরও কাজ শেষ হবে না। শিক্ষার্থীদের রকেটের ফ্লাইট ও পেলোড থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে এবং পোস্ট লঞ্চ অ্যাসেসমেন্ট রিভিউ সম্পন্ন করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ডিজাইন, পরীক্ষা, উৎক্ষেপণ এবং ফলাফল বিশ্লেষণ পর্যন্ত পুরো ইঞ্জিনিয়ারিং লাইফসাইকেলের অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা করে নাসা।   ২০২৭ সালের স্টুডেন্ট লঞ্চের চূড়ান্ত আয়োজন হবে আলাবামার হান্টসভিলে। নাসার ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, লঞ্চ ডে নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ এপ্রিল ২০২৭। এখানেই বিভিন্ন দলের তৈরি হাই-পাওয়ার রকেট উৎক্ষেপণ করা হবে।   নাসা বলছে, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের রকেট বানানো শেখানো নয়। ভবিষ্যতের স্টেম ও অ্যারোস্পেস কর্মশক্তি তৈরির জন্য বাস্তব গবেষণা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে আর্টেমিস কর্মসূচির মাধ্যমে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে আগ্রহী করে তোলার বিষয়টিও এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত।   আগ্রহী কলেজ ও ইউনিভার্সিটি এবং যোগ্য স্কুল দলগুলোকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ১৪ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার মধ্যেই নাসার কাছে প্রপোজাল জমা দিতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১:৪৯
যোগ্য গাড়ির বীমা গ্রাহকদের ৫ বিলিয়ন ডলার ফেরত দিচ্ছে স্টেট ফার্ম। ছবি: সংগৃহীত

স্টেট ফার্মের ৫ বিলিয়ন ডলারের ক্যাশব্যাক শুরু, দেখে নিন কারা পাচ্ছেন গাড়ির ইন্স্যুরেন্সের এই অর্থ ফেরত

ভার্জিনিয়ায় অভিবাসী আটকের ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর আঘাতের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

ভার্জিনিয়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে আটক অভিবাসী, হাসপাতালে পরীক্ষায় মিলল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ

ছেলেকে উদ্ধারের পর নদীতে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারান অ্যাঞ্জেলিনা খালিমেনডিক। ছবি: সংগৃহীত

ছেলেকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ, নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচালেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের একটি ট্রাম্প পণ্যদোকানে বিক্রির জন্য রাখা বিভিন্ন সামগ্রী। ছবি: সংগৃহীত
বিক্রি কমে বন্ধ হচ্ছে ট্রাম্পের দুই বড় দোকান, কমেছে ক্রেতার ভিড়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে তৈরি পণ্য বিক্রির অন্তত দুটি পরিচিত দোকান চলতি বছর বন্ধ হয়ে গেছে বা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। টেনেসি ও পেনসিলভানিয়ার এসব দোকানের মালিকেরা বিক্রি কমে যাওয়া, ক্রেতার উপস্থিতি হ্রাস এবং নির্বাচনী উত্তেজনা কমে যাওয়াকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি ট্রাম্প-সমর্থিত পণ্যের বাজারে ২০২৪ সালের নির্বাচনী সময়ের তুলনায় চাহিদা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   টেনেসির নক্সভিলের কাছে ইন্টারস্টেট ৪০ মহাসড়কের পাশে থাকা বড় একটি ট্রাম্প পণ্যদোকান সম্প্রতি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। উইলিয়াম ‘বিল’ হেইসের মালিকানাধীন দোকানটি মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের কাছে একটি পরিচিত স্থানে পরিণত হয়েছিল। দোকানের সামনে ছিল ট্রাম্পের বড় বড় সাইনবোর্ড, ব্যানার এবং ‘ডেমোক্র্যাট সুপারস্টোর’ লেখা একটি ইটের তৈরি প্রদর্শনী। দোকানটি কেন বন্ধ হচ্ছে, তা নিয়ে প্রথমদিকে ভিন্ন ধরনের খবর ছড়িয়েছিল। তবে মালিক হেইস নিজেই জানিয়েছেন, অবসর নেওয়া বা ফ্লোরিডায় চলে যাওয়ার কারণে নয়, মূলত ব্যবসা কমে যাওয়াই দোকান বন্ধের কারণ। তার ভাষায়, দোকানে এখন আর আগের মতো ক্রেতা আসছেন না।   দোকানের এক কর্মীও একই চিত্র তুলে ধরেছেন। তার দাবি, এখন দোকানটি আর ব্যস্ত থাকে না। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় এবং ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর দোকানে ক্রেতার সংখ্যা ও বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। কিন্তু পরে সেই বাড়তি আগ্রহ আর ধরে রাখা যায়নি। দোকানটির ব্যবসায় রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব স্পষ্ট ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর তার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সেই সময় ট্রাম্পের ছবি ও স্লোগানসংবলিত পণ্যের চাহিদাও বেড়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের সময়কার উত্তেজনা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানের ক্রেতা কমতে শুরু করে বলে কর্মীরা জানিয়েছেন।   এর আগে পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ার উপকণ্ঠ বেনসালেমে থাকা আরেকটি পরিচিত ট্রাম্প পণ্যদোকানও বন্ধ হয়ে গেছে। ছয় বছর ব্যবসা করার পর ‘ট্রাম্প স্টোর’ নামে পরিচিত দোকানটির শেষ দিন ছিল ৩১ জানুয়ারি ২০২৬। দোকানটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাক্স কাউন্টিতে ট্রাম্প-সমর্থকদের একটি পরিচিত মিলনস্থলে পরিণত হয়েছিল। সেখানে টুপি, টি-শার্ট, পতাকা ও বিভিন্ন স্মারক বিক্রি করা হতো। দোকানটির মালিক মাইক ডোমানিকো বলেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ব্যবসায় ধীরগতি দেখা দেয়। ২০২০ সালে নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্রেতাদের আগ্রহ দেখে সেটি চালিয়ে যান। ছয় বছর পর এসে তার মনে হয়েছে, দোকানটির ব্যবসায়িক সময় শেষ হয়েছে।   তবে দোকান বন্ধের পেছনে শুধু বিক্রি কমে যাওয়াই কারণ নয়। ডোমানিকো আরও একটি ব্যবসায় মনোযোগ দিতে চান এবং তিনি আংশিক অবসরে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। পাশাপাশি দোকানের ভাড়ার চুক্তির মেয়াদও শেষের দিকে ছিল। দোকান বন্ধ হলেও তার অনলাইন ব্যবসা এবং বিভিন্ন মেলায় পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বেনসালেমের দোকানটি ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বেশ ভালো ব্যবসা করেছিল। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করেও দোকানে কিছু পণ্যের চাহিদা বেড়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর তার ছবি ও ‘ফাইট, ফাইট, ফাইট’ স্লোগানসংবলিত টি-শার্টের চাহিদা বিশেষভাবে বেড়ে যায়।   এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ট্রাম্পের নামে পণ্য বিক্রির দোকান চালু রয়েছে। টেনেসির গ্যাটলিনবার্গ, সাউথ ক্যারোলাইনার নর্থ মার্টল বিচ এবং নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ট্রাম্প-ভিত্তিক পণ্য বিক্রির কার্যক্রম রয়েছে। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনও অনলাইনে পণ্য বিক্রি করছে। পাশাপাশি তার কিছু গলফ ক্লাব ও রিসোর্টের সঙ্গেও পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বেনসালেম ও টেনেসির দোকান বন্ধ হওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক পণ্য বিক্রির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য সামনে এনেছে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক প্রতীকের পোশাক, টুপি, পতাকা ও স্মারকের চাহিদা দ্রুত বাড়তে পারে। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এমন ব্যবসার জন্য নিয়মিত ক্রেতা তৈরি করা সাধারণ খুচরা ব্যবসার তুলনায় বেশি কঠিন।   এদিকে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা ব্যবসা খাত সামগ্রিকভাবেও মূল্যস্ফীতি, ভোক্তার পরিবর্তিত অভ্যাস এবং অনলাইন কেনাকাটার প্রসারের মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই ট্রাম্পের পণ্য বিক্রির দোকানগুলোর ক্ষেত্রে বিক্রি কমার কারণকে শুধু রাজনৈতিক আগ্রহের পরিবর্তন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ব্যবসার খরচ, ক্রেতাদের ব্যয়ের চাপ এবং অনলাইন কেনাকাটার প্রবণতাও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।   তবু দুই দোকানের মালিকের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় যে বিপুল আগ্রহ ট্রাম্প-সম্পর্কিত পণ্যের বিক্রি বাড়িয়েছিল, সেটি এখন আর আগের পর্যায়ে নেই। নির্বাচনী উত্তেজনা কমে যাওয়ার পর রাজনৈতিক পণ্যকে কেন্দ্র করে স্থায়ী খুচরা ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২২:১৬
সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে জিমে ব্যায়ামের ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার অ্যাঞ্জেলা হোলম। ছবি: সংগৃহীত

নবজাতককে বুকে বেঁধে জিমে ব্যায়াম, তীব্র সমালোচনার মুখে ইনফ্লুয়েন্সার মা

ডিভোর্সের প্রক্রিয়ায় থাকা এই দম্পতির দুই ছোট শিশু ঘটনার সময় বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। ছবি: সংগৃহীত

সন্তানদের নিতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে, টেক্সাসে স্বামীর হাতে স্ত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি

জেক ল্যাংয়ের আগমন ঘিরে ডিয়ারবর্নে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, সংঘর্ষে জড়াল দুই পক্ষ

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আদালতে প্রশ্নের মুখে মেটা। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ক্ষতিকর ফিচার বাতিলের দাবিতে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ অঙ্গরাজ্যের মামলা

শিশু ও কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন এক মামলায় মেটার বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কিছু বহুল ব্যবহৃত ফিচার তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে আটকে রাখে এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করে, এমন অভিযোগ তুলে এসব ফিচারে বড় ধরনের পরিবর্তন চাওয়া হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মঙ্গলবার মামলাটির মূল বিচারপর্ব শুরু হয়েছে। মামলায় রাজ্যগুলোর পক্ষ থেকে মেটার কাছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নকশা ও ব্যবহারের পদ্ধতিতে আদালতের নির্দেশে পরিবর্তন আনার দাবি জানানো হয়েছে।   মামলাটি ২০২৩ সালে ২৯ অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের করা অভিযোগ থেকে শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি মামলাটির প্রধান বাদী হিসেবে এগিয়ে রয়েছে। রাজ্যগুলোর অভিযোগ, মেটা এমনভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার তৈরি করেছে, যাতে শিশু ও কিশোররা বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসে এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করে। একই সঙ্গে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও মেটা ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলার অভিযোগে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে অসীম স্ক্রল বা ‘ইনফিনিট স্ক্রল’ ব্যবস্থা। এর ফলে একটি পোস্ট শেষ হওয়ার পর ব্যবহারকারীকে পরবর্তী পোস্টের আভাস দেখানো হয় এবং স্ক্রল করতে থাকলে নতুন নতুন কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে আসতে থাকে। রাজ্যগুলোর দাবি, এই নকশা ব্যবহারকারীকে থামার স্বাভাবিক জায়গা না দিয়ে ক্রমাগত স্ক্রল করতে উৎসাহিত করে। মামলার নথি অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে এই ধরনের অসীম স্ক্রল ব্যবস্থা ২০১৬ সালে চালু করা হয়।   শুধু অসীম স্ক্রল নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া, পুশ নোটিফিকেশন, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানো এবং অল্প সময় পর অদৃশ্য হয়ে যায় এমন কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব ফিচার তরুণ ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে।   রাজ্যগুলোর চাওয়া পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য অসীম স্ক্রল বন্ধ করা, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়ার ব্যবস্থা সীমিত বা বন্ধ করা এবং তরুণ ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপে ফেরাতে পারে এমন নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করা। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজের মতো নির্দিষ্ট সময় পর অদৃশ্য হয়ে যাওয়া কনটেন্ট এবং একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ নিয়েও বিধিনিষেধ চাওয়া হয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে চেহারা পরিবর্তনকারী ফিল্টারের ব্যবহার নিয়েও সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব রয়েছে।   এ ছাড়া রাজ্যগুলো মেটার সুপারিশভিত্তিক অ্যালগরিদমেরও পরিবর্তন চায়। তাদের অভিযোগ, কোন কনটেন্ট ব্যবহারকারীকে বেশি সময় ধরে রাখতে পারে, সেই বিষয়টি অ্যালগরিদমে গুরুত্ব পাওয়ায় তরুণদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন কনটেন্টও বারবার সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়। রাজ্যগুলোর ভাষ্য, প্ল্যাটফর্মের নকশাই এমনভাবে করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীর ব্যস্ততা বা ‘এনগেজমেন্ট’ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।   মামলায় শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। রাজ্যগুলোর দাবি, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাযথ অভিভাবকীয় সম্মতি নেওয়া হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে আদালত মেটার সারসংক্ষেপ রায়ের আবেদন পুরোপুরি নাকচ করে দেয় এবং মামলাটি বিচার পর্যন্ত যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়। একই আদেশে আদালত ক্যালিফোর্নিয়ার এই দাবিও গ্রহণ করে যে শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষার ফেডারেল আইন, শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন বা কপ্পা (COPPA) অনুযায়ী মেটার অভিভাবকের সম্মতি নেওয়ার পদ্ধতি যথেষ্ট ছিল না।   তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীদের বক্তব্য, রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের দাবিও তারা মানে না। মেটা আরও বলেছে, তরুণদের সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কাজ চলছে।   মামলাটি এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি চাপ দ্রুত বাড়ছে। এর আগে নিউ মেক্সিকোর একটি মামলায় মেটাকে মোট ৯৪২ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের জুরি রায় এবং পরে আরও ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা রয়েছে। ওই মামলায় শিশুদের সুরক্ষায় বয়স যাচাই জোরদার করা, রাত ও স্কুলের সময়ে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার বর্তমান মামলাটি অবশ্য আরও বড় পরিসরের। যদিও ২৯টি অঙ্গরাজ্য মামলায় রয়েছে, অকল্যান্ডের এই বিচারপর্বে প্রধানত ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সির অভিযোগগুলো নিয়ে শুনানি হচ্ছে। বিচারপ্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। মেটার শীর্ষ নির্বাহীদের সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।   এই মামলার ফল শুধু মেটার জন্য নয়, পুরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আদালত যদি রাজ্যগুলোর অভিযোগের পক্ষে রায় দেয় এবং নকশাগত পরিবর্তনের নির্দেশ দেয়, তাহলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই ধরনের মামলায় অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকায়, এই রায় ভবিষ্যতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর শিশু-কিশোরদের জন্য পণ্য তৈরির পদ্ধতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষ করে অসীম স্ক্রল, স্বয়ংক্রিয় ভিডিও, নোটিফিকেশন এবং অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশের মতো ফিচারগুলো যদি আদালতের নির্দেশে সীমিত করা হয়, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রচলিত অভিজ্ঞতাই বদলে যেতে পারে। আর মেটার বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবির পাশাপাশি এই নকশাগত পরিবর্তনের দাবিই মামলাটিকে প্রযুক্তি শিল্পের জন্য এতটা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ২০:৫২
মুদি পণ্যের বাড়তি দামে কেনাকাটার ধরন বদলাচ্ছেন আমেরিকানরা। ছবি: সংগৃহীত

১০০ ডলারে যতটা বাজার হবে ভাবছেন, বাস্তবে তার চেয়েও কম: বদলে যাচ্ছে আমেরিকানদের কেনাকাটার অভ্যাস

নিউইয়র্কে ৭ বছরের শিশুপুত্রের সামনে মাকে কু পিয়ে হ ত্যা

নিউইয়র্কে ৭ বছরের শিশুপুত্রের সামনে মাকে কু পিয়ে হ ত্যা, পলাতক হাম লাকারী

ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত

আর মাত্র ৫ দিন! ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত

0 Comments