ঝড়ে অন্ধকারে মিশিগানের বহু এলাকা, তীব্র গরমে দুর্ভোগে বাংলাদেশি পরিবার
মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় ৬০ মাইলের বেশি গতির দমকা হাওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ডেট্রয়েট মেট্রো এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। পরে রাত ১১টা নাগাদ ডিটিই ও কনজিউমার্স এনার্জির সেবা এলাকাসহ পুরো মিশিগানে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা ৪ লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়।
শনিবার সকাল পর্যন্তও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ডিটিই এনার্জি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত, উপড়ে পড়া গাছ সরানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের কাজ চলছে।
এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক পরিবারও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান ও রেফ্রিজারেটর বন্ধ রয়েছে। ফলে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক পরিবার।
এ পরিস্থিতিতে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলেন মিশিগান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড়ের পর থেকে তার নিজের বাসাতেও বিদ্যুৎ নেই।
মিনহাজ চৌধুরী বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমাদের বাসায় বিদ্যুৎ নেই। প্রচণ্ড গরমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে সময় কাটছে। শুধু আমাদের নয়, আশপাশের অনেক বাংলাদেশি পরিবারেরও একই অবস্থা। সবাই অপেক্ষা করছেন কখন বিদ্যুৎ ফিরে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে ইউটিলিটি কোম্পানির কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই মিশিগানসহ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট একসঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া এবং বিদ্যুৎ না থাকলে নিরাপদ ও শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ও বহুল আলোচিত এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ অচল আখ্যা দিয়ে এটি পুরোপুরি বাতিল করার পক্ষে মত দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সম্প্রতি গণমাধ্যম ‘রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, প্রযুক্তি ও হিসাববিজ্ঞানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে। আমেরিকান নাগরিকদের কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে প্রতিস্থাপন করে মূলত স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সাক্ষাৎকারের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করার পর ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা নীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স উচ্চদক্ষ পেশাদার আনা এবং সস্তা শ্রম ব্যবহারের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো বিশেষ প্রতিভাবান ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার বিষয়ে আলোচনা হতেই পারে। তবে ৬০ হাজার ডলার বেতনের একজন আমেরিকান অ্যাকাউন্ট্যান্টকে সরিয়ে যদি ৪৫ হাজার ডলারে বিদেশি কর্মী আনা হয়, তবে সেটি মেধা অন্বেষণ নয়; বরং স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ধ্বংস করা। তিনি উল্লেখ করেন, কোম্পানিগুলো যাতে সস্তা শ্রমের মাধ্যম হিসেবে এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যই ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে এক লাখ ডলার ফি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছিল। মূলত সস্তা শ্রমের পেছনে থাকা লবিস্টদের কারণে কংগ্রেস যখন কোনো সংস্কারে যেতে পারছিল না, তখনই প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত এই এক লাখ ডলারের বাধ্যতামূলক ফি ইতোমধ্যে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত ১ অক্টোবর এক ফেডারেল বিচারক এই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেন, যা প্রশাসনের এইচ-১বি নীতিমালার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বিতীয় কোনো স্থগিতাদেশ। তবে ভ্যান্স মনে করেন, কেবল ফি আরোপই যথেষ্ট নয়; পুরো ব্যবস্থাটিই ভেঙে পড়েছে। তাই তিনি এটি সম্পূর্ণ বাতিলের পক্ষে। বিদ্যমান কাঠামো বহাল থাকা পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি সাধারণ আমেরিকানদের নিজ নিজ আইনপ্রণেতা বা কংগ্রেসম্যানদের মাধ্যমে এই আইন পরিবর্তনের চাপ দেওয়ার আহ্বান জানান। জেডি ভ্যান্সের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের আগের অবস্থানের সঙ্গেও বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইলন মাস্কও অতীতে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এইচ-১বি ভিসা কেবল অত্যন্ত উচ্চমানের দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আনার জন্যই ব্যবহৃত হওয়া উচিত, সস্তা শ্রমিক আনার মাধ্যম হিসেবে নয়। ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যখন হাজার হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করে তাদের জায়গায় কম বেতনের বিদেশি কর্মীদের দিয়ে কাজ করায়, তখন সেই ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া উপায় থাকে না। তাঁর সাম্প্রতিক এই কঠোর বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, মার্কিন প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচিকে হয় কেবল সর্বোচ্চ দক্ষ পেশাদারদের জন্য কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করতে চায়, নতুবা এটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পথেই হাঁটবে।
অভিবাসী পরিবারের মেয়ে আনুম জেহরা, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে হিন্দু মন্দিরে হা মলা, ইটের আঘাতে ভাঙল জানালার কাচ
হলিউডে কর্মীর মন খারাপ ভেবে কাছে গেলেন টম ক্রুজ, নেটদুনিয়ায় প্রশংসা
যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের অত্যন্ত উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে দেশটির বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মোট ৮ হাজার ২২৭টি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে সল্টলেক সিটির পাবলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব উটাহ। সেখানে এক বছরে রেকর্ড ১৪৬টি ধর্ষণের অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে ১২২টিই ঘটেছে আবাসিক হল বা ডর্মে। এই সংখ্যা তালিকায় থাকা দ্বিতীয় শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দ্বিগুণ। ধর্ষণের এই জাতীয় তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডার, যেখানে ৯৬টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ৬৭টি অভিযোগ নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি। এছাড়া শীর্ষ দশের তালিকায় থাকা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউসিএলএ, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা ক্রুজ, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা বারবারা, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব কানসাস এবং ইউনিভার্সিটি অব কেনটাকি। এই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই উল্লেখযোগ্য হারে যৌন নিপীড়নের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। নিউইয়র্কের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থাও অত্যন্ত হতাশাজনক। কলাম্বিয়া, কর্নেল এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির (এনওয়াইইউ) মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও যৌন সহিংসতার হার ব্যাপক। নিউইয়র্ক রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, ডেটিং সহিংসতা এবং স্টকিং—সব মিলিয়ে সামগ্রিক হিসাব প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ২০২৪ সালে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ২৬২টি যৌন সহিংসতার অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে ২১টি ছিল ধর্ষণের ঘটনা এবং এর সবগুলোই ঘটেছে আবাসিক হলে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কলাম্বিয়ায় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হার সবচেয়ে শোচনীয়। ২৬২টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র তিনটির তদন্ত হয়েছে এবং কেবল একটি ঘটনায় অভিযুক্তকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কলাম্বিয়ায় মোট ১ হাজার ২০২টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশ তদন্তের মুখ দেখেছে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে (এনওয়াইইউ) ২২৯টি অভিযোগের মধ্যে ২৮টি তদন্ত ও ১০টিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সানি অ্যালবানি এবং সানি বিংহামটনে যথাক্রমে ২১৭ এবং ১৯৮টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া কর্নেল ইউনিভার্সিটিতে গত বছর ১৬৬টি যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সেখানে ১৮টি ঘটনার তদন্ত শেষে তিনজনকে বহিষ্কারসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত কয়েকজনকে নিছক প্রবন্ধ লেখার শাস্তি দিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার সুযোগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আইনি জটিলতা ও তীব্র তোপের মুখে পড়তে হয়। গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোতে যৌন অপরাধের অভিযোগ প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে। তবে গবেষকদের মতে, এসব অভিযোগের মধ্যে মাত্র ২ থেকে ১০ শতাংশ ভুয়া হয়ে থাকে। 'থেরাপি নেশন'-এর রচয়িতা ও মনোবিজ্ঞানী জোনাথন আলপার্টের মতে, এই বিশাল সংখ্যাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। এগুলো কেবল নথিভুক্ত অভিযোগ, এর বাইরেও অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যা সামাজিক সম্মান, বন্ধু বা পরিচিত গণ্ডি হারানোর ভয়ে কখনোই প্রকাশ পায় না।
হ্যালোউইনে নিউইয়র্কের ১৬০ সড়ক গাড়িমুক্ত, শিশুদের জন্য থাকছে মিষ্টি, খেলাধুলা ও নানা বিনোদন
যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী সমকামীদের নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস, ‘গেইজ ফর প্যালেস্টাইন’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক
বাতাসের তথ্য না জেনেই অবতরণ, মিয়ামিতে অ্যামাজনের কার্গো বিমান বিধ্বস্ত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দ্রুত মানুষের থাকার ব্যবস্থা করতে ট্রাকে বহনযোগ্য ছোট আকারের প্রস্তুত ঘর তৈরি করেছে টেক্সাসের অস্টিনভিত্তিক নতুন প্রতিষ্ঠান ‘আপলিফট’। এসব ঘরে থাকার জায়গার পাশাপাশি রান্না, গোসল ও শৌচাগারের প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঘরগুলো কারখানায় তৈরি করে প্রয়োজন অনুযায়ী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ট্রাকে নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবহারের উপযোগী করে বসানো যাবে। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নির্মাণকাজ এবং স্বল্পমেয়াদি আবাসনের প্রয়োজন হলে দ্রুত থাকার ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে বন্যা, ঝড়, দাবানল কিংবা অন্য কোনো দুর্যোগে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থায়ী বাড়ি পুনর্নির্মাণের আগ পর্যন্ত এসব ছোট ঘর অস্থায়ী আশ্রয় হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। একই ঘর প্রয়োজন শেষে অন্য স্থানেও সরিয়ে নেওয়া যাবে। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত মার্কিন আবাসনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘রিয়েল্টর ডটকম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে জরুরি আবাসনের এই প্রকল্প চালু করে আপলিফট। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাথমিক বিনিয়োগ পেয়েছে। এই বিনিয়োগের নেতৃত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘অ্যান্ড্রিসেন হোরোভিৎস’। আপলিফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লি নিটশেলম আগে মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর সঙ্গে ট্রেভর ও'লিয়ার মিলে নতুন এই উদ্যোগ শুরু করেন। ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের লক্ষ্য এমন ছোট ঘর তৈরি করা, যা দ্রুত তৈরি করা যাবে, সহজে পরিবহন করা যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এই ঘরগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়ার সুবিধা। একটি সমতল পাটাতনযুক্ত বড় ট্রাকে একসঙ্গে দুই থেকে তিনটি ঘর বহন করা সম্ভব বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবহনের সময় ঘরগুলোকে ট্রাকের সঙ্গে নিরাপদে আটকে রাখার জন্য বিশেষ বাঁধন ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে এক জায়গায় প্রয়োজন শেষ হলে একই ঘর অন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যাবে। ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নিচে এমন বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা অসম জমিতেও ঘরটিকে সমতল ও স্থির রাখতে সহায়তা করে। প্রচলিত বাড়ির মতো সব সময় বড় ধরনের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করেও যেন এগুলো ব্যবহার করা যায়, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে নকশা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ ও পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রাথমিক নকশা অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষুদ্র ঘরের আয়তন প্রায় ৬০ বর্গফুট। এত ছোট জায়গার মধ্যেই মানুষের থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঘুমানোর জায়গা, রান্নার ব্যবস্থা, গোসলের জায়গা এবং শৌচাগার। অল্প জায়গায় প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো একত্রে রাখাই এই নকশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার হতে পারে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর জরুরি আবাসনের ক্ষেত্রে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়, বন্যা, দাবানল ও ঘূর্ণিঝড়ে মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ঘটনার পর স্থায়ী বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। সেই সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্রুত থাকার জায়গা তৈরি করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আপলিফটের পরিকল্পনা হলো, স্থায়ী বাড়ি পুনর্নির্মাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষকে দ্রুত ছোট কিন্তু ব্যবহারযোগ্য একটি ঘরে থাকার সুযোগ দেওয়া। কারখানায় আগে থেকেই ঘর তৈরি করে রাখা গেলে দুর্যোগের পর প্রয়োজনীয় এলাকায় দ্রুত সেগুলো পাঠানো সম্ভব হতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত, ভিত্তি তৈরি, কাঠামো নির্মাণ এবং বিদ্যুৎ-পানির সংযোগসহ বিভিন্ন ধাপের পরিবর্তে প্রস্তুত ঘর সরাসরি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা শুধু দুর্যোগের পর আশ্রয় দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত মানুষের অস্থায়ী আবাসন, প্রত্যন্ত এলাকায় স্বল্পমেয়াদি থাকার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধরনের জরুরি আবাসনের প্রয়োজনেও এসব বহনযোগ্য ঘর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় ‘আপলিফট মাইক্রোহোম’ প্রথম স্থান অর্জন করে। ওই প্রতিযোগিতায় ৭৫টির বেশি দল আবেদন করেছিল। শেষ পর্যায়ে সাতটি দল প্রতিযোগিতা করে এবং আপলিফট এক লাখ মার্কিন ডলার পুরস্কার পায়। প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি ঘটনা ঘটে সেপ্টেম্বর মাসে। রিয়েল্টর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরেই আপলিফট তাদের প্রথম ঘর একজন অর্থপ্রদানকারী গ্রাহকের কাছে বিক্রি করেছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যবহারেও প্রবেশ করেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের আয়োজিত জাতীয় আবাসন উদ্ভাবন প্রদর্শনীতেও আপলিফটের ঘর প্রদর্শন করা হয়। ওয়াশিংটন ডিসির জাতীয় উদ্যান এলাকায় আয়োজিত ওই প্রদর্শনীতে নতুন ধরনের আবাসন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়। ২০২৬ সালের প্রদর্শনীর মূল বিষয় ছিল ‘আমেরিকায় তৈরি’। প্রদর্শনীতে নতুন আবাসন প্রযুক্তির পাশাপাশি কারখানায় তৈরি ঘর, খণ্ডাংশভিত্তিক ঘর এবং ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ প্রযুক্তিতে তৈরি ঘরও প্রদর্শন করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আবাসন শিল্পের প্রতিষ্ঠান, উদ্ভাবক, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। তবে আপলিফটের প্রযুক্তি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বড় পরিসরে উৎপাদন, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় নির্মাণবিধি, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে আরও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে। জরুরি আবাসন হিসেবে এসব ঘর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও জমির অনুমোদন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা এবং পরিবহন ব্যবস্থার মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে। সীমিতসংখ্যক ঘর তৈরির পর্যায় থেকে বড় পরিসরে উৎপাদনে যাওয়া এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা প্রমাণ করাই বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। তারপরও বহনযোগ্য এই ছোট ঘর যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি ও অস্থায়ী আবাসনের ক্ষেত্রে নতুন একটি ধারণা সামনে এনেছে। একটি জায়গায় স্থায়ীভাবে বাড়ি নির্মাণের পরিবর্তে কারখানায় প্রস্তুত ঘর তৈরি করে ট্রাকে প্রয়োজনীয় এলাকায় পাঠানো গেলে দুর্যোগের পর দ্রুত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই ঘর পরে অন্য এলাকায় নিয়ে পুনরায় ব্যবহার করা গেলে এর ব্যবহারের পরিধিও বাড়তে পারে। ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রাথমিক বিনিয়োগ, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির উদ্যোক্তা প্রতিযোগিতায় পুরস্কার এবং জাতীয় আবাসন উদ্ভাবন প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আপলিফটের উদ্যোগটি নতুন আবাসন প্রযুক্তির আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘর কতটা কম খরচে বড় পরিসরে তৈরি করা যাবে, কত দ্রুত প্রয়োজনীয় এলাকায় পৌঁছানো যাবে এবং দীর্ঘ সময় বাস্তবে কতটা কার্যকর থাকবে, সেটিই হবে উদ্যোগটির পরবর্তী বড় পরীক্ষা।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাং রেইপের অভিযোগ সামনে আনতে ভূমিকা রাখলেন মুসলিম শিক্ষার্থী সোফিয়া
চার সন্তানের ক্যানসার আক্রান্ত বাবাকে নিজের লিভার দান করলেন এক অপরিচিত নারী, হতবাক পরিবার