দুই বছর আত্মগোপনের পর নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে দেখা মিলল শামীম ওসমানের
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতিত ও পরবর্তীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দেখা মিলেছে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে পলাতক ও আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে এলেন নারায়ণগঞ্জের এই সাবেক দাপুটে নেতা। তার আকস্মিক উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার স্থানীয় ফটোসাংবাদিক নেহের সিদ্দিকী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শামীম ওসমানের একটি ছবি পোস্ট করেন। ওই ছবিতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের একটি নদীর তীরে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত উদাসী ভঙ্গিতে ধূমপান করছেন তিনি। দীর্ঘদিন জনসম্মুখের আড়ালে থাকা এই নেতার এমন ভিন্ন রূপের ছবি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশ ছাড়ার পর গত দুই বছর তিনি ঠিক কোথায় এবং কীভাবে আত্মগোপন করেছিলেন, তা নিয়ে প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন করে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আরেকটি পোস্টে শামীম ওসমানকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও দেখা যায়। ওই ছবিতে যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে ছবি তুলেছেন তিনি। পতিত সরকারের একজন পলাতক ও আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্যের এভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও ভালো আয় এবং স্থায়ী পেশাজীবন গড়ার সুযোগ রয়েছে। দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা থাকলে কিছু পেশায় ধাপে ধাপে উন্নতি করে বছরে এক লাখ থেকে দুই লাখ ডলার বা তারও বেশি আয় করা সম্ভব। এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো ফাস্টফুড ও খাবারের দোকান পরিচালনার কাজ। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের ৪ অক্টোবর ২০২৬-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কয়েকটি বড় খাবারের দোকান প্রতিষ্ঠানে সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে উঠে উচ্চ আয় করা সম্ভব। তবে শুরুতেই এত বেশি বেতন পাওয়া যায় না। দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা এবং পদোন্নতির মাধ্যমে একজন কর্মী দোকান ব্যবস্থাপকের পদে পৌঁছালে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন-এন-আউট প্রতিষ্ঠানের দোকান ব্যবস্থাপকদের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ২ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। পান্ডা এক্সপ্রেসের দোকান ব্যবস্থাপকদের আয় প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার ডলার, চিপোটলের প্রায় ৯৩ হাজার ডলার এবং টাকো বেলের প্রায় ৭৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। কর্মদক্ষতার ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত পুরস্কার বা প্রণোদনা যুক্ত হলে মোট আয় আরও বাড়তে পারে। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা জরুরি। ফাস্টফুডের সাধারণ কর্মীরা বছরে ২ লাখ ডলার আয় করেন না। এই ধরনের উচ্চ আয় মূলত ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ পদে পৌঁছানো কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ একজন নতুন কর্মী সাধারণত কম বেতন দিয়ে কাজ শুরু করেন এবং অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের পর ধাপে ধাপে উচ্চ পদে যেতে পারেন। এই খাতে একজন কর্মীর কর্মজীবনের শুরু হতে পারে খাবার প্রস্তুত করা, গ্রাহকের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া, দোকান পরিষ্কার রাখা বা অন্যান্য সাধারণ দায়িত্ব দিয়ে। এরপর ভালো কাজের ভিত্তিতে তিনি দলনেতার দায়িত্ব পেতে পারেন। পরবর্তী সময়ে সহকারী ব্যবস্থাপক এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ব্যবস্থাপক বা দোকান ব্যবস্থাপক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সাধারণ কর্মী থেকে দলনেতা হতে প্রায় ছয় থেকে ১৮ মাস সময় লাগতে পারে। এরপর দলনেতা থেকে সহকারী ব্যবস্থাপক হতে এক থেকে দুই বছর এবং সহকারী ব্যবস্থাপক থেকে সাধারণ ব্যবস্থাপক হতে আরও দেড় থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। তবে এই সময় নির্দিষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম, কর্মীর যোগ্যতা, কাজের মান, অভিজ্ঞতা এবং খালি পদের ওপর পদোন্নতির সময় নির্ভর করে। দোকান ব্যবস্থাপক হওয়ার জন্য শুধু পরিশ্রম করলেই হয় না। কর্মী পরিচালনা, গ্রাহকসেবা, পণ্য মজুত, কর্মীদের কাজের সময় নির্ধারণ, খাবারের অপচয় কমানো, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব বোঝার মতো দক্ষতা প্রয়োজন। একজন সম্ভাব্য ব্যবস্থাপককে জানতে হয় কীভাবে নতুন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিতে হয়, কর্মী সংকটের মধ্যেও একটি কাজের পালা পরিচালনা করতে হয় এবং অসন্তুষ্ট গ্রাহকের অভিযোগ শান্তভাবে সমাধান করতে হয়। একই সঙ্গে কর্মীদের উৎসাহ দেওয়া, দুর্বল কর্মীদের উন্নত করা এবং একটি কার্যকর দল তৈরি করাও ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, একজন কর্মীর মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনা থাকলে তাকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। তাই শুধু নিজের দায়িত্ব পালন করাই যথেষ্ট নয়। একজন কর্মী যদি অন্যদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন, নতুন কর্মীদের কাজে দক্ষ করে তুলতে পারেন এবং নিজের অনুপস্থিতিতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো সহকর্মী তৈরি করতে পারেন, তাহলে তার পদোন্নতির সম্ভাবনা বাড়ে। যোগাযোগের দক্ষতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ত পরিবেশে চাপ সামলে সহকর্মীদের সঙ্গে সঠিকভাবে কথা বলা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা বোঝা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত জানানো একজন ব্যবস্থাপকের গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি শ্রম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফাস্টফুড ও কাউন্টার কর্মীদের বড় অংশের ক্ষেত্রে আগে কোনো কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয় না। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই পেশার ৯৮ দশমিক ১ শতাংশ কর্মীর জন্য আগের কাজের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক ছিল না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কাজ শুরু করতে চান এমন অনেক মানুষের জন্য এটি প্রবেশের তুলনামূলক সহজ একটি ক্ষেত্র। তবে সাধারণ কর্মীদের বেতন এবং ব্যবস্থাপকদের বেতনের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ফাস্টফুড ও কাউন্টার কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি ছিল প্রায় ১৫ ডলার ৪৬ সেন্ট। গড় বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৩২ হাজার ১৫০ ডলার। ফলে ২ লাখ ডলারের আয়কে সাধারণ কর্মীর বেতন হিসেবে দেখা যাবে না। ফাস্টফুড খাত ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে চার বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ছাড়াই বিভিন্ন পেশায় ভালো আয়ের সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, কারিগরি কাজ, নির্মাণ, বৈদ্যুতিক কাজ, যানবাহন মেরামত, ট্রাক চালনা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণভিত্তিক পেশায় দক্ষ কর্মীদের চাহিদা রয়েছে। কিছু পেশায় আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের ডিগ্রির পরিবর্তে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, সনদ বা কারিগরি শিক্ষা প্রয়োজন হয়। যেমন দন্ত পরিচর্যা সহকারী, পারমাণবিক প্রযুক্তিবিদসহ কিছু পেশায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে তুলনামূলক ভালো আয় করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সামগ্রিক চিত্র থেকে বোঝা যায়, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদই সাফল্যের একমাত্র পথ নয়। নির্দিষ্ট কাজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব, যোগাযোগ এবং দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও কর্মজীবনে বড় ভূমিকা রাখে। ফাস্টফুড খাতের উদাহরণটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ একজন কর্মী তুলনামূলক সহজ একটি প্রবেশ পর্যায়ের কাজ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যেতে পারেন। তবে এই পথ দ্রুত ধনী হওয়ার কোনো সহজ উপায় নয়। উচ্চ আয় অর্জনের জন্য কয়েক বছর ধরে দক্ষতা বাড়ানো, অতিরিক্ত দায়িত্ব নেওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজ করা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, যারা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে কর্মজীবন শুরু করতে চান তারা শুরু থেকেই শুধু বেতনের দিকে না তাকিয়ে ভবিষ্যৎ পদোন্নতির সুযোগও বিবেচনা করবেন। কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, কোথায় পদোন্নতির সুযোগ বেশি এবং কোন দক্ষতা অর্জন করলে উচ্চ পদে যাওয়া সম্ভব, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অর্থাৎ কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবনের সুযোগ শেষ হয়ে যায় না। সঠিক প্রশিক্ষণ, বাস্তব অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের গুণ এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একজন সাধারণ কর্মীও সময়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনার পদে যেতে পারেন। আর কিছু প্রতিষ্ঠানে সেই পর্যায়ে পৌঁছালে বছরে এক লাখ থেকে দুই লাখ ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
এআই আধিপত্য ধরে রাখতে ট্রাম্পের বড় পদক্ষেপ, গঠিত হলো ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স’
ভার্জিনিয়ায় আজ মঞ্চস্থ হচ্ছে ‘অমানুষ’, জান্নাতুল টুম্পার নির্দেশনায় প্রথমবার তমালিকা ও সাঈদ বাবু
মেরিল্যান্ডে বাড়িভাড়ার চাপে বাড়ছে দারিদ্র্য, ২১ শতাংশ দারিদ্র্যের পেছনে আবাসন ব্যয়
জিম্মি ও বিদেশে আটক মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে নতুন বিশেষ দূত নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেলারুশে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বিশেষ দূত ও আইনজীবী জন কোয়েলকে ‘স্পেশাল প্রেসিডেনশিয়াল এনভয় ফর হোস্টেজ অ্যাফেয়ার্স’ পদে মনোনীত করেছেন তিনি। নতুন দায়িত্বে কোয়েলের পদমর্যাদা রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের হবে বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন। ৪ অক্টোবর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় বলেন, জন কোয়েল গত এক বছরে বেলারুশ থেকে ৬৫ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক ও মিত্র দেশের নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছেন। একই সময়ে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ৮০০-এর বেশি রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির আলোচনাতেও তিনি কাজ করেছেন বলে ট্রাম্প দাবি করেন। কোয়েলের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বেলারুশ। তিনি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর সরকারের সঙ্গে বন্দিদের মুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছেন। সেপ্টেম্বরেও তার আলোচনার পর বেলারুশ কয়েক দফায় বন্দি মুক্তি দেয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বেলারুশ ২৫ জন বন্দিকে মুক্তি দেয়। সে সময় কোয়েল জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বেলারুশের মধ্যে আলোচনা আরও জোরদার হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংখ্যায় বন্দি মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মার্চে আরও বড় পরিসরে বন্দি মুক্তির ঘটনা ঘটেছিল। কোয়েল নিজেই জানিয়েছিলেন, তার আলোচনার মাধ্যমে মোট ৮০০ থেকে ৯০০ জন পর্যন্ত বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে, বেলারুশে এখনো বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক বন্দি আটক রয়েছেন। ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তে কোয়েল সাবেক বিশেষ দূত অ্যাডাম বোহলারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বোহলার তার দায়িত্বকালে ১৯৬ জন জিম্মিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছেন। নতুন পদে কোয়েলের নিয়োগের পর বোহলার প্রশাসনের সঙ্গে সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের জিম্মি বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব হলো বিদেশে আটক বা জিম্মি হয়ে থাকা মার্কিন নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সরকারি সংস্থার প্রচেষ্টার সমন্বয় করা। নতুন দায়িত্বে কোয়েলকে শুধু বেলারুশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির জন্য আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কোয়েলের নিয়োগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ওয়াশিংটন ও মিনস্কের সম্পর্কেও কিছুটা কূটনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে বেলারুশের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে এবং বন্দি মুক্তির বিনিময়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও এগিয়েছে। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগও রয়েছে। তাদের বক্তব্য, বন্দি মুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বেলারুশে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং আরও বহু রাজনৈতিক বন্দি এখনো কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে বন্দি ও জিম্মিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনা কার্যকর ফল দিচ্ছে। জন কোয়েলের নতুন দায়িত্ব সেই নীতিরই আরও বিস্তৃত প্রয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কোয়েলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বিদেশে আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করা এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে এসব আলোচনার সমন্বয় করা। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, বেলারুশে কোয়েলের সাম্প্রতিক সাফল্য নতুন দায়িত্বেও কাজে লাগবে।
‘স্নেকহেড’ কি সত্যিই খাওয়া যায় না? যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য যা জানা জরুরি
খাওয়া-ঘোরা আর সমুদ্রসৈকতে সূর্যাস্ত দেখার চাকরি, ১০ দিনেই মিলবে ১০ হাজার ডলার
সোশ্যাল সিকিউরিটির নতুন আপডেট আসছে অক্টোবরে, ভাতার সঙ্গে বদলাবে আয়ের লিমিটও
চীনে ৩০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার সার্ভার পাচারের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি ব্যবসায়ী গ্রেগ লুইকে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ১ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর হয়ে সার্ভারগুলো চীনে পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ৩৮ বছর বয়সী গ্রেগ লুই ‘ইয়িউ কং লুই’ নামেও পরিচিত। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সান গ্যাব্রিয়েলের বাসিন্দা এবং সিটি অব ইন্ডাস্ট্রিভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আর্থমেড কম্পিউটার ইনকরপোরেটেডের মালিক। তাঁর বিরুদ্ধে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র, বিদেশে পণ্য পাচার এবং অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, সার্ভারগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউ ছিল। এসব যন্ত্রাংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজে ব্যবহৃত হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় রপ্তানি লাইসেন্স ছাড়াই চীনের ক্রেতাদের কাছে সরঞ্জাম পৌঁছাতে নিজের প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেন লুই ও তাঁর সহযোগীরা। প্রসিকিউটরদের দাবি, মার্কিন নির্মাতাদের কাছে জমা দেওয়া নথিতে প্রকৃত ক্রেতা ও চূড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়। প্রথমে পণ্য মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে পরে সেখান থেকে চীনে নেওয়া হয়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে মালয়েশিয়ার দুটি পরিবহন প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থমেড ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, উন্নত মার্কিন কম্পিউটিং প্রযুক্তি চীনে অবৈধভাবে পাঠানোর অভিযোগে চলমান একাধিক ফেডারেল মামলার মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনাগুলোর একটি। মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এ ধরনের প্রযুক্তি সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হতে পারে। প্রতিবেদনের জন্য লুইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানও মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি। মামলাটি তদন্ত করছে এফবিআই, মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের রপ্তানি আইন প্রয়োগকারী দপ্তর এবং ডিফেন্স ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেটিভ সার্ভিস। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে রপ্তানি আইন লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্র ও অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর এবং পাচারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অভিযোগপত্র দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় নয়; আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত লুই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে দুই ইরানি কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ
স্কুলে এনার্জি ড্রিংক খেয়ে ছেলের মৃ ত্যু, অন্য বাবা-মাকে সতর্ক করতে কাজ করছেন পরিবার