গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতিত ও পরবর্তীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দেখা মিলেছে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে পলাতক ও আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে এলেন নারায়ণগঞ্জের এই সাবেক দাপুটে নেতা। তার আকস্মিক উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার স্থানীয় ফটোসাংবাদিক নেহের সিদ্দিকী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শামীম ওসমানের একটি ছবি পোস্ট করেন। ওই ছবিতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের একটি নদীর তীরে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত উদাসী ভঙ্গিতে ধূমপান করছেন তিনি। দীর্ঘদিন জনসম্মুখের আড়ালে থাকা এই নেতার এমন ভিন্ন রূপের ছবি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশ ছাড়ার পর গত দুই বছর তিনি ঠিক কোথায় এবং কীভাবে আত্মগোপন করেছিলেন, তা নিয়ে প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন করে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আরেকটি পোস্টে শামীম ওসমানকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও দেখা যায়। ওই ছবিতে যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে ছবি তুলেছেন তিনি। পতিত সরকারের একজন পলাতক ও আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্যের এভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা/নয়াদিল্লি: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “প্রতিটি বাধা এবং ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।” ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ইমেল সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। প্রায় দুই বছর পর তিনি আবার দেশে ফেরার ইচ্ছার পাশাপাশি সম্ভাব্য সময়সীমার কথাও উল্লেখ করলেন। সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত কোনো আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্য তিনি দেশে ফিরতে চান না। তার ভাষায়, “এখানে প্রশ্নটা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার।” বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা, ভাই এবং পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। কিন্তু এত চক্রান্তের পরও আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশেই থেকেছি।” নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দাবি করেন, “এটা বিচার নয়। এটা অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত একটি ব্যবস্থার অংশমাত্র। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র করা হয়েছে।” দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়। এই দলকে বহুবার আঘাত করা হয়েছে, বহুবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবার মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।” আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে কি না জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক অনুগ্রহ চায় না।” তিনি বিএনপির সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগও নাকচ করেন। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের মতো বিএনপিও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি এমন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। সেই বাংলাদেশে কখনও ধর্মীয় আগ্রাসন ও মৌলবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে না।”
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি ভারতের ত্রিপুরার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করছেন বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ওই কলেজটির অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ক্লাসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের একজন স্টাফ নার্স আজ শনিবার সকালে ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের ওই প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি কতদিন ধরে সেখানে শিক্ষকতা করছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাননি ওই কর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে নাক-কান-গলা (ইএনটি) সম্পর্কিত একটি বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এবং তাঁর পেছনের ডিজিটাল বোর্ডে চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতাদের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও আত্মগোপনে চলে যান। দেশে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না মিললেও, ত্রিপুরার মেডিকেল কলেজের এই সাম্প্রতিক ভিডিও প্রকাশের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বর্তমানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন। অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'স্বাধীনতা পদক' লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কুমিল্লা-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রাঙামাটি শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ১৬ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রাঙামাটি জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. কবির রয়েছেন। এছাড়া আটক অন্যদের মধ্যে আছেন—মো. নুরুল হক (৫২), চম্পক দাশ (৫৪), মো. নিজাম উদ্দীন (৪২), মো. ইলিয়াছ (৩৫), মো. ইসমাইল (৫৯), মো. জসিম (৩৮), মো. নয়ন (১৯), মো. তারিকুল ইসলাম (৪৫), মো. রাসেল (৩৮), শাহাদত হোসেন (৩২), রাম প্রসাদ শীল (৪৫), জাহিদুল ইসলাম (২৪), মো. সাইফুল ইসলাম (২৫), দুর্জয় কান্তি দে (২৬) এবং হাফিজুর রহমান (২৯)। পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধ দমনে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, শহরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশের এই অভিযানের পর স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও নাশকতার আশঙ্কায় ঢাকা মহানগরীসহ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার (২২ জুন) জারি করা এক সরকারি চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যরা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে, সেগুলো হলো—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর পুলিশ এলাকা, পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা। এসব জায়গাকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। গত সপ্তাহে ডিআইজি কামরুল আহসানের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে সব ইউনিট প্রধানকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও মিছিল করার চেষ্টা করতে পারেন। প্রজ্ঞাপনে আরও সতর্ক করে বলা হয়, এসব কর্মসূচি ঘিরে অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষ, বিশেষ করে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ (এনসিপি) এবং ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্মের সদস্যদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে, যা সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব কার্যক্রমে বাধা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহ-সভাপতি সেলিমা আহমাদ মেরী আর নেই। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি প্রথমে নিশ্চিত করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের সদস্য সচিব সারওয়ার হোসেন বাবু। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, “কুমিল্লা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী আপা আজ রাত ৭টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।” একই সঙ্গে তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। সেলিমা আহমাদ মেরী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এলাকায় তিনি একজন সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রেখেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেছেন। তার মৃত্যুতে কুমিল্লা অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন এবং তার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। দেশে পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছাড়ার পাশাপাশি রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিল, তা নাকচ করেছেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের একা রেখে বিশ্রামে যাওয়ার সুযোগ নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়-কে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে মঙ্গলবার (৯ জুন) তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে তার অবসর সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এখনই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সিদ্ধান্তে নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সেই সময় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র আক্রান্ত এবং দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার। এমন একটা সময়ে আমি কীভাবে বলি, বিশ্রামে যাচ্ছি?” তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভবিষ্যৎ সাফল্য নিশ্চিত করার পরই তিনি অবসর বিবেচনা করবেন। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক দল এবং নেতৃত্ব নির্বাচন কাউন্সিল ও কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, দলটি বর্তমানে একটি “প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে একাধিক মামলায় শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ড দিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত সরকারের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে, দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরব।”
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি তোফায়েল আহমেদের স্মরণে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। গত শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার এলাকার এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুল মিলনায়তনে ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি সংসদ’-এর উদ্যোগে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি রুহেল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহিম বাদশা, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী এবং রাজনীতিবিদ জাকারিয়া চৌধুরী। এ ছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুর আহমদ, ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি শাখাওয়াত আলী, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম জিকু, সোহান আহমেদ টুটুল, শেখ মখলু, শেখ শফিকুর রহমান, শেখ জামাল হোসেন, শ্যামল চন্দ্র চন্দ, হাবিবুর রহমান কামাল, শামীম আহমেদ, শেখ অলি আহাদ, ছাদেকুর রহমান, নুরুল ইসলাম মিলন এবং কবি সুধাংশু রঞ্জন মন্ডলসহ অনেকে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক অবদান ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বক্তারা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একই পরিবারের মা ও মেয়ের ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়। বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর আলোচনায় এসেছেন নাদিয়া পাঠান পাপন, যার মা আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেত্রী। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেন। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাদিয়া চান্দুরা গ্রামের দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং ছাত্রজীবন থেকেই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। অন্যদিকে, তার মা সৈয়দা নাখলু আক্তার দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা কৃষক লীগের সাবেক সহসভাপতি, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মেয়ের মনোনয়ন প্রসঙ্গে নাখলু আক্তার বলেন, তার রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মেয়ের কোনো সম্পর্ক নেই এবং নাদিয়া নিজস্বভাবে ঢাকায় রাজনীতি করছেন। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, তিনি এখনও দলীয় পদে বহাল রয়েছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। এ বিষয়ে নাদিয়া পাঠান পাপনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট গ্রহণ করা হয় না। সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে এসব আসন নির্ধারিত হয় এবং দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। সে হিসেবে বিএনপি জোট ৩৬টি সংরক্ষিত আসন পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।