সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান বিরোধ দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।   ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘ইউএস পলিসি ইন সাপোর্ট অব আ স্টেবল, প্রসপারাস অ্যান্ড সভরেন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি মরিসন আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও মার্কিন নীতি নিয়ে কথা বলেন।   ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা উচিত কি না জানতে চাওয়া হলে মার্কিন কর্মকর্তা প্রথমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি। পরে বিষয়টি নির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।    বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। ২০২৫ সালের মে মাসে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধনও স্থগিত করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের সময়েও ওই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।   গত জুনেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। দলটি রাজনৈতিক দল হিসেবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে কি না, সেটি আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয় বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।    শেখ হাসিনা নিয়ে বাংলাদেশ-ভারতকে আলোচনার পরামর্শ   একই ব্রিফিংয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তা জানান, শেখ হাসিনার বিষয়ে কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।   ওই কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারছে। ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা, ঢাকা ও নয়াদিল্লি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছাবে।   বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে আছে। ডয়চে ভেলের ২৪ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণেও হাসিনার ভারতে অবস্থানকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর আগে আগস্টে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত। তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ সরকার অন্যদিকে তাকে ভারত থেকে ফেরত আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।   ‘বাংলাদেশকে কোনো পক্ষ বেছে নিতে বলছে না যুক্তরাষ্ট্র’   ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে জটিল উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সহযোগিতা করতে চায়।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে কোনো একটি শক্তিকে বেছে নিতে বলছে না; বরং দেশগুলোর সামনে নিজেদের একটি বিকল্প অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়।   সূত্র: রয়টার্স, ডয়চে ভেলে

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ, জ্যাকসন হাইটসে বাড়ল পুলিশ

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বাগত ফেস্টুন ছেঁড়া নিয়ে অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।   এর আগে জ্যাকসন হাইটসের একটি সড়কের পাশে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো একটি ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে ফেস্টুনটি ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ব্যানার বা ফেস্টুন না ছিঁড়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।   এর কয়েক ঘণ্টা পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে জ্যাকসন হাইটসে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পৃথক অবস্থান নেন। আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের বিভিন্ন স্লোগানের মধ্যে ‘ডিসেম্বরে আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান শোনা যায়। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।   পরে দুই দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হতে থাকলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানসহ বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও শোনা যায়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানায়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।   তারেক রহমান সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তাঁর এই সফর। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসসহ বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাগত কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল।   অন্যদিকে তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনও পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে তাঁর আগমনকে ঘিরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রাজনৈতিক তৎপরতা কয়েক দিন ধরেই বাড়ছিল।   জাতিসংঘের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে সামগ্রিকভাবেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের কর্মসূচি ঘিরে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে।   জ্যাকসন হাইটসের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হতাহত বা গুরুতর সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।  

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
এটিএম আজহারুল
‘আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ পরিণতি হবে বিএনপির’: এটিএম আজহারুল

প্রশাসনে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বিএনপি বিগত আওয়ামী লীগের অনুসৃত পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তাঁর দাবি, এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ রাজনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এটি আজহারুল ইসলামের রাজনৈতিক বক্তব্য ও মূল্যায়ন; অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।    সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। বিশেষ করে প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বিএনপির বর্তমান কার্যক্রমের সঙ্গে আওয়ামী লীগের শাসনামলের তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগ যে ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের বিরোধিতার মুখে পড়েছিল, বিএনপিও একই ধরনের পথে এগোচ্ছে।    এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংবিধান সংস্কার নিয়েও সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং সংস্কার প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।    জামায়াত নেতা আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকেও যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ও জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা উচিত। কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তিতে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।    এটি অবশ্য বিএনপির বিরুদ্ধে আজহারুল ইসলামের সাম্প্রতিক প্রথম এমন বক্তব্য নয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে আরেক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করছে। তাঁর দাবি ছিল, বিষয়টি নিয়ে জামায়াত সংসদেও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং একাধিকবার ওয়াকআউট করেছে।    পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর বগুড়ায় আয়োজিত আরেক সংবাদ সম্মেলনেও বিএনপির বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোর বক্তব্য দেন আজহারুল ইসলাম। সেখানে তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে বিএনপি আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে। জনগণের দাবি উপেক্ষা করা অব্যাহত থাকলে বিএনপির পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হতে পারে বলেও তখন মন্তব্য করেন তিনি।    শুক্রবার রংপুরের সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের দাবিগুলোও তুলে ধরেন আজহারুল ইসলাম। তাঁর দাবি, কর্মসূচিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব দাবি নয়; বরং এগুলো জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে লংমার্চে অংশ নিয়ে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান তিনি।    লংমার্চকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাধা দেওয়া হলে তা অতিক্রম করে রংপুরের দিকে লংমার্চ এগিয়ে নেওয়া হবে।    সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলমান সার সংকট নিয়েও কথা বলেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে সংকটের সমাধান হচ্ছে না। একই সঙ্গে সরকারদলীয় ব্যক্তিদের মধ্যে সারের ডিলার নিয়োগ ভাগাভাগির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ কী বলেছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই।    তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানান জামায়াতের নায়েবে আমির। উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই প্রকল্পসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।    লংমার্চের কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের পাশাপাশি জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মতো বিষয় রাখা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও মামুনুল হকসহ জোটের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।    আজহারুল ইসলামের বক্তব্য মূলত বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক সমালোচনা ও ১১ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এসেছে। তাঁর উত্থাপিত দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে নয়, জামায়াত নেতার অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। অনুসন্ধানে পাওয়া আজকের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
শেষ মুহূর্তে দিল্লির বৈঠক বাতিল করল আওয়ামী লীগ, হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে জল্পনা I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
শেষ মুহূর্তে দিল্লির বৈঠক বাতিল করল আওয়ামী লীগ, হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে জল্পনা

নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের নির্ধারিত বৈঠক শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ। ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। এতে প্রায় ২৩ জন জ্যেষ্ঠ নেতার অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও ১৭ সেপ্টেম্বর বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এর কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো হয়নি।    বৈঠকে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা, দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশল এবং ফেরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।    বৈঠকটি আগে কলকাতায় আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও পরে নিরাপত্তা ও অন্যান্য বাস্তবগত বিষয় বিবেচনায় স্থান পরিবর্তন করে নয়াদিল্লি করা হয়েছিল। এটি হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর তাঁর সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি পরামর্শ বৈঠক।    বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্তটি দলটির কয়েকজন নেতার কাছেও আকস্মিক ছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বৈঠকটি পরে অন্য কোনো তারিখে হতে পারে, তবে নতুন তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। বাতিলের কারণ নিয়েও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।    এর আগে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতের কার্যক্রমের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে তাঁর ফেরার সময় ও পদ্ধতি এখনো নিশ্চিত নয়।    ফলে ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকটি বাতিল হওয়ায় শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।    মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। সাতজনই মামলায় পলাতক ছিলেন।    রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা, উসকানি, অর্থের জোগান ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হয়। প্রসিকিউশন সাত আসামির বিরুদ্ধে ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, কল রেকর্ড, বিভিন্ন নথি, জাতিসংঘের প্রতিবেদন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করে।    ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ বিশেষভাবে আন্দোলন দমনে নির্দেশনা ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, বিভিন্ন কল রেকর্ডে আন্দোলনকারীদের দমন এবং ইন্টারনেট ধীর বা বন্ধ করার বিষয়ে কথোপকথনের তথ্য রয়েছে। এসব তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিল।    মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হওয়া ধারাবাহিক মামলাগুলোর একটি। এর আগে ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছিল।    রায়ের আগে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছিল, সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের খালাসের আশা প্রকাশ করেছিলেন।    মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ট্রাইব্যুনাল পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    এই রায়ের মধ্য দিয়ে জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকেন্দ্রিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় হলো। দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনের সবাই পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে রায় কার্যকর করার বিষয়টি পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।    Source: ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি স্টার

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বসছেন আওয়ামী লীগের ২১ নেতা
১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বসছেন আওয়ামী লীগের ২১ নেতা

আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা—এমন দাবি করেছে টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই ভারতে অবস্থানরত দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ জন নেতা মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরেও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত থাকবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সোমবার সংবাদমাধ্যমটিকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভারতে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা মতবিনিময় করবেন।   মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা থাকছে না। অর্থাৎ আলোচনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্দিষ্ট করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।   এদিকে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি এই বৈঠকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করেছিল।    Source: টাইমস অব বাংলাদেশ;

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ভেনিসে অভিনেত্রী বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলা
ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার অভিযোগ, জোর করে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ বলানোর দাবি

ইতালির মেস্ত্রে শহরে বাংলাদেশের অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় বাঁধন নিজেই এ অভিযোগ করেন। তার দাবি, কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে ঘিরে ধরে গায়ে পানি ও কোক ছুড়ে মারেন, শারীরিকভাবে আঘাত করেন এবং তার মোবাইল ফোনও ফেলে দেন।    বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি তার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে একটি পার্কে ছিলেন। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ‘ফিজিক্যালি হ্যারাস’ করেন। তিনি বলেন, তার শরীরে হাত তোলা হয়েছে এবং কানের পাশেও আঘাত করা হয়েছে। ওই সময় তার ভাইয়ের ছোট শিশুও সঙ্গে ছিল বলে জানান তিনি।  অভিনেত্রীর অভিযোগ, হামলাকারীরা নিজেদের আওয়ামী লীগের কর্মী ও ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দেন। তারা তাকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বলেন এবং সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ও আপলোড করেন বলেও দাবি করেন বাঁধন।  বাঁধন আরও অভিযোগ করেন, তাকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেও আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়। তার দাবি, এ সময় তাকে বিভিন্নভাবে অপমান ও গালাগাল করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি একপর্যায়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আরও দুটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন বাঁধন। ওই ভিডিওগুলোতে তাকে হেনস্তা করার ঘটনা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন।  বর্তমানে ভেনিসে অবস্থান করছেন বাঁধন। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমা নিয়ে তিনি ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন। সিনেমাটি উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক ‘অরিজোন্তি’ বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে এবং ৭ সেপ্টেম্বর এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের ভেনিস উৎসবের এই বিভাগে জায়গা করে নেওয়ার ঘটনা দেশটির চলচ্চিত্রের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  ভেনিসে বাংলাদেশের সিনেমার এই গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতির মধ্যেই বাঁধনের ওপর হেনস্তার অভিযোগ সামনে এলো। ঘটনার বিষয়ে ইতালির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তদন্তের তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ভারতের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরা নিয়ে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন শেখ সেলিম: শেখ হাসিনা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, শেখ সেলিম বর্তমানে দলের সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় গঠনতান্ত্রিকভাবে তিনিই এই দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি তার ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।   দীর্ঘ ওই সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরা, নিজের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আসন্ন ডিসেম্বর মাসেই তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিসেম্বরকে বাঙালির বিজয়ের মাস উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আগে নয়, ডিসেম্বর মাসেই দেশে যাব বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।   তবে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বিমানবন্দরেই তাকে হত্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, দেশে ফিরতে গিয়ে তিনি অন্য কারও জীবনের ঝুঁকি বাড়াতে চান না। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।   দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে বর্তমানে চরমপন্থী শক্তির উত্থান ঘটছে। এর প্রভাব কেবল বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই আটকে থাকবে না বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, এর খেসারত শেষ পর্যন্ত ভারতকেও দিতে হতে পারে। দুই দেশের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং পারস্পরিক স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি।   বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারতের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তারেক রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থান করে তার রাজনীতি করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।   দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যখন দেখি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তখন আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূল না হলেও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকেই তিনি দেশে ফিরতে চান বলে জানান।   গত ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রেক্ষাপটও এই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। গণভবন থেকে বের হওয়ার পর তিনি ভেবেছিলেন তাকে টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু হেলিকপ্টার যখন সীমান্ত অতিক্রম করে, তখনই তিনি বুঝতে পারেন তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।   বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। কঠিন এই সময়ে দলের নেতাকর্মীরা যাতে দিকনির্দেশনাহীনতায় না ভোগেন, সেজন্যই শেখ সেলিমকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলেন তিনি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে মশাল হাতে শপথ, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরবেন প্রায় হাজার নেতাকর্মী
নিউইয়র্কে মশাল হাতে শপথ, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরবেন প্রায় হাজার নেতাকর্মী

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মশাল হাতে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দলের নেতারা। তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভা শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাতে মশাল তুলে দেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।   এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। আলোচনা সভায় অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক মন্ত্রী এনামুল হক শামীমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও এতে বক্তব্য দেন।   সভায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নেতাকর্মীদের বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি। দলটির নেতারা দাবি করেন, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন এবং তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও বাংলাদেশে যাবেন।   এক নেতা তার বক্তব্যে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেছিলেন; আগামী ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন এবং পৃথিবীর যে যেখানে আছেন, সবাই তার সঙ্গে দেশে যাবেন। আরেক নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তারা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন দেখতে চান না এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও দেশ পরিচালনার প্রত্যাশা করেন। তবে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার তথ্য অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়নি।   এদিকে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে রক্তদান, জায়নামাজ ও খাবার বিতরণের মতো আলাদা কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী। শাকিল মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের সিটি বাসে যাতায়াতকারী মানুষের মধ্যে প্রায় এক হাজার জায়নামাজ বিতরণ করা হয় বলে জানান আয়োজকেরা।   মূলত, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দলটির নেতাকর্মীদের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে মশাল হাতে শপথ গ্রহণ ও ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার এই ঘোষণাকে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান।ছবি: ঠিকানা নিউজের ভিডিও থেকে
‘খেলা নয়, এবার যুদ্ধ হবে’: শামীম ওসমান

দীর্ঘদিন প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান। নিউইয়র্কে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় শেষে তিনি বলেছেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তির’ সঙ্গে এবার আর খেলা নয়, প্রয়োজনে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ হবে।   ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় জনসম্মুখের বাইরে ছিলেন শামীম ওসমান। তবে গত জুলাইয়ে নিউইয়র্কে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ার খবর আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও তার নিউইয়র্কে অবস্থান ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।    নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি রেস্তোরাঁয় যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঠিকানা নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শামীম ওসমান দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়িত হবে। নেত্রী দেশে ফিরলে নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে ফিরবেন বলে জানান তিনি।   শামীম ওসমান বলেন, শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেন, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। নিজের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নেত্রী ফিরলে অনুসারীরাও দেশে ফিরবেন।   এরপর বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের বহুল আলোচিত ‘খেলা হবে’ স্লোগানকেও নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।   তার ভাষায়, “খেলা হয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে।” বর্তমান পরিস্থিতিতে যাদের তিনি ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করছেন, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ‘খেলা’ নয়, ‘যুদ্ধ’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বিএনপিকে পুরোপুরি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বলতে রাজি নন বলেও জানান শামীম ওসমান। দলটির মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বিএনপি বর্তমানে ভুল রাজনৈতিক পথে এগোচ্ছে।   সাক্ষাৎকারে আরও গুরুতর একটি অভিযোগ করেন শামীম ওসমান। তার দাবি, নারায়ণগঞ্জের চারটি স্থানে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ চলছে এবং এর মধ্যে দুটি মহিলা মাদ্রাসাও রয়েছে। কারা সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং কী উদ্দেশ্যে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।   বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আঞ্চলিক শক্তিগুলো বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতসহ উপমহাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ দাবিগুলোর পক্ষে সাক্ষাৎকারে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেননি তিনি।   দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। এখন নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট পাবে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই দাবির পক্ষে সাম্প্রতিক কোনো নির্ভরযোগ্য জাতীয় জনমত জরিপের তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি।   শামীম ওসমানের এই প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে আবুল হাসান স্বজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় শেখ হাসিনা, শামীম ওসমানসহ কয়েক ডজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছিল।    চলতি বছরের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং অভিযোগ থাকা মানেই কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।    একসময় ‘খেলা হবে’ স্লোগানের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় আসা শামীম ওসমান এবার সেই স্লোগান থেকেই সরে এসে ‘যুদ্ধের’ ভাষা ব্যবহার করলেন। নিউইয়র্ক থেকে দেওয়া তার বক্তব্য একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার বার্তা এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের প্রকাশ হিসেবেই সামনে এসেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
আইসিইউতে হাতকড়া পরা ছবি নিয়ে ভাইরাল সেই আওয়ামী লীগ নেতা আর মারা গেছেন
আইসিইউতে হাতকড়া পরা ছবি নিয়ে ভাইরাল সেই আওয়ামী লীগ নেতা আর মারা গেছেন

একাধিক মামলায় গ্রেফতার হওয়া পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান খান (মনির খান) মারা গেছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   মনির খান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।   পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৪ জুন আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং দুই দিন পর লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার তার মৃত্যু হয়।   এর আগে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া পরানো একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় জামিন মঞ্জুর হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তিনি হাসপাতাল থেকে আর সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেননি।   তার স্ত্রী সালমা জাহান জানান, সর্বশেষ ৩০ জুলাই তার বিরুদ্ধে থাকা শেষ মামলাতেও তিনি জামিন পান। এর আগে বাকি সাতটি মামলায়ও আদালত তাকে জামিন দেন। হাতকড়া পরা ছবি প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে পুলিশ তার হাত থেকে হাতকড়া খুলে দেয়।   স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মনির খান আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টো রোড এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে ঢাকায় ছয়টি এবং পটুয়াখালী সদর থানায় দুটি, মোট আটটি মামলা ছিল। পরিবার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পটুয়াখালী সদর উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশ ছাড়ার দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে এফসিসি সাউথ এশিয়ার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
দেশত্যাগের এক বছর পর ‘হোমকামিং’ আয়োজন: ৫ আগস্ট দিল্লিতে ভার্চুয়াল বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ ছাড়ার দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ঘিরে আবারও রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজনে “Sheikh Hasina’s Homecoming” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেবেন বলে আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচিতে জানানো হয়েছে।   আয়োজকদের প্রকাশিত পোস্টার অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার পাশাপাশি বক্তব্য রাখবেন তাঁর ছেলে ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এছাড়া আলোচক হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু ওবায়দাহ আরিন, সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী এবং সংগঠনটির যুক্তরাষ্ট্র শাখার পরিচালক অ্যাডভোকেট শাহ মো. বখতিয়ার। পোস্টার অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।    শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরের দিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।    তবে দিল্লির অনুষ্ঠানের শিরোনামে “হোমকামিং” বা “স্বদেশে প্রত্যাবর্তন” শব্দটি ব্যবহার করা হলেও, এর অর্থ শেখ হাসিনার তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে ফিরে আসা নয়। এখন পর্যন্ত তাঁর প্রত্যাবর্তনের নির্দিষ্ট কোনো সরকারি সময়সূচি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি।    এদিকে শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান জানতে চেয়েছে। একই সঙ্গে দেশের গণমাধ্যমকে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা প্রকাশ না করার নির্দেশনার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।    অন্যদিকে ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে, নয়াদিল্লির এই অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আয়োজন। এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনো মতামত বা বক্তব্যকেও তারা সরকারি অবস্থান হিসেবে সমর্থন করে না।    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশত্যাগের পর এটিই শেখ হাসিনার সবচেয়ে আলোচিত প্রকাশ্য ভার্চুয়াল উপস্থিতিগুলোর একটি। বিশেষ করে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাকিব আল হাসানসহ বিভিন্ন অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের ঘোষণায় অনুষ্ঠানটি নতুন করে রাজনৈতিক ও জনমনে আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা জোরালো হলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে শুধু তাঁর ৫ আগস্টের ভার্চুয়াল বক্তব্য; বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি এখনো ঘোষিত পরিকল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
Indian Prime Minister Narendra Modi and Sheikh Hasina
শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানে সরকারের ভূমিকা নেই: ভারত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চ্যুয়াল বক্তব্য নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দেশটির সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা বা সম্পৃক্ততা নেই।    মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল বক্তব্যের অনুষ্ঠানটি ভারত সরকারের নয়, একটি বেসরকারি সংস্থা আয়োজন করছে। ফলে এ আয়োজনে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।    আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (FCCSA)-এর একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে তার সরকারের পতনের পর এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য হতে পারে।    এর আগে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে জানতে চেয়েছিল, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই ভার্চ্যুয়াল রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের প্রতি নয়াদিল্লির সমর্থন রয়েছে কি না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছিলেন, কোনো পলাতক ব্যক্তি যদি অন্য দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, তাহলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।    ভারতের সর্বশেষ বক্তব্যের মাধ্যমে নয়াদিল্লি জানিয়ে দিল, শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি উদ্যোগ এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে দেখা মিলল শামীম ওসমানের I ছবি: সংগৃহীত
দুই বছর আত্মগোপনের পর নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে দেখা মিলল শামীম ওসমানের

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতিত ও পরবর্তীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দল আওয়ামী লীগের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দেখা মিলেছে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। দীর্ঘ দুই বছর ধরে পলাতক ও আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে নিউইয়র্কে প্রকাশ্যে এলেন নারায়ণগঞ্জের এই সাবেক দাপুটে নেতা। তার আকস্মিক উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।   রবিবার স্থানীয় ফটোসাংবাদিক নেহের সিদ্দিকী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শামীম ওসমানের একটি ছবি পোস্ট করেন। ওই ছবিতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের একটি নদীর তীরে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত উদাসী ভঙ্গিতে ধূমপান করছেন তিনি। দীর্ঘদিন জনসম্মুখের আড়ালে থাকা এই নেতার এমন ভিন্ন রূপের ছবি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশ ছাড়ার পর গত দুই বছর তিনি ঠিক কোথায় এবং কীভাবে আত্মগোপন করেছিলেন, তা নিয়ে প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন করে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে।   পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আরেকটি পোস্টে শামীম ওসমানকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও দেখা যায়। ওই ছবিতে যুক্তরাষ্ট্র শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে ছবি তুলেছেন তিনি। পতিত সরকারের একজন পলাতক ও আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্যের এভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
শেখ হাসিনা | ছবি: সংগৃহীত
এ বছর দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব: শেখ হাসিনা

ঢাকা/নয়াদিল্লি: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “প্রতিটি বাধা এবং ষড়যন্ত্রকে অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।” ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ইমেল সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।   বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। প্রায় দুই বছর পর তিনি আবার দেশে ফেরার ইচ্ছার পাশাপাশি সম্ভাব্য সময়সীমার কথাও উল্লেখ করলেন।   সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগত কোনো আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্য তিনি দেশে ফিরতে চান না। তার ভাষায়, “এখানে প্রশ্নটা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার।”   বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা, ভাই এবং পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি। কিন্তু এত চক্রান্তের পরও আমি বাংলাদেশের মানুষের পাশেই থেকেছি।”   নিজের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা দাবি করেন, “এটা বিচার নয়। এটা অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত একটি ব্যবস্থার অংশমাত্র। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অস্ত্র করা হয়েছে।”   দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ জনসমর্থন ফিরে পাচ্ছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়। এই দলকে বহুবার আঘাত করা হয়েছে, বহুবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকবার মানুষের ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।”   আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে কি না জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক অনুগ্রহ চায় না।” তিনি বিএনপির সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগও নাকচ করেন।   বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের মতো বিএনপিও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি এমন একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে। সেই বাংলাদেশে কখনও ধর্মীয় আগ্রাসন ও মৌলবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে না।”

তাবাস্সুম জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ত্রিপুরায় মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করছেন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত | ছবি: সংগৃহীত
ভারতের মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের পলাতক এমপি প্রাণ গোপাল দত্ত!

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তিনি ভারতের ত্রিপুরার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করছেন বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ওই কলেজটির অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ক্লাসের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।   ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের একজন স্টাফ নার্স আজ শনিবার সকালে ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের ওই প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি কতদিন ধরে সেখানে শিক্ষকতা করছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাননি ওই কর্মী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে নাক-কান-গলা (ইএনটি) সম্পর্কিত একটি বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এবং তাঁর পেছনের ডিজিটাল বোর্ডে চিকিৎসাবিজ্ঞান-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছে।   গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতাদের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও আত্মগোপনে চলে যান। দেশে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না মিললেও, ত্রিপুরার মেডিকেল কলেজের এই সাম্প্রতিক ভিডিও প্রকাশের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি বর্তমানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অবস্থান করছেন।   অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'স্বাধীনতা পদক' লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কুমিল্লা-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তাবাস্সুম জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
রাঙামাটিতে বিশেষ অভিযানে ১৬ জন গ্রেপ্তার
রাঙামাটিতে বিশেষ অভিযানে ১৬ জন গ্রেপ্তার, শ্রমিক লীগ নেতাও আটক

রাঙামাটি শহরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ১৬ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশ।   গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রাঙামাটি জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. কবির রয়েছেন। এছাড়া আটক অন্যদের মধ্যে আছেন—মো. নুরুল হক (৫২), চম্পক দাশ (৫৪), মো. নিজাম উদ্দীন (৪২), মো. ইলিয়াছ (৩৫), মো. ইসমাইল (৫৯), মো. জসিম (৩৮), মো. নয়ন (১৯), মো. তারিকুল ইসলাম (৪৫), মো. রাসেল (৩৮), শাহাদত হোসেন (৩২), রাম প্রসাদ শীল (৪৫), জাহিদুল ইসলাম (২৪), মো. সাইফুল ইসলাম (২৫), দুর্জয় কান্তি দে (২৬) এবং হাফিজুর রহমান (২৯)।   পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধ দমনে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, শহরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।   পুলিশের এই অভিযানের পর স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা জোরদার করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৬ এলাকায় সেনা মোতায়েন
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষের শঙ্কা: ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৬ এলাকায় সেনা মোতায়েন

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও নাশকতার আশঙ্কায় ঢাকা মহানগরীসহ দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার (২২ জুন) জারি করা এক সরকারি চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   চিঠিতে বলা হয়, মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যরা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   যেসব এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে, সেগুলো হলো—ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর পুলিশ এলাকা, পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলা। এসব জায়গাকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।   এর আগে পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। গত সপ্তাহে ডিআইজি কামরুল আহসানের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে সব ইউনিট প্রধানকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ও মিছিল করার চেষ্টা করতে পারেন।   প্রজ্ঞাপনে আরও সতর্ক করে বলা হয়, এসব কর্মসূচি ঘিরে অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষ, বিশেষ করে ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ (এনসিপি) এবং ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ প্ল্যাটফর্মের সদস্যদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে, যা সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব কার্যক্রমে বাধা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী
থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরীর মৃত্যু

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহ-সভাপতি সেলিমা আহমাদ মেরী আর নেই। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।   তার মৃত্যুর খবরটি প্রথমে নিশ্চিত করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের সদস্য সচিব সারওয়ার হোসেন বাবু। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, “কুমিল্লা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী আপা আজ রাত ৭টা ৪০ মিনিটে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।” একই সঙ্গে তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।   সেলিমা আহমাদ মেরী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এলাকায় তিনি একজন সক্রিয় রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও ভূমিকা রেখেছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেছেন।   তার মৃত্যুতে কুমিল্লা অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন এবং তার রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করছেন।   পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। দেশে পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

নীলুফা নিশাত জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতি থেকে অবসরের গুঞ্জন নাকচ করলেন শেখ হাসিনা, আবারও ফিরতে চান রাজনীতির মাঠে

আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ছাড়ার পাশাপাশি রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিল, তা নাকচ করেছেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের নেতাকর্মীদের একা রেখে বিশ্রামে যাওয়ার সুযোগ নেই।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময়-কে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে মঙ্গলবার (৯ জুন) তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্বে তার অবসর সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এখনই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সিদ্ধান্তে নেই।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সেই সময় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে হতাশ হয়ে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্র আক্রান্ত এবং দলের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার। এমন একটা সময়ে আমি কীভাবে বলি, বিশ্রামে যাচ্ছি?”   তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে। তার ভাষায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভবিষ্যৎ সাফল্য নিশ্চিত করার পরই তিনি অবসর বিবেচনা করবেন।   আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক দল এবং নেতৃত্ব নির্বাচন কাউন্সিল ও কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, দলটি বর্তমানে একটি “প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণের” মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।   জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে একাধিক মামলায় শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ড দিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারত সরকারের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।   অন্যদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন। সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে, দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ফিরব।”

Unknown জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে তোফায়েল আহমেদ স্মরণে আয়োজিত শোকসভার একাংশ । ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ স্মরণে শোকসভা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও ডাকসুর সাবেক ভিপি তোফায়েল আহমেদের স্মরণে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। গত শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার এলাকার এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুল মিলনায়তনে ‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি সংসদ’-এর উদ্যোগে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।   সংগঠনের সভাপতি রুহেল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।   বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহিম বাদশা, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী এবং রাজনীতিবিদ জাকারিয়া চৌধুরী।   এ ছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ, সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুর আহমদ, ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি শাখাওয়াত আলী, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম জিকু, সোহান আহমেদ টুটুল, শেখ মখলু, শেখ শফিকুর রহমান, শেখ জামাল হোসেন, শ্যামল চন্দ্র চন্দ, হাবিবুর রহমান কামাল, শামীম আহমেদ, শেখ অলি আহাদ, ছাদেকুর রহমান, নুরুল ইসলাম মিলন এবং কবি সুধাংশু রঞ্জন মন্ডলসহ অনেকে।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক অবদান ও নেতৃত্ব নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।   বক্তারা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তোফায়েল আহমেদের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণ করা হবে।

তাবাস্সুম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০