আমেরিকা

আমেরিকায় তীব্র দাবদাহে ২৫ জনের মৃত্যু, পূর্ব উপকূলে বন্যার পূর্বাভাস

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১০:২৪
নিউ জার্সিসহ একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহে মৃত্যুর মিছিল; এনডব্লিউএস-এর সতর্কতায় সোমবার বন্যার ঝুঁকিতে নিউইয়র্ক সিটি | ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিসহ একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহে মৃত্যুর মিছিল; এনডব্লিউএস-এর সতর্কতায় সোমবার বন্যার ঝুঁকিতে নিউইয়র্ক সিটি | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র দাবদাহে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির পূর্ব উপকূল, দক্ষিণ-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রায় ৪ কোটি মানুষ বর্তমানে তীব্র গরমের সতর্কতার মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিউ জার্সিতে গরমে ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে একজন এবং মিসিসিপিতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

 

তীব্র এই গরমের মধ্যেই দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ার কারণে সোমবারের মধ্যে পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। নিউইয়র্ক সিটিসহ ডেলাওয়্যার থেকে কানেকটিকাট পর্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৩ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তীব্র ঝড়ের কারণে পূর্বের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।

 

আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, ফিলাডেলফিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, বাল্টিমোর এবং ফ্লোরিডার মতো শহরগুলোতে আর্দ্রতা ও বাতাসের তাপমাত্রার কারণে গরমের অনুভূতি ১০০ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৮ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অতিরিক্ত গরমের কারণে কেবল নিউইয়র্ক সিটির হাসপাতালগুলোর জরুরি বিভাগেই ৩ ৭৮ জনেরও বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

চলতি সপ্তাহে পূর্ব উপকূলে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ক্যালিফোর্নিয়া এবং অ্যারিজোনাসহ দেশের কিছু অংশে গরমের তীব্রতা বজায় থাকবে। অ্যারিজোনার ফিনিক্স ও টুসন শহরে তাপমাত্রা ১১৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (সাড়ে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত উঠতে পারে বলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
সমুদ্রের তলদেশে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারে ‘আল্ট্রা মেরিটাইম’ কিনে নিল লকহিড মার্টিন | ছবি: সংগৃহীত
সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারে নৌ-প্রতিরক্ষা কোম্পানি কিনে নিল মার্কিন জায়ান্ট লকহিড মার্টিন

বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন সোমবার সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী প্রযুক্তিতে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ‘আল্ট্রা মেরিটাইম’ কিনে নেওয়ার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের এই বিশাল ব্যবসায়িক চুক্তিটির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াবে লকহিড মার্টিন।   আল্ট্রা মেরিটাইম মূলত বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সামরিক ব্যবস্থা তৈরি এবং সরবরাহ করে থাকে। তাদের উৎপাদিত পণ্যের তালিকায় রয়েছে আধুনিক সোনার প্রযুক্তি, সোনোবয়া, টর্পেডো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার সলিউশন এবং স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক সেন্সিং প্ল্যাটফর্মের মতো বিশ্বমানের প্রযুক্তি।   লকহিড মার্টিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অধিগ্রহণের ফলে ডুবোজাহাজ এবং সাবমেরিন বিধ্বংসী যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সামগ্রিক শক্তি অনেক বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে আল্ট্রা মেরিটাইমের তৈরি সোনোবয়া, টানা সোনার অ্যারে এবং জাহাজের নিচে বসানো সোনার লাইনের মতো পণ্যগুলো এখন সরাসরি লকহিড মার্টিনের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।   লকহিড মার্টিন রোটারি অ্যান্ড মিশন সিস্টেমসের প্রেসিডেন্ট স্টেফানি সি হিল বলেন, এই চুক্তির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের সহযোগী দেশগুলোর নৌবাহিনীর কাছে আরও উন্নত মানের সাবমেরিন বিধ্বংসী প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। আল্ট্রা মেরিটাইমের আন্তর্জাতিক বাজার এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলো লকহিড মার্টিনের বর্তমান সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।   চুক্তির সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আল্ট্রা মেরিটাইম আনুষ্ঠানিকভাবে লকহিড মার্টিনের ‘রোটারি অ্যান্ড মিশন সিস্টেমস’ ব্যবসায়িক খাতের একটি অংশ হিসেবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আধুনিক নৌ প্ল্যাটফর্মের জন্য এই দুই জায়ান্টের একত্রীকরণ সামরিক বাজারে বড় পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১১:৮
নিউ জার্সিসহ একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহে মৃত্যুর মিছিল; এনডব্লিউএস-এর সতর্কতায় সোমবার বন্যার ঝুঁকিতে নিউইয়র্ক সিটি | ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় তীব্র দাবদাহে ২৫ জনের মৃত্যু, পূর্ব উপকূলে বন্যার পূর্বাভাস

ওহাইওর একটি দোকানে সাজিয়ে রাখা ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগান সংবলিত আতশবাজি | ছবি: এপি

আমেরিকার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও রাজনৈতিক বিভেদ, এক হতে পারছে না ব্র্যান্ড ও এনজিওগুলো

ইসলামিক সেন্টার টাইসন মসজিদে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ; সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ | ছবি: সংগৃহীত

ফিলাডেলফিয়ার ইসলামিক সেন্টার টাইসন মসজিদে মধ্যরাতে আগুন, পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

কুইন্সের সাউথ ওজোন পার্কের নিজ বাড়ি থেকে ছুরিকাঘাতে নিহত ৬০ বছর বয়সী আউশা রামলাখানের মরদেহ উদ্ধার | ছবি: ডেইলি নিউজ
নিউইয়র্কে মানসিক রোগী মেয়ের ছুরিকাঘাতে মা খুন, কাজ থেকে ফিরে লাশ দেখলেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের ছুরিকাঘাতে তাঁর ৬০ বছর বয়সী মা আউশা রামলাখান খুন হয়েছেন। কাজ থেকে ঘরে ফিরে স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেন নিহতের স্বামী ওয়াজির ওসমান।   ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে কুইন্সের সাউথ ওজোন পার্ক এলাকায়। নিহতের স্বামী ওয়াজির ওসমান জানান, শনিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে তিনি যখন কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন বাড়ি থেকে মাত্র এক ব্লক দূরে রাস্তায় তাঁর ৩০ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সে সময় তাঁর মেয়ের আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তিনি।   এরপর ঘরে প্রবেশ করতেই তিনি শোবার ঘরে তাঁর স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পরপরই ঘাতক মেয়েকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।   পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই তরুণী দীর্ঘ দিন ধরে গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার মাত্র দুই দিন আগেই তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালের মানসিক ওয়ার্ড থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পরই তিনি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটান। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ৯:৩৩
ছবি: ডেমোক্রেটিক প্রার্থী মাহবুব খান (সংগ্রহীত)

মিশিগানের ৬১ নম্বর হাউস রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মাহবুব খানের প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা অগ্রাধিকার

অভিবাসী শেফ এর নিহতকারী ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

স্ত্রীকে অপমানের প্রতিবাদে মুখোমুখি, এক ঘুষিতেই ব্রুকলিনে প্রাণ গেল অভিবাসী শেফের

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা লেক তাহো এর ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা

স্বর্গের আড়ালে নীরব সংকট: লেক তাহো অঞ্চলে বাড়ছে আত্মহত্যা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিতে উদ্বেগ

ক্যারোলিন লেভিটের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
তরুণদের ‘কমিউনিজমমুখী’ হওয়ার কারণ নিয়ে ক্যারোলিন লেভিটের বিতর্কিত

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি Karoline Leavitt নিজের প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রবণতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান প্রজন্মের কিছু তরুণ-তরুণী সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের ‘উদারপন্থী মতাদর্শের প্রভাব’ এবং কিছু তরুণের কর্মবিমুখতা।   সম্প্রতি Jesse Watters-এর একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেওয়া মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন লেভিট। পরে তিনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। সেখানে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্যকে প্রসঙ্গের বাইরে তুলে ধরা হয়েছে এবং তিনি পুরো প্রজন্মকে অলস বলেননি।   লেভিটের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ধারণা প্রচার করা হচ্ছে যে কঠোর পরিশ্রম বা আত্মত্যাগের মাধ্যমে সাফল্য অর্জনের চেয়ে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়াই সহজ। তাঁর দাবি, এ ধরনের শিক্ষা তরুণদের মধ্যে রাষ্ট্রনির্ভর চিন্তাভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং বামপন্থী রাজনীতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করছে।    তবে তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, সব তরুণকে একইভাবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বহু তরুণ পরিশ্রমী, উদ্যোগী এবং দেশপ্রেমিক; তাদের জন্য ‘আমেরিকান ড্রিম’ রক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি তিনি শিক্ষা খাতে অভিভাবকদের আরও বিকল্প দেওয়ার পক্ষে মত দেন।   লেভিটের এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সমালোচকদের অনেকে বলেন, বর্তমান তরুণদের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আবাসন ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, শিক্ষাঋণ এবং কর্মসংস্থানের মতো বাস্তব অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে উপেক্ষা করেছেন।   এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী নিজেদের ‘ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ায় রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। লেভিট এবং Donald Trump উভয়েই এসব প্রবণতাকে ‘কমিউনিস্ট’ আদর্শের বিস্তার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট অনেক রাজনীতিক নিজেদের সমাজতান্ত্রিক (Socialist) হিসেবে পরিচয় দেন, কমিউনিস্ট হিসেবে নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ৫:১৬
রেকর্ড গরমের পর নিউইয়র্কে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা

রেকর্ড গরমের পর নিউইয়র্কে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা

ট্রাম্পের নতুন পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, বিকৃত ছবিতে ওবামা দম্পতিকে দেখানোর সমালোচনা

ট্রাম্পের নতুন পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, বিকৃত ছবিতে ওবামা দম্পতিকে দেখানোর সমালোচনা

শুধু প্রতিরক্ষা ব্যয় নয়, এবার ‘আনুগত্য’ও চান ট্রাম্প-চাপে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে

শুধু প্রতিরক্ষা ব্যয় নয়, এবার ‘আনুগত্য’ও চান ট্রাম্প-চাপে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে

0 Comments