আমেরিকা

অর্থনৈতিক চাপে ডেলিভারি অ্যাপ চালক ও অ্যামাজন কর্মীদের মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার বেড়েছে

সামিয়া আঁখি প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ৮:১১
অ্যামাজনের একজন ডেলিভারি কর্মী কোম্পানির পণ্যবাহী প্যাকেট একজন গ্রাহকের হাতে তুলে দিচ্ছেন। ছবি:সংগৃহীত
অ্যামাজনের একজন ডেলিভারি কর্মী কোম্পানির পণ্যবাহী প্যাকেট একজন গ্রাহকের হাতে তুলে দিচ্ছেন। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গিগ অর্থনীতি ও বড় খুচরা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আর্থিক চাপের নতুন চিত্র উঠে এসেছে এক গবেষণায়। নতুন এক গবেষণা অনুযায়ী, ডেলিভারি অ্যাপ চালক এবং অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কর্মীদের মধ্যে ফেডারেল সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, স্বল্প আয়ের কারণে অনেক কর্মী চাকরির পাশাপাশি সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে অ্যাপভিত্তিক ডেলিভারি চালক, গুদামকর্মী এবং বড় খুচরা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

 

যেসব কর্মী সাধারণত স্বাধীন ঠিকাদার বা গিগ কর্মী হিসেবে কাজ করেন, তাদের আয় অনেক সময় অনিয়মিত হয়। ফলে নির্দিষ্ট মাসে আয় কমে গেলে পরিবার চালাতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

 

অ্যামাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনেক কর্মীও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। যদিও এসব প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে, তারপরও কিছু কর্মীর আয় জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন খরচ, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় এবং মজুরি বৃদ্ধির ধীর গতি নিম্ন ও মধ্য আয়ের কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

 

গবেষণায় সরকারি সহায়তার মধ্যে বিশেষ করে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি  বা ফুড স্ট্যাম্পের মতো সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো খাদ্য কেনার জন্য সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে।

 

শ্রম অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন হলে সেটি শুধু কর্মীর ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং শ্রমবাজারের বৃহত্তর চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়।

 

তবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, সরকারি সহায়তা নেওয়া মানেই সব কর্মী দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছেন—এমন নয়। অনেক পরিবার অস্থায়ী আর্থিক সংকট, অনিয়মিত আয় বা পরিবারের সদস্যসংখ্যার কারণে এসব সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারে ।

 

ডেলিভারি অ্যাপভিত্তিক কাজের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। উবার ইটস, ডোরড্যাশসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করা চালকদের অনেকেই নিজেদের কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও স্থায়ী বেতন, স্বাস্থ্য বীমা বা চাকরির অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। গিগ কাজ ও বড় করপোরেশনের নিম্ন মজুরির চাকরির ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে শ্রমনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।

 

গবেষণার ফলাফল এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি সহায়তার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ডা. রুথ গটেসম্যান, যাঁর ১ বিলিয়ন ডলারের অনুদানে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের টিউশন ফ্রি | ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের যে মেডিকেল কলেজে সবার টিউশন ফ্রি, পেছনে এক নারীর ১ বিলিয়ন ডলারের দান

যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেল পড়াশোনার বিপুল খরচ নিয়ে যখন শিক্ষার্থী ও পরিবারের উদ্বেগ বাড়ছে, তখন নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে একটি মেডিকেল কলেজে এমডি প্রোগ্রামের সব শিক্ষার্থীর টিউশন ফি সম্পূর্ণভাবে বহন করছে বিশেষ একটি স্কলারশিপ তহবিল। অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অব মেডিসিনে এই সুযোগ তৈরি হয়েছে ডা. রুথ গটেসম্যানের ঐতিহাসিক ১ বিলিয়ন ডলারের অনুদানে।   কলেজটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এমডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেভিড এস. অ্যান্ড রুথ এল. গটেসম্যান স্কলারশিপের আওতায় আসেন। পরিবারের আয় বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে এই সুবিধা দেওয়া হয় না এবং এর জন্য আলাদা করে আবেদনও করতে হয় না। এমনকি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং ডিএসিএ কর্মসূচির আওতায় থাকা শিক্ষার্থীরাও এমডি প্রোগ্রামে ভর্তি হলে এই স্কলারশিপ পান।   এই ঐতিহাসিক অনুদানের ঘোষণা আসে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সে সময় ৯৩ বছর বয়সী রুথ গটেসম্যান কলেজটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মীদের সামনে ১ বিলিয়ন ডলার দানের কথা জানান। কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মেডিকেল স্কুলে দেওয়া এটিই সবচেয়ে বড় একক অনুদান।   অনুদানের অর্থ দিয়ে ২০২৪ সালের মার্চে ডেভিড এস. অ্যান্ড রুথ এল. গটেসম্যান স্কলারশিপ ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। ওই বছরের আগস্ট থেকে কলেজটির সব এমডি শিক্ষার্থীর টিউশন ও নির্ধারিত শিক্ষা এবং প্রযুক্তি ফি এই তহবিল থেকে বহন করা হচ্ছে। কলেজটি জানিয়েছে, এই ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে চালু রাখার লক্ষ্যেই তহবিলটি গঠন করা হয়েছে।   এর আর্থিক সুবিধাও বিশাল। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অব মেডিসিনে একজন এমডি শিক্ষার্থীর বার্ষিক টিউশন ৭৪ হাজার ২৬১ ডলার। এর সঙ্গে ৫ হাজার ৫৯৭ ডলারের শিক্ষা ও প্রযুক্তি ফি যোগ করলে বছরে ৭৯ হাজার ৮৫৮ ডলার স্কলারশিপের মাধ্যমে বহন করা হচ্ছে। চার বছরে বর্তমান হার অপরিবর্তিত থাকলে শুধু এই দুই খাতেই একজন শিক্ষার্থীর সাশ্রয় ৩ লাখ ডলারের বেশি।   তবে কলেজটিতে মেডিকেল পড়াশোনার সব খরচ ফ্রি নয়। গটেসম্যান স্কলারশিপ টিউশন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি ফি বহন করলেও বাসস্থান, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত, বইপত্র ও ব্যক্তিগত খরচ এর আওতায় পড়ে না। এসব ব্যয়ের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা অন্যান্য আর্থিক সহায়তা নিতে পারেন।   রুথ গটেসম্যানের সঙ্গে অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অব মেডিসিনের সম্পর্ক কয়েক দশকের। ১৯৬৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে শিশুদের শেখার সমস্যা নিয়ে গবেষণা ও কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কলেজটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।   ১ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থ আসে তার প্রয়াত স্বামী ডেভিড স্যান্ডি গটেসম্যানের রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে। ডেভিড গটেসম্যান ছিলেন একজন সফল বিনিয়োগকারী। ২০২২ সালে তার মৃত্যুর পর পাওয়া সম্পদের একটি বড় অংশ চিকিৎসা শিক্ষায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন রুথ গটেসম্যান।   এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিপুল শিক্ষাঋণের চাপ থেকে মুক্ত রাখা। টিউশনের বোঝা না থাকায় একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে কোন চিকিৎসা ক্ষেত্রে কাজ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ঋণ পরিশোধের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকার সুযোগ তৈরি হয়।   অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অব মেডিসিনের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে ৭০০-এর বেশি মেডিকেল শিক্ষার্থী রয়েছেন। নতুন যারা এমডি প্রোগ্রামে ভর্তি হচ্ছেন, তারাও একইভাবে গটেসম্যান স্কলারশিপের আওতায় টিউশন সুবিধা পাচ্ছেন।   ফলে দুই বছরের বেশি আগে দেওয়া রুথ গটেসম্যানের ১ বিলিয়ন ডলারের অনুদান এখন আর শুধু একটি দানের ঘটনা নয়। সেই অর্থে গড়ে ওঠা তহবিলের মাধ্যমে নিউইয়র্কের এই মেডিকেল কলেজে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এমডি শিক্ষার্থীদের টিউশনমুক্ত চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ৯:২১
এইচ-ওয়ানবি ভিসা এর আবেদন ফরম বা নথির নমুনা। ছবি:সংগৃহীত

এইচ-১বি ভিসা বন্ধের উদ্যোগ, বিপাকে পড়তে পারেন ভারত-বাংলাদেশসহ লাখো দক্ষ কর্মী

অ্যামাজনের একজন ডেলিভারি কর্মী কোম্পানির পণ্যবাহী প্যাকেট একজন গ্রাহকের হাতে তুলে দিচ্ছেন। ছবি:সংগৃহীত

অর্থনৈতিক চাপে ডেলিভারি অ্যাপ চালক ও অ্যামাজন কর্মীদের মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার বেড়েছে

পশ্চিম ভার্জিনিয়ার লুইস কাউন্টির হর্নারে,৩০০ মাউন্টেন রিট্রিট ড্রাইভে অবস্থিত একটি বিশেষভাবে নির্মিত পাথরের বিলাসবহুল এস্টেট। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ একরের বিলাসবহুল এস্টেট বিক্রি মাত্র ৩৩ লাখ ডলারে

স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দান করলেন অ্যারিজোনার নারী ও স্বামী। ছবি : সংগৃহীত
'তোমার জীবনই আমার সব', স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দান করলেন অ্যারিজোনার নারী

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার এক অগ্নিনির্বাপক কর্মী নিজের স্বামীর জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করে ভালোবাসা ও ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন। কঠিন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি শুধু একজন স্ত্রী হিসেবে নয়, একজন জীবনদাতা হিসেবেও নতুন পরিচয় পেয়েছেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী পেশাগত জীবনে অগ্নিনির্বাপক কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষা করাই তার কাজ। কিন্তু এবার নিজের পরিবারের মধ্যেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক জীবন রক্ষার লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি।   তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে স্ত্রী নিজেই কিডনি দানের সিদ্ধান্ত নেন এবং পরীক্ষার পর জানা যায়, তিনি স্বামীর জন্য উপযুক্ত দাতা হতে পারবেন।   কিডনি দানের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শারীরিক পরীক্ষা, মানসিক প্রস্তুতি এবং চিকিৎসকদের পরামর্শের প্রয়োজন হয়। সব ধরনের মূল্যায়ন শেষে সফলভাবে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।   পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই ঘটনা তাদের জীবনে এক আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে থাকবে। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ভালোবাসা ও একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির এক বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই ঘটনা।   জীবিত দাতার মাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন অনেক রোগীর জন্য নতুন জীবনের সুযোগ তৈরি করে। তবে কিডনি দানের সিদ্ধান্ত সবসময় ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং চিকিৎসকদের পূর্ণ মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া হয়।   অ্যারিজোনার এই অগ্নিনির্বাপক কর্মীর গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মানুষের নজর কেড়েছে। অনেকেই তার সাহস, ভালোবাসা এবং নিঃস্বার্থ ত্যাগের প্রশংসা করছেন।   মানুষের জীবন রক্ষায় প্রতিদিন কাজ করা এই নারী এবার নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষের জীবন বাঁচিয়ে দেখালেন—সেবার মানসিকতা শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ৭:১৮
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সামনে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলনকারীদের একটি বিক্ষোভ সমাবেশ।  ছবি:সংগৃহীত

অভিবাসীদের আইনি মর্যাদা বাতিল: কর্মী সংকটের আশঙ্কায় কর্মী ও মার্কিন নিয়োগকর্তারা

"ইন্দোনেশিয়ার সুপ্রিম কোর্টের সাবেক কর্মকর্তা জারোফ রিকার এবং তার জাকার্তার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় কর্তৃক জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সোনার স্যুটকেস।" ছবি:সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ায় পুলিশ-সেনা মুখোমুখি, সাবেক কর্মকর্তার বাড়ি থেকে ৭৪ কেজি সোনা উদ্ধার

এক গর্ভবতী নারী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাড়ির ভেতরে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ছবি:সংগৃহীত

হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠানোর পর গাড়িতেই সন্তানের জন্ম দিলেন মা

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। দাবানলের কারণে আড়াই লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছবি:সংগৃহীত
ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানলে আড়াই লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলমান নজিরবিহীন দাবানল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার জরুরি সংকট বৈঠক আহ্বান করেছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। কয়েকদিন ধরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা আগুনে এখন পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে। তবে সোমবার সকালে আগুনের বিস্তার কিছুটা ধীর হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেছেন কর্তৃপক্ষ।   ফ্রান্সের গিরন্দ অঞ্চলে সবচেয়ে বড় দাবানলটি ইতোমধ্যে প্যারিস শহরের প্রায় চার গুণ আয়তনের এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। হাজার হাজার দমকলকর্মী, সেনাসদস্য, উদ্ধারকারী দল এবং অগ্নিনির্বাপণ বিমান দিন-রাত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে প্রবল বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া এবং তীব্র তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।   সংকট বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম, পুনর্বাসন, অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন করে তাপপ্রবাহের প্রভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, পুনর্গঠন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সরকার সহায়তা অব্যাহত রাখবে।   দাবানলের কারণে বহু শহর ও গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিশুদের গ্রীষ্মকালীন শিবিরসহ বিভিন্ন কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। ঘন ধোঁয়ার কারণে কয়েকটি এলাকায় বায়ুর মান মারাত্মকভাবে খারাপ হওয়ায় স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এদিকে প্রতিবেশী স্পেনেও ভয়াবহ দাবানল অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশে মিলিয়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া বা ঘরে অবস্থান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন সতর্ক করেছে, চলতি বছরের দাবানল মৌসুম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ৫:১০
নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাস, কোন রাজ্যে বাংলাদেশিরা রাজনীতিতে এগিয়ে?

নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাস, কোন রাজ্যে বাংলাদেশিরা রাজনীতিতে এগিয়ে?

২৪৬ বছর পর খুলল রহস্য!

২৪৬ বছর পর খুলল রহস্য! শনাক্ত হলো আমেরিকার বিপ্লবী যুদ্ধের অজানা সৈনিক

২০২৮ সালের হোয়াইট হাউস দৌড়ে জরিপে শীর্ষে এওসি

২০২৮ সালের হোয়াইট হাউস দৌড়ে জরিপে শীর্ষে এওসি, কে এই সাবেক বারটেন্ডার থেকে উঠে আসা কংগ্রেসওম্যান?

0 Comments