যুক্তরাষ্ট্রের লেক তাহোতে খাবারের খোঁজে ঘরে ঢুকছে কালো ভালুক, ঘরবাড়ি সুরক্ষায় লাখ লাখ টাকা খরচ করছেন বাসিন্দারা
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া-নেভাডা সীমান্তবর্তী পর্যটনকেন্দ্র লেক তাহো অঞ্চলে কালো ভালুকের উপদ্রব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। খাবারের সন্ধানে ভালুকের বাড়িতে ঢুকে পড়ার ঘটনা বাড়তে থাকায় অনেক বাসিন্দাকে নিজেদের বাড়ি সুরক্ষিত রাখতে হাজার হাজার ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত শুধু সাউথ লেক তাহো পুলিশই ভালুক-সংক্রান্ত ১৭৪টি অভিযোগ পেয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৯৭।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনায় কালো ভালুক সরাসরি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। এক দম্পতি জানান, তারা রান্নাঘরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ ঘুরে দেখেন, একটি কালো ভালুক তাদের বসার ঘরে দাঁড়িয়ে আছে। পরে প্রাণীটি পুরো বাড়ি ঘুরে দেখে, বাথরুমে রাখা টুথপেস্টের টিউব শুঁকে দেখে, মেঝেতে প্রস্রাব করে বেরিয়ে যায়। এক মাসের ব্যবধানে এটি ছিল তাদের বাড়িতে ভালুকের দ্বিতীয় অনুপ্রবেশের ঘটনা।
ঘটনাগুলো বাড়তে থাকায় অনেক বাসিন্দা বৈদ্যুতিক প্রতিরোধক ম্যাট, স্টিলের দরজা, শক্তিশালী তালা ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করছেন। লেক তাহোর বাসিন্দা মার্গারেট ডিনেসলি জিগলার জানান, নিজের গ্রীষ্মকালীন বাড়িকে ভালুকের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি বৈদ্যুতিক প্রতিরোধক ব্যবস্থা, স্টিলের দরজাসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম বসিয়েছেন। এতে তার প্রায় ৭ হাজার ৫০০ ডলার খরচ হয়েছে। তবু তিনি বলছেন, "মনে হচ্ছে জিতছে ভালুকই, আর খরচটা করছি আমি।"
সম্প্রতি একই অঞ্চলে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে এক ব্যক্তি নিজের অবকাশযাপন কেন্দ্রের গ্যারেজে একটি কালো ভালুককে ময়লার পাত্রে খাবার খুঁজতে দেখে ভালুক প্রতিরোধক স্প্রে ব্যবহার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ভালুকটি তার দিকে এগিয়ে আসার পর স্প্রে প্রয়োগ করলে সেটি দ্রুত সরে যায়।
ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ জানিয়েছে, কালো ভালুক স্বভাবগতভাবেই খাবারের গন্ধে আকৃষ্ট হয়। মানুষের ফেলে রাখা খাবার, উন্মুক্ত আবর্জনা কিংবা সহজে প্রবেশযোগ্য গ্যারেজ ও বাড়ি তাদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। একবার মানুষের খাবারের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলে তারা আরও সাহসী হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আচরণ বারবার করতে পারে। এমনকি মা ভালুকের কাছ থেকে শাবকেরাও এই অভ্যাস শিখে ফেলে।
এ কারণে কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে খাবার বা আবর্জনা না রাখার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি ভালুক-প্রতিরোধী ময়লার পাত্র, বৈদ্যুতিক বেড়া বা বৈদ্যুতিক ম্যাট ব্যবহারের সুপারিশও করা হয়েছে।
ভালুকের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একজন লিখেছেন, "এটি ভালুকের সমস্যা নয়, মানুষের সমস্যা।" তার মতে, মানুষ যদি খাবার ও আবর্জনা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে, তাহলে সংঘাত অনেকটাই কমে আসবে। আবার আরেক বাসিন্দা জানান, সব ধরনের সতর্কতা নেওয়ার পরও তার বাড়িতে ভালুক ঢুকেছিল। শেষ পর্যন্ত তাকেও বৈদ্যুতিক ভালুক-প্রতিরোধক ম্যাট বসাতে হয়েছে। তার ভাষায়, "ভালুকের সঙ্গে একই এলাকায় বসবাসের এটাই হয়তো মূল্য।"
বিশেষজ্ঞদের মতে, লেক তাহো উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে ঘন কালো ভালুকের আবাসস্থলগুলোর একটি। পর্যটক ও বাসিন্দাদের অসচেতনতা, উন্মুক্ত খাবার এবং আবর্জনা সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত দিন দিন বাড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যা কমাতে শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, মানুষের আচরণেও পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটির বাসে ভাড়া ফাঁকি রোধে নিয়োজিত মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির (এমটিএ) বিশেষ পরিদর্শক দল ‘ঈগল টিম’-এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে যাত্রীদের সঙ্গে পরিদর্শকদের শারীরিক সংঘাত ও দুর্ব্যবহারের দুটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সংস্থাটি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এমটিএর নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিট কমিটির এক বৈঠকে জানানো হয়, আগস্ট এবং অক্টোবরের শুরুতে ঘটা এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে গত সপ্তাহ থেকেই বাসে ভাড়া চেকিং বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিদর্শক দলটির বর্তমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, আচরণবিধি এবং দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়া গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এমটিএ নিউইয়র্ক সিটি ট্রানজিটের প্রেসিডেন্ট ডেমেট্রিয়াস ক্রিচলো জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে কর্মীদের যেকোনো ধরনের শারীরিক সংঘাতে জড়ানো সম্পূর্ণভাবে সংস্থার নীতির পরিপন্থী। তাঁর মতে, বাসে ভাড়া ফাঁকি রোধ করা অত্যন্ত জরুরি হলেও কর্মীদের অবশ্যই যথাযথ সম্মান ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। চলমান এই তদন্ত প্রক্রিয়ার কারণে ঈগল টিমের প্রায় আড়াইশ সদস্যকে বর্তমানে বিকল্প দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। এসব কর্মী এখন নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ, গ্রাফিতি বা দেয়াললিখন তদন্ত এবং বাস ডিপো পরিদর্শনের মতো কাজ করছেন। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ইভেশন অ্যান্ড গ্রাফিতি ললেসনেস ইরাডিকেশন’ বা সংক্ষেপে ঈগল টিম মূলত ভাড়া ফাঁকি রোধের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও তদন্তমূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকে। নিউইয়র্ক সিটিতে বাসের ভাড়া ফাঁকির হার প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ায় এমটিএ আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, যা সরাসরি যাত্রীসেবাকে প্রভাবিত করছে। এই সংকট মোকাবিলায় এমটিএ বোর্ডের সদস্য অ্যান্ড্রু অ্যালবার্ট প্রযুক্তিনির্ভর নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছেন, যেখানে কার্ড বা ডিভাইস ট্যাপ না করলে স্বয়ংক্রিয় সতর্কসংকেত বাজবে এবং যাত্রীর ছবি ধারণ করা হবে। তবে ভাড়া পরিদর্শনের বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বব নামের এক যাত্রীর অভিযোগ, পরিদর্শকেরা অনেক সময় নির্দিষ্ট বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য বা পরিচয়ের ভিত্তিতে যাত্রীদের লক্ষ্য করে ভাড়া পরীক্ষা করেন। যদিও এই অভিযোগের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ মেলেনি, তবু এমটিএ চেয়ারম্যান জানো লিবার জানিয়েছেন, নিয়মিত ভাড়া দেওয়া যাত্রীদের প্রতি ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে ভাড়া ফাঁকি রোধ যেমন জরুরি, তেমনি পরিদর্শন ব্যবস্থাটি সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সার্বিক পর্যালোচনা শেষে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে কি না বা দলটি কবে নাগাদ পুনরায় তাদের মূল দায়িত্বে ফিরবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি এমটিএ কর্তৃপক্ষ।
রোবট নিয়োগ দাও, মানুষকে চাকরি থেকে বাদ দাও, তারপর আর পেছনে তাকানোর প্রয়োজন নেই: বিল গেটস
মিনেসোটায় সরকারের পক্ষ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ ট্রাম্পের
জর্জিয়ায় গভর্নর প্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমসকে সমর্থন জানাল ৪ মুসলিম সংগঠন
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছেন জ্যাক ভলকানি নামের এক যুবক। দোকান থেকে আংটি না কিনে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন নদীতে সোনা খুঁজেছেন তিনি। সেই সোনা দিয়েই তৈরি করেছেন প্রেমিকার জন্য বিশেষ একটি আংটি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে তৈরি আংটি দিয়ে প্রেমিকা জোয়ানকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২৬ অক্টোবর মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাঁদের এই ব্যতিক্রমী প্রেমের গল্প। কলোরাডোর হুইট রিজ শহরের বাসিন্দা জ্যাক ভলকানি দীর্ঘদিনের প্রেমিকা জোয়ানকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিতে দোকান থেকে আংটি কেনার পরিবর্তে তিনি এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন, যার সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে থাকবে। অনেক চিন্তাভাবনার পর তাঁর মাথায় আসে নিজের সংগ্রহ করা সোনা দিয়ে আংটি তৈরির ধারণা। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না, তা শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। তবু সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল নাইন নিউজকে জ্যাক জানান, আংটি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সোনা সংগ্রহ করতে তিনি কলোরাডোর একাধিক নদীতে যান। সেখানে পানির সঙ্গে মিশে থাকা বালু ও পাথর থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে ছোট ছোট সোনার কণা আলাদা করতে থাকেন। এভাবে দিনের পর দিন চলে তাঁর অনুসন্ধান। শুরুতে কাজটি কত দীর্ঘ সময় নিতে পারে, তা ভেবে তিনি কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলেন। কিন্তু সেই কঠিন চ্যালেঞ্জই তাঁকে আরও বেশি উৎসাহিত করে। জ্যাক বলেন, প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, এভাবে সোনা সংগ্রহ করতে হয়তো অনেক বছর লেগে যাবে। তবে প্রেমিকার জন্য নিজের হাতে বিশেষ কিছু তৈরির ইচ্ছা তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন নদীতে সোনা খোঁজার পর অবশেষে আংটি তৈরির মতো পর্যাপ্ত সোনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হন তিনি। এরপর সংগৃহীত সোনার কণাগুলো নিয়ে যান হুইট রিজের স্থানীয় স্বর্ণকার জ্যাক অ্যালেনের কাছে। তাঁকে অনুরোধ করেন, সেগুলো গলিয়ে একটি আংটি তৈরি করে দিতে। স্বর্ণকার জ্যাক অ্যালেন জানান, এ ধরনের অনুরোধ তাঁর কাছে একেবারেই নতুন ছিল। সাধারণত প্রস্তুত করা সোনা কিংবা অন্যান্য মূল্যবান ধাতু দিয়ে গয়না তৈরির কাজ করলেও নদী থেকে সংগ্রহ করা সোনার কণা দিয়ে আংটি তৈরির অভিজ্ঞতা আগে তাঁর ছিল না। তবে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের কথা শুনে তিনি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। পরে সংগৃহীত সোনা গলিয়ে বিশেষ ছাঁচের সাহায্যে একটি আংটি তৈরি করেন। দীর্ঘ পরিশ্রমে সংগ্রহ করা সোনা যখন সুন্দর একটি আংটিতে রূপ নেয়, তখন জ্যাকের আনন্দের সীমা ছিল না। আংটি তৈরির পুরো বিষয়টি প্রেমিকা জোয়ানের কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন জ্যাক। পরিকল্পনা অনুযায়ী একদিন তাঁকে নিয়ে পাহাড়ি পথে হাঁটতে বের হন। সেখানে হঠাৎ নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও দেখাতে শুরু করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, জ্যাক নদীতে নেমে সোনা সংগ্রহ করছেন। প্রথমে জোয়ান বুঝতে পারছিলেন না, এমন একটি ভিডিও তাঁকে কেন দেখানো হচ্ছে। কিন্তু ভিডিওটি কিছুটা এগোনোর পর তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর জন্য একটি বিশেষ আংটি তৈরির পুরো প্রক্রিয়াই সেখানে ধারণ করা হয়েছে। জোয়ান জানান, ভিডিও দেখার শুরুতে বিষয়টি তাঁর কাছে সাধারণ একটি ঘটনা মনে হয়েছিল। কিন্তু মাঝামাঝি সময়ে তিনি যখন বুঝতে পারেন, জ্যাক আসলে তাঁর জন্য নিজের হাতে সোনা সংগ্রহ করেছেন, তখন আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। আনন্দে তাঁর চোখে পানি চলে আসে। এরপর সেই আংটি দিয়ে জ্যাক তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পুরো মুহূর্তটি তাঁর জীবনের অন্যতম বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে জানান জোয়ান। প্রেমিকের এমন আন্তরিক প্রচেষ্টা তাঁকে আরও নিশ্চিত করেছে যে তিনি সঠিক মানুষটিকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এই গল্পের আরও একটি বিশেষ দিক রয়েছে। জ্যাক নদী থেকে এতটাই সোনা সংগ্রহ করেছিলেন যে প্রেমিকার আংটি তৈরির পরও কিছু সোনা অবশিষ্ট ছিল। সেই সোনা দিয়ে স্বর্ণকার জ্যাক অ্যালেন তাঁর জন্যও একটি বিয়ের আংটি তৈরি করেছেন। ফলে ভবিষ্যতে এই দম্পতির দুজনের আংটিই তৈরি হবে একইভাবে সংগ্রহ করা সোনা দিয়ে। জ্যাকের কাছে বিষয়টি শুধু অলংকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, দুজন আলাদা জায়গায় থাকলেও আংটি তাঁদের সম্পর্কের বন্ধনের কথা মনে করিয়ে দেবে। জ্যাক জানান, এত মাসের পরিশ্রমের পেছনে তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল প্রেমিকার বিশেষ দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলা। অন্য কাউকে চমকে দেওয়া কিংবা নিজের উদ্যোগের প্রচার করা তাঁর লক্ষ্য ছিল না। জোয়ানের মুখে আনন্দের হাসি দেখাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অন্যদিকে জোয়ানও জানিয়েছেন, আংটির আর্থিক মূল্যের চেয়ে সেটি তৈরির পেছনে জ্যাকের সময়, পরিশ্রম ও ভালোবাসা তাঁর কাছে অনেক বেশি মূল্যবান।
নিউইয়র্কে ৩৫.৭ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প, বন্যার ঝুঁকি কমাতে বড় উদ্যোগ নগর কর্তৃপক্ষের
৫০ হাজারের বেশি করদাতাকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার ফেরত দিচ্ছে আইআরএস, জেনে নিন বিস্তারিত
পেনসিলভানিয়ায় বন্ধুর ৬ সপ্তাহের শিশুকে বেবিসিট করতে গিয়ে হত্যা করেন পিএইচডি গবেষক
নিউইয়র্কে বসবাসের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভাড়াটিয়া ও বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখা পরিবারগুলো। শহরটিতে বাসাভাড়া নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, একটি মধ্যম দামের বাড়ি কিনতে মাসে যে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরটিতে মধ্যম দামের একটি বাড়ি কেনার আনুমানিক মাসিক ব্যয় ১০ হাজার ৭৩৭ ডলার। ভাড়া থাকার মধ্যম ব্যয়ের তুলনায় এটি মাসে ৬ হাজার ৯৫২ ডলার বেশি। বাড়ি কেনার এই হিসাবের মধ্যে বন্ধকী ঋণের কিস্তি, সম্পত্তির কর, বিমা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হিসাবটি করা হয়েছে বাড়ির দামের ১০ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ এবং ৩০ বছরের ঋণের অনুমান ধরে। প্রকৃত ব্যয় বাড়ির ধরন, ঋণের সুদের হার ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ার পরিমাণেও বড় পার্থক্য রয়েছে। ম্যানহাটনে মাসিক মধ্যম ভাড়া ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার, ব্রুকলিনে ৪ হাজার ১৯৭ ডলার, কুইন্সে ৩ হাজার ৭৪৪ ডলার এবং ব্রঙ্কসে ৩ হাজার ২৩৩ ডলার। ম্যানহাটনে আগের বছরের তুলনায় ভাড়া বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এসব পরিসংখ্যান দেখায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসের ব্যয় নির্ধারণে অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভাড়ার এই চাপের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশি প্রবাসী পরিবারগুলোর ওপরও। অনেক পরিবারকে বাসাভাড়ার পাশাপাশি খাবার, যাতায়াত, শিশুদের দেখাশোনা, স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলাতে হয়। মাসিক আয়ের বড় অংশ বাসাভাড়ায় চলে গেলে সঞ্চয় করা, দেশে স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠানো কিংবা ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য অর্থ জমা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী ও একক আয়ের পরিবারগুলোকে বাসা নির্বাচনের সময় আয়, কর্মস্থলের দূরত্ব এবং যাতায়াত ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। তুলনামূলক কম ভাড়ার এলাকায় বাসা পাওয়া গেলেও কর্মস্থলে যাতায়াতের খরচ ও সময় বেড়ে যেতে পারে। আবার কর্মস্থল বা সন্তানের বিদ্যালয়ের কাছাকাছি থাকতে চাইলে বেশি ভাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিবেদনে নিউইয়র্কে বাড়ির বিজ্ঞাপিত মধ্যম দাম প্রায় ১৪ লাখ ৯ হাজার ৭৯২ ডলার বলা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কম। তবে বাড়ির দাম কিছুটা কমলেও ঋণের সুদ, কর ও বিমার ব্যয়ের কারণে বাড়ির মালিক হওয়া সহজ হয়ে যায়নি। ঋণের সুদের হার ৭ শতাংশের ওপরে গেলে একই বাড়ির আনুমানিক মাসিক ব্যয় প্রায় ১১ হাজার ৮ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবাসন ব্যয় সামলাতে সম্ভাব্য ভাড়াটিয়াদের জন্য চুক্তির আগে মাসিক ভাড়া, জামানত, বিদ্যুৎ-গ্যাসের খরচ এবং যাতায়াত ব্যয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে অগ্রিম অর্থের পাশাপাশি ঋণের কিস্তি, সম্পত্তির কর, বিমা এবং জরুরি মেরামতের খরচও হিসাব করা প্রয়োজন।
নিউ জার্সিতে স্মরণসভায় গুলিবর্ষণ, নিহত ১, আহত ৩, আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা
জর্জিয়ায় প্রবাসীদের মিলনমেলা, বার্ষিক বনভোজনে থাকছে খাবার ও শিশুদের নানা আয়োজন, প্রবেশমূল্য নেই