- প্রচ্ছদ
- Topic
অ্যাপল
অ্যাপলের ডিজিটাল পেমেন্ট সেবায় সাময়িক প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বহু ব্যবহারকারী লেনদেন সমস্যায় পড়েছেন। বিশেষ করে অ্যাপল পে, অ্যাপল ক্যাশ ও ওয়ালেট-সংক্রান্ত সেবায় অর্থ পাঠানো, গ্রহণ এবং ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বিঘ্নের অভিযোগ উঠে আসে। বিভিন্ন ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সেবা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে জানান, লেনদেনের সময় "Unable to Connect to Wallet Services"সহ বিভিন্ন ত্রুটি বার্তা দেখা যাচ্ছিল। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তা অ্যাপল ক্যাশে যোগ হয়নি বা প্রাপকের কাছে পৌঁছেনি। অ্যাপলের সিস্টেম স্ট্যাটাস পেজেও সাময়িকভাবে স্বীকার করা হয় যে, কিছু ব্যবহারকারী অ্যাপল ক্যাশ সেবায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম নিউজউইক জানায়, বিভ্রাট চলাকালে অনেক ব্যবহারকারী দোকানে কেনাকাটা, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে অর্থ পাঠানো এবং ব্যাংক থেকে অর্থ স্থানান্তরের মতো কাজে সমস্যার সম্মুখীন হন। একই সময়ে ডাউনডিটেক্টরসহ বিভিন্ন সেবা পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মেও অভিযোগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অনলাইন আলোচনায় অনেক ব্যবহারকারী জানান, তারা অ্যাপলের গ্রাহকসেবার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি একটি বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা বলে জানানো হয় এবং প্রকৌশলীরা সমাধানে কাজ করছেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে কখন পুরোপুরি সেবা স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। এরপর ধীরে ধীরে সেবা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। বর্তমানে অ্যাপলের সর্বশেষ সিস্টেম স্ট্যাটাস অনুযায়ী অ্যাপল পে এবং সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ সেবা সচল রয়েছে।
ইলেকট্রনিক পণ্যের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির এই সময়ে গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে নতুন একটি দীর্ঘমেয়াদী 'লিজ' বা ভাড়ার কর্মসূচি চালু করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এর ফলে গ্রাহকদের এখন আর এককালীন বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে আইফোন বা ম্যাক কিনতে হবে না; বরং নির্দিষ্ট মেয়াদে সাশ্রয়ী ভাড়ায় এসব ডিভাইস ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন তারা। জনপ্রিয় পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম 'ক্লার্না'-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার 'অ্যাপল আপগ্রেড' নামের এই নতুন সেবাটির ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল স্টোর, অনলাইন এবং অ্যাপল স্টোর অ্যাপের মাধ্যমে এই যুগান্তকারী সুবিধা উপভোগ করা যাবে। এই কর্মসূচির আওতায় গ্রাহকরা আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ ১২ থেকে ২৪ মাসের জন্য লিজ নিতে পারবেন। অন্যদিকে, ম্যাক এবং আইপ্যাডের ক্ষেত্রে এই মেয়াদ হবে ২৪ থেকে ৩৬ মাস। লিজের জন্য নির্ধারিত পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সদ্য আসা আইফোন ১৭ সিরিজ, আইফোন এয়ার, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১১, অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৩, ম্যাকবুক এয়ার, ম্যাকবুক প্রো, আইম্যাক, ম্যাক স্টুডিওসহ আইপ্যাডের প্রিমিয়াম মডেলগুলো। তবে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের আইফোন ১৬, ম্যাকবুক নিও, বেজ আইপ্যাড এবং অ্যাপল ওয়াচ এসই-কে এই কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে। নতুন এই পরিকল্পনাটি অ্যাপলের পুরোনো 'আইফোন আপগ্রেড প্রোগ্রাম'-এর স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছে। অ্যাপলের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, আইফোন লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন মাসিক কিস্তির পরিমাণ শুরু হবে মাত্র ১৭ দশমিক ৯৯ ডলার থেকে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশনের বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমোর মতে, এই উদ্যোগের ফলে গ্রাহকরা অ্যাপল পণ্যকে বড় কোনো ক্রয়ের বদলে একটি সাবস্ক্রিপশন বা নিয়মিত সেবার অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ পাবেন। গত বছরের এক জরিপে দেখা গেছে, সাধারণ ব্যবহারকারীরা এখন প্রায় ২২ মাস পর্যন্ত একই ফোন ব্যবহার করছেন, যা ক্রেতাদের প্রতি বছর নতুন ফোন কেনার প্রবণতাকে অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। এদিকে, বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, ডাটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে মেমোরি চিপের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী প্রজন্মের আইফোনের দাম দেড় হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। তাছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে বাজারে অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন আসার গুঞ্জন রয়েছে। পণ্যের দাম অতিরিক্ত বাড়লে ক্রেতারা যেন ডিভাইস বদলানোর চক্র থেকে পিছিয়ে না আসেন, সেই দিকটি বিবেচনা করেই ঠিক মোক্ষম সময়ে এই লিজ কর্মসূচিটি হাতে নিয়েছে অ্যাপল।
প্রযুক্তি পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় গ্রাহকদের জন্য নতুন ধরনের লিজ বা দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার সুবিধা চালু করেছে অ্যাপল। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় গ্রাহকেরা এককালীন বড় অর্থ খরচ না করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আইফোন, ম্যাকসহ অ্যাপলের বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি মঙ্গলবার ‘অ্যাপল আপগ্রেড’ নামে নতুন এই সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ক্লার্নার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে চালু হওয়া এই সুবিধা শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল স্টোর, অনলাইন স্টোর এবং অ্যাপল স্টোর অ্যাপে পাওয়া যাবে। নতুন পরিকল্পনায় আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ ১২ অথবা ২৪ মাসের জন্য লিজ নেওয়া যাবে। অন্যদিকে ম্যাক ও আইপ্যাডের ক্ষেত্রে লিজের মেয়াদ হবে ২৪ থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, আইফোন লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম মাসিক কিস্তি শুরু হবে ১৭ দশমিক ৯৯ ডলার থেকে। এই কর্মসূচিতে আইফোন ১৭ সিরিজ, আইফোন এয়ার, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১১, অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৩, ম্যাকবুক এয়ার, ম্যাকবুক প্রো, আইম্যাক, ম্যাক স্টুডিও, আইপ্যাড এয়ার, আইপ্যাড প্রো এবং আইপ্যাড মিনি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তুলনামূলক কম দামের কিছু পণ্য যেমন আইফোন ১৬, ম্যাকবুক নিও, বেস আইপ্যাড এবং অ্যাপল ওয়াচ এসই এই লিজ সুবিধার আওতায় থাকছে না। অ্যাপলের নতুন এই পরিকল্পনা আগের ‘আইফোন আপগ্রেড প্রোগ্রাম’-এর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অ্যাপল পণ্যকে এককালীন বড় কেনাকাটার পরিবর্তে নিয়মিত সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়তে পারে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশনের বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা গ্রাহকদের জন্য প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহারের ধরন পরিবর্তন করতে পারে। অনেক ব্যবহারকারী এখন আগের তুলনায় বেশি সময় একই ফোন ব্যবহার করছেন। ফলে প্রতি বছর নতুন ডিভাইস কেনার প্রবণতা কমেছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ায় মেমোরি চিপের বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব ভবিষ্যতের আইফোনের দামের ওপর পড়তে পারে। টেক ইনসাইটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়ার্ডের মতে, ভবিষ্যতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ডলারের পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ ডলারের স্মার্টফোনের বাজার তৈরি হতে পারে। সেপ্টেম্বরে নতুন আইফোন উন্মোচনের আগে অ্যাপলের এই লিজ কর্মসূচি চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আগের মডেলগুলোর তুলনায় আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। দাম বাড়লে অনেক গ্রাহক নতুন ডিভাইস কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন। তাই গ্রাহকদের নিয়মিত নতুন পণ্য ব্যবহারের সুযোগ ধরে রাখতে অ্যাপলের লিজ পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের স্মার্টফোন আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে জোর আলোচনা চলছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও সরবরাহ চেইন-ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, নতুন মডেলে ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির এ২০ চিপ, আরও ছোট ডাইনামিক আইল্যান্ড, ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা, বড় ব্যাটারি এবং নতুন লঞ্চ কৌশল দেখা যেতে পারে। তবে এসব তথ্য এখনো অ্যাপলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের একটি হতে পারে নতুন এ২০ চিপ। ধারণা করা হচ্ছে, টিএসএমসির ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এই প্রসেসর আগের তুলনায় আরও দ্রুতগতির হবে এবং বিদ্যুৎ খরচও কমাবে। পাশাপাশি সিপিইউ, জিপিইউ, নিউরাল ইঞ্জিন ও মেমোরির সমন্বিত কার্যক্ষমতাও বাড়বে। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ভিডিও দেখা, ছবি তোলা কিংবা দৈনন্দিন অন্যান্য কাজে বর্তমান প্রজন্মের আইফোনও যথেষ্ট দ্রুত। ফলে অধিকাংশ ব্যবহারকারী নতুন চিপের বাড়তি সক্ষমতা সব সময় স্পষ্টভাবে অনুভব নাও করতে পারেন। ক্যামেরা বিভাগেও বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। গুঞ্জন অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে প্রথমবারের মতো ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে। তিনটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা পরিবেশের আলো অনুযায়ী নিজে থেকেই অ্যাপারচার পরিবর্তন করতে পারবে। এর ফলে কম আলো ও অতিরিক্ত উজ্জ্বল পরিবেশ, উভয় ক্ষেত্রেই আরও উন্নত ছবি তোলা সম্ভব হতে পারে। যদিও সাধারণ ব্যবহারকারীদের ছবি তোলার অভ্যাসে খুব বড় পরিবর্তন আসবে না, তবে ছবির মানে উন্নতি দেখা যেতে পারে। ডিজাইনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অ্যাপল ফেস আইডির কিছু সেন্সর ডিসপ্লের নিচে স্থানান্তর করতে পারে। এতে ডাইনামিক আইল্যান্ড আগের তুলনায় ছোট হবে এবং পুরো ডিসপ্লে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। ব্যাটারির ক্ষেত্রেও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে প্রায় ৫,২০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি ব্যবহার করা হতে পারে, যা আগের মডেলের তুলনায় বড়। নতুন প্রসেসর ও উন্নত মডেমের কারণে চার্জ ব্যাকআপও বাড়তে পারে। তবে বড় ব্যাটারির কারণে ফোনটি কিছুটা মোটা ও ভারী হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। এবার লঞ্চ কৌশলেও পরিবর্তন আনতে পারে অ্যাপল। একাধিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকের দাবি, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রো মডেল ও সম্ভাব্য ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করা হতে পারে। এরপর ২০২৭ সালের বসন্তে সাধারণ আইফোন ১৮, আইফোন এয়ার ২ এবং আইফোন ১৮ই বাজারে আনা হতে পারে। যদিও এ বিষয়েও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা গেলেও সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন হতে পারে ছোট ডাইনামিক আইল্যান্ড, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, কম আলোয় উন্নত ছবি তোলার সুবিধা এবং দীর্ঘ সময় একই গতিতে ফোন ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা। অর্থাৎ, নতুন প্রযুক্তির চেয়ে প্রতিদিনের ব্যবহারকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও আরামদায়ক করে তোলাই আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্বজুড়ে অ্যাপলের আইফোন ১৭ প্রোর দাম খুব বেশি পরিবর্তিত না হলেও, সেটি কিনতে একজন সাধারণ মানুষকে কত দিন কাজ করতে হয় সেই হিসাবই তুলে ধরছে বৈশ্বিক আয়ের বৈষম্যের এক ভিন্ন বাস্তবতা। নতুন ‘আইফোন অ্যাফোর্ডেবিলিটি ইনডেক্স’ অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের একজন কর্মীর যেখানে একটি আইফোন ১৭ প্রো কিনতে মাত্র ৩ দিনের আয় যথেষ্ট, সেখানে ভারতের একজন কর্মীকে কাজ করতে হয় ১৬০ দিন। আর মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের ক্ষেত্রে সেই সময় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫৪০ দিন। সূচকটি তৈরি করা হয়েছে আইফোন ১৭ প্রো (২৫৬ জিবি) মডেলের দাম এবং বিভিন্ন দেশের গড় দৈনিক আয়ের তুলনা করে। অর্থাৎ, একজন গড় আয়ের কর্মীকে ফোনটি কিনতে কত দিনের পূর্ণ কর্মদিবসের আয় প্রয়োজন সেই হিসাবই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গ। এই দুই দেশের কর্মীরা মাত্র ৩ দিনের আয়ে ফোনটি কিনতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়েতে প্রয়োজন হয় ৪ দিনের আয়। অন্যদিকে, ফিলিপাইনে ১০১ দিন, ভিয়েতনামে ৯৯ দিন, তুরস্কে ৮৯ দিন এবং ব্রাজিলে ৭৭ দিনের সমপরিমাণ আয় প্রয়োজন হয় একই ফোন কিনতে। ভারতের অবস্থান সবচেয়ে নিচের দিকের দেশগুলোর মধ্যে, যেখানে প্রয়োজন ১৬০ দিনের আয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পার্থক্যের মূল কারণ শুধু ফোনের দাম নয়; বরং প্রতিটি দেশের গড় আয়, ক্রয়ক্ষমতা, করব্যবস্থা এবং স্থানীয় বাজারের মূল্য কাঠামো। ফলে একই পণ্যের দাম প্রায় কাছাকাছি হলেও মানুষের কাছে সেটি কতটা নাগালের মধ্যে থাকবে, তা নির্ধারণ করে তাদের আয় ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এই ধরনের সূচক কেবল একটি স্মার্টফোন কেনার সক্ষমতা নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জীবনমান, মজুরি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি সহজ ও বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে। তাই অনেকের কাছে আইফোন এখন শুধু প্রযুক্তিপণ্য নয়, বরং বৈশ্বিক আয়ের বৈষম্য পরিমাপের এক প্রতীকী মানদণ্ডে পরিণত হয়েছে।
আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স হতে পারে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি আইফোন, দাম বাড়ার ইঙ্গিত। অ্যাপলের আগামী প্রজন্মের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স হতে পারে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসের সবচেয়ে দামি নন-ফোল্ডিং আইফোন। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের দাবি, অত্যাধুনিক চিপ, মেমোরির বাড়তি খরচ এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন মডেলের দাম আগের প্রজন্মের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে প্রযুক্তিবিষয়ক টিপস্টার ‘স্মার্ট পিকাচু’-এর প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, চীনের বাজারে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের প্রাথমিক মূল্য হতে পারে ১১ হাজার ইউয়ান। এটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ইউয়ান বেশি। তবে অ্যাপল এখনো আইফোন ১৮ সিরিজের মূল্য বা স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন মডেলে ব্যবহার করা হতে পারে অ্যাপলের এ২০ প্রো (A20 Pro) চিপ, যা টিএসএমসির ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি হবে। এই নতুন উৎপাদন প্রযুক্তির কারণে প্রতি ওয়েফারের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে চিপ উৎপাদনের খরচ ৩ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির তুলনায় অনেক বেশি, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত স্মার্টফোনের দামেও পড়তে পারে। শুধু প্রসেসরই নয়, বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের দামও সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত বেড়েছে। ফলে একটি প্রিমিয়াম স্মার্টফোন তৈরির মোট উৎপাদন ব্যয়ের বড় অংশ এখন মেমোরি খাতেই ব্যয় হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যয় বৃদ্ধির চাপ নির্মাতাদের জন্য মূল্য সমন্বয় করা প্রায় অনিবার্য করে তুলছে। চলতি বছরে বেশ কয়েকটি স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের দাম বাড়িয়েছে। যদিও অ্যাপল আইফোন ১৭ সিরিজের ক্ষেত্রে আগের মূল্যই ধরে রেখেছিল, তবে উৎপাদন ব্যয় অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকলে আইফোন ১৮ সিরিজের ক্ষেত্রে মূল্য বৃদ্ধি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব তথ্য এখনো বিভিন্ন প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও টিপস্টারদের দাবি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলভিত্তিক তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন আইফোন উন্মোচন না করা পর্যন্ত এর চূড়ান্ত মূল্য, হার্ডওয়্যার এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসতে পারে।
বিশ্ববাজারে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের তীব্র সংকট এবং উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নিজেদের মূল পণ্যগুলোর দাম শত শত ডলার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট। গত বৃহস্পতিবার অ্যাপল তাদের নির্দিষ্ট কিছু ম্যাকবুক এবং আইপ্যাডের দাম সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানায়। এর কিছু সময় পরেই মাইক্রোসফট ঘোষণা করে, আগামী ১ আগস্ট থেকে তাদের জনপ্রিয় এক্সবক্স (Xbox) গেমিং কনসোলের দামও বৃদ্ধি পাবে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ডেটা সেন্টারের ব্যাপক বিস্তারের কারণে চিপের এই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। অ্যাপল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিপ ও যন্ত্রাংশের দাম এত কম সময়ে এতটা বাড়তে তারা আগে কখনো দেখেনি। এতদিন গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ না দিলেও পরিস্থিতি এখন আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট 'দ্য ভার্জ'-এর তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপলের বাজেট-বান্ধব ল্যাপটপ 'ম্যাকবুক নিও'র দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬৯৯ ডলার করা হয়েছে। এছাড়া ৫১২ জিবি ম্যাকবুক এয়ারের দাম ১,০৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১,২৯৯ ডলার এবং ১ টেরাবাইট ম্যাকবুক প্রোর দাম ১,৬৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১,৯৯৯ ডলার করা হয়েছে। তবে এই দফায় আইফোনের দাম বাড়ানো না হলেও বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, খুব শীঘ্রই আইফোনের দাম বাড়ার ঘোষণাও আসবে। দাম বাড়ার এই খবরের পর অ্যাপলের শেয়ারের দর প্রায় ৫.৬ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ব্যবহৃত মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের দাম ইতিমধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে আরও দ্বিগুণ হতে পারে। এই সংকটের কারণে আগামী ১ আগস্ট থেকে ৫১২ জিবি স্টোরেজের এক্সবক্স কনসোলের দাম ১০০ ডলার বাড়িয়ে প্রায় ৫০০ ডলার করা হচ্ছে। এছাড়া ১ টেরাবাইট স্টোরেজের এক্সবক্সের দাম বাড়ছে ১৫০ ডলার। গত বছরও মাইক্রোসফট তাদের এক্সবক্সের দাম ২০ থেকে ৭০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন (IDC) জানিয়েছে, চিপের এই বিশ্বব্যাপী সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। করোনা মহামারীর সময় কারখানা বন্ধ থাকায় চিপের যে সংকট শুরু হয়েছিল, তা এখন এআই প্রযুক্তির বৈপ্লবিক চাহিদার কারণে চরম আকার ধারণ করেছে। গত ১৭ জুন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী (CEO) টিম কুক বলেন, "আমি গত ৪০ বছরে প্রযুক্তির বাজারে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর কখনো দেখিনি।"
প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ডিজাইন ও তৈরির জন্য ইনটেল কর্পোরেশনের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণার পরপরই বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিশ্ব শেয়ার বাজারে ইনটেল কর্পোরেশনের শেয়ারের দাম হু হু করে রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে শেয়ার বাজার খোলার পরপরই ইনটেলের প্রতিটি শেয়ারের দাম ১২ দশমিক ৭২ ডলার বা ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৩৩ দশমিক ৮২ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। এই চুক্তি বা অংশীদারিত্বের বিষয়ে অ্যাপল তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে ইনটেল কর্পোরেশন জানিয়েছে যে তারা অ্যাপলের সাথে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি নিয়ে এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করবে না। ইনটেলকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পোস্টটি এমন এক সময়ে এলো যার ঠিক ৯ মাস আগে গত বছরের আগস্টে তিনি একটি চুক্তি করিয়েছিলেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইনটেলের ১০ শতাংশ মালিকানা বা শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। সে সময় সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল এবং নিরপেক্ষ থিংক ট্যাংক সংস্থা ক্যাটো ইনস্টিটিউট বিষয়টিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নজিরবিহীন মালিকানা প্রতিষ্ঠা হিসেবে বর্ণনা করেছিল। তবে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরকারের সেই বিনিয়োগের বিশাল সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ইনটেলের বাজারমূল্য গত আগস্টের ১০০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, মাত্র ৯ মাসে কোম্পানিটির মূল্য প্রায় আধা ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বেড়েছে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা ১০ শতাংশ শেয়ারের মূল্য এখন ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। শেয়ার বাজারের তথ্য অনুযায়ী, এই ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরকারই এখন ইনটেলের একক বৃহত্তম অংশীদার। এর পরেই রয়েছে ভ্যানগার্ড এবং ব্ল্যাকরকের মতো বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, যাদের প্রত্যেকের কাছে ইনটেলের প্রায় ৬ শতাংশ করে শেয়ার রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইনটেলের সাথে এই চুক্তি অ্যাপলকে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা আরও বহুমুখী করতে সাহায্য করবে। এর ফলে চিপ সরবরাহের জন্য অ্যাপলকে তাদের প্রধান বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি' বা টিএসএমসি-র ওপর আগের চেয়ে অনেক কম নির্ভর করতে হবে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে অ্যাপলের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনবে।
প্রযুক্তি বিশ্বের দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাপল এবং গুগল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সর্বোচ্চ আদালতে বড় ধরনের আইনি পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। কয়েক বছর ধরে চলা ট্যাক্স ফাঁকি এবং একচেটিয়া বাজার দখলের অভিযোগে ইউরোপীয় আদালত অ্যাপলকে ১৩ বিলিয়ন ইউরো এবং গুগলকে ২.৪ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। এই রায়টি সিলিকন ভ্যালির টেক জায়ান্টদের ওপর ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের কঠোর অবস্থানের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, অ্যাপল আয়ারল্যান্ডে ব্যবসা করার সময় অবৈধভাবে কর সুবিধা গ্রহণ করেছে, যা ইইউ-এর প্রতিযোগিতামূলক বাজারের নীতিমালার পরিপন্থী। অন্যদিকে, গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তারা তাদের নিজস্ব শপিং সার্ভিসকে সার্চ ইঞ্জিনে অন্যায্যভাবে প্রাধান্য দিয়ে অন্যান্য ছোট প্রতিযোগীদের ব্যবসায়িক ক্ষতি করেছে। যদিও উভয় কোম্পানিই এই রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াই চালিয়েছিল, তবে ইউরোপীয় আদালতের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় ধরণের আর্থিক ও ভাবমূর্তি সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি নজির হয়ে থাকবে। আয়ারল্যান্ড সরকার ইতিমধ্যে অ্যাপলের কাছ থেকে এই বিশাল অংকের কর আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, গুগল এই রায় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও ইইউ-এর আইন মেনে চলার অঙ্গীকার করেছে। এই ঘটনার পর ধারণা করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ইউরোপ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর ফাঁকি ও প্রতিযোগিবিরোধী আচরণের জন্য নজরদারি এবং শাস্তির মাত্রা আরও বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।