জর্জিয়ায় অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হলো ৬ বছরের শিশুর
প্রথম শ্রেণিতে ওঠার আনন্দ নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল ছয় বছরের ছোট্ট শিশু এমারসন 'এমি' ব্রিজার্সের। কিন্তু একটি সাধারণ টনসিল অপারেশনের ঠিক আগেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় স্কুল ও কমিউনিটিতে। বার্টো কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, এমির টনসিল সার্জারি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর করা সম্ভব হয়নি।
ঠিক কী কারণে অপারেশনের আগেই শিশুটির মৃত্যু হলো, তা নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। করোনার জোয়েল গায়টন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে এমিকে কী ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে তারা মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জর্জিয়া ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (জিবিআই) ময়নাতদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রতি ইউহার্লি এলিমেন্টারি স্কুল থেকে কিন্ডারগার্টেন শেষ করে প্রথম শ্রেণিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল এমি। স্কুল কর্তৃপক্ষের এক আবেগঘন শোকবার্তায় বলা হয়, "এমি ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা, তার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হবে।" অন্যদের প্রতি যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণের কারণে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকা মিসেস রোজ ভালোবেসে তার নাম দিয়েছিলেন 'লিটল মামা'। স্কুলের ওপেন হাউস অনুষ্ঠানের জন্য সে গোলাপের থিমযুক্ত একটি বিশেষ পোশাকও পছন্দ করে রেখেছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের আক্ষেপ, "নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ওর শূন্য আসন এবং না পরা পোশাকটির কথা ভাবাই আমাদের জন্য চরম যন্ত্রণাদায়ক।"
এমির পরিবারের সহায়তায় খোলা একটি 'গোফান্ডমি' ক্যাম্পেইনের সংগঠক হিদার স্মিথ জানান, মঙ্গলবার শিশুটির শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় একটি ফিউনারেল হোম শেষকৃত্যের সব খরচ বহনের ঘোষণা দিয়েছে। ছোট্ট এমিকে স্মরণ করতে একটি বিশেষ মোটরসাইকেল রাইডের আয়োজন করা হবে, যেখানে তার প্রিয় রঙের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই গোলাপি রঙের পোশাক পরে অংশগ্রহণ করবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ইসরায়েলের স্বার্থের অনুগত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৪০ বছরের অন্য যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্যে গিয়ে ভিন্ন পথে চলার বেশি ইচ্ছা দেখিয়েছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ‘অল-ইন’ পডকাস্টের আয়োজিত এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন ভ্যান্স। সেখানে তিনি বলেন, সামরিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তবে দুই দেশের মধ্যে সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প মনে করলে যে মার্কিন জনগণের স্বার্থ এবং ইসরায়েল সরকারের স্বার্থ এক নয়, সে ক্ষেত্রে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ভিন্ন অবস্থান নিতে প্রস্তুত থাকেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ট্রাম্প এমন অবস্থান নিতে পারেন যেখানে তিনি নেতানিয়াহুকে ভালো অংশীদার হিসেবে স্বীকার করেও কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তার সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ করেন। ভ্যান্স আরও বলেন, গত ৪০ বছরের অন্য প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ট্রাম্পই নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রয়োজন হলে আলাদা পথে যাওয়ার বিষয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কোনো বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান সঠিক মনে হলেও মার্কিন জনগণের স্বার্থ ভিন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভ্যান্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে মার্কিন স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালনা করাই বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট নীতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কি না, সেই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিলে মার্কিন জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব। একই যুক্তি তিনি ন্যাটোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেন। ভ্যান্স বলেন, ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইউরোপবিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি ন্যাটোর অনুগত হবে। তিনি একই প্রসঙ্গে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিও ইসরায়েল রাষ্ট্রের অনুগত হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করা এবং মতপার্থক্য থাকলে তা বজায় রাখার কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের স্বার্থ অনুসরণ করতে হবে। ভ্যান্সের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোচনা চলছে। পডকাস্টের আলোচনায় ভ্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। আলোচনায় ভ্যান্স ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করলেও একই সঙ্গে দুই দেশের স্বার্থ সব সময় এক হবে না বলে স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্যে মার্কিন স্বার্থকে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। ভ্যান্সের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি ট্রাম্পের অবস্থানকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে মতপার্থক্যের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে এটি ভ্যান্সের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক বক্তব্য; এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলবিষয়ক কোনো নতুন আনুষ্ঠানিক নীতি ঘোষণার সঙ্গে এক করে দেখা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি ট্রাকচালকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার, ২ লাখের সিডিএল বাতিলের ঝুঁকি
তারেক রহমানকে ঘিরে নিউইয়র্কে দলীয় মতবিরোধ, সংবর্ধনা নিয়ে টানাপোড়েন; ক্যালিফোর্নিয়া সফরও বাতিল
ফেসবুকে পানির অভিযোগ করায় মাকে গ্রেপ্তার, ভেঙে দেওয়া হচ্ছে টেক্সাসের সেই পুলিশ বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা জোরদার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কয়েকজন ননসিটিজেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা কিংবা মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবি করার অভিযোগে ফেডারেল মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে গ্রিন কার্ডধারী এক ব্যক্তিও রয়েছেন। সেপ্টেম্বর ১৫ তারিখে টেক্সাসের নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, ছয়জনকে ১০ সেপ্টেম্বর এবং আরও একজনকে ১১ সেপ্টেম্বর অবৈধ ভোট বা মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ননসিটিজেনদের ভোট দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ আগস্ট ৩০ বছর বয়সী এক হন্ডুরাসের নাগরিক ও গ্রিন কার্ডধারীকে ভোটার হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে নিবন্ধনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ফরমে নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে প্রসিকিউটরদের নথিতে বলা হয়েছে, তিনি শেষ পর্যন্ত কোনো নির্বাচনে ভোট দেননি। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবি ও প্রতারণামূলক ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসেও একটি মামলায় একজন চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে অন্য এক গ্রিন কার্ডধারী চীনা নাগরিকের পরিচয় ব্যবহার করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যালট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি গত ৩ সেপ্টেম্বর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। কানসাসে ১০ সেপ্টেম্বর আরেক পেরুভিয়ান নাগরিকের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন জেনেও নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন এবং প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নির্বাচনে ব্যালট দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য মার্কিন নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক। গ্রিন কার্ডধারীরা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হলেও তারা মার্কিন নাগরিক নন। ফলে তারা ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, কোনো গ্রিন কার্ডধারী ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিলে বা শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত কোনো স্টেট বা স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিলে তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসেও গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। তবে স্থানীয় নির্বাচনের নিয়ম সব জায়গায় এক নয়। কিছু স্থানীয় এলাকায় আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্থানীয় নির্বাচনে ননসিটিজেনদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই কোনো গ্রিন কার্ডধারী ভোট দিয়েছেন কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি কোন ধরনের নির্বাচনে ভোট দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় আইনে কারা ভোট দিতে পারেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মামলাগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী আইন প্রয়োগ জোরদারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। ২০২৬ সালের মে মাসে বিচার বিভাগের অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেল একটি মতামতে জানায়, ননসিটিজেনদের বেআইনি ভোট শনাক্ত করার প্রচেষ্টায় স্টেটভিত্তিক ভোটার তালিকা সংগ্রহ ও তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে শেয়ার করার আইনি কর্তৃত্ব বিচার বিভাগের রয়েছে। তবে এসব মামলার সব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফেডারেল প্রসিকিউশনগুলোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র বা ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট কেবল অভিযোগের বিবরণ দেয় এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনের চোখে নির্দোষ।
ইরান যুদ্ধের ক্ষমতা কমাতে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৭ রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট
কস্টকোতে মোটর অয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ, ক্রেতা কতটুকু তেল কিনবেন, তা নির্ধারণ করবে কর্তৃপক্ষ
সিজারিয়ান সন্তান জন্মের ১০ দিন পর নবজাতককে কোলে নিয়েই গ্র্যাজুয়েশনে মা
লাস ভেগাসের এক পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে নেভাদা ও ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে কয়েক মাস ধরে হাজার হাজার ডলারের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দম্পতি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে দামী পণ্য ও গিফট কার্ড কেনার পর সেগুলো চুরি হয়েছে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে লেনদেন বাতিলের আবেদন করতেন। অভিযোগের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার নিউপোর্ট বিচে প্রায় ৫ হাজার ডলারের একটি গিফট কার্ড কেনার ঘটনাও রয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম আন্তোনিও শ্যাভেজ, বয়স ২৮ বছর। তাঁর স্ত্রী ক্লদিয়া গুজম্যান-মারকেজের বয়স ৩০ বছর। লাস ভেগাস মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা শ্যাভেজ ২০২০ সাল থেকে বিভাগটিতে কর্মরত। অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে বেতন ছাড়া সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালতের নথি ও তদন্তকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ মে থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত কথিত অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটে। তদন্তকারীদের দাবি, দম্পতি নিজেদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে দামি পণ্য ও গিফট কার্ড কিনতেন। পরে কার্ড বা ওয়ালেট হারিয়ে বা চুরি হয়েছে বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির কাছে ওই লেনদেন নিয়ে আপত্তি জানাতেন। এতে পণ্য নিজেদের কাছে রেখেই অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করা হতো বলে অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ মে সাউথ লাস ভেগাস বুলেভার্ডের টাউন স্কয়ার কনসিয়ার্জ থেকে দম্পতি ১৩ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের গিফট কার্ড কেনেন। পরে তাঁরা ক্যাপিটাল ওয়ান ও আমেরিকান এক্সপ্রেসের কাছে ওই লেনদেন নিয়ে অভিযোগ করেন। শ্যাভেজ একটি অ্যাপল স্টোরে ১ হাজার ২০০ ডলারের বেশি মূল্যের কেনাকাটা নিয়েও আপত্তি জানান এবং তাঁর ওয়ালেট হারিয়ে যাওয়ার দাবি করেন। একই সময়ে গুজম্যান-মারকেজের বিরুদ্ধেও একাধিক দামী কেনাকাটার পর লেনদেন নিয়ে আপত্তি জানানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, দুটি লুই ভুইটন থেকে করা কেনাকাটার মূল্যই ছিল ১১ হাজার ডলারের বেশি। কথিত অনিয়মের ঘটনা নেভাদা ছাড়িয়ে ক্যালিফোর্নিয়াতেও পৌঁছায়। নিউপোর্ট বিচের ফ্যাশন আইল্যান্ডে প্রায় ৫ হাজার ডলারের একটি গিফট কার্ড কেনার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ওই গিফট কার্ড ব্যবহার করে লাস ভেগাসের একটি গাড়ির দোকান ও আরিতজিয়া স্টোর থেকে কেনাকাটা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। তদন্তকারীদের অভিযোগ, শ্যাভেজ নিজের কার্ড চুরি যাওয়ার দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হেন্ডারসন পুলিশ ডিপার্টমেন্টে একটি ভুল তথ্যসম্বলিত রিপোর্টও করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, তদন্তকারীদের কাছে শ্যাভেজ তাঁর স্ত্রী এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা তৃতীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে কথিত আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তাঁর আইনজীবী শ্যাভেজের নির্দোষ থাকার সাংবিধানিক অধিকার এবং তাঁর আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ১০ সেপ্টেম্বর লাস ভেগাসের আদালতে শ্যাভেজ হাজির হলে প্রসিকিউশন তাঁর জন্য ১ লাখ ডলার নগদ জামিন এবং গৃহবন্দিত্বের আবেদন করে। তবে বিচারক রেবেকা স্যাক্স সেই আবেদন নাকচ করেন। শ্যাভেজের আগের কোনো অপরাধের ইতিহাস না থাকা, স্থানীয়ভাবে তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এবং অভিযোগগুলো সহিংস ধরনের না হওয়াকে বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাঁকে নগদ জামিন ছাড়াই মুক্তির নির্দেশ দেন। শ্যাভেজ ও তাঁর স্ত্রী দুজনকেই ইলেকট্রনিক পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে। দম্পতির বিরুদ্ধে ২৫ হাজার ডলারের বেশি কিন্তু ১ লাখ ডলারের কম মূল্যের সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশের অভিযোগ, সম্পদ আত্মসাৎ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশের বিষয়ে যোগসাজশ এবং ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী শ্যাভেজ ও তাঁর স্ত্রীকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে চরম সংকট, কমছে সুযোগ বাড়ছে প্রতিযোগিতা
এনগেজমেন্টের এক বছরের মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের