আমেরিকা

শতকোটি ডলারের শুল্ক ফেরত পেল অ্যাপল, কিন্তু গ্রাহকদের জন্য নেই মূল্যছাড়ের ইঙ্গিত

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ১৮:২
শতকোটি ডলারের শুল্ক ফেরত পেল অ্যাপল, কিন্তু গ্রাহকদের জন্য নেই মূল্যছাড়ের ইঙ্গিত
শতকোটি ডলারের শুল্ক ফেরত পেল অ্যাপল, কিন্তু গ্রাহকদের জন্য নেই মূল্যছাড়ের ইঙ্গিত

সম্প্রতি বাতিল হওয়া একটি শুল্ক নীতি থেকে শতকোটি ডলার ফেরত পেয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। তবে কোম্পানিটি অপ্রত্যাশিতভাবে বিপুল এই অর্থ লাভ করলেও, এর কোনো সুবিধা সাধারণ গ্রাহকদের পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অ্যাপলের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোম্পানিটি ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে।

 

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক একে তাদের ‘সর্বকালের সেরা জুন প্রান্তিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে শেষ হওয়া প্রান্তিকে অ্যাপলের নিট বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে এবং ত্রৈমাসিক নিট আয় বেড়ে ২৯.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২৯ শতাংশ বেড়ে ২.০২ ডলার হয়েছে, যার মধ্যে শুল্ক ফেরত বাবদ ০.১১ ডলারের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।

 

গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বেশিরভাগ শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালত জানায়, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক প্রয়োগের মাধ্যমে এই শুল্কগুলো আরোপ করা হয়েছিল।

 

কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার আমদানিকারক এই বাতিল হওয়া শুল্ক বাবদ প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিলেন, যা এখন সরকারকে ফেরত দিতে হচ্ছে। জুন মাসের শেষ নাগাদ ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি শুল্ক ফেরতের অনুমোদন দেওয়া হলেও আইনি জটিলতার কারণে এর একটি বড় অংশ এখনো আটকে আছে। সিএনবিসি-এর তথ্যমতে, ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বাবদ অ্যাপল প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল। অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানের মতো অ্যাপল সেসময় পণ্যের দাম বাড়ায়নি, বরং তারা লবিংয়ের মাধ্যমে ছাড় পাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থা বহুমুখী করা এবং খুচরা মূল্য না বাড়িয়ে নিজেদের মুনাফার হার কিছুটা কমানোর কৌশল নিয়েছিল।

 

শুল্ক ফেরত পেতে অন্য অনেক বড় কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে মামলা করলেও, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী শুরু থেকেই প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলেছিলেন। তবে শুল্ক ফেরত পেলেও তারা পণ্যের দাম কমিয়ে গ্রাহকদের সুবিধা দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। গত এপ্রিলে এবং বৃহস্পতিবারের আয়ের হিসাবে টিম কুক পরিষ্কার জানিয়েছেন, ফেরত পাওয়া শুল্কের পুরো অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন এবং উন্নত উৎপাদন খাতে পুনরায় বিনিয়োগ করা হবে। এটি মূলত তাদের চার বছর মেয়াদি ৬০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ কৌশলের একটি অংশ। অথচ কস্টকো, ইউপিএস এবং ফেডেক্স-এর মতো অন্যান্য কোম্পানিগুলো তাদের শুল্ক ফেরতের একটি অংশ গ্রাহকদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যারা মূলত পণ্যের বর্ধিত মূল্য হিসেবে এই শুল্কের বোঝা বহন করেছিলেন। ওয়ালমার্টও তাদের ফেরত পাওয়া অর্থ পণ্যের দাম কমানোর মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে ব্যবহার করার ঘোষণা দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মেডিকেয়ার পার্ট ডি ভর্তুকি বন্ধের ঘোষণা, বাড়তে পারে মাসিক প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচ
মেডিকেয়ার পার্ট ডি ভর্তুকি বন্ধের ঘোষণা, বাড়তে পারে মাসিক প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিকদের প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বীমা ভর্তুকি কর্মসূচি বাতিল করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর প্রশাসক মেহমেত ওজ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির সুবিধা মূলত কর্পোরেট বীমা কোম্পানিগুলো ভোগ করছে। 'মেডিকেয়ার পার্ট ডি' নামের এই কর্মসূচিটি মূলত সরকারি স্বাস্থ্য বীমার একটি অংশ, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক কোটি প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নাগরিক ওষুধের সুবিধা পেয়ে থাকেন।   ট্রাম্প প্রশাসন গত মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে যে, চলতি বছরের শেষেই এই ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী ২০২৭ সাল থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং আসন্ন শরতেই গ্রাহকদের নতুন খরচের হিসাব জানিয়ে দেওয়া হবে।   প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মতে, এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় অর্ধেক গ্রাহকের ওষুধের দাম ও মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্য নীতি বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা কেএফএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকার বীমা কোম্পানিগুলোকে শত শত কোটি ডলার ভর্তুকি দেয়, যাতে জনপ্রতি ওষুধের প্রিমিয়াম গড়ে ৩৬ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এই ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলে অনেকের ক্ষেত্রেই মাসিক প্রিমিয়াম ২০ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে যোগ্য প্রবীণরা ওজন কমানোর জন্য মাসে মাত্র ৫০ ডলারে জিএলপি-১ (GLP-1) ওষুধ পাওয়ার সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবেন।   অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (এসিএ)-এর ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান খরচ যখন মার্কিন ভোটারদের কাছে একটি বড় ইস্যু, ঠিক তখনই এই সিদ্ধান্ত সামনে এল। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাইডেন প্রশাসনের স্বাক্ষরিত 'ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট'-এর তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেছেন যে, এর মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলোকে আর্থিকভাবে অন্যায্য সুবিধা দেওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত আমেরিকানদের প্রিমিয়ামের বোঝাই ভারী হয়েছে। অন্যদিকে, ওই সময় বাইডেন প্রশাসন দাবি করেছিল যে এই আইনের ফলেই সরকার সবচেয়ে দামি কিছু ওষুধের দাম নিয়ে কোম্পানিগুলোর সাথে দরকষাকষির সুযোগ পেয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রথম প্রকাশিত এই খবরের পর স্বাস্থ্য খাতে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।   তবে সিএমএস প্রশাসক মেহমেত ওজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে লিখেছেন যে, তারা বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করছেন বলে বীমা কোম্পানিগুলোকে আর আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, বেশিরভাগ মেডিকেয়ার গ্রাহকের প্রিমিয়াম ১০ ডলারেরও কম বাড়বে এবং অনেকে উল্টো কম খরচে সেবা পাবেন। প্রবীণদের জন্য মাসে ৫০ ডলারে জিএলপি-১ ওষুধ নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য দেশের সমমূল্যে মার্কিনিদের ওষুধ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে প্রশাসন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসনের দাবি, প্রায় অর্ধেক গ্রাহক ১০ ডলারেরও কম প্রিমিয়াম বৃদ্ধি বা প্রিমিয়াম হ্রাসের সুবিধা পাবেন এবং বেশিরভাগের জন্যই ১০ ডলার বা তার কম মূল্যের প্ল্যান উপলব্ধ থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ১৮:৫০
নিউ জার্সিতে ১১ বছরের বোনকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল ১০ বছরের ভাই, দুই দিন পর মিলল মরদেহ I ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউ জার্সিতে ১১ বছরের বোনকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে গেল ১০ বছরের ভাই, দুই দিন পর মিলল মরদেহ

ড. ফজলুর রহমান খান: যার উদ্ভাবনে বদলে গেছে আমেরিকা সহ বিশ্বের সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ইতিহাস

বাংলাদেশের গর্ব: যার উদ্ভাবনে বদলে গেছে আমেরিকা সহ বিশ্বের সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ইতিহাস

শতকোটি ডলারের শুল্ক ফেরত পেল অ্যাপল, কিন্তু গ্রাহকদের জন্য নেই মূল্যছাড়ের ইঙ্গিত

শতকোটি ডলারের শুল্ক ফেরত পেল অ্যাপল, কিন্তু গ্রাহকদের জন্য নেই মূল্যছাড়ের ইঙ্গিত

রেকর্ড-ব্রেকিং ইউএস অ্যারেনা ট্যুর শেষ করেই নতুন গান ‘আ হা’ প্রকাশ করলেন কার্ডি বি
রেকর্ড-ব্রেকিং ইউএস অ্যারেনা ট্যুর শেষ করেই নতুন গান ‘আ হা’ প্রকাশ করলেন কার্ডি বি

গ্র্যামিজয়ী র‍্যাপার কার্ডি বি তাঁর ভক্তদের জন্য নিয়ে এলেন নতুন গ্রীষ্মকালীন চমক। রেকর্ড-ব্রেকিং ইউএস অ্যারেনা ট্যুর শেষ করার পর, শুক্রবার (৩১ জুলাই) তিনি প্রকাশ করেছেন তাঁর নতুন একক গান ‘আ হা’ (AH HA)। প্রকাশের কয়েকদিন আগেই সৈকতে র‍্যাপ করার একটি টিজার ভিডিও অনলাইনে শেয়ার করেছিলেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা, যা মুহূর্তেই ৮ কোটি ১৬ লাখেরও বেশি ভিউ ছাড়িয়ে যায়। নতুন এই গানে কার্ডি বেশ মজার ছলে তাঁর নিন্দুকদের (haters) কড়া জবাব দেওয়ার পাশাপাশি নিজের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন। গানটির লিরিক ভিডিওতে কার্ডির একটি অ্যানিমেটেড রূপকে সৈকতে দেখা গেছে, যেখানে তাঁর পরনে ছিল নিজ দেশ ডোমিনিকান রিপাবলিকের পতাকার নকশা করা বিকিনি।   কার্ডি বি-র এই নতুন গানটি তাঁর দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘অ্যাম আই দ্য ড্রামা?’এর প্রায় এক বছর পর বাজারে এল। গত ১৮ এপ্রিল তিনি তাঁর সম্পূর্ণ সোল্ড-আউট ‘দ্য লিটল মিস ড্রামা ট্যুর’ শেষ করেছেন। উত্তর আমেরিকায় ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি টিকিট বিক্রির মাধ্যমে এটি কোনো নারী র‍্যাপারের সর্বোচ্চ আয়কারী ডেবিউ অ্যারেনা ট্যুর হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। গত বছরের (২০২৫) সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তাঁর দ্বিতীয় অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০-এর শীর্ষস্থান দখল করেছিল। ২০১৮ সালে ‘ইনভেশন অফ প্রাইভেসি’-এর পর এটি তাঁর দ্বিতীয় নম্বর ওয়ান অ্যালবাম, যা তাঁকে প্রথম নারী র‍্যাপার হিসেবে প্রথম দুটি অ্যালবামেই শীর্ষস্থান দখলের অনন্য মাইলফলক এনে দিয়েছে। তাছাড়া, অ্যালবামটি বিশ্বব্যাপী ১৪ বিলিয়নেরও বেশি বার স্ট্রিম করা হয়েছে এবং বিলবোর্ড হট ১০০-এর ইতিহাসে যেকোনো নারী র‍্যাপারের অ্যালবামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চার্ট-টপিং গানের রেকর্ড গড়েছে।   সাম্প্রতিক সময়ে কার্ডি বি-র সাফল্যের মুকুটে আরও পালক যুক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে তিনি তৃতীয়বারের মতো বিইটি (BET) অ্যাওয়ার্ডে ‘সেরা ফিমেল হিপ হপ আর্টিস্ট’-এর পুরস্কার জিতে নেন। সেখানে তিনি তাঁর সর্বশেষ অ্যালবামের "Errtime," "Hello," "Check Please," এবং "Pretty & Petty"-এর মতো জনপ্রিয় গানগুলোর এক অনবদ্য পারফর্ম্যান্স দিয়ে দর্শক মাতিয়েছিলেন। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই নিউইয়র্ক সিটির পচা নাইটক্লাবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও এক রাতের জন্য বিশেষ পারফর্ম করেন এই তারকা। হট পিংক রঙের করসেট বডিস্যুট, মানানসই টাইটস ও হিল এবং আইসি ব্লু বব হেয়ারস্টাইলে তাঁর নজরকাড়া উপস্থিতি ভক্তদের মুগ্ধ করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ১৭:৪৫
জিরো প্রিমিয়ামের আড়ালে কমছে মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজের সুবিধা, বিপাকে মার্কিন প্রবীণরা

জিরো প্রিমিয়ামের আড়ালে কমছে মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজের সুবিধা, বিপাকে মার্কিন প্রবীণরা

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভয়াবহ সাইবার হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভয়াবহ সাইবার হামলা, সন্দেহের তীর ইরানের দিকে

ক্যালিফোর্নিয়ার কিংবদন্তি রেডিও স্টেশন কেসিএএল-এর সব সম্প্রচার কর্মী ছাঁটাই

ক্যালিফোর্নিয়ার কিংবদন্তি রেডিও স্টেশন কেসিএএল-এর সব সম্প্রচার কর্মী ছাঁটাই

নিউইয়র্কবাসীর জন্য সুখবর, ইউটিলিটি বিলের খরচে মিলবে ২০০ ডলারের রিবেট চেক
নিউইয়র্কবাসীর জন্য সুখবর, ইউটিলিটি বিলের খরচে মিলবে ২০০ ডলারের রিবেট চেক

বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অন্যান্য ইউটিলিটি সার্ভিসের খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিউইয়র্ক স্টেটের বাসিন্দাদের আর্থিক স্বস্তি দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই উদ্যোগের আওতায় যোগ্য বাসিন্দাদের ১০০ ডলার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পর্যন্ত রিবেট চেক পাঠানো হবে। গভর্নর ক্যাথি হোকুলের ঘোষণা করা নতুন এই ‘পাওয়ার চেক’ কর্মসূচির অধীনে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ডাকযোগে প্রাপকদের ঠিকানায় চেকগুলো পৌঁছে যাবে। মূলত ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গভর্নরের কার্যালয়।   রাজ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সহায়তার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। যাঁরা ২০২৪ করবর্ষের নিউইয়র্ক স্টেট রেসিডেন্ট আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন, পুরো বছর নিউইয়র্কে বসবাস করেছেন এবং নির্ধারিত আয়ের সীমার মধ্যে রয়েছেন, কেবল তাঁরাই এই চেক পাবেন। তবে অন্য কোনো করদাতার রিটার্নে নির্ভরশীল বা 'ডিপেন্ডেন্ট' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকলে এই অর্থ পাওয়া যাবে না। আয়ের সীমার ক্ষেত্রে যৌথভাবে কর রিটার্ন জমা দেওয়া দম্পতির সম্মিলিত আয় দেড় লাখ ডলারের কম হলে তাঁরা সর্বোচ্চ ২০০ ডলার পাবেন। আর তাঁদের আয় দেড় লাখ থেকে তিন লাখ ডলারের মধ্যে হলে মিলবে ১৫০ ডলার। অন্যদিকে, এককভাবে রিটার্ন জমা দেওয়া ব্যক্তিদের আয় দেড় লাখ ডলারের কম হলে তাঁরা ১০০ ডলার পাবেন।   সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, রিবেট হিসেবে পাওয়া এই অর্থ যে শুধু ইউটিলিটি বিল পরিশোধেই ব্যবহার করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রাপকরা চাইলে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য যেকোনো কাজেও এই অর্থ ব্যয় করতে পারবেন। নাগরিকদের ওপর থেকে আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আরও কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইউটিলিটি বিলে থাকা বিভিন্ন গোপন ফি বা হিডেন চার্জ বাতিল করা, কোম্পানির নির্বাহীদের বেতন সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করার সঙ্গে যুক্ত করা এবং মূল্যস্ফীতির নিচে ব্যয় সীমিত রেখে বিকল্প বাজেট উপস্থাপনের বিধান কার্যকর করা।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ১৬:২৫
জর্জিয়ায় অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হলো ৬ বছরের শিশুর

জর্জিয়ায় অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হলো ৬ বছরের শিশুর

ক্যালিফোর্নিয়ায় তাপমাত্রার পারদ ১১০ ডিগ্রিতে, বাড়ছে হিট স্ট্রোকের শঙ্কা

ক্যালিফোর্নিয়ায় তাপমাত্রার পারদ ১১০ ডিগ্রিতে, বাড়ছে হিট স্ট্রোকের শঙ্কা

ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরে নামার পর নিখোঁজ, এক সপ্তাহ পর মিলল হাঙরের শিকার ট্রায়াথলেটের মরদেহ

ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরে নামার পর নিখোঁজ, এক সপ্তাহ পর মিলল হাঙরের শিকার ট্রায়াথলেটের মরদেহ

0 Comments