সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

মেডিকেয়ার পার্ট ডি ভর্তুকি বন্ধের ঘোষণা, বাড়তে পারে মাসিক প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ১৮:৫০
মেডিকেয়ার পার্ট ডি ভর্তুকি বন্ধের ঘোষণা, বাড়তে পারে মাসিক প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচ
মেডিকেয়ার পার্ট ডি ভর্তুকি বন্ধের ঘোষণা, বাড়তে পারে মাসিক প্রিমিয়াম ও ওষুধের খরচ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিকদের প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বীমা ভর্তুকি কর্মসূচি বাতিল করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর প্রশাসক মেহমেত ওজ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির সুবিধা মূলত কর্পোরেট বীমা কোম্পানিগুলো ভোগ করছে। 'মেডিকেয়ার পার্ট ডি' নামের এই কর্মসূচিটি মূলত সরকারি স্বাস্থ্য বীমার একটি অংশ, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক কোটি প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নাগরিক ওষুধের সুবিধা পেয়ে থাকেন।

 

ট্রাম্প প্রশাসন গত মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে যে, চলতি বছরের শেষেই এই ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী ২০২৭ সাল থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং আসন্ন শরতেই গ্রাহকদের নতুন খরচের হিসাব জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

প্রশাসনের এক কর্মকর্তার মতে, এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় অর্ধেক গ্রাহকের ওষুধের দাম ও মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্য নীতি বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা কেএফএফ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকার বীমা কোম্পানিগুলোকে শত শত কোটি ডলার ভর্তুকি দেয়, যাতে জনপ্রতি ওষুধের প্রিমিয়াম গড়ে ৩৬ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এই ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলে অনেকের ক্ষেত্রেই মাসিক প্রিমিয়াম ২০ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে যোগ্য প্রবীণরা ওজন কমানোর জন্য মাসে মাত্র ৫০ ডলারে জিএলপি-১ (GLP-1) ওষুধ পাওয়ার সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবেন।

 

অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (এসিএ)-এর ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান খরচ যখন মার্কিন ভোটারদের কাছে একটি বড় ইস্যু, ঠিক তখনই এই সিদ্ধান্ত সামনে এল। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাইডেন প্রশাসনের স্বাক্ষরিত 'ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট'-এর তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেছেন যে, এর মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলোকে আর্থিকভাবে অন্যায্য সুবিধা দেওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত আমেরিকানদের প্রিমিয়ামের বোঝাই ভারী হয়েছে। অন্যদিকে, ওই সময় বাইডেন প্রশাসন দাবি করেছিল যে এই আইনের ফলেই সরকার সবচেয়ে দামি কিছু ওষুধের দাম নিয়ে কোম্পানিগুলোর সাথে দরকষাকষির সুযোগ পেয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রথম প্রকাশিত এই খবরের পর স্বাস্থ্য খাতে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

তবে সিএমএস প্রশাসক মেহমেত ওজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে লিখেছেন যে, তারা বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করছেন বলে বীমা কোম্পানিগুলোকে আর আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, বেশিরভাগ মেডিকেয়ার গ্রাহকের প্রিমিয়াম ১০ ডলারেরও কম বাড়বে এবং অনেকে উল্টো কম খরচে সেবা পাবেন। প্রবীণদের জন্য মাসে ৫০ ডলারে জিএলপি-১ ওষুধ নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য দেশের সমমূল্যে মার্কিনিদের ওষুধ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে প্রশাসন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসনের দাবি, প্রায় অর্ধেক গ্রাহক ১০ ডলারেরও কম প্রিমিয়াম বৃদ্ধি বা প্রিমিয়াম হ্রাসের সুবিধা পাবেন এবং বেশিরভাগের জন্যই ১০ ডলার বা তার কম মূল্যের প্ল্যান উপলব্ধ থাকবে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ায় কমেছে নতুন চাকরির সুযোগ
ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে চরম সংকট, কমছে সুযোগ বাড়ছে প্রতিযোগিতা

ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে একই সময়ে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। চাকরির সুযোগের হার বলতে মাসের শেষ কর্মদিবসে বিদ্যমান খালি পদকে মোট কর্মী ও খালি পদের সমষ্টির শতাংশ হিসেবে হিসাব করা হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জেওএলটিএস জরিপে চাকরির সুযোগ, নিয়োগ এবং কর্মী ছাঁটাইসহ শ্রমবাজারের বিভিন্ন সূচক পরিমাপ করা হয়।  ক্যালিফোর্নিয়ার এই হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২১ সালে রাজ্যটির গড় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও ২০২৩ সালে কমে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হারটি ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।  ২০২৫ সালের অক্টোবরেও ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ৬ লাখ ৬৪ হাজার চাকরির সুযোগ ছিল। তবে ওই মাসে রাজ্যটির চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগের মাসে ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।  তবে চাকরির সুযোগ কম থাকা মানেই নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, এমন নয়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোট চাকরির সুযোগ ছিল প্রায় ৭২ লাখ ৭১ হাজার এবং জাতীয় চাকরির সুযোগের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে নিয়োগের হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং ছাঁটাই ও চাকরিচ্যুতির হার ছিল ১ শতাংশ।  সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের আরেকটি চিত্রও দেখা যাচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে শ্রম বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকার ভাতার আবেদন সামান্য কমে ২ লাখ ৬ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে আগস্টে দেশটিতে ১ লাখ ৬২ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় পর্যায়ে নিয়োগের গতি কিছুটা বাড়লেও রাজ্যভেদে চাকরির সুযোগের চিত্র এক নয়।  ক্যালিফোর্নিয়ায় চাকরি খুঁজছেন এমন কর্মীদের জন্য তাই শুধু মোট চাকরির সংখ্যা নয়, কোন খাতে নিয়োগ বাড়ছে, কোন এলাকায় সুযোগ বেশি এবং নিয়োগের প্রবণতা কীভাবে বদলাচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চাকরির সুযোগের হার কম থাকলে একটি পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট চাকরিপ্রার্থীর ক্ষেত্রে এর প্রভাব কতটা হবে, তা পেশা, দক্ষতা ও স্থানীয় শ্রমবাজারের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিকভাবে চাকরির সুযোগ এখনো কয়েক মিলিয়নের পর্যায়ে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, মহামারির পরের উচ্চ চাকরির সুযোগের সময়ের তুলনায় নিয়োগের বাজার অনেক বেশি স্বাভাবিক পর্যায়ে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনামূলক কম চাকরির সুযোগের হার রাজ্যটির চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৮:২৫
সংবাদ সংগ্রহের সময় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের

এনগেজমেন্টের এক বছরের মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল এনবিসি সাংবাদিকের

নিউইয়র্কে শীতকালে বরফ পরিষ্কারের কাজে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ ডলার আয়ের সুযোগ

নিউইয়র্কে বরফ পরিষ্কারের কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, ৪০ ঘণ্টা পেরোলেই ৪৫!

সোনার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে ফ্রেন্ডসউড পুলিশের তদন্ত

পুলিশ সেজে বয়স্ক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে সোনা হাতানোর চেষ্টা, গ্রে প্তার ৩

ইরান সংঘাতে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন শহর।
ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলার, সামনে মাসে আরও ৩ বিলিয়ন

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের খরচ ইতোমধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গত ১ আগস্ট পর্যন্ত এই ব্যয়ের হিসাব দিয়েছে নিরপেক্ষ কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাতের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি খরচ হতে পারে। সিবিওর হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতিতেও পড়ছে। ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় প্রায় দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি থাকতে পারে। এর অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন কমে যাওয়া এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন। প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ব্রেন্ডন বয়েলের অনুরোধে এই মূল্যায়ন তৈরি করেছে সিবিও। তাদের হিসাব এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের কাছাকাছি। সিবিও বলেছে, ব্যয়ের বড় অংশ যাচ্ছে যুদ্ধে ধ্বংস বা হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় কেনার পেছনে। তবে নিহত বা আহত মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সম্পর্কিত খরচ এবং ভবিষ্যতে সাবেক সেনাসদস্যদের চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় এই হিসাবের মধ্যে রাখা হয়নি। সিবিওর প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ইরান সংঘাতের আর্থিক প্রভাব ও মূল্যস্ফীতি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতটি এখন সপ্তম মাসে পড়েছে এবং দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো নিশ্চিত লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর আগে জুনে হোয়াইট হাউস কংগ্রেসের কাছে ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছিল। এর মধ্যে ৪২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সরাসরি ইরান সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে সিবিও মনে করছে। এই অঙ্ক সিবিওর হিসাব করা প্রতিরক্ষা ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। তবে এই হিসাব নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিভাগ সিবিওর তথ্য চাওয়ার অনুরোধে সাড়া দেয়নি। ফলে বাজেট অফিসকে সরকারি তথ্যভান্ডার ও প্রকাশ্য প্রতিবেদনসহ অন্যান্য উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। সিবিও জানিয়েছে, এ কারণে তাদের হিসাবের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। এদিকে পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ও সরঞ্জামের মজুতে “কৌশলগত ঘাটতি” তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৬:১৬
সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা ৪০ থেকে কমিয়ে ৩২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব

৪০ ঘণ্টার বদলে সপ্তাহে ৩২ ঘণ্টা কাজ! যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিল

দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু বিদেশি নাগরিকের ওপর নতুন ভিসা বিধিনিষেধ

দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদের জন্য ভিসায় বড় পরিবর্তন আনল ট্রাম্প প্রশাসন

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিছু নেওয়া

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় পিছু নেওয়া, যুক্তরাষ্ট্রে গু/লিতে নি/হত ভারতীয় নারী

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ছেন হাজারো আমেরিকান
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ছেন হাজারো আমেরিকান, বাড়ছে প্রবাসী হওয়ার প্রবণতা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিদেশে বসবাসরত কিছু মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যা মোট মার্কিন নাগরিকের তুলনায় এখনো খুবই ছোট একটি অংশ।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া সাধারণ কোনো প্রশাসনিক ফরম পূরণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না। বিদেশে থাকা কোনো মার্কিন নাগরিককে সাধারণত ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নিতে হয়। এরপর পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদন অনুমোদন করে Certificate of Loss of Nationality বা CLN ইস্যু করলে নাগরিকত্ব হারানোর বিষয়টি কার্যকর হয়।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত সাধারণত চূড়ান্ত এবং এটি সহজে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। CLN ইস্যু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন না। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে চাইলে অন্য বিদেশি নাগরিকের মতো তাকে নতুন করে ন্যাচারালাইজেশনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।   নাগরিকত্ব ত্যাগের সঙ্গে কর ব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ত্যাগকারী ব্যক্তি ‘কভার্ড এক্সপ্যাট্রিয়েট’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। এর ক্ষেত্রে আগের পাঁচ বছরের ফেডারেল ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স, নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়কর দায় অথবা ২০ লাখ ডলার বা তার বেশি নেট ওয়ার্থের মতো শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিদেশে যাওয়ার পর সম্পদের ওপর বিশেষ এক্সপ্যাট্রিয়েশন ট্যাক্সের বিধানও রয়েছে।   বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাও এ আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিদেশে বসবাস করলেও মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আয়কর রিটার্ন ও অন্যান্য আর্থিক তথ্য জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিক ও অন্যান্য করদাতারা প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফেডারেল ট্যাক্স রিপোর্ট করেন।   তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপক হারে মানুষ বেরিয়ে যাওয়ার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বাইরে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। একইভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যা মোট মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় খুবই কম।   নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি, বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা, কর-সংক্রান্ত জটিলতা এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়সহ বিভিন্ন কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট কারণকে সামগ্রিক প্রবণতার একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে দেখার মতো পর্যাপ্ত সরকারি তথ্য নেই।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকত্ব ত্যাগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে বিদেশে বসবাসকারী কোনো মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা বিবেচনা করলে সংশ্লিষ্ট আইনি ও কর-সংক্রান্ত পরিণতি সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ২:৭
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো চিকিৎসকদের নজিরবিহীন ধর্মঘট

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো চিকিৎসকদের নজিরবিহীন ধর্মঘট, রোগীসেবায় প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

ডে-কেয়ারে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল জালিয়াতি!

ডে-কেয়ারে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল জালিয়াতি! গ্রেপ্তার ১২ অভিবাসী

বাস দুর্ঘটনার নিউজ করতে গিয়ে এনবিসি সংবাদমাধ্যমের  হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

বাস দুর্ঘটনার নিউজ করতে গিয়ে এনবিসি সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৩

0 Comments