ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে পড়ুন, এই ৭ ভুলেই বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসা
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর বিশ্বের লাখো মানুষ ভিসার জন্য আবেদন করেন। তবে আবেদন করলেই ভিসা মিলবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নির্দেশনায় ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সাতটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে, যা নতুন আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কনস্যুলার কর্মকর্তা। আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য, জমা দেওয়া নথিপত্র, সাক্ষাৎকার এবং প্রযোজ্য অভিবাসন আইন পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা উল্লেখ করে আবেদনকারীকে কারণ জানিয়ে দেওয়া হয়।
সরকারি নির্দেশনায় ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের যেসব কারণ সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে আবেদনপত্র অসম্পূর্ণ থাকা বা প্রয়োজনীয় সহায়ক নথিপত্র জমা না দেওয়া। প্রয়োজনীয় তথ্য বা নথির ঘাটতি থাকলে আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় না।
দ্বিতীয় কারণ হলো, যে ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করা হয়েছে, সেই ভিসার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়া। উদাহরণ হিসেবে, পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার আবেদনকারী যদি সফরের উদ্দেশ্য বিশ্বাসযোগ্যভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারেন বা সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ দেখাতে না পারেন, তাহলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।
তৃতীয় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের আওতায় অযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়া। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, নির্দিষ্ট মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ, প্রতারণা, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বা অন্যান্য আইনি কারণ এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
চতুর্থ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনকারীর অতীত বা বর্তমান কর্মকাণ্ড। আগে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করা, অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা কিংবা ভুয়া তথ্য বা জাল নথি ব্যবহার করার মতো ঘটনা ভবিষ্যতের ভিসা আবেদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পঞ্চম কারণ হলো আর্থিক সক্ষমতার পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে না পারা। যেসব ভিসার ক্ষেত্রে নিজের বা স্পনসরের আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ বাধ্যতামূলক, সেখানে পর্যাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করতে না পারলে আবেদন নাকচ হতে পারে।
ষষ্ঠ কারণ হলো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য আর্থিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া। বিশেষ করে অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে এই নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সপ্তম এবং সবচেয়ে গুরুতর কারণ হলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান। মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতারণামূলক তথ্য বা জাল নথি ব্যবহার করলে শুধু বর্তমান আবেদনই বাতিল হয় না, ভবিষ্যতেও দীর্ঘমেয়াদে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।
মার্কিন সরকার জানিয়েছে, ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও অনেক ক্ষেত্রে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে নতুন করে আবেদন করার আগে প্রত্যাখ্যানের কারণ দূর করা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদ করা এবং সব তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী বিশেষ অনুমতি বা আইনি ছাড় পাওয়ার সুযোগও থাকতে পারে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেদনপত্রে সত্য ও নির্ভুল তথ্য প্রদান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণ রাখা এবং সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঠিক উত্তর দেওয়া—মার্কিন ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreআগস্ট মাসের শুরু মানেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অনেক পরিবারের জন্য নতুন ব্যয়ের মৌসুম। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ সময় স্কুল খোলা, বাসা ভাড়ার চুক্তি নবায়ন, ইউটিলিটি বিল, কলেজ টিউশন এবং বিভিন্ন মাসিক খরচ একসঙ্গে এসে আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাসের শুরুতেই পরিকল্পিত বাজেট করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো এবং আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য খাতা, বই, ব্যাগ, পোশাক ও অন্যান্য শিক্ষা-সামগ্রী কেনার খরচ বেড়ে যায়। অনেক রাজ্যে এ সময় ‘ব্যাক-টু-স্কুল সেলস ট্যাক্স হলিডে’ থাকলেও আগে থেকেই বাজেট নির্ধারণ করলে অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এ সময় অনেক এলাকার বাসা ভাড়ার চুক্তিও নবায়নের পর্যায়ে আসে। নতুন লিজে স্বাক্ষর করার আগে ভাড়া বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জামানত, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গ্রীষ্মের তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে আগস্টে বিদ্যুৎ ব্যবহার সাধারণত বেড়ে যায়। বিশেষ করে সারাদিন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ব্যবহারের কারণে অনেক পরিবারের ইউটিলিটি বিল আগের মাসগুলোর তুলনায় বেশি আসতে পারে। যাদের গাড়ির বীমা নবায়নের সময় এসেছে, তারা নতুন করে বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রিমিয়াম ও সুবিধা তুলনা করে দেখতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের মাধ্যমে খরচ কমানো সম্ভব হয়। পরিবারে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকলে আগস্টে টিউশন ফি, বই এবং অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয়ের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে মাসজুড়ে করা কেনাকাটার ক্রেডিট কার্ড বিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করলে অতিরিক্ত সুদ এড়ানোর পাশাপাশি ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি বজায় রাখা যায়, যা ভবিষ্যতে ঋণ বা অন্যান্য আর্থিক সেবা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থ বিশেষজ্ঞদের মতে, মাসের শুরুতেই আয় ও ব্যয়ের একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, জরুরি সঞ্চয় গড়ে তোলা এবং মাসজুড়ে আর্থিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়। আগস্টে বাড়তি ব্যয়ের এই সময়ে পরিকল্পিত বাজেটই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর আর্থিক প্রস্তুতি।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কঠোর সিদ্ধান্ত: বাংলাদেশিসহ লাখো আশ্রয়প্রার্থীর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার শঙ্কা
ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে পড়ুন, এই ৭ ভুলেই বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসা
আপনার স্টেটে কোন প্রাণীর হাতে প্রাণহানির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি? নতুন তালিকা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর উপস্থিতি ও অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বিমানবন্দরগুলোতে নজরদারি এবং গ্রেপ্তার অভিযান সম্প্রসারণের ফলে ভ্রমণকারী অভিবাসী ও তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৫টি বড় বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করেছেন। কোথাও তারা চেক-ইন কাউন্টার, কোথাও আগমন টার্মিনাল, আবার কোথাও জেটওয়ে এলাকায় অবস্থান নিয়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত অভিযানে অংশ নিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ পোশাকে থাকা কর্মকর্তারাও অভিযান পরিচালনা করেছেন বলে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এমনও ছিলেন যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের সঙ্গে বিবাহিত ব্যক্তি, কর্মভিসা নবায়নের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি কর্মী এবং আশ্রয়প্রার্থীও রয়েছেন। সব ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ছিল না; অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল মূলত অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে আইসিইর কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের শনাক্ত ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা। এ উদ্দেশ্যে আইসিইর জনবল, অবকাঠামো এবং অভিযান সম্প্রসারণে অতিরিক্ত অর্থায়নের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এদিকে বিমানবন্দরে আইসিইর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন ও অভিবাসন আইনজীবীরা। তাদের দাবি, বিমানবন্দর ভ্রমণকারীদের জন্য নিরাপদ ও নিরপেক্ষ স্থান হওয়া উচিত। অতিরিক্ত অভিবাসন অভিযান বৈধ কাগজপত্রধারী অনেক মানুষের মধ্যেও ভীতি তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং আদালতের বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করতেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, এটি দেশের সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের অংশ। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যেসব বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা ভ্রমণ করছেন, তারা যেন সব সময় বৈধ পরিচয়পত্র, ভিসা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত নথিপত্র সঙ্গে রাখেন। ভ্রমণের আগে নিজের আইনি অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া এবং প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।
সরকারি নিবন্ধন পেল ‘হার্ট রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’, দেশব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তুতি
মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি নির্দেশনা
আর্জেন্টিনার স্কাল ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক দূত হলেন বাংলাদেশের ডালটন জহির
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাদা সীমান্তবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লেক তাহোতে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। নিহতের নাম ইয়াদেসা আগা (৩২)। তিনি টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরের বাসিন্দা ছিলেন এবং বেড়াতে এসে এ দুর্ঘটনার শিকার হন। ওয়াশো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় লেক তাহোর পূর্ব তীরের স্যান্ড হারবার এলাকায় পানিতে উদ্ধার অভিযানের খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর আগেই উপস্থিত লোকজন অচেতন অবস্থায় আগাকে তীরে তুলে আনেন। পরে চিকিৎসাকর্মীরা প্রাণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগা সন্ধ্যার দিকে তীর থেকে দূরের পাথুরে অংশের দিকে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যান। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা হবে। লেক তাহোর পানি গ্রীষ্মকালেও অত্যন্ত ঠান্ডা থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ ঠান্ডা পানিতে নামলে শরীরের পেশির নিয়ন্ত্রণ হারানো, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস এবং শীতঘাতজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যা প্রতি বছর এ অঞ্চলে কয়েকটি দুর্ঘটনাজনিত ডুবে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানিক্ষেত্র ছাই করে দেওয়ার হুমকি ইরানের
দুবাইয়ে জামিনে মুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর