সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে পড়ুন, এই ৭ ভুলেই বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসা

Unknown প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৭:৫১
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) ভিসা ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার পর্বের দৃশ্য প্রতীকী। ছবি:সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) ভিসা ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার পর্বের দৃশ্য প্রতীকী। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর বিশ্বের লাখো মানুষ ভিসার জন্য আবেদন করেন। তবে আবেদন করলেই ভিসা মিলবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নির্দেশনায় ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সাতটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে, যা নতুন আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের কনস্যুলার কর্মকর্তা। আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য, জমা দেওয়া নথিপত্র, সাক্ষাৎকার এবং প্রযোজ্য অভিবাসন আইন পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা উল্লেখ করে আবেদনকারীকে কারণ জানিয়ে দেওয়া হয়।

 

সরকারি নির্দেশনায় ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের যেসব কারণ সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে আবেদনপত্র অসম্পূর্ণ থাকা বা প্রয়োজনীয় সহায়ক নথিপত্র জমা না দেওয়া। প্রয়োজনীয় তথ্য বা নথির ঘাটতি থাকলে আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় না।

 

দ্বিতীয় কারণ হলো, যে ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করা হয়েছে, সেই ভিসার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়া। উদাহরণ হিসেবে, পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার আবেদনকারী যদি সফরের উদ্দেশ্য বিশ্বাসযোগ্যভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারেন বা সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ দেখাতে না পারেন, তাহলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।

 

তৃতীয় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের আওতায় অযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়া। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, নির্দিষ্ট মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ, প্রতারণা, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বা অন্যান্য আইনি কারণ এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

 

চতুর্থ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনকারীর অতীত বা বর্তমান কর্মকাণ্ড। আগে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করা, অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা কিংবা ভুয়া তথ্য বা জাল নথি ব্যবহার করার মতো ঘটনা ভবিষ্যতের ভিসা আবেদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

পঞ্চম কারণ হলো আর্থিক সক্ষমতার পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে না পারা। যেসব ভিসার ক্ষেত্রে নিজের বা স্পনসরের আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ বাধ্যতামূলক, সেখানে পর্যাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করতে না পারলে আবেদন নাকচ হতে পারে।

 

ষষ্ঠ কারণ হলো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য আর্থিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকারপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হওয়া। বিশেষ করে অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে এই নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

সপ্তম এবং সবচেয়ে গুরুতর কারণ হলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান। মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতারণামূলক তথ্য বা জাল নথি ব্যবহার করলে শুধু বর্তমান আবেদনই বাতিল হয় না, ভবিষ্যতেও দীর্ঘমেয়াদে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।

 

মার্কিন সরকার জানিয়েছে, ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও অনেক ক্ষেত্রে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে নতুন করে আবেদন করার আগে প্রত্যাখ্যানের কারণ দূর করা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র হালনাগাদ করা এবং সব তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী বিশেষ অনুমতি বা আইনি ছাড় পাওয়ার সুযোগও থাকতে পারে।

 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, আবেদনপত্রে সত্য ও নির্ভুল তথ্য প্রদান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণ রাখা এবং সাক্ষাৎকারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঠিক উত্তর দেওয়া—মার্কিন ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা
কুইন্সে ৭ নম্বর ট্রেনের মেরামত শেষ হতে আরও পাঁচ মাস, ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা

নিউইয়র্কের কুইন্সে ৭ নম্বর সাবওয়ে লাইনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের সংস্কারকাজ শেষ হতে আরও সময় লাগছে। ৫২তম স্ট্রিট ও ৬৯তম স্ট্রিট স্টেশনের ফ্লাশিংমুখী প্ল্যাটফর্মের কাজ আগামী মার্চ পর্যন্ত চলতে পারে। এর ফলে যাত্রীদের আগের পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় পাঁচ মাস বেশি ভোগান্তি পোহাতে হবে।    মেরামতকাজের কারণে গত মে মাস থেকেই ফ্লাশিংমুখী ৭ নম্বর ট্রেন এই দুটি স্টেশনে থামছে না। সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি পর্যন্ত ট্রেন দুটি স্টেশন এড়িয়ে চলবে। ফলে এসব স্টেশনে নামতে বা উঠতে যাত্রীদের অন্য স্টেশনে গিয়ে বিপরীতমুখী ট্রেনে উঠতে হচ্ছে।   উদাহরণ হিসেবে, ৫২তম বা ৬৯তম স্টেশনে যেতে চাইলে যাত্রীদের সামনে থাকা পরবর্তী স্টেশনে নেমে ম্যানহাটনমুখী ট্রেনে ফিরে আসতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতের সময় বাড়ছে এবং বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিয়মিত যাত্রীদের বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বের হতে হচ্ছে।    এই বিলম্বের অন্যতম কারণ হলো প্ল্যাটফর্মের নিচে থাকা লোহার কাঠামোর অতিরিক্ত ক্ষয়। নির্মাণকাজের সময় পরিদর্শকেরা আরও ২২টি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ শনাক্ত করেছেন। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কাঠামোর ভেতরের প্রকৃত অবস্থা অনেক সময় পুরোনো অংশ খুলে না দেখা পর্যন্ত বোঝা যায় না।   প্রকল্পটির ব্যয়ও বেড়েছে। শুরুতে এর বাজেট ছিল প্রায় ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অতিরিক্ত কাজ ও সময় বৃদ্ধির কারণে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ৪৪ লাখ ডলারে। অর্থাৎ প্রাথমিক বাজেটের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।    কুইন্সের উডসাইড, জ্যাকসন হাইটস, সানিসাইড ও করোনা এলাকার বহু মানুষ দৈনন্দিন যাতায়াতে ৭ নম্বর ট্রেন ব্যবহার করেন। তাই স্টেশন সংস্কারের এই দীর্ঘসূত্রতা স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কর্মস্থলে যাতায়াতকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:৩০
আজ থেকে নিউইয়র্কে শুরু হচ্ছে আর্থিক সহায়তা

শীতের বিল নিয়ে চাপে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, আজ থেকে নিউইয়র্কে শুরু হচ্ছে আর্থিক সহায়তা

ছেলেকে শেষবার দেখতে ভিসার অপেক্ষায় মা

স্কুলে যাওয়ার পথেই গুলিতে প্রাণ গেল ১৫ বছরের কিশোরের, ছেলেকে শেষবার দেখতে ভিসার অপেক্ষায় মা

বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের জন্য সুখবর

বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের জন্য সুখবর, কর ফেরতের আবেদনের শেষ দিন আজ

৪৭ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে সংক্রমণ
হাম আক্রান্ত প্রায় ৫ হাজার, নিউইয়র্ক-নিউজার্সিসহ ৪৭ অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়েছে সংক্রমণ

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাড়ছে হাম বা মিজেলস সংক্রমণ। ২০২৬ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫২ জনে। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডাসহ ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪৩টি পৃথক সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্তের প্রায় ৯৬ শতাংশ এসব সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ২ হাজার ২৮৯ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। অর্থাৎ চলতি বছরের আক্রান্তের সংখ্যা আগের পুরো বছরের সংখ্যার দ্বিগুণেরও বেশি।   নিউইয়র্ক সিটি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য এবং নিউজার্সি—তিন এলাকাই আক্রান্তের তালিকায় রয়েছে।বিশেষ করে যেসব পরিবারে ছোট শিশু রয়েছে, তাদের টিকার ইতিহাস যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্কুল, শিশু পরিচর্যাকেন্দ্র এবং জনসমাগমস্থলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।তবে আক্রান্তের জাতীয় সংখ্যা বেশি হলেও প্রতিটি এলাকায় একই মাত্রায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে—এমন নয়। স্থানীয় পরিস্থিতি জানতে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুসরণ করা জরুরি।   হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত আক্রান্ত হওয়ার পর জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তি চলে যাওয়ার পরও বন্ধ ঘরের বাতাসে ভাইরাস কিছু সময় সক্রিয় থাকতে পারে।শিশুদের ক্ষেত্রে এ রোগ থেকে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে।   স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হাম প্রতিরোধে এমএমআর টিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এই টিকা হাম, মাম্পস ও রুবেলা—তিনটি রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।দুই ডোজ এমএমআর টিকা হাম প্রতিরোধে প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। এক ডোজ প্রায় ৯৩ শতাংশ কার্যকর।যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের হারও কমেছে।   ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ের শিশুদের মধ্যে টিকা গ্রহণের হার ছিল ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে তা কমে ৯২ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের হিসাবে, টিকা গ্রহণের হার কমে যাওয়ায় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১৩:৩১
৮ লাখের বেশি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

নিউ ইয়র্কে আজ থেকে স্বাস্থ্যবিমার আবেদন শুরু, ৮ লাখের বেশি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

নিউইয়র্কের কুইন্সে এ ট্রেন চলাচলে ৯ দিনের পরিবর্তন

নিউইয়র্কের কুইন্সে এ ট্রেন চলাচলে ৯ দিনের পরিবর্তন, বিকল্প বাস চালাবে কর্তৃপক্ষ

তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি, তবু মূল্যস্ফীতির চাপে নাজেহাল সাধারণ মানুষ

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির চাপে দিশেহারা ভোটাররা, খাবার নাকি ওষুধ কিনবেন সেই দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে লাখ লাখ মার্কিন ভোটারের কাছে প্রধান ও সবচেয়ে উদ্বেগজনক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দাম এবং অপর্যাপ্ত মজুরির কারণে সাধারণ শ্রমিক ও ইউনিয়নগুলো এমন প্রার্থীদের সমর্থন দিচ্ছে, যারা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও মজুরি বৃদ্ধির পক্ষে লড়াই করছেন। পরিস্থিতি এমন এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক আমেরিকানকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে তারা জরুরি ওষুধ কিনবেন নাকি পরিবারের জন্য খাবার।   ওহাইও অঙ্গরাজ্যের লরেইন কাউন্টিতে জিনা জোনস এবং তার সহকর্মীরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ধর্মঘট পালন করছেন, যা ওহাইওর ইতিহাসে দীর্ঘতম সরকারি খাতের ধর্মঘট হতে যাচ্ছে। স্বাস্থ্যবিমার ব্যয় মাসে ৩৫ ডলার থেকে একলাফে ৬০০ ডলার হওয়ায় তাদের আয়ের বড় অংশই সেখানে চলে যাচ্ছে, ফলে অনেকেই আগের চেয়েও কম টাকা বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মিনেসোটায় স্পেশাল এডুকেশন কর্মী বব ম্যাটিলা ঘণ্টায় ২৫ ডলার মজুরি এবং স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমানোর দাবি জানাচ্ছেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, ঘণ্টায় ২৫ ডলারের কম আয় করে নিয়মিত গাড়ির গ্যাস বা জ্বালানি খরচ মেটানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শ্রমিক ফেডারেশন এএফএল-সিআইও-এর সভাপতি লিজ শুলার জানান, শ্রমিকদের অধিকার ও অর্থনৈতিক সংগ্রামের কথা এখন মূলধারার রাজনীতিতে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। মিশিগানের ডেট্রয়েটে ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সের সদস্য বেইলি পোর্টারের মতো তরুণরা এখন সেই সব প্রার্থীদের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন, যারা মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক শ্রেণির জন্য নীতি প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং 'মেডিকেয়ার ফর অল'-এর মতো স্বাস্থ্যসেবা সমর্থন করেন। পোর্টার জানান, খাদ্য, জ্বালানি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের আকাশছোঁয়া বিলের চাপে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।   অর্থনীতিবিদ ড. স্টেফানি হুপসের মতে, সরকারি পরিসংখ্যানে দারিদ্র্যের যে চিত্র তুলে ধরা হয়, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ। ‘ইউনাইটেড ফর অ্যালিস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪১.৩ শতাংশ বা ৫ কোটি ৪৫ লাখেরও বেশি পরিবার আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। মিসৌরির সেন্ট লুইসের নার্সিং সহকারী শুন্ডা হুইটফিল্ড লুপাস নামক একটি জটিল রোগে আক্রান্ত। ওষুধের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় তাকে প্রায়ই খাবার এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হয়। হুইটফিল্ডের মতো সাধারণ মার্কিনিরা এখন এমন নেতাদের ক্ষমতায় দেখতে চান, যারা শুধু ধনকুবেরদের নয়, বরং খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন।

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ১১:৫৭
মিশিগানে সেনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্রেটিক পার্টির কোন্দল প্রকাশ্যে। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানের সেনেট নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের কোন্দল, প্রচারণায় স্টিভেন্সকে নিষিদ্ধ করলেন এল-সায়েদ

৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যু। ছবি: সংগৃহীত

জানুয়ারি থেকে মেডিকেইডে নতুন বিধিনিষেধ, স্বাস্থ্যবিমা থাকা মার্কিনিদেরও চিকিৎসার খরচ বাড়বে

৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জিতলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন সাইয়েদ। ছবি: সংগৃহীত

ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে আবদুল এল-সাইয়েদ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা

0 Comments