আমেরিকা

আপনার স্টেটে কোন প্রাণীর হাতে প্রাণহানির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি? নতুন তালিকা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৭:১৩
বিভিন্ন ধরনের প্রাণী। ছবি:সংগৃহীত
বিভিন্ন ধরনের প্রাণী। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রকাশিত নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চমকে দেওয়া তথ্য। কোথাও মশা, কোথাও হরিণ, কোথাও আবার ভালুক, কুমির বা বিষধর সাপ, অঙ্গরাজ্যভেদে মানুষের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীর তালিকা ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতির বড় শিকারির চেয়ে অনেক সময় ছোট প্রাণী বা দৈনন্দিন জীবনে বেশি দেখা যায় এমন প্রাণীর কারণেই প্রাণহানির ঝুঁকি বেশি তৈরি হয়। 

 

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ প্রকাশিত ২০২৬ সালের একটি বিশ্লেষণে, এ-জেড অ্যানিম্যালসের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী বা কীটপতঙ্গ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঝুঁকির ধরন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু, বন্যপ্রাণী এবং মানুষের জীবনযাত্রার ওপর।

 

নিউইয়র্কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী হিসেবে উঠে এসেছে মশা। বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের কারণে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে নিউ জার্সি, ইলিনয়, মিনেসোটা ও উটাহে শীর্ষ ঝুঁকিতে রয়েছে কায়োট। পেনসিলভানিয়া, ওহাইও, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও আরকানসাসে হোয়াইট-টেইলড হরিণকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলা হয়েছে, কারণ এ প্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর বহু মানুষ হতাহত হন। 

 

ফ্লোরিডা ও টেক্সাসে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কুমির। আবার মন্টানা, আইডাহো ও ওয়াশিংটনে গ্রিজলি ভালুক, কেনটাকি, ম্যাসাচুসেটস, টেনেসি, উইসকনসিন ও ওরেগনে কালো ভালুককে সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কলোরাডো, মেইন, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও ভারমন্টে মুজ এবং সাউথ ডাকোটা ও ওয়াইওমিংয়ে বাইসন মানুষের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। 

 

দক্ষিণাঞ্চলের অনেক অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর র‍্যাটলস্নেক, কটনমাউথ ও কপারহেড সাপ সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। হাওয়াইয়ে ইয়েলো-বেলিড সি স্নেক, আর আটলান্টিক উপকূলীয় কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বুল শার্ক, টাইগার শার্ক এবং পর্তুগিজ ম্যান-ও'-ওয়ারের মতো সামুদ্রিক প্রাণীকেও উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। 

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলাবামা ও নেব্রাস্কায় ব্ল্যাক উইডো মাকড়সা, মিসৌরিতে টিক এবং আইওয়ায় বোলতা মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করে। আলাস্কায় সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বন্য কুকুরকে।

 

কোনো প্রাণী আকারে বড় হলেই যে সেটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হবে—এ ধারণা সব সময় সঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগ সংক্রমণ, বিষক্রিয়া কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার মতো পরোক্ষ কারণেই মানুষের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যায়। তাই নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় বন্যপ্রাণী সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলাই ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
প্রতীকী। ছবি:সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কঠোর সিদ্ধান্ত: বাংলাদেশিসহ লাখো আশ্রয়প্রার্থীর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নীতির ফলে অনেক আশ্রয়প্রার্থী আর প্রশিক্ষিত আশ্রয় কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাবেন না। এর পরিবর্তে তাদের মামলা সরাসরি ইমিগ্রেশন আদালতে পাঠানো হতে পারে, যা বহিষ্কারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা।   প্রশাসনের ঘোষিত নতুন নীতি অনুযায়ী, ২৭ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া এই পরিবর্তনের ফলে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ না থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা প্রাথমিক সাক্ষাৎকারের বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে।   এর আগে আশ্রয়প্রার্থীদের দাবি যাচাইয়ের জন্য ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর প্রশিক্ষিত আশ্রয় কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার নিতেন। ওই সাক্ষাৎকারে আবেদনকারী নিজের দেশে নির্যাতনের আশঙ্কা, জমা দেওয়া নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগ পেতেন। কর্মকর্তার মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।   নতুন নিয়মে ইউএসসিআইএস অনেক আবেদন সরাসরি ইমিগ্রেশন আদালতে পাঠাতে পারবে। ফলে আবেদনকারীরা আগের মতো প্রশাসনিক পর্যায়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ না পেয়েই বহিষ্কার কার্যক্রমের মুখোমুখি হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   ধারণা করা হয় , এই নীতির আওতায় প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার থেকে ১৪ লাখ পর্যন্ত ঝুলে থাকা আশ্রয় আবেদন ইমিগ্রেশন আদালতে স্থানান্তরিত হতে পারে। এতে আদালতের ওপর চাপ যেমন বাড়বে, তেমনি বহিষ্কার বা রিমুভাল আদেশের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এবং ইউএসসিআইএসের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আশ্রয় ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মামলার জট কমানো এবং প্রকৃত দাবিগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ইউএসসিআইএসের পরিচালক জোসেফ এডলো এক বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই প্রকৃত সুরক্ষার প্রয়োজনের পরিবর্তে আশ্রয় ব্যবস্থাকে সময়ক্ষেপণ ও কর্মসংস্থানের অনুমতি পাওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয় ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো সত্যিকার অর্থে নির্যাতনের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়া। নতুন নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদ যেন প্রকৃত দাবিগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তিতে ব্যবহার হয়, সেটিই নিশ্চিত করা হবে।   তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা। তাদের মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বিদ্যমান সীমিত প্রক্রিয়াগত সুরক্ষাও এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দুর্বল হয়ে পড়বে। বিশেষ করে অনেক আবেদনকারী নিজেদের পক্ষে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ হারাতে পারেন।   সমালোচকদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে বহিষ্কার কার্যক্রম আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। তাদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক শরণার্থী সুরক্ষা কাঠামোর যে নীতির প্রতি যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল, নতুন এই নীতি তার বাস্তব প্রয়োগকে আরও সীমিত করতে পারে।   অন্যদিকে প্রশাসনের অবস্থান হলো, আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করা, দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করাই এই নীতির মূল লক্ষ্য। তবে নতুন নিয়ম কার্যকরের পর এর আইনি চ্যালেঞ্জ ও বাস্তব প্রভাব নিয়ে অভিবাসন মহলে আলোচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৮:১৫
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) ভিসা ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার পর্বের দৃশ্য প্রতীকী। ছবি:সংগৃহীত

ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে পড়ুন, এই ৭ ভুলেই বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসা

বিভিন্ন ধরনের প্রাণী। ছবি:সংগৃহীত

আপনার স্টেটে কোন প্রাণীর হাতে প্রাণহানির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি? নতুন তালিকা প্রকাশ

বিমানবন্দরে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে বাড়ছে আইসের অভিযান, বাংলাদেশিসহ অভিবাসীদের কী জানা জরুরি?

অফিসিয়াল ফটো। ছবি:সংগৃহীত
সরকারি নিবন্ধন পেল ‘হার্ট রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’, দেশব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রস্তুতি

কক্সবাজারের স্থানীয় উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তামূলক প্রতিষ্ঠান হার্ট রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে সোসাইটি আইন, ১৮৬০-এর ২১ ধারার অধীনে নিবন্ধন সনদ লাভ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এই নিবন্ধনের মাধ্যমে এখন থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ আরও বিস্তৃত হলো।   সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী নিবন্ধক মো. রাকিবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নিবন্ধনের নম্বর সিএইচএস-৭৭৯/২০২৬। অনলাইনে যাচাইযোগ্য এই নিবন্ধনের ফলে সংস্থাটি আইনি কাঠামোর আওতায় দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।   প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বৈশ্বিক করোনা মহামারির সময় যুব উদ্যোক্তা জুবাইর মাহমুদ যুব-এর উদ্যোগে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বর্তমানে শিশু সুরক্ষা, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণ, মাদকবিরোধী সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে।   সংস্থার দাবি, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা ১৭টি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে আরও ৩টি প্রকল্প মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।   প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক জুবাইর মাহমুদ যুব বলেন, সরকারি দপ্তর, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং দ্বিপক্ষীয় ও দাতব্য বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপনের মাধ্যমে অর্থায়ন নিশ্চিত করে তারা মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।   সংস্থার চেয়ারম্যান ফয়েজ উল্লাহ আল ফাহিম বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই প্রতিষ্ঠার মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে, যা সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।   পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হাকিমুন্নেছা বাপ্পী বলেন, গত তিন মাসে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার তথ্য যাচাই ও তদন্ত শেষে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই নিবন্ধন অর্জিত হয়েছে। এতে জনসেবার প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে।   পরিচালক মইন উদ্দিন রাকিব বলেন, সংস্থাটি জাতিসংঘের স্বীকৃত বিভিন্ন উদ্যোগসহ স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দেড় শতাধিক সহযোগী জোট ও নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।   পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সামজিদা বেগম বলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিবন্ধনের পর যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নিবন্ধন পাওয়ায় ভবিষ্যতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বিষয়ক ব্যুরোর নিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ হবে বলে তারা আশা করছেন।   জুবাইর মাহমুদ যুব জানান, গত পাঁচ বছরে সংস্থাটি প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে পরোক্ষভাবে এবং ৫ হাজার মানুষকে প্রত্যক্ষভাবে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজারের সাতটি উপজেলায় তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নতুন নিবন্ধনের মাধ্যমে জেলার বাকি দুই উপজেলাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, মানুষের অন্তর্নিহিত মেধা ও সক্ষমতার বিকাশ ঘটিয়ে মানবিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সংস্থাটির মূল লক্ষ্য। আগামী পাঁচ বছরে কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব তিনগুণ বৃদ্ধি করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা–২০৩০ বাস্তবায়নে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

সিদ্দিকুর রহমান প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৬:৪৮
মার্কিন পতাকা। ছবি:সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি নির্দেশনা

ডালটন জহির।ছবি: সংগৃহীত

আর্জেন্টিনার স্কাল ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক দূত হলেন বাংলাদেশের ডালটন জহির

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া–নেভাদা সীমান্তবর্তী লেক তাহোর স্যান্ড হারবার এলাকা। এখানেই সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে টেক্সাস থেকে বেড়াতে আসা ৩২ বছর বয়সী এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। ছবি: সংগৃহীত।

ক্যালিফোর্নিয়ার লেক তাহোতে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো ৩২ বছর বয়সী ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ

ইরানের তেহরানে প্রদর্শিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানিক্ষেত্র ছাই করে দেওয়ার হুমকি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের কোনো লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোও পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।   শনিবার তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে আরাগচি এই বার্তা দেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাবে ইরান দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন।   ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থার ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে পাল্টা জবাবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলক্ষেত্র এবং কাতার ও ইসরায়েলের গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামো ‘ধ্বংস করে দেওয়া হবে’।   তবে নূরনিউজের এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এদিকে ইরানের এই সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টা আগে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দিকে ছোড়া একটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। তবে ড্রোনটির উৎস সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গেও কথা বলেন আব্বাস আরাগচি। এছাড়া সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলায় যদি এ অঞ্চলের কোনো দেশ সহযোগিতা করে, তাহলে ইরান সেই পদক্ষেপেরও সমান জবাব দেবে।   নিজের টেলিগ্রাম বার্তায় আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নতুন সংঘাত গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর থেকেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের প্রতি তার আস্থা কমে গেছে এবং তেহরান বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।   তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসনের আলোচক দল—যার মধ্যে জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রয়েছেন—এখনও ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। আলোচনায় তিনি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান।   কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও পাল্টাপাল্টি সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনা সম্ভাব্য সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৫:৪৭
বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ প্রধান। ছবি: সংগৃহীত

দুবাইয়ে জামিনে মুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর

ওয়ালমার্ট। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাজারের খরচ কমাতে চান?ওয়ালমার্ট, কস্টকো নাকি স্যামস ক্লাব- কোথায় সবচেয়ে বেশি সাশ্রয়!

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ছবি:সংগৃহীত

ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, চালু হতে পারে ওয়াটার বাস

0 Comments