যুক্তরাষ্ট্রে ড্রাইভারদের জন্য নতুন সতর্কতা, লাল বাতিতে ডান দিকে মোড় নেওয়া হতে পারে নিষিদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলে ট্রাফিক নিরাপত্তা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠেছে। প্রস্তাবটি পাস হলে শহরের অধিকাংশ এলাকায় লাল বাতি জ্বললে গাড়িচালকরা আর ডান দিকে মোড় নিতে পারবেন না। বর্তমানে টেনেসি আইনে সম্পূর্ণ থেমে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনকে অগ্রাধিকার দিয়ে অধিকাংশ মোড়ে লাল বাতিতে ডান দিকে ঘোরার অনুমতি রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএন ও অন্যান্য মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশভিল মেট্রো কাউন্সিলের সদস্য স্যান্ড্রা সেপুলভেদা এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করেছেন। তার দাবি, এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো পথচারী ও সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং দুর্ঘটনা কমানো।
বর্তমানে ন্যাশভিলে চালকেরা লাল বাতিতে সম্পূর্ণ থেমে নিরাপদ মনে হলে ডান দিকে মোড় নিতে পারেন, যদি সেখানে ‘নো টার্ন অন রেড’ সাইন না থাকে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে শহরের আরবান সার্ভিসেস ডিস্ট্রিক্টের অধিকাংশ মোড়ে এই সুবিধা বাতিল হবে।
প্রস্তাবটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি কার্যকর হতে হলে মেট্রো কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। ন্যাশভিল ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন (এনডিওটি) এবং পুলিশ বিভাগও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মতামত দেয়নি। তবে কাউন্সিল সদস্য সেপুলভেদা বলেছেন, শহরের বিভিন্ন পথচারী নিরাপত্তা পরিকল্পনায় আগে থেকেই এমন সুপারিশ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে ইতোমধ্যে একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে শহরজুড়ে লাল বাতিতে ডান দিকে মোড় নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে আটলান্টা ও সান ফ্রান্সিসকোতে পথচারীর চাপ বেশি এমন এলাকায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।
এদিকে, প্রস্তাবটি নিয়ে ন্যাশভিলবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে সমর্থন করছেন, আবার অনেকের মতে এতে অপ্রয়োজনীয় যানজট বাড়তে পারে এবং বিদ্যমান ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করাই বেশি জরুরি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreছুটির দিনে অভুক্ত থাকা শিক্ষার্থীদের গোপনে বাড়তি খাবার দেওয়ার 'অপরাধে' চাকরি হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রবীণ স্কুল ক্যাফেটেরিয়া কর্মী। ৬১ বছর বয়সী ডেনিস হুইটমার্শ দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে একই মিডল স্কুল রান্নাঘরে কাজ করছিলেন এবং তার কর্মজীবনের রেকর্ড ছিল সম্পূর্ণ দাগহীন। তবে কর্তৃপক্ষের নিয়মের তোয়াক্কা না করে অভাবী শিক্ষার্থীদের প্রতি এমন মানবিকতা দেখানোর কারণেই শেষ পর্যন্ত তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নেটিজেনদের কাছে তার এই কাজ ‘গুড ট্রাবল’ বা ‘মহৎ অপরাধ’ হিসেবে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। ডেনিসের সহকর্মীরা জানান, ঘটনার শুরু হয় যখন এক ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী তার ছোট ভাইয়ের জন্য একটি অতিরিক্ত দুধ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল। এরপর থেকেই ডেনিস অবিক্রীত স্যান্ডউইচ ও আপেল আলাদা করে রাখতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মাত্র ২৭ হাজার ৪০০ ডলার বার্ষিক বেতনের চাকরিজীবী হয়েও তিনি নিজের পকেট থেকে মাসে প্রায় ৮০ ডলার খরচ করে পিনাট বাটার, রুটি এবং গ্র্যানোলা বার কিনে শিক্ষার্থীদের দিতেন। প্রশাসনকে না জানিয়েই তিনি এই কাজ করতেন এবং কখনও এর কোনো ছবিও তোলেননি। কেউ যেন লজ্জায় না পড়ে, সেজন্য তিনি নীরবে লোডিং দরজার কাছে একটি ক্রেটে খাবারের ব্যাগগুলো রেখে দিতেন। এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতিদান হিসেবে এক অভিভাবক তাকে একটি হাতে লেখা চিঠি পাঠিয়েছিলেন, যা তিনি দুই বছর ধরে নিজের অ্যাপ্রনের পকেটে সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের এক পর্যালোচনায় ডেনিসের এই গোপন বদান্যতার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপরই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, ডেনিস একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক নীতি লঙ্ঘন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—অনুমোদন ছাড়া স্কুলের মজুত খাবার বাইরে নিয়ে যাওয়া, নির্ধারিত সময়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করা, লাইসেন্সপ্রাপ্ত রান্নাঘরে বাইরের খাবার প্রবেশ করানো এবং অবিক্রীত খাবারের দৈনিক হিসাব না রাখা। স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষায়, এটি ছিল একটি 'অনথিভুক্ত বিতরণ কার্যক্রম', যার ফলেই তাকে এমন কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকানের সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের দিকে
বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়েও আইসিইর হাতে আটক ইউসি বার্কলের শিক্ষার্থী, মুক্তির আবেদন আইনজীবীর
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোট দেওয়ার অভিযোগে ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তালিকায় বাংলাদেশিও
যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যদি কখনো তাঁর ওপর বিরক্ত হয়ে যায়, তাহলে ইসরায়েলে চলে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করবেন—এমন মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এ টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ইসরায়েলে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে বড় ধরনের দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দেশটিতে তাঁর অনুমোদনের হার ৯৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যদি কখনো তাঁর ওপর বিরক্ত হয়ে যায়, তাহলে তিনি ইসরায়েলে চলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে তাঁর অনুমোদনের হার ৯৯ শতাংশ। ইতিহাসে আর কারও এত বেশি জনপ্রিয়তা বা অনুমোদনের হার ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তবে নিজের এই দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট জনমত জরিপ, জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নাম কিংবা গবেষণার পদ্ধতি তুলে ধরেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে তাঁর ৯৯ শতাংশ জনপ্রিয়তার দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে জনমত জরিপের তথ্যেও। ইসরায়েলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিউইশ পিপল পলিসি ইনস্টিটিউটের (জেপিপিআই) ২০২৬ সালের জরিপে ট্রাম্পের প্রতি ইসরায়েলিদের আস্থার চিত্র ভিন্নভাবে উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ওপর ‘প্রচুর আস্থা’ রয়েছে বলে জানানো উত্তরদাতার হার মার্চ মাসের ৩৪ শতাংশ থেকে জুলাইয়ে ৭ শতাংশে নেমে আসে এবং আগস্টে তা ১০ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে এটি ট্রাম্পের সামগ্রিক জনপ্রিয়তার জরিপ নয়; বরং নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁর প্রতি আস্থার পরিমাপ। তাই এই তথ্যের সঙ্গে ট্রাম্পের দাবি করা ৯৯ শতাংশের সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না। এদিকে একই সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনার কথাও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগেই এ বিষয়ে তাঁদের সমঝোতা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে। তবে প্রয়োজন হলে ইসরায়েলকে সহায়তা করার পাশাপাশি দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদি সামরিক সহায়তা চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মোট ৩৮০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তার কাঠামো রয়েছে। ফলে বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে অর্থায়ন ও চুক্তিসংক্রান্ত বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। উল্লেখ্য, ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে ট্রাম্পের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মন্তব্যকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর আগেও ২০২৬ সালের মে মাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইসরায়েলে নিজের ৯৯ শতাংশ জনপ্রিয়তার দাবি করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা বলেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য এবং ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনা—দুটি বিষয়ই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর কথিত ৯৯ শতাংশ জনপ্রিয়তার দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য জরিপ প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি এখনো যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
এইচ-১বি ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদনের ৭৯ শতাংশই ভারতীয়দের, ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাবে বাড়ছে শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ রাজ্যে টানা তিন দিন আইসের অভিযান, ট্রাকচালকসহ আটক ২৩০ অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল মধ্যবর্তী নির্বাচন, খরচ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার
একজন কলোরাডো ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী, অন্যজন আমেরিকান সংগীতশিল্পী; দুই তরুণের অকালপ্রয়াণে শোকাহত পরিবার ও স্বজনরা যুক্তরাষ্ট্রে একই দিনে সন্দ্বীপের দুই তরুণের মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। নিহত দুজন হলেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত ইউনিয়নের সামি নেওয়াজ এবং বাউরিয়া ইউনিয়নের আতাউল করিম ভুঁইয়া, যিনি নোনামাস ভুঁইয়া নামেও পরিচিত। তাঁদের অকালপ্রয়াণে পরিবার, স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং সন্দ্বীপের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে। নিহত সামি নেওয়াজ কলোরাডো ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর ছিল নানা স্বপ্ন ও পরিকল্পনা। অল্প বয়সে তাঁর চলে যাওয়ার খবরে স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, আতাউল করিম ভুঁইয়া (নোনামাস ভুঁইয়া) যুক্তরাষ্ট্রে একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সংগীতের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি নিজের একটি পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিচিতজন ও সংগীতসংশ্লিষ্ট মহলেও শোকের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। প্রবাসের মাটিতে স্বপ্ন পূরণ, শিক্ষা ও কর্মজীবন গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে চলেন অসংখ্য তরুণ বাংলাদেশি। তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের আশা, স্বজনদের ভালোবাসা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা। এমন সময়ে দুই তরুণের মৃত্যুর খবর শুধু তাঁদের পরিবারের জন্যই নয়, বৃহত্তর প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের জন্যও এক বেদনাদায়ক ঘটনা। সন্দ্বীপের দুটি পৃথক ইউনিয়নের এই দুই তরুণের অকালপ্রয়াণে শোক প্রকাশ করছেন তাঁদের স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁদের মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানানো হচ্ছে।
নিউইয়র্কে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, ৩০ বছর পর প্রথম প্রাণহানি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ভুয়া তথ্য ঠেকাতে বিশেষ কেন্দ্র চালু ওপেনএআইয়ের