সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ইরানের নেতৃত্বকে ‘চরম ভণ্ডামিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে ক্ষেপলেন ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:৪৮
আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  ছবি:সংগৃহীত
আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি:সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এটিই তেহরানের জন্য “শেষ সুযোগ” বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। এরপরই দেশটির নেতৃত্বকে “চরম ভণ্ডামিপূর্ণ” বলে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প।

 

সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং চলমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর এটিই ইরানের শেষ সুযোগ। তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তেহরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

 

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকায়ি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে যে যোগাযোগ রয়েছে, তা কেবল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও নৌ-নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা পারমাণবিক আলোচনা হচ্ছে না।

 

ইরানের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ইরানের নেতারা “চরম ভণ্ডামিপূর্ণ” আচরণ করছেন। তার অভিযোগ, একদিকে তারা গোপনে আলোচনার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নেই বলে দাবি করছে।

 

একই পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের “ওয়াল অব স্টিল” নিরাপত্তা বলয় কার্যকর রয়েছে এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরান প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানিয়ে আসছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আমেরিকা

View more
ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক
দ্রুত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পাচ্ছে ২৩ দেশের নাগরিক, বাংলাদেশীদের জন্য দুঃসংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) পরিচালিত ‘গ্লোবাল এন্ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত যাত্রীরা সাধারণ ইমিগ্রেশন লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর সৌদি আরবকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অংশীদার দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই।   মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচি মূলত আগে থেকে নিরাপত্তা যাচাইয়ে অনুমোদিত এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য। এই কর্মসূচির সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারী বিমানবন্দরে পৌঁছে বিশেষ গ্লোবাল এন্ট্রি পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করতে পারেন। এতে দীর্ঘ ইমিগ্রেশন লাইনে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। তবে গ্লোবাল এন্ট্রি সদস্যপদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না এবং প্রয়োজনীয় ভিসার বিকল্পও নয়।   সিবিপির ২৭ অক্টোবরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, গ্লোবাল এন্ট্রির ২৩টি আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশ হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, জার্মানি, ভারত, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, পানামা, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব। কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক নেক্সাস কর্মসূচি রয়েছে, যার অনুমোদিত সদস্যরাও নির্দিষ্ট শর্তে গ্লোবাল এন্ট্রির সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।   বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখনো গ্লোবাল এন্ট্রির আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও মার্কিন ভিসা থাকা ব্যক্তি সাধারণভাবে এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ গ্রিন কার্ডধারী, তাঁরা অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে গ্লোবাল এন্ট্রির জন্য আবেদন করতে পারবেন। কারণ মার্কিন নাগরিক ও লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশের নাগরিকত্বের শর্ত প্রযোজ্য নয়।   গ্লোবাল এন্ট্রির সদস্যপদ পেতে আবেদনকারীকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাস্টেড ট্রাভেলার প্রোগ্রামসের সরকারি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ১২০ ডলার, যা ফেরতযোগ্য নয়। এরপর আবেদনকারীর অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড, ইমিগ্রেশন ইতিহাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। প্রাথমিক অনুমোদনের পর সিবিপির কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি ইন্টারভিউ দিতে হয়। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে পাঁচ বছরের জন্য সদস্যপদ কার্যকর থাকে।   অপ্রাপ্তবয়স্করাও অভিভাবকের সম্মতিতে আবেদন করতে পারে। অভিভাবক আগে থেকেই অনুমোদিত সদস্য হলে অথবা তাঁর আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে নির্ধারিত শর্তে ১৮ বছরের কম বয়সীদের আবেদন ফি মওকুফ হতে পারে। গ্লোবাল এন্ট্রির অনুমোদিত সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে নির্দিষ্ট শর্তে টিএসএ প্রিচেক সুবিধাও পেতে পারেন। এতে বিমানবন্দরের সিকিউরিটি চেকিং প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার সুযোগ থাকে।   সিবিপি জানিয়েছে, গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচিতে সদস্যপদ পাওয়ার পরও নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই চলতে থাকে। ইমিগ্রেশন বা কাস্টমস আইন লঙ্ঘন করলে সদস্যপদ বাতিল করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১২:৯
ছবি: শাজিয়া হক, মন্টেবেলো সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থী। (সংগৃহীত)

নির্বাচনে জয় আসেনি, তবুও দমে না যাওয়ার প্রত্যয় বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী শাজিয়া হকের

যুক্তরাষ্ট্রে আটক আফগান নাগরিকদের পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনায় সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে মার্কিন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

আটক আফগানদের দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা আদালতে স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

অবশেষে বুকে পাথর বেধে ডেমোক্র্যাটদের শুভেচ্ছা জানালেন ট্রাম্প, বললেন ‘ভালো কাজ করেছে’

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে ৪৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দিয়েও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেননি ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
রিপাবলিকানদের পেছনে ৪৪ কোটি ডলার সহায়তা, পরাজয়ে ব্যাঙ্গাত্মক পোস্টে ইলন মাস্কের রসিকতা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে ৪৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থসহায়তা দিয়েও বড় পরাজয় ঠেকাতে পারলেন না বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর এবার নিজের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী। বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রসিকতা করে বলেন, এবার বোধ হয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী তাঁর মহাকাশের লেজার কাজ করেনি।   বার্তা সংস্থা এএফপি  জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও বড় সাফল্য পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। নির্বাচনের এই ফল সামনে আসার পর বুধবার ভোরে এক্সে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেন মাস্ক। তাঁর মন্তব্যটি ছিল নিজের রাজনৈতিক প্রভাব এবং নির্বাচনে বিপুল অর্থব্যয় নিয়ে রসিকতা, বাস্তবে কোনো লেজার ব্যবহার করে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের স্বীকারোক্তি নয়।   নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে রিপাবলিকান প্রার্থী ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পক্ষে মাস্কের অর্থসহায়তা প্রায় ৪৪ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে পৌঁছেছিল ১৪ অক্টোবরের মধ্যেই। পরবর্তী অনুদান যোগ হলে এই অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীন রাজনৈতিক ব্যয়ের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর এক নির্বাচনী চক্রে সবচেয়ে বেশি অর্থ দেওয়া ব্যক্তিগত দাতা হিসেবে উঠে এসেছেন তিনি।   মাস্কের দেওয়া অর্থের বড় অংশ গেছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত আমেরিকা পিএসি এবং রিপাবলিকানদের সমর্থনকারী সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে। বিশেষ করে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে জেতাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। সেপ্টেম্বরে মাস্কের দেওয়া প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিপাবলিকানদের সহায়তায় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে এএফপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর কাছে পরাজিত হন প্যাক্সটন।   টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনেও মাস্কের সমর্থিত রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট পরাজিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোহোসার কাছে। নির্বাচনী প্রচারণায় হিনোহোসা বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং স্থানীয় বিদ্যুৎ ও পানির ওপর সেগুলোর প্রভাব নিয়ে সরব ছিলেন। নির্বাচনে তাঁর জয়ের পর মাস্ক আরেকটি পোস্টে রসিকতা করে লেখেন, মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের ধারণাটি এখন বেশ আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে।   এদিকে বিজয়ের পর টেক্সাসের রাজধানী অস্টিনে দেওয়া ভাষণে জেমস তালারিকো নির্বাচনে বিপুল অর্থের প্রভাব নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের শক্তি ছিল। তারপরও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন নিয়ে জয় অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।   ইলন মাস্ক ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ট্রাম্পের অন্যতম বড় আর্থিক সমর্থক ছিলেন। পরে ট্রাম্প প্রশাসনে সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রশাসন ছাড়ার পর দুজনের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হলেও ২০২৬ সালের নির্বাচনে আবার রিপাবলিকানদের সহায়তায় বিপুল অর্থ ব্যয় করেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা।   তবে এত বড় বিনিয়োগের পরও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় মাস্কের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে টেসলা, স্পেসএক্স এবং তাঁর অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সরকারি চুক্তি ও নিয়ন্ত্রক তদারকির ক্ষেত্রেও নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   সূত্র: এএফপি

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১০:৪৬
প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব পাস

ফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের জন্য বড় সুখবর, প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব পাস

অভিনেতা রবার্ট রাজপল

মায়ের ১২ লাখ পাউন্ডের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন, বোনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের অভিনেতার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেস নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামীর পরাজয়,  জয়ী ৬০ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাক্টন
ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামীর পরাজয়, জয়ী ৬০ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাক্টন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে পরাজিত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও চিকিৎসক অ্যামি অ্যাক্টন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে জয় পেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটির ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে নির্বাচনের মাধ্যমে গভর্নর হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন অ্যাক্টন।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে অ্যামি অ্যাক্টনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে অ্যাক্টন প্রায় ৫১ শতাংশ এবং রামাস্বামী প্রায় ৪৬ শতাংশ ভোট পান বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রণে থাকা গভর্নরের পদ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে। বর্তমান রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইন মেয়াদের সীমাবদ্ধতার কারণে এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।   ৬০ বছর বয়সী অ্যামি অ্যাক্টন ওহাইওর সাবেক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক। করোনা মহামারির শুরুর দিকে অঙ্গরাজ্যের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। সেই সময় নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নের কারণে ব্যাপক পরিচিতি পান। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি, কর্মজীবী পরিবারের জন্য ট্যাক্স ছাড় এবং বাড়ির প্রপার্টি ট্যাক্স নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।   অন্যদিকে ৪১ বছর বয়সী বিবেক রামাস্বামী একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্যোক্তা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। ২০২৪ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি পান তিনি। পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হয়ে ওঠেন। ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প তাঁকে সমর্থন দেন। নির্বাচনী প্রচারণায় রামাস্বামী আয়কর কমানো, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেন।   নির্বাচনে রামাস্বামীর পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাক্টনের বিরুদ্ধে প্রচারণায় রামাস্বামী ও তাঁর সমর্থক রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ১০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও তাঁর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। তবে প্রচারণার শেষ দিকে অ্যাক্টনকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞাপন ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের কয়েকজন নেতা বিজ্ঞাপনটির নিন্দা জানান।   বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর ওহাইওর রাজধানী কলম্বাসে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন অ্যামি অ্যাক্টন। তিনি বলেন, ওহাইওর জনগণ বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য ও শালীনতাকে বেছে নিয়েছেন। অঙ্গরাজ্যের সব মানুষের গভর্নর হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূরে রেখে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চান।   এদিকে পরাজয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন বিবেক রামাস্বামী। তিনি নির্বাচনকে কঠিন প্রতিযোগিতা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অ্যাক্টনের নেতৃত্বে ওহাইওকে ঐক্যবদ্ধ করার আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথাও জানান।   ওহাইও একসময় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে রিপাবলিকানদের প্রভাব বেড়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় ১১ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এমন একটি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পসমর্থিত রামাস্বামীর পরাজয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই ফলাফল দুই দলের ভবিষ্যৎ কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।   সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ।

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:৫৬
পথে চারজনের জীবন বাঁচিয়ে নায়ক হলেন কেনেথ

নিজের পরিবার নিয়ে ফিরছিলেন, পথে চারজনের জীবন বাঁচিয়ে নায়ক হলেন কেনেথ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিকের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিকের জয়

ব্যাঙের ভ্রূণ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আনার অভিযোগে হার্ভার্ডের গবেষকের বিরুদ্ধে করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ব্যাঙের ভ্রূণ পাচারে হার্ভার্ড গবেষকের মামলা প্রত্যাহার করলো যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments