আমেরিকা

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হলেন মুসলিম নেতা আব্দুল এল-সায়েদ

মিশিগান প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৭:২৭
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হলেন মুসলিম নেতা আব্দুল এল-সায়েদ
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হলেন মুসলিম নেতা আব্দুল এল-সায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে ঐতিহাসিক এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন প্রগতিশীল পপুলিস্ট নেতা আব্দুল এল-সায়েদ। দলটির প্রথাগত ধারা ও ইসরায়েলপন্থী লবিং গ্রুপ 'আইপ্যাক' (AIPAC)-এর সমর্থনপুষ্ট শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রিপ্রেজেন্টেটিভ হ্যালি স্টিভেন্সকে অত্যন্ত কঠিন লড়াইয়ে পরাজিত করেন ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশের বেশি কেন্দ্রের ভোট গণনার পর এল-সায়েদ ৪৮.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্টিভেন্স পান ৪৭.৫ শতাংশ ভোট।

 

মিশরীয় অভিবাসী দম্পতির সন্তান আব্দুল এল-সায়েদ পেশায় একজন সম্মানীয় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। রোর্ডস স্কলার হিসেবে অক্সফোর্ডে পড়াশোনার পর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করে ডিনারের বয়সে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলধারার রাজনীতিকদের কাছে হেরে যান। তবে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ নীতিতে অটল থেকে আবারও জোরালোভাবে উঠে এলেন তিনি।

 

আগামী নভেম্বরের মূল নির্বাচনে অবসর নেওয়া সেনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। সাধারণ নির্বাচনে জয় পেলে এল-সায়েদ হবেন মার্কিন সেনেটের দুই শতকের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সেনেটর।

 

এল-সায়েদের এই রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে গাজায় সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান। গাজার ধ্বংসযজ্ঞকে সরাসরি 'গণহত্যা' হিসেবে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের করের টাকা বিদেশে যুদ্ধ বা বোমার পেছনে না ঢেলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় বিনিয়োগের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন এই প্রগতিশীল নেতা।

 

শুধু বৈদেশিক নীতিই নয়, তিনি মার্কিন রাজনীতি থেকে করপোরেট অর্থের প্রভাব হঠানো, সবার জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল) চালু করা এবং কঠোর মার্কিন অভিবাসন সংস্থা 'আইস' (ICE) পুনর্গঠনের মতো প্রগতিশীল ইশতেহার নিয়ে মাঠে নেমেছেন।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগানের মতো একটি সুইং স্টেটে—যেখানে ২০১৬ এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন—সেখানে একজন প্রগতিশীল মুসলিম প্রার্থীর জয় পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে এল-সায়েদ মনে করেন, সাধারণ আমেরিকানরা এখন করপোরেট-বান্ধব রাজনীতিকদের চেয়ে জনঘনিষ্ঠ এবং সাহসী নেতাদেরই বেশি পছন্দ করেন। নভেম্বরের মূল নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সেনেট ধরে রাখার লড়াইয়ে এল-সায়েদ জয়ী হতে পারেন কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো আমেরিকা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দাদের জন্য সুখবর, গাড়ি ব্যবহার না করলেই মিলবে ৬০০ ডলার পুরস্কার
লস অ্যাঞ্জেলেসবাসীর জন্য সুখবর, ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহারেই মিলবে ৬০০ ডলার পুরস্কার

লস অ্যাঞ্জেলেসের চালকদের জন্য দারুণ এক খবর! নিজেদের অন্তত একটি গাড়ি বাড়িতে পার্ক করে রাখলেই নগদ অর্থ দিচ্ছে শহরের কর্তৃপক্ষ। লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রো (এলএ মেট্রো) সম্প্রতি তাদের ‘ওয়ান কার চ্যালেঞ্জ’ নামক একটি পাইলট প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ধাপ চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য পরিবারগুলোকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত প্রদান করা হবে, যদি তারা পাঁচ সপ্তাহের জন্য তাদের একটি গাড়ি ব্যবহার না করার শর্তে রাজি হয়। এর বদলে তাদের যাতায়াতের জন্য গণপরিবহন, সাইকেল, হাঁটা বা কারপুলিংয়ের মতো বিকল্প মাধ্যমগুলো বেছে নিতে হবে।   ২০২৩ সালে সান্তা মনিকায় প্রায় ৩০০টি পরিবারের অংশগ্রহণে এই উদ্যোগটি পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছিল। সেই সাফল্যের পর এবার পুরো লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে এর পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। এবারের কর্মসূচিতে প্রায় ২,০০০ পরিবারকে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো যেসব পরিবারে কেবল একটি গাড়ি রয়েছে, তারাও এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, এই আর্থিক প্রণোদনা বাসিন্দাদের গাড়ি চালানোর প্রবণতা কমাবে এবং যানজট কমানো, কার্বন নির্গমন হ্রাস ও ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতিতে এ ধরনের কর্মসূচি কতটা কার্যকর হতে পারে, তা নির্ধারণে সাহায্য করবে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে অংশগ্রহণকারীর বয়স অন্তত ২১ বছর হতে হবে এবং তাদের একটি গাড়ি পাঁচ সপ্তাহ পার্ক করে রাখতে হবে। তাদের যাতায়াতের অভ্যাসগুলো ‘গোকারমা’ (GoCarma) নামের একটি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নজরদারি করা হবে, যা ট্রিপ এবং গাড়ির মাইলেজ ট্র্যাক করবে। সফলভাবে চ্যালেঞ্জটি শেষ করতে পারলে পরিবারগুলো ৬০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবে। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব গভর্নমেন্টস থেকে প্রাপ্ত ২০ লাখ ডলারের অনুদানের সাহায্যে এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথম ধাপের ফলাফল বেশ আশাব্যঞ্জক ছিল এবং সেসময় মানুষের হাঁটা, সাইকেল চালানো ও গণপরিবহন ব্যবহারের হার ১৬.১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।   কর্মকর্তারা বলছেন, এই বড় পরিসরের গবেষণার মাধ্যমে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিককে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ ট্রাফিক নীতি প্রণয়ন করা সহজ হবে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনলাইনে অনেকেই নগদ অর্থ পাওয়ার সুযোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও, সমালোচকদের দাবি—লস অ্যাঞ্জেলেসের গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো এতটা ব্যবহারোপযোগী নয়। একজন মন্তব্যকারী আক্ষেপ করে বলেন, গাড়িতে যে পথ যেতে ১৫ মিনিট লাগে, বাসে সেখানে ৪৫ মিনিট সময় নষ্ট হয়; তাই কোনো অর্থের বিনিময়েই তিনি এই সুবিধা ছাড়বেন না। অন্যদিকে, অনেকেই আবার মেট্রো কর্তৃপক্ষের এই অভিনব উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন।   আগ্রহী বাসিন্দারা লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। এই চ্যালেঞ্জ থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার দীর্ঘমেয়াদি যানজট নিরসন এবং বায়ুদূষণ কমানোর নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৮:৩
ক্যালিফোর্নিয়ার হাসপাতালগুলোর জন্য দুঃসংবাদ, বাতিল হচ্ছে ঋণ মওকুফের গুরুত্বপূর্ণ বিল

ক্যালিফোর্নিয়ার হাসপাতালগুলোর জন্য দুঃসংবাদ, বাতিল হচ্ছে ঋণ মওকুফের গুরুত্বপূর্ণ বিল

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হলেন মুসলিম নেতা আব্দুল এল-সায়েদ

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক সেনেট প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হলেন মুসলিম নেতা আব্দুল এল-সায়েদ

বিচ্ছেদের পর যৌথ মালিকানার অবসান, ৭৬ লাখ ডলারে ফ্লোরিডার প্রাসাদের একক মালিক হলেন ট্রাম্প জুনিয়র

বিচ্ছেদের পর যৌথ মালিকানার অবসান, ৭৬ লাখ ডলারে ফ্লোরিডার প্রাসাদের একক মালিক হলেন ট্রাম্প জুনিয়র

নিউ জার্সিতে ইসলাম গ্রহণের পর অঙ্গদাতার তালিকা থেকে নাম সরিয়েছিলেন কেইথ, কিন্তু মৃত্যুর পর অঙ্গ নিতে মরিয়া সংস্থা
নিউ জার্সিতে ইসলাম গ্রহণের পর অঙ্গদাতার তালিকা থেকে নাম সরিয়েছিলেন কেইথ, কিন্তু মৃত্যুর পর অঙ্গ নিতে মরিয়া সংস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক মিলনের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ব্রেইন ডেথ হওয়া এক ব্যক্তির অঙ্গ সংগ্রহের চেষ্টা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কেইথ লট নামের ৪৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজেকে অঙ্গদাতার তালিকা থেকে সরিয়ে নিলেও, একটি অঙ্গ সংগ্রহকারী সংস্থা পরিবারের আপত্তি গ্রাহ্য না করে তার অঙ্গ নেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৬ মে, যখন কেইথ এবং তার স্ত্রী ব্রুক সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ কেইথ ঢলে পড়েন এবং তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে। স্ত্রী ব্রুক তাৎক্ষণিকভাবে ৯১১-এ কল করেন এবং প্যারামেডিকস এসে তাকে কুপার ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ১৯ মে তাকে ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করা হয়।   কেইথকে মৃত ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই ‘এনজে শেয়ারিং নেটওয়ার্ক’ নামের একটি অঙ্গ সংগ্রহকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা হাসপাতালে হাজির হন। তারা কেইথের অঙ্গ সংগ্রহের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে পরিবার এতে তীব্র আপত্তি জানায়। পরিবার জানায়, কেইথ দুই বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং মুসলিম রীতিনীতি অনুযায়ী মৃত্যুর পর মানবদেহে কোনো পরিবর্তন আনা সমর্থন করতেন না। এই ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ২০২৫ সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের সময় তিনি নিজেকে অঙ্গদাতার তালিকা থেকে সরিয়ে নেন। তা সত্ত্বেও সংস্থার প্রতিনিধিরা দাবি করেন, অতীতে একবার দাতা হিসেবে নিবন্ধন করায় সেটি আজীবন চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন লাইসেন্স দেখানো হলেও তারা যুক্তি দেন যে, কেইথকে নিজে গিয়ে নিবন্ধন বাতিল করা উচিত ছিল।   মুসলিম রীতিনীতি অনুযায়ী পরিবার কেইথকে তিন দিনের মধ্যে দাফন করতে চেয়েছিল। কিন্তু সংস্থাটির অযৌক্তিক দাবির কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার লাইফ সাপোর্ট খুলতে পারছিল না। এমনকি ‘এনজে শেয়ারিং নেটওয়ার্ক’ পরিবার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত কেইথের ভাতিজি ব্লেইক, যিনি স্টেট সিনেটর পল মরিয়ার্টির অফিসে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করতেন, তিনি সহকর্মীদের মাধ্যমে আইনি সহায়তা নেন। আইনি বিশেষজ্ঞরা হাসপাতালকে জানান যে সংস্থার এই কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি, কারণ কেইথের বর্তমান লাইসেন্সে তিনি অঙ্গদাতা নন এবং এখানে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়টিও জড়িত। আইনি হস্তক্ষেপের পর সংস্থাটি পিছু হটে এবং কেইথের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। অবশেষে তাকে দাফন করা সম্ভব হয়।   এই ঘটনার পর স্টেট সিনেটর মরিয়ার্টি একটি নতুন বিল উত্থাপন করেছেন, যেখানে অঙ্গ সংগ্রহকারী সংস্থাগুলোকে মোটর ভেহিক্যাল কমিশনের (এমভিসি) সর্বশেষ আপডেট করা তথ্য যাচাই করতে বাধ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এমভিসি জানিয়েছে, তাদের তথ্যভাণ্ডার তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট হয় এবং সংস্থাগুলোকে রিয়েল-টাইম অ্যাক্সেস দেওয়া থাকে। কেন ‘এনজে শেয়ারিং নেটওয়ার্ক’ কেইথের নতুন তথ্য দেখতে পায়নি বা মানতে চায়নি, তা এখনো অস্পষ্ট। প্রতারণা, তথ্য গোপন ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংস্থাটির বিরুদ্ধে বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটির তদন্ত চলছে। এদিকে কেইথের মা মিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শোকের মুহূর্তে আর কোনো পরিবারকে এমন অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হতে না হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৬:৪১
নিউইয়র্কে ৫০০ ডলারেরও কম রেন্টে অ্যাপার্টমেন্ট

নিউইয়র্কে ৫০০ ডলারেরও কম রেন্টে অ্যাপার্টমেন্ট! শুরু হলো নতুন হাউজিং লটারি

জর্জিয়া টেকের সমাবর্তনে ইরফান আল-হুসাইনী ও তার স্ত্রী ফ্যাবিয়া ফারলিন অ্যাথেনা

সাবেক বুয়েট শিক্ষার্থী ও এনভিডিয়া ডেটা সায়েন্টিস্ট ইরফানের মৃত্যু ঘিরে নতুন প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল বাধায় থমকে গেল ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্যাসিনো প্রকল্প

ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেডারেল বাধায় থমকে গেল ৭০০ মিলিয়ন ডলারের ক্যাসিনো প্রকল্প

নিউইয়র্কে আশ্রয়প্রার্থী ৫৯ বছর বয়সী রুশ নারীকে শিকল পরিয়ে বন্দিশিবিরে পাঠানোর অভিযোগ
নিউইয়র্কে আশ্রয়প্রার্থী ৫৯ বছর বয়সী রুশ নারীকে শিকল পরিয়ে বন্দিশিবিরে পাঠানোর অভিযোগ

নিউইয়র্কের বাফেলো নায়াগ্রা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আলেভতিনা সোবোলেভা নামের ৫৯ বছর বয়সী এক রুশ নারীকে গ্রেপ্তারের পর শিকল পরিয়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) বন্দিশিবিরে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ জুলাই নায়াগ্রা জলপ্রপাতে ছুটি কাটানোর পর ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাড়িতে ফেরার পথে তাকে আটক করা হয়। আলেভতিনার মেয়ে দারিয়া সোবোলেভা জানিয়েছেন, আটকের সময় তার মাকে কেবল হাতকড়াই পরানো হয়নি, বরং শরীরে শিকল জড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যথায় কষ্ট পেয়ে শিকল সামান্য ঢিলা করার অনুরোধ জানালেও কর্মকর্তারা তাতে কর্ণপাত করেননি।   জানা যায়, ২০২১ সালের অক্টোবরে ছয় মাসের ভিসা নিয়ে মস্কো থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সানিভেলে মেয়ের কাছে এসেছিলেন আলেভতিনা। কিন্তু তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায়। যুদ্ধের সমালোচনা করায় এবং দেশে ফিরলে কারাবরণের প্রবল ঝুঁকি থাকায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের (অ্যাসাইলাম) আবেদন করেন।   তাদের ইমিগ্রেশন আইনজীবী রেজিনা জ্যাকবসন জানান, আশ্রয়প্রার্থীরা সাধারণত একটি চিঠি পেয়ে থাকেন যেখানে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা দেওয়া হয়। তবে বর্তমান প্রশাসন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে বৈধ আশ্রয়প্রার্থীদেরও হেফাজতে নেওয়ার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।   মায়ের এমন অপ্রত্যাশিত পরিণতিতে চরম মর্মাহত মেয়ে দারিয়া। তিনি জানান, তার মা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে চলেছেন এবং তার কাছে একটি বৈধ ওয়ার্ক পারমিট, ক্যালিফোর্নিয়া রিয়েল আইডি ও সক্রিয় চিকিৎসা বীমা রয়েছে। তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ডও নেই। তা সত্ত্বেও, কোনো ধরনের নথিপত্র পরীক্ষা ছাড়াই সাদাপোশাকের তিন কর্মকর্তা তাকে আটক করে নিয়ে যায়। দারিয়া তার মায়ের মুক্তির জন্য খোলা একটি ওয়েবসাইটে লিখেছেন, এমন একজন নারীকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ফেরত পাঠানো হবে চরম অমানবিক, যেখানে যুদ্ধের সমালোচনা করাটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।   বর্তমানে লুইজিয়ানার একটি বন্দিশিবিরে বন্দি থাকা আলেভতিনার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। তিনি প্রগতিশীল স্নায়বিক ব্যাধি, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ, চশমা বা গরম কাপড় ছাড়াই তাকে তীব্র শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, তিনি কয়েক বছরের মধ্যে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন এবং বর্তমানেও দেয়াল না ধরে তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছেন না।   গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাত্র তিন দিনের মধ্যে তাকে ওহিও থেকে লুইজিয়ানাসহ মোট তিনটি ভিন্ন বন্দিশিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। আইনজীবী জ্যাকবসনের মতে, বর্তমানে বিচারাধীন আশ্রয়প্রার্থীদের এ ধরনের আটকের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, তাই তাদের ভ্রমণ এড়িয়ে চলা উচিত। বর্তমানে আলেভতিনার পরিবার ও বন্ধুমহল তাকে ইমিগ্রেশন বন্ডের মাধ্যমে ছাড়িয়ে আনার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দারিয়ার এখন একটাই চাওয়া—তার নির্দোষ মাকে যেন দ্রুত বিচার ব্যবস্থার সামনে উপস্থাপন করে বাড়ি ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৫:৮
আমেরিকানদের জন্য ২,০০০ ডলারের স্টিমুলাস চেক

আমেরিকানদের জন্য ২,০০০ ডলারের স্টিমুলাস চেক, গুজব নাকি সত্য?

মার্কিন সেনাদের পরিবারেও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান

মার্কিন সেনাদের পরিবারেও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান, আটক ৫০ জনের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইমিগ্রেশন আইনজীবী অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কি যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলাম আবেদন করতে পারবেন? যা বললেন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী

0 Comments