টেক্সাসে হিজাব ও হালাল খাবার নিষিদ্ধের প্রস্তাব, ‘ইসলাম ঠেকাতে’ নতুন নীলনকশা রিপাবলিকানদের
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান দলের একটি অংশের প্রস্তাবিত ইসলামবিরোধী নীতিমালার খসড়া নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনায় সরকারি স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করা, হালাল খাবার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা এবং স্কুলের পাঠ্যক্রমে ইসলামকে সহিংসতা ও রাজনৈতিক আধিপত্যের সঙ্গে যুক্ত করে পাঠ অন্তর্ভুক্ত করার মতো বিষয় রয়েছে। তবে এসব এখনো কোনো আইন নয়; এগুলো কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও কর্মীর প্রস্তাবিত নীতির খসড়া, যা ভবিষ্যতে আইনসভায় উত্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ডালাস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাসের কট্টরপন্থী সংগঠন ট্রু টেক্সাস প্রজেক্টের আয়োজিত এক সম্মেলনে কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও কর্মী তথাকথিত “ইসলামিফিকেশন অব টেক্সাস” ঠেকানোর নামে এসব প্রস্তাব সামনে আনেন। তাদের দাবি, টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাব বাড়ছে এবং তা প্রতিরোধে নতুন আইন প্রয়োজন। তবে এই দাবির পক্ষে তারা কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করা, হালাল খাদ্য বিক্রি বন্ধ করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম সম্পর্কে বাধ্যতামূলক সমালোচনামূলক পাঠ চালু করা। এসব পদক্ষেপ কার্যকর হলে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুশীলন গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমালোচকরা।
নাগরিক অধিকার সংগঠন, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং মুসলিম নেতারা এসব প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে এ ধরনের আইন প্রণয়নের চেষ্টা সাংবিধানিক প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে টেক্সাসে ইসলাম ও শরিয়াহ আইন নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য আরও জোরালো হয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির বিভিন্ন সভা ও নির্বাচনী প্রচারণায় “শরিয়াহ আইন” এবং “ইসলামিফিকেশন” ইস্যু বারবার সামনে এসেছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আদালত সংবিধান ও অঙ্গরাজ্যের আইনের অধীন পরিচালিত হয়; কোনো ধর্মীয় আইন রাষ্ট্রীয় আইনকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।
এ মুহূর্তে আলোচিত নীতিমালাগুলো কেবল প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো আইন হিসেবে কার্যকর করতে হলে টেক্সাস আইনসভায় বিল পাস এবং গভর্নরের অনুমোদনসহ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তাই প্রস্তাবিত বিষয়গুলো এখনো টেক্সাসে কার্যকর আইন নয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে ৫০০ দিনের বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর অনলাইন ভিডিও গেম ‘অ্যামং আস’-এর মাধ্যমে বাইরে যোগাযোগ করে উদ্ধার হয়েছে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী। কাইলি আরেলানো নামের ওই কিশোরী ২০২৫ সালের মে মাসে উটাহ অঙ্গরাজ্যের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর গত ১ নভেম্বর ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় ৩৯ বছর বয়সী অ্যাডাম হান্টার হারমেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য এবং ফেডারেল আদালতের নথি অনুযায়ী, হারমেলের সঙ্গে কাইলির পরিচয় হয়েছিল অনলাইনে। ২০২৫ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগের পর হারমেল তাঁকে ওরেগনে যাওয়ার জন্য অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে তিনি নিজেই উটাহর পেরি এলাকায় গিয়ে কাইলিকে গাড়িতে তুলে নেন। অভিযোগ রয়েছে, গাড়িতে ওঠার পর তাঁর মোবাইল ফোন নদীতে ফেলে দেওয়া হয় এবং তাঁকে ওরেগনের হান্টিংটনে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে বাইরে যেতে দেওয়া হতো না বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাইলিকে দীর্ঘ সময় বাড়ির বেসমেন্টে আটকে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর চলাফেরা ও যোগাযোগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতেন। আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, হারমেল তাঁকে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করেছেন। এমনকি পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন করতে প্লায়ার্স দিয়ে তাঁর দাঁতের ব্রেস খুলে ফেলতে বাধ্য করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতে হারমেল নিজের বালিশের নিচে ছুরি রাখতেন বলে কাইলি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। তবে বন্দিদশার মধ্যেও বাইরে যোগাযোগের একটি সুযোগ পান কাইলি। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে এমন একটি মোবাইল ফোন দিয়েছিলেন, যাতে সিমকার্ড বা মোবাইল ডেটা ব্যবহারের সুবিধা ছিল না। তবে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যেত। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জনপ্রিয় অনলাইন গেম ‘অ্যামং আস’-এ অন্য এক শিশুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে গেমের বাইরে অন্য একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথোপকথন চালিয়ে নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন এবং তাঁকে জোর করে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানান। ওই শিশুর মা বিষয়টি জানার পর এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর গত ১ নভেম্বর তদন্তকারীরা কাইলির সঙ্গে একটি ভিডিও কলের ব্যবস্থা করেন। এফবিআই কর্মকর্তারা সেই কথোপকথন পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে কাইলি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল, কোথায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে এবং কীভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তার বিবরণ দেয়। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে থাকা ছুরিসহ কিছু প্রমাণও দেখায় সে। পরে ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পুলিশ ও ফেডারেল তদন্তকারীরা ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কাইলিকে উদ্ধার করেন। তাঁকে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হারমেলের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ককে অবৈধ যৌন কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে এক অঙ্গরাজ্য থেকে অন্য অঙ্গরাজ্যে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২ নভেম্বর উটাহর ফেডারেল আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ৪ নভেম্বর আইডাহোর বোইসি শহরের ফেডারেল আদালতে প্রাথমিক শুনানিতে হাজির হন তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনি নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। কাইলির উদ্ধারের পর শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে এফবিআই। সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু অনলাইন গোষ্ঠী ভিডিও গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে এবং পরে তাদের শোষণের চেষ্টা করে। ‘নো লাইভস ম্যাটার’, ‘ম্যানিয়াক মার্ডার কাল্ট’ এবং ‘দ্য কম’ নামের কয়েকটি অনলাইন নেটওয়ার্কের কথাও মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল কাইলির নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শিশুদের লক্ষ্য করে যারা এ ধরনের অনলাইন গোষ্ঠীর মাধ্যমে তাদের শোষণের চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে এফবিআই ও সহযোগী সংস্থাগুলো ব্যবস্থা নেবে। অনলাইন মাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, কাইলি আরেলানো নিখোঁজ হওয়ার পর উটাহর রিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং এফবিআইয়ের সল্টলেক সিটি কার্যালয় যৌথভাবে অনুসন্ধান চালায়। দীর্ঘ ১৭ মাসের বেশি সময় ধরে চলা সেই অনুসন্ধানের পর একটি অনলাইন গেমে অন্য শিশুর সঙ্গে যোগাযোগই শেষ পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধারের সূত্র হয়ে ওঠে। ঘটনাটি শিশুদের অনলাইন গেম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, এফবিআই ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
নিউ ইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৪৫ ডলার আয়ের সুযোগ, নিয়োগ চলছে
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় নির্বাচনে হেরে নিজ দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে কোটি ডলারের মানহানির মামলা করছেন নর্টন
যুক্তরাষ্ট্রে ছুটি কাটাতে যাওয়ার পথে আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার ইউসি বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে তৃতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার এক দিন পরই গ্রেপ্তার হয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতা অ্যান্থনি ইলি। ৩২ বছর বয়সী এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার হামলা এবং শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। নির্বাচনে জয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর গ্রেপ্তারের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ৩৬তম নির্বাচনী এলাকা থেকে জয়ী হন ইলি। রিপাবলিকান প্রার্থী ডেভ থমাসকে পরাজিত করে তিনি ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পান। পরদিন বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অঙ্গরাজ্যের রাজধানী জেফারসন সিটির ইস্ট ক্যাপিটল অ্যাভিনিউ এলাকায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। জেফারসন সিটি পুলিশ বিভাগের প্রতিবেদন এবং আদালতে জমা দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে ইলিকে চিৎকার করতে এবং এক ব্যক্তিকে হুমকি দিতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন। ওই সময় সেখানে একটি পরিবারের সদস্যরা তাদের মৃত স্বজনের শেষকৃত্যের আয়োজন নিয়ে আলোচনা করছিলেন। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে ইলি ওই ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথা বলেন এবং তাঁর দিকে তেড়ে গিয়ে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে থাকা আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শীও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার ওই ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দেন এবং তাঁর কাছে অস্ত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। এতে ভুক্তভোগী নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ইলির বাসভবনে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তবে পুলিশকে ইলি জানিয়েছেন, তিনি কাউকে হত্যার হুমকি দেননি এবং আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কথাও বলেননি। অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। কোল কাউন্টির প্রসিকিউটর কার্যালয় বৃহস্পতিবার তাঁর বিরুদ্ধে চতুর্থ মাত্রার হামলা এবং শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করে। দুটি অভিযোগই অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী লঘু অপরাধ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। শুক্রবার প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেসিটিভি ৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত ইলি কোল কাউন্টি কারাগারে জামিন ছাড়াই আটক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন। এদিকে মিসৌরি প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতাদের পক্ষ থেকেও ইলিকে নিয়ে বক্তব্য এসেছে। সংখ্যালঘু দলের নেতার কার্যালয়ের চিফ অব স্টাফ মার্ক পাওয়ার্স এবিসি ১৭ নিউজকে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সমস্যায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিতে বসন্তকালেই ইলিকে সব কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আগামী অধিবেশনেও তাঁকে কোনো কমিটির দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। অ্যান্থনি ইলি ২০২২ সালে প্রথমবার মিসৌরি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি গ্র্যান্ডভিউ শহরের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রতিনিধি হিসেবে ইতিহাস গড়েন। ফিলাডেলফিয়ায় জন্ম হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা মিসৌরির গ্র্যান্ডভিউ এলাকায়। তিনি একজন আইনজীবী এবং ইলি ল, নোটারি অ্যান্ড কনসাল্টিং নামের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা অংশীদার। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সংগঠনের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। পুনর্নির্বাচনে জয়ের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে নির্বাচনী প্রচারের টি-শার্ট পরা একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন ইলি। তবে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর ওই পোস্টে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি গ্রেপ্তার নিয়েও নানা মন্তব্য দেখা যায়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে ৬৮ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করলেও এখন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের আইনি নিষ্পত্তির দিকেই নজর রয়েছে। সূত্র: এবিসি ১৭ নিউজ, কেসিটিভি ৫ ও নিউজউইক।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে ১৬ পদে বেতনসহ ফেলোশিপ, আবেদন ২০ নভেম্বর পর্যন্ত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম ডেটে গিয়ে খু নের শিকার তরুণী, দুই বছর পরও উদ্ধার হচ্ছে দেহাংশ
ক্যালিফোর্নিয়ায় পার্কে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার সময় নারী কাউন্সিলরকে পিটিয়ে জখম
বাজারে আসার মাত্র তিন বছর পরই নিজেদের আলোচিত বৈদ্যুতিক গাড়ি সাইবারট্রাকের উৎপাদন গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে টেসলা। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে এই আইকনিক ট্রাকটির উৎপাদন বন্ধ হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। মাস্ক জানান, নতুন সাইবারক্যাবের উৎপাদন বাড়াতে জায়গা করে দেওয়ার জন্যই টেক্সাসের গিগাফ্যাক্টরিতে সাইবারট্রাকের উৎপাদন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, টেক্সাসের এই একটি মাত্র কারখানাতেই টেসলার সাইবারট্রাক তৈরি হতো। ২০১৯ সালে সাইবারট্রাকের প্রোটোটাইপ বা প্রাথমিক রূপ উন্মোচন করে মাস্ক একে ফোর্ডের জনপ্রিয় এফ-১৫০ (F-150) মডেলের চেয়েও উন্নত বলে দাবি করেছিলেন। সেদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এর কাচকে বুলেটপ্রুফ বা মজবুত প্রমাণ করতে গিয়ে নকশাকারীর ছোড়া ধাতব বলের আঘাতে তা ফেটে যাওয়ার ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসার পর গত তিন বছরে এই ট্রাকটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া ফেলতে ব্যর্থ হয়। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পর্যালোচনা করা মোটর ইন্টেলিজেন্সের তথ্যমতে, গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ হাজার ৯১৪টি সাইবারট্রাক নিবন্ধিত হয়েছে। অন্যদিকে, একই মাসে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ড তাদের এফ-সিরিজের ট্রাক বিক্রি করেছে ৭০ হাজারের বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে মাস্ক যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডানপন্থী মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েন, তখন টেসলা এবং বিশেষ করে সাইবারট্রাক এর অদ্ভুত ডিজাইনের কারণে একধরনের রাজনৈতিক বিতর্কেরও বিষয়ে পরিণত হয়। এবার সাইবারট্রাকের জায়গা নিতে যাওয়া ‘সাইবারক্যাব’ হলো টেসলার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্টিয়ারিং-হুইলবিহীন চালকহীন ট্যাক্সি, যা গত সেপ্টেম্বরে উন্মোচিত হয়। টেক্সাসের অস্টিনে যাত্রীসেবা শুরুর ঠিক পরদিনই যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএইচটিএসএ) এই ট্যাক্সির বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সাধারণত গাড়িতে নিরাপত্তার জন্য বাধ্যতামূলক স্টিয়ারিং হুইল, আয়না ও ব্রেক প্যাডেল না থাকা দুই সিটের এই সাইবারক্যাবগুলো কেন্দ্রীয় আইন সম্পূর্ণ মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করে দেখছে সংস্থাটি।
ইরানি মিসাইল হামলায় নি হত সেনা অ্যাঞ্জেলের নামে নিউইয়র্কে রাস্তা
বিচারকের আদেশে মুক্তি, তিন মিনিটের মাথায় ফের আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার অভিবাসী