ওয়াশিংটনে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের ২ লাখ ডলারের স্বর্ণ হাতানোর চেষ্টায় গ্রেপ্তার দুই ভুয়া ফেডারেল এজেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেডারেল এজেন্ট পরিচয় দিয়ে এক বৃদ্ধের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৮৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধকে প্রতারিত করে ২ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের স্বর্ণের বার হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তারা।
মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এমপিডি) শুক্রবার জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিউইয়র্কের ফ্রেশ মেডোজের বাসিন্দা চু লিন (৫০) এবং নর্থ ক্যারোলিনার কর্নেলিয়াসের বাসিন্দা শিয়ান চেং (৪২)। ওই বৃদ্ধের বাড়ি থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশ তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই সেকেন্ড-ডিগ্রি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতারণার এই ঘটনা শুরু হয় গত ৮ জুলাই। ভুয়া ফেডারেল এজেন্ট সেজে প্রতারকরা ওই বৃদ্ধের সাথে প্রথমে ইমেইল এবং পরে ফোনে যোগাযোগ করে। তারা বৃদ্ধকে ভয় দেখায় যে, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ যেকোনো সময় বেহাত হয়ে যেতে পারে। এই অর্থ সুরক্ষিত রাখতে তারা বৃদ্ধকে স্বর্ণের বার কিনে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার পরামর্শ দেয়।
প্রতারকদের কথা বিশ্বাস করে ওই বৃদ্ধ ২ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের স্বর্ণের বার কিনতে গিয়েছিলেন। তবে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর সন্দেহ হওয়ায় তিনি বৃদ্ধকে এই প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করেন এবং দ্রুত এমপিডির ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড সাইবার ক্রাইমস ইউনিট ও এফবিআইকে খবর দেন। পরবর্তীতে লিন এবং চেং যখন ওই বৃদ্ধের বাড়িতে স্বর্ণের বার নিতে আসে, তখন এমপিডির ভায়োলেন্ট ক্রাইম সাপ্রেশন ডিভিশনের কর্মকর্তারা তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে শনিবার ভোরে দুটি পৃথক ‘স্ট্রিট টেকওভার’ বা বেআইনিভাবে রাস্তা দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা, অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শহরের ইস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস এবং গ্রামার্সি পার্ক এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই ধ্বংসাত্মক দৃশ্যপট তৈরি হয়। জনসাধারণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ এবং পুলিশ প্রশাসনের শত চেষ্টা ও বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও এ ধরনের বেপরোয়া কার্যকলাপ থামানো সম্ভব হচ্ছে না। শহরের দক্ষিণাংশে একটি স্ট্রিট টেকওভারের পর রাস্তায় থাকা একটি গাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভোর ৪টা ৫২ মিনিটের দিকে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিশাল ওই আগুন নিভিয়ে ফেলেন। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এলএপিডি) একজন মুখপাত্র জানান, এর কিছুক্ষণ আগেই আতশবাজি ফোটানো বিশাল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে পুলিশের উপস্থিতি এবং রাস্তায় গাড়ির টায়ারের অসংখ্য দাগ (স্কিড মার্ক) দেখা যায়। তবে গাড়িতে কীভাবে আগুন লেগেছে বা এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে ইস্ট লস অ্যাঞ্জেলেসের ১১৩১ সাউথ আটলান্টিক বুলেভার্ডে অবস্থিত একটি ‘অটোজোন’ স্টোরে ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রিট টেকওভারে অংশ নেওয়া দর্শনার্থীরাই স্টোরের সামনের কাঁচের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। খবর পেয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস শেরিফ ডিপার্টমেন্টের (এলএএসডি) কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, স্টোরের মেঝেতে গাড়ির ব্যাটারি, ওয়াইপার ফ্লুইড এবং নানা ধরনের যন্ত্রাংশ এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। এমনকি সেখানে একটি মডেলো বিয়ারের ক্যানও পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে থাকা এক ভিডিও স্ট্রিঙ্গারের তথ্যমতে, লুটপাটকারীরা ওই স্টোর থেকে অন্তত ৫০ হাজার ডলার মূল্যের মালামাল এবং তিনটি ক্যাশ রেজিস্টার চুরি করে পালিয়েছে। স্টোরের পাশের একটি গলি দিয়ে কিছু মালামাল নিয়ে লুকিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় কয়েকজনকে প্রায় ধরেই ফেলেছিল পুলিশ। রাস্তার ওপর অসংখ্য গাড়ির টায়ারের দাগ পড়ে থাকা ওই অটোজোন স্টোরটি আপাতত বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনাতেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে ক্যারোলিনা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা
ওয়াশিংটনে ৮৫ বছরের বৃদ্ধের ২ লাখ ডলারের স্বর্ণ হাতানোর চেষ্টায় গ্রেপ্তার দুই ভুয়া ফেডারেল এজেন্ট
মিশিগানে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করবে না বিশ্ববিদ্যালয়
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের একটি হাইস্কুলে এক শিক্ষার্থীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে ক্রিস্টিনা জি. পেটন (২৭) নামের এক অ্যাথলেটিক ট্রেইনারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লি কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান ক্রিক হাইস্কুলে কর্মরত অবস্থায় এক ছাত্রের সাথে তার এই আপত্তিকর সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। প্রায় দুই মাস আগে পুলিশের কাছে এই অভিযোগ আসার পর গত বুধবার তিনি নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। জানা গেছে, গত ১০ জুন ডেকাব কাউন্টি শেরিফ অফিসে প্রথম এই অভিযোগটি জমা পড়ে। তবে ঘটনাটি লি কাউন্টি শেরিফ অফিসের আওতাধীন হওয়ায় তারাই পরবর্তীতে তদন্ত শুরু করে এবং গত ৫ আগস্ট পেটন পুলিশের কাছে ধরা দেন। পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার চারটি ফেলোনি অভিযোগ এবং একজন নাবালকের কাছে ক্ষতিকর উপাদান বিতরণের চারটি ফেলোনি ও চারটি মিসডিমিনার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ২০২১ সালের ফৌজদারি বিচার সংস্কার আইন বা 'সেফ-টি অ্যাক্ট' (SAFE-T Act)-এর অধীনে পেটনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই আইনের ফলে জামিনের জন্য আসামিদের কোনো অর্থ প্রদান করতে হয় না। আগামী ২৭ আগস্ট সকাল ৯টায় তাকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযোগগুলো নিছকই অভিযোগ এবং দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীকে আইনত নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০১ মিলিয়ন ডলারের তহবিলে নতুন গতি পাচ্ছে এশিয়া-ইউরোপ বাণিজ্যপথ
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ‘আফটার-আওয়ার্স ক্লাবে’ গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ এক যুবক
যুক্তরাষ্ট্রে এই ২৯ রোগ থাকলে মিলতে পারে মাসে সর্বোচ্চ ১,৪৯১ ডলার সহায়তা
লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন ও পারিবারিক সহিংসতার শিকার মানুষের জন্য কাজ করা একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধান দুই বছরে ১৬ লাখ ডলারের বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ক্যারল অ্যাডেলকফ মোট ৯ লাখ ৭ হাজার ৯২৩ ডলার এবং ২০২৪ সালে আরও ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৮১ ডলার পেয়েছেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ক্যারল অ্যাডেলকফ লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক ১৭৩৬ ফ্যামিলি ক্রাইসিস সেন্টারের প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটি পারিবারিক সহিংসতার আশ্রয়কেন্দ্র, সংকটকালীন হটলাইন এবং গৃহহীন মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবা পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির লস অ্যাঞ্জেলেস ও অরেঞ্জ কাউন্টিতে ১৬টি স্থাপনা রয়েছে এবং প্রায় ১৭০ জন কর্মী কাজ করেন। অ্যাডেলকফের পারিশ্রমিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মূলত দুই বছরে পাওয়া বিপুল অর্থ এবং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অব্যবহৃত ছুটির অর্থ পরিশোধের কারণে। অ্যাডেলকফ জানিয়েছেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে পাওয়া অর্থের বড় একটি অংশ ছিল চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সময় জমে থাকা ছুটির অর্থ। তার মূল বেতন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় ৪ লাখ ৫ হাজার ডলার ছিল বলে তিনি জানান। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী বলেছেন, অ্যাডেলকফের অবসর নেওয়ার আগে জমে থাকা ছুটির দায় কমাতে পরিচালনা পর্ষদ আইনজীবী ও আর্থিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করেছে। অ্যাডেলকফের জন্য আগে বছরে আট সপ্তাহ পর্যন্ত ছুটি জমা রাখার সুযোগ ছিল। ২০১২ সালে তা কমিয়ে চার সপ্তাহ করা হলেও তার ছুটি জমার ক্ষেত্রে কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। ১৭৩৬ ফ্যামিলি ক্রাইসিস সেন্টারের বার্ষিক আয় প্রায় দেড় কোটি ডলার। এর বেশিরভাগই সরকারি অর্থ থেকে আসে। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ করসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, মোট আয়ের ৯৪ শতাংশ এসেছে করদাতাদের অর্থ থেকে। ২০২১ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি লস অ্যাঞ্জেলেস গৃহহীন সেবা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অন্তত আড়াই কোটি ডলার অনুদান পেয়েছে। অ্যাডেলকফ অন্তত ১১ বছর ধরে হাওয়াইয়ে তার প্রধান বাসস্থান রেখেও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী জানিয়েছেন, ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার পরও পরিচালনা পর্ষদ তাকে প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ করেছিল। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে একই অঞ্চলের আরও বড় কয়েকটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের তুলনায় অ্যাডেলকফের সাম্প্রতিক পারিশ্রমিক অনেক বেশি। প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার বার্ষিক আয়ের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ২০২৪ সালে প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার ডলার পেয়েছেন। আর প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার বার্ষিক আয় করা আরেকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ২০২৩ সালে প্রায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ডলার আয় করেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির পারিবারিক সহিংসতা ও গৃহহীনদের সেবা দেওয়া ১৬টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পারিশ্রমিক তুলনা করে দেখা গেছে, তাদের বার্ষিক পারিশ্রমিকের মধ্যমা ছিল প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। অলাভজনক খাতের বিশেষজ্ঞরা অ্যাডেলকফের এত বড় ছুটির অর্থ পাওয়ার বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় অব্যবহৃত ছুটির সময়কে কর্মীর পাওনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কর্মীরা কতটা ছুটি জমাতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করতে পারে প্রতিষ্ঠান। অ্যাডেলকফ জানিয়েছেন, তার আর কোনো জমে থাকা ছুটির অর্থ পাওনা নেই এবং বর্তমানে তার পারিশ্রমিক আগের মূল বেতনের কাছাকাছি পর্যায়ে ফিরে এসেছে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের পারিশ্রমিক যুক্তিসংগত হওয়া ফেডারেল নিয়মের আওতায় পড়ে। একইভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদকে প্রধান নির্বাহীর পারিশ্রমিক ন্যায্য ও যুক্তিসংগত কি না, তা নিশ্চিত করতে হয়। ১৭৩৬ ফ্যামিলি ক্রাইসিস সেন্টার জানিয়েছে, অ্যাডেলকফের বেতন নির্ধারণের সময় তাদের পরিচালনা পর্ষদ একই ধরনের প্রতিষ্ঠানের পারিশ্রমিক পর্যালোচনা করে। অ্যাডেলকফ ১৯৮৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ লাখ ডলারের বার্ষিক বাজেটের একটি অলাভজনক সংস্থা থেকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্র, হটলাইন ও অন্যান্য সেবা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
নিউইয়র্কে হাউজিং লটারিতে ফ্ল্যাট পেলেন ২৬ বছরের তরুণী, মাসে ভাড়া মাত্র ৮৮১ ডলার
নিউইয়র্কের হ্যাম্পটনে ৭২ মিলিয়নে কেনা বাড়ির নতুন তালিকামূল্য ১৬২ মিলিয়ন!