মিশিগানে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করবে না বিশ্ববিদ্যালয়
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Michigan) কলেজ অফ লিটারেচার, সায়েন্স অ্যান্ড দ্য আর্টস (এলএসএ) শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান 'মানসিক স্বাস্থ্য সংকট' মোকাবিলার লক্ষ্যে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ফল সেমিস্টার থেকে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল ট্রান্সক্রিপ্টে গোপন রাখা হবে। প্রচলিত লেটার গ্রেডের পরিবর্তে তাদের শুধুমাত্র 'পাস/নো ক্রেডিট' ভিত্তিতে মূল্যায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে এই পাবলিক রিসার্চ বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি কলেজের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই এলএসএ কলেজ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্ত গ্রেড ব্যক্তিগতভাবে জানতে পারবেন এবং অধ্যাপকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও পাবেন। তবে এই ফলাফল কোনোভাবেই তাদের সিজিপিএ-তে (CGPA) যুক্ত হবে না। ট্রান্সক্রিপ্টে কেবল উল্লেখ থাকবে যে, প্রথম সেমিস্টারের সব কোর্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে 'পাস' বা 'নো ক্রেডিট' হিসেবে গণ্য হয়েছে। তবে একাডেমিক পুরস্কার, বৃত্তি, ইন্টার্নশিপ এবং অন্যান্য পেশাগত সুযোগের জন্য অভ্যন্তরীণভাবে তাদের প্রকৃত গ্রেড সংরক্ষণ করা হবে। দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে শিক্ষার্থীদের গ্রেড যথারীতি তাদের ট্রান্সক্রিপ্ট এবং জিপিএ-তে যুক্ত হওয়া শুরু করবে।
প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজের কর্তৃপক্ষের মতে, গ্রেড গোপন রাখার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এবং প্রতিযোগিতার বদলে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে শুরুর দিকের চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি), ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, সোয়ার্থমোর কলেজ এবং ওয়েলেসলি কলেজের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আগে থেকেই অনুরূপ নীতি চালু রয়েছে।
তবে এই নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, এর ফলে শিক্ষার্থীদের মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। 'থেরাপি নেশন'-এর লেখক ও সাইকোথেরাপিস্ট জোনাথন আলপার্ট দ্য পোস্ট-কে বলেন, "আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে সাধারণ মানসিক চাপকেও একটি বড় ধরনের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খারাপ গ্রেড পাওয়া হতাশাজনক বা বিব্রতকর হতে পারে, কিন্তু এটি কোনোভাবেই মানসিকভাবে ক্ষতিকর নয়।" তিনি আরও বলেন, "কলেজের উচিত শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করা। কর্মক্ষেত্রে কোনো বস্ আপনার খারাপ পারফরম্যান্স গোপন রাখবেন না। তরুণদের বুঝতে হবে যে খারাপ লাগা মানেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নয়।"
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreমিশিগানের গ্র্যান্ড র্যাপিডসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিইর কর্মকর্তারা একটি গাড়ি থামানোর চেষ্টা করার পর চালক পালিয়ে যান। পরে গাড়িটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালকের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে গ্র্যান্ড র্যাপিডস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। ঘটনাটি ২০ সেপ্টেম্বর সকালে ঘটে। পুলিশের তথ্যমতে, সকাল প্রায় ৭টার দিকে হল স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউয়ের কাছে আইসিই কর্মকর্তারা গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেন। চালক দ্রুতগতিতে সেখান থেকে চলে যান। প্রায় এক মাইল দূরে ম্যাককেন্ড্রিক স্ট্রিট ও সেঞ্চুরি অ্যাভিনিউ এলাকায় গাড়িটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর গাড়িতে আগুন ধরে যায়। চালক ছাড়া গাড়িতে আর কেউ ছিলেন না এবং ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গ্র্যান্ড র্যাপিডস পুলিশ প্রধান জো ট্রিগ জানিয়েছেন, গাড়িটি থামানোর চেষ্টা ও দুর্ঘটনার মধ্যবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে পুলিশের তদন্তকারীরা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছেন। এ কারণে তিনি মিশিগান স্টেট পুলিশকে তদন্তে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ করেছেন। গ্র্যান্ড র্যাপিডস পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে আইসিইর ওই কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কোনো পূর্ব জ্ঞান বা সম্পৃক্ততা ছিল না। স্থানীয় পুলিশকে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। মিশিগান স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, তারা তদন্তে সহায়তা করছে। পরবর্তী তদন্তে নিহত চালককে মারিও ডেভিড করোনাডো হুয়ারেজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তিনি গুয়াতেমালার নাগরিক ছিলেন এবং প্রায় সাত বছর ধরে গ্র্যান্ড র্যাপিডসে বসবাস ও নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন বলে তাঁর স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাঁর সন্তানরা গুয়াতেমালায় রয়েছে বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিলারি শোলটেন আইসিইর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো ট্রাফিক স্টপ যেন প্রাণহানিতে শেষ না হয় এবং ওই ঘটনার আগে কী ঘটেছিল তা জানার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য; দুর্ঘটনার কারণ বা আইসিই কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এদিকে মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার মিশিগান স্টেট পুলিশকে ঘটনাটির বিষয়ে স্বাধীন পর্যালোচনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে আইসিইর কার্যক্রম, গাড়ি থামানোর চেষ্টা থেকে দুর্ঘটনা পর্যন্ত সময়ের ঘটনাপ্রবাহ এবং অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। আইসিই ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে পুলিশের বক্তব্যের বাইরে ফেডারেল কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ঘটনাটির পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত চলমান থাকায় আইসিইর থামানোর চেষ্টা ও চালকের মৃত্যুর মধ্যে সরাসরি আইনগত বা কার্যকারণ সম্পর্ক স্থির হয়েছে—এমন তথ্য এখনো নেই।
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি, জাতিসংঘে মামদানিকে প্রকাশ্যে জবাব দেওয়ার ঘোষণা
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পাইলট বেতনের স্ক্রিনশট ভাইরাল, ডিজিট দেখে চোখ কপালে
ট্রাম্পের নৈশভোজে সস্ত্রীক উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে নিউইয়র্কে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের দ্য সেন্ট রেজিস নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎও হয়। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন। শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়। মেলানিয়া ট্রাম্পের ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য শিশুদের জন্য শিক্ষা ও প্রযুক্তির সুযোগ বাড়ানো এবং নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা। সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে। জুবাইদা রহমান এর আগে চলতি বছরের মার্চে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছিলেন। ওই সম্মেলনে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেও মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছিল। মার্চের ওই আয়োজনে জুবাইদা রহমান শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানটি ছিল শিশুদের শিক্ষা, কল্যাণ, প্রযুক্তি এবং অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ। মার্চে ওয়াশিংটন এবং সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের দুটি আয়োজনে জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শিশুদের শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
গ্রিন কার্ড আবেদন রিজেক্ট, নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হল খ্রিষ্টান যাজকে
২০২৭ অর্থবছরে ১৭,৫০০ শরণার্থী নেবে যুক্তরাষ্ট্র, বড় অংশ দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কাজে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নজরদারি বাড়াতে ১০ কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংস্থাটির একটি নতুন ইউনিটে ১৪০ জনের বেশি গোয়েন্দা বিশ্লেষক ও প্রজেক্ট ম্যানেজার নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব কর্মীর অনেকেরই ‘টপ সিক্রেট’ সরকারি সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হবে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ইউনিটটির নাম ‘ওভারওয়াচ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি এনফোর্সমেন্ট’। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস বিভাগের মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে এই ইউনিটের সদস্যদের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তারা শ্রেণিবদ্ধ ও অশ্রেণিবদ্ধ বিভিন্ন উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করবেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, গোয়েন্দা বিশ্লেষকেরা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ, সম্পর্ক, নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন পরিবর্তনের ধরন বিশ্লেষণ করবেন। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, স্থান, ঘটনা ও অন্যান্য তথ্যের মধ্যে সম্পর্ক শনাক্ত করে আইসিইর তদন্ত ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে সহায়তা করাও তাদের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে। তবে এসব বিশ্লেষকের নিজেরা কাউকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা থাকবে না। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২৭টি শহরে তিন থেকে পাঁচজন করে বিশ্লেষক মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন, মায়ামি ও সান ফ্রান্সিসকোর মতো বড় শহর রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে একজন প্রজেক্ট ম্যানেজার থাকার কথাও পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিই বলছে, সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হুমকি ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ‘ওভারওয়াচ’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। আইসিইর এক মুখপাত্র দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা ব্যক্তিদের শনাক্ত, অবস্থান নির্ধারণ এবং গ্রেপ্তারে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, অপরাধীদের ব্যবহৃত প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের গোয়েন্দা সক্ষমতাও বাড়াতে হচ্ছে। অভিবাসন এনফোর্সমেন্টে আইসিই এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটি মোবাইল ফোনের তথ্য, নজরদারি সফটওয়্যার, ফেসিয়াল রিকগনিশন, লাইসেন্স প্লেট রিডার ও ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া মানুষকে শনাক্ত ও খুঁজে বের করার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ধরনের ডেটা-ভিত্তিক সেবাও ব্যবহার করা হয়। নতুন পরিকল্পনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন আইসিইর নজরদারি কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি আদালতের নথিতে মিনেসোটার একটি চার্চে আইসিইর নজরদারি কার্যক্রমের কিছু তথ্য প্রকাশ পায়। ওই নথি অনুযায়ী, এজেন্টরা চার্চের সভায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি এবং তাদের গাড়ির লাইসেন্স প্লেট নম্বর যাচাই করেছিলেন। আইসিইর জনবল নিয়োগ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সংস্থাটির সাবেক এক কর্মকর্তা দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ করে দাবি করেছেন, পর্যাপ্ত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের আগেই কিছু প্রার্থীকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই অভিযোগের বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়ে অভিযোগও করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও তদন্তের ফল আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আইসিইর গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে ১০ কোটি ডলারের পরিকল্পনাটি প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে এবং এতে উল্লেখিত জনবল ও কাঠামো বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সরকারি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
ওবামাকেয়ারে অনিয়মের অভিযোগ, ৭ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহকের স্বাস্থ্যবিমা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন
আলট্রাসাউন্ড রিপোর্টে গর্ভস্থ শিশুর মাথার ওপর রহস্যময় হাত, ‘ঈশ্বরের হাত’ বলে বিশ্বাস মায়ের