সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কের সবচেয়ে সাশ্রয়ী শহরে ৮৭ হাজার ডলারেই মিলছে বাড়ি! তবুও নেই বাসিন্দা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১:৫
নিউইয়র্কের সবচেয়ে সাশ্রয়ী শহরে ৮৭ হাজার ডলারেই মিলছে বাড়ি! তবুও নেই বাসিন্দা
নিউইয়র্কের সবচেয়ে সাশ্রয়ী শহরে ৮৭ হাজার ডলারেই মিলছে বাড়ি! তবুও নেই বাসিন্দা

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বাড়ি কেনার খরচ যখন অনেকের নাগালের বাইরে, তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে ইউটিকার শহরে। নিউইয়র্ক সিটির প্রায় চার ঘণ্টা উত্তরে অবস্থিত এই শহরে কিছু এলাকায় বাড়ির গড় মূল্য ৮৭ হাজার ডলারের কাছাকাছি, আর মাসিক ভাড়া শুরু হচ্ছে প্রায় ৯০০ ডলার থেকে। কিন্তু এত সাশ্রয়ী হওয়ার পরও শহরটি জনসংখ্যা ধরে রাখতে পারছে না। 

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অন্যতম সাশ্রয়ী আবাসন বাজার এখন ইউটিকা। এলাকাভেদে বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের মধ্যে। তবে শহরটির সামগ্রিক গড় বাড়ির মূল্য আরও বেশি, প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার ৪১২ ডলার, যা গত এক বছরে প্রায় ৯ শতাংশ বেড়েছে। 

 

বাড়ির দামের পাশাপাশি ইউটিকার জীবনযাত্রার ব্যয়ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গড়ের তুলনায় প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ শতাংশ কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু বাড়ি ১ লাখ ডলারেরও নিচে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এমনকি পাঁচ বেডরুমের একটি বাড়ির দাম ৮৯ হাজার ৯০০ ডলার এবং তিন বেডরুমের একটি বাড়ির দাম ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার রাখা হয়েছে। 

 

কিন্তু কম দামের আবাসনই ইউটিকার সবচেয়ে বড় সমস্যা সমাধান করতে পারছে না। শহরটির জনসংখ্যা ২০২০ সালের আদমশুমারির পর থেকে ৪ শতাংশের বেশি কমেছে। সাম্প্রতিক বছরেও প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ শহরটি ছেড়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বর্তমানে জনসংখ্যা বছরে প্রায় শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ হারে কমছে। 

 

এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট। একসময় শিল্পনির্ভর ইউটিকা কয়েক দশকের শিল্পায়ন পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিবর্তনে বড় ধরনের কর্মসংস্থান হারিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ হওয়া এবং চাকরি শহরের বাইরে চলে যাওয়ার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও করভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

 

শহরটির মধ্যম পারিবারিক আয় এখন প্রায় ৫২ হাজার ডলার, যা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গড়ের তুলনায় অনেক কম। ২০২৪ সালে ইউটিকার একজন ব্যক্তির মধ্যম আয় ছিল প্রায় ৩০ হাজার ৭৮৫ ডলার। একই সঙ্গে শহরটির দারিদ্র্যের হার ২৭ শতাংশের বেশি, যা জাতীয় হারের প্রায় দ্বিগুণ। বেকারত্বের হারও প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। 

 

ফলে ইউটিকার আবাসন বাজারে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। বাড়ি কেনার সুযোগ তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভালো বেতনের চাকরি ও অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব অনেক মানুষকে অন্য শহরে চলে যেতে উৎসাহিত করছে।

 

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে সাশ্রয়ী শহরের তালিকা অবশ্য কোন তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে তার ওপর পরিবর্তিত হয়। ২০২৬ সালের আরেকটি আবাসন বিশ্লেষণে জামেস্টাউনকে অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে সাশ্রয়ী স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৯১৪ ডলার এবং মধ্যম ভাড়া ৭৫৯ ডলার। 

 

তবে ইউটিকাকে আলাদা করে আলোচনায় এনেছে কম দামে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ এবং একই সঙ্গে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বাস্তবতা। অর্থাৎ, এখানে সাশ্রয়ী দামে বাড়ি কেনা সম্ভব হলেও সেটিকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের গড় আয়ু কম বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যয় করেও গড় আয়ুতে ৩৮তম অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে তরুণদের অকালমৃত্যু

অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের গড় আয়ু কমছে এবং এই ব্যবধানের পেছনে শুধু মাদক অতিরিক্ত গ্রহণ, আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ডের মতো কারণ দায়ী নয়। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগ, অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগ, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ এবং কিডনি ও মূত্রনালির বিভিন্ন অসুস্থতাও যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহার বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।   ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক স্টিভেন এইচ. উলফের নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘ইউএস লাইফ এক্সপেকট্যান্সি অ্যান্ড ইনক্রিজিং মর্টালিটি রেটস: অ্যান অ্যানালাইসিস অব দ্য ক্রাইসিস’ শীর্ষক গবেষণাটি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ‘দ্য মিলব্যাংক কোয়ার্টারলি’তে প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ১৯৯৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং ১৬টি উচ্চ আয়ের দেশের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তথ্য নেওয়া হয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন তথ্যভান্ডার থেকে।   গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এক মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার দেশগুলোর মধ্যে গড় আয়ুর হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল ৩৮তম। একই সময়ে ৬০টি দেশের মানুষের ৪০ বছর বয়সের আগেই মারা যাওয়ার ঝুঁকি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের তুলনায় কম।   গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের পাশাপাশি চিলি, কোস্টারিকা, পানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বেশ কিছু দেশেও মানুষের গড় আয়ু বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছিয়ে পড়ার প্রবণতা অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। গবেষকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৮০ সালে এক মিলিয়নের বেশি জনসংখ্যার মাত্র ১৩টি দেশের গড় আয়ু যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি ছিল। ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নেমে আসে ২০তম, ২০০০ সালে ২৬তম এবং ২০১০ সালে ৩২তম স্থানে।   গবেষণার অন্যতম উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে। ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এই বয়সী মানুষের সব ধরনের মৃত্যুহার ৭১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে মাদক অতিরিক্ত গ্রহণের পাশাপাশি অল্প বয়সে দেখা দেওয়া উচ্চ রক্তচাপ, বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগ এবং অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগের কারণে মৃত্যুও বেড়েছে।   বিশেষ করে অনিচ্ছাকৃত মাদক অতিরিক্ত গ্রহণে মৃত্যুহার ১৯৯৯ সালের পর প্রায় সাত গুণ বেড়েছে। ২০১৫ সালে এই বয়সী মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে এটি হৃদ্‌রোগকেও ছাড়িয়ে যায়। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের আত্মহত্যার হারও ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে একই বয়সী মানুষের হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুহার ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং যানবাহন দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।   মধ্যবয়সী ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা গেছে। ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে মৃত্যুহার ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই বয়সীদের অনিচ্ছাকৃত মাদক অতিরিক্ত গ্রহণে মৃত্যুহার প্রায় নয় গুণ বেড়েছে।   এ ছাড়া ২০০৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগে মৃত্যুহার ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগে মৃত্যুহার ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে স্নায়ুতন্ত্রের রোগে মৃত্যুহার ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। কিডনি ও মূত্রনালিসংক্রান্ত রোগেও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   গবেষণায় নবজাতক ও শিশুদের মৃত্যুর ক্ষেত্রেও কিছু উদ্বেগজনক পরিবর্তন পাওয়া গেছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুমৃত্যুর হার ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। আকস্মিক ও ব্যাখ্যাতীত শিশুমৃত্যু এবং ঘুমের সময় দুর্ঘটনাজনিত শ্বাসরোধের মতো কারণ এ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।   করোনাভাইরাস মহামারিও যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুহারের ব্যবধান বাড়িয়েছে। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মধ্যবয়সী মানুষের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। ২০২১ সালে ৪৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে কোভিড-১৯-এ মৃত্যুহার আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়। পরে ২০২২ ও ২০২৩ সালে এই মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তবে মহামারি কমে যাওয়ার পরও অন্যান্য রোগে মৃত্যুর দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা অব্যাহত ছিল।   গবেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সংকটকে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি রোগ বা মৃত্যুর কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশের সুযোগ, চিকিৎসার খরচ, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি, আর্থসামাজিক বৈষম্য, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার মতো বিষয়ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় কিছু মানুষ বীমার আওতায় থাকার পরও চিকিৎসা নিতে দেরি করেন বা চিকিৎসা এড়িয়ে যান। ফলে শুরুতেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এমন রোগ পরবর্তী সময়ে গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জগদীশ খুবচন্দানি গবেষণাটির বিষয়ে নিউজউইককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য অনেক উন্নত দেশের তুলনায় স্বাস্থ্যসেবায় বেশি অর্থ ব্যয় করলেও মৃত্যুহারের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তার মতে, হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, বিপাকীয় স্বাস্থ্য সমস্যা এবং বিভিন্ন বাহ্যিক কারণজনিত মৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও বড় ধরনের বৈষম্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। অঞ্চল, আয়, শিক্ষা এবং জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে গড় আয়ুর পার্থক্য দেখা যায়। ২০২৩ সালে আমেরিকান ইন্ডিয়ান ও আলাস্কা নেটিভ জনগোষ্ঠীর গড় আয়ু ছিল ৭০ দশমিক ১ বছর। একই সময়ে অশ্বেতাঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তা ৭৪ বছর, শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ৭৮ দশমিক ৪ বছর, হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ৮১ দশমিক ৩ বছর এবং এশীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ৮৫ দশমিক ২ বছর ছিল।   গবেষক উলফের বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও এলাকার মধ্যেও গড় আয়ুর ব্যবধান অনেক বড় হতে পারে। আয়, শিক্ষা ও বসবাসের পরিবেশের মতো সামাজিক কারণ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।   গবেষণায় ১৯৬০ থেকে ২০২২ সালের তথ্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৬টি উচ্চ আয়ের দেশের মৃত্যুহারের তুলনাও করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ওই দেশগুলোর মধ্যে মৃত্যুহারের ব্যবধান তৈরিতে রক্তসঞ্চালনসংক্রান্ত রোগ, বাহ্যিক কারণ, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং বিপাকীয় ও হরমোনজনিত রোগ বড় ভূমিকা রেখেছে। এর পাশাপাশি সংক্রামক রোগ, মানসিক ও আচরণগত সমস্যা, কিডনি ও মূত্রনালির রোগ এবং পরিপাকতন্ত্রের রোগও ব্যবধান তৈরিতে অবদান রেখেছে।   গবেষণাটির মূল বক্তব্য হলো, যুক্তরাষ্ট্রের আয়ু ও মৃত্যুহারের সমস্যা শুধু মাদক, আত্মহত্যা বা নির্দিষ্ট কয়েকটি রোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন বয়সে একাধিক রোগ ও মৃত্যুর কারণ একই সঙ্গে বাড়ছে। তাই এই ব্যবধান কমাতে শুধু চিকিৎসা বাড়ানো নয়, স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার, চিকিৎসার ব্যয়, খাদ্য ও আবাসন নিরাপত্তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো বৃহত্তর বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।   সূত্র: দ্য মিলব্যাংক কোয়ার্টারলি, নিউজউইক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ২১:৪
কংগ্রেসের অনুমোদিত সরকারি তহবিল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নির্দেশে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল বাতিল, বড় কাটছাঁট অভিবাসন খাতে

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

ফ্লোরিডায় গ্যারেজে টেসলা গাড়ির ব্যাটারি বি স্ফোরণ, পুড়ে ছাই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি
ফ্লোরিডায় গ্যারেজে টেসলা গাড়ির ব্যাটারি বি স্ফোরণ, পুড়ে ছাই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হারিকেন হেলেনের তাণ্ডবের সময় গ্যারেজে থাকা বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলার ব্যাটারি সিস্টেম লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে এসে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ট্যাম্পার ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এক মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এই বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুনে মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।   ট্যাম্পা বে এলাকার অটো ডিলার মাইকেল মারফির গ্যারেজে রাখা ২০২১ মডেলের একটি 'টেসলা মডেল এস প্লেইড' গাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনার সময় মাইকেল শহরের বাইরে থাকলেও তার স্ত্রী সিলভানা, দুই শিশুকন্যা এবং শ্বশুর-শাশুড়ি বাড়ির ভেতরেই আটকা পড়েছিলেন। পরবর্তীতে একটি বেসরকারি উদ্ধারকারী দল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের নিরাপদে বের করে আনতে পারলেও, চোখের সামনেই তাদের ৫ হাজার ৪০০ বর্গফুটের বিশাল বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে উদ্ধারকারীরা পরিবারের প্রিয় কুকুরটিকে বাঁচাতে পারেননি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা এই অভিযোগে মারফি পরিবার দাবি করেছে, পানিতে ভিজলে টেসলার ব্যাটারি থেকে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে, সে বিষয়ে আগে থেকেই সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।   হারিকেন হেলেনের প্রভাবে ট্যাম্পা বে এলাকায় গত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস দেখা দিলে মারফি পরিবারের গ্যারেজে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ে। পানি গাড়ির নিচের অংশে পৌঁছাতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বন্যার পানি এবং আগুনের কারণে জরুরি সেবাকর্মীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে মাইকেল মারফির অনুরোধে 'গ্রে বুল রেসকিউ' নামের একটি বেসরকারি উদ্ধারকারী দলের সাহসিকতায় নৌকার সাহায্যে পরিবারের সদস্যদের ওই জ্বলন্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।   মারফি পরিবারের দাবি, এই বিস্ফোরণের মূল কারণ টেসলার ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারি প্যাক এবং এর ডিজাইন। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন টেসলা ২০১০ সাল থেকেই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির এই 'থার্মাল রানঅ্যাওয়ে' বা অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার সমস্যার কথা জানত। এমনকি তারা আগুন প্রতিরোধক উপাদানের পেটেন্টও করেছিল, কিন্তু নিজেদের গাড়িতে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করেনি।   উল্টো তারা গ্রাহকদের কাছে বৈদ্যুতিক গাড়ির নিরাপত্তার বিষয়ে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এসেছে। ফ্লোরিডায় এর আগেও হারিকেন হেলেনের সময় পানিতে ডুবে একাধিক টেসলা গাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল, যা নেভাতে দমকলকর্মীদের চরম বেগ পেতে হয়। সব জেনেও দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে ত্রুটি সংশোধনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে মারফি পরিবার এখন টেসলার কাছে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেছে।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৮:৪৯
নিউইয়র্কে ই হুদি ধর্মযাজককে পিটিয়ে আ হত, বিচারকের আদেশে জামিনে মুক্ত অভিযুক্ত

নিউইয়র্কে ই হুদি ধর্মযাজককে পিটিয়ে আ হত, বিচারকের আদেশে জামিনে মুক্ত অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাকডোনাল্ডসে চাকরি দিয়ে শুরু, এখন ১৭ রেস্টুরেন্টের মালিক বাংলাদেশি বাবা-মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাকডোনাল্ডসে চাকরি দিয়ে শুরু, এখন ১৭ রেস্টুরেন্টের মালিক বাংলাদেশি বাবা-মেয়ে

নিউইয়র্কে ডিজেল বাসের বদলে রাস্তায় বৈদ্যুতিক স্কুল বাস, ৯ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

নিউইয়র্কে ডিজেল বাসের বদলে রাস্তায় বৈদ্যুতিক স্কুল বাস, ৯ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

নিউইয়র্কে অর্ধেক ভাড়ায় বাস-সাবওয়েতে যাতায়াত, আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ পাবেন সুবিধা
নিউইয়র্কে অর্ধেক ভাড়ায় বাস-সাবওয়েতে যাতায়াত, আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ পাবেন সুবিধা

নিউইয়র্ক শহরের স্বল্প আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং গণপরিবহনে যাতায়াতকে আরও সাশ্রয়ী করতে একটি নতুন আইন পাস করেছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। ‘ফেয়ার ফেয়ারস’ বা ন্যায্য ভাড়া কর্মসূচির অধীনে সাবওয়ে, বাস ও প্যারাট্রানজিটে অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা পেতে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে এই বিলটি পাস করা হয়।   আগামী ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে স্পিকার জুলি মেনিন এবং সিটি কাউন্সিল এই কর্মসূচির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণের জন্য তহবিল নিশ্চিত করেছে। এর ফলে যোগ্যতার মাপকাঠি ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার নিম্ন আয়ের বাসিন্দা অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে এখন শহরটির প্রায় ১৩ লাখ মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসছেন।   বর্তমানে এই সুবিধার যোগ্য নিউইয়র্কবাসীদের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ এই কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন। সচেতনতার অভাব এবং আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণেই মূলত অংশগ্রহণের হার এত কম। এই হার বাড়াতেই কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন ‘ইন্ট্রোডাকশন ২৪৮-এ’ শীর্ষক বিলটি উত্থাপন করেন।   নতুন এই আইনের মাধ্যমে সোশ্যাল সার্ভিসেস কমিশনারকে একটি সহজ ও সাবলীল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে, যারা বর্তমানে ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম’ (স্ন্যাপ) বা নগদ আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছেন, তারা সুবিধাটি নবায়নের সময় শুধু একটি বক্সে টিক চিহ্ন দিয়েই খুব সহজে ‘ফেয়ার ফেয়ারস’ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন।   এছাড়া যেসব যোগ্য ব্যক্তি এখনও এই কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করে সুবিধার কথা জানাতে নিউইয়র্ক স্টেট অফিস অব টেম্পোরারি ডিসঅ্যাবিলিটি অ্যাসিস্ট্যান্সসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।   সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় শহরের সাধারণ মানুষকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, বিশেষ করে গণপরিবহনের খরচ শ্রমজীবী পরিবারগুলোর ওপর বড় একটি বোঝা। তিনি আরও জানান, নতুন এই আইনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা হবে, যাতে যোগ্য নিউইয়র্কবাসীরা নিজেদের পকেট খালি না করেই গণপরিবহনে যাতায়াত করতে পারেন।   অন্যদিকে, বিলটির প্রস্তাবক কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন বলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্তির এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচাবে এবং সরকারি সেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলবে। বিলটিতে সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্তি ও ব্যবহার নিয়ে প্রতি বছর সিটি কাউন্সিলে প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে শহরের সব কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে স্বয়ংক্রিয় তালিকাভুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সমীক্ষা পরিচালনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৬:৫৮
আইসিই’র নির্বিচার গ্রেপ্তার ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে নতুন বিল প্রস্তাব

আইসিই’র নির্বিচার গ্রেপ্তার ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে নতুন বিল প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আইনজীবী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আইনজীবী গ্রেপ্তার

0 Comments