পেনশন হারিয়ে ৮৮ বছরেও চাকরি, অবশেষে মিলল ১০ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা
৮৮ বছর বয়সেও সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে সুপারমার্কেটে কাজ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনাসদস্য এড বাম্বাস। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর অবসর নেওয়ার কথা থাকলেও আর্থিক সংকট তাকে আবারও কাজে ফিরতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু এক অস্ট্রেলীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে আকস্মিক পরিচয় তার জীবনটাই বদলে দেয়।
মিশিগানের ব্রাইটনের একটি মেইজার সুপারমার্কেটে কাজ করতেন বাম্বাস। তিনি ১৯৯৯ সালে জেনারেল মোটরস থেকে অবসর নেন। পরে কোম্পানির আর্থিক সংকট ও পুনর্গঠনের সময় তার অবসর সুবিধা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। নিজের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ সামলাতে তিনি সম্পদ বিক্রি করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পরও আর্থিক চাপ কাটেনি।
শেষ পর্যন্ত বয়স ৮০ পেরিয়েও তাকে আবার পূর্ণকালীন কাজে ফিরতে হয়।
বাম্বাসের এই জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পারেন অস্ট্রেলীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্যাম ওয়েইডেনহোফার। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের সহায়তার গল্প তুলে ধরার সময় তিনি সুপারমার্কেটে বাম্বাসের সঙ্গে কথা বলেন। ৮৮ বছর বয়সেও কেন তাকে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে, তা জানার পর ওয়েইডেনহোফার তার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বাম্বাসকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে ওয়েইডেনহোফার একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ শুরু করেন। প্রথমে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১০ লাখ ডলার। কিন্তু মানুষের ব্যাপক সাড়া সেই লক্ষ্যকে দ্রুত ছাড়িয়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই তহবিলে ১০ লাখ ডলারের বেশি জমা পড়ে। পরে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৯ লাখ ৪২ হাজার ডলারে পৌঁছায় এবং প্রায় ৬৭ হাজার মানুষ এতে অনুদান দেন।
৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বাম্বাসকে প্রায় ১৭ লাখ ডলারের একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থ তাকে দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ থেকে বেরিয়ে এসে অবশেষে অবসর নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
বাম্বাসের প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ডলারের ঋণ ছিল। অনুদানের অর্থের একটি অংশ সেই ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি অবসরের পর ভ্রমণ ও আবার গলফ খেলার মতো ব্যক্তিগত ইচ্ছাগুলো পূরণ করার সুযোগও তৈরি হয়।
বাম্বাসের গল্প শুধু একজন প্রবীণ সেনাসদস্যের আর্থিক সংকটের কাহিনি নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে বয়স বাড়ার পরও আর্থিক কারণে কাজ করে যেতে বাধ্য হওয়া প্রবীণদের বাস্তবতাকেও সামনে এনেছে। তার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অচেনা মানুষের সহযোগিতা শেষ পর্যন্ত একটি কঠিন জীবনপর্বের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
২০২৬ সালের এপ্রিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাম্বাস শেষ পর্যন্ত ৫ জানুয়ারি অবসর নেন। নিজের সহকর্মী ও তাকে সহায়তা করা মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে তিনি ছুটির মৌসুম পর্যন্ত কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ওয়েইডেনহোফারের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রবীণ সেনাসদস্যকে সহায়তার একটি নতুন উদ্যোগেও যুক্ত হন।
একটি সুপারমার্কেটে হওয়া সামান্য এক কথোপকথন থেকে শুরু হয়েছিল ঘটনাটি। শেষ পর্যন্ত তা হাজার হাজার মানুষের সহযোগিতায় ৮৮ বছর বয়সী এক প্রবীণকে জীবনের কাঙ্ক্ষিত অবসরের সুযোগ এনে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View more৮৮ বছর বয়সেও সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে সুপারমার্কেটে কাজ করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনাসদস্য এড বাম্বাস। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর অবসর নেওয়ার কথা থাকলেও আর্থিক সংকট তাকে আবারও কাজে ফিরতে বাধ্য করেছিল। কিন্তু এক অস্ট্রেলীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে আকস্মিক পরিচয় তার জীবনটাই বদলে দেয়। মিশিগানের ব্রাইটনের একটি মেইজার সুপারমার্কেটে কাজ করতেন বাম্বাস। তিনি ১৯৯৯ সালে জেনারেল মোটরস থেকে অবসর নেন। পরে কোম্পানির আর্থিক সংকট ও পুনর্গঠনের সময় তার অবসর সুবিধা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। নিজের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ সামলাতে তিনি সম্পদ বিক্রি করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পরও আর্থিক চাপ কাটেনি। শেষ পর্যন্ত বয়স ৮০ পেরিয়েও তাকে আবার পূর্ণকালীন কাজে ফিরতে হয়। বাম্বাসের এই জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পারেন অস্ট্রেলীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্যাম ওয়েইডেনহোফার। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের সহায়তার গল্প তুলে ধরার সময় তিনি সুপারমার্কেটে বাম্বাসের সঙ্গে কথা বলেন। ৮৮ বছর বয়সেও কেন তাকে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে, তা জানার পর ওয়েইডেনহোফার তার গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বাম্বাসকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে ওয়েইডেনহোফার একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ শুরু করেন। প্রথমে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১০ লাখ ডলার। কিন্তু মানুষের ব্যাপক সাড়া সেই লক্ষ্যকে দ্রুত ছাড়িয়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই তহবিলে ১০ লাখ ডলারের বেশি জমা পড়ে। পরে মোট অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৯ লাখ ৪২ হাজার ডলারে পৌঁছায় এবং প্রায় ৬৭ হাজার মানুষ এতে অনুদান দেন। ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ বাম্বাসকে প্রায় ১৭ লাখ ডলারের একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থ তাকে দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ থেকে বেরিয়ে এসে অবশেষে অবসর নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। বাম্বাসের প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ডলারের ঋণ ছিল। অনুদানের অর্থের একটি অংশ সেই ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি অবসরের পর ভ্রমণ ও আবার গলফ খেলার মতো ব্যক্তিগত ইচ্ছাগুলো পূরণ করার সুযোগও তৈরি হয়। বাম্বাসের গল্প শুধু একজন প্রবীণ সেনাসদস্যের আর্থিক সংকটের কাহিনি নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে বয়স বাড়ার পরও আর্থিক কারণে কাজ করে যেতে বাধ্য হওয়া প্রবীণদের বাস্তবতাকেও সামনে এনেছে। তার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অচেনা মানুষের সহযোগিতা শেষ পর্যন্ত একটি কঠিন জীবনপর্বের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাম্বাস শেষ পর্যন্ত ৫ জানুয়ারি অবসর নেন। নিজের সহকর্মী ও তাকে সহায়তা করা মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে তিনি ছুটির মৌসুম পর্যন্ত কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে তিনি ওয়েইডেনহোফারের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য প্রবীণ সেনাসদস্যকে সহায়তার একটি নতুন উদ্যোগেও যুক্ত হন। একটি সুপারমার্কেটে হওয়া সামান্য এক কথোপকথন থেকে শুরু হয়েছিল ঘটনাটি। শেষ পর্যন্ত তা হাজার হাজার মানুষের সহযোগিতায় ৮৮ বছর বয়সী এক প্রবীণকে জীবনের কাঙ্ক্ষিত অবসরের সুযোগ এনে দেয়।
পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, সুবিধা হারাচ্ছেন বহু মানুষ
ট্রাম্প এডমিনিস্ট্রেশন এর বড় বিনিয়োগ! স্কুলের খাবারে ফিরছে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুধ, পুষ্টিকর খাবার
নিউইয়র্কের সবচেয়ে সাশ্রয়ী শহরে ৮৭ হাজার ডলারেই মিলছে বাড়ি! তবুও নেই বাসিন্দা
যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে মাত্র এক বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা-মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আবর্জনা, ময়লা ডায়াপার, পশুর মলমূত্র ও অন্যান্য বিপজ্জনক বর্জ্যে ভরা একটি অপরিচ্ছন্ন গ্যারেজে শিশুটিকে রাখা হতো। গত ২৭ জুলাই মলমূত্রে নোংরা একটি ডায়াপারের অংশ মুখে যাওয়ার পর দম বন্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনায় ২২ বছর বয়সী ডিভান উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে হত্যা এবং শিশুটির মা ২২ বছর বয়সী আলেক্সান্দ্রা প্রাইসের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা বর্তমানে অ্যালেন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। আগামী ১২ আগস্ট অ্যালেন কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাদের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে একমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন উইলিয়ামস। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, শিশুটি মলমূত্রযুক্ত ডায়াপারের অংশ খাওয়ার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। তদন্তকারীদের কাছে তিনি আরও জানান, এর আগেও শিশুটি নোংরা ডায়াপার মুখে নিয়েছিল। শিশুটিকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার মুখে রক্তপাত ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। এসব আঘাতকে পুলিশ সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তদন্তে শিশুটির থাকার পরিবেশ নিয়েও ভয়াবহ তথ্য সামনে আসে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, পরিবারটি একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণবিহীন গ্যারেজে বসবাস করত। সেখানে প্রচুর আবর্জনা, বিয়ার ক্যান, ব্যবহৃত ডায়াপার এবং বিড়ালের মূত্র ছিল। শিশুটির খেলার খাঁচাটিও দূষিত মেঝের ওপর রাখা ছিল। পুলিশের পরিদর্শনে ওই এলাকায় পশুর মূত্র ও মল, কাঁচা পয়ঃবর্জ্য, পচনশীল প্রাণীর দেহাবশেষ এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঘরটিতে মাছি ও মাকড়সার উপস্থিতি, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাবও ছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, শিশুটিকে বাইরে ব্যবহারের পানির পাইপ দিয়ে গোসল করানো হতো। এমনকি উইলিয়ামস শিশুটিকে অতিরিক্ত ঝাল খাবার খাওয়াতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিশুটির মা তাকে এ ধরনের খাবার না দিতে বলেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি নিয়মিত ডায়াপার, সোফার কুশনসহ অনিরাপদ বিভিন্ন জিনিস মুখে নিত। পরিবারের সদস্যরাও শিশুটির চারপাশের পরিবেশ যে অত্যন্ত নোংরা ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শিশুটিকে দীর্ঘ সময় ধরে এমন একটি পরিবেশে রাখা হয়েছিল, যা তার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছিল। শেষ পর্যন্ত নোংরা ডায়াপারের অংশ মুখে যাওয়ার পর দম বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আগামী শুনানিতে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হওয়ার কথা রয়েছে।
"এটা খুবই বিপজ্জনক", বিলিয়নিয়ার্সদের সেই টাওয়ারে ঝরছে ‘কংক্রিটের টুকরো'! দ্রুত কমছে দাম
ফ্লোরিডায় ‘মাংসখেকো’ ব্যাকটেরিয়ায় আরও একজনের মৃত্যু, চলতি বছরে আক্রান্ত ১৪
মাদক সেবনের পর নবজাতককে বুকের দুধ, ৩ সপ্তাহের শিশুর মৃত্যু; যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা
নিউইয়র্কের ম্যাডিসন শহরে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার বাবা-মাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। ভয়াবহ এই ঘটনা ঘটে মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর, যখন সহিংসতার একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাবা-মা তার জন্য ১০ হাজার ডলারের বেইল পরিশোধ করে তাকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনেন। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন কাউন্টি শেরিফের অফিসের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, শুক্রবার নিজ বাড়িতে বাবা-মাকে গুলি করেন জাস্টিন সিসলো। পরে তিনি নিজেকেও গুলি করেন। নিহত বাবা-মা হলেন ৭৬ বছর বয়সী স্টিভ সিসলো এবং ৭২ বছর বয়সী ডোনা ওয়াকার-সিসলো। পুলিশ জানায়, বাড়ির জানালা দিয়ে তিনজনের মরদেহ দেখতে পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাড়ির ভেতর থেকে প্রোপেন বা গ্যাসোলিনের গন্ধও পেয়েছিলেন পুলিশ অফিসাররা। ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগেই সিসলোকে একটি সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, তার ৫৬ বছর বয়সী বান্ধবীকে আক্রমণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি শ্বাসরোধের একাধিক অভিযোগ এবং আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ওই মামলায় জেল থেকে বের হতে তার বাবা-মা ১০ হাজার ডলারের বেইল পরিশোধ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আগ্নেয়াস্ত্র রাখার ওপরও তার আইনি নিষেধাজ্ঞা ছিল। এরপরও তার বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে একটি বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী, সিসলোর পরবর্তী কোর্ট হিয়ারিং ২১ আগস্ট নির্ধারিত ছিল। তবে তার আগেই ঘটে গেল ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ড। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বাবার সঙ্গে সিসলোর সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। ২০২৪ সালে বাবা-ছেলের মধ্যে আরেকটি পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়নি। ঘটনাটিকে পুলিশ হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে ঠিক কী কারণে সিসলো তার বাবা-মাকে হত্যা করলেন এবং ঘটনার আগে বাড়িতে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের টিকা নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছেন ট্রাম্প, উদ্বেগে শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা
২০ বছরেই ১৫ কোটি ডলারের মালিক ট্রাম্পপুত্র ব্যারন, সম্পদে ছাড়িয়ে গেলেন মা মেলানিয়াকে