সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালে যেসব সরকারি সহায়তা পেতে পারেন

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১১:২৮
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার জন্য লাইনে দাঁড়ানো মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার জন্য লাইনে দাঁড়ানো মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো মানেই আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের সরকারি সহায়তার সুযোগও শেষ হয়ে যাওয়া নয়। পরিস্থিতি, আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বসবাসের অঙ্গরাজ্য এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর নির্ভর করে বেকার ব্যক্তি ও তার পরিবার বিভিন্ন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে বেকারত্ব বীমা, স্বাস্থ্যবিমা সহায়তা, খাদ্য সহায়তা, চাকরি খোঁজা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং কিছু ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা।

 

তবে এসব কর্মসূচির যোগ্যতার নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ফেডারেল আইন এবং ২০২৬ সালে কার্যকর বা পরিবর্তনশীল কিছু নিয়মের কারণে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা আরও জটিল হয়েছে।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তাগুলোর একটি হলো বেকারত্ব বীমা বা ইউআই। এটি ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের যৌথ ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হলেও প্রতিটি অঙ্গরাজ্য নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী সুবিধা দেয়। সাধারণত নিজের দোষে নয়, যেমন কর্মী ছাঁটাই বা কাজ না থাকার কারণে চাকরি হারালে এবং নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত কাজ ও মজুরির ইতিহাস থাকলে বেকারত্ব বীমা পাওয়ার সুযোগ থাকে। কত টাকা এবং কতদিন এই সুবিধা পাওয়া যাবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন।

 

অ-নাগরিকদের জন্যও বেকারত্ব বীমা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সুবিধা দাবি করার সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থাও যাচাই করতে পারে। ফলে গ্রিন কার্ডধারী বা বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা অন্য কর্মীরা শুধু মার্কিন নাগরিক নন বলে বেকারত্ব বীমা থেকে বাদ পড়েন না।

 

চাকরি হারানোর পর যত দ্রুত সম্ভব যে অঙ্গরাজ্যে কাজ করতেন, সেই অঙ্গরাজ্যের বেকারত্ব বীমা কর্মসূচিতে আবেদন করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু চাকরি হারিয়েছেন বলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা পাওয়া যায় না। কাজের ইতিহাস, মজুরি এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়।

 

চাকরির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা চলে গেলে আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হয়। চাকরি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা হারালে স্বাস্থ্যবিমা বাজারের মাধ্যমে নতুন বিমা পরিকল্পনায় যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চাকরি ছাড়া, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া বা অন্য কোনো কারণে চাকরির স্বাস্থ্যবিমা হারালেও বিশেষ নিবন্ধন সময়সীমার আওতায় নতুন পরিকল্পনার জন্য আবেদন করা যায়। সাধারণত চাকরির স্বাস্থ্যবিমা হারানোর ৬০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। আয় কমে গেলে মাসিক প্রিমিয়াম কমানোর জন্য কর-ছাড় বা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতাও তৈরি হতে পারে।

 

কিছু পরিবারের ক্ষেত্রে মেডিকেইডও গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। তবে মেডিকেইড পাওয়ার যোগ্যতা অঙ্গরাজ্য, আয়, পরিবারের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ২০২৬ সালে মেডিকেইডের নিয়মেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ফেডারেল আইনের অধীনে নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ, নির্দিষ্ট কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, সামাজিক সেবা বা শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মতো শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কিছু মানুষ এসব শর্তের বাইরে থাকতে পারেন এবং অঙ্গরাজ্যভেদে বাস্তবায়নের সময়ও ভিন্ন হতে পারে।

 

চাকরি হারিয়ে পরিবারের আয় কমে গেলে খাবারের খরচ সামলানোর জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বা স্ন্যাপের জন্যও আবেদন করা যেতে পারে। এটি সাধারণভাবে ‘ফুড স্ট্যাম্প’ নামে পরিচিত। স্ন্যাপের জন্য অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয় এবং আয়, সম্পদ ও পরিবারের সদস্যসংখ্যাসহ বিভিন্ন যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। ২০২৫ সালের নতুন ফেডারেল আইনের পর স্ন্যাপের কাজ-সংক্রান্ত শর্ত এবং অ-নাগরিকদের যোগ্যতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে।

 

অভিবাসীদের জন্য এ ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীরা সাধারণভাবে স্ন্যাপ পাওয়ার যোগ্য নন। নির্দিষ্ট কিছু বৈধভাবে অবস্থানরত অ-নাগরিক স্ন্যাপ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু এবং নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধিতার কারণে সুবিধা পাওয়া কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে। পরিবারের কোনো সদস্য স্ন্যাপের জন্য অযোগ্য হলেও পরিবারের অন্য যোগ্য সদস্যরা আবেদন করতে পারেন।

 

চাকরি হারানোর পর সরাসরি নগদ সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সবার জন্য নেই। তবে পরিবারে ছোট সন্তান থাকলে এবং আয় খুব কম হলে অঙ্গরাজ্যের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের জন্য সাময়িক সহায়তা কর্মসূচি বা ট্যানফের আওতায় সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। এই কর্মসূচি মূলত নিম্নআয়ের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার জন্য পরিচালিত হয়। এর নিয়ম, সুবিধার পরিমাণ এবং যোগ্যতার শর্ত অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন।

 

অন্যদিকে, সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই সাধারণ বেকার ভাতা নয়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অথবা নির্ধারিত ধরনের প্রতিবন্ধিতা রয়েছে এবং একই সঙ্গে সীমিত আয় ও সম্পদ রয়েছে, এমন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এসএসআই-এর জন্য যোগ্য হতে পারেন। তাই শুধু চাকরি হারিয়েছেন বলেই কেউ এসএসআই পাওয়ার যোগ্য হয়ে যান না।

 

সরকারি সহায়তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন চাকরি খোঁজা ও দক্ষতা উন্নয়ন। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি আমেরিকান জব সেন্টার রয়েছে। এসব কেন্দ্রে চাকরিপ্রার্থীরা বিনামূল্যে চাকরি খোঁজার সহায়তা, জীবনবৃত্তান্ত তৈরির পরামর্শ, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি, পেশা নির্বাচন-সংক্রান্ত পরামর্শ, চাকরি খোঁজার কর্মশালা এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তথ্য পেতে পারেন। কিছু কেন্দ্রে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাও থাকে।

 

বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন একই ধরনের কাজে ছিলেন এবং চাকরি হারানোর পর নতুন খাতে যেতে চান, তাদের জন্য এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। স্থানীয় কেন্দ্রে গিয়ে কোন প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থান কর্মসূচির জন্য তারা যোগ্য হতে পারেন, সে বিষয়েও তথ্য পাওয়া যায়।

 

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার যোগ্যতা নির্ধারণে শুধু বেকার হওয়াই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীর অঙ্গরাজ্য, পারিবারিক আয়, সম্পদ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কাজের ইতিহাস এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার ওপর নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একটি সরকারি সুবিধার যোগ্যতার নিয়ম দেখে অন্য সব সুবিধার ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

 

চাকরি হারালে প্রথম কাজ হওয়া উচিত দ্রুত বেকারত্ব বীমার জন্য আবেদন করা। পাশাপাশি নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরি শেষ হওয়া বা কর্মী ছাঁটাই-সংক্রান্ত নথি, শেষ কয়েকটি বেতনপত্র এবং কাজের ইতিহাসের অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা দরকার। চাকরি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমা কখন শেষ হবে, সেটিও জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর স্বাস্থ্যবিমা বাজার, মেডিকেইড অথবা চাকরি হারানোর পর সাময়িকভাবে আগের স্বাস্থ্যবিমা চালিয়ে যাওয়ার সুবিধা কোবরা, কোনটি প্রযোজ্য হতে পারে তা যাচাই করা যেতে পারে।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যোগ্যতা থাকলে সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করতে দ্বিধা না করা। তবে ২০২৬ সালে বিভিন্ন কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তিত হওয়ায়, বিশেষ করে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ যোগ্যতার শর্ত যাচাই করা জরুরি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ইরানের ৭ দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নির্বাচনের পর ফের হামলার আভাস
ইরানের ৭ দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, নির্বাচনের পর ফের হামলার আভাস

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে ইরানের দেওয়া সাত দিনের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমন তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানবে কি না তা নিয়ে ট্রাম্প সংশয়ী এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার মার্কিন বোমা হামলা শুরু হতে পারে বলে সহযোগীদের জানিয়েছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউস এখনো প্রকাশ্যে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয়নি।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের জানান, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি ‘সুনির্দিষ্ট সাত দিনের পরিকল্পনা’ পাঠিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় শর্তগুলো মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি জানান। আরাঘচির ভাষায়, সিদ্ধান্ত এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে, ইরানের আটকে থাকা অর্থ ছাড় করতে হবে এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের শর্ত রয়েছে। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনা শুরু করবে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি সাত দিনের একটি ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দেওয়ার পর সময় গণনা শুরু হবে; প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো কয়েক দিনের মধ্যে নেওয়ার পর ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সপ্তম দিনে পারস্পরিকভাবে সম্মত বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।   তবে পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি ইরান। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাত দিনের প্রস্তাব গ্রহণ করলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার কিংবা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর প্রশ্নে তেহরান নমনীয় হবে না। প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু চাপ বা জবরদস্তি মেনে নেবে না।   কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটিও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে একজন মার্কিন কর্মকর্তা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রত্যাখ্যানের খবর প্রকাশের পরও তেহরান বলছে, তারা ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।   সাত দিনের এই প্রস্তাবের পেছনে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার কাঠামোও রয়েছে। আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের কাছে নতুন কোনো দাবি তোলা হয়নি; যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পদক্ষেপ চাওয়া হচ্ছে, সেগুলো আগের সমঝোতাতেই ছিল। সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থামাতে পারেনি এবং পরে আবার হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়।   হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিষয় নয়। প্রায় সাত মাসের সংঘাতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেনে হুতিদের হামলা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিকল্প রেড সি রুটের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এর মধ্যেই ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘে ইরানকে আরও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি একই সঙ্গে বলেছিলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ফলে একদিকে ইরানের সাত দিনের দ্রুত সমঝোতার প্রস্তাব, অন্যদিকে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্য—দুই পক্ষের সময়সীমা ও শর্তে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ৪:২২
আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের: যুক্তরাষ্ট্র

পেনসিলভানিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, নতুন ৫৫ জনসহ আক্রান্ত ৮৯০

পেনসিলভানিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, নতুন ৫৫ জনসহ আক্রান্ত ৮৯০

অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লেই বিপুল অর্থ! তবুও ছাড়তে চাচ্ছেন না সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়াটিয়া

অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়লেই বিপুল অর্থ! তবুও ছাড়তে চাচ্ছেন না সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়াটিয়া

নিউইয়র্কে নতুন সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের সময় অক্টোবর পর্যন্ত
নিউইয়র্কে নতুন সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, আবেদনের সময় অক্টোবর পর্যন্ত

নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির তালিকায় ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কয়েকটি পদে আবেদন চলছে। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া বিজ্ঞপ্তিগুলোর মধ্যে অরেঞ্জ কাউন্টিতে ফায়ার সেফটি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা, চেনাঙ্গো কাউন্টিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স এবং অ্যালবানিতে স্বাস্থ্যসেবার আর্থিক কার্যক্রমসংক্রান্ত পদ রয়েছে। যোগ্যতা ও আবেদনের শেষ দিন পদভেদে আলাদা।    অরেঞ্জ কাউন্টির নিউবার্গে স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসের ট্রেনিং অফিসার পদের আবেদন শেষ হবে ১০ অক্টোবর। বার্ষিক বেতন ৭৩ হাজার ২৯৭ ডলার। দায়িত্বের মধ্যে ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা রয়েছে। এটি অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করার পদ নয়।    চেনাঙ্গো কাউন্টির অক্সফোর্ডে নিউইয়র্ক স্টেট ভেটেরান্স হোমে অস্থায়ী লাইসেন্সড প্র্যাকটিক্যাল নার্স পদেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আবেদনের শেষ দিন ১২ অক্টোবর। পদটির জন্য প্রয়োজনীয় নার্সিং লাইসেন্সসহ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া যোগ্যতা দেখতে হবে।    অ্যালবানিতে নিউইয়র্ক স্টেটের অফিস অব মেন্টাল হেলথ রিসোর্সেস অ্যান্ড রিইম্বার্সমেন্ট এজেন্ট প্রশিক্ষণার্থী পদে আবেদন নিচ্ছে। বেতন শুরু বছরে ৫৬ হাজার ১৮৩ ডলার থেকে; আবেদন শেষ ১২ অক্টোবর। প্রশিক্ষণার্থী স্তরেও সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে অভিজ্ঞতার একটি অংশ পূরণের সুযোগ আছে।    খসড়ায় উল্লিখিত নিউইয়র্ক সিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর পদটি সিটির চাকরির তালিকায় মেয়াদোত্তীর্ণ দেখাচ্ছে। তাই সেটিকে এখন আবেদনযোগ্য পদ হিসেবে প্রচার করা যাবে না। একইভাবে ‘আজই ৫০০টির বেশি পদে নিয়োগ’ কিংবা অ্যামাজনের নির্দিষ্ট বেতন ও সুযোগসুবিধার দাবিও নিশ্চিত তথ্য ছাড়া ব্যবহার করা ঠিক হবে না।    নিউইয়র্ক সিটির সব সরকারি চাকরিতে নাগরিকত্ব বা গ্রিন কার্ড বাধ্যতামূলক, এমন নিয়ম নেই। পদের বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকত্বের শর্ত থাকলে তা মানতে হবে; শর্ত না থাকলে নিয়োগের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি দেখাতে হয়। আবেদনকারীদের তাই পদের যোগ্যতা, কর্মস্থল, শেষ দিন ও আবেদনের পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ০:৪০
জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছেড়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডালাসের কাছে অভিযানে ১২১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে আড়াই মাসের বিশেষ অভিযানে ১২১ অভিবাসী গ্রেপ্তার

পুলিশের ধাওয়ার সময় চলন্ত গাড়ি থেকে নগদ টাকা ছুড়ে ফেলছেন সন্দেহভাজন চালক। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের ধাওয়া খেয়ে চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে হাজার হাজার ডলার ছুড়ে ফেললেন অভিযুক্ত

উচ্চ বাড়ির দাম ও বন্ধকী ঋণের সুদহারে নিউইয়র্কের প্রথমবারের ক্রেতারা চাপে পড়েছেন। ছবি: সংগৃহীত
বাড়ির চড়া দাম ও গৃহঋণের উচ্চ সুদে উভয় সংকটে নিউইয়র্কবাসী, প্রভাব পড়ছে বাসা ভাড়ার বাজারেও

নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া মানুষের জন্য আবাসন বাজারে সামর্থ্যের সংকট আরও গভীর হচ্ছে। বাড়ির দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকা এবং বিক্রির জন্য পর্যাপ্ত বাড়ি না থাকায় এমনিতেই চাপে থাকা ক্রেতাদের জন্য নতুন করে সমস্যা তৈরি করেছে ৩০ বছরের স্থির বন্ধকী ঋণের সুদহার ৭ শতাংশের ওপরে উঠে যাওয়া।   ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যাচিভের নতুন গবেষণা অনুযায়ী, প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠিন মহানগর আবাসন বাজারগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।   গবেষণায় বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক মহানগর এলাকায় একটি প্রাথমিক পর্যায়ের বাড়ির গড় দাম প্রায় ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৯ ডলার। অন্যদিকে ওই এলাকার একটি পরিবারের মধ্যম বা মধ্যম মানের বার্ষিক আয় প্রায় ৯৯ হাজার ১৫৫ ডলার।   অ্যাচিভের হিসাব অনুযায়ী, ১০ শতাংশ অগ্রিম অর্থ দিয়ে একটি বাড়ি কিনে এবং পরিবারের মোট আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ বন্ধকী কিস্তিতে ব্যয় করার শর্ত ধরলে, ওই বাড়িটি স্বাচ্ছন্দ্যে কিনতে একটি পরিবারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৮০ ডলার। অর্থাৎ নিউইয়র্ক মহানগরের সাধারণ পরিবারের আয়ের তুলনায় প্রয়োজনীয় আয় প্রায় ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।   এই হিসাব এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের স্থির বন্ধকী ঋণের গড় সুদহার আবার ৭ শতাংশের ওপরে উঠেছে। কয়েক বছর ধরে তুলনামূলকভাবে নিম্ন সুদহারের পর ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি কেনার সামর্থ্য আরও কমে যাচ্ছে।   তবে নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে সমস্যা শুধু সুদের হার নয়। স্ট্রিটম্যাট্রিক্সের মূল্যায়নকারী জোনাথন মিলারের মতে, বিক্রির জন্য বাড়ির তীব্র সংকট বাজারে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে সুদের হার বাড়লেও বাড়ির দাম প্রত্যাশিতভাবে কমছে না।   সাধারণত বন্ধকী ঋণের সুদহার দ্রুত বেড়ে গেলে বাড়ি কেনার খরচ বাড়ে, ফলে বিক্রি কমে এবং বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সংখ্যা বাড়ার কথা। এতে বাড়ির দাম কিছুটা কমে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি তৈরি হতে পারে। কিন্তু নিউইয়র্কে পর্যাপ্ত বাড়ি বাজারে না আসায় সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কাজ করছে না। মিলার বলেন, বাড়ির পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকাটা আবাসন সামর্থ্যের ওপর সুদের হারের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলছে।   এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি ‘মর্টগেজ লক-ইন’ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক বাড়ির মালিক আগের বছরগুলোতে ২ থেকে ৩ শতাংশের কাছাকাছি খুব কম সুদে বন্ধকী ঋণ নিয়েছিলেন। এখন তারা সেই বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়ি কিনলে প্রায় ৭ শতাংশ সুদে নতুন ঋণ নিতে হবে। ফলে অনেক মালিকই বাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী নন।   এর ফলে বাজারে বাড়ির সরবরাহ আরও কমে যাচ্ছে। নতুন ক্রেতাদের জন্য সুদের হার বাড়ছে, আবার পুরোনো মালিকেরা কম সুদের ঋণ ছেড়ে নতুন ঋণে যেতে চাইছেন না। এতে বাড়ির দামও তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে থেকে যাচ্ছে।   ডগলাস এলিম্যানের জেসিকা পিটার্স বলেন, উচ্চ ঋণ ব্যয়ের পাশাপাশি নিউইয়র্কের বাড়ির দামও স্থিতিশীল রয়েছে, বিশেষ করে জনপ্রিয় এলাকাগুলোতে। সেখানে বাড়ির সরবরাহ সীমিত হওয়ায় ক্রেতারা দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়ছেন।   বাড়ি কেনার খরচ শুধু মাসিক বন্ধকী কিস্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। নিউইয়র্কের ক্রেতাদের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, ভবনের সাধারণ ব্যবস্থাপনা ফি, কর এবং বাড়ি কেনার সময়ের অন্যান্য খরচও বহন করতে হয়। ফলে মাসিক মোট ব্যয় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।   এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা পুরোপুরি বাজার থেকে সরে না গিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করছেন। কেউ বেশি অগ্রিম অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ কম দামের বাড়ি খুঁজছেন। কেউ আবার অন্য এলাকায় খোঁজ করছেন কিংবা কনডোর পরিবর্তে ছোট অ্যাপার্টমেন্ট বা কো-অপ বেছে নিচ্ছেন।   তবে যাদের হাতে নগদ অর্থ কম এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়, তাদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কঠিন। বিশেষ করে প্রথমবারের ক্রেতারা সুদের হারের সামান্য পরিবর্তনেও মাসিক কিস্তিতে বড় পার্থক্য দেখতে পারেন।   ম্যানহাটনের বাজারেও এই ব্যবধান স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন মিলার। তার মতে, বাড়ির দাম যত বেশি হয়, ক্রেতাদের বন্ধকী ঋণের ওপর নির্ভরতা তত কমে। আর কম দামের বাড়ির ক্ষেত্রে ক্রেতারা সাধারণত ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করেন। ফলে সুদের হার বাড়লে তুলনামূলক কম দামের বাড়ির ক্রেতারা বেশি চাপে পড়েন।   এঙ্গেল অ্যান্ড ভল্কার্স নিউইয়র্কের ব্রোকার ডোনাল্ড ব্রেনানও নিউইয়র্কের ক্রেতাদের মধ্যে এই পার্থক্য লক্ষ্য করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানের নিউইয়র্ক কার্যালয়ের সঙ্গে কাজ করা বাড়ির ক্রেতাদের মধ্যে নগদ অর্থে কেনার প্রবণতা বেশি। আগের সময়ে নগদ ও ঋণনির্ভর ক্রেতাদের মধ্যে তুলনামূলক ভারসাম্য ছিল।   এদিকে যারা বাড়ি কেনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছেন, তাদের জন্য ভাড়া বাসাও খুব একটা সহজ বিকল্প হয়ে উঠছে না। বাড়ি কেনার পরিবর্তে বেশি মানুষ দীর্ঘ সময় ভাড়া বাসায় থাকলে ভাড়ার আবাসনের ওপরও চাপ বাড়তে পারে।   মিলারের মতে, উচ্চ বন্ধকী ঋণের সুদহার সম্ভাব্য ক্রেতাদের দীর্ঘ সময় ভাড়াটে থাকতে বাধ্য করতে পারে। এতে ভাড়া বাসার চাহিদা বাড়ে এবং সীমিত সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়। ফলে আবাসন সামর্থ্যের সমস্যা শুধু বাড়ি কেনার বাজারে নয়, ভাড়ার বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।   অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা এখন সুদের হার কমার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সুদের হার কমলেই আবাসন সামর্থ্যের সমস্যা সমাধান হবে না। সুদের হার কমার সঙ্গে সঙ্গে যদি বাজারে ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যায়, কিন্তু বাড়ির সরবরাহ একই থাকে, তাহলে বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে।   ডগলাস এলিম্যানের পিটার্সের মতে, আবাসন সামর্থ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হলে শুধু কম সুদের ঋণ নয়, বিভিন্ন দামের স্তরে আরও বেশি বাড়ি বাজারে আসাও প্রয়োজন।   রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেলও ক্রেতাদের শুধু সুদের হার দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, একটি বাড়ির দাম, ঋণের সুদ এবং ক্রেতার সামগ্রিক আবাসন বাজেট একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।   রিয়েল্টর ডটকমের গবেষণা অনুযায়ী, যারা প্রায় তিন মাসের মধ্যে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবেন, তাদের বর্তমান সুদের হার থেকে প্রায় ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট পর্যন্ত ওঠানামা ধরে বাজেট প্রস্তুত রাখা উচিত। কারণ চূড়ান্তভাবে ঋণ নেওয়ার সময় আজকের সুদের হার একই থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই।   সুদের হার কমার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের জন্য ‘এখন কিনুন, পরে সুদ কমলে ঋণ পুনর্অর্থায়ন করুন’ ধরনের কৌশলও নিশ্চিত সমাধান নয়। কারণ ভবিষ্যতে সুদের হার কতটা কমবে, তা নিশ্চিত নয়। পাশাপাশি সুদের হার কমলে বাড়ির চাহিদা ও দামও বাড়তে পারে।   স্ট্রিটম্যাট্রিক্সের মিলারের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা আগামী কয়েক বছর ঋণের খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ফেডারেল রিজার্ভ সরাসরি ৩০ বছরের বন্ধকী ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করে না। এর মুদ্রানীতি ও মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি ঋণবাজারের সুদের হারে প্রভাব ফেলে।   ফলে নিউইয়র্কের আবাসন বাজারে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য পরিস্থিতি আপাতত জটিলই থাকছে। বাড়ির দাম বেশি, বিক্রির জন্য বাড়ি কম এবং ঋণের খরচও বেড়েছে। একই সময়ে যারা কিনতে পারছেন না, তাদের ভাড়া বাসায় থাকার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে। অর্থাৎ আবাসন ব্যয়ের চাপ বাড়ি কেনার বাজার ছাড়িয়ে ভাড়ার বাজারেও ছড়িয়ে পড়ছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, অ্যাচিভ, রিয়েল্টর ডটকম

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ২১:৩১
অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের গড় আয়ু কম বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যয় করেও গড় আয়ুতে ৩৮তম অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে তরুণদের অকালমৃত্যু

কংগ্রেসের অনুমোদিত সরকারি তহবিল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নির্দেশে ৮১০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল বাতিল, বড় কাটছাঁট অভিবাসন খাতে

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান

নিউইয়র্কে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের আহ্বান

0 Comments