আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার চাওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই: মেলিসা ব্যারেরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১১:৩৬
মেক্সিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা মেলিসা ব্যারেরা। ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা মেলিসা ব্যারেরা। ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা মেলিসা ব্যারেরা বলেছেন, ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং গাজায় ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণে ‘স্ক্রিম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বাদ পড়ার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তার দাবি, এ ধরনের বক্তব্যের কারণে বিনোদন জগতের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনেক মানুষ চাকরি হারিয়েছেন।

 

‘লাতিনো ইউএসএ’কে দেওয়া এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ব্যারেরা উপস্থাপক মারিয়া হিনোজোসার সঙ্গে কথা বলার সময় ফ্র্যাঞ্চাইজিটির প্রযোজকদের হাতে তিনি ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নে সম্মতি জানান। তিনি বলেন, এমন পরিণতির মুখোমুখি হওয়া তিনিই প্রথম নন এবং শেষও নন।

 

ব্যারেরার ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার এবং গাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে আরও অনেক মানুষ পেশাগতভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে তিনি যেসব ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের নাম বা নির্দিষ্ট চাকরি হারানোর ঘটনা এই প্রতিবেদনের প্রাপ্ত তথ্য থেকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

 

ব্যারেরাকে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ‘স্ক্রিম ৭’ থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি ‘স্ক্রিম’ এবং ‘স্ক্রিম ৬’ সিনেমায় স্যাম কার্পেন্টার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্পাইগ্লাস মিডিয়া জানিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যারেরার কিছু পোস্টকে তারা ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং প্রতিষ্ঠানটি ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখাবে না। 

 

সেই সময় ব্যারেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজা ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে একাধিক পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এর মধ্যে কয়েকটি পোস্টে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ তোলা হয়েছিল এবং গাজার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছিল। স্পাইগ্লাস এসব বক্তব্যের কিছু অংশকে ইহুদিবিদ্বেষ এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্যের সীমা অতিক্রমকারী হিসেবে দেখেছিল। 

 

ব্যারেরা অবশ্য তখন ইহুদিবিদ্বেষ ও ইসলামোফোবিয়ার নিন্দা করেছিলেন। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেছিলেন, মানবাধিকার, স্বাধীনতা, শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে কথা বলা থেকে তিনি সরে আসবেন না। তার বক্তব্য ছিল, নীরব থাকা তার জন্য কোনো বিকল্প নয়। 

 

‘স্ক্রিম’ ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে বাদ পড়ার পর ব্যারেরার ক্যারিয়ার নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। ২০২৪ সালে তিনি জানান, বরখাস্ত হওয়ার পর প্রায় ১০ মাস বড় ধরনের অভিনয়ের প্রস্তাব অনেকটাই কমে গিয়েছিল। পরে তিনি নিজের ক্যারিয়ার, মূল্যবোধ এবং জনসমক্ষে নিজের অবস্থান প্রকাশের বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়ন করার কথা বলেন। 

 

ব্যারেরা ‘লাতিনো ইউএসএ’র সঙ্গে আগেও কথা বলেছেন। ২০২৪ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি মেক্সিকোর টেলিনোভেলা থেকে হলিউডে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পথ, অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ এবং নিজের অবস্থান প্রকাশে জনপ্রিয়তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। 

 

‘স্ক্রিম’ থেকে তার বাদ পড়ার ঘটনা সে সময় হলিউডে ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্য নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে আসে। ব্যারেরার পাশাপাশি অভিনেত্রী সুসান সারান্ডনসহ আরও কয়েকজন বিনোদন ব্যক্তিত্ব ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কারণে পেশাগত প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছিলেন। 

 

ব্যারেরার সর্বশেষ মন্তব্যে সেই পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তার বক্তব্যের মূল প্রশ্ন হলো, কোনো শিল্পী বা পেশাজীবী আন্তর্জাতিক সংঘাত ও মানবাধিকার নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলে সেই মতপ্রকাশের কারণে তার পেশাগত সুযোগ কতটা প্রভাবিত হতে পারে। আর এ কারণেই ‘স্ক্রিম’ থেকে বাদ পড়ার ঘটনা ঘিরে তার অভিযোগ এখনও হলিউডে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান আলোচনার অংশ হয়ে আছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলায় প্রাণহানি ২০০০ ছাড়াল
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলায় প্রাণহানি ২০০০ ছাড়াল; ডব্লিউএইচও বলছে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রকোপে এখন পর্যন্ত অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে। সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৮১ জনের শরীরে ইবোলা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ১১ জন মারা গেছেন। ২০১৪-১৬ সালের স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রকোপের তুলনায় এবার প্রায় তিন গুণ দ্রুত গতিতে মৃত্যুর এই সংখ্যা ছুঁয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকোপের ঘোষণা দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, মূলত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এর শুরু হয়েছিল।   প্রথম এক হাজার মানুষের মৃত্যু হতে যেখানে প্রায় নয় সপ্তাহ সময় লেগেছিল, সেখানে পরবর্তী মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই মৃতের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ইতুরি প্রদেশের একটি স্থানীয় ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক ড. জিন-ম্যারি আকান্দাবো এই পরিস্থিতিকে 'উদ্বেগজনক' আখ্যা দিয়ে দুর্গত এলাকাগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দ্বিগুণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি ইতিমধ্যেই ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে। এর আগে ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় সবচেয়ে বড় ইবোলা সংক্রমণে ২৮ হাজারের বেশি আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।   এবারের প্রকোপটি আগেরগুলোর চেয়ে বেশ আলাদা। কারণ, 'বান্ডিবুগিও' (Bundibugyo) নামক ভাইরাসের একটি বিরল ধরন এর জন্য দায়ী, যার কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এই ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল চিহ্নিত করে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা শুরু হয়েছে। তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত, অনুন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং বেতন নিয়ে জটিলতার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মবিরতির ফলে দুর্গম এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছানো চরম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, নতুন আক্রান্তদের বেশিরভাগই নজরদারির বাইরে থাকা এলাকা থেকে আসছেন, যা প্রমাণ করে যে সংক্রমণটি স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।   সীমিত চিকিৎসা সেবার কারণে এবারের সংক্রমণে মৃত্যুর হার আগের চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমানে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৪৫.৯ শতাংশ, যা ২০১৪-১৬ সালের প্রকোপের ৩৯.৬ শতাংশের চেয়েও ভয়াবহ। শুরুতে দুর্গম ও সংবেদনশীল এই অঞ্চলে ইবোলার উপসর্গগুলোকে ভুলবশত ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ডব্লিউএইচও-এর আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইয়াকুব জানাবি একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান, কর্মকর্তারা ভাইরাসের পেছনে ছুটছেন, কিন্তু ভাইরাসটি তাদের চেয়েও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। ইতুরি অঞ্চলে জনসমাগম সীমিত করার পাশাপাশি প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হলেও ব্যবসা, খনি শ্রমিকদের যাতায়াত এবং সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের চলাচলের ফলে পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও রুয়ান্ডা সীমান্তে বিস্তারের চরম ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এটি কঙ্গোর ১৭তম এবং এযাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রকোপ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৩:৫
মেক্সিকান অভিনেত্রী ও গায়িকা মেলিসা ব্যারেরা। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার চাওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই: মেলিসা ব্যারেরা

শিশুর সিটবেল্ট না বাঁধায় কানাডায় পুরো ফ্লাইট বাতিল

সিটে বসে সিটবেল্ট বাঁধতে শিশুর অস্বীকৃতির জেরে বাতিল হয় যাত্রীবাহী ফ্লাইট।

ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ায় ভবন ধস ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। ছবি:সংগৃহীত

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ভবন ধসে নিহত অন্তত ১১১, আহত বহু মানুষ

১০ আগস্ট ২০২৬-এর হামলায় নিজনেকামস্কের তানেকো তেল শোধনাগার ও আশপাশের এলাকায় হামলার খবর নিশ্চিত করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। ছবি:সংগৃহীত
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত ১৩, আহত ৭৫

রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের নিজনেকামস্ক শহরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৭৫ জন আহত হয়েছেন। রুশ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে রুশ ভূখণ্ডে বেসামরিক হতাহতের দিক থেকে এটি অন্যতম ভয়াবহ হামলা।   সোমবারের এই হামলায় শিল্প ও বেসামরিকদুই ধরনের স্থাপনাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হামলার প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি ছিল নিজনেকামস্কের তানেকো তেল শোধনাগার। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। শোধনাগারটি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর একটি এবং এর আগে জুন মাসেও এটি হামলার শিকার হয়েছিল।   হামলার সময় একটি আবাসিক হোস্টেলও আক্রান্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের একটি বড় অংশ ওই হোস্টেলে অবস্থান করছিলেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। উজবেকিস্তানের কনস্যুলেট জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন উজবেক নাগরিক ছিলেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   নিজনেকামস্ক মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পূর্বে তাতারস্তান অঞ্চলে অবস্থিত। ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে শহরটি অনেক দূরে হওয়ায় এত গভীরে ড্রোন হামলা চালানোর ঘটনা যুদ্ধের নতুন মাত্রা তুলে ধরেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করে তেল শোধনাগার, জ্বালানি স্থাপনা ও সামরিক অবকাঠামোতে হামলা বাড়িয়েছে।   রাশিয়ার কর্মকর্তারা হামলার ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করে তদন্ত শুরু করেছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া তাদের ভূখণ্ডে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে এবং তারই জবাবে রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।   হামলার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধোঁয়া ও আগুনের দৃশ্য দেখা যায়। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালায় এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের সংখ্যা ও ধ্বংসের বিষয়টি তদন্ত করছে।   একই সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পাশাপাশি ইউক্রেনের শহরগুলোতেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের বেসামরিক জনগণের ওপর যুদ্ধের প্রভাব আরও তীব্র হয়েছে।    নিজনেকামস্কের এই হামলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দুটি কারণে একদিকে এতে প্রাণহানি অনেক বেশি, অন্যদিকে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের আঘাত আরও গভীরে পৌঁছানোর বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ধারাবাহিক হামলা রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ও যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরির ইউক্রেনীয় কৌশলের অংশ।   তবে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের উভয় পক্ষই সাধারণ মানুষের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নিজনেকামস্কের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলে হামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতি এবং হতাহতের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:১৮
২০১৫ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর নিজের বিলাসবহুল জীবন ও সম্পদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলেন আলী বানাত। ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসার ধরা পড়ার পর সম্পদ বিলিয়ে মানবসেবায় নামেন আলী বানাত

ভারতের পুলিশের অভিযানে বাইক আটক। ছবি:সংগৃহীত

ভারতে ‘১০০ হর্ন’ লাগানো বাইকারের বাইক জব্দ করল পুলিশ

পাকিস্তানে পুলিশের অভিযান। ছবি:সংগৃহীত

কাশ্মীরে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ব্রিটিশ নাগরিক নিহত

নারী হয়েও অন্য এক নারীর প্রেমে পড়েছেন স্ত্রী, তবু দাবি ‘এটা প্রতারণা নয়’; অদ্ভুত যুক্তিতে হতবাক স্বামী
নারী হয়েও অন্য এক নারীর প্রেমে পড়েছেন স্ত্রী, তবু দাবি ‘এটা প্রতারণা নয়’; অদ্ভুত যুক্তিতে হতবাক স্বামী

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জনপ্রিয় পরামর্শ কলাম 'আস্ক জানা'-তে (Ask Jana) সম্প্রতি এক অসহায় স্বামী তার দাম্পত্য জীবনের চরম সংকটের কথা তুলে ধরেছেন। জিমে গিয়ে অন্য এক নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন তার স্ত্রী। স্বামীর কাছে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ধরা পড়ার পর মানসিকভাবে তিনি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন।   তবে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে যখন তার স্ত্রী দাবি করেছেন যে, কোনো পুরুষের বদলে একজন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর কারণে এটিকে কোনোভাবেই 'প্রতারণা' বা 'চিটিং' বলা চলে না। স্ত্রীর এমন অদ্ভুত যুক্তি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ওই স্বামী।   পরামর্শদাতা জানার কাছে পাঠানো চিঠিতে ওই স্বামী জানান, তিনি তার স্ত্রীকে গভীরভাবে ভালোবাসেন এবং এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার পরও তাকে ক্ষমা করে সংসার টিকিয়ে রাখতে চান। কিন্তু স্ত্রীর নিজের কৃতকর্মের জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা না থাকা এবং ঘটনাটিকে প্রতারণা হিসেবে স্বীকার না করার বিষয়টি ওই স্বামীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। স্ত্রীর ভাষ্যমতে, সমকামী সম্পর্কের কারণে তাদের দাম্পত্যের কোনো ক্ষতি হয়নি।   কিন্তু ওই স্বামীর কাছে বিশ্বাসভঙ্গই হলো প্রতারণার মূল ভিত্তি, যা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির লিঙ্গ বা সম্পর্কের ধরন দিয়ে কখনোই পরিমাপ করা যায় না।   বর্তমানে স্ত্রীর এই একগুঁয়ে মনোভাব এবং নিজের মানসিক টানাপোড়েন থেকে মুক্তি পেতে ওই স্বামী বিশেষজ্ঞদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ চেয়েছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পাঠকমহলে সম্পর্কের বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রতারণার সংজ্ঞা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৯, ২০২৬ ২০:২
ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার, উৎপাদন বাড়াতে কড়া নির্দেশ

ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার, উৎপাদন বাড়াতে কড়া নির্দেশ

সৌদিতে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনই বাংলাদেশি

সৌদিতে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনই বাংলাদেশি

মেয়ের জীবন বাঁচানো হাসপাতালকে ভুলেননি জনি ডেপ, কৃতজ্ঞতায় দিলেন লাখো ডলার অনুদান

মেয়ের জীবন বাঁচানো হাসপাতালকে ভুলেননি জনি ডেপ, কৃতজ্ঞতায় দিলেন লাখো ডলার অনুদান

0 Comments