যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়াতে যেসব ক্রেডিট ও ডিডাকশন মিস করা উচিত নয়
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো নিজের জন্য প্রযোজ্য সব ট্যাক্স ক্রেডিট ও ডিডাকশন সঠিকভাবে ক্লেম করা। আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট, চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট, ডে-কেয়ার খরচ, এডুকেশন ক্রেডিটসহ কয়েকটি সুবিধা বাদ পড়ে গেলে যোগ্য ট্যাক্সপেয়ারদের শত শত থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত কম রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে ২০২৬ ট্যাক্স সিজন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ২০২৬ সালে যে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে, সেটি মূলত ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারের আয় ও খরচের হিসাব। অন্যদিকে আইআরএস ঘোষিত ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারের কিছু নতুন সীমা ও অঙ্ক প্রযোজ্য হবে ২০২৬ সালের আয় ও লেনদেনে, যার রিটার্ন সাধারণভাবে ২০২৭ সালে ফাইল করা হবে।
২০২৬ ফাইলিং সিজনে অর্থাৎ ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারের রিটার্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর একটি আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট বা ইআইটিসি। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকলে ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে সর্বোচ্চ ইআইটিসি ৮ হাজার ৪৬ ডলার। দুই সন্তান থাকলে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫২ ডলার, এক সন্তান থাকলে ৪ হাজার ৩২৮ ডলার এবং যোগ্য সন্তান না থাকলে সর্বোচ্চ ৬৪৯ ডলার।
ইআইটিসির ক্ষেত্রে শুধু আয়ের পরিমাণ নয়, ফাইলিং স্ট্যাটাস, সন্তানের সংখ্যা, বয়স, রেসিডেন্সি এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে যোগ্য সন্তান না থাকা একজন সিঙ্গেল ফাইলারের আয় ও অ্যাডজাস্টেড গ্রস ইনকাম ১৯ হাজার ১০৪ ডলারের কম হতে হবে। ম্যারিড ফাইলিং জয়েন্টলি হলে এই সীমা ২৬ হাজার ২১৪ ডলার। তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকলে সীমা যথাক্রমে ৬১ হাজার ৫৫৫ এবং ৬৮ হাজার ৬৭৫ ডলার।
ইআইটিসি ক্লেম করতে ফর্ম ১০৪০ অথবা ১০৪০-এসআর ফাইল করতে হয়। যোগ্য সন্তানকে ভিত্তি করে ক্রেডিট ক্লেম করলে শিডিউল ইআইসিও যুক্ত করতে হয়। সন্তান ছাড়া ইআইটিসি ক্লেমের ক্ষেত্রে শিডিউল ইআইসি প্রয়োজন হয় না।
চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটও পরিবারগুলোর জন্য বড় সুবিধা দিতে পারে। ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে প্রতিটি যোগ্য সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ ডলার চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে শর্ত পূরণ করলে অ্যাডিশনাল চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত রিফান্ডেবল হতে পারে। সাধারণভাবে যোগ্য শিশুর বয়স ট্যাক্স ইয়ার শেষে ১৭ বছরের নিচে হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইআরএস শর্তও পূরণ করতে হবে।
কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য চাইল্ড অ্যান্ড ডিপেন্ডেন্ট কেয়ার ক্রেডিটও গুরুত্বপূর্ণ। কাজ করা বা চাকরি খোঁজার সুযোগ তৈরি করতে যোগ্য সন্তান বা নির্ভরশীল ব্যক্তির যত্নে অর্থ ব্যয় করলে এই ক্রেডিট পাওয়া যেতে পারে। হিসাবের জন্য সর্বোচ্চ ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ বিবেচিত হতে পারে একজন যোগ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে এবং দুই বা তার বেশি যোগ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ডলার।
ডে-কেয়ার বা বেবিসিটারের খরচ ক্লেম করার ক্ষেত্রে শুধু টাকা খরচ হয়েছে বললেই হবে না। ট্যাক্স রিটার্নে কেয়ার প্রোভাইডারের নাম, ঠিকানা এবং সাধারণত সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা এমপ্লয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দিতে হয়। এ কারণে ক্যাশে অর্থ পরিশোধ করলেও প্রয়োজনীয় রেকর্ড ও প্রোভাইডারের তথ্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্রেডিটের জন্য সাধারণত ফর্ম ২৪৪১ ব্যবহার করা হয়।
ডিডাকশনের ক্ষেত্রেও সঠিক হিসাব বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন সিঙ্গেল ফাইলারের জন্য ১৫ হাজার ৭৫০ ডলার, ম্যারিড ফাইলিং জয়েন্টলির জন্য ৩১ হাজার ৫০০ ডলার এবং হেড অব হাউসহোল্ডের জন্য ২৩ হাজার ৬২৫ ডলার। কারও অনুমোদিত আইটেমাইজড ডিডাকশন স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের চেয়ে বেশি হলে আইটেমাইজ করা লাভজনক হতে পারে। তবে মর্টগেজ ইন্টারেস্ট, স্টেট ও লোকাল ট্যাক্স এবং চ্যারিটেবল কন্ট্রিবিউশনের মতো প্রতিটি ডিডাকশনের নিজস্ব যোগ্যতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এডুকেশন ক্রেডিটও অনেক পরিবারের ট্যাক্স বিল কমাতে পারে। যোগ্য শিক্ষার্থীর অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে আমেরিকান অপরচুনিটি ট্যাক্স ক্রেডিট বছরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এর সর্বোচ্চ ১ হাজার ডলার রিফান্ডেবল হতে পারে। আয়সহ অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত এখানে প্রযোজ্য।
রিটায়ারমেন্ট সেভিংসের ক্ষেত্রেও সুযোগ রয়েছে। যোগ্য ট্যাক্সপেয়াররা ট্র্যাডিশনাল আইআরএতে অনুমোদিত কন্ট্রিবিউশনের জন্য ডিডাকশন পেতে পারেন, যদিও পুরো কন্ট্রিবিউশন ডিডাক্ট করা যাবে কি না তা আয়, ফাইলিং স্ট্যাটাস এবং কর্মক্ষেত্রে রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানের আওতায় থাকার মতো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ফলে আইআরএতে টাকা জমা দিলেই সবার রিফান্ড একইভাবে বাড়বে এমন নয়।
আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে অ্যাডপশন ক্রেডিটে। তবে এখানে ২০২৫ ও ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারের অঙ্ক আলাদা। ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে যোগ্য দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ক্রেডিট ১৭ হাজার ২৮০ ডলার এবং এর সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার রিফান্ডেবল। ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারে সর্বোচ্চ অ্যাডপশন ক্রেডিট বেড়ে ১৭ হাজার ৬৭০ ডলার হয়েছে এবং রিফান্ডেবল অংশ সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১২০ ডলার। ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারের এই অঙ্ক সাধারণত ২০২৭ সালে ফাইল করা রিটার্নে প্রযোজ্য হবে।
একইভাবে ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারে তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকা ট্যাক্সপেয়ারের সর্বোচ্চ ইআইটিসি বেড়ে ৮ হাজার ২৩১ ডলার হয়েছে। ফলে এই অঙ্কটি ২০২৬ ফাইলিং সিজনের রিফান্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না। এটি ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারের সীমা।
রিফান্ড পাওয়ার সময় নিয়েও বিভ্রান্তি এড়ানো জরুরি। আইন অনুযায়ী ইআইটিসি বা অ্যাডিশনাল চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট থাকা রিটার্নের রিফান্ড আইআরএস ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝির আগে ইস্যু করতে পারে না। ২০২৬ ফাইলিং সিজনে আইআরএস জানিয়েছিল, যেসব প্রাথমিক ফাইলার ই-ফাইল করেছেন, ডিরেক্ট ডিপোজিট বেছে নিয়েছেন এবং যাদের রিটার্নে অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়নি, তাদের অধিকাংশের রিফান্ড ২ মার্চের মধ্যে পাওয়ার কথা ছিল। ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনেক ফাইলার ‘হোয়্যারস মাই রিফান্ড’ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ডিপোজিটের তারিখ দেখতে পেরেছেন।
আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ স্বাভাবিক রিফান্ড ২১ দিনের কম সময়ে ইস্যু করা হয়, তবে রিটার্নে ভুল, অসম্পূর্ণ তথ্য, পরিচয় যাচাই বা অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন হলে বেশি সময় লাগতে পারে। ই-ফাইল এবং ডিরেক্ট ডিপোজিট সাধারণত দ্রুততম পদ্ধতি।
যোগ্য ব্যক্তিরা আইআরএস ফ্রি ফাইল এবং ভিটা কর্মসূচির মাধ্যমে বিনা খরচে বা বিনামূল্যের সহায়তায় রিটার্ন প্রস্তুত করার সুযোগও পেতে পারেন। একই সঙ্গে আইআরএস নিয়মিতভাবে ভুয়া বা অনৈতিক ট্যাক্স প্রিপেয়ারার এবং যোগ্যতা ছাড়া বড় রিফান্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক করে আসছে।
সবচেয়ে বড় রিফান্ড পাওয়ার অর্থ এমন কোনো ক্রেডিট বা ডিডাকশন ক্লেম করা নয় যার জন্য ট্যাক্সপেয়ার যোগ্য নন। বরং নিজের আয়, সন্তান, ডে-কেয়ার, শিক্ষা, রিটায়ারমেন্ট সেভিংস এবং অন্যান্য অনুমোদিত খরচের ভিত্তিতে যে সুবিধাগুলো আইনগতভাবে প্রযোজ্য, সেগুলো সঠিকভাবে ক্লেম করাই ট্যাক্স বিল কমানো এবং বৈধ রিফান্ড নিশ্চিত করার নিরাপদ উপায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড কাঁচা গরুর মাংস বাজার থেকে জরুরি ভিত্তিতে তুলে নেওয়া হচ্ছে। সঠিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা 'রি-ইন্সপেকশন' ছাড়াই এই বিপুল পরিমাণ মাংস বাজারে সরবরাহ করার কারণে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ)-এর ফুড সেফটি অ্যান্ড ইন্সপেকশন সার্ভিস (এফএসআইএস)। ফ্লোরিডাভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'কোর্টে আর্জেন্টিনো ইউএসএ' মূলত আর্জেন্টিনা থেকে এই মাংস আমদানি করেছিল। সাধারণত কোনো খাদ্যপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে পৌঁছালে কাস্টমস এবং অ্যানিমেল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইন্সপেকশন সার্ভিস এর কাগজপত্র, প্যাকেজিং ও গুণগত মান পরীক্ষা করে থাকে। অনেক সময় দূষণ পরীক্ষার জন্য নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এই কাঁচা গরুর মাংসের চালানটি সেই রুটিন পরীক্ষা এড়িয়ে সরাসরি ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসের বিভিন্ন পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে এফএসআইএস-এর নিয়মিত পরিদর্শনের সময় এই গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ে। জানা গেছে, পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া এই মাংসগুলো চলতি বছরের ১৫ থেকে ২০ মে-এর মধ্যে প্যাকেটজাত করা হয়েছিল এবং এগুলোর ব্যবহারের শেষ মেয়াদ (use-by বা freeze-by date) ছিল ১৫ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর। বাজার থেকে তুলে নেওয়া পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ওজনের কার্ডবোর্ড বক্সে রাখা হাড়বিহীন গরুর মাংস। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— টপ সারলয়েন বাট, আই রাউন্ড, টপসাইড, ফ্ল্যাট এবং নাকল, যা আর্জেন্টিনার 'ফ্রিগোরিফিকো গোরিনা এসএআইসি' থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল। পণ্যগুলোর গায়ে আর্জেন্টিনার স্ট্যাবলিশমেন্ট নম্বর 'EST. N° OF. 2025' এবং শিপিং মার্ক '26644-AA' উল্লেখ রয়েছে। এফএসআইএস সতর্ক করেছে যে, এই মাংসগুলো ইতিমধ্যেই অনেক ক্রেতার রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজারে সংরক্ষিত থাকতে পারে। ক্রেতাদের এসব পণ্য কোনোভাবেই না খেয়ে সরাসরি বক্সে করে ফেলে দিতে অথবা যেখান থেকে কিনেছেন সেখানে ফেরত দেওয়ার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এসব মাংস খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন, এমন কোনো খবর পাওয়া যায়নি। শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য 'কোর্টে আর্জেন্টিনো'-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সঠিক পরীক্ষা ছাড়া খাদ্যপণ্য প্রবেশের কারণে গত কয়েক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় প্রত্যাহারের ঘটনা। গত মাসেই কানাডা থেকে আমদানি করা ১২ হাজার পাউন্ডের বেশি বেকন একই কারণে বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ইলিনয়ভিত্তিক মেপল লিফ ফুডস নামের একটি প্রতিষ্ঠান আইডাহো, ওরেগন এবং ওয়াশিংটনে এসব বেকন বাজারজাত করার পর তা স্বেচ্ছায় তুলে নিতে বাধ্য হয়।
আঙুলের ছাপেই ধরা পড়ল পরিচয় জালিয়াতি, পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা
লাল রঙে রাঙানো বিড়াল ঘিরে রহস্য, দূরে থাকতে বলল টেক্সাস কর্তৃপক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়াতে যেসব ক্রেডিট ও ডিডাকশন মিস করা উচিত নয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার তরুণী ওহান্না কারাসকোজার কলেজে ভর্তির গল্পটি এখন অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। গুয়াতেমালার অভিবাসী পরিবারের সন্তান এই শিক্ষার্থী ২৭টি কলেজে আবেদন করে ইয়েল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া এবং ডার্টমাউথ কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর কলেজের ব্যক্তিগত প্রবন্ধের বিষয় ছিল নিজের বাবা-মায়ের প্রযুক্তি ব্যবহারের সংগ্রাম এবং সেই পরিস্থিতিতে পরিবারকে সাহায্য করতে তাঁর নিজের নেওয়া দায়িত্ব। চলতি শরতে তিনি ইয়েলে পড়তে যাচ্ছেন। সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাসকোজা মোট ২৭টি কলেজে আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি ছিল আইভি লিগের প্রতিষ্ঠান। তিনি শেষ পর্যন্ত চারটির মধ্যে তিনটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। একই আবেদন প্রক্রিয়ায় ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পূর্ণ টিউশন মেরিট স্কলারশিপও পেয়েছেন এবং শীর্ষস্থানীয় লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর কয়েকটিতেও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে তাঁর আবেদনপত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি ছিল এমন একটি অভিজ্ঞতা, যা শুরু হয়েছিল পরিবারের প্রয়োজন থেকে। কারাসকোজার বাবা-মা দুজনই গুয়াতেমালার অভিবাসী। তাঁরা ছোট বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজ শুরু করেছিলেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে এসে শ্রমনির্ভর কাজে যুক্ত হন। কারাসকোজার বাবা ট্রাক ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ব্যবসার বিল তৈরি ও হিসাব রাখার জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রয়োজন হলেও প্রযুক্তি ব্যবহারে তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত। তখন মাত্র ৯ বছর বয়সে কারাসকোজা পরিবারের কাজে বাবাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন। স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবে বসে তিনি নিজে নিজে মাইক্রোসফট এক্সেল শেখেন। পরে বাবার ব্যবসার জন্য বিল তৈরির টেমপ্লেট বানানোও শেখেন। ধীরে ধীরে পরিবারের বিভিন্ন ডিজিটাল কাজেও তিনি সহায়তা করতে শুরু করেন। এই অভিজ্ঞতাই পরে তাঁর কলেজের ব্যক্তিগত প্রবন্ধের মূল বিষয় হয়ে ওঠে। প্রযুক্তি ব্যবহারে বাবা-মায়ের সীমাবদ্ধতা এবং সেই সীমাবদ্ধতা পূরণ করতে ছোট বয়স থেকেই মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার গল্পটি তিনি তুলে ধরেন। তাঁর গল্পে প্রযুক্তি শুধু একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম শেখার বিষয় ছিল না, বরং পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে নিজের উদ্যোগে একটি নতুন দক্ষতা অর্জনের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছিল। কলেজে ভর্তির প্রস্তুতির সময়ও একই ধরনের উদ্যোগী মনোভাব দেখা যায় তাঁর মধ্যে। বিভিন্ন সুযোগ ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি সম্পর্কে নিজে গবেষণা করে তিনি কংগ্রেশনাল হিসপ্যানিক ককাস ইনস্টিটিউটের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। পরে একটি জাতীয় পর্যায়ের আইন প্রতিষ্ঠানে বেতনভুক্ত ইন্টার্নশিপও করেন। কারাসকোজা ক্যালিফোর্নিয়ার উডল্যান্ড হিলসের উইলিয়াম হাওয়ার্ড টাফট চার্টার হাইস্কুলের শিক্ষার্থী। স্কুলজীবনে তিনি টিন কোর্ট, মক ট্রায়াল, মডেল ইউনাইটেড নেশনস, স্পিচ অ্যান্ড ডিবেটসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তিনি খেলাধুলাতেও সক্রিয় ছিলেন। কংগ্রেশনাল হিসপ্যানিক ককাস ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে তিনি আইনজীবী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। শেষ পর্যন্ত কারাসকোজা ইয়েলকে বেছে নিয়েছেন। ইয়েলে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়ার পর তাঁর আনন্দের মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তিনটি আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুযোগ পাওয়ার খবর তিনি নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। কারাসকোজার গল্পটি দেখাচ্ছে, কলেজের ব্যক্তিগত প্রবন্ধে শুধু ভালো ফলাফল বা পুরস্কারের তালিকা নয়, একজন শিক্ষার্থীর জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, দায়িত্ববোধ, উদ্যোগ এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে কী শেখা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর ক্ষেত্রে পরিবারের প্রয়োজন থেকে শেখা একটি প্রযুক্তিগত দক্ষতাই শেষ পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাঁর গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালে যেসব সরকারি সহায়তা পেতে পারেন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, স্কুল শুরুর আগে মিলছে ফ্রি ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী
বাবা-মা আইসিইর হাতে বন্দী, প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের সামনে এখন কার আশ্রয়ে থাকবে!
যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে নিজের বসের জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করেছিলেন ডেবি স্টিভেন্স। কিন্তু কিডনি দানের পর অস্ত্রোপচারের জটিলতায় ভুগতে শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই চাকরি হারানোর মুখে পড়েন তিনি। স্টিভেন্সের অভিযোগ, শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজে সমস্যা তৈরি হওয়ার পরই তার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে আচরণ বদলে যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, কিডনি দান বা অস্ত্রোপচার নয়, কর্মদক্ষতার সমস্যার কারণেই তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ডেবি স্টিভেন্স লং আইল্যান্ডের একটি গাড়ি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তার বস জ্যাকলিন ব্রুচিয়ার কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে স্টিভেন্স তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন। সরাসরি বসের সঙ্গে তার কিডনি মিল না হওয়ায় চিকিৎসকেরা একটি কিডনি দান চেইনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করেন। এই ব্যবস্থায় স্টিভেন্সের কিডনি অন্য এক রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। বিনিময়ে ওই দান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্রুচিয়ার জন্য উপযুক্ত একটি কিডনি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ সরাসরি কিডনি না মিললেও স্টিভেন্সের দান শেষ পর্যন্ত তার বসের কিডনি প্রতিস্থাপনের পথ খুলে দেয়। অস্ত্রোপচারের পর অবশ্য স্টিভেন্সের সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া সহজ ছিল না। তার দাবি, তিনি স্নায়ুজনিত ক্ষতি, হজমের সমস্যা এবং আরও কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। প্রায় চার সপ্তাহ পর তিনি আবার কাজে ফিরলেও তখন থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্টিভেন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার থেকে পুরোপুরি সুস্থ না হয়েও কাজে ফেরার পর অসুস্থতার কারণে ছুটি নেওয়ায় তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। পরে তাকে আগের কর্মস্থল থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূরের আরেকটি কর্মস্থলে বদলি করা হয়। শেষ পর্যন্ত চাকরিও হারান তিনি। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, কিডনি দান কিংবা অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক সমস্যার কারণে তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। বরং কর্মদক্ষতা-সংক্রান্ত সমস্যাই ছিল চাকরি হারানোর কারণ। অন্যদিকে স্টিভেন্সের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তিনি মনে করেন, কিডনি দানের পর দেখা দেওয়া স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে কাজে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গেই পরবর্তী আচরণ ও চাকরি হারানোর ঘটনা সরাসরি সম্পর্কিত। একজন বসের জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্টিভেন্স। কিন্তু সেই মানবিক সিদ্ধান্তের কয়েক মাস পর তাকেই নিজের চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য লড়তে হয়েছে। ঘটনাটি কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত জটিলতা, কর্মীর অধিকার এবং অঙ্গদানের মতো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পর কর্মজীবনে তৈরি হওয়া ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এইচএসসি শেষেই এমআইটিতে ফায়েজ! বছরে ৯২ হাজার ডলারের বেশি স্কলারশিপ
মামদানি-পত্নীর সিরিয়া-লেবানন সফরে পুলিশ পাহারা নিয়ে পুলিশ বিভাগের বিরোধ