লাল রঙে রাঙানো বিড়াল ঘিরে রহস্য, দূরে থাকতে বলল টেক্সাস কর্তৃপক্ষ
টেক্সাসের লিগ সিটিতে লাল রঙে বা রঞ্জকে মাখা একটি ধূসর বিড়ালকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিড়ালটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে প্রাণী উদ্ধারকারীরা কাজ করছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিড়ালটিকে ধরার চেষ্টা বা খাবার দেওয়ার পরিবর্তে সেটি কোথায় ও কখন দেখা গেছে, তা প্রাণী পরিচর্যা কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
লিগ সিটি অ্যানিমেল কেয়ার জানিয়েছে, বিড়ালটির শরীরে লাল রঙ বা রঞ্জক লেগে আছে এবং বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। বিড়ালটিকে নিরাপদে ধরতে তাদের দল কাজ করছে। উদ্ধার করার পর বিড়ালটির প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসিন্দারা নিজেরা বিড়ালটিকে ধরার চেষ্টা করলে উদ্ধারকারীদের চলমান প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে। একই কারণে বিড়ালটির জন্য বাইরে খাবার না রাখতেও বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ বিড়ালটিকে দেখতে পেলে তার অবস্থান এবং দেখার সময় জানিয়ে প্রাণী পরিচর্যা কর্তৃপক্ষকে বার্তা পাঠাতে বলা হয়েছে।
সোমবারের এক হালনাগাদ তথ্যে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছে, বিড়ালটিকে নিরাপদে ধরার চেষ্টা এখনও চলছে। এ কাজে বিড়ালটির চলাফেরার এলাকার কাছাকাছি থাকা পরিচর্যাকারীরাও সহায়তা করছেন।
লাল রঙে ঢাকা বিড়ালটির ছবি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেন, প্রাণীটিকে রঙ করা কোনো অবৈধ কুকুর লড়াইয়ের চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কেউ কেউ এমন ঘটনার তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।
তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো সক্রিয় তদন্ত বা প্রাণীর ওপর নিষ্ঠুরতার অভিযোগে সম্ভাব্য কোনো মামলা বা অভিযোগের কথা জানায়নি। ফলে বিড়ালটির শরীরে কীভাবে লাল রঙ বা রঞ্জক লাগল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রাণী পরিচর্যা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের প্রতি মূল অনুরোধ হলো, বিড়ালটিকে নিজেরা ধরার চেষ্টা না করে তার অবস্থান ও সময় জানানো। উদ্ধারকারীরা বিড়ালটিকে নিরাপদে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে গত ৩৫ বছরের মধ্যে হামের সর্বোচ্চ প্রকোপের মাঝেই শিশুদের টিকার পরিমাণ কমানোর এক নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আদেশে শিশুদের জন্য প্রস্তাবিত টিকার সংখ্যা বর্তমান ১৮টি থেকে কমিয়ে ১১টি করার সুপারিশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাম্পস, হাম ও রুবেলা বা এমএমআর (MMR) টিকাগুলো একসঙ্গে না দিয়ে আলাদাভাবে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সোমবার ওভাল অফিসে এই নির্দেশিকা নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, কয়েক দশক আগে শিশুদের অনেক কম টিকা দেওয়া হতো এবং তখন তারা বর্তমানের তুলনায় বেশি সুস্থ ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এমএমআর টিকার নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন এবং এর সঙ্গে অটিজমের ভিত্তিহীন সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের (এইচএইচএস) সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এই পদক্ষেপকে অভিভাবকদের পছন্দের সুযোগ বাড়ানোর একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের এই আদেশে টিকায় ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের বিকল্প খোঁজার এবং সেসব আরও নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই আদেশের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় টিকার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবর্তে রাজ্য পর্যায়ে নির্ধারিত হয়ে থাকে। প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস (এএপি)-এর প্রেসিডেন্ট ডা. অ্যান্ড্রু রেসিন ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশকে ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বজুড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রে যখন হামের সংক্রমণ বাড়ছে, তখন টিকা দিতে দেরি করা বা বাদ দেওয়া শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও এই আদেশের সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রেসিডেন্টের নেই। তিনি অভিভাবকদের প্রতি ভুল তথ্যসম্বলিত আদেশের বদলে চিকিৎসকদের পরামর্শ শোনার আহ্বান জানান। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এমএমআর টিকার সঙ্গে অটিজমের কোনো সম্পর্ক নেই এবং একাধিক বৃহৎ গবেষণায় তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৯ সালে ডেনমার্কে ছয় লক্ষাধিক শিশুর ওপর পরিচালিত এক গবেষণাতেও এমএমআর টিকা অটিজম সৃষ্টি করে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং এএপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সমন্বিত এমএমআর টিকাকে তিনটি পৃথক টিকায় ভাগ করার কোনো বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নেই। বরং টিকার মধ্যে বেশি সময়ের ব্যবধান রাখলে শিশুরা ওই নির্দিষ্ট সময়ে মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। টিকায় থাকা সামান্য অ্যালুমিনিয়াম লবণের সঙ্গেও কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক নেই বলে নিশ্চিত করেছে এএপি।
খাদ্য নিরাপত্তা ত্রুটিতে ফ্লোরিডা-টেক্সাসে ৩০ হাজার পাউন্ড গরুর মাংস বাজার থেকে প্রত্যাহার
আঙুলের ছাপেই ধরা পড়ল পরিচয় জালিয়াতি, পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা
লাল রঙে রাঙানো বিড়াল ঘিরে রহস্য, দূরে থাকতে বলল টেক্সাস কর্তৃপক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে ট্যাক্স রিফান্ড বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো নিজের জন্য প্রযোজ্য সব ট্যাক্স ক্রেডিট ও ডিডাকশন সঠিকভাবে ক্লেম করা। আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট, চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট, ডে-কেয়ার খরচ, এডুকেশন ক্রেডিটসহ কয়েকটি সুবিধা বাদ পড়ে গেলে যোগ্য ট্যাক্সপেয়ারদের শত শত থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত কম রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ২০২৬ ট্যাক্স সিজন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ২০২৬ সালে যে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করা হয়েছে, সেটি মূলত ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারের আয় ও খরচের হিসাব। অন্যদিকে আইআরএস ঘোষিত ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারের কিছু নতুন সীমা ও অঙ্ক প্রযোজ্য হবে ২০২৬ সালের আয় ও লেনদেনে, যার রিটার্ন সাধারণভাবে ২০২৭ সালে ফাইল করা হবে। ২০২৬ ফাইলিং সিজনে অর্থাৎ ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারের রিটার্নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলোর একটি আর্নড ইনকাম ট্যাক্স ক্রেডিট বা ইআইটিসি। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকলে ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে সর্বোচ্চ ইআইটিসি ৮ হাজার ৪৬ ডলার। দুই সন্তান থাকলে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫২ ডলার, এক সন্তান থাকলে ৪ হাজার ৩২৮ ডলার এবং যোগ্য সন্তান না থাকলে সর্বোচ্চ ৬৪৯ ডলার। ইআইটিসির ক্ষেত্রে শুধু আয়ের পরিমাণ নয়, ফাইলিং স্ট্যাটাস, সন্তানের সংখ্যা, বয়স, রেসিডেন্সি এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে যোগ্য সন্তান না থাকা একজন সিঙ্গেল ফাইলারের আয় ও অ্যাডজাস্টেড গ্রস ইনকাম ১৯ হাজার ১০৪ ডলারের কম হতে হবে। ম্যারিড ফাইলিং জয়েন্টলি হলে এই সীমা ২৬ হাজার ২১৪ ডলার। তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকলে সীমা যথাক্রমে ৬১ হাজার ৫৫৫ এবং ৬৮ হাজার ৬৭৫ ডলার। ইআইটিসি ক্লেম করতে ফর্ম ১০৪০ অথবা ১০৪০-এসআর ফাইল করতে হয়। যোগ্য সন্তানকে ভিত্তি করে ক্রেডিট ক্লেম করলে শিডিউল ইআইসিও যুক্ত করতে হয়। সন্তান ছাড়া ইআইটিসি ক্লেমের ক্ষেত্রে শিডিউল ইআইসি প্রয়োজন হয় না। চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটও পরিবারগুলোর জন্য বড় সুবিধা দিতে পারে। ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে প্রতিটি যোগ্য সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ ডলার চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে শর্ত পূরণ করলে অ্যাডিশনাল চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত রিফান্ডেবল হতে পারে। সাধারণভাবে যোগ্য শিশুর বয়স ট্যাক্স ইয়ার শেষে ১৭ বছরের নিচে হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইআরএস শর্তও পূরণ করতে হবে। কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য চাইল্ড অ্যান্ড ডিপেন্ডেন্ট কেয়ার ক্রেডিটও গুরুত্বপূর্ণ। কাজ করা বা চাকরি খোঁজার সুযোগ তৈরি করতে যোগ্য সন্তান বা নির্ভরশীল ব্যক্তির যত্নে অর্থ ব্যয় করলে এই ক্রেডিট পাওয়া যেতে পারে। হিসাবের জন্য সর্বোচ্চ ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ বিবেচিত হতে পারে একজন যোগ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে এবং দুই বা তার বেশি যোগ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ডলার। ডে-কেয়ার বা বেবিসিটারের খরচ ক্লেম করার ক্ষেত্রে শুধু টাকা খরচ হয়েছে বললেই হবে না। ট্যাক্স রিটার্নে কেয়ার প্রোভাইডারের নাম, ঠিকানা এবং সাধারণত সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা এমপ্লয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দিতে হয়। এ কারণে ক্যাশে অর্থ পরিশোধ করলেও প্রয়োজনীয় রেকর্ড ও প্রোভাইডারের তথ্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্রেডিটের জন্য সাধারণত ফর্ম ২৪৪১ ব্যবহার করা হয়। ডিডাকশনের ক্ষেত্রেও সঠিক হিসাব বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন সিঙ্গেল ফাইলারের জন্য ১৫ হাজার ৭৫০ ডলার, ম্যারিড ফাইলিং জয়েন্টলির জন্য ৩১ হাজার ৫০০ ডলার এবং হেড অব হাউসহোল্ডের জন্য ২৩ হাজার ৬২৫ ডলার। কারও অনুমোদিত আইটেমাইজড ডিডাকশন স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের চেয়ে বেশি হলে আইটেমাইজ করা লাভজনক হতে পারে। তবে মর্টগেজ ইন্টারেস্ট, স্টেট ও লোকাল ট্যাক্স এবং চ্যারিটেবল কন্ট্রিবিউশনের মতো প্রতিটি ডিডাকশনের নিজস্ব যোগ্যতা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এডুকেশন ক্রেডিটও অনেক পরিবারের ট্যাক্স বিল কমাতে পারে। যোগ্য শিক্ষার্থীর অনুমোদিত উচ্চশিক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে আমেরিকান অপরচুনিটি ট্যাক্স ক্রেডিট বছরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এর সর্বোচ্চ ১ হাজার ডলার রিফান্ডেবল হতে পারে। আয়সহ অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত এখানে প্রযোজ্য। রিটায়ারমেন্ট সেভিংসের ক্ষেত্রেও সুযোগ রয়েছে। যোগ্য ট্যাক্সপেয়াররা ট্র্যাডিশনাল আইআরএতে অনুমোদিত কন্ট্রিবিউশনের জন্য ডিডাকশন পেতে পারেন, যদিও পুরো কন্ট্রিবিউশন ডিডাক্ট করা যাবে কি না তা আয়, ফাইলিং স্ট্যাটাস এবং কর্মক্ষেত্রে রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানের আওতায় থাকার মতো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ফলে আইআরএতে টাকা জমা দিলেই সবার রিফান্ড একইভাবে বাড়বে এমন নয়। আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে অ্যাডপশন ক্রেডিটে। তবে এখানে ২০২৫ ও ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারের অঙ্ক আলাদা। ২০২৫ ট্যাক্স ইয়ারে যোগ্য দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ক্রেডিট ১৭ হাজার ২৮০ ডলার এবং এর সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার রিফান্ডেবল। ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারে সর্বোচ্চ অ্যাডপশন ক্রেডিট বেড়ে ১৭ হাজার ৬৭০ ডলার হয়েছে এবং রিফান্ডেবল অংশ সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১২০ ডলার। ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারের এই অঙ্ক সাধারণত ২০২৭ সালে ফাইল করা রিটার্নে প্রযোজ্য হবে। একইভাবে ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারে তিন বা তার বেশি যোগ্য সন্তান থাকা ট্যাক্সপেয়ারের সর্বোচ্চ ইআইটিসি বেড়ে ৮ হাজার ২৩১ ডলার হয়েছে। ফলে এই অঙ্কটি ২০২৬ ফাইলিং সিজনের রিফান্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না। এটি ২০২৬ ট্যাক্স ইয়ারের সীমা। রিফান্ড পাওয়ার সময় নিয়েও বিভ্রান্তি এড়ানো জরুরি। আইন অনুযায়ী ইআইটিসি বা অ্যাডিশনাল চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট থাকা রিটার্নের রিফান্ড আইআরএস ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝির আগে ইস্যু করতে পারে না। ২০২৬ ফাইলিং সিজনে আইআরএস জানিয়েছিল, যেসব প্রাথমিক ফাইলার ই-ফাইল করেছেন, ডিরেক্ট ডিপোজিট বেছে নিয়েছেন এবং যাদের রিটার্নে অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়নি, তাদের অধিকাংশের রিফান্ড ২ মার্চের মধ্যে পাওয়ার কথা ছিল। ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনেক ফাইলার ‘হোয়্যারস মাই রিফান্ড’ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ডিপোজিটের তারিখ দেখতে পেরেছেন। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ স্বাভাবিক রিফান্ড ২১ দিনের কম সময়ে ইস্যু করা হয়, তবে রিটার্নে ভুল, অসম্পূর্ণ তথ্য, পরিচয় যাচাই বা অতিরিক্ত পর্যালোচনার প্রয়োজন হলে বেশি সময় লাগতে পারে। ই-ফাইল এবং ডিরেক্ট ডিপোজিট সাধারণত দ্রুততম পদ্ধতি। যোগ্য ব্যক্তিরা আইআরএস ফ্রি ফাইল এবং ভিটা কর্মসূচির মাধ্যমে বিনা খরচে বা বিনামূল্যের সহায়তায় রিটার্ন প্রস্তুত করার সুযোগও পেতে পারেন। একই সঙ্গে আইআরএস নিয়মিতভাবে ভুয়া বা অনৈতিক ট্যাক্স প্রিপেয়ারার এবং যোগ্যতা ছাড়া বড় রিফান্ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক করে আসছে। সবচেয়ে বড় রিফান্ড পাওয়ার অর্থ এমন কোনো ক্রেডিট বা ডিডাকশন ক্লেম করা নয় যার জন্য ট্যাক্সপেয়ার যোগ্য নন। বরং নিজের আয়, সন্তান, ডে-কেয়ার, শিক্ষা, রিটায়ারমেন্ট সেভিংস এবং অন্যান্য অনুমোদিত খরচের ভিত্তিতে যে সুবিধাগুলো আইনগতভাবে প্রযোজ্য, সেগুলো সঠিকভাবে ক্লেম করাই ট্যাক্স বিল কমানো এবং বৈধ রিফান্ড নিশ্চিত করার নিরাপদ উপায়।
মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে এক্সেল শেখানো, সেই গল্প লিখেই ইয়েল-পেন-ডার্টমাউথে সুযোগ পেলেন তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালে যেসব সরকারি সহায়তা পেতে পারেন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য সুখবর, স্কুল শুরুর আগে মিলছে ফ্রি ব্যাকপ্যাক ও স্কুল সামগ্রী
ফ্লোরিডার ইন্ডিয়ানটাউনে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে বাবা-মা আটক হওয়ার পর গুরুতর প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হলে সন্তানদের দেখাশোনা কে করবে এবং তারা কোথায় থাকবে, তা নিয়ে পরিবারটির সামনে বড় সংকট দেখা দিয়েছে। ট্রেজার কোস্ট পাম বিচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারটির পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে না পারলে তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের স্টেটের হেফাজতে নেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সন্তানদের বিশেষ যত্ন ও সহায়তার প্রয়োজন হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিবারটির ক্ষেত্রে মূল সংকট তৈরি হয়েছে অভিবাসন আইনের প্রয়োগ এবং প্রতিবন্ধী সন্তানদের দৈনন্দিন যত্নের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে। বাবা-মা যদি আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি না পান কিংবা শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে বহিষ্কৃত হন, তাহলে সন্তানদের দেখাশোনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিবেদনটি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করা হয়েছে। আইসিই দেশজুড়ে যাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশসহ বিভিন্ন অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের আটক ও বহিষ্কারের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে কোনো অভিবাসীকে আটক বা বহিষ্কার করা হলেও তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটি আলাদা আইনি ও সামাজিক প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে সন্তানরা যদি প্রতিবন্ধী হন এবং নিয়মিত চিকিৎসা, থেরাপি, ব্যক্তিগত সহায়তা বা বিশেষ যত্নের ওপর নির্ভরশীল হন, তাহলে অভিভাবক হারানোর সম্ভাবনা তাদের জন্য আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ইন্ডিয়ানটাউন ও আশপাশের এলাকায় অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে এ ধরনের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। কারণ অনেক পরিবারেই বাবা-মা সন্তানদের প্রধান বা একমাত্র পরিচর্যাকারী। অভিভাবক আটক হলে বা দেশ ছাড়তে বাধ্য হলে আত্মীয়স্বজন, পরিচিত ব্যক্তি, সামাজিক সেবা সংস্থা কিংবা স্টেট কর্তৃপক্ষকে বিকল্প যত্নের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। তবে প্রতিবন্ধী সন্তানদের স্টেটের হেফাজতে নেওয়া স্বয়ংক্রিয় কোনো প্রক্রিয়া নয়। শিশুর বয়স, অভিভাবকত্বের অবস্থা, পরিবারের অন্য সদস্যদের সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেটের শিশু সুরক্ষা ও হেফাজত সংক্রান্ত নিয়মের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোর জন্য অভিবাসন আইনজীবীর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবা প্রদানকারী স্থানীয় সংস্থা ও শিশু কল্যাণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সন্তানদের চিকিৎসা ও পরিচর্যার নথি, ওষুধের তালিকা, চিকিৎসকের তথ্য এবং জরুরি অভিভাবকত্ব-সংক্রান্ত কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইন্ডিয়ানটাউনের এই পরিবারের ঘটনাটি তাই শুধু অভিবাসন নিয়ে নয়, একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিরাপত্তা, পারিবারিক পরিচর্যা এবং অভিভাবক বিচ্ছিন্নতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বাবা-মায়ের অভিবাসন মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
বসকে বাঁচাতে কিডনি দান, অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে দেরি হওয়ায় চাকরিই হারালেন কর্মী
এইচএসসি শেষেই এমআইটিতে ফায়েজ! বছরে ৯২ হাজার ডলারের বেশি স্কলারশিপ