আমেরিকা

নিউইয়র্কে অপরাধ কমার তথ্য সামনে আনছেন ট্রাম্প

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ৬:৭
নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলা ও সহিংস অপরাধ কমার বিষয় তুলে ধরছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; পাশে পুলিশ কর্মকর্তারা। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলা ও সহিংস অপরাধ কমার বিষয় তুলে ধরছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; পাশে পুলিশ কর্মকর্তারা। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমি সফর করছেন। সফরে তিনি দেশজুড়ে সহিংস অপরাধ কমার তথ্য তুলে ধরবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেবেন।

 

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের সফরের সময় ২০২৫ সালের নতুন এফবিআই অপরাধ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হবে। ওই পরিসংখ্যানে হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই ও গুরুতর হামলাসহ বিভিন্ন সহিংস অপরাধ কমার তথ্য রয়েছে।

 

ট্রাম্পের সঙ্গে সফরে থাকবেন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে এবং এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। অপরাধ ও জননিরাপত্তার বিষয়টি নিউইয়র্কের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

 

নাসাউ কাউন্টিতে ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে ট্রাম্পের এই সফরকে আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

তবে অপরাধ কমার পেছনে প্রশাসনের নীতির কতটা ভূমিকা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরাও এক বছরের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
ক্যালিফোর্নিয়ায় যানজট ছাড়াই মাত্র তিন ঘণ্টার ট্রেনযাত্রা, চোখজুড়ানো প্রকৃতির হাতছানি
ক্যালিফোর্নিয়ায় মাত্র তিন ঘণ্টায় প্রকৃতি, ইতিহাস ও শহরের সৌন্দর্য উপভোগের অনন্য ট্রেনরুট

ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যস্ত মহাসড়কগুলোর ক্লান্তিকর যানজট এড়িয়ে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার অনিন্দ্যসুন্দর প্রাকৃতিক রূপ উপভোগ করার জন্য দারুণ এক সুযোগ করে দিচ্ছে অ্যামট্রাকের ‘ক্যাপিটল করিডোর’ ট্রেন সার্ভিস। ওবার্ন থেকে শুরু হয়ে সান হোসে পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১৭০ মাইলের এই রেলরুটটি মাত্র তিন ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে যাত্রীদের ঐতিহাসিক গোল্ড কান্ট্রি, সবুজ কৃষিজমি এবং প্রশান্ত জলসীমার মধ্য দিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে পৌঁছে দেয়।   মোট ১৮টি স্টেশনকে সংযুক্ত করা এই রুটটি সম্প্রতি পর্যটকদের কাছে একটি দারুণ ও তুলনামূলক কম আলোচিত রোমাঞ্চকর ভ্রমণপথ হিসেবে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।   এই নয়নাভিরাম রেলযাত্রার সূচনা হয় ঐতিহাসিক গোল্ড রাশ ও মনোরম হাইকিং ট্রেইলের জন্য পরিচিত ওবার্ন শহর থেকে। এরপর রকলিন ও রোজভিল পেরিয়ে ট্রেনটি ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানী স্যাক্রামেন্টোতে প্রবেশ করে, যেখানে যাত্রীরা নেমে ঐতিহাসিক স্টেট ক্যাপিটল ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পান। সেখান থেকে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় যাত্রীরা জানালার পাশে বসে উপভোগ করতে পারেন বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মনোরম দৃশ্য।   এরপর ট্রেনটি কারকিনেজ প্রণালী ছুঁয়ে মার্টিনেজ ও রিচমন্ডের উপকূলরেখা ঘেঁষে এগিয়ে যায়, যা সান পাবলো উপসাগরের নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখের সামনে মেলে ধরে।   স্থানীয়দের কাছে এই রুটটি ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০২৫ অর্থবছরে ক্যাপিটল করিডোরে প্রায় ১১ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা থেকে রেল কর্তৃপক্ষের আয় হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। রুটটির পশ্চিম অংশে ট্রেনটি বিখ্যাত বাইকবান্ধব শহর ডেভিস, বার্কলে এবং ওকল্যান্ডের জ্যাক লন্ডন স্কয়ারের মতো প্রাণবন্ত ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় যাত্রা বিরতি দেয়।   এরপর দক্ষিণ বে অঞ্চলের সান হোসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে সান্তা ক্লারার লেভিস স্টেডিয়ামের কাছাকাছি একটি স্টপেজে থামে, যা সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টিনাইনার্সের ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের যানজট এড়ানোর মোক্ষম সুযোগ দেয়। যাত্রার শেষ প্রান্ত সান হোসেতে রয়েছে ঐতিহাসিক জাপানটাউন, বিখ্যাত রোজিক্রুশিয়ান ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম এবং সান্তা ক্রুজ পর্বতমালার হাতছানি।   যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ক্যাপিটল করিডোরের বগিগুলোতে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। প্রশস্ত কোচ সিট, কাজের জন্য টেবিল, বৈদ্যুতিক প্লাগ পয়েন্ট ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের পাশাপাশি এতে সার্বক্ষণিক বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা ও খাবারের জন্য ক্যাফে কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দ্রুতগতির এই ট্রেন ভ্রমণ কেবল দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাকেই সহজ করেনি, বরং ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাস ও প্রকৃতির আসল রূপ দেখার এক দুর্দান্ত মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:৫০
লাতিন আমেরিকায় মাদকচক্র দমনে সরাসরি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

লাতিন আমেরিকায় মাদকচক্র দমনে সরাসরি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, দুই বেডরুমের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৫৭ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, দুই বেডরুমের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৫৭ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘লালা’, হারিকেনে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘লালা’, হারিকেনে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় সপ্তাহ পর কমল মর্টগেজ রেট মাত্র ২ বেসিস পয়েন্ট, আবাসন বাজারে কবে ফিরবে স্বস্তি?
যুক্তরাষ্ট্রে ছয় সপ্তাহ পর কমল মর্টগেজ রেট মাত্র ২ বেসিস পয়েন্ট, আবাসন বাজারে কবে ফিরবে স্বস্তি?

যুক্তরাষ্ট্রে টানা ছয় সপ্তাহ পর সামান্য কমেছে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট। ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে গড় মর্টগেজ রেট দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে, যা আগের সপ্তাহের ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ থেকে মাত্র ২ বেসিস পয়েন্ট কম। তবে এই সামান্য পতনকে এখনই আবাসন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।   মর্টগেজ রেট কমলেও বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ওপর চাপ পুরোপুরি কাটেনি। এক বছর আগে একই সময়ে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট ছিল ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান হার এখনও গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। ১৫ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেটও এ সপ্তাহে ৬ দশমিক ০১ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশে নেমেছে।   আবাসন বাজারের সাম্প্রতিক চিত্রও মিশ্র। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকে তৈরি ও মালিকানাধীন বাড়ি বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৪ দশমিক ০৬ মিলিয়নে নেমেছে। তবে এক বছর আগের তুলনায় বাড়ি বিক্রি ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।   বাড়ির দামেও বড় ধরনের স্বস্তি আসেনি। জুলাইয়ে বিদ্যমান বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে বিক্রির জন্য বাজারে থাকা বাড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ লাখ ৪০ হাজার, যা প্রায় ৪ দশমিক ৬ মাসের সরবরাহের সমান।   বিশেষ করে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়যোগ্যতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। জুলাইয়ে মোট বিদ্যমান বাড়ি বিক্রির মাত্র ২৯ শতাংশ ছিল প্রথমবারের ক্রেতাদের। জুনে এই হার ছিল ৩৩ শতাংশ।   ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স ইউন মনে করেন, গত কয়েক মাসের তুলনামূলক বেশি মর্টগেজ রেটের মধ্যেও বাড়ি বিক্রি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে গড় মর্টগেজ রেট প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এলে আবাসন বাজারে আরও শক্তিশালী কার্যক্রম দেখা যেতে পারে।   ফলে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে নেমে আসা মর্টগেজ রেট বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সামান্য স্বস্তির খবর হলেও, আবাসন বাজারে বড় ধরনের গতি ফেরার জন্য আরও উল্লেখযোগ্য হারে মর্টগেজ রেট কমা, বাড়ির দাম ও মাসিক আবাসন ব্যয়ের চাপ কমা এবং ক্রেতাদের সাশ্রয়যোগ্যতা বাড়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৩:৩২
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যা I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যা, ১১৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

স্থায়ী চাকরি থাকার পরও কেন বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না বাংলাদেশীরা!

গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি থাকার পরও কেন বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না বাংলাদেশীরা!

৭০০ পৃষ্ঠার প্রমাণ আর ১৩ হাজার ডলারে পেলেন কাঙ্খিত ভিসা

তিনবার এইচ-১বি লটারিতে ব্যর্থ, ৭০০ পৃষ্ঠার প্রমাণ আর ১৩ হাজার ডলারে পেলেন কাঙ্খিত ভিসা

চিকিৎসা গবেষণার আশায় মায়ের দেহ দান
চিকিৎসা গবেষণার আশায় মায়ের দেহ দান, পরে জানলেন বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী

মায়ের আলঝেইমার রোগ নিয়ে গবেষণায় সহায়তা হবে, এই বিশ্বাসে ২০১৩ সালে তার দেহ বিজ্ঞানের জন্য দান করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার বাসিন্দা জিম স্টফার। কিন্তু কয়েক বছর পর তিনি জানতে পারেন, মায়ের দেহ চিকিৎসা গবেষণায় নয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সামরিক পরীক্ষায় দেহ ব্যবহারের অনুমতি তিনি স্পষ্টভাবেই দেননি।    জিমের মা ডরিস স্টফার ২০১৩ সালে ৭৪ বছর বয়সে আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত অবস্থায় মারা যান। পরিবারের আশা ছিল, তার মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করলে আলঝেইমার সম্পর্কে নতুন কিছু জানা যেতে পারে। একটি নার্সের পরামর্শে পরিবার যোগাযোগ করে অ্যারিজোনাভিত্তিক বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের সঙ্গে।    দেহ হস্তান্তরের সময় জিম একটি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেন। সেখানে চিকিৎসা গবেষণার অনুমতি দিলেও সামরিক, ট্রাফিক সেফটি কিংবা বিস্ফোরণসহ ধ্বংসাত্মক পরীক্ষায় মায়ের দেহ ব্যবহার করা যাবে না, এমন অপশনে তিনি ‘না’ চিহ্নিত করেছিলেন।    এর প্রায় ১০ দিন পর পরিবারকে কিছু দাহ করা দেহাবশেষ ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু ডরিসের দেহ আসলে কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে কিছুই জানানো হয়নি। পরে রয়টার্সের তদন্তে উঠে আসে, বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার ডরিসের একটি হাত আলাদা করে দাহ করেছিল এবং সেই ছাই পরিবারকে ফেরত দিয়েছিল। বাকি দেহটি অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি গবেষণা প্রকল্পে পাঠানো হয়েছিল।    সেনাবাহিনীর ওই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল রাস্তার পাশে পাতা বোমা বা আইইডি বিস্ফোরণের সময় মানবদেহে কী ধরনের ক্ষতি হয়, তা বোঝা। ডরিসের দেহ সেই পরীক্ষার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অথচ তার মস্তিষ্ক আলঝেইমার গবেষণায় ব্যবহারই করা হয়নি।    রয়টার্সের পর্যালোচনা করা অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যায়, ডরিস ছাড়াও অন্তত ২০টি দেহ একই ধরনের সামরিক বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে দাতাদের বা তাদের পরিবারের প্রয়োজনীয় সম্মতি ছিল না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নিজস্ব নীতিরও লঙ্ঘন ছিল।    সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা পরে জানান, তারা সংশ্লিষ্ট পরিবারের আসল সম্মতিপত্র দেখেননি। বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের কাছ থেকে পরিবারগুলো সামরিক পরীক্ষায় সম্মতি দিয়েছে এমন আশ্বাসের ওপর নির্ভর করেছিলেন তারা।    ডরিসের দেহের প্রকৃত পরিণতি পরিবারকে জানিয়েছিল না বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার, না সেনাবাহিনী। ২০১৬ সালে রয়টার্সের একজন সাংবাদিকের কাছ থেকেই জিম প্রথম জানতে পারেন, তার মায়ের দেহ আলঝেইমার গবেষণায় নয়, বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছিল।    পরে জিমসহ আরও অনেক পরিবার বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মৃত স্বজনদের দেহ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছিল এবং সম্মতি ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে দেহ বা দেহাংশ বিক্রি করা হয়েছিল।    ২০১৯ সালে অ্যারিজোনার একটি সিভিল জুরি মামলার ২১ বাদীর মধ্যে ১০ জনের পক্ষে রায় দেয়। মোট ৫৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮ মিলিয়ন ডলার ছিল ক্ষতিপূরণমূলক এবং ৫০ মিলিয়ন ডলার শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ।    মামলায় উঠে আসে, বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টার চিকিৎসা গবেষণার কথা বলে দেহ সংগ্রহ করলেও কিছু দেহ সামরিক পরীক্ষায় বিক্রি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যতালিকায় একটি মাথাবিহীন ধড় ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত বিক্রির তথ্যও আদালতে দেখানো হয়।    বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সেন্টারের মালিক স্টিফেন গোর এর আগে ২০১৫ সালে বেআইনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে বন্ধ হয়ে যায়। রয়টার্সের তদন্ত অনুযায়ী, এক দশকে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫ হাজার দাতার দেহ থেকে ২০ হাজারের বেশি দেহাংশ বিক্রি করেছিল।    ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং পুরো দেহ দানের ব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রক পার্থক্যও সামনে আনে। অঙ্গ প্রতিস্থাপন কঠোর ফেডারেল নিয়মের আওতায় থাকলেও গবেষণা ও শিক্ষার জন্য দান করা পূর্ণ মানবদেহ বা দেহাংশের বাণিজ্যে সে সময় তুলনামূলকভাবে খুব কম নজরদারি ছিল।    জিম স্টফারের জন্য বিষয়টি ছিল কেবল একটি আইনি লড়াই নয়। তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মায়ের অসুস্থতা নিয়ে গবেষণায় সাহায্য করার আশায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত এমন এক ব্যবস্থার মুখোশ খুলে দেয় যেখানে পরিবারের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেও দান করা মানবদেহ অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১১:৫
অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি

অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, এবার সেখানেই ওষুধ তৈরির গবেষণাগারে তিনি

ঝুঁকির অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজার বেবি জাম্পার-সুইং রিকল

ঝুঁকির অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজার বেবি জাম্পার-সুইং রিকল

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিতে বিশেষ ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’, যেভাবে আবেদন করবেন

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিতে বিশেষ ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’, যেভাবে আবেদন করবেন

0 Comments