সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার কিশোরদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ করল ট্রাম্প প্রশাসন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৬:১৫
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার কিশোরদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার কিশোরদের চিকিৎসায় মেডিকেইড তহবিল বন্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেড ও চিলড্রেনস হেলথ ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের (সিএইচআইপি) আওতায় থাকা অপ্রাপ্তবয়স্ক রূপান্তরকামীদের লিঙ্গ রূপান্তর সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবায় (জেন্ডার-অ্যাফার্মিং কেয়ার) ফেডারেল তহবিলের ব্যবহার বন্ধের চূড়ান্ত নীতিমালার অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কয়েক মাস ধরে প্রক্রিয়াধীন থাকা এই কঠোর নীতি কার্যকর হওয়ায় দেশজুড়ে বহু পরিবার তীব্র অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মুখে পড়েছে।

 

স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা কেএফএফ-এর অনুমান অনুযায়ী, যেসব অঙ্গরাজ্যে এখনও অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার রূপান্তরকামী তরুণ বসবাস করে। তাদের মধ্যে বহু পরিবার সরকারি এই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

 

সেন্টার ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর প্রশাসক ড. মেহমেত ওজ এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, দুর্বল প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এবং শারীরিক ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই খাতে তহবিল অব্যাহত রাখতে পারে না। এছাড়া প্রশাসন 'ওলভস ইন হোয়াইট কোটস' শীর্ষক একটি প্রতিবেদন ও প্রামাণ্যচিত্র প্রকাশ করে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মুনাফা লাভ ও বিল সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

 

তবে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকরা। ক্যালিফোর্নিয়ার এক ট্রান্সজেন্ডার কিশোরের মা (যিনি নিরাপত্তার স্বার্থে এ.ডব্লিউ. নামে পরিচিত হতে চেয়েছেন) জানান, চিকিৎসকদের কোনো লোভ নয়, বরং দীর্ঘ মানসিক কাউন্সেলিং ও চিকিৎসকদের সুচিন্তিত পরামর্শের পরই তারা এই সেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে বাচ্চাদের 'রাজনৈতিক বল' হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিবারগুলোকে প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।

 

আইন ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে জানিয়েছেন, এর বিরুদ্ধে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। জর্জটাউনের স্বাস্থ্য নীতি ও আইন কেন্দ্রের পরিচালক কেটি কিথ জানান, নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয়ের ভিত্তিতে ফেডারেল সরকার কর্তৃক তহবিল বন্ধের ঘটনা এর আগে দেখা যায়নি।

 

ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এই বিধিমালার বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে এবং ফেডারেল তহবিল বন্ধ হলেও বিকল্প উপায়ে নিজস্ব অর্থায়নে সেবা চালু রাখার পথ খুঁজছে। তবে প্রশাসনিক নানা কড়াকড়ি ও সার্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রূপান্তরকামী পরিবারের অভিভাবকদের শঙ্কা কাটছে না।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত জাস্টিন মেরি মে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার না দিয়ে দুই কন্যাশিশুকে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার মা

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে একটি বাড়ি থেকে তিন বছরের কম বয়সী দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাদের মায়ের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ৩১ বছর বয়সী জাস্টিন মেরি মে। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চার্লসটনের কাছে ল্যাডসন এলাকার একটি বাড়িতে শিশু দুটির মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার আগে পরিবারের সদস্যরা কয়েক সপ্তাহ ধরে কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।   চার্লসটন কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১টার কিছু পর ল্যাডসনের পাইনউড ড্রাইভের একটি বাড়িতে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিতে যান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে গিয়ে তারা দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় পান। পরে বাড়ির মালিক জাস্টিন মেরি মেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ হওয়ার অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে চার্লসটন কাউন্টির আল ক্যানন ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন।    কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু দুটির পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে পরিবারের সদস্যরা আটলান্টার সাংবাদিক কোডি অ্যালকর্নকে জানিয়েছেন, তাদের নাম এমোরি ও হারলো। দুজনের বয়সই তিন বছরের কম। নিউজউইকের পর্যালোচনা করা সম্পত্তির নথি অনুযায়ী, পাইনউড ড্রাইভের বাড়িটির মালিক ছিলেন জাস্টিন এবং তার স্বামী হিসেবে নথিতে উল্লেখ থাকা ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।   সাউথ ক্যারোলিনাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফিটসনিউজের হাতে আসা আদালতের প্রাথমিক নথিতে শিশুদের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য উঠে এসেছে। ওই নথির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, তদন্তকারীদের কাছে জাস্টিন বলেছেন, আগের দুই সপ্তাহের ঘটনা তার কাছে অস্পষ্ট মনে হচ্ছিল। শেষ কবে দুই মেয়েকে খাবার বা পানি দিয়েছিলেন, সেটিও তিনি মনে করতে পারছিলেন না বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    ফিটসনিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জাস্টিন তদন্তকারীদের কাছে শিশুদের খাবার না পাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেন। সন্তানদের যথাযথ খাবার না দেওয়া অবহেলার শামিল বলেও তিনি স্বীকার করেছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি নিজেকে শিশু দুটির একমাত্র দেখাশোনাকারী হিসেবে পরিচয় দেন এবং মৃত্যুর আগের কয়েক সপ্তাহে বাড়িতে অন্য কেউ ছিলেন না বলে জানান। এসব বক্তব্যের সত্যতা ও মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা তদন্তের বিষয়।   প্রাথমিক নথি অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছানোর পর জাস্টিনকে বাইরে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল বলে তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন। পরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, এর আগেও ওই বাড়ির বাসিন্দাদের খোঁজখবর নিতে পুলিশকে সেখানে যেতে হয়েছিল। তবে পূর্ববর্তী ঘটনাগুলোতে ঠিক কী পাওয়া গিয়েছিল, তা বিস্তারিত জানা যায়নি।    পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় দেড় থেকে দুই মাস আগে জাস্টিনের আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। এর আগে দীর্ঘদিন তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল বলে তারা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে স্বজনেরা সাউথ ক্যারোলিনার সমাজসেবা বিভাগে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি পুলিশকে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন এবং জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তাকারী দলের সহযোগিতাও চান।   পরিবারের দাবি, তাদের উদ্বেগ যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। একপর্যায়ে ছোট মেয়ে হারলোর শরীরে গুরুতর ফুসকুড়ি দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া একটি ছবি দেখে স্বজনেরা আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মৃত্যুর প্রায় এক মাস আগে জাস্টিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও তারা জানিয়েছেন। শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধারের এক দিন আগে জাস্টিনের মা স্থানীয় পুলিশপ্রধানকে ইমেইল করে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি।   এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী কী তথ্য পেয়েছিল এবং সেগুলোর ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে সমাজসেবা বিভাগ বা অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। জাস্টিনের আচরণ পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কেও কোনো চিকিৎসাগত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   এদিকে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন, শিশুদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় না দেওয়ার ঘটনা তাদের মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ফিটসনিউজের প্রকাশিত প্রাথমিক নথিতে ময়নাতদন্তের ফলাফল বা মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ উল্লেখ করা হয়নি। চার্লসটন কাউন্টির করোনার কার্যালয়ও প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।    বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাস্টিন তার জামিনসংক্রান্ত শুনানির অধিকার ছেড়ে দেন। ফলে তিনি আপাতত হেফাজতেই থাকছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ নভেম্বর তার প্রাথমিক আদালতে হাজিরার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।    সাউথ ক্যারোলিনার আইনে শিশু নির্যাতন বা অবহেলার ফলে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। চলতি বছরের মার্চে কার্যকর হওয়া সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর মৃত্যু নির্যাতন বা অবহেলার ফলে ঘটলে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হলে সরাসরি দায়ী ব্যক্তির সর্বনিম্ন ২০ বছরের কারাদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে জাস্টিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ক্ষেত্রে কোন সাজা প্রযোজ্য হবে, তা বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।    যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় মায়ের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার আরও কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছে। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ২০২৩ সালে তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগে লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে মামলা হয়। তার আইনজীবীরা ঘটনার সময় গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক অসুস্থতার যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে প্রসিকিউটররা তার ফৌজদারি দায় রয়েছে বলে অবস্থান নেন। সেপ্টেম্বরে ওই মামলায় বিচারকমণ্ডলী সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিচারক বিচারপ্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার মা কোরি ওয়ালশের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। ওই মামলায়ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যুক্তি আদালতে তোলা হয়েছে। তবে জাস্টিন মেরি মের মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট মানসিক রোগের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পৃথক মামলাগুলোর পরিস্থিতিকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।   ল্যাডসনের ঘটনায় বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে পরিবারের আগাম সতর্কবার্তা। স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা শিশু দুটির নিরাপত্তা নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তদন্তের পাশাপাশি এসব যোগাযোগের নথি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পদক্ষেপও পর্যালোচনা করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   দুই শিশুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, মৃত্যুর আগের পরিস্থিতি এবং কারও অবহেলা আইনগতভাবে প্রমাণিত হয় কি না, তা নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জাস্টিন মেরি মে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।   সূত্র: নিউজউইক, ফিটসনিউজ।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২৩:২৮
চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই নির্দিষ্ট শর্তে EB-1A শ্রেণিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের EB-1A ভিসায় গ্রিন কার্ড, যে ৫ ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যায়

ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ায় কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিভা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছরের কম সময়ে পিএইচডি, বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নিভার সাফল্য

ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক কর্মকর্তা জন হ্যারল্ড রজার্স। ছবি: সংগৃহীত

ডেটিং সাইটে চীনা গুপ্তচরের ফাঁদে মার্কিন ফেড কর্মকর্তা, গোপন তথ্য শেয়ারে ৩৮ মাসের জেল

ওবামাকেয়ার স্বাস্থ্যবিমার নির্দিষ্ট গ্রাহকদের ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ছবি: সংগৃহীত
ওবামাকেয়ারের প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ৫০০ ডলার ফেরত, কারা পাবেন এই টাকা?

যুক্তরাষ্ট্রে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইনের আওতায় প্রায় ১০ লাখ মানুষকে জনপ্রতি ৫০০ ডলার করে ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রেজারি বিভাগ ৩০টি অঙ্গরাজ্যের ৯ লাখ ৫০ হাজারের বেশি যোগ্য গ্রাহকের কাছে এই অর্থ পাঠানো শুরু করেছে। অর্থের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা একটি চিঠিও পাঠানো হচ্ছে।    তবে এটি সবার জন্য দেওয়া কোনো সরকারি প্রণোদনা বা সাধারণ ট্যাক্স রিফান্ড নয়। প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, যারা ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস হেলথকেয়ার ডট গভের মাধ্যমে ওবামাকেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং প্রিমিয়াম সহায়তা বা সরকারি ভর্তুকি পাননি, মূলত তাদেরই এই ফেরতের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ যারা নিজেদের হেলথ ইন্স্যুরেন্সের পুরো প্রিমিয়াম নিজেরাই পরিশোধ করেছেন, তাদের একটি অংশ এই অর্থ পেতে পারেন।    এই ফেরতের পেছনে প্রশাসনের ব্যাখ্যা হলো, ফেডারেল হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস পরিচালনার জন্য ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে যে ব্যবহার ফি নেওয়া হয়েছিল, তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ছিল। প্রশাসনের দাবি, ওই অতিরিক্ত অর্থ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের প্রিমিয়ামের ওপর প্রভাব ফেলেছিল এবং একটি বড় উদ্বৃত্ত তৈরি হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এখন সেই উদ্বৃত্তের একটি অংশ যোগ্য গ্রাহকদের ফেরত দিচ্ছে। তবে আগের প্রশাসন সত্যিই গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি; ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বর্তমান প্রশাসনের ঘোষণা।    প্রতিজন যোগ্য গ্রাহক ৫০০ ডলার করে পাবেন। একই পরিবারের একাধিক সদস্য যদি যোগ্য হন, তাহলে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ৫০০ ডলারের ফেরত আসতে পারে। ফলে একটি পরিবারের মোট ফেরতের পরিমাণ ৫০০ ডলারের বেশি হতে পারে। অর্থ পাঠানোর দায়িত্ব ট্রেজারি বিভাগের এবং যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে চিঠিও পাঠানো হচ্ছে।    বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু আমেরিকান নাগরিক হওয়া বা না হওয়াই মূল বিষয় নয়। যোগ্যতা নির্ধারণে কোন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেওয়া হয়েছে এবং প্রিমিয়ামের জন্য সরকারি সহায়তা নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি যদি সংশ্লিষ্ট ফেডারেল মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে যোগ্য ওবামাকেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে থাকেন এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন, তাহলে তিনি এই ফেরতের আওতায় পড়তে পারেন।    এই কর্মসূচি ৩০টি অঙ্গরাজ্যে প্রযোজ্য। এসব রাজ্য ২০২৬ সালের জন্য ফেডারেল হেলথকেয়ার ডট গভ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, পেনসিলভানিয়াসহ ২০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি নিজস্ব স্টেট-বেসড হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেস পরিচালনা করছে। ফলে এসব রাজ্যের নিজস্ব মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে নেওয়া পরিকল্পনা এই নির্দিষ্ট ৫০০ ডলারের ফেরত কর্মসূচির আওতায় নেই।    যোগ্য ব্যক্তিদের আলাদাভাবে নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের ঘোষণায় নতুন আবেদন প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়নি; বরং ট্রেজারি বিভাগ সরাসরি যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে ফেরতের অর্থ পাঠাচ্ছে। তাই কেউ ৫০০ ডলার পাওয়ার কথা বলে ফোন, ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে ব্যাংক তথ্য, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা কোনো ফি চাইলে সতর্ক থাকা জরুরি। এই অর্থকে সাধারণ ট্যাক্স রিফান্ড বা সবার জন্য দেওয়া নতুন সরকারি অর্থ হিসেবে না দেখে নির্দিষ্ট ওবামাকেয়ার গ্রাহকদের জন্য ফেরত অর্থ হিসেবে দেখা উচিত।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ২১:৩
উইসকনসিনের ইসলামিক সোসাইটি অব মিলওয়াকির সভাপতি সালাহ সারসুর। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলায় উইসকনসিনের মসজিদ নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের রায়

সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষার খরচের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ৫২৯ প্ল্যানে সঞ্চয় করা যায়। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানের কলেজের জন্য টাকা জমিয়ে ট্যাক্স সুবিধা, ৫২৯ প্ল্যান কীভাবে কাজে আসবে?

ওয়াশিংটন ডিসিতে মশা ও টিক নিয়ন্ত্রণে নতুন কর্মসূচির নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

এবার মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ট্রাম্পের, দিলেন কড়া নির্দেশ

তরুণদের স্বপ্ন ও কমিউনিটির ঐক্যে আটলান্টায় ‘বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স’ এর যাত্রা শুরু
তরুণদের স্বপ্ন ও কমিউনিটির ঐক্যে আটলান্টায় ‘বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স’ এর যাত্রা শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার আটলান্টায় তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে নতুন সকার দল ‘বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই দলটির অন্যতম লক্ষ্য।   দলের ম্যানেজার আতাহার হোসাইন জানান, বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স মূলত তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিভাবান তরুণদের জন্য একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তাদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে তরুণদের একসঙ্গে মাঠে খেলার সুযোগ হলে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবে বলে আশা করছেন তিনি।   আতাহার হোসাইন বলেন, নতুন ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি সুন্দর ও শক্তিশালী দল গড়ে তুলতে চান তারা। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও ক্রীড়াসুলভ আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দীর্ঘমেয়াদে আটলান্টার বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ফুটবল চর্চা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যও রয়েছে দলের।   আগামী দিনে স্থানীয় বিভিন্ন সকার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও অন্যান্য দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায় বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স। যারা দলের হয়ে খেলতে আগ্রহী, তাদের ম্যানেজার আতাহার হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   উদ্যোক্তারা মনে করেন, খেলাধুলা শুধু মাঠের প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি কমিউনিটির মানুষকে একসঙ্গে আসার এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করারও একটি কার্যকর মাধ্যম। পরিবার, বন্ধু ও কমিউনিটির সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে দলটিকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সকার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চান তারা।   বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সের ম্যানেজার আতাহার হোসাইন দলের নতুন যাত্রার জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের একসঙ্গে নিয়ে আটলান্টায় একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বেঙ্গল ওয়ারিয়র্স। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি তরুণদের জন্য সুযোগ তৈরি এবং কমিউনিটির মধ্যে ঐক্যের বন্ধন আরও শক্তিশালী করাই দলের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৯:৩১
নভেম্বর ৩০ থেকেই ভিসার ফিতে বড় পরিবর্তন, দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ছে আবেদন খরচ

নভেম্বর ৩০ থেকেই ভিসার ফিতে বড় পরিবর্তন, দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ছে আবেদন খরচ

ডিএমভিতে ৩৪ বছরের গৌরব উদযাপন, ‘স্বর্ণালী অতীত’ নিয়ে বসছে ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’

ডিএমভিতে ৩৪ বছরের গৌরব উদযাপন, ‘স্বর্ণালী অতীত’ নিয়ে বসছে ‘উপহার বাংলাদেশ মেলা’

জর্জিয়ার বাড়ির লনে হরিণ-খরগোশ, রাস্তায় রাজহাঁস-ময়ূর; প্রকৃতির এমন দৃশ্যে মুগ্ধ প্রবাসীরা

জর্জিয়ার বাড়ির লনে হরিণ-খরগোশ, রাস্তায় রাজহাঁস-ময়ূর; প্রকৃতির এমন দৃশ্যে মুগ্ধ প্রবাসীরা

0 Comments